Robbar

অসুরদের ফসল বলেই কি আখ বলিপ্রদত্ত?

Published by: Robbar Digital
  • Posted:April 2, 2026 3:06 pm
  • Updated:April 2, 2026 3:06 pm  

কত ধরনের যে আখের নাম ছিল তা বিস্ময়কর। প্রাচীন জৈন সাহিত্য থেকে মচ্চণ্ডিকা পুপ্পোত্তত পৌমুত্তর নামে আখের নাম জানা যায়। চড়ক সংহিতা থেকেও অনেক আখের নাম জানা যায়। রেভারেন্ড লালবিহারী দে-র উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে লেখা বিখ্যাত ‘বেঙ্গল পেজ্যান্ট লাইফ’ উপন্যাসে আখ নিয়ে তথ্যসমৃদ্ধ একটি পরিচ্ছেদ রয়েছে। জানা যায়, সে যুগে প্রধানত তিন শ্রেণির আখ চাষ হত। পুরি, কাজুলি এবং বোম্বাই। পুরি ইষৎ হলদে সাদা রঙের আখ। এই আখ এখনও চাষ হয়। স্থানীয় নাম ‘খুস্কি’। খুবই নরম আর রসালো মিষ্টি আখ। বোম্বাই আখ কালো রঙের। এখন আর এই আখ দেখা যায় না। কাজুলি আখ লাল রঙের। কাজুলি আখ আর চাষ হয় না। তবে গুড়ের লোকায়ত দেবীর নাম ‘কাজুলি’।

স্বপনকুমার ঠাকুর

২৬.

ফাগুনের জল আগুন হলে কী হবে! আকাশে আকাশে এখন আগুনরঙা পলাশের পাগলামি। মাঠে মাঠে বোরো ধানের বেপরোয়া সবুজ হাসি। গাঁয়ে গাঁয়ে এখন নাওয়া-খাওয়ার পাট মাথায় ওঠার জোগাড়। ক্ষেতে আখ ঝোড়ার তীব্র ব্যস্ততা। বোঝা বেঁধে ডাঁই করা আখ যায় গরুর গাড়িতে। আখশালে গিয়ে ভটভটি মেশিন চালিয়ে আখমাড়াই কলে পেশাই করে রস বের করার মৌতাত। 

আখশালে আখ এসেছে

মাঝরাত থেকে আবার গুড় তৈরির তুঙ্গ ব্যস্ততা। রাতের আঁধার কাটতেই আখের গুড় নামে নতুন মাটির গামলায়। বাদামি রঙের চকচকে সফেন গুড়। একটা লা-জবাব মিষ্টি গন্ধ! ছড়িয়ে পরে ভোরের বাতাসে। মনে পড়ে যায় হাজার বছর আগের লেখা সদুক্তিকর্ণামৃতের একটি শ্লোকের শেষ পঙ্‌ক্তি– ‘সংসক্ত ধ্বনিদিক্ষুযন্ত্রমুখরা গ্রামা গুড়ামোদিনঃ’ অর্থাৎ গাঁয়ে গাঁয়ে আখ মারাইয়ের কলের শব্দে মুখর আর নতুন গুড়ের গন্ধে আমোদিত।

ধান ছাড়া আর যে কৃষি-পণ্যটি গ্রামীণ বাঙালির জীবনে ও সংস্কৃতিতে ষোল আনা জড়িয়ে, তা হল রসদণ্ড আখ আর তার গুড়। চিঁড়ের মালসা থেকে পিরের সিন্নি, কাঁচা আমের খাট্টামিঠা চাটনি– সবেতেই আখের গুড় না হলে জমে না। 

আখের রসে জ্বাল পড়ছে

গাঁ-গঞ্জে দুর্গাপুজো মানে ঢাকের বাদ্যির সঙ্গে শুধু নতুন নতুন জামাকাপড় নয়, চট-মাটির পলেস্তারা দিয়ে সংরক্ষণ করা টিন থেকে আখের গুড় বের করে ভিয়েনের তোড়জোড়। কোথাও বা রয়েছে ইয়া বড়ো মাটির জালা– গুড় পয়া। পয়মন্ত গিন্নিরা তখন গাছ-কোমর বেঁধে উনুনে কড়াই বসিয়ে ভিয়েনে মত্ত হন। মিহি করে নারকোল কুচো, কলমা চালের মুড়ি, বেসন দিয়ে ভাজা সিঁড়ি, খই-তিল-চিঁড়ে এই সব হরেকরকম্বা মাখিয়ে তৈরি হয় লোভনীয় নাড়ু। 

মোদক জনজাতির প্রাচীন বৃত্তি ছিল গুড়কর্ম। এখনও বনেদি বাড়ির পুজোআচ্চায় চিনির ব্যবহার নেই বললেই চলে। সবই হাতে-গড়া গুড়ের মিষ্টি আর গুড়-পাকের নাড়ু। চিনি তো চিনেদের দান। গুড় একান্তই স্বদেশি। কিন্তু বর্তমানে গ্রামে আর আখচাষ হয় না বললেই চলে।

গুড় নামছে

আখচাষ এমনিতে প্রচণ্ড পরিশ্রম সাপেক্ষ কর্ম। চাষিরা বলেন, ছেলে মানুষ করার মতোই আখচাষে কষ্ট। সারা বছরে জমিতে একটি মাত্র ফসল ফলে– আখ। তার ওপর আখভাঙুনি চোর ও শিয়ালের উৎপাত আছে। প্রাচীন সাহিত্য থেকে জানা যায়, চাষিরা শিয়ালের উৎপাত বন্ধ করার জন্য জমির চারপাশে সেকালে গর্ত করে রাখতেন। যাতে শিয়ালরা আখের জমিতে ঢোকার মুখে গর্তে পড়ে যায়।

কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রেও বলা হয়েছে আখচাষের এই বৈশিষ্ট্যের কথা। ‘(ধানের চেয়ে) আখ নিকৃষ্ট, কারণ আখের বপনাদি বহু বাধাযুক্ত (অর্থাৎ মানুষ মুষিক প্রভৃতির উপদ্রবযুক্ত) এবং এটি অনেক ব্যয়সাপেক্ষ (কারণ রোপন-ছেদন-নিষ্পেষণ প্রভৃতি বহু কষ্টসাধ্য কাজের মাধ্যমে আখ ও আখজাত দ্রব্য প্রস্তুত করতে হয়)।’ [২য় অধিকরণ, ২৪ অধ্যায়] 

আখের গুড় তৈরি হচ্ছে

আখের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসুর সংস্কৃতির প্রসঙ্গ। অসুররাজ বলির পাঁচ পুত্র– অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, সুহ্ম, পুণ্ড্র। তাদের নাম অনুসারে পাঁচটি দেশের মধ্যে অন্যতম হল পুণ্ড্র বা উত্তরবঙ্গ। পণ্ডিতদের মতে ‘পুণ্ড্র’ শব্দের অর্থ এক জাতের আখ। যেমন দেশি আখের নাম ‘পুঁড়ি’। অনেকেই বলেন, আখ প্রথম লাগায় অসুররা। এই কারণে আসুরিক শক্তির বিনাশের জন্যই নাকি আখ বলি দেওয়ার প্রথাটি চালু হয়েছিল। এই নিয়ে অবশ্য নানা লোকের নানা কথা।

আখের আদি দেবতা অসুরকুলের পণ্ডাসুর। পুণ্ড্র থেকেই পণ্ডাসুরের উদ্ভব– সন্দেহ নেই। পণ্ডাসুরের পুজো বর্তমানে লুপ্ত। অনেক স্থানে তিনি ক্ষেত্রপালের মধ্যে মিশে গেছেন। তবুও অনেক আখশালে পণ্ডাসুরের নামে পুজো হয়। ছোটবেলায় গ্রামে দেখেছি, আখশালের জোল উনুনের গোলাকার মুখের উপর একটা মাটির স্তূপ বানিয়ে সকাল-সন্ধে দু’বার পুজো করতেন পুরুত ঠাকুর। ফুল আর মুড়কি কিংবা গুড় নামলে এক ভাঁড় গরম গুড় ছিল দেবতার নৈবেদ্য। মন্ত্র বলতেন–

পণ্ডাসুর নমস্তুভ্যামিক্ষুবাটি নিবাসিনে।
যজমান হিতার্থাং গুড়বৃদ্ধিপ্রদায়িনো।।

মাটির ঢিপি করে পণ্ড্রাসুরের পুজো

ভারতের পৌরাণিক রাজবংশের মধ্যে অন্যতম হল ইক্ষাকু। ইনি বৈবস্বত মুনির পুত্র সূর্যবংশীয় আদি রাজা। নামের মূলে রয়েছে ইক্ষু বা আখ। প্রাচীন জৈন সাহিত্য থেকে জানা যায়, আদি তীর্থংকর ঋষভনাথ, ইক্ষাকুভূমি অর্থাৎ অযোধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের সময় স্বর্গাধিপতি ইন্দ্র এক গাছা আখ নিয়ে এসেছিলেন ভূমিষ্ঠ দেবপুত্রকে দর্শন করতে। জৈন সাহিত্যে আখের রস অতি পবিত্র বস্তু। ঋষভনাথের পৌত্র হস্তিনাপুরের রাজা শ্রেয়াংশ আখের রস প্রদান করে তাঁর উপবাস ভঙ্গ করেছিলেন। সেই পবিত্র ঘটনার স্মরণে অক্ষয় তৃতীয়াতে আজও পালিত হয় বর্ষিতপ অনুষ্ঠান।

প্রাচীন বাংলাদেশের নাম গৌড়। সুলতান বা রাজারা পরিচিত ছিলেন গৌড়েশ্বর নামে। গৌড়ের মূলেও সেই আখের গুড়। খ্রিস্টীয় একাদশ শতাব্দীতে রাজা হরিবরমাধবের মন্ত্রী ভট্ট ভবদেবের ভুবনেশ্বর শিলালিপিতে রাঢ় অঞ্চলে কজঙ্গল দেশের কথা জানা যায়। চিনা সন্ন্যাসী-পর্যটক হিউয়েন সাঙের বিবরণীতে কজঙ্গলের উল্লেখ আছে। তিনি খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকে চম্পা (ভাগলপুর) থেকে কজঙ্গলে আসেন এবং সেখান থেকে পুণ্ড্রবর্ধন যাত্রা করেন। ‘পুণ্ড্র’ থেকে যেমন ‘পুঁড়ি’ নামের আখের নাম জানা যায়, তেমনই ‘কজঙ্গল’ থেকে ‘কাজুলি’ নামে আরেক প্রকার আখ ছিল।

মুসুরি ফুট শুরু হয়েছে

 আখ লাগানো জটিল কৃষিকর্ম। ফাগুন-চোত মাসেই আখ ঝোড়ার পর ডগা কেটে গাদান করে পুকুরের গাবায়। তারপর নিয়মমাফিক জলের ছিটেন। উরুলি চাপা দিয়ে কল বের করার পালা। পরে পচা খোসা ছাড়িয়ে ইঞ্চি আষ্টেক লম্বা ডগাকে জমিতে বসানো হয় যত্ন করে। ধীরে ধীরে ভিলিকাটা, জলের ছিটেন দেওয়া দেওয়া চলতে থাকে।

মাসতিনেক পর আখের চারা মাথা ঠারো করে উঠতেই পাতা জড়িয়ে মেরা বাঁধা শুরু। পাতা তো নয়। ধারালো ব্লেড। পাতা বাঁধা মানেই রক্তারক্তি কাণ্ড। এটা চলতেই থাকে। শেষে চার মেরাকে এক করে বড় মেরা বাঁধার শাসন। গোটা জমিটাই তখন ছন্দময় রসের ভূমি।

আখ চাষ

আখ বসানোর সময় অনুষ্ঠানও দেখেছি। একটুকরো মনসার ডাল আর এক থান সিঁদুর নিয়ে জমির কোনায় পুঁতে দেয় চাষি। ধুপধুনো দেখিয়ে তারপর শুরু হয় আখ লাগানো। শীতকালে আখের খুব সুন্দর ফুল আসে। ঠিক যেন চকচকে রুপোর পাতে তৈরি কাশফুল। উত্তুরে হাওয়ার দোলায় ভারী চমৎকার মাথা নাড়ে।

আখ কাটা থেকে গুড় তৈরি করা। একমাত্র এই বিষয়টিতেই প্রাচীন সমবায় প্রথাটি টিকে রয়েছে। পণ্ডিতরা কী বলবেন জানি না! চাষীরা একে বলেন ‘গাঁতিলাগা’ চাষ। এই চাষে একজন হেড থাকেন। ইনি হলেন গাঁয়ের বা পাড়ার মোড়ল মুরুব্বি। গাঁতায় অংশগ্রহণকারী চাষিদের তিনি জানিয়ে দেন অমুকের জমিতে আখ ঝুরতে যেতে হবে। সকলেই কাস্তে নিয়ে হাজির। ঝোরা আখ শালতলায় ফেলে দিলে তবেই ছুটি।

চলছে আখ ঝোড়ার কাজ

বছর বিশেক আগে তখনও যন্ত্রচালিত আখ-মাড়াই কল ওঠেনি। পশুশক্তি চালিত আর লৌহনির্মিত আখ মাড়াই কলটির লোকায়ত নাম ছিল ‘মাদল’। থাকত দু’-দুটো মাদল। বসানো হত প্রশস্ত সমতল ডাঙার কেন্দ্রে। যন্ত্রের মাথায় মাকু। তার ভিতরে পড়ানো হত ১৫ ফুটের লম্বা কাঠ। একে বলা হত ‘কাঁতুরি’। কাঁতুরির আঙটের সাহায্যে গরু বা মোষের জোয়ালে জোড়া হয়। মুনিশ গরু ডাকালেই কাঁতুরি ঘুরত। দু’ মাদলের মাঝে আখ ভরে দিলেই পেষার কাজ শুরু।

কতজনের যে এই আখকলে হাতের আঙুল কাটা গেছে তার হিসেব নেই। তারাশঙ্করের ‘হাসুলি বাঁকের উপকথা’ উপন্যাসের কথা এই প্রসঙ্গে অনেকেরই মনে পড়বে– ‘দিনরাত্রি আখ কাটা চলছে; খোসা ছাড়াচ্ছে, বোঝা বাঁধছে, মাথায় বয়ে এনে ফেলছে মাড়াই কলের সামনে। পেল্লাদ বসেছে কলের সামনে, সেই কলে যুগিয়ে যাচ্ছে আখ। হুঁশিয়ারির কাজ,একটু বেহুঁশ হলেই কলে আঙুল নেবে টেনে; গরু থামাতে থামাতে গোড়া পর্যন্ত আঙুল চিঁড়ে চ্যাপটা হয়ে পড়ে যাবে। ওই রতনের বাবার নাম ছিল কলকাটা, কলে তার চারটে আঙুল কেটে গিয়েছে।’

আখখেতকে খুব পবিত্র স্থান ভাবা হয়

হাসান আজিজুল হকের ‘আগুনপাখি’ উপন্যাসেও আখের শালের মনোগ্রাহী বর্ণনা আছে। কল থেকে রস গড়িয়ে যেমন সামনের মাটির পাতনায় পড়ে, উল্টোদিকে বেরয় আখের ছিবরে বা খোয়া। এক পাতনা রস হলেই তার ছুটি। আবার অন্যজনের পালি।এইভাবে সারা দিনরাত চলত আখ পেষাইয়ের কাজ। এখন অবশ্য অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে।

গুড় তৈরি– এক এলাহি ব্যাপার। প্রায় ১৫ ফুট লম্বা উনুন। চাষিরা বলেন আখের জোল। সামনে জাল দেওয়ার জন্য একফুট বৃত্তাকার ফোকল। সেখান দিয়ে শুকনো আখপাতার জাল দিতে হবে। উনুনে বসানো হয় গুড়-কড়াই। তিনফুট বৃত্তাকার টিনের পাত্র।

গুড়বারুই পরীক্ষা করছেন তাক বাগ

পরেরটা নেতি কড়াই। অপেক্ষাকৃত ছোট। উনুনের শেষপ্রান্তে চোঙার মতো করা হয় ধোঁয়া বের করার জন্য। গুড়-কড়াইয়ের নল থাকে গুড় রাখার জন্য একটা বড় মাটির গামলার উপরে। ভিতরে নলের মুখ আটকানো থাকে এল আকৃতির কাঠের দণ্ড গুড়-কুঁদো দিয়ে। রসে জাল পড়ার পর রস তেতে ওঠে আর পুরু করে ময়লা জমে। সেই ময়লা বা গাদ ছাঁকনি দিয়ে তোলার পর রসের ফুট আসে।

প্রথমে মুসুরি ফুট। কঞ্চি দিয়ে বানানো ঝাঁপ ফেলে ফেলে রসকে বাগে আনা হয়। পরে গুড়ফুট ধরে। টোপা টোপা কুলের মতো। এরপর দক্ষ গুড়শিল্পী, মানে ‘গুড়বারুই’ তাকবাগ দেখে গুড় নামায়। তিন তাকের গুড় হয়, নরম তাক, কড়া তাক ও ভাঞ্জুরো তাক। কড়া তাকের গুড় দু’ বছর পর্যন্ত খাওয়া যায়। নরম কড়ার মাঝামাঝি হল ভাঞ্জুরো তাক। এই গুড়ের চাহিদা বেশি।

আখের গুড় তৈরি করার উনুন, জোল

কত ধরনের যে আখের নাম ছিল তা বিস্ময়কর। প্রাচীন জৈন সাহিত্য থেকে মচ্চণ্ডিকা পুপ্পোত্তত পৌমুত্তর নামে আখের নাম জানা যায়। চড়ক সংহিতা থেকেও অনেক আখের নাম জানা যায়। রেভারেন্ড লালবিহারী দে-র উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে লেখা বিখ্যাত ‘বেঙ্গল পেজ্যান্ট লাইফ’ উপন্যাসে আখ নিয়ে তথ্যসমৃদ্ধ একটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

জানা যায়, সে যুগে প্রধানত তিন শ্রেণির আখ চাষ হত। পুরি, কাজুলি এবং বোম্বাই। পুরি ইষৎ হলদে সাদা রঙের আখ। এই আখ এখনও চাষ হয়। স্থানীয় নাম ‘খুস্কি’। খুবই নরম আর রসালো মিষ্টি আখ। বোম্বাই আখ কালো রঙের। এখন আর এই আখ দেখা যায় না। কাজুলি আখ লাল রঙের। কাজুলি আখ আর চাষ হয় না। তবে গুড়ের লোকায়ত দেবীর নাম ‘কাজুলি’। কাজুলি দেবীর পুজো করেন আখ-শালে পুরুত ঠাকুর। একটি নতুন মাটির ঘটে গুড় পূর্ণ করে পুজো করা হয় গৌড়দেবীর। পরে পুরুত ঠাকুর ঘটসমেত গুড় নিয়ে যান বাড়ি। এটাই তাঁর দক্ষিণা।

গুড় নামছে

বর্তমানে আখশালে অগ্নির সঙ্গে পূজিত হন ধর্মরাজ। রঞ্জাবতীর শালেভর আখ্যানের সঙ্গে সম্ভবত আখশালের যোগ ছিল অতীতে। এখনও আখশালে অগ্নি কাজুলিদেবী আর ধর্মরাজের নামে সকাল-সন্ধেয় আর গুড় নামাবার সময় দোহাই পাড়েন গুড়-বারুই।

…………. পড়ুন ঠাকুরদার ঝুলি অন্যান্য পর্ব ………….

পর্ব ২৫: যুদ্ধবাজ নয়, বাঙালির রাম করুণরসের

পর্ব ২৪: অগ্রদ্বীপের গোপীনাথ নিয়ে কৃষ্ণচন্দ্র-নবকৃষ্ণের মামলা লন্ডন অবধি গড়িয়েছিল

পর্ব ২৩: কিম্ভূত-কিমাকার মূর্তির নাম কেন ‘কাকতাড়ুয়া’?

পর্ব ২২: দেড় ফুটের ল্যাংচাভোগ ছাড়া রং খেলেন না মদনমোহন

পর্ব ২১: মায়া মমতায় গড়া বাংলা বিয়ের ছড়া

পর্ব ২০: মাদারি কা খেল

পর্ব ১৯: কোনও পসরাই অবিক্রিত পড়ে থাকে না বৈরাগ্যতলার ভাঙামেলায়

পর্ব ১৮: সুর নয়, আদিতে সুরার সঙ্গেই অধিক যোগাযোগ ছিল সরস্বতীর

পর্ব ১৭: পৌষপার্বণের সঙ্গে মিশে গেছে টুসু, সোদরব্রত কিংবা কুড়মালি আইখানযাত্রা

পর্ব ১৬: বাংলার মনসা ও চণ্ডীপুজোর ধারা এসে জগৎগৌরীতে মিলেছে

পর্ব ১৫: রাঢ়ের কবিগানের পালায় হিঁদু হলেন চাঁদ মুহম্মদ, কাশীনাথ মুসলিম

পর্ব ১৪: খেজুর গাছে হাঁড়ি বাঁধো মন

পর্ব ১৩: বৈদিক যুগের ‘স্থালী’-ই আজকের প্লেট, ‘উখ্য’-ই ফ্রাইং প্যান

পর্ব ১২: লোকখেলার মধ্যে মিশে রয়েছে হাজার বছরের ফেলে আসা জীবনের স্মৃতি

পর্ব ১১: অঘ্রানের নবান্ন মূলত নববর্ষেরই উৎসব ছিল

পর্ব ১০: বারবণিতাদের আরাধনার মধ্যে দিয়েই শুরু হয়েছিল কাটোয়ার কার্তিক লড়াই

পর্ব ৯: শিশুঘাতক থেকে কেন শিশুরক্ষক দেবতা হয়ে উঠলেন কার্তিক?

পর্ব ৮: তেনাদের পুজো, তেনাদের মেলা-মোচ্ছব

পর্ব ৭: প্রেত মানেই ভূত বা অতীত, কিন্তু সকল প্রেতই ভূত নয়!

পর্ব ৬: কেবল কালী নন, লৌকিক লক্ষ্মী ঠাকরুনও দাঁড়ান স্বামী নারায়ণের বুকে পা রেখেই

পর্ব ৫: মহিষাসুরমর্দিনী নন, কৃষিপ্রধান বাংলায় আদিপূজিতা ছিলেন শস্যদেবী নবপত্রিকা

পর্ব ৪: পুকুরের দেবতা পুকুরের ভূত

পর্ব ৩: পুকুরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে লোককথা আর লোকবিশ্বাস

পর্ব ২: পৌরাণিক হিন্দু ও বৌদ্ধ সাহিত্যে দেবতা অথবা মানুষের বন্ধু হিসেবেই স্থান পেয়েছে কুকুর

পর্ব ১: সেকালের ডাকাতির গপ্প