amrita sher-gil and depiction of women in her painting | Robbar
Robbar
  • ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬

অমৃতা চেয়েছিলেন, তাঁর পরিচয় তাঁর শরীরকে পেরিয়ে যাক

‘আ গ্রুপ অফ ইয়ং গার্লস’। ছবিটা দেখলেই চোখে পড়ে অন্তর্নিহিত বিরোধাভাস। তিনটি মেয়ে একসঙ্গে আছে ঠিকই। কিন্তু তারা প্রত্যেকেই একা। এবং একাকিত্বেও তারা পৃথক। তাদের নিঃসঙ্গতার পার্থক্য বোঝা যায় তাদের চোখের দিকে তাকালে। প্রত্যেকের দৃষ্টিই বিমর্ষ। কিন্তু তিন কন্যার দৃষ্টির ম্লানতায় অমৃতা নিয়ে এসেছেন আভাসের তফাত। বলা যেতে পারে, অমৃতা তিন মেয়ের চোখে ফুটিয়ে তুলেছেন বেদনার তিনটি শেড। এবং নিজের নিজের বেদনার রঙে তারা আলাদা এবং একা।

Published by: Robbar Digital

Posted:May 11, 2026 5:51 pm | Updated:June 8, 2026 5:28 pm  
Facebook WhatsApp Messenger

৯৩.

অমৃতা। অমৃতা শেরগিল। প্রেমে পড়েছেন। নিজের প্রেমে। ভরা যৌবন তাঁর। কিন্তু তিনি জানেন না তাঁর সঠিক পরিচয়। কোনও কোনও পুরুষ তাঁকে বলেছে, তাঁর প্রথম ও শেষ পরিচয়– তিনি সুন্দরী। তাঁর শুনতে ভালো লেগেছে এই ইঙ্গিত ও ইশারা। কিন্তু অমৃতা চান, তাঁর পরিচয় পেরিয়ে যাক তাঁর শরীর। কিন্তু পথ আগলে আরও এক সমস্যা। তাঁর শরীরের কতটা ইউরোপের, কতটা ভারতের? আর তাঁর মন, সেটাই বা কতখানি ভারতের, কতখানি ইউরোপের? এইসব জটিল প্রশ্ন কি আজীবন জড়িয়ে থাকবে তাঁর জীবনে? অমৃতা শুধু জানেন না একটি নিয়তি-নির্ধারিত অমোঘ সত্য। তিনি বেশিদিন বাঁচবেন না। মারা যাবেন মাত্র ২৮ বছর বয়েসে। এবং সেই মৃত্যুর রহস্য জড়িয়ে থাকবে অমৃতার শরীরের তীব্র তৃষ্ণা এবং বেপরোয়া তৃপ্তির সঙ্গে। শুধু একের পর এক পুরুষকে দিয়েছেন তাঁর শরীরের দান, তা তো নয়। অমৃতা নারীকেও ডেকেছেন তাঁর শরীরে। অমৃতা যখনই হাতে নিয়েছেন তুলি, দাঁড়িয়েছেন তাঁর আঁকার ইজেলের সামনে, তাঁর সমস্ত শরীর জুড়ে দেখা দিয়েছে ইচ্ছে। শিরায় শিরায় জাগ্রত হয়েছে শরীর। তাঁর শেষ ছবি, যে ছবিকে অসমাপ্ত রেখে চলে গিয়েছেন ২৮ বছরের অমৃতা, সেটি এক জাগ্রত ষাঁড়ের ছবি। নিচে এক নগ্ন নারী। অনেকেই মনে করেন, ওই নারী অমৃতা নিজে। শেষের দিকে তিনি পরপর সেলফ পোর্ট্রেটই আঁকছিলেন।

zoom
অমৃতা শেরগিল

কথায় কথায় অনেক দূর চলে এসেছি আসল কথাটা না বলে। আসল কথাটা বেশ ইম্পর্ট্যান্ট: অমৃতা হাফ ইউরোপিয়ান, হাফ ইন্ডিয়ান। তার মা হাঙ্গেরিয়ান: মারি আন্তনিয়েত গোতেসমান। বাবা ভারতীয়: উমরাও সিং শেরগিল। অমৃতার জন্ম ১৯১৩-র ৩০ জানুয়ারি, বুদাপেস্টে। আর রং-তুলি-ইজেলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয় প্যারিসে। কিশোরী অমৃতা বড় হয় হাঙ্গেরিতে ও প্যারিসে। তার যৌনজীবনও বড় হয় ইউরোপের শিল্পী সমাজের মুক্ত পরিসরে। অমৃতার শরীর ও মনন আরাম পায় পোস্ট-ইমপ্রেশনিস্ট প্যারিসের ক্যাফে ও পানশালায়। অমৃতার আঁকার রং তুলি ক্যানভাস ইজেল তাঁকে একসঙ্গে বলে, নিদ্রায় জাগরণে রাতের স্বপ্নে দিনের খোয়াবে, অমৃতা তোমার গুরু মাতিস, তোমার গুরু গগ্যাঁ। আরও একটা কথা, সেটাও কম গুরুত্বের নয়। রং-তুলি নিয়ে ক্যানভাস আর ইজেলের সামনে দাঁড়ালেই একটি আশ্চর্য আদেশ শুনতে পান অমৃতা: তোমার বুকের মধ্যে একা জায়গাটা, ফাঁকা জায়গাটা, নিবিড় জায়গাটা আঁকো, যে জায়গাটা শুধু তোমার, কেউ নেই যেখানে, সেই জায়গাটা আঁকো তোমার ছবিতে। যারা তোমার শরীরে আসে, শরীরেই শেষ হয় অমৃতা। কিন্তু তোমার আরও একটা ভেতর আছে। আছে তোমার আরও একটা গুহা। দুঃখের ব্ল্যাকহোল। যেখানে কেউ প্রবেশ করবে না কোনওদিন। লজ্জা না করে, সব আড়াল সরিয়ে, আঁকো সেই নিবিড় গোপন গর্তের ছবি। আঁকো তোমার ছবি। কিন্তু অমৃতা সেই ছবি আঁকতে তোমাকে যেতে হবে ভারতে। ইন্ডিয়া যা তোমাকে দেবে, ইউরোপ দেবে না। এই কথা বলে অমৃতার আঁকার ইজেল। অমৃতা বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকেন ইজেলের পানে। তারপর সাদা ক্যানভাসের বুকের ওপর জ্বলন্ত লাল রঙে লেখেন, পিকাসো আর মাতিস যতখানি ইউরোপের আমি ততটাই ভারতের। কিন্তু ভারত তো খুব গরিব দেশ। সেখানে কোথায় পাব আমার আঁকার থিম? মুহূর্তে উত্তর দেয় অমৃতার ইজেল: তোমার বিষয় হবে ভারতের দারিদ্র, দারিদ্রের হতাশা, আর হতাশার অপেক্ষা, কল্পিত সুদিনের জন্য, অবাস্তব ভবিষ্যতের জন্য। অমৃতা ডায়েরিতে লেখেন, প্যারিসে লেখা তাঁর শেষ লাইন: বিদায় প্যারিসের বুর্জোয়া সমাজ। স্বাগত ভারতের গরিবি সততা।

zoom
গ্রুপ অফ থ্রি গার্লস, অমৃতা শেরগিল

১৯৩৪ সাল। অমৃতা একুশে পা। তিনি এলেন ভারতে। নিজের শিকড় খুঁজতে। সৃজনের জন্য যা একান্ত প্রয়োজন। প্রথমেই বুঝলেন, রং-তুলি-ক্যানভাসের ব্যবহারে আনতে হবে আমূল পরিবর্তন। তাঁকে হতে হবে সেই শিল্