Robbar

Football

রাজার মুকুট, রাজার সাজ

উৎসবের আলো নিভে এলে মনখারাপের অভ্যাস আমাদের গ্রাস করে। অপেক্ষার চার বছর তখন অনন্ত মনে হয়। ‘রাজার মুকুট’-এ ছড়িয়ে থাকা বিশ্বকাপের গল্প সেই প্রতীক্ষাকালে যোগ্য সফরসঙ্গী।

→

স্বপ্নের অফসাইড

একটা স্টারডম, একজন মাচো অ্যাথলিট আর অনন্ত প্রচারের চূড়ামণি আর ফোটোগ্রাফারের বাইরে থাকে– একটা আড়াল। জেডেন অ্যাডামস সেই আড়াল থেকে আর ফিরলেন না।

→

আবার বছর চব্বিশ পরে

র‍্যামসের ঘৃণা, তারুণ্যের প্রতিশোধ, যুদ্ধের হিসেব, মারাদোনার স্মৃতি, রেড কার্ড, হার্স্ট, শিল্টন, রেফারি, দৃষ্টিনন্দন গোল। ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে এ সবই বহু দূরের স্মৃতি। ২৪ বছর পরের খেলায় কি তবে ইতিহাসের কোনও যোগসূত্রই নেই?

→

আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক

মনে হবে, ডিসটোপিয়া। দু’পাশে ভাঙাচোরা হাইরাইজ। অর্ধেক ছাদ। লোহার খাঁচা। ধ্বংসের ভেতরে দাঁড়িয়ে কিছু মানুষ। ঠাসাঠাসি করে। দেখছে, আর্জেন্টিনা বনাম মিশর। গাজা শহরে। কয়েকটা আলো আর মিশরের লাল-কালো পতাকা। যুদ্ধবিমান, ড্রোনের শব্দ আর অনর্গল বম্বিং ভুলে থাকার ৯০ মিনিট। ট্রমা নেই। মৃত্যুভয় নেই। খিদে নেই।

→

সত্য সে লুকা!

অশান্ত শৈশব মদ্রিচকে কী করতে পারত? অস্ত্র তুলে নিতেন হাতে? পুড়তেন প্রতিশোধের আগুনে? না কি এই হিংস্র নির্মম পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে অটল থাকতেন তাঁর নির্মল অনাবিল আত্মোপলব্ধিতে: যুদ্ধ কখনও কারওর জন্য ভালো কিছু বয়ে আনে না। গাইতেন প্রিয় গান: ‘নিজে উ সোলদিমা সেভ’, টাকা সবকিছু নয়!

→

বাঁশির লিঙ্গ নেই

ফিফা আয়োজিত কোনও বড় টুর্নামেন্টে এই প্রথম ছ’জন মহিলা রেফারি। পুরুষদের ফুটবল ম্যাচ পরিচালনার জন্য যে মহিলারা নির্বাচিত হয়েছেন– তাঁদের রীতিমতো চূড়ান্ত কঠিন এই শারীরিক পারদর্শিতার প্রমাণ দিতে হয়েছে। তারপরে মিলেছে মাঠ শাসন করার ছাড়পত্র। সেখানে কোনও লেডিস কম্পার্টমেন্ট নেই। যাত্রাপথে ছাড় নেই একটুও।

→

দারিদ্র ১ স্বপ্ন ৭

আজও পৃথিবীর বহু মানুষ ‘ফাভেলা’ শব্দটাকে শুধু বস্তি হিসেবে চেনে। কিন্তু ফাভেলা আসলে শুধু দারিদ্রের গল্প নয়। ফাভেলা হল বেঁচে থাকার জেদ। রাষ্ট্রের অবহেলার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ। এই ফাভেলার সরু গলিতেই ফুটবলের নতুন ভাষা তৈরি হয়েছিল।

→

খ্যাতি আউট, খেলা ইন

বড় দল ছোট দলের কাছে হারলে তাকে অঘটন না বলে অন্য কিছু বলা যায় কি? বলা যায়– ফুটবল! কারণ, এই খেলার সবচেয়ে বড় সত্যই হল, এখানে কোনও ফল আগে থেকে লেখা থাকে না। আর সেই কারণেই কোটি কোটি মানুষ এখনও বিশ্বাস করেন, ৯০ মিনিটে অসম্ভবও সম্ভব।

→

বিশ্বকাপ ক্ষমতা প্রদর্শনের মঞ্চ নয়

‘গার্ডিয়ান’ পত্রিকার সিনিয়র স্পোর্টস রিপোর্টার এই বিশ্বকাপকে বলছেন, ‘ট্রাম্পের বিশ্বকাপ’। ইরানি ফুটবলারদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, সেখানকার ফুটবলপ্রেমীদের আমেরিকায় ঢুকতে না দেওয়া, ‘আতঙ্কবাদী’ বলে দাগিয়ে দেওয়া, মুসলিম ও আফ্রিকান রেফারিকে নাকাল করা বুঝিয়ে দিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপ বর্ণবিদ্বেষবাদ, যুদ্ধ বা পক্ষপাতদুষ্টতাকে সঙ্গে নিয়েই চলবে।

→

বৈষম্যের পৃথিবীতে ফুটবল আজও প্রতিরোধ

দিনশেষে ফুটবল মাঠ আসলে ইউটোপিয়াই। সে দেশ কাঁটাতারে ঘেরা ভূ-খণ্ড বোঝে না। বোঝে মানুষ। মানুষহীন দেশ হতে পারে না। দেশহীন মানুষ যদিও দিব্যি হয়। বিশ্বকাপ মিটে গেলে তাই ফুটবল খুব একা। নিঃসঙ্গ।

→