Robbar

অকালবৈশাখী

Published by: Robbar Digital
  • Posted:June 26, 2026 8:52 pm
  • Updated:June 26, 2026 9:38 pm  

সেই সব নৈরাশ্যময় কালো মেঘের দিন; দুয়েকজন ছাড়া বাকি বন্ধুরা সকলেই সরে গিয়েছে, ফ্যান্সিবাজারের দোকানটাও বন্ধ, ভাগ্যিস অমৃত আমার সঙ্গে জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট খুলেছিল ব্যাংকে, চিকিৎসায় পরীক্ষায় হাসপাতালে ক্রমশ শেষ হয়ে আসছে অমৃতের শ্রমার্জিত সঞ্চয়, শেষ হয়ে আসছে কি অমৃতের আয়ুর ভাণ্ডারও?

সন্মাত্রানন্দ

১১.

আনন্দের উজ্জ্বল বারান্দায় বসে থাকতে থাকতে আমরা লক্ষ করতে ভুলে যাই, পশ্চিম দিগন্তে বিন্দু বিন্দু অকালবৈশাখীর মেঘ ঘনাচ্ছে। ধীরে ধীরে মলিন হয়ে আসে ক্ষণকালীন সেই আনন্দ-রৌদ্র, মুহূর্তের মেঘ ঝড়ের বাতাস লেগে ধীরে ধীরে ফুলে উঠতে থাকে বিপুল অন্ধকারে। কখন যেন অজ্ঞাতসারেই সেই মেঘ ছেয়ে দেয় অখিল আকাশ; অনতিবিলম্বে আরম্ভ হয় অবিশ্রান্ত ঝড় আর অঝোর বরিষণ। এমন সে আকাশভাঙা বিরতিবিহীন বৃষ্টি যে, সেই ঘনঘোরের মধ্যে বসে তখন মনে হয়, হে প্রভু! জীবনের এই ঝড়, এই বৃষ্টিপাত আর বুঝি কখনও থামবে না!

তিন বছরের কোর্স নার্সিং-এর, আমি তখন থার্ড ইয়ারে। ফ্যান্সিবাজারে অমৃতের দোকান, প্রায় রোজ বিকেলেই হয় আমি কলেজ সেরে ওর দোকানে যাই, নয়তো ও আমার হোস্টেলে এসে দেখা করে। কখনও-সখনও এদিকে সেদিকে ঘুরতেও যাই; গৌহাটি শহরটা তখন এখনকার মতো ছিল না, অনেকটা নির্জন আর ছিমছাম ছিল তখন। দু’জনে স্বপ্ন দেখছি– নার্সিং কোর্সটা শেষ হলেই বিয়ে করব, দু’জনে মিলে খেলাঘর বাঁধব। স্বপ্নে মশগুল আমাদের সেই অল্পবয়সের মন তখন জানতে পারেনি, অলক্ষ্যে থেকে ক্রমশ ঘনিয়ে উঠছে আসন্ন দুর্বিপাকের আচম্বিত মেঘ।

স্বল্প পুঁজি নিয়ে যাঁরা ব্যবসায় নামেন, তাঁরা যেন এই কথাটি ভুলে না যান কখনও। যত ব্যবসাবুদ্ধি আর কর্মদক্ষতাই থাকুক, ধারে কারবার করার মতো অলক্ষ্মীর পরামর্শ যেন তাঁদের কখনও না হয়। গ্রামের পানদোকানে একবার দেখেছিলাম– কালো ফলকের ওপর সোনালি অক্ষরে লেখা একটা ছড়া: ‘ধারের পায়ে নমস্কার, যে-বাবুকে দিই ধার, সে-বাবু এ পথে ফেরে না আর!’

কথাটা পড়ে তখন হেসেছিলাম মনে মনে। কিন্তু ওই গ্রামীণ ছড়ার ভিতর পোড়খাওয়া ব্যবসায়ীর সমস্ত জীবনের মর্মন্তুদ অভিজ্ঞতাপুঞ্জের নির্যাস যে নিহিত ছিল, তা তখন আমি বুঝতে পারিনি। অমৃত পরিশ্রমী ছেলে, দোকানটাকে দাঁড় করানোর জন্য সে দিনরাত্রি উদয়াস্ত মাথার ঘাম পায়ে ফেলত, ব্যবসাবুদ্ধিও ছিল ভালোই, কিন্তু তার কাজের মধ্যে এমন একটা অক্ষমণীয় দোষ ছিল, যার চক্কর কেটে বেরিয়ে আসা মুশকিল। অমৃত লোকজনের ওপর বিশ্বাস করে অনেক সময় ধারে কারবার করত। অনেকেই পরে দাম দেবে বলে কাপড় নিয়ে যেত, আর অমৃতও তাদের কথায় আস্থা রেখে বসে থাকত ভালোমানুষের মতো। ব্যাপারটা ঠাহর করে আমি কিন্তু অমৃতকে আগেই সাবধান করেছিলাম।

সে তার বাবার রেখে যাওয়া পুঁজিতেই দোকান করেছিল ঠিকই, কিন্তু ব্যবসা যতই বেড়ে উঠছিল, ততই তাকে বিভিন্ন জায়গা থেকে চড়া সুদে ধার নিতে হচ্ছিল। অবস্থাটা কঠিন হয়ে উঠছিল ধীরে ধীরে। একদিকে প্রতি মাসে তাকে মোটা টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছিল এইসব ঋণ পরিশোধ করার জন্য, অন্যদিকে বহু লোক, যাদের সঙ্গে সে ধারে কারবার করেছে, তাদের কাছে পড়ে থাকছিল তার অনেকটা অনাদায়ী টাকা। এই দু’দিকের চাপে বিপর্যস্ত হচ্ছিল অমৃত ক্রমশই।

একদিন বিকেলে কলেজ থেকে হোস্টেলে ফিরে শুনলাম, ফ্যান্সিবাজারে অমৃতকে কারা না কি খুব মেরেছে! হন্তদন্ত হয়ে জামাকাপড় না-পালটেই ছুটতে ছুটতে হাজির হলাম অমৃতের বাসায়। দেখলাম, অমৃত মাথায় আর হাতে ব্যান্ডেজ বেঁধে খাটে শুয়ে আছে, তার গায়ের কাপড়ে এখানে ওখানে রক্ত ছুপে আছে। অল্প অল্প জ্ঞান আছে, চারিদিকে তার বন্ধুদের ভিড়।

শিল্পী: স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়

ওদের মুখে যা শুনলাম, তা এইরকম। মহাজনের গদি থেকে লোক এসেছিল, বহু টাকা না কি বাকি পড়ে আছে তাদের অমৃতের কাছে। এই নিয়েই প্রথমে কথাবার্তা শুরু হয়েছিল। ধীরে ধীরে কথাবার্তা থেকে উত্তপ্ত বাগবিতণ্ডা, শেষে মুখ খারাপ করতে আরম্ভ করে লোকগুলো। অমৃতও তাদের সঙ্গে তিক্ত বচসায় জড়িয়ে পড়ে। শেষে এই অবস্থা। অমৃতর এক বন্ধু বলল, লোকগুলো নাকি খুবই খারাপ, মারপিট করার মতলবেই সঙ্গে গুন্ডাটুন্ডা নিয়েই আজ দোকানে ঢুকেছিল।

প্রাথমিক শুশ্রূষা যা করার করে বন্ধুদের সহায়তায় অমৃতকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলাম। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডাক্তার সব দেখেশুনে আঁতকে উঠে বললেন, মারাত্মক আঘাত লেগেছে অমৃতের! ওকে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। হাতটা তো ভেঙেছেই, মাথার ভিতরেও চোট লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে বাঁচানো মুশকিল। পেটে ও বুকেও ভয়ানক আঘাত লেগেছে। আর দেরি না করে ডাক্তারের কথামতো কাঁদতে কাঁদতে হাসপাতালেই নিয়ে গেলাম অমৃতকে।

কয়েকদিন ধরে অবিরত যমে-মানুষে টানাটানি চলতে লাগল। অমৃতের জ্বরের দমক বাড়ছিল। ওর দুয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে আমিও হাসপাতালেই পড়ে থাকতে লাগলাম। কলেজ-টলেজ তখন মাথায় উঠেছে। এদিকে অমৃতর চিকিৎসার খরচও বাড়ছে দিন দিন। ডাক্তার বলছেন, হাঁটুতেও নাকি ভয়ানক আঘাত লেগেছে। মালাইচাকির হাড় দু’-টুকরো হয়ে গিয়েছে! শরীরের অবস্থা একটু সইবার মতো হলে অস্ত্রোপচার করতে হবে। তখন রক্তের ব্যবস্থাও করতে হতে পারে।

সেইসব নৈরাশ্যময় কালো মেঘের দিন; দুয়েকজন ছাড়া বাকি বন্ধুরা সকলেই সরে গিয়েছে, ফ্যান্সিবাজারের দোকানটাও বন্ধ, ভাগ্যিস অমৃত আমার সঙ্গে জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট খুলেছিল ব্যাংকে, চিকিৎসায়-পরীক্ষায় হাসপাতালে ক্রমশ শেষ হয়ে আসছে অমৃতের শ্রমার্জিত সঞ্চয়, শেষ হয়ে আসছে কি অমৃতের আয়ুর ভাণ্ডারও? সবসময় কেমন যেন ঘোর-ঘোর অবস্থায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকে অমৃত, অল্প সময়ের জন্যে জ্ঞান ফিরলে চারিদিকে ফ্যালফ্যাল করে চায়, কাউকে চিনতে পারে না, আমাকেও না… তারপরই আবার ঘুমের ভিতর তলিয়ে যায় হঠাৎ।

অমৃতর মাথার কাছে বসে থাকতাম আমি দিনরাত। বুক ফেটে কান্না আসত। সেই কান্নার বেগ স্তিমিত হয়ে গিয়ে মনের মধ্যে ফুটে উঠত দুশ্চিন্তার অনিবার্য মেঘ। এবার কী হবে আমাদের? অমৃত যদি আর ভালো না হয়? আমার জীবন জড়িয়ে গিয়েছে ওরই সঙ্গে। অমৃত না-থাকলে আমি কী করব? গত তিন বছর আমি দেশের বাড়িতে ফিরে যাইনি, মামা-মামির সঙ্গে এখন আর আমার কোনও যোগ নেই, তারাও আর যোগ রাখে না আমার সঙ্গে। এত যে স্বপ্ন দেখেছিলাম দু’জনে মিলে… নার্সিং পাশ করার পরে অমৃতকে বিয়ে করব, দু’জনে গুছিয়ে নেব ঘর-গেরস্থালি, দোকানটাকে ঢেলে নতুন করে সাজাব… সেইসব সুখের স্বপ্ন তাহলে এতটাই অলীক ছিল? ভগবানের কাছে অবিরত প্রার্থনা করতাম, অমৃতকে ভালো করে দাও, ঠাকুর!

শিল্পী: স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়

ওর সুস্থতা আর হাসপাতালের খরচের চিন্তায় আমি একেবারে শেষ হয়ে যাচ্ছিলাম। কখনও কখনও নার্স কিংবা ডাক্তাররা বলতেন আমাকে, বাড়ি গিয়ে বিশ্রাম নিতে। আমার খাওয়া নেই, ঘুম নেই, অমৃতর বন্ধুদের সঙ্গে পালা করে রাত জাগার কথা বলতেন ডাক্তারবাবুরা, কিন্তু আমি কিছুতেই রাজি হতাম না, কেননা বাড়ি গিয়েও খাবার মুখে তুলতে পারব না, ঘুমোতে পারব না আমি অমৃতকে হাসপাতালে ফেলে রেখে।

একদিন দুপুর তিনটের দিকে অমৃতর জ্ঞান ফিরল। সেদিন ওর চোখের দৃষ্টি যেন অনেকটাই স্বাভাবিক। আমাকে চিনতেও পারল। কথা বলার চেষ্টা করছিল আমার বারণ সত্ত্বেও। দুটো-একটা কথা খুব কষ্ট করে উচ্চারণ করছে। আমি প্রাণপণে বোঝার চেষ্টা করছিলাম, কোথায় কষ্ট হচ্ছে ওর।

কিছুটা শব্দের সাহায্যে, কিছুটা ইঙ্গিতে অমৃত আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করছিল, বাজারে কোথায় কোথায় ওর ধারদেনা পড়ে আছে। দরকার হলে দোকানের কিছুটা অংশ যেন আমি বেচে দিয়ে সব দেনা শোধ করে দিই। আমি বললাম, ‘তুমি চুপ করো তো এখন! আমি জানি, তুমি ঠিক সুস্থ হয়ে উঠে নিজেই ওসব মেটাবে!’

তাতে সে কিছু বলল না। শুধু আমার হাতখানা তার নিজের হাতের মুঠিতে চেপে ধরে চোখ বুজে থাকল কিছুক্ষণ। মিনিট পাঁচেক পরে সে চোখ খুলল আবার। আমার দিকে চেয়ে জড়ানো ঘড়ঘড়ে গলায় বলল, ‘তোর কলেজ নেই? তুই এখানে কী করছিস বসে বসে?’

তারপরই মুখটা ঘুরিয়ে নিয়ে পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়ল অমৃত। ও সব সময় আমাকে ‘তুমি’ বলত, কোনওদিন আমাকে ‘তুই’ বলেনি। শুধু সেই একবারই।

আমি ভাবলাম, ঘুমচ্ছে ঘুমক। কত ক্লান্তি, কত আঘাত, কত যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গিয়েছে অমৃত। শান্তিতে ঘুমক এখন একটু।

বিকেলের রাউন্ডে অমৃতকে দেখতে এসে নার্স বললেন, কয়েক ঘণ্টা হল, অমৃত মারা গিয়েছে! নিঃশব্দে, নিঃসাড়ে, অতর্কিতে।

অমৃত চলে গেল আমার জীবন থেকে। চোখের সামনে যে-পাঁচিলটা ছিল, যার ওপর ভর দিয়ে লতার মতো আকর্ষ বাড়িয়ে আমি উপরে উঠছিলাম, সেই পাঁচিলটা ভেঙে পড়ল হঠাৎ চোখের সামনেই। মাটির লতা গড়িয়ে পড়লাম মাটিতেই। সামনে ধরা দিল রৌদ্ররক্তাক্ত ভীষণ একটা অগ্নিবর্ষী বিশাল আকাশ। যার নিচে রুক্ষ মাটি, সবুজের চিহ্নহীন, পথদিশাহীন।

কোনওমতে নার্সিং পাশ করে একটা অতি সাধারণ হোমে চুক্তিসাপেক্ষে নার্সের কাজ পেলাম। অমৃতর কথামতো দোকান বেচে ধারশোধ করলাম ওর। অমৃতর সেই এক কামরা একতালা ঘরেই থাকতে লাগলাম। অমৃতর পরিচিত বন্ধুবান্ধব সব এই দুঃখের দিনে আমার পাশ থেকে কর্পূরের মতো উবে গেল!

এভাবেই কেটে গেল আরও বছর পাঁচেক। পৃথিবী কারও জন্যেই থেমে থাকে না। অন্য কোনও মেয়ে হলে অনুরূপ অবস্থায় বিয়ে করত আর কাউকে। সেটাই স্বাভাবিক। সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। কিন্তু অমৃতর কাছ থেকে আমি সব পেয়েছিলাম। আমার সংসারের স্বপ্ন অমৃতই নিয়ে চলে গিয়েছে তার সঙ্গে।

শিল্পী: স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়

এভাবে দিনের পর দিন। তুমুল জীবনসংগ্রাম। উপার্জন খুবই কম। চাকরিটাও অস্থায়ী গোছের। আশেপাশে বিচিত্র সব মানুষের লালসাপূর্ণ হাতছানি। তবু সব তুচ্ছ করেই চলছিলাম আমি। ধীরে ধীরে এই ছন্দহীন, বিবর্ণ জীবনে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে ডিউটিতে যাই। মাঝদিনে একঘেয়ে খাবার মুখে দিই। দিনশেষে ক্লান্ত শরীর আর চূর্ণবিচূর্ণ মন নিয়ে ঘরে ফিরে আসি। কোনওদিন রাত্রে রান্না করি। কোনওদিন না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ি যে কখন, খেয়াল থাকে না।

এভাবে চলতে চলতে একদিন দুপুরবেলা… সেদিন কোনও কারণে আমার ছুটি… হোমে যাইনি সেদিন… বাড়িটার ছাদে ভেজা কাপড় মেলে দিয়ে সিঁড়িঘরের ছায়ায় বসেছিলাম উদ্দেশ্যহীনভাবে… চারিদিকে শীতের দ্বিপ্রহর অলস প্রত্যাখানের মতো পড়ে আছে। দূর আকাশ বেয়ে অদেখা কোনও চিলের ডাক যেন আমার বুকের ভিতরটাকে চিরে দিয়ে কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে। ছাদে বসে দেখছিলাম, গৌহাটি শহরের রাস্তার পাশে গাছগুলো থেকে শুকনো পাতা ঝরে ঝরে পিচঢালা পথটাকে আকুল করে তুলেছে, নিষ্পত্রপ্রায় গাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে মূক প্রহরীর মতো। মনে পড়ছিল, আমার সেই ছোটবেলার মুকুরটিলা, যেখানে আমি পাতা ঝাঁট দিয়ে তুলে আনতাম বস্তা ভরে। জীবনের বসন্ত দেখেছি আমি, দেখেছি বর্ষাও, আজ দেখছি শীত, শীতের রুক্ষ রূপ… আমার এই স্বল্প আয়ুষ্কালের মধ্যে বসন্ত আর শীত পাশাপাশি যিনি আপন খেয়ালে পরপর সাজিয়ে চলেছেন, তাঁর সঙ্গে দেখা হল কই? আমি তো শুধু পাতাই কুড়োলাম সারা জীবন ধরে। সেই যে কে একজন এসে ছোটবেলায় জিজ্ঞেস করেছিল, ‘তুই কি শুধু পাতাই কুড়োবি জীবনভর?’

কে জানে কেন, উঠে দাঁড়ালাম, দীর্ঘশ্বাস ফেলে। ছাদ থেকে নেমে খোলা দরজা দিয়ে নেমে এলাম পথে। দরজাটা লাগাতেও ভুলে গেলাম! ছাদে কাপড় শুকোচ্ছে, মনে রইল না ওসব কথা। আমি যে একটা নার্সিং হোমের অস্থায়ী সেবিকা, আমার যে একটা জীবনধারণের রীতিমাফিক পদ্ধতি আছে, বুকভাঙা দুঃখ আছে, অসমাহিত উদ্বেগ আছে– সমস্ত ভুলে গিয়ে হাঁটতেই লাগলাম। কোথায় যাচ্ছি, কিছুই জানি না তখন। শুধু জানি, আমাকে যেতে হবে দূরে। বহুদূরে। সামনে ছড়ানো অনেক পথ।

মানুষ কি আদৌ জানে, কোথা থেকে এসেছে সে? কোথায় যাচ্ছে? কিছুই না। কিছুই জানে না মানুষ।

……………. আয়নার ওধারে-র অন্যান্য পর্ব …………….

১। ওধারে এক আগন্তুক

২। অন্ধকারে, মৃতদেহ কাঁধে 

৩। ধুলামলিন লাইব্রেরি

৪। সতীর সন্ধানে

৫। ডানায় মুক্তির গন্ধ

৬। স্বপ্ন কি সত্যি নয়?

৭। হাসে অন্তর্যামী

৮। হাসে অন্তর্যামী

৯। যে দিন ভেসে গেছে

১০। ডানা মেলা স্বপ্ন