

ঢেঁকির সঙ্গে শিবের গাজনের যোগ ছিল। কাঠের তৈরি বাণেশ্বরের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকার জন্য লোকে বলত ‘ঢেঁকি বাণেশ্বর’। উত্তর রাঢ়ের শিবগাজনে ভক্তদের সঙ্গে অনেকে মাথায় ঢেঁকি চাপিয়ে নাচতেন। আবার শিবতলায় গিয়ে কোনও ভক্তকে ঢেঁকির উপর বসিয়ে সাতপাক ঘোরাতেন।
শুরুর কলাভবনের অন্দরমহল। শান্তিনিকেতনে ক্লাসের সহজ অনাড়ম্বর অন্দরসজ্জা ছিল আশ্রমজীবনের সঙ্গে বেশ মানানসই। মার্কা দেওয়া আর্ট কলেজের মতো নয়, একেবারে সাদাসাপ্টা। ব্যবস্থাপনাও খানিক আলাদা।
দুই শিল্পী, যারা শুধু জানে সৃজনের আনন্দ। যে আনন্দের তুল্য কিছু নেই। কিন্তু সেই আনন্দের উৎসার অন্যায় ও পাপ থেকে। এবং তারা মরছেও সেই দু’টি অসুখে, যাকে সমাজ-সংসার বলে পাপের শাস্তি। পঙ্ক থেকেই জন্মাচ্ছে সৃষ্টির পদ্ম।
জ্যোতির্ময়ী দেবীর তিনটি বইয়ের জন্য তাঁর ছবি-সহ রচনা-সংকলনের জন্মশতবার্ষিকী সংস্করণের অগ্রিম গ্রাহক পেতে (বইপাড়ার চলতি ভাষায় এখন যাকে ‘প্রি-বুকিং’ বলে) আমরা একটি ফোল্ডার প্রকাশ করেছিলাম। তাঁর শততম জন্মদিনে ‘বর্তমান’ পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। তাতে বেশ সাড়াও পাওয়া গিয়েছিল।
প্রায় ২০ জন কবিতা পড়লেন। গল্প ও নাটকের অংশবিশেষও পড়া হল। সে সাহিত্যের অন্যতম বিষয় তখন মণিপুরে ঘটে চলা রক্তক্ষয়ী ঘটনা ও মৃত্যু। সন্ধে নামলে গুলিগালার শব্দ আর আধাসামরিক বাহিনীর ভারী গাড়ির সশব্দ যাতায়াত তখন মণিপুরের মানুষের নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা।
সতী-ভৈরবী ছিলেন মোটামুটি ফরসা, মুখমণ্ডল সবিশেষ গৌর। অথচ সেই মুহূর্তে তাঁর মুখখানা যেন গাঢ় মসীবর্ণ ধারণ করেছে। কপালে ও সিঁথিতে সিঁদুরের চিহ্ন যেন আরও বেশি জ্বলজ্বল করছে। এই সতী-ভৈরবীকে আমি এর আগে দেখিনি কখনও। কেমন যেন ভয়-ভয় করতে লাগল আমার।
মা খেতে খেতে একটা গল্প বলে। দেবী অন্নপূর্ণা। চলেছেন নদী ডিঙিয়ে। তাকে নিয়ে যাবে যে মাঝি, নাম তার ঈশ্বরী। সেই মাঝি বলেছিল দেবীকে, ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।’ সে ভাবে, নৌকায় দেবীর সঙ্গে দেখা হলে, দুধ-ভাত চাইবে না। কী চাইবে?
সাজ দেখানো, নটের দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়া, আবার ব্যাধের জীবিকা গ্রহণ করা ইত্যাদি একাধিক পেশার কথা জাতকে বলা হয়েছে। সাজ প্রদর্শন বা নটের দলে দণ্ডযুদ্ধ দেখানো বহুরূপী বৃত্তির পূর্বাভাস নিঃসন্দেহে। তা থেকে অনুমান করা যায় বহুরূপী সুপ্রাচীন লোকবৃত্তি ও লোককলা।
ডার্ক রং থেকে ক্রমশ আলো দিকে। অরুন্ধতী রায়চৌধুরীর ছবি আসলে উত্তরণের গল্প। যে ধোঁয়াশা, যে আত্মবিশ্বাস, যে অনিশ্চয়তা মানুষকে ঘিরে রাখে– তার বাইরে গিয়ে, সেই বন্ধনকে অস্বীকার করে, সে নিজের একক অস্তিত্বকে, তার মনুষ্যত্বের অন্তর্নিহিত সম্ভাবনাকে ঘোষণা করছে।
হকার, হকার, হকার। একজীবন, ট্রেনজীবন। কু ঝিকঝিক। বিক্রিবাট্টা। হাঁকডাক। চিরুনি, সেফটিফিন, ঝালমুড়ি, ছুরি, কলম। কলম থেকে লেখা। লেখা সীমান্ত ছিঁড়ে চলে যায়।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved