


তাহিতিতে কুষ্ঠ-আক্রান্ত শরীর যেন সর্বত্র। স্ট্রিকল্যান্ড জানে, তার আঙুল আর বেশিদিন আঁকতে পারবে না। তার আঙুল গলতে আরম্ভ করেছে। একটা চোখ সম্পূর্ণ গলে গেল। অন্যটাতেও ধরেছে গলন। তার নাক মুখ গলেছে। তার মাত্র কয়েকটি আঙুল ক্ষয়ে গিয়েও আছে। স্ট্রিকল্যান্ড তবুও সমস্ত শক্তি দিয়ে আঁকছে। স্ট্রিকল্যান্ড এবং গগ্যাঁ মমের উপন্যাসে ক্রমশ হয়ে ওঠে পরস্পরের আয়না। একজন আঁকতে আঁকতে গলে যাচ্ছে সিফিলিসে। অন্যজন একই কাজে গলে যাচ্ছে কুষ্ঠরোগে। দু’জনেই বিশুদ্ধ শিল্পী। সমাজ-সংসারে অযোগ্য। আদিম প্রকৃতির মতো সৃজনশীল, ভায়োলেন্ট, বিপজ্জনক।
৯৭.
তিনি আটপৌরে স্টকব্রোকার। বাস্তববাদী বেরসিক দালাল। বিন্দুমাত্র রস নেই জীবনে। কিংবা মনে। কিন্তু কষ যথেষ্ট। এবং ধূর্তামি। যেমন হয়, টিপিক্যাল স্টকব্রোকার। শেয়ার কেনাবেচার মার্কামারা দালাল। আপাতত এই দালালের কারবার তাঁর নিজের দেশে। দালালের কাজ মানে তো বেসিক্যালি ধান্দাবাজি। পল গগ্যাঁ সেই কাজটাই গুছিয়ে করেন। এবং শেয়ার বাজারে নাম করেছেন। প্যারিসের শেয়ার বাজারে তিনি দালালি করেন। নাম শুনেই তো বুঝেছেন, তিনি ফরাসি।
–বলেন কী দাদা? শেয়ার বাজারের দালালের নাম পল গগ্যাঁ? পল গগ্যাঁ বলতে তো সারা পৃথিবী একজনকেই জানে।
–কাকে?
–কাকে আবার! তিনি তো পৃথিবী জোড়া খ্যাতির উনিশ শতকের ফরাসি আর্টিস্ট।

–ওইটুকু বললে হবে না। বলতে হবে, পল ছিলেন সেই অনবদ্য শিল্পী, যিনি সমান মৌলিক তাঁর পোস্ট-ইমপ্রেশনিস্ট অঙ্কন, ভাস্কর্য এবং ছাপাচিত্রেও।
–আপনি কী বলতে চাইছেন? যে ব্যক্তি প্যারিসে এক সময়ে ছিলেন স্টকব্রোকার, তিনিই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিল্পীদের একজন?
–ছিল রুমাল। হয়ে গেল বেড়াল। আটপৌরে দালাল থেকে এনিগ্ম্যাটিক চিত্রশিল্পী। কখন যে কে কী হয়ে যেতে পারে, তার ঠিক নেই, শুধু এইটুকুই আমার বক্তব্য। না, আরও একটা বক্তব্য আছে। জীবনের থেকে অ্যাবসার্ড কিছু নেই। এবং জীবনের ইন্টারেস্টিং অ্যাবসার্ডিটির একটি নিদর্শন অবশ্যই পল গগ্যাঁ। ভেবে দেখুন, ১৮৪৮-এ জন্মালেন প্যারিসে। আগামী ৭ জুন তাঁর ১৭৮-তম জন্মদিন। কী আশ্চর্য, ১৯০৩ সালের ৮ মে, জন্মদিনের ঠিক একমাস আগে, ফরাসি পোলিনেশিয়ার মার্কেস দ্বীপপুঞ্জের আতুওনাতে, মারা গেলেন মাত্র ৫৫ বছর বয়েসে।

–কীসে মারা গেলেন? লিভারে সিরোসিস? নাকি লাংসে যক্ষ্মা? শিল্পী মানেই তো তাই!
–পল গগ্যাঁ মারা গেলেন, তাঁর শরীরটা আস্তে আস্তে পচে গলে গলে শেষ হয়ে গেল বলে। খুব ধীরে ধীরে মৃত্যু।
–কী হয়েছিল? কী অসুখ?
–বিতর্কিত বিষয়।
–মানে?
–সহজ মানে হল, দুটো অসুখের মধ্যে তার একটা হয়েছিল। হয় সিফিলিস, উপদংশ; নয় লেপ্রোসি, কুষ্ঠ। দুটো রোগেই শরীর একটু একটু করে পচে। একটু একটু করে অসাড় হয়। একটু একটু করে গলতে গলতে মিলিয়ে যায়।

–আপনার কী মনে হয়? এত কম বয়েসে গগ্যাঁ কোন অসুখে মারা গেলেন?
–আমার তো মনে হয়, এই অসামান্য শিল্পীর মৃত্যুর কারণ সিফিলিস। শার্ল বোদলেয়ারের মতো পল গগ্যাঁও মারা গিয়েছিলেন সিফিলিসে। তবে সমারসেট মম অন্যরকম ভেবেছেন।
–সমারসেট মম? তিনি লিখেছেন গগ্যাঁকে নিয়ে!
–হ্যাঁ এবং না।
–অদ্ভুত তো!

মমের বিখ্যাত উপন্যাস ‘দি মুন অ্যান্ড দি সিক্স পেন্স’ পড়া থাকলে সহজে বোঝা যেত, কেন উত্তরটা হ্যাঁ এবং না দুটোই। চাঁদ আমাদের থেকে নিত্যদিনের ক্ষুদ্র পরিসর, প্রাত্যহিক যাপন, ছোট ছোট স্বার্থ আর সমস্যা, তুচ্ছ ইচ্ছা ও সামান্য প্রাপ্তির থেকে অনেক দূরে। চাঁদের দিকে তাকিয়ে আমাদের মনে যে স্বপ্ন জাগে, অন্তত কারও কারও মনে: ‘কোন মাধুরীর কমলকানন দোলাও তুমি ঢেউয়ের পরে’। ‘সিক্স পেন্স’, অর্থাৎ দু’-পয়সার হিসেব, যা নিয়ে স্ট্রিকল্যান্ড এতকাল মধ্যবিত্ত ব্যাঙ্কার জীবন কাটাচ্ছে, তার সবটুকু হঠাৎ অর্থহীন হয়ে যায়। তার মধ্যে হঠাৎ জাগে এক নতুন তাড়না ও তোলপাড়: সে ছবি আঁকবে। যদিও তার গগ্যাঁর মতোই নেই ছবি আঁকার কোনও শিক্ষা, ট্রেনিং। কিন্তু ছবি যে তাকে আঁকতেই হবে। চাঁদের টানে যেমন জোয়ার আসে সাগরে, তেমনই ছবির টানে জোয়ার এসেছে তার মনে। এবার স্ট্রিকল্যান্ড দু’ পয়সার হিসেবের বাইরে এক অপার্থিব রোম্যান্টিক টানে ভেসে যায়। সে ছাড়ে চাকরি। মধ্যবিত্ত নিশ্চয়তা। সংসার। স্ত্রী। সন্তান। এদের দু’-পয়সার মূল্য নেই। সমাজ-সংসার মিছে সব, মিছে এ জীবনের কলরব, সে নিশ্চিত। সে নতুন জীবনে পা ফেলার আগে ছোট্ট চিঠিতে জানিয়ে যায়, ‘আমি কোনও দিন ফিরব না’। সে চলে যায় গগ্যাঁর শহরে। প্যারিসে। সেখানে এক সাধারণ শিল্পীর বাড়িতে আশ্রয় পায় সে। শুরু হয় তার অনিশ্চিত ছবিজীবন। কিন্তু হঠাৎ সে ভয়ংকর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এবং সেরেও ওঠে দয়ালু শিল্পীর দেখভালে। তারই স্ত্রীর মন ও শরীর সে ফুসলে নেয়। তারপর তাকে নিষ্ঠুরভাবে সে ত্যাগ করে। আত্মহত্যা করে শিল্পী-বন্ধুর স্ত্রী। স্ট্রিকল্যান্ডের মনে নেই কোনও শোচনা। সে বিশুদ্ধ শিল্পী। তার আবার মনে হয়, অজানা সুদূর তাকে ডাকছে। জীবন এবং সৃজন অন্য কোথাও। গগ্যাঁর মতো সে-ও যায় তাহিতিতে। সেখানে অ্যাটার সঙ্গে দেখা হয় তার। এই তো সেই মেয়ে, যাকে সে চায়। সেই হয়ে ওঠে তার সৃজনের প্রাণন। অ্যাটাকে বিয়ে করে স্ট্রিকল্যান্ড। এবং বিপুল প্রাবল্যে সে আঁকতে থাকে। পাগলপারা। একের পর এক মাস্টারপিস। সে ক্রমশ হয়ে ওঠে আদিম প্রকৃতির মতো। নিঃসঙ্গ সৃজনের সমারোহে মত্ত। সে চায় না কোনও তারিফ। যাচনা করেন শংসা। চায় শুধু সৃষ্টির নিবিড় অথচ মত্ত আনন্দ।

