Robbar

সতীর সন্ধানে

Published by: Robbar Digital
  • Posted:May 8, 2026 7:25 pm
  • Updated:May 8, 2026 9:31 pm  

হে আমার জ্ঞান-বিজ্ঞানের শিক্ষা, হে আমার যুক্তি-তর্কের কচকচি, হে আমার ধুলোখাওয়া পুঁথির ছেঁড়া পাতা, কোনও দিন কি আমাকে এই গাঁয়ের বুড়ির সহজ, সরল, পবিত্র বিশ্বাসের কাছে নিয়ে যেতে পারবে তোমরা? হে আমার ভারত, তোমার আলোকপ্রদীপ্ত নগরজীবন থেকে দূরে, বহু দূরে… নিভৃতে… তোমার ‘সুসভ্যতা’-র চকচকে পালিশ-করা মায়াদর্পণের ওধারে… আধোঘুমন্ত অগণ্য গ্রামদেশের রাঙা পথের ধুলায় এমন কত অমূল্য অনুভূতির বজ্রমানিক তুমি ছড়িয়ে রেখেছ আমার জন্য?

সন্মাত্রানন্দ

৪.

সকাল ক্রমশ দুপুর হচ্ছিল। পাল্টে যাচ্ছিল আলোর রং, তীব্রতা ও কৌণিক বিচ্ছুরণ প্রতি লহমায়। ঘরের দাওয়ায় দেওয়ালে ঠেস দিয়ে বসেছিলাম। এখানটাতেই বসি এসে মাঝেমাঝে। বন থেকে ভেসে আসে হাওয়া। দেওয়ালের চুনকাম মাথার ঠেস খেয়ে খেয়ে অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে এক জায়গায়। তেলতেলে বৃত্তাকার একটা দাগ।

আমার ঘরের সামনে উইয়ের কারুকার্য করা একটা আমগাছ। বাঁ-দিকে কতগুলো কৃষ্ণচূড়া গাছ। তার কোনও একটার গুঁড়িতে কাঠঠোকরা ঠোঁট ঠুকে ঠুকে গর্ত করছে, আমি দেখতে পাচ্ছি না তাকে, কিন্তু চঞ্চু-অবঘাতের সেই ‘ঠক্‌-ঠক্‌’ শব্দে ভরে উঠছে শ্রুতি। ঘরের পিছনে কাঁঠাল গাছের জঙ্গল থেকে পাকা কাঁঠালের গন্ধে বাতাস ভুরভুর করছে। দাওয়ার দক্ষিণে একটা মালতীলতা বেড়ে উঠতে উঠতে আমগাছের কাণ্ড অবধি তার উজ্জ্বল সবুজ লতায়িত হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। কতগুলো স্বর্ণচাঁপা গাছ দু’পাশে নিয়ে সামনের পথটা এঁকেবেঁকে অদূরে গামার গাছের জঙ্গলের মধ্যে হারিয়ে গিয়েছে। বনের মধ্যে ছিন্নভিন্ন রোদের আঁচল এসে পড়ে দৃশ্যমান করে তুলছে গামারবনের কতিপয় স্থান।

অলংকরণ: স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়

গতদিনে নারাণ কোবরেজ যে-কথাগুলো বলছিলেন, মনে পড়ছিল। ওই গামারবনটা যে-টিলার ওপর, তার নাম নাকি মুকুরটিলা। আমি জানতাম না। উনি ছাড়া অন্য কারও মুখে কখনও শুনিনি। মুকু কে? কতদিন আগেকার লোক? কখনও কি এই জায়গাটা তার দখলে ছিল? পরে একসময় সেই মুকু না কে যেন, তার নামেই টিলাটার এমন বিচিত্র নামকরণ হয়ে যায় লোকমুখে: মুকু-র টিলা?

বলে কি না, ওই টিলার মধ্যে রাতের বেলায় গিয়ে দাঁড়ালে দেখতে পাব, আমার ঠাকুরদার বাবা আমার নাতির ছেলের সঙ্গে কথা বলছেন? সেই সতী না কে নাকি দেখেছে!

হাসির কথাই বটে! আরে কোনওদিন বিয়ে-থাই করলাম না, তায় আমার নাতি, আমার পুতি! আপন মনে হাসছিলাম বসে বসে। কিন্তু হঠাৎ হাসি আমার থেমে গেল। ভুরু কুঁচকে ভাবতে লাগলাম। ওই কথাটার অন্যার্থ নেই তো? অন্য কোনও লক্ষ্যার্থ?

ঠাকুরদার বাবা হলেন একজন মানুষের সূদূর অতীত। আর নাতির ছেলে সেই মানুষটিরই সুদূর ভবিষ্যৎ। নারাণ কোবরেজ কী বলতে চাইলেন, ওই টিলার উপরে অতীত আর ভবিষ্যৎ এসে পরস্পর হাতে হাত রেখে কথা বলে?

তাই হবে বোধহয়। তা নইলে কেন এক কালপর্বের চরিত্র বিক্রমাদিত্যের সঙ্গে অন্য কালপর্বের আন্দ্রেই ভেসালিয়াসকে কথা বলতে দেখেছিলাম সেই রাত্রে?

চমকে উঠলাম। হঠাৎ কী একটা শীতল স্রোত মেরুদণ্ড বেয়ে সাপের মতো নেমে গেল যেন! ‘মুকু’-নামক কোনও ব্যক্তির দ্বারা অধিকৃত টিলা– এই অর্থ যদি না হয়? ‘মুকুর’ শব্দটা যদি একটাই গোটা শব্দ হয়?

‘মুকুর’ মানে তো আয়না। রবীন্দ্রনাথের ‘পূজারিণী’ মনে পড়ল–

“সেথা হতে ফিরি গেল চলি ধীরে
বধূ অমিতার ঘরে।
সমুখে রাখিয়া স্বর্ণমুকুর
বাঁধিতেছিল সে দীর্ঘ চিকুর,
আঁকিতেছিল সে যত্নে সিঁদুর
সীমন্তসীমা-’পরে।”

কেন যে কথাটা এতক্ষণ মনে আসেনি, কে জানে! কী মূর্খ আমি! মূর্খ, মূর্খ! ‘মুকুর’ মানে আয়না; কালের দর্পণ! যে-দর্পণে মুখ দেখলে নিজের অতীত, নিজের ভবিষ্যৎ মুখোমুখি এসে উপস্থিত হয়।

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সতী কে? শুনলাম, তিনি না কি এই গাঁয়েরই মেয়ে। পরে অন্যরকম জীবন হয় তাঁর। তিনি কিছু একটা দেখেছেন ওই মুকুরটিলায় গামারের বনে। কীভাবেই বা খোঁজ পাব তাঁর? অপরিচিতা একজন মহিলা সম্পর্কে গাঁয়ের লোকের কাছে কিছু জানতে যাওয়া ভালো দেখাবে কি?

হঠাৎ একটা ঝোড়ো বাতাস উঠল বনের মধ্যে। গাছগুলোর ডালপালা দু’পাশে দুলিয়ে এদিক পানে অতর্কিতে ধেয়ে এল সেই বাতাস। ঘরের দাওয়ায় বসে থাকা আমার সারা শরীর জুড়িয়ে দিয়ে পুনরায় খোলা মাঠের দিকে পরক্ষণেই উধাও হয়ে গেল। এক মুহূর্ত পরেই সব চুপচাপ, সমস্ত নিথর।

সেই হঠাৎ জেগে উঠে হঠাৎই ঘুমিয়ে পড়া বাতাসের ঢেউয়ের মধ্যে একটা অদ্ভুত মিষ্টি গন্ধ পেলাম আমি। অদ্ভুত মানে অ-চেনা। চাঁপাফুলের গন্ধ নয়, পাকা কাঁঠালের ভুরভুরে গন্ধটাও নয়, এমনকী, নবোদিত আমের মুকুলের ঘ্রাণও সে নয়। কী যেন একটা অচেনা ফুলের গন্ধ!

আমার মনের গড়নটাই এমন যে, সহজ জিনিসকে সহজভাবে নিতে পারি না। সবসময় কার্য-কারণের খোঁজ। কোথা থেকে গন্ধটা আসছে, যদি ফুলের গন্ধই হয়, তাহলে সে কী ফুল– এইসব মাথার মধ্যে ধোঁয়া পাকাতে লাগল। উঠে দাঁড়িয়ে আমি ঘরের দাওয়াটার চারিভিত মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করতে লেগে গেলাম। দাওয়া থেকে নেমে সারা উঠানটা মুন্দিবেড়ার আগড় পর্যন্ত ঘুরে এলাম এক পাক। কোথাও কিছু নেই।

নিরস্ত হয়ে উঠান ছেড়ে দাওয়ায় উঠছি, এমন সময় হঠাৎ চোখ পড়ল ছাঁচতলার দিকে। খড়, টালি, টিন বা অ্যাসবেস্টসের ছাউনি থেকে বৃষ্টির জল গড়িয়ে দাওয়ার ঠিক নিচে যে-জায়গাটায় গিয়ে পড়ে, আমরা গাঁয়ের লোকজন তাকেই ‘ছাঁচতলা’ বলি। বৃষ্টির ধারা পড়ে পড়ে তিরতিরে বালুভরা একফালি জায়গাটিতে পাশাপাশি অনেক অগভীর গর্ত হয়ে যায়। আগেকার দিনে ছোটবেলায় পোলিও-র টিকা নেওয়ার ফলে মানুষের বাহুর ওপর যে-বৃত্তাকার কুঞ্চনচিহ্ন প্রায় সারাজীবন ধরেই থাকত, ছাঁচতলায় বৃষ্টির ধারা পড়ে পড়ে ঠিক ওরকমই অজস্র গোলাকার দাগ তৈরি হয়। ওই ছাঁচতলায় দেখলাম, কে যেন পাশাপাশি কতগুলো গুল্ম রোপণ করেছে। কাছে যেতেই তীব্র সেই সুগন্ধ নাকে এসে লাগল। ওই গুল্মগুলোতে মেরুন রঙের ছোট ছোট কতগুলো ফুল ফুটে আছে, দেখতে পেলাম। এত ছোট্ট ফুল, প্রায় ঘাসফুলের মতো ছোট্ট, এতটুকু এতটুকু পাঁচটা করে পাপড়ি, অথচ কী মাদকতাময় সুঘ্রাণ তাদের! ঘ্রাণ নিতে নিতে কেমন বিহ্বল লাগছিল আমার, যেন নেশা করেছি। তাড়াতাড়ি ওখান থেকে সরে এলাম। কে জানে কী ফুল! তার চেয়েও বড় কথা– এদের এখানে এত যত্ন ভরে রোপণ করল কে?

কাউকে কিছুটি না-বলে চুপচাপ ব্যাপারটায় নজর রাখতে লাগলাম। কে কে আসে আমার এই একহারা ঘরের দিকে? দিন কয়েক নিষ্ফল নজরদারি করেই কাটল। কাঠবিড়ালি, বেজি, ব্যাঙ এবং সম্ভবত মণ্ডুকাকৃষ্ট দুয়েকটি সাপ ছাড়া আমার ঘরের কাছাকাছি কাউকেই ভিড়তে দেখলাম না।

হপ্তাখানেক পরে ঘরের দক্ষিণ দিকের মাঠে এক বুড়িকে ঘাস তুলতে দেখলাম। একটা চটের বস্তায় ঘাস কেটে ঘাস তুলছিল বুড়ি। রুগ্ণ, খয়াটে চেহারা, ময়লা একখানা কাপড় গায়ে। দাওয়ায় বসে চা খাচ্ছিলাম। বুড়িকে হেঁকে ডাকলাম একবার, ‘ও মা জননী! একবার এসো দেখি এদিকে।’

অলংকরণ: স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়

ঘাসের বস্তা আর ঘাস নিড়ানোর যন্তর ফেলে বুড়ি এসে দাঁড়াল উঠানে। বললাম, ‘এত ঘাস কী হবে?’

সে বলল, ‘গরুতে খাবে, বাবা!’

আমি বললাম, ‘আচ্ছা, আমার এই ঘরের কাছাকাছি কাউকে তুমি ঘুরঘুর করতে দেখেছ কখনও?’

বুড়ি হকচকিয়ে আমার দিকে চাইল। বুঝলাম, প্রশ্নটা বড়ই অর্থহীন হয়ে গিয়েছে। ভণিতা না-করে এবার সোজাসুজি জিজ্ঞেস করলাম, ‘বলছি, এই ঘরের ছাঁচতলায় এসব মেঠো ফুলের গাছ কে লাগিয়েছে, বলতে পারবে?’

এবার আমার কথাটা শুনে যেন লজ্জা পেয়ে বুড়ি মাথা নিচু করে তার বাঁ-পায়ের বুড়ো আঙুল দিয়ে উঠানের মাটি খুঁটতে লাগল। আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘তুমি? তুমি লাগিয়েছ গাছগুলো?’

সে শুধু সম্মতিসূচক মাথা নাড়ল উপরে-নিচে।

আমি ফের শুধোলাম, ‘কেন? গাছ লাগিয়েছ কেন?’

সে এবার তাড়াতাড়ি মুখ তুলে বলে উঠল, ‘আমি একুনি সোমস্তো উপড়ে ফেলে দিচ্চি, বাবা!’

আমি বললাম, ‘না-না, উপড়োতে হবে কেন? থাক। কিন্তু হঠাৎ আমারই ঘরের ছাঁচতলায় গাছ লাগালে কেন, তাই জিজ্ঞাসা করছিলাম আর কী!’

এবার বুড়ি একটু সাহস পেয়ে বলল, ‘বাবা, এগুলো ঘাসেরই ফুল। ফুলসুদ্ধ ঘাস কেটে নে গিয়ে গরুকে দিলে গরুতে খেয়ে নেয়, এত সুন্দর ফুল নষ্ট হয়। আমি তাই ফুলের গাছগুলো সাবধানে তুলে এনে তোমার ছাঁচতলায় লাগিয়েচি। বৃষ্টির জল পেয়ে কেমন ফনফনিয়ে বেড়ে উঠেচে, কত সোন্দর দ্যাকাচ্চে, দ্যাকো! কী ঠান্ডা সুবাস!’

‘সে তো বুঝলাম, কিন্তু এই ফুলের গন্ধে সাপ আসবে না?’

‘না, বাবা! এ ফুল সাপ টানে না। সেসব অন্য জাতের ফুল। এই ফুল শুধু সোন্দর আর সুবাসী!’

আমি অবাক হয়ে চাইলাম বুড়ির মুখের দিকে। পাড়াগাঁর অতি সাধারণ এক শীর্ণ বৃদ্ধা, কোনওমতে কায়ক্লেশে দিন গুজরান করে, কিন্তু তার মধ্যে এমন গভীর সৌন্দর্যবোধ, এতখানি রসবোধ… ধরিত্রীকে যে আমি কিছুই বুঝতে পারিনি, জীবন যে আমাকে আজও প্রতি পদে পদে চমক দিয়ে যায়, সে এই বুড়ি-মায়ের মতো অতি সাধারণ মানুষদের জন্যই।

আমি চুপ করে আছি দেখে ফোকলা দাঁতে হেসে, একদিকে ঘাড় কাত করে বুড়ি বলল, ‘তোমার এখেনে যেমন ঘাসফুল লাগিয়েছি, ওইরকমই কোথাও কোনও মন্দির কি মসজিদ কি মাজার কি আশ্রম দেখলেই আমি তার চারপাশেও এই ফুলই লাগাই।’

‘কিন্তু মা, আমার এ ঘর তো মন্দির, মসজিদ কিছু নয়। আমি তো বাউন্ডুলে লোক একটা। এ-গাঁয়ের মানুষজন কিছুদিনের জন্য আমাকে এ ঘরে দয়া করে থাকতে দিয়েছে।’

সে বলল, ‘তা হলিই বা! তুমি তো ঘরসংসার করনি। পাঁচ ফেলে এক নিয়ে আচো। য্যামনেই থাকো, যেভাবেই থাকো, চাল নাই চুলা নাই, তোমার মতো একলা লোকের দ্যাকাশোনা কত্তে ভগমান এসে এখেনে বসে থাকে না রোজ রোজ?’

কী বলব, ভেবে পাচ্ছিলাম না। হায় রে, হায়! হে আমার জ্ঞান-বিজ্ঞানের শিক্ষা, হে আমার যুক্তি-তর্কের কচকচি, হে আমার ধুলোখাওয়া পুঁথির ছেঁড়া পাতা, কোনও দিন কি আমাকে এই গাঁয়ের বুড়ির সহজ, সরল, পবিত্র বিশ্বাসের কাছে নিয়ে যেতে পারবে তোমরা? হে আমার ভারত, তোমার আলোকপ্রদীপ্ত নগরজীবন থেকে দূরে, বহু দূরে… নিভৃতে… তোমার ‘সুসভ্যতা’-র চকচকে পালিশ-করা মায়াদর্পণের ওধারে… আধোঘুমন্ত অগণ্য গ্রামদেশের রাঙা পথের ধুলায় এমন কত অমূল্য অনুভূতির বজ্রমানিক তুমি ছড়িয়ে রেখেছ আমার জন্য?

বুড়ি আপনমনে বলে চলে, ‘সতী যখন এসেছিল, সেও তোমার মতোই একলা ছিল ওই দূরে মাঠপারের খোড়ো ঘরে… তারও ঘরের চারপাশে আমি এই ঘাসফুল লাগিয়েচিলাম…’

সতী? চমকে উঠলাম। তবে কি আকাশের পাখি আচম্বিতে উড়ে এসে ধরা দিল আমার কাছে?

কিছুই যেন জানি না, এমনিভাবে জিজ্ঞেস করলাম, ‘সতী কে?’

‘সতী আমাদের এ গাঁয়ের এক বাগদি ঘরের মেয়ে। ছোটবেলায় ওর মা-বাপ মরে যায়। একটু বড় হতেই এক সাধুর হাত ধরে ভৈরবী হয়ে কামিখ্যে চলে যায় সতী। তারপর খবর নাই, খোঁজ নাই কিচ্ছু, বারো-চোদ্দো বছর পরে সতী গাঁয়ে এল। ওই ওদিকের গাঁয়ের মাঠটা পেরিয়ে একটা ঘর তুলে এখানেই ছিল সে বছরখানেক।’

আমি মুগ্ধ হয়ে জিজ্ঞেস করি, ‘তারপর?’

‘তারপর সে চলে গেল এখেন থেকে। এখেনে গাঁয়ে ঘরে তাকে অনেক উৎপাত সইতে হচ্ছিল কি না!’

‘চলে গেল? তা গেল কোথায় এখান থেকে?’

‘সে কি আমি আর জানি, বাবা? আমরা গাঁয়ের মুরুক্ষু-সুরুক্ষু মানুষ। তবে শুনিচি সতী নাকি এখন কাঁকরভাঙায় আশ্রম খুলেচে। সেখেনেই থাকে। সেখেনকার লোক নাকি তাকে খুব ছেরেদ্দাভক্তি করে। কাঁকরভাঙা কোন দিকে, জানো তুমি?’

………………………………. আয়নার ওধারে-র অন্যান্য পর্ব ………………………………………..

১। ওধারে এক আগন্তুক

২। অন্ধকারে, মৃতদেহ কাঁধে 

৩। ধুলামলিন লাইব্রেরি