Robbar

কলাম

অতল জলের আহ্বান

আয়নার ওধারে যে একটি জগৎ, আমাদের অজ্ঞাতসারে যা বয়ে চলেছে নিঃসাড়ে, সতী ভৈরবী ও তাঁর আশ্রম কি তবে সেই নিত্য ঘটমান, নিত্য স্পন্দমান চলচ্ছবিরই অকিঞ্চিৎকর একটি অংশ? আয়নাতে মুখ রাখো, সেই ঘটনাস্রোতের একটা টুকরো শুধু তুমি দেখতে পাবে।

→

জগন্নাথের শবরযোগ

শবরদের ধর্ম-ভাবনায় ত্রিমূর্তির উপাসনা উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। ত্রিমূর্তি হলেন তানাপেনু, জাকেরিপেনু এবং মুরভিপেনু। শবর ভাষায় ‘পেনু’ শব্দের অর্থ ঈশ্বর। ওড়িশার শবর-প্রধান গ্রামগুলিতে জগন্নাথের নাম ‘জগনেলো’। শব্দটির অর্থ– কাঠের তৈরি দেবমূর্তি। শবর ভাষায় দেবতার নাম ‘সানাম’ এবং মূর্তিকে বলে ‘কিটুঙ্গা’। সকল কিটুঙ্গাদের মধ্যে জগনেলো হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি বিশ্বের অধিপতি হিসাবে বন্দিত।

→

রমণীয় পিকাসো

মারির সঙ্গে পিকাসোর জীবন সান্ধ্যপ্রদীপের মতো শান্ত। অনন্য নারীদের সঙ্গে যেমন তার ঝোড়ো সম্পর্ক, তীব্র প্রেম ও তীব্র ঘৃণায় তোলপাড় সম্পর্ক, মারির সঙ্গে তা নয়। মারির সঙ্গে পিকাসোর সম্পর্ক তাঁর কবিতাগুচ্ছের মতো। গভীর অন্তরাল। প্রচারের আলোর বাইরে।

→

ভালোবাসার অচিনপুর

ভালোবাসা মানে, পরিণতিকাঙ্ক্ষাহীন অনুরাগ; ওই অর্থেই মানুষ প্রথম শব্দটি ব্যবহার করেছিল। তারপর অগণ্য বাজে লোকের বাজে কথায় ওই শব্দ শতদীর্ণ হয়েছে! কিন্তু শতদীর্ণ হয়েছে বলেই তো তার মেরামত প্রয়োজন। ‘ভালোবাসা’ বলতে আদিতে যা বোঝাত, আজও ‘ভালোবাসা’ এলে মানুষ ঠিক প্রথমেই যা অনুভব করে, সেই অনুভবার্থের কাছে ভুলভাবে বহুল-ব্যবহৃত শব্দটিকে ফিরিয়ে না দিলে কী নিয়ে মানুষ বাঁচবে?

→

কলাভবন: পূর্ব থেকে পশ্চিমে

শোনা যায়, পূর্ব দিক থেকে কলাভবনের অবস্থানগত পরিবর্তন ক্রমশ পশ্চিমদিকে সরে আসায় নন্দলাল একটু রসিকতা করেছেন। ঘনিষ্ঠ বৃত্তে গল্পচ্ছলে তিনি বলেছেন, কলাভবনের গতি দেখছি ক্রমে পুব থেকে পশ্চিমে চলেছে। অর্থাৎ শিল্পের অভিমুখ যেন প্রাচ্য থেকে ধীরে ধীরে পাশ্চাত্যের দিকেই এগিয়ে চলেছে।

→

পিছন-পানে তাকাই যদি কভু

ভিড় বাস চলেছে। দ্রুত। ভিড় পিছন দিকে এগিয়ে গিয়েছে। পিছন দিকে এগতে এগতে কেউ ভাবছে– পিছনটাই সামনে! এই ভাবনা ততক্ষণই সত্য, যতক্ষণ না গন্তব্য আসছে। গন্তব্য একটা মুহূর্ত, সময়ের বিন্দু।

→

প্রথম বাঙালি মহিলা ইলাস্ট্রেটর

গত শতাব্দীর তিনের দশক পর্যন্ত সন্দেশের পাতায় নিয়মিত দেখা যেত তাঁর ছবি। নিজের প্রত্যেকটি লেখার সচিত্রকরণ শুধু নয়, অন্য লেখকদের লেখার সঙ্গেও তাঁর করা অলংকরণ সন্দেশকে সমৃদ্ধ করেছে। এমনকী স্বর্ণকুমারী দেবীর একটি ইংরেজি বইয়ের অলংকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ছবিও তিনি এঁকে দিয়েছিলেন লেখিকার অনুরোধে।

→

ভিটের ভাস্কর্য

বাংলাবাড়ি থেকে ইউরোপীয় বাংলো আসেনি। সেটি কুঁড়েঘর বা দোচালার আইডিয়া থেকে কপি করা। আসলে বাংলাবাড়ি থেকেই আটচালা যুক্ত মাটির দেবালয় চণ্ডীমণ্ডপ গড়ে উঠেছিল। গড়ে উঠেছিল ইসলামিক মৃৎস্থাপত্য দেহলিজ বা দলিজখানা।

→

আলোকস্তনী রাধিকা

বিদ্যাপতি লিখছেন: পীন পয়োধর রোচি উজোরি। ‘রোচি’ শব্দটি একাধিক অনুষঙ্গের বাহক। ‘রোচি’ আলো বা দীপ্তির অনুষঙ্গ। এবং রুচিযোগ্যতার অনুষঙ্গ। অর্থাৎ, রাধার উন্মুক্ত স্তন কখনও অশালীন নয়। সব থেকে অব্যর্থ এবং তারল্যের ইঙ্গিতবাহী শব্দটা হল ‘উজোরি’, অর্থাৎ রাধার স্তনে আলোর জোয়ার।

→

জীবন নদীর কূলে কূলে

মাত্র ৫০ বছরের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র সেই বাণিজ্যকেন্দ্র, পথ সমস্ত গ্রাস করেছে। রাস্তাটির অর্ধেক ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে। এপারের অল্প কিছুটা তীরের জমি পার হয়েই যে স্কুল, তা যেন মাঠের মধ্যে পা ছড়িয়ে বসে থাকা এক অসহায় মা, সন্তানদের সংসারের ধ্বংস নিশ্চিত জেনেও যাঁর রক্ষা করার বা পালিয়ে যাওয়ার কোনও উপায় নেই।

→