কুষ্ঠ ছড়িয়ে পড়ে তার শরীরে। তাহিতিতে কুষ্ঠ-আক্রান্ত শরীর যেন সর্বত্র। স্ট্রিকল্যান্ড জানে, তার আঙুল আর বেশিদিন আঁকতে পারবে না। তখন সে তার বাড়ির দেওয়ালকে করে তোলে তার ক্যানভাস। তার আঙুল গলতে আরম্ভ করেছে। একটা চোখ সম্পূর্ণ গলে গেল। অন্যটাতেও ধরেছে গলন। তার নাক মুখ গলেছে। তার মাত্র কয়েকটি আঙুল ক্ষয়ে গিয়েও আছে। স্ট্রিকল্যান্ড তবুও সমস্ত শক্তি দিয়ে আঁকছে।
স্ট্রিকল্যান্ড এবং গগ্যাঁ মমের উপন্যাসে ক্রমশ হয়ে ওঠে পরস্পরের আয়না। একজন আঁকতে আঁকতে গলে যাচ্ছে সিফিলিসে। অন্যজন একই কাজে গলে যাচ্ছে কুষ্ঠরোগে। দু’জনেই বিশুদ্ধ শিল্পী। সমাজ-সংসারে অযোগ্য। আদিম প্রকৃতির মতো সৃজনশীল, ভায়োলেন্ট, বিপজ্জনক। সব শেষে সমারসেট মমের ভাষায় এই অবিস্মরণীয় উদ্ধৃতি:
He is blind from leprosy, dying, and paints with furious urgency. It was as though he has attained the vision that has alluded him all his life.

‘দি মুন অ্যান্ড দি সিক্স পেন্স’ আমাদের নিয়ে যায় সেই স্বর্গে যে স্বর্গ নির্ভয়ে আলিঙ্গন করছে নরককে। জড়িয়ে ধরছে পাপকে। নিশ্চিহ্ন করছে পাপ-পুণ্যের ভেদরেখা। আর বলছে, দেখো দুই শিল্পীকে যারা শুধু জানে সৃজনের আনন্দ। যে আনন্দের তুল্য কিছু নেই। কিন্তু সেই আনন্দের উৎসার অন্যায় ও পাপ থেকে। এবং তারা মরছেও সেই দু’টি অসুখে, যাকে সমাজ-সংসার বলে পাপের শাস্তি। পঙ্ক থেকেই জন্মাচ্ছে সৃষ্টির পদ্ম। যেমন শার্ল বোদলেয়ারের পাপের ফসল ‘পাকের ফুল’। বোদলেয়ারও নষ্ট নারীকে ভালোবেসে মারা গিয়েছিলেন সিফিলিসে। আয়নায় চিনতে পারতেন না নিজেকে। মা’র কোলে মাথা রেখে ভাবতেন, এ কোন নারী, আমাকে এত ভালোবাসে! তবু তিনি আধুনিক কবিতার প্রথম দেবতা।
…………………….. পড়ুন কাঠখোদাই-এর অন্যান্য পর্ব ……………………
পর্ব ৯৬: বন্ধুত্বের আবেশে ভালোবাসার গল্প
পর্ব ৯৫: একঘেয়েমি যখন মগ্নজীবনের ডুবসাঁতার
পর্ব ৯৪: অমৃতা চেয়েছিলেন, তাঁর পরিচয় তাঁর শরীরকে পেরিয়ে যাক
পর্ব ৯৩: নষ্ট নেগেটিভ ফেলতেন না, ব্যর্থতাও সঙ্গে থাক
পর্ব ৯২: টেবিলই মধুসূদনের নেমেসিস, আত্মদহনের আয়না
পর্ব ৯১: সমর্পণ নয়, ব্যাড গার্লের প্রতিস্পর্ধা
পর্ব ৮৯: রঙে রসে অফুরান রবি বর্মার তুলির টান
পর্ব ৮৮: ন্যুড মডেলই মাতিসের ভাবনার টেবিল
পর্ব ৮৭: চণ্ডীমঙ্গল না পড়লে সে কীসের বাঙালি!
পর্ব ৮৬: সাধারণের জীবন রাজনীতির বিষয়, শিখিয়েছে মনুর সংহিতা
পর্ব ৮৫: চিঠির মোড়কে নষ্ট প্রেমের গোপন অভিসার
পর্ব ৮৪: চা নয়, চায়ের বই যখন প্রেমের অনুঘটক
পর্ব ৮৩: আধ্যাত্মিক বিরহ দিয়ে গড়া প্রেমের মহাকাব্য
পর্ব ৮২: এক মৃত্যুহীন ক্লাসিক কিংবা যৌনতার সহজপাঠ
পর্ব ৮১: দেশহীন, ভাষাহীন ঝুম্পা
পর্ব ৮০: সাহসী প্রেমের চিঠি লেখা শিখিয়েছিল যে বাঙালি যুগল
পর্ব ৭৯: সুরানিলয়ের টেবিল থেকেই জন্ম নিয়েছিল উপন্যাসের ভাবনা
পর্ব ৭৮: একবিন্দু আত্মকরুণা নেই অঞ্জনের আত্মজীবনীতে
পর্ব ৭৭: অ্যানির ‘দ্য ইয়ার্স’ শেখায় অন্তহীন ইরোটিসিজম-ই জীবনের পরমপ্রাপ্তি
পর্ব ৭৬: জয় গোস্বামীর সাজেশনে মুগ্ধতা জাগাল ‘সিম্পল প্যাশন’
পর্ব ৭৫: যে নারীর শেষপাতা পর্যন্ত পৌঁছতে পারেননি লেখক
পর্ব ৭৪: সেই তরুণীর জন্য বেঁচে আছে বোকা মনকেমন!
পর্ব ৭৩: কাফকার ভয়-ধরানো প্রেমপত্র!
পর্ব ৭২: থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা, কলকাতা বইমেলায় শ্রেষ্ঠাংশে তবে রবীন্দ্র-ওকাম্পো?
পর্ব ৭১: একশো বছরের নৈরাজ্য ও একটি লেখার টেবিল
পর্ব ৭০: আত্মজীবনী নয়, মার্গারেটের ব্রতভ্রষ্ট স্মৃতিকথা
পর্ব ৬৯: রুশদির ‘দ্য ইলেভেনথ আওয়ার’ শেষ প্রহরের, অনিবার্য অন্তিমের দ্যোতক
পর্ব ৬৮: মাংসও টেবিলের কাছে ঋণী
পর্ব ৬৭: ভ্রমণ-সাহিত্যকে লাজলো নিয়ে গেছেন নতুন পারমিতায়
পর্ব ৬৬: নরম পায়রার জন্ম
পর্ব ৬৫: যে বইয়ের যে কোনও পাতাই প্রথম পাতা
পর্ব ৬৪: খেলা শেষ করার জন্য শেষ শব্দ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন জেফ্রি আর্চার
পর্ব ৬৩: সহজ ভাষার ম্যাজিক ও অবিকল্প মুরাকামি
পর্ব ৬২: জীবন তিক্ত এবং আশা করা ভুল, এই দর্শনই বিশ্বাস করেন ক্রাজনাহরকাই
পর্ব ৬১: লন্ডনে ফিরে এলেন অস্কার ওয়াইল্ড!
পর্ব ৬০: পাপ ও পুণ্যের যৌথ মাস্টারপিস
পর্ব ৫৯: মাতৃভক্তির দেশে, মাকে ছেড়ে যাওয়ার আত্মকথন
পর্ব ৫৮: চিঠিহীন এই যুগের শ্রেষ্ঠ প্রণয়লিপি
পর্ব ৫৭: লেখার টেবিল কি জানে, কবিতা কার দান– শয়তান না ঈশ্বরের?
পর্ব ৫৬: প্রেমের নিশ্চিত বধ্যভূমি বিয়ে, বার্ট্রান্ড রাসেলের লেখার টেবিল জানে সেই নির্মম সত্য
পর্ব ৫৫: জুলিয়া রবার্টসকে হিন্দুধর্মে দীক্ষা দিয়েছিল একটি বই, একটি সিনেমা
পর্ব ৫৪: আপনার লেখার টেবিল নেই কেন মানিকদা?
পর্ব ৫৩: পুরুষরা যে কতদূর অপদার্থ, ড্রেসিং টেবিলের দেখানো পথে মেয়েরা প্রমাণ করে দেবে
পর্ব ৫২: একটাও অরিজিনাল গল্প লেখেননি শেক্সপিয়র!
পর্ব ৫১: প্রমথ-ইন্দিরার মতো প্রেমের চিঠি-চালাচালি কি আজও হয়?
পর্ব ৫০: হাজার হাজার বছর আগের পুরুষের ভিক্ষা এখনও থামেনি
পর্ব ৪৯: কুকথার রাজনীতিতে অমরত্বের স্বাদ পেয়েছেন জর্জ অরওয়েল
পর্ব ৪৮: টেবিলই ওকাম্পোর স্মৃতি, আত্মজীবনীর ছেঁড়া আদর
পর্ব ৪৭: শেষ বলে কিছু কি থাকতে পারে যদি না থাকে শুরু?
পর্ব ৪৬: যে টেবিলে দেবদূত আসে না, আসে শিল্পের অপূর্ব শয়তান
পর্ব ৪৫: ফ্রেডরিক ফোরসাইথকে ফকির থেকে রাজা করেছিল অপরাধের পৃথিবী
পর্ব ৪৪: আম-বাঙালি যেভাবে আমকে বোঝে, দুই আমেরিকান লেখিকা সেভাবেই বুঝতে চেয়েছেন
পর্ব ৪৩: দু’পায়ে দু’রকম জুতো পরে মা দৌড়ে বেরিয়ে গেল, ইবতিসম্-এর উপন্যাসের শুরু এমনই আকস্মিক
পর্ব ৪২: অন্ধকার ভারতে যে সিঁড়িটেবিলের সান্নিধ্যে রামমোহন রায় মুক্তিসূর্য দেখেছিলেন
পর্ব ৪১: বানু মুশতাকের টেবিল ল্যাম্পটির আলো পড়েছে মুসলমান মেয়েদের একাকিত্বের হৃদয়ে
পর্ব ৪০: গোয়েটের ভালোবাসার চিঠিই বাড়িয়ে দিয়েছিল ইউরোপের সুইসাইড প্রবণতা
পর্ব ৩৯: লেখার টেবিল বাঙালির লাজ ভেঙে পর্নোগ্রাফিও লিখিয়েছে
পর্ব ৩৮: বঙ্গীয় সমাজে বোভেয়ার ‘সেকেন্ড সেক্স’-এর ভাবনার বিচ্ছুরণ কতটুকু?
পর্ব ৩৭: ভক্তদের স্তাবকতাই পাশ্চাত্যে রবীন্দ্র-কীর্তি স্থায়ী হতে দেয়নি, মনে করতেন নীরদচন্দ্র চৌধুরী
পর্ব ৩৬: একাকিত্বের নিঃসঙ্গ জলসাঘরে মারিও ভার্গাস লোসা যেন ছবি বিশ্বাস!
পর্ব ৩৫: জীবনের বাইশ গজে যে নারী শচীনের পরম প্রাপ্তি
পর্ব ৩৪: যা যা লেখোনি আত্মজীবনীতেও, এইবার লেখো, রাস্কিন বন্ডকে বলেছিল লেখার টেবিল
পর্ব ৩৩: ফিওনার সেই লেখার টেবিল মুছে দিয়েছিল মেয়েদের যৌনতা উপভোগের লজ্জারেখা
পর্ব ৩২: বাঙালি নয়, আন্তর্জাতিক বাঙালির সংজ্ঞায় স্পিভাক এসে পড়বেনই
পর্ব ৩১: প্রতিভাপাগল একটি বই, যাকে দিনলিপি বলে সামান্য করব না
পর্ব ৩০: পতিতালয়ের সেই লেখার টেবিল জাগিয়ে তুলেছিল ইসাবেলের হৃদয়-চেতনা
পর্ব ২৯: পাথরে প্রাণ আনে যে টেবিলের স্পর্শ
পর্ব ২৮: নিজের টেবিলকে কটাক্ষ করি, কেন অ্যানে মাইকেলসের মতো লিখতে পারি না?
পর্ব ২৭: নারীর রাগ-মোচনের কৌশল জানে মিলান কুন্দেরার লেখার টেবিল!
পর্ব ২৬: ভালোবাসা প্রকাশের সমস্ত শব্দ পেরিয়ে গিয়েছিল এলিয়টের লেখার টেবিল
পর্ব ২৫: যে টেবিলে জন্ম নেয় নগ্নতা আর যৌনতার নতুন আলো
পর্ব ২৪: প্রেমের কবিতার ভূত জন ডানকে ধরেছিল তাঁর উন্মাদ টেবিলে, মোমবাতির আলোয়
পর্ব ২৩: যে টেবিল আসলে বৈদগ্ধ আর অশ্লীলতার আব্রুহীন আঁতুড়ঘর!
পর্ব ২২: মহাবিশ্বের রহস্য নেমে এসেছিল যে টেবিলে
পর্ব ২১: গাছ আমাদের পূর্বপুরুষ, লেখার টেবিল বলেছিল হোসে সারামাগোকে
পর্ব ২০: টেবিলের কথায় নিজের ‘হত্যার মঞ্চে’ ফিরেছিলেন সলমন রুশদি
পর্ব ১৯: প্রতিভা প্রশ্রয় দেয় অপরাধকে, দস্তয়েভস্কিকে শেখায় তাঁর লেখার টেবিল
পর্ব ১৮: বিবেকানন্দের মনের কথা বুঝতে পারে যে টেবিল
পর্ব ১৭: ‘গীতাঞ্জলি’ হয়ে উঠুক উভপ্রার্থনা ও উভকামনার গান, অঁদ্রে জিদকে বলেছিল তাঁর টেবিল
পর্ব ১৬: যে লেখার টেবিল ম্যাকিয়াভেলিকে নিয়ে গেছে শয়তানির অতল গভীরে
পর্ব ১৫: যে অপরাধবোধ লেখার টেবিলে টেনে এনেছিল শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে
পর্ব ১৪: লেখার টেবিল গিলে নিচ্ছে ভার্জিনিয়া উলফের লেখা ও ভাবনা, বাঁচার একমাত্র উপায় আত্মহত্যা
পর্ব ১৩: হ্যামনেট ‘হ্যামলেট’ হয়ে বেঁচে থাকবে অনন্তকাল, জানে সেই লেখার টেবিল
পর্ব ১২: রবীন্দ্রনাথের লেখার টেবিল চিনতে চায় না তাঁর আঁকার টেবিলকে
পর্ব ১১: আর কোনও কাঠের টেবিলের গায়ে ফুটে উঠেছে কি এমন মৃত্যুর ছবি?
পর্ব ১০: অন্ধ বিনোদবিহারীর জীবনে টেবিলের দান অন্ধকারের নতুন রূপ ও বন্ধুত্ব
পর্ব ৯: বুড়ো টেবিল কিয়ের্কেগার্দকে দিয়েছিল নারীর মন জয়ের চাবিকাঠি
পর্ব ৮: অন্ধকারই হয়ে উঠলো মিল্টনের লেখার টেবিল
পর্ব ৭: কুন্দেরার টেবিলে বসে কুন্দেরাকে চিঠি
পর্ব ৬: মানব-মানবীর যৌন সম্পর্কের দাগ লেগে রয়েছে কুন্দেরার লেখার টেবিলে
পর্ব ৫: বিয়ের ও আত্মহত্যার চিঠি– রবীন্দ্রনাথকে যা দান করেছিল লেখার টেবিল
পর্ব ৪: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের টেবিল আর তারাপদ রায়ের খাট, দুই-ই ছিল থইথই বইভরা
পর্ব ৩: টেবিলের গায়ে খোদাই-করা এক মৃত্যুহীন প্রেমের কবিতা
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved