Robbar

ঠাকুরদার ঝুলি

পোড়ামাটির শিল্পকে জনপ্রিয় করেছে কাঁঠালিয়ার শিল্পীরা

দৈনন্দিন গার্হস্থ্য জীবনের সাদাকালো যাপন-শৈলী তাঁদের পুতুলের বিষয়বস্তু। কাঁঠালিয়ার পুতুল যেমন একক চরিত্র হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, তেমনই একাধিক চরিত্রের সমন্বয়ে সামাজিক ন্যারেটিভ প্রকাশ করেছে।

→

মৎস্য দেবতা মৎস্য ভোগ

লৌকিক প্রবাদে ‘মাছের মায়ের পুতের শোক’ বলে যতই বিদ্রুপ করা হোক না কেন, মাছ প্রজননের প্রতীক। সেই কারণে বিয়েতে মাছ দেওয়ার রীতি আজও বঙ্গ জীবনের অঙ্গ। এছাড়া মৎস্যমিথুনের আলাদা তাৎপর্যও দেখা যায় বিবিধ ধর্মীয় সংস্কৃতিতে।

→

কুবের পুজোর আচার থেকেই সোনা কেনা হয় অক্ষয় তৃতীয়ায়

অক্ষয় তৃতীয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যক্ষাধিপতি কুবেরের নাম। স্বর্গের সম্পদনিধির দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল অক্ষয় তৃতীয়ার দিনটিতে। কুবের সম্ভবত প্রাক-বৈদিক দেবতা। বৈদিক যুগে তিনি প্রথম সারির দেবতাদের মতোই প্রভাবশালী ছিলেন। অনেকেই ‘কুবের’ শব্দটিকে অস্ট্রিক গোষ্ঠীর শব্দ মনে করেছেন।

→

বৈশাখ বিষ্ণুর প্রিয়, পুরাণের শ্রেষ্ঠ মাস?

বৈশাখ মাসের শ্রেষ্ঠত্ব, গুরুত্ব ইত্যাদি সম্পর্কে মহাভারত পুরাণ সাহিত্যে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। মহাভারতের অনুশাসন পর্বের ১০৯ পর্বে বলা হয়েছে– যে ব্যক্তি বৈশাখ মাসের দ্বাদশীতে উপবাস করে, অহোরাত্র কৃষ্ণের মধুসূদন নাম উল্লেখপূর্বক অর্চনা করেন– তিনি অগ্নিষ্টোম যজ্ঞের ফল এবং সোমলোক লাভ করেন।

→

গর্জন থেকেই গাজন

প্রাচীনকালে শিবকে কেন্দ্র করে যে বাৎসরিক উৎসব হত, তার নাম ‘মহ’ বা ‘যাত্রা’। ভক্তদের সমস্বরে শিবের নাম-ডাকের গর্জন থেকে পরে ‘গাজন’ শব্দটি আসতে পারে। অনেকে লোকনিরুক্তি করে লিখেছেন, গাঁ-জনের উৎসব বলেই এর নাম ‘গাজন’। কিন্তু শহর মফস্সলেও গাজন উৎসব আজও পালিত হয় জাঁকজমকের সঙ্গে।

→

অসুরদের ফসল বলেই কি আখ বলিপ্রদত্ত?

আখের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসুর সংস্কৃতির প্রসঙ্গ। অনেকেই বলেন, আখ প্রথম লাগায় অসুররা। অসুররাজ বলির পাঁচ পুত্র– অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, সুহ্ম, পুণ্ড্র। তাদের নাম অনুসারে পাঁচটি দেশের মধ্যে অন্যতম হল পুণ্ড্র বা উত্তরবঙ্গ। পণ্ডিতদের মতে ‘পুণ্ড্র’ শব্দের অর্থ এক জাতের আখ। যেমন দেশি আখের নাম ‘পুঁড়ি’।

→

যুদ্ধবাজ নয়, বাঙালির রাম করুণরসের

বাংলায় রামচন্দ্রের যোদ্ধা রূপের চেয়ে তাঁকে করুণ রসের নায়ক রূপে বন্দনা করেছেন দ্বাদশ শতাব্দীর বাঙালি কবি জয়দেব। ‘ধৃত রামশরীর জয় জগদীশ হরে’। এখান থেকেই শুরু হয়েছে রামের প্রকৃত বাঙালিয়ানা। কৃত্তিবাসের কাব্যে এই করুণ রসের সঙ্গে ভক্তিরস গাঢ় হয়ে উঠেছে।

→

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথ নিয়ে কৃষ্ণচন্দ্র-নবকৃষ্ণের মামলা লন্ডন অবধি গড়িয়েছিল

মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র, নবকৃষ্ণের কাছে একবার তিন লাখ টাকা ধার করেছিলেন। নবকৃষ্ণ জানালেন, উক্ত টাকা তাঁকে আর শোধ করতে হবে না। বিনিময়ে গোপীনাথ শোভাবাজারেই থাকবেন। বলাবাহুল্য রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ক্রুদ্ধ হয়ে লন্ডনের প্রিভি কাউন্সিলে এ নিয়ে মামলা দায়ের করেন। সে মামলার রায় হল রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে গোপীনাথ ফেরত দিতে হবে।

→

কিম্ভূত-কিমাকার মূর্তির নাম কেন ‘কাকতাড়ুয়া’?

জমির ফসল বাঁচানোর জন্য চাষিরা এখনও মরা কাক অনেক সময় জমিতে দড়ি বেঁধে ঝুলিয়ে দেয়। এর ফলে অন্যান্য পাখি সেই মরা কাক দেখে খুব ভয় পায়। সেই কারণেই এর নাম ‘কাকতাড়ুয়া’ হয়েছে বলে মনে হয়। এভাবে ভাবলে বিষয়টা সহজ হলেও গলায় বেঁধা কাঁটার মতো প্রশ্নটা অনেকের মনে খচখচ করবে: কাকের প্রতিকৃতি না-করে মানবাকৃতি করা হল কেন?

→

দেড় ফুটের ল্যাংচাভোগ ছাড়া রং খেলেন না মদনমোহন

দোগাছিয়ার ল্যাংচা আসলে নোড়াকৃতি রসগোল্লা। কোনও ভাজা মিষ্টি নয়। স্থানীয় নাম রসগোদা। বড় ল্যাংচায় লাগে আড়াই থেকে পৌনে তিন কেজি ছানা। দীর্ঘক্ষণ ছানাকে বিশেষ কৌশলে ঠেসে ময়দার আঠায় জোড় দিয়ে রসে ফোটানো চলে। একটি চার নম্বর কড়াইতে ওই মাপের দু’টি মিষ্টি বানাতে সময় লাগে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা।

→