

ইউরোপ বনাম লাতিন আমেরিকার ঘরানার লড়াইয়ে কে জিতবে, তা নির্ধারণ হবে কিছুদিন বাদেই। একথা সত্যি যে, লাতিন আমেরিকার ফুটবলে শিল্প এবং লড়াইয়ের সংমিশ্রণ, সেই ছবিটা বহু বছর ধরেই ধীরে ধীরে বদলে গিয়েছে অনেকটাই। অন্যদিকে, ইউরোপের দেশগুলোর উপনিবেশের ইতিহাস, অর্থনৈতিক শক্তি এবং অভিবাসন নীতির ইতিবাচক ফলে পুষ্ট হয়েছে তাদের বদলে চলা ফুটবল-সংস্কৃতি।
যে অপরিণত সময়ের কাছে আর ফেরা যাবে না কোনওদিন, সেই সময়টাকে নিয়ে চলে গেলেন ঝগড়ুটে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। আমাদের বড় হওয়ার বৃত্ত সম্পূর্ণ হল শেষমেশ।
অশান্ত শৈশব মদ্রিচকে কী করতে পারত? অস্ত্র তুলে নিতেন হাতে? পুড়তেন প্রতিশোধের আগুনে? না কি এই হিংস্র নির্মম পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে অটল থাকতেন তাঁর নির্মল অনাবিল আত্মোপলব্ধিতে: যুদ্ধ কখনও কারওর জন্য ভালো কিছু বয়ে আনে না। গাইতেন প্রিয় গান: ‘নিজে উ সোলদিমা সেভ’, টাকা সবকিছু নয়!
বিশ্রী শত্রুতার বলয়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে শান্তির বার্তা উচ্চারণ করতে কলজে লাগে। ইরানের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ বটে। কিন্তু বিশ্বের, সব দেশের মধ্যে সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা দিয়ে তারা হৃদয় জিতে নিয়েছে।
ফিফা আয়োজিত কোনও বড় টুর্নামেন্টে এই প্রথম ছ’জন মহিলা রেফারি। পুরুষদের ফুটবল ম্যাচ পরিচালনার জন্য যে মহিলারা নির্বাচিত হয়েছেন– তাঁদের রীতিমতো চূড়ান্ত কঠিন এই শারীরিক পারদর্শিতার প্রমাণ দিতে হয়েছে। তারপরে মিলেছে মাঠ শাসন করার ছাড়পত্র। সেখানে কোনও লেডিস কম্পার্টমেন্ট নেই। যাত্রাপথে ছাড় নেই একটুও।
‘ওয়া কালচার’ থেকে জাপানের ফুটবল মহার্ঘ কী পেয়েছে? স্যামুরাই স্পিরিট। খেলা শেষে, সমর্থকেরা স্টেডিয়াম সাফ করে দেয়। খেলোয়াড়েরা ড্রেসিংরুম। তাই কেউ যখন বলে, জাপানের ফুটবল একটা ফ্লুক, তখন হাসিই পায়।
গোলকিপারের অস্তিত্বের স্বীকৃতি অনেক বেশি নির্ভরশীল এক একটা নির্ধারক মুহূর্তের ওপর। নিঃসঙ্গ ঈগলের মতো ডানা মেলে দেশের মানুষের স্বপ্নকে আগলে রাখতে চান তাঁরা। এই বিশ্বকাপ কি গোলকিপারদের হয়ে উঠতে পারে না?
আজও পৃথিবীর বহু মানুষ ‘ফাভেলা’ শব্দটাকে শুধু বস্তি হিসেবে চেনে। কিন্তু ফাভেলা আসলে শুধু দারিদ্রের গল্প নয়। ফাভেলা হল বেঁচে থাকার জেদ। রাষ্ট্রের অবহেলার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ। এই ফাভেলার সরু গলিতেই ফুটবলের নতুন ভাষা তৈরি হয়েছিল।
বড় দল ছোট দলের কাছে হারলে তাকে অঘটন না বলে অন্য কিছু বলা যায় কি? বলা যায়– ফুটবল! কারণ, এই খেলার সবচেয়ে বড় সত্যই হল, এখানে কোনও ফল আগে থেকে লেখা থাকে না। আর সেই কারণেই কোটি কোটি মানুষ এখনও বিশ্বাস করেন, ৯০ মিনিটে অসম্ভবও সম্ভব।
খেলোয়াড়দের সঙ্গে মিশেলও প্রত্যেকদিন প্র্যাকটিস করেন। খেলার দিন ৯০ মিনিট টানা দাঁড়িয়ে থাকার জন্য, অন্যান্য দিন ৪০ মিনিট ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে নিজেকে প্রস্তুত করেন কঙ্গোর ‘লুমুম্বা ভেয়া’।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved