

দশরথের এত স্নেহ পেয়েছিলেন বলেই কৃতজ্ঞতাস্বরূপ পিতৃ-আজ্ঞা পালনে রাজত্ব ত্যাগ করে বিষম জীবনযাপন বেছে নিয়েছিলেন রাম। সেই রামই নিজের পুত্রদের স্নেহ করার সুযোগই পেলেন না। মহাভারতে যেমন পিতার স্নেহ কী বস্তু জানলই না পঞ্চপাণ্ডব। শকুন্তলা-দুষ্মন্তের পুত্র ভরতকেও পিতৃস্নেহ বঞ্চিত হতে হয়েছিল শৈশবে।
সত্যজিৎ ও ঋত্বিক। ছবিতে রবীন্দ্রসংগীতকে ব্যবহার করেছেন দু’জনেই। সত্যজিতের ব্রাহ্ম প্রেক্ষাপট, শিল্পী নির্বাচন কিংবা তালবাদ্য ব্যবহারের অনীহা– গায়কি-বিষয়ক আমাদের সন্ধানকে গাঢ়তর করে তুলতে পারে। অপরদিকে গণনাট্য আন্দোলনের কর্মী হিসেবে ঋত্বিক, জ্যোতিরিন্দ্র, দেবব্রত প্রমুখ রবীন্দ্র-গানকে জনসমাজে ছড়িয়ে দেবার পন্থী। কম্যুনিকেশনের দর্শন ও ‘পলিসি’টি আলাদা।
এক বছর কিছু লিখবেন না– এই মর্মে আনন্দমেলা সম্পাদক দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি চিঠি লিখেছিলেন বুদ্ধদেব গুহ। চিঠিটি কোনও বিদায়পত্র নয়, কোনও ক্লান্তির বিবরণও নয়। এটি যেন এক শিল্পীর আত্মার দিকে ফিরে তাকানোর মুহূর্ত। যেন তিনি বলছেন– আমি লিখতে জানি, তাই থামতেও জানি।
মুর্শিদাবাদ ও বারুইপুরের লিচুর জনপ্রিয়তাও কম নয়। তবে ইউরোপে পাঠানোর জন্য কিন্তু মুজাফফরপুর বা তেজপুর বাদ দিয়ে সেরার সেরা লিচু– ‘গোলা গুলাব’কেই বেছে নেওয়া হয়েছে।
নবনীতা আমাদের যুক্তিহীন, অনুভবহীন কিন্তু বদ্ধমূল পূর্ব-সংস্কার, প্রথা, তন্ত্র আয়নার মতো ধরেন, আর আমরা আত্মদর্শনে কেঁপে উঠি প্রায়! প্রখর তবু তিক্ত নয়, বরং তাঁর গল্পের গভীরে রইল করুণা, আর জীবনের অনিঃশেষ লাবণ্যে অনাহত বিশ্বাস।
নবাবদের প্রিয় আমগুলির মধ্যে অন্যতম আনারসের সুবাস ভরা ‘আনানাস’। আর একটি পছন্দের আম ‘রানি পসন্দ’ নামকরণ করেছিলেন বাংলার শেষ নবাব নাজিম মনসুর আলি খান ফেরাদুন জাঁ-র দেওয়ান প্রসন্ন নারায়ণ দেব। নবাবি আমলের গোড়ার দিকের সেরা জাতের আমগুলির মধ্যে আকর্ষণীয় ছিল আলিবর্দি খানের বাগানের ‘বিমলি’– কথিত আছে বাগানের মালি তাঁর পত্নীর নাম অনুসারে আমটির নাম দিয়েছিলেন।
পেন-প্যাড অতীত, মিটিংয়ে নোট নিচ্ছে এআই। দীর্ঘকালের কাগজ-কলম পেষা থেকে মুক্তি। দ্রুত বদলে যাচ্ছে মিটিংয়ের ধরন; কথা শোনা, মনোযোগ দেওয়া, মনে রাখার ধরন। আমরা এখন আর মিটিংয়ে ঢোকার আগে পকেটে স্পর্শ করে দেখে নিই না, কলম আছে কি না।
মন্দিরের বিগ্রহ নন, এক জীবন্ত ঐতিহাসিক সত্তা, যাঁর লড়াই, যাঁর প্রেম, যাঁর বিনয় আজও আমাদের পথ দেখাতে পারে। আর এই সত্যনিষ্ঠ ইতিহাস চর্চার জন্য উমেশচন্দ্র বটব্যালের মতো এক আপসহীন, বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গিরও আমাদের কাছে সমানভাবে অপরিহার্য।
আজ থেকে বছর কুড়ি পূর্বে পূর্ণশশীর বাড়িটি যখন বিক্রয় হয়ে গেল তখন সেটি খালি করে দেওয়ার দায়িত্ব পড়েছিল আমার ওপরে। সেই বাড়ির একটি ঘরে দেখলাম কাদামাটি আর বর্ষার পচা জলের তলায় পড়ে আছে প্রচুর স্লেট-কাটিংয়ের নমুনা। পূর্ণশশীর উত্তরাধিকারীরা এই শিল্পকর্মের মর্যাদা বুঝেছিলেন বলে আমার মনে হয় না।
উট নিয়ে জটায়ুর যে রকম অপার কৌতূহল ছিল– কাঁটাওয়ালা গাছ উট কাঁটা বেছে খায় কি না ইত্যাদি– সেরকম নানা বেয়াড়া প্রশ্ন মনে এসেছিল। ভাবছিলাম, প্রায় ৭-৮ ফুট উঁচু উটের দুধ দোয়ানো হয় কীভাবে?
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved