Robbar

স্বপ্ন কি সত্যি নয়?

Published by: Robbar Digital
  • Posted:May 23, 2026 5:56 pm
  • Updated:May 23, 2026 6:37 pm  

শরীরের গঠন আঁটসাঁট, গায়ের রং খুব ফরসাও নয়, আবার শ্যামলাও বলা যায় না। চুলগুলো সব মাথার ওপর চুড়ো করে বাঁধা, কপালে রক্তচন্দনের ফোঁটা। বয়স আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪৫-এর মধ্যে হবে। মুখখানি শিশুর মতো কোমল, অথচ চিবুক ও ওষ্ঠাধরে বেশ কঠিন প্রতিজ্ঞার ভাব, সেইটে এবং হয়তো আরও অনেক কিছু তাঁর ব্যক্তিত্বকে প্রখরতর করে তুলেছে। গলায় আভাসিত একগাছি সরু রুদ্রাক্ষের মালা। তবে সবচেয়ে দর্শনীয় তাঁর অভিব্যক্তিময় বড় বড় চোখ দু’টি– সজল এবং গভীর; মায়াসঞ্চারকারী। কীভাবে সেই চক্ষুদ্বয়ের বর্ণনা করব, আজও আমি বুঝতে পারি না। হরিণীর চোখের মতো ত্রস্ত দৃষ্টি, অথচ অমারাত্রির অন্ধকারের মতো গম্ভীর ও প্রবল রহস্যময়।

সন্মাত্রানন্দ

৬.

‘ভৈরবী’ শব্দটি উচ্চারণ করলে যে-মানসমূর্তিখানি সচরাচর আমাদের চেতনার সিথানে মৃদু আলো ফেলে, ঘরের বাইরে এসে সেদিন যাঁকে দেখেছিলাম, তাঁর সঙ্গে পূর্বোক্ত সেই কল্পচ্ছবির সাদৃশ্য অল্পই। দাওয়ার একপাশে ছাঁচতলায় পা-ঝুলিয়ে বাঁশের খুঁটিটা একহাতে আলগোছে ধরে খালি মাটির ওপর তিনি বসে আছেন, দেখলাম। তাঁর পাশে মেঝেতে জলভর্তি একটি তামার ঘট। আমার পায়ের শব্দ পেয়ে আমার দিকে চেয়ে চোখের ইঙ্গিতে সামনে বসতে বললেন। আমিও ছাঁচতলায় পা ঝুলিয়ে তাঁর মুখোমুখি বসলাম। যে বয়োজ্যেষ্ঠ আশ্রমিক ব্যক্তি আমাকে এতক্ষণ সঙ্গ দিচ্ছিলেন, তিনি তখনই ভৈরবী-মাকে নমস্কার জানিয়ে সেখান থেকে চলে গেলেন।

পরনে একখানা লালপাড় ডুরে শাড়ি, এমন কৌশলে পরে আছেন যে, একবস্ত্রেই সর্বাঙ্গ ঢাকা যায়, অথচ হাতদুটো অনায়াসে সঞ্চালন করা সম্ভব। শরীরের গঠন আঁটসাঁট, গায়ের রং খুব ফরসাও নয়, আবার শ্যামলাও বলা যায় না। চুলগুলো সব মাথার ওপর চুড়ো করে বাঁধা, কপালে রক্তচন্দনের ফোঁটা। বয়স আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪৫-এর মধ্যে হবে। মুখখানি শিশুর মতো কোমল, অথচ চিবুক ও ওষ্ঠাধরে বেশ কঠিন প্রতিজ্ঞার ভাব, সেইটে এবং হয়তো আরও অনেক কিছু তাঁর ব্যক্তিত্বকে প্রখরতর করে তুলেছে। গলায় আভাসিত একগাছি সরু রুদ্রাক্ষের মালা। তবে সবচেয়ে দর্শনীয় তাঁর অভিব্যক্তিময় বড় বড় চোখ দু’টি– সজল এবং গভীর; মায়াসঞ্চারকারী। কীভাবে সেই চক্ষুদ্বয়ের বর্ণনা করব, আজও আমি বুঝতে পারি না। হরিণীর চোখের মতো ত্রস্ত দৃষ্টি, অথচ অমারাত্রির অন্ধকারের মতো গম্ভীর ও প্রবল রহস্যময়। ভাবভঙ্গি ও কথাবার্তার মধ্যে বেশ একটা সহজ অথচ নিশ্চিত ভাব। যেন যা তিনি বলছেন, সে-ব্যাপারে সংশয়ের অণুমাত্র অবকাশ নেই, যেন এটাই হবে এবং এমনটাই হওয়ার কথা। আবার এমনও মনে হয় না যে, তিনি তাঁর কথা অন্যের ওপরে জোর করে চাপিয়ে দিচ্ছেন। কথাগুলো মেনে নিতেই ইচ্ছে করে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেই কথানুসারেই কাজ হয়ে যায়। স্নেহ, মাধুর্য ও শাসন– এই তিন ভাবেরই সংমিশ্রণ তাঁর মধ্যে আমি প্রত্যক্ষ করেছিলাম।

শিল্পী: স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়

কিন্তু আমার স্বভাব অন্যরকম। আমি সহজে কিছুই মেনে নিতে ভালোবাসি না। আমি তর্কপ্রিয়। এমনকী, এমনও কখনও কখনও হয় যে, আমি হয়তো কারও প্রতি ভিতরে ভিতরে মুগ্ধ হয়ে পড়েছি, তবু সেই মুগ্ধতা আমি ভিতরে লুকিয়ে রেখে বাইরে ঘোর তর্ক চালিয়ে যাই! তর্কমুখে বিপরীতে বসে থাকা মানুষের মুখ কীভাবে ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তিত হয়, দেখতে আমার খুবই ভালো লাগে। এমনই আমার স্বভাব।

তিনিই প্রথম মুখ খুললেন। জিজ্ঞেস করলেন, ‘কেন এখানে এসেছ?’

সাধারণত অপরিচিত ব্যক্তিকে আমরা প্রথমে ‘আপনি’ বলি। পরে অন্তরঙ্গতা যদি হয়, তাহলে ‘তুমি’, কখনও অধিকতর অন্তরঙ্গতায় ‘তুই’ বলি। ইনি কিন্তু প্রথমেই অতি সহজভাবেই আমাকে ‘তুমি’ দিয়ে শুরু করলেন। এর মধ্যে তাঁর কোনও অহমিকা প্রকাশ পাচ্ছিল না, তাঁর ক্ষেত্রে ওসব অস্মিতার ভাব নিতান্তই অসম্ভব বস্তু ছিল। খুবই সহজ সম্বোধন ছিল এই ‘তুমি’। সহজ ও আন্তরিক।

আমি কিন্তু আমার খেলাটি আরম্ভ করে দিলাম। বললাম, ‘কেন এসেছি, সে-কথা তো আপনি বলবেন। বলুন তো, কেন এসেছি আমি?’

তিনি হাসলেন। বললেন, ‘ও বাবা, পরীক্ষা দিতে হবে নাকি? না, না, পরীক্ষা আমি দিতে পারব না। আর পরীক্ষা দিলে যে ডাহা ফেল করে যাবই, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। ওসব অলৌকিক শক্তি আমার নেই, যা দিয়ে অপরের মনের কথা বুঝতে পারা যায়।’

আমি বললাম, ‘তবে যে শুনেছি, তান্ত্রিক ভৈরব-ভৈরবীদের অনেক অলৌকিক শক্তি থাকে?’

‘তান্ত্রিকদের নিয়ে সমাজে অনেক গল্পগাছা চালু আছে। তবে এ-ও সত্যি যে, অনেকেরই ওসব ক্ষমতা থাকে। কিন্তু আমি তো তেমনতরো ভৈরবী নই গো। আমি গাঁয়ের অতি সাধারণ মেয়ে। মায়ের নাম করে দুটো ডালভাত খাই। থাক ওসব কথা। তুমি কী দেখেছ, তাই বলো।’

চমকে উঠলাম। বললাম, ‘আমি যে কিছু দেখেছি, এখানে সেই জন্যই এসেছি, সে-কথা তো আমি বলিনি এখনও আপনাকে!’

তিনি আপন মনে হাসলেন। বললেন, ‘ওসব তোমার মনের ভুল।’

‘ভুল?’

‘হ্যাঁ, ভুল। স্বপ্নকে কি কেউ ঠিক বলে?’

আমি ব্যাপারটা গুছিয়ে নিতে চাইলাম। বললাম, ‘তাহলে বলছেন, আমি যা দেখেছি, তা স্বপ্ন? সত্যি নয়?’

তিনি আমার দিকে তাঁর আশ্চর্য সেই দু’টি চোখ তুলে অত্যন্ত সরলভাবে প্রশ্ন করলেন, ‘সত্য কাকে বলে?’

আমি ফাঁপরে পড়ে গেলাম। সত্য কী, কত প্রকার, তা নিয়ে বিস্তর ঘোলাটে আলোচনা আমার মস্তিষ্ককে উন্মথিত করতে লাগল। কিন্তু সেসব জটিল কথা গ্রামের এই সরল ভৈরবীকে কী বলব আমি? কীভাবেই বা মনের কথা বোঝাব?

বললাম, ‘এই এখন যেমন আপনাকে দেখছি, স্বপ্ন তো আর তেমন সত্যি নয়।’

তিনি বললেন, ‘কেমন করে জানলে, এখনও তুমি স্বপ্ন দেখছ কি না?’

‘মানে?’

‘‘মানে এই যে, এখানে এই আশ্রমে এসেছ, এই গাছপালা, এই ঘরবাড়ি, এই যে আমাদের দু’জনের কথা হচ্ছে– এসবও তো একটা স্বপন হতে পারে। আসলে হয়তো তুমি এখন তোমার সেই একলা ঘরেই ঘুমিয়ে আছ।’’

কথাটা শুনে দ্বিতীয়বার আমার চমকিত হওয়ার পালা। আমি কোথা থেকে এসেছি, সে-কথা আমি আশ্রমিক প্রৌঢ় ব্যক্তিটিকেও খুলে বলিনি। তার ওপর ইনি বলছেন, ‘একলা ঘর’! আমি যে একলা একটা ঘরে থাকি, সে-কথা ইনি জানলেন কেমন করে!

আমি এবার জোর করে ধরে বসলাম। বললাম, ‘আপনি ঠিক করে বলুন তো, সত্যিই আমি কে, কোথা থেকে এসেছি, কেন এসেছি, সমস্তই আপনার অধিগত কি না?’

তিনি আমার কথায় হাসলেন আবার। বললেন, ‘তুমি যেমনভাবে ভাবছ, ওরকম স্পষ্ট করে কিছু জানতে আমি পারি না। তবে অস্পষ্ট ছায়াছায়ামতো কীসব দেখা যায়…’ বলতে বলতেই তাঁর দৃষ্টি দূরগামী হল। যেন অনেক দূরের গাছগুলোর দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ পরে তিনি বলতে লাগলেন, ‘কোথায় একটা যেন উঁচুনিচু জমি… অনেক গাছগাছালিতে ভরা একটা জায়গা… রোদ, বৃষ্টি… মাঠের ধারে একটা নির্জন ঘর… তুমি বুঝি সেখানে থাকো… তোমার আর কেউ নেই…’ এই অবধি বলেই হঠাৎ যেন সজাগ হয়ে বর্তমানে ফিরে এসে আমার দিকে হাসি হাসি মুখে চেয়ে, ঠিক একটি বাচ্চা মেয়ের মতো বলে উঠলেন, ‘দ্যাখো, ঠিক হল কি না? ঠিক বলেছি?’

আমি বললাম, ‘ঠিক। একদম ঠিক। আমার ঘরের চারিদিকে গামার গাছের জঙ্গল। ঘরটাও খুবই নির্জন।’

তিনি অমনি যেন কিছু একটা ধরতে পেরে এবার বললেন, ‘আচ্ছা! তুমি আমতলির মুকুরটিলাতে থাকো, নাকি?’

আমি বললাম, ‘একদমই তাই। কিন্তু আপনি কীভাবে…?’

‘সে এমন কিছু কঠিন ব্যাপার নয়। তোমার বর্ণনা শুনে আমার তাই-ই মনে হল। আসলে আমি নিজেও তো ওই আমতলি গাঁয়েরই মেয়ে! জায়গাটা আমি দেখেছি।’

মনে মনে বললাম, ছলনাময়ী! বর্ণনা আমি করলাম কোথায়? আমি কিছু বলার আগেই আপনিই তো ছবির মতো সেই জায়গাটির বর্ণনা করছিলেন! আমি তো শুধু আপনার কথারই রেশ ধরে দুটো-একটা শব্দ উচ্চারণ করেছিলাম মাত্র।

আমি আর বেশি কথা না-বাড়িয়ে বললাম, ‘আমি আমতলির পাশের গাঁয়ের নারায়ণ কবিরাজের মুখেই আপনার কথা প্রথম শুনি। আপনি নাকি মুকুরটিলায় কিছু দেখেছিলেন?’

তিনি উত্তর দিলেন, ‘তা দেখেছিলাম বটে! তখন আমি খুবই ছোট। বছর সাতেক হবে হয়তো বয়স তখন আমার। পাতা কুড়োতে মুকুরটিলায় গেছলাম। শুকনো পাতা কুড়িয়ে ঝুড়িতে ভরছি, এমন সময় দেখি কে একটি মেয়ে, যুবতী বয়স, বেশ সুন্দর চেহারা রাস্তা দিয়ে আসছে। আমার কাছে এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল, তুই এখানে? কী করছিস রে তুই? আমি খুব টরটর করে কথা বলতাম তো ছোটবেলায়। বললাম, দেখছ না পাতা কুড়োচ্ছি!’ এই অবধি বলেই সতী ভৈরবী চুপ করে গেলেন।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘তারপর? আপনার কথার উত্তরে কী বলল সে?’

‘মেয়েটি আমাকে বলল, এই যে শুকনো পাতা কুড়োচ্ছিস, জানিস, এরা একদিন কত সবুজ, কত সতেজ ছিল জানিস? আলোয়-হাওয়ায় কত খেলা খেলেছে। এখন দ্যাখ, কেমন হলুদ, ম্যাড়ম্যাড়ে হয়ে গিয়ে বাতাসের কাছে হেরে গিয়ে ঝরঝর করে ঝরে পড়েছে ধুলোয়। তুই যদি কুড়িয়ে নিয়ে না-যাস, তাহলে এই হলুদ পাতাগুলো এখানেই মাটির সঙ্গে মিশে মাটি হয়ে যাবে। আর ওপরে মুখ তুলে দ্যাখ, গাছের গায়ে কত সবুজ পাতা। কেমন চিকন, কেমন সুন্দর! রোদের আলোয় বাতাসের সঙ্গে সঙ্গে তালে তালে নাচছে! এরাও এরকম থাকবে না। এরাও হলুদ হয়ে যাবে, ম্যাড়ম্যাড়ে হয়ে যাবে। ঝরে পড়বে বাতাসে। তুই কী করবি? সারাজীবন পাতা কুড়োবি? নাকি হাওয়ার মতো ভেসে যাবি দূরে দূরে? এইটুকু বলেই সেই যুবতী মেয়েটি তরতর করে আবার পথ দিয়ে হেঁটে কোথায় যেন চলে গেল…’ এই অবধি বলে একটু থেমে হাতের তামার ঘটিটা থেকে একটু জল খেয়ে ভৈরবী বললেন, ‘সেই যুবতী মেয়েটিকে আমি কিন্তু অনেক পরে চিনতে পেরেছিলাম!’

আমি উত্তেজিত স্বরে প্রশ্ন করলাম, ‘কে? কে সেই মেয়ে?’

ভৈরবী বলতে লাগলেন, ‘সে অনেক পরের কথা। প্রথম যৌবন। তখন আমি কামাখ্যায়। একটা ঝুপড়িতে থাকি। ভিক্ষে করে খাই। কে একজন তীর্থযাত্রী আমাকে প্রসাদী তেল-সিঁদুর আর একখানা চৌকোনো আয়না দিয়ে গিয়েছিল। সিঁথিতে সিঁদুরটা পরেছিলাম। কিন্তু আয়নাটা পড়েই ছিল বহুদিন একপাশে। আমরা আয়না-টায়না তেমন ব্যবহার করি না, জানো তো? দরকারই হয় না। হয়তো ৫ বছর, ১০ বছর নিজের মুখই দেখিনি! সেদিন দুপুরবেলায় কী সাধ গেল, সাজতে বসলাম। মেয়েমানুষ তো, সাজের সাধ হয়তো কিছুটা থেকেই যায়। একখানা কাঁকই দিয়ে ভালো করে চুল বিনিয়ে আয়নায় মুখ দেখতে গিয়ে চমকে উঠলাম আমি। সেই মুখ! সেই চোখ! অবিকল সেই অবয়ব! সেই মেয়েটি! যাকে আমি মুকুরটিলায় দেখেছিলাম আমার ৭-৮ বছর বয়সে! তখন কিছুই বুঝতে পারিনি!’

শিল্পী: স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়

‘তার মানে মুকুরটিলায় ৭-৮ বছরের শিশু-আপনার সঙ্গে যিনি অত বছর আগে সেদিন কথা বলেছিলেন, তিনি আসলে আপনারই পরবর্তী কালের যুবতী রূপ?’

ভৈরবী সংক্ষেপে বললেন, ‘হ্যাঁ। আমার সঙ্গে আমারই দেখা হয়েছিল ওই মুকুরটিলার বনে…’ তারপর গম্ভীর স্বরে যোগ করলেন, ‘হয়তো সেখানে গেলে আবার একবার দেখা হত…’

শুনতে শুনতে কী এক অপরিসীম ঔদাস্যের ভাব আমার মনকে অধিকার করে নিতে লাগল। মনে হল, বাতাস হয়তো সব জানে। পতঙ্গকে সে উড়িয়ে নিয়ে যায় ফুলের কাছে। ফুল থেকে ফুলে বয়ে নিয়ে যায় রেণু। গর্ভাশয়ের ভিতর নেমে বাতাসই হয়তো নিষেক করে। বীজের ভিতর রাখে উদ্ভিদের সম্ভাবনা। উন্মেষ, বিকাশ, বিস্তার, সংহার। তারপর ঝরাপাতাকে উড়িয়ে নিয়ে যায় অন্য কোনও পুনঃপ্রবাহের ভিতরে। অথচ নিজে সে কোথাও কখনও লিপ্ত হয় না। চিতাভস্মকে উড়িয়ে নিয়ে যায় স্রোতঃপথে। মুক্ত অনাবিল বাতাস, যা একদিন বুকের ভিতর প্রাণবীণা হয়ে বেজেছিল, কত প্রেম, কত সাধ, কত বিষাদ, কত হর্ষ-বিমর্ষের সংগীত, আজ তা চূর্ণবিচূর্ণ দগ্ধ পঞ্জরাস্থির ভিতর দিয়ে নিঃশব্দে বয়ে যায়, একা একা খেলা করে। বাতাস সব জানে। অথচ বাতাসকে কেন কখনও প্রশ্ন করিনি আমি!

অস্ফুটে বলে উঠলাম, ‘আপনার জীবনের কথা জানতে বড় সাধ হয়…’

……………. আয়নার ওধারে-র অন্যান্য পর্ব …………….

১। ওধারে এক আগন্তুক

২। অন্ধকারে, মৃতদেহ কাঁধে 

৩। ধুলামলিন লাইব্রেরি

৪। সতীর সন্ধানে

৫। ডানায় মুক্তির গন্ধ