

বাঙালি মুসলিমের পাকঘরে, আর দুলে-বাগদিদের মতো উচ্চবর্ণের হিন্দুয়ানি দ্বারা চিরকালের অপমানিত মানুষের হেঁশেলে আমিষ-নিরামিষের অত ভেদ নেই, সেই অসংখ্য কিন্তু অদম্য বাঙালির সব বঁটিই আঁশবঁটি।
মাছ বৃহত্তরভাবে বাঙালি জীবনের আনাচকানাচে এমনভাবে ছড়িয়ে আছে, যার প্রভাব প্রশ্নাতীত। কিন্তু যা নজর করা দরকার, তা হল, এই মাছকেন্দ্রিক পরিসরের ক্ষেত্রটি আখেরে হিন্দু বাঙালির জীবনের বিশেষ এক রকমের ছবি।
জলপাইগুড়ি বাইপাসের অস্থায়ী বাজারে ঢুকে শুনলাম, পাশেই বয়ে চলা তিস্তা ছাড়াও এ-বাজারে আসে ধরলা ও জলঢাকা নদীর টাটকা মাছ। বিঘৎখানেক বোরোলি তো আছেই, চোখে পড়ল প্রমাণ সাইজের খোকসা, মৃগেল আর বিশাল সাপের আকৃতির বামুশ বা বাঙোশ মাছ! তবে সবচেয়ে বেশি আপ্লুত হলাম কিলো চারেকের বাঘা মহাশেরের দর্শনলাভ করে।
বাঙালি মেয়ের সঙ্গে মাছের সম্পর্ক বেশ পুরনো। কোটা-রাঁধা-বাড়া কিংবা বেচাকেনা– দুই ক্ষেত্রেই মাছের সঙ্গে মেয়েদের সম্পর্ক নানাভাবে নানা স্তরে, আজও রয়েছে। আর তার সাক্ষ্য ধরা আছে মেয়েদের নিজস্ব গানে। মেয়েদের মৎস্যপুরাণ তাই অন্দর-বাহিরের নানা জানলা খুলে দেয়।
নির্বাচনী জয়-পরাজয়ের নিষ্পত্তির পর প্রতিপক্ষকে মাছ-ভাত খাওয়ানোর চ্যালেঞ্জ বিজেপি সত্যিই রাখতে পারে কি না, লক্ষ্য থাকবে সেদিকেও। শেষের কথাটি হল, বাঙালির আমিষ খাদ্যের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যহরণ করা কোনও রাজনীতির পক্ষেই সম্ভব নয়।
এখনও লক্ষ্য করে দেখবেন, তিন প্রজন্ম পরেও বাঙালরা আগে মাছ, পরে ডাল খায়। কলকাতায় এসে এই উলটো কারবার দেখে বাঙালরা বেশ হকচকিয়ে ছিল। মাছের চেয়ে ডালের দাম কম বলে টানাটানির সংসারে ডালের ব্যবহার বেড়ে গেল বটে, কিন্তু ডালকে বাঙালরা অসম্মান করল না। জলসায় আগে মানবেন্দ্র, ধনঞ্জয়, পিন্টু কিন্তু শেষে হেমন্ত। তেমন শেষে ডাল।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved