


চৈত্রসংক্রান্তি বা পয়লা বৈশাখ থেকে বৈষ্ণব বিগ্রহ সেবার পরিবর্তন দেখা যায়। বৈষ্ণবরা দেববিগ্রহের সেবা করেন আত্মবৎ অর্থাৎ মানুষের মতো। সেই কারণে শীতকালে দেবতার পোশাকে আসে পরিবর্তন। মানুষের মতো সোয়েটার চাদর মাফলার টুপি দেবতাকে পরানো হয়। বৈশাখমাস থেকে আবার পরিবর্তন শুরু। পোশাক-সহ দেবসেবায় পরিবর্তন উল্লেখ্য বৈশিষ্ট্য। নবদ্বীপ কাটোয়া কালনা বা বাংলার যে কোনও বৈষ্ণব বিগ্রহের সেবা লক্ষ করলে এই বৈচিত্র দেখা যায়।
২৮.
ষোড়শতম নক্ষত্র বিশাখার নাম অনুসারে বৈশাখ। বিশাখা নক্ষত্রপুঞ্জটি দেখতে তোরণাকার। চারটি তারকার সমষ্টি। বৈষ্ণব সংস্কৃতিতে বৈশাখ মাসের অপরনাম ‘মাধব’ মাস। বিষ্ণু বা কৃষ্ণের অপর নাম মাধব। বৈষ্ণব সাহিত্যে বৈশাখের পরিবর্তে ‘মাধবমাস’ নামটি বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন–
ক. মাধবীমাস সাধ বিধি বাধল পিককুল পঞ্চম গান (গোবিন্দদাস)
খ. মোহই মাধবীমাস/ চৌদিগে কুসুম বিকাশ (গোবিন্দ চক্রবর্তী)
গ. মাধবীমাসে আশে জীউ না রহল… (বলরাম দাস)
বিশাখা তারার প্রাচীন নাম ‘রাধা’। বিশাখার নাম রাধা ছিল বলেই ১৭-তম তারার নাম অনুরাধা। ‘রাধা’ নামের আরেক অর্থ লক্ষ্মী। বৈশাখমাসের ঋতুনাম মাধব। এই মাসে রাধা ও মাধবের মিলন হয়।

কৃত্তিকা নক্ষত্র থেকে কার্তিক মাসের নামকরণ। কৃত্তিকায় পূর্ণিমা হলে সূর্য থাকে বিশাখায়। যোগেশচন্দ্র বিদ্যানিধি মনে করেন, মঘা নক্ষত্রে উত্তরায়ণ, কৃত্তিকা ও বিশাখায় দুই বিষুব– বাসন্ত বিষুব এবং শারদ বিষুব। একসময় কার্তিকমাস থেকে বৎসর গণনা করা হত। পঞ্জিকায় এখনও লেখা হয় ‘কার্তিকাদি’ অর্থাৎ কার্তিক মাস থেকে বছর শুরু হত। মিথিলায় লক্ষ্মণাব্দ শুরু হত কার্তিক মাস থেকে। পরে বৈশাখমাস থেকে বছর শুরু।
তাৎপর্যগত দিক থেকে দু’টি মাসই বৈষ্ণব সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। কার্তিক মাসের অপর নাম ‘দামোদর’। গুপ্তযুগ থেকে পাথরের বিষ্ণু মূর্তির উপাসনা ভারতবর্ষের অন্যান্য প্রদেশের মতো বাংলাতেও বিপুলভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। পাল-সেন যুগ থেকে বাংলাতে বিষ্ণু উপাসনার ঢল নামে। ২৪ ধরনের ভোগ-বিষ্ণুমূর্তি পুজো হত গ্রামে গ্রামে।
ক্ষেত্রসমীক্ষায় দেখা গেছে, কাটোয়া মহকুমায় প্রায় শতাধিক বিষ্ণুমূর্তি গত ১০০ বছরের মধ্যে উদ্ধার করা গেছে বিভিন্ন স্থান থেকে, যার বৃহত্তম অংশ আজও গ্রামেগঞ্জে পুজো হচ্ছে। ২৪ ধরনের বিষ্ণুমূর্তির নাম জানা যায় ‘রূপমণ্ডন’, ‘পদ্মপুরাণ’ প্রভৃতি গ্রন্থ থেকে– কেশব, নারায়ণ, মাধব, গোবিন্দ, বিষ্ণু, মধুসূদন, ত্রিবিক্রম, বামন, শ্রীধর, হৃষিকেশ, পদ্মনাভ, দামোদর, সংকর্ষণ, বাসুদেব, প্রদ্যুম্ন, অনিরুদ্ধ, পুরুষোত্তম, অধোক্ষজ, নরসিংহ, অচ্যুত, জনার্দন, উপেন্দ্র, হরি ও শ্রীকৃষ্ণ।

মূর্তিগত বিচারে ২৪ ধরনের বিষ্ণু প্রায় একই ধরনের দেখতে। শুধু মাত্র চার হাতে চারটি আয়ুধ-লাঞ্ছনের হস্তান্তর ঘটিয়ে ভিন্ন ভিন্ন নামকরণ করা হয়েছে। মাধব-বিষ্ণুর উপরের ডানহাতে থাকে চক্র, বামহাতে শঙ্খ, নীচের বামহাতে থাকে পদ্ম এবং ডানহাতে গদা। দামোদর রূপের বিষ্ণুর চার হাতে থাকে যথাক্রমে শঙ্খ > গদা > চক্র > পদ্ম। বাংলায় উক্ত দুই রূপ ছাড়াও বিষ্ণুর মধুসূদন রূপের পুজো হত। তা সম্ভবত বৈশাখ ও কার্তিকমাসে। এই কারণে মধুসূদনমাসও অনেকে বলে থাকেন।
বিষ্ণু উপাসনার ক্ষেত্রে বৈশাখমাসের গুরুত্ব সর্বাধিক। বিভিন্ন পুরাণে দেখা যায়, দেবর্ষি নারদ বলেছেন– বিষ্ণুর প্রিয় তিনটি মাস: কার্তিক, মাঘ এবং বৈশাখ। এর মধ্যে বৈশাখমাসই সর্বাধিক পবিত্র এবং বিষ্ণুর প্রিয়তম।
বৈশাখ মাসের শ্রেষ্ঠত্ব, গুরুত্ব ইত্যাদি সম্পর্কে মহাভারত পুরাণ সাহিত্যে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। মহাভারতের অনুশাসন পর্বের ১০৯ পর্বে বলা হয়েছে– যে ব্যক্তি বৈশাখ মাসের দ্বাদশীতে উপবাস করে, অহোরাত্র কৃষ্ণের মধুসূদন নাম উল্লেখপূর্বক অর্চনা করেন– তিনি অগ্নিষ্টোম যজ্ঞের ফল এবং সোমলোক লাভ করেন।

স্কন্দপুরাণের বৈষ্ণব কাণ্ডে ২৫টি অধ্যায় জুড়ে বৈশাখমাসের মাহাত্ম্য গাথা বর্ণিত হয়েছে। পদ্মপুরাণের পাতালখণ্ডের কয়েকটি অধ্যায়ে বৈশাখ মাসের তাৎপর্য সম্পর্কে মনোজ্ঞ আলোচনা আছে। এই মাসে ধর্মাচারণের রীতি, দান, স্নান, ধ্যান, পূজা ইত্যাদি সম্পর্কে নানাবিধ চমৎকার তথ্যাবলি পাওয়া যায়।
স্কন্দপুরাণে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যার মধ্যে যেমন বেদবিদ্যা শ্রেষ্ঠ, মন্ত্রের মধ্যে প্রণব, ধেনুর মধ্যে কামধেনু, গাছের মধ্যে সুরতরু, নাগের মধ্যে শেষনাগ, পক্ষীর মধ্যে যেমন গরুড় উত্তম– তেমনই মাসসমূহের মধ্যে বৈশাখ শ্রেষ্ঠ। বৈশাখমাস ইষ্টফল প্রদানকারী। এই মাসে দান যজ্ঞ ব্রত স্নান করলে সর্বপাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
পথের পাশে ছায়াতরু রোপণ, কূপ খনন, পুকুর কাটানো ইত্যাদি শুভকর্ম বৈশাখমাসে অতীব পুণ্যফল প্রদানকারী। তবে সবচেয়ে উত্তম দান হল জলদান। এই মাসে তৃষ্ণার্ত পথিককে জলদান করলে ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর ত্রিদেবতা সন্তুষ্ট হন। এই কারণে আজও দেখা যায় পুণ্যলাভের আশায় অনেকে জলসত্র স্থাপন করেন। ঠান্ডা জলের সঙ্গে ছোলা ভিজে বা গুড়বাতাসা খাওয়ান পথিককে। বৈশাখমাসে তৃষ্ণার্ত ব্যক্তিকে জলদান না-করলে তাকে চাতক পাখি রূপে জন্মাতে হবে বলে স্কন্দপুরাণে সতর্ক করা হয়েছে।

বৈশাখমাসে নিরামিষ আহার গ্রহণ করা শাস্ত্রীয় বিধি। কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তী তাঁর চণ্ডীমঙ্গলকাব্যে ফুল্লরার বারোমাস্যায় লিখেছেন, সেকালে বৈশাখমাসে লোকেরা নিরামিষ আহার করত। ফলে মাংস বিক্রি হত না।
বৈশাখ হৈল আগো মোরে বড় বিষ।
মাংস নাহি খায় সর্ব্ব লোক নিরামিষ।।
অক্ষয় তৃতীয়া ব্যতিরেকে বৈশাখমাসে আরও তিনটি তিথি ছিল খুবই উল্লেখযোগ্য– শুক্ল ত্রয়োদশী, চতুর্দশী এবং পূর্ণিমা। তিন তিথিকে একত্রে বলা হত পুষ্করিণী। তিন তিথিতে বৈশাখী স্নান ছিল মহাপুণ্যের। বিশ্বাস করা হত, সুরাসুর মিলে সমুদ্র মন্থন করার সময় বৈশাখী শুক্ল দ্বাদশীতে অমৃতকুম্ভ উঠেছিল। সেই অমৃতকুম্ভ ত্রয়োদশীতে বিষ্ণুর কাছে রক্ষিত হয়েছিল। চতুর্দশীতে সুরদের মধ্যে অমৃত বণ্টিত হয়েছিল।
বৈশাখমাসের নাম ‘মাধব’ হলেও এই মাসের মুখ্য দেবতা মধুসূদন। মধুসূদন বিষ্ণুর অবতার। চতুর্বিংশতি বিষ্ণুর অন্যতম। মধুসূদন বিষ্ণুর চার হাতের মধ্যে উপরের ডান হাতে থাকে শঙ্খ। উপরের বামহাতে পদ্ম। নীচের বামহাতে গদা এবং ডানহাতে চক্র। পৌরাণিক মতে, বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে– বিষ্ণু, মধু অসুরকে হত্যা করেছিলেন। সেই কারণে পদ্মপুরাণ অনুসারে বিষ্ণুর সহস্র নামের মধ্যে মধুসূদন নামটি জনপ্রিয়।

স্কন্দপুরাণ অনুসারে মধুসূদন বিষ্ণুর পুজো হত বৈশাখমাসে। পুজো প্রসঙ্গে লেখা হয়েছে, প্রাতঃস্নান করে হরিকথা শ্রবণ করতে হবে। অতঃপর বৈশাখী ব্রত পালন করে মধুসূদন প্রতিমার পুজো করতে হবে ভক্তিভরে। বৈশাখী ব্রতের অপর নাম কেশব ব্রত। অনেকে জলসংক্রান্তি ব্রতও বলে থাকেন।
পদ্মপুরাণের পাতালখণ্ডের পঞ্চম অধ্যায়ে ‘ধর্মরাজ ব্রাহ্মণ’ শীর্ষক কথোপকথন থেকে জানা যায়, বিষ্ণুপুজোর প্রধান উপকরণ তুলসিপত্র। এই সময়ে সবচেয়ে পবিত্র স্থান হয়ে ওঠে পুষ্কর। গঙ্গা সর্বাধিক পবিত্র হয়ে ওঠে বৈশাখমাসে। বৈশাখমাসে তুলসিপত্রে দেবতারা অধিষ্ঠান করেন। পদ্মপাতায় খাদ্যগ্রহণ করার সবচেয়ে উত্তম সময় বৈশাখমাস। অশ্বথবৃক্ষকে জলদান ও পুজো করা হয় বৈশাখমাসে।
বৈশাখী পূর্ণিমার দিন থেকে শুরু হয়েছে বরাহকল্প। পুরাণমতে শুধু মধু দৈত্যকে নয়, বৈশাখী পূর্ণিমায় বিষ্ণু হিরণ্যাক্ষ দানবকেও হত্যা করেছিলেন বরাহ রূপে। অর্থাৎ বরাহ অবতার রূপে এই দিনে তিনি ধরাধামে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। হিরণ্যাক্ষ স্বর্ণচক্ষু বিশিষ্ট প্রবল পরাক্রমশালী অসুররাজ। তিনি হিরণ্যকশিপুর ভ্রাতা। পুরাণ অনুসারে হিরণ্যাক্ষ পৃথিবীকে সমুদ্রের তলায় ডুবিয়ে দিয়েছিলেন। বিষ্ণু বরাহ রূপে পৃথিবীকে উদ্ধার করতে এলে হিরণ্যাক্ষের সঙ্গে প্রবল সংগ্রামে অবতীর্ণ হন। বরাহ রূপী বিষ্ণু তাঁর দাঁতের আঘাতে হিরণ্যাক্ষকে হত্যা করে ধরণীকে রক্ষা করেন। সেই স্মরণে এদিন থেকে শুরু হয় বরাহ কল্প বা যুগ।

বৈশাখমাসে সান্ধ্য হরিনাম সংকীর্তনে বাংলার প্রায় প্রতিটি গ্রাম মুখরিত হয়ে ওঠে। শুধু হরিসংকীর্তন নয়, গ্রামে গ্রামে অষ্টম প্রহর, এমনকী চব্বিশ প্রহর অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি সন্ধেয় নাম-সংকীর্তনের জন্য পাড়াভিত্তিক দল গঠিত হয়। দলে দু’জন খুলুঞ্চি ঝাঁই প্রেমজুড়ি জগঝম্প মন্দিরা বা খঞ্জনি ইত্যাদি থাকে।
রাঢ়বঙ্গের অনেক গ্রামে বৈশাখী নামসংকীর্তন উপলক্ষে ‘মুখ-গানের’ ব্যবহার দেখা যায়। মুখ-গান হল মাসের ৩০ দিনের ৩০টি মুখ বা গানের সমষ্টি। কীর্তন অঙ্গের গানগুলি ধীর লয়ের এবং রাধা ও কৃষ্ণলীলা বিষয়ক। যেমন–
মন রে, শয়নে স্বপনে
একবার হরি হরি বল বদনে।
হরিনাম মহামন্ত্র জপ নিশিদিনে।।
কিংবা
নিকুঞ্জ বনে এসে রাইকিশোরী শোবেন
হরি সনে উল্লাসে।
বাধা দিতে সে ভজনে কুটিলা কয়
আয়ান ঘোষে।।

বৈশাখমাসে অষ্টপ্রহর বা ২৪ প্রহর বাংলার অন্যতম লোকায়ত সংস্কৃতি। একেই বলে হরিবাসর বা হরিসভা। হরিসভা সাধারণত ২৪ প্রহর অর্থাৎ তিন দিন তিন রাত ধরে অনুষ্ঠিত হয়। এটি মূলত তুলসিমঞ্চের বাৎসরিক পুজো। চালা মন্দিরের আকৃতি করে তার চারপাশে চারটি কলাগাছ পোঁতা থাকে। মাঝে থাকে তুলসিবৃক্ষ। চারপাশে রাধাকৃষ্ণ, নিতাই গৌরাঙ্গ-সহ পঞ্চতত্ত্বের ছবি। মাঝে থাকে ঘটস্থাপন। ব্রাহ্মণ কিংবা বৈষ্ণব বিষ্ণু বা কৃষ্ণপুজো করে।
চৈত্রসংক্রান্তি বা পয়লা বৈশাখ থেকে বৈষ্ণব বিগ্রহ সেবার পরিবর্তন দেখা যায়। বৈষ্ণবরা দেববিগ্রহের সেবা করেন আত্মবৎ অর্থাৎ মানুষের মতো। সেই কারণে শীতকালে দেবতার পোশাকে আসে পরিবর্তন। মানুষের মতো সোয়েটার চাদর মাফলার টুপি দেবতাকে পরানো হয়। বৈশাখমাস থেকে আবার পরিবর্তন শুরু। পোশাক-সহ দেবসেবায় পরিবর্তন উল্লেখ্য বৈশিষ্ট্য। নবদ্বীপ কাটোয়া কালনা বা বাংলার যে কোনও বৈষ্ণব বিগ্রহের সেবা লক্ষ করলে এই বৈচিত্র দেখা যায়।
বাড়ির মতো অনেক মন্দির দ্বিতল বিশিষ্ট। শীতকালে দেবতা নিচ থেকে উপরতলার বেদিতে স্থানান্তরিত হন। আবার গরম পড়লে বা বৈশাখমাস থেকে বিগ্রহগুলিকে নীচের তলায় বেদিতে নিয়ে আসা হয়। শীতের পোশাক খুলে হালকা সুতির ধুতি পরানো হয়। ঊর্ধ্বাঙ্গ প্রায়শ অনাবৃত থাকে, তবে কোথাও কোথাও হালকা উত্তরীয় গলায় ঝোলানো হয়।

সাধারণত তিন ধরনের দেবভোগ হয়– বাল্যভোগ, অন্নভোগ এবং সন্ধেয় শীতলভোগ। বাল্যভোগে ফলমূল মিষ্টি ইত্যাদি সহযোগে পুজো করা হয়। কিন্তু বৈশাখমাস থেকে বাল্যভোগে থাকে নানা ধরনের মরসুমি ফল, কচি তালশাঁস, পানীয় হিসাবে থাকে শীতল ঠান্ডা ডাবের জল। দুপুরের অন্নভোগ ঠান্ডা করে দেওয়া হয় দেবতাকে। দুপুরে বা বিকেলে অতিরিক্ত আরেকটি ভোগ দেওয়া হয়– ঠান্ডা শরবত। এর নাম শরবতিভোগ।
শরবতের তালিকায় থাকে বেলের পানা, তরমুজ, আঙুরের জুস, শিখরিনী এবং দই বা ঘোলের শরবত। নবদ্বীপে ধামেশ্বর মহাপ্রভুর বৈশাখী ভোগের অতিরিক্ত সংযোজন ‘পখাল’ বা পাকাল ভোগ। দইয়ের সঙ্গে আদা-মরিচ ইত্যাদি সহযোগে বিচিত্র ধরনের লস্যি। দুপুরের ভোগে অন্নের সঙ্গে থাকে নানা ধরনের মরসুমি ফলের চাটনি। অতিরিক্ত গরম পড়লে দেববিগ্রহকে ভিজে তোয়ালে দিয়েও গাত্র মার্জনাও করা হয় অনেক মন্দিরে।
…………. পড়ুন ঠাকুরদার ঝুলির অন্যান্য পর্ব ………….
পর্ব ২৬: গর্জন থেকেই গাজন
পর্ব ২৬: অসুরদের ফসল বলেই কি আখ বলিপ্রদত্ত?
পর্ব ২৫: যুদ্ধবাজ নয়, বাঙালির রাম করুণরসের
পর্ব ২৪: অগ্রদ্বীপের গোপীনাথ নিয়ে কৃষ্ণচন্দ্র-নবকৃষ্ণের মামলা লন্ডন অবধি গড়িয়েছিল
পর্ব ২৩: কিম্ভূত-কিমাকার মূর্তির নাম কেন ‘কাকতাড়ুয়া’?
পর্ব ২২: দেড় ফুটের ল্যাংচাভোগ ছাড়া রং খেলেন না মদনমোহন
পর্ব ২১: মায়া মমতায় গড়া বাংলা বিয়ের ছড়া
পর্ব ২০: মাদারি কা খেল
পর্ব ১৯: কোনও পসরাই অবিক্রিত পড়ে থাকে না বৈরাগ্যতলার ভাঙামেলায়
পর্ব ১৮: সুর নয়, আদিতে সুরার সঙ্গেই অধিক যোগাযোগ ছিল সরস্বতীর
পর্ব ১৭: পৌষপার্বণের সঙ্গে মিশে গেছে টুসু, সোদরব্রত কিংবা কুড়মালি আইখানযাত্রা
পর্ব ১৬: বাংলার মনসা ও চণ্ডীপুজোর ধারা এসে জগৎগৌরীতে মিলেছে
পর্ব ১৫: রাঢ়ের কবিগানের পালায় হিঁদু হলেন চাঁদ মুহম্মদ, কাশীনাথ মুসলিম
পর্ব ১৪: খেজুর গাছে হাঁড়ি বাঁধো মন
পর্ব ১৩: বৈদিক যুগের ‘স্থালী’-ই আজকের প্লেট, ‘উখ্য’-ই ফ্রাইং প্যান
পর্ব ১২: লোকখেলার মধ্যে মিশে রয়েছে হাজার বছরের ফেলে আসা জীবনের স্মৃতি
পর্ব ১১: অঘ্রানের নবান্ন মূলত নববর্ষেরই উৎসব ছিল
পর্ব ১০: বারবণিতাদের আরাধনার মধ্যে দিয়েই শুরু হয়েছিল কাটোয়ার কার্তিক লড়াই
পর্ব ৯: শিশুঘাতক থেকে কেন শিশুরক্ষক দেবতা হয়ে উঠলেন কার্তিক?
পর্ব ৮: তেনাদের পুজো, তেনাদের মেলা-মোচ্ছব
পর্ব ৭: প্রেত মানেই ভূত বা অতীত, কিন্তু সকল প্রেতই ভূত নয়!
পর্ব ৬: কেবল কালী নন, লৌকিক লক্ষ্মী ঠাকরুনও দাঁড়ান স্বামী নারায়ণের বুকে পা রেখেই
পর্ব ৫: মহিষাসুরমর্দিনী নন, কৃষিপ্রধান বাংলায় আদিপূজিতা ছিলেন শস্যদেবী নবপত্রিকা
পর্ব ৪: পুকুরের দেবতা পুকুরের ভূত
পর্ব ৩: পুকুরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে লোককথা আর লোকবিশ্বাস
পর্ব ২: পৌরাণিক হিন্দু ও বৌদ্ধ সাহিত্যে দেবতা অথবা মানুষের বন্ধু হিসেবেই স্থান পেয়েছে কুকুর
পর্ব ১: সেকালের ডাকাতির গপ্প
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved