Robbar

কুবের পুজোর আচার থেকেই সোনা কেনা হয় অক্ষয় তৃতীয়ায়

Published by: Robbar Digital
  • Posted:April 19, 2026 8:09 pm
  • Updated:April 19, 2026 8:09 pm  

কয়েকটি লোককাহিনির সঙ্গে অক্ষয় তৃতীয়ার যোগ আছে। প্রথমত, শ্রীকৃষ্ণের সখা ও বাল্যবন্ধু অতিদরিদ্র সুদামা তাঁর সঙ্গে একদিন দেখা করতে যান মথুরায়। হাতে ছিল চালপূর্ণ পাত্র। সেদিন ছিল অক্ষয় তৃতীয়া। শ্রীকৃষ্ণ মিত্রকে সেবায় তুষ্ট করেন এবং তাঁর হাতের পরশে সেই চালের পাত্রটি অক্ষয় পাত্রে পরিণত হয়। দ্বিতীয়ত, দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের দিন, সখা কৃষ্ণ, পাঞ্চালীকে অনন্তবস্ত্র প্রদান করে তাঁকে লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন। সেই অক্ষয় বস্ত্র দান করা হয়েছিল অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে। তৃতীয়ত, রাবণের পুণ্যবতী ভার্যা মন্দোদরীর জন্ম হয়েছিল অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে। চতুর্থত, অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে শ্রীকৃষ্ণের চন্দনযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

স্বপনকুমার ঠাকুর

২৯.

মাধব মাস বৈশাখের প্রতিটি দিন বা তিথি শুভকর হিসাবে সুপরিচিত। তবে ভারতীয় সংস্কৃতিতে অক্ষয় তৃতীয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। হিন্দুরা বিশ্বাস করেন, এই দিনে অর্জিত পুণ্যফলের কোনও ক্ষয় নেই। অক্ষয় পুণ্যফল জন্ম-জন্মান্তরে প্রবাহিত হয়। সেই কারণে দান ধ্যান, শুভকর্ম অক্ষয় তৃতীয়ার মূল সুর। পয়লা বৈশাখের পরিবর্তে অনেকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হালখাতা করেন। গৃহপ্রবেশ, নতুন বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের শুভারম্ভ হয় পবিত্র দিনটিতে। গ্রামবাংলায় কৃষকরা চাষবাসও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন এই পবিত্র তিথিতে।

জৈনধর্মেও অক্ষয় তৃতীয়া প্রসঙ্গ উজ্জ্বল হয়ে আছে আদি তীর্থংকর ঋষভনাথের আলেখ্যতে। অক্ষয় তৃতীয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে বিচিত্র কিংবদন্তি জনশ্রুতি, যা ভারতীয় সনাতনী ঐতিহ্য ও জৈনধর্মের প্রেক্ষিতে দেখা যায়। নানা পুরাণে দিনটির মহিমা কীর্তন করা হয়েছে উপাখ্যানের সঙ্গে যুক্ত করে।

ঋষভনাথ মূর্তি

স্কন্দপুরাণের বিষ্ণুকাণ্ডের বৈশাখমাস মাহাত্ম্য পর্বের ১৫, ১৬ এবং ২৩ অধ্যায়ে অক্ষয় তৃতীয়া সম্পর্কে বিচিত্র আলেখ্য লিখিত হয়েছে। পবিত্র নদীতে স্নান, দানকর্ম এবং বিষ্ণু পূজার বিধান রয়েছে। স্কন্দপুরাণে ২৩-তম অধ্যায়ে অক্ষয় তৃতীয়া কেন বিখ্যাত সেই প্রসঙ্গে উপাখ্যান বর্ণিত হয়েছে। দেবতাদের রাজা ইন্দ্র ও অসুররাজ বলির মধ্যে ভয়ংকর যুদ্ধ লাগে। যুদ্ধে দেবরাজ ইন্দ্র, বলিকে পরাজিত করে ক্লান্ত বিদ্ধস্ত হয়ে মর্তে আগমন করেন।

পথের মধ্যে দেখতে পান ঋষি উতথ্যের আশ্রম। আশ্রমে ঋষি তখন ছিলেন না। ঋষিপত্নীর বিশ্রস্তবাস, যৌবনের মাদকতায় প্রলুব্ধ হলেন এবং জোরপূর্বক ঋষিপত্নীকে ভোগ করলেন। ইন্দ্রের কুকর্মের ফলে দেবতারা স্বর্গরাজ্য হারান। অক্ষয় তৃতীয়ায় পুণ্যস্নান করে ইন্দ্র কৃতকর্মের প্রায়শ্চিত্ত করে শুচি হন।

স্কন্দপুরাণে অক্ষয় তৃতীয়ায় পুণ্যস্নান-সহ দেব মানব ঋষির উদ্দেশ্যে তর্পণের কথা লেখা হয়েছে। মধুসূদন পূজার কথাও বলা হয়েছে। মৎস্যপুরাণে উল্লিখিত কয়েকটি পৌরাণিক ব্রতের মধ্যে অক্ষয় তৃতীয়া ব্রতের মাহাত্ম্যর কথা লেখা হয়েছে ২২৪ অধ্যায়ে। পুরাণে বলা হয়েছে, অক্ষয় তৃতীয়াতে দান, হোম, তপ, জপ যা কিছু করা হবে তা চিরকাল অক্ষয় হয়ে থাকবে। উপবাস করলে, তাঁর তপ সঞ্চয়ের ফল জন্ম-জন্মান্তরে অক্ষয় হয়ে থাকবে। পবিত্র দিনটিতে উপবাস করে প্রাতঃস্নান এবং বিষ্ণুকে ছাতুভোগ প্রদান করলে রাজসূয় যজ্ঞের ফললাভ হয় এবং পারলৌকিক জীবনে তিনি উত্তমগতি লাভ করেন।

গঙ্গা মাহাত্ম্য, স্কন্দ পুরাণ

পদ্মপুরাণের ৯৫ অধ্যায়ে বলা হয়েছে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকে সত্যযুগের অবসান হয়ে ত্রেতা যুগের শুরু হয়েছে। ত্রেতা শব্দের অর্থ দ্বিতীয়। তিন সহস্র দেববর্ষ ত্রেতাযুগের আয়ুষ্কাল। ত্রেতাযুগে তিনজন বিষ্ণুর অবতার জন্মগ্রহণ করেন– বামন অবতার, পরশুরাম এবং শ্রীরামচন্দ্র। কথিত আছে বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের আবির্ভাব তিথি অক্ষয় তৃতীয়া। পরশুরাম ভক্ত এবং বৈষ্ণবরা তাঁর স্মরণে উক্ত দিনটিতে তাঁকে আরাধনা করেন এবং মন্দিরে পুজো দেন। 

অক্ষয় তৃতীয়ায় পূর্বে হিন্দুরাজারা ব্রাহ্মণদের ভূমিদান করতেন– সে কথা জানা যায় ঐতিহাসিক তাম্রশাসন থেকে। উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের কিছু অংশ নিয়ে একাদশ ও দ্বাদশ শতকে গাহড়বাল সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল। বেনারস ছিল রাজধানী। ১০৯৯ খ্রিস্টাব্দে চন্দ্রাদিত্যদেব অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে গঙ্গা ও বরুণনদীর সঙ্গমস্থলে বেনারসের আদিকেশব ঘাটে স্নান করে, সন্নিহিত ৩০টি গ্রামের ৫০০ জন ব্রাহ্মণকে ভূমিদান করেছিলেন। প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে–

‘Another grant was made by Chandradityadeva who after bathing at Adikeshava ghat at the confluence of river Ganges and Varuna bestowed on 500 Brahmans 30 villages on the Akshaya Tritya on Samvat 1156 i.e 1099 CE.’ (Epigraphia Indica, vol. xiv, p. 197)

হিন্দু আর্ট স্টুডিও-র ১৮৮০ সালের প্রিন্টে বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরাম

লোকশ্রুতি অনুসারে, মহাভারতের সঙ্গে অক্ষয় তৃতীয়ার যোগ আছে মহাভারত রচনা এবং পাণ্ডবদের সূর্যদেব প্রদত্ত অক্ষয়পাত্র প্রাপ্তি প্রসঙ্গে। আদিপর্বের সূচনা অধ্যায়ে ‘ভারত লেখনার্থে গণেশের স্মরণ’ শীর্ষক রচনা থেকে জানা যায়, ব্রহ্মা ব্যাসদেবকে মহাভারত লেখার জন্য গণেশকে অনুরোধ করতে বলেন। বিঘ্ননাশক গজাননকে স্মরণ করলে তিনি ব্যাসদেবের সম্মুখে আবির্ভূত হলেন। ব্যাসদেব যথোচিত সৎকার ও আসন প্রদান করে তাঁকে দিয়ে মহাভারত লেখার কথা ব্যক্ত করলেন। 

গণপতি জানালেন, লিখতে তিনি প্রস্তুত, কিন্তু লেখনী ক্ষণমাত্র বিশ্রাম নিলে চলবে না। ব্যাসদেবও জানালেন, তিনি যা বলবেন, তাঁকেও বুঝে নিয়ে লিখতে হবে। সেই বোঝার ঘাটতি থাকলে লেখাও বন্ধ থাকবে। গণেশ প্রস্তাবে রাজি হলেন। গজপতি মহাভারত লিখতে লাগলেন। 

মাঝে মাঝে ব্যাসদেব গ্রন্থ-গ্রন্থিস্বরূপ কূট শ্লোক বলতে থাকেন। গণেশ সেই কূটের রহস্যভেদ করার সময় ব্যাসদেব অবকাশ পেলেন। এই সুযোগে তিনি পরবর্তী শ্লোকাবলি ভাবতে থাকেন। মহাভারত গ্রন্থে এই ধরনের ব্যাসকূট আছে প্রায় আট হাজার আটশত শ্লোক। 

সতেরো শতকের মেবার চিত্রে গণেশের মহাভারত রচনা

মহাভারতের বনপর্বের তৃতীয় অধ্যায়ে পাণ্ডবদের অক্ষয় পাত্র প্রাপ্তির চমৎকার বর্ণনা রয়েছে। মহাত্মা ধৌম্যর পরামর্শে, যুধিষ্ঠির, সূর্যদেবতার অষ্টোত্তর শতনাম করে তাঁকে প্রীত করেছিলেন। সূর্যদেব দিব্য অগ্নিময় শরীরে যুধিষ্ঠিরের সম্মুখে আবির্ভূত হয়ে বললেন, তাঁর স্তবে তিনি তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁর সকল অভিলাষ পূর্ণ হবে। তিনি প্রসন্ন হয়ে একটি জাদুকরী তাম্রস্থালী প্রদান করে যুধিষ্ঠিরকে বললেন, পাঞ্চালী অর্থাৎ দ্রৌপদীর ভোজনের পূর্বে এই পাত্রস্থ খাদ্য সম্ভার কখনওই নিঃশেষিত হবে না। তাঁদের পাকশালায় পক্ব ফল, মূল, শাক এবং আমিষ– চতুর্বিধ অন্ন অক্ষয় হয়ে থাকবে। লোকশ্রুতি অনুসারে যুধিষ্ঠির অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে পাত্রটি লাভ করেছিলেন।

লোকবিশ্বাস– এদিন মর্তে গঙ্গাদেবীর আবির্ভাব হয়েছিল। পৌরাণিক বিশ্বাস হল, পুরাকালে গঙ্গানদী মর্তে প্রবাহিত হত না। তিনি স্বর্গে বহমানা ছিলেন। গঙ্গাসাধক রাজা ভগীরথ পিতৃপুরুষদের সৎকার করতে এবং পাপের বিমোচনার্থে হিমালয়ে গঙ্গা আনয়নের জন্য কঠোর তপস্যা করেছিলেন। কথিত আছে, অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে গঙ্গা প্রথম মর্তে প্রবাহিত হয়েছিলেন। সেই কারণে এই বিশেষ দিনটিতে গঙ্গোত্রী যমুনোত্রী মন্দির খোলা থাকে গঙ্গাভক্তদের জন্য। এই দিনটিতে কলুষনাশিনী গঙ্গার উদ্দেশে তাঁরা বিশেষ পুজো দিয়ে থাকেন।

অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্য দিনে সমুদ্রমন্থন করাকালীন লক্ষ্মী দেবীর আবির্ভাব হয়েছিল। মহাভারতের আদিপর্বের ১৮ অধ্যায়ের নাম ‘সমুদ্রমন্থনারম্ভ’। সুরাসুর অমৃত লাভের আশায় সমুদ্রমন্থন করেছিলেন। মন্দার গিরিকে করা হয়েছিল মন্থনদণ্ড। মন্থন রজ্জু হলেন অনন্ত বা বাসুকি নাগ। আর কূর্মদেব হলেন মন্থন দণ্ডের আধার। সুরাসুর মিলে সমুদ্র মন্থনকালে উঠে এল চন্দ্র, পদ্মে উপবিষ্টা লক্ষ্মীদেবী এবং সুরাদেবী বারুণী ইত্যাদি।

পটচিত্রে সমুদ্রমন্থন

আরও কয়েকটি লোককাহিনির সঙ্গে অক্ষয় তৃতীয়ার যোগ আছে। প্রথমত, শ্রীকৃষ্ণের সখা ও বাল্যবন্ধু অতিদরিদ্র সুদামা তাঁর সঙ্গে একদিন দেখা করতে যান মথুরায়। হাতে ছিল চালপূর্ণ পাত্র। সেদিন ছিল অক্ষয় তৃতীয়া। শ্রীকৃষ্ণ মিত্রকে সেবায় তুষ্ট করেন এবং তাঁর হাতের পরশে সেই চালের পাত্রটি অক্ষয় পাত্রে পরিণত হয়। দ্বিতীয়ত, দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের দিন, সখা কৃষ্ণ, পাঞ্চালীকে অনন্তবস্ত্র প্রদান করে তাঁকে লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন। সেই অক্ষয় বস্ত্র দান করা হয়েছিল অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে। তৃতীয়ত, রাবণের পুণ্যবতী ভার্যা মন্দোদরীর জন্ম হয়েছিল অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে। চতুর্থত, অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে শ্রীকৃষ্ণের চন্দনযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

অক্ষয় তৃতীয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যক্ষাধিপতি কুবেরের নাম। স্বর্গের সম্পদনিধির দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল অক্ষয় তৃতীয়ার দিনটিতে। অক্ষয় তৃতীয়ার সঙ্গে যুক্ত আছে লুপ্তপ্রায় দেবতা কুবেরের পুজোর স্মৃতি। কুবের সম্ভবত প্রাক-বৈদিক দেবতা। বৈদিক যুগে তিনি প্রথম সারির দেবতাদের মতোই প্রভাবশালী ছিলেন। অনেকেই ‘কুবের’ শব্দটিকে অস্ট্রিক গোষ্ঠীর শব্দ মনে করেছেন। 

যক্ষাধিপতি কুবের দেবতা হিসাবে পুজো পেতেন অন্তত পাণিনীর যুগ থেকে। ‘অষ্টাধ্যায়ী’ গ্রন্থে দেবতা হিসাবে মহারাজের উল্লেখ আছে। কুবের তখন উত্তরদিকের অধিপতি; দিকপাল মহারাজ নামে অধিকতর জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। পতঞ্জলী তাঁর ভাষ্যে যুগ্ম দেবতা হিসাবে কুবের শিব-বৈশ্রবণের নাম উল্লেখ করেছেন। কুবের পুজোর স্মৃতি হিসাবে আজও অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে সাধ্যানুযায়ী হিন্দুরা সোনা ক্রয় করেন। 

কর্ণাটকের জৈন ভাস্কর্যে কুবের

অক্ষয় তৃতীয়ার সঙ্গে গভীর যোগ রয়েছে আদিনাথ বা আদি তীর্থংকর ঋষভনাথের। জৈনধর্ম অনুসারে ঋষভনাথ লক্ষাধিক বৎসর পূর্বে অযোধ্যা নগরীতে সম্ভ্রান্ত রাজবংশে জন্মগ্রহণ করেন। তখন অযোধ্যায়র নাম ছিল বিনীতা নগরী। তাঁর জন্মের সময় স্বর্গের রাজা ইন্দ্র তাঁকে আখ দ্বারা সংবর্ধিত করেছিলেন বলে, তাঁদের রাজ্যের নতুন নামকরণ হয় ‘ইক্ষাকু’ রাজ্য। জৈন গ্রন্থানুসারে ঋষভনাথের আদি নাম ‘উসভ’। পিতার নাম ‘নাভি’। মাতা মরুদেবী। উসভ দুই কন্যাকে বিবাহ করেছিলেন। পত্নীদ্বয়ের নাম সুমঙ্গলা ও সুনন্দা।

ঋষভনাথ সন্ন্যাস গ্রহণের পর ৪০০ দিন উপবাস অবস্থায় দেশ ভ্রমণ করেন। প্রথম আহার গ্রহণ করেন বৈশাখী শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে। সেই উপলক্ষে জৈন ধর্মানুসারীরা বর্ষিতপ অনুষ্ঠান পালন করে থাকেন পবিত্র দিনটিতে। এ নিয়েও রয়েছে জনপ্রিয় কিংবদন্তি।

ঋষভনাথ দীর্ঘ উপবাস ভঙ্গের জন্য খাদ্য বা পানীয়ের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন অযোধ্যায়। সেইসময় মানুষ এই অবস্থায় কী করতে হবে বা দিতে হবে বুঝতে না পেরে, নানা মূল্যবান উপহার সামগ্রী ঋষভনাথকে দিলেন। তিনি এসব দেখে নিষ্পৃহ থাকলেন। পুনরায় উপবাস চালিয়ে যেতে থাকলেন। ঋষভনাথের পৌত্র হস্তিনাপুরের রাজা শ্রেয়াংশ আখের রস প্রদান করে তাঁর উপবাস ভঙ্গ করেছিলেন। সেই পবিত্র ঘটনার স্মরণে অক্ষয় তৃতীয়াতে আজও পালিত হয় বর্ষিতপ অনুষ্ঠান। 

মুদ্রায় রাজার কাছ থেকে ঋষভদেবের আখের রস গ্রহণ

বর্ষিতপের অর্থ হল বছরভর উপবাস। জৈনধর্মের সাধক ও অনুগামীরা অক্ষয় তৃতীয়ার দিনটি বর্ষিতপ অর্থাৎ বছর ভর উপবাস-ভঙ্গের দিন হিসাবে পালন করে থাকেন। জৈনরা এই উপবাস ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণা অষ্টমী তিথি থেকে শুরু করেন এবং বৈশাখী শুক্লা তৃতীয়াতে সমাপ্ত করেন আখের রস পান করে।

…………. পড়ুন ঠাকুরদার ঝুলি অন্যান্য পর্ব ………….

পর্ব ২৭: বৈশাখ বিষ্ণুর প্রিয়, পুরাণের শ্রেষ্ঠ মাস?

পর্ব ২৬: গর্জন থেকেই গাজন

পর্ব ২৬: অসুরদের ফসল বলেই কি আখ বলিপ্রদত্ত?

পর্ব ২৫: যুদ্ধবাজ নয়, বাঙালির রাম করুণরসের

পর্ব ২৪: অগ্রদ্বীপের গোপীনাথ নিয়ে কৃষ্ণচন্দ্র-নবকৃষ্ণের মামলা লন্ডন অবধি গড়িয়েছিল

পর্ব ২৩: কিম্ভূত-কিমাকার মূর্তির নাম কেন ‘কাকতাড়ুয়া’?

পর্ব ২২: দেড় ফুটের ল্যাংচাভোগ ছাড়া রং খেলেন না মদনমোহন

পর্ব ২১: মায়া মমতায় গড়া বাংলা বিয়ের ছড়া

পর্ব ২০: মাদারি কা খেল

পর্ব ১৯: কোনও পসরাই অবিক্রিত পড়ে থাকে না বৈরাগ্যতলার ভাঙামেলায়

পর্ব ১৮: সুর নয়, আদিতে সুরার সঙ্গেই অধিক যোগাযোগ ছিল সরস্বতীর

পর্ব ১৭: পৌষপার্বণের সঙ্গে মিশে গেছে টুসু, সোদরব্রত কিংবা কুড়মালি আইখানযাত্রা

পর্ব ১৬: বাংলার মনসা ও চণ্ডীপুজোর ধারা এসে জগৎগৌরীতে মিলেছে

পর্ব ১৫: রাঢ়ের কবিগানের পালায় হিঁদু হলেন চাঁদ মুহম্মদ, কাশীনাথ মুসলিম

পর্ব ১৪: খেজুর গাছে হাঁড়ি বাঁধো মন

পর্ব ১৩: বৈদিক যুগের ‘স্থালী’-ই আজকের প্লেট, ‘উখ্য’-ই ফ্রাইং প্যান

পর্ব ১২: লোকখেলার মধ্যে মিশে রয়েছে হাজার বছরের ফেলে আসা জীবনের স্মৃতি

পর্ব ১১: অঘ্রানের নবান্ন মূলত নববর্ষেরই উৎসব ছিল

পর্ব ১০: বারবণিতাদের আরাধনার মধ্যে দিয়েই শুরু হয়েছিল কাটোয়ার কার্তিক লড়াই

পর্ব ৯: শিশুঘাতক থেকে কেন শিশুরক্ষক দেবতা হয়ে উঠলেন কার্তিক?

পর্ব ৮: তেনাদের পুজো, তেনাদের মেলা-মোচ্ছব

পর্ব ৭: প্রেত মানেই ভূত বা অতীত, কিন্তু সকল প্রেতই ভূত নয়!

পর্ব ৬: কেবল কালী নন, লৌকিক লক্ষ্মী ঠাকরুনও দাঁড়ান স্বামী নারায়ণের বুকে পা রেখেই

পর্ব ৫: মহিষাসুরমর্দিনী নন, কৃষিপ্রধান বাংলায় আদিপূজিতা ছিলেন শস্যদেবী নবপত্রিকা

পর্ব ৪: পুকুরের দেবতা পুকুরের ভূত

পর্ব ৩: পুকুরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে লোককথা আর লোকবিশ্বাস

পর্ব ২: পৌরাণিক হিন্দু ও বৌদ্ধ সাহিত্যে দেবতা অথবা মানুষের বন্ধু হিসেবেই স্থান পেয়েছে কুকুর

পর্ব ১: সেকালের ডাকাতির গপ্প