

আমরা কোনওদিনই গরিব, বস্তিবাসীদের ঠিক আমাদের সমতুল্য মানুষ ভাবিনি, ভাবি না। তার ওপর সেই মানুষদের কেউ যদি ধর্মে মুসলমান হন, তাহলে তো কথাই নেই! আমরা ধরেই নিই, মুসলমান মানেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী!
জলপাইগুড়ি বাইপাসের অস্থায়ী বাজারে ঢুকে শুনলাম, পাশেই বয়ে চলা তিস্তা ছাড়াও এ-বাজারে আসে ধরলা ও জলঢাকা নদীর টাটকা মাছ। বিঘৎখানেক বোরোলি তো আছেই, চোখে পড়ল প্রমাণ সাইজের খোকসা, মৃগেল আর বিশাল সাপের আকৃতির বামুশ বা বাঙোশ মাছ! তবে সবচেয়ে বেশি আপ্লুত হলাম কিলো চারেকের বাঘা মহাশেরের দর্শনলাভ করে।
নিষিদ্ধ মাংস থেকে ম্লেচ্ছ ধর্ম থেকে অবৈধ সম্পর্ক থেকে অসামাজিক জীবন– সব কিছুর প্রতি আজীবন অমোঘ টান অনুভব করেছেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। সবকিছুর জন্য কি দায়ী নয় তাঁর ভাবনা এবং সৃষ্টির টেবিলটা? ওই টেবিলটা কি তাঁকে নিয়ে যায়নি একটার পর একটা তাড়নায়?
১৯৬৮ সালে ডেমোক্র্যাটদের জাতীয় কনভেনশনে এবং দু’ বছর পরে ব্ল্যাক প্যান্থারদের বিদ্রোহী সমাবেশে উপস্থিত থেকে তিনি অবিরাম কৃষ্ণনাম উচ্চারণ করেছিলেন। এই সময় প্রাচ্যপ্রীতির অর্থ কি পাশ্চাত্যকে পুরোপুরি বর্জন? আমার তো মনে হয়, তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের ভক্তিরস এবং মানবতার ভিতর সেতুস্থাপন করতে উন্মুখ ছিলেন।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের আদিযুগে সিনেমার মক্কা-মদিনা ছিল কলকাতা। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির পূর্বসূরিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বম্বের এক পারসি ব্যবসায়ী, জামশেদজি ফ্রামজি ম্যাডান; যাঁর হাতে গোড়াপত্তন হয়েছিল অধুনা ‘টলিউড’-এর।
উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস, অ্যালেন গিনসবার্গের দেখায় এনে দিয়েছিলেন সেই ভাবনার ছাপ যা বৌদ্ধ-দর্শনের সঙ্গে দ্বিরালাপে আরও ঋদ্ধ হল। তাঁকে নিয়ে গেল তাৎক্ষণিক দেখার কবিতা জগতে। গীতল নয়, বরং নিজের ভিতরকার অন্ধকার থেকে ঠিকরে বেরিয়ে দুনিয়ার অন্ধকারের সঙ্গে একাত্ম হওয়া।
আমাদের ‘চাচা’ বলে এক বন্ধু ছিল। গাঁজা খেত। শ্মশানে গিয়ে। আমিও তার সঙ্গে শ্মশানে যেতাম। চাচা একটু গোল গোল নেশা-জড়ানো স্বরে বলত, মাজমাওয়ালা গোপাল। চাচা কেন গোপালকে ‘মাজমাওয়ালা’ বলত, আর ওই কথাটার কী মানে, সে আমি আজও জানি না।
যে বেমানান শব্দগুলো পাশাপাশি সহ্য করা যেত না আগে, আজকাল সেটাকে আর অত অসহ্য লাগে না অনেকের। যাকে আমরা বলি ‘গুরুচণ্ডালী’ দোষ। অনেকদিন আগে, অর্থাৎ ব্যাকরণে আমাদের মাথাটা যখন অনেকটাই ঠান্ডা ছিল, তখন এই গুরুচণ্ডালী ব্যাপারটা, নিজের মতো করে ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে বোঝাপড়ার আয়োজন করেছিলেন শিবরাম চক্রবর্তী।
পোর্ট্রেট তুলতেন কম, অধিকাংশই ওয়াইড ফ্রেমের ক্যানডিড। ২৪-৭০ বা ২৮-৭০ এই লেন্সই উনি ব্যবহার করতেন। বেশিরভাগ ছবিই ওয়াইড ফ্রেম, লং লেন্স নিয়ে ঘুরতেনই না। সবসময় একটাই লেন্স দিয়ে সব কাজ করে সময় সাশ্রয় করতেন।
২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর, রঘু রাইয়ের ৮০তম জন্মদিনে ‘রোববার’ পত্রিকা তাঁকে নিয়ে সংখ্যা করে ‘রাই আমাদের’। সেই সংখ্যায় চিরাচরিত ‘অকিঞ্চিৎ’ লেখেননি রোববার সম্পাদক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। অকিঞ্চিৎ-এর চারপাতা জুড়ে ছাপা হয়েছিল রঘু রাইয়ের ছবি আর এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার। রঘু রাইয়ের মৃত্যুদিনে সেই সাক্ষাৎকারটির পুনর্মুদ্রণ রইল।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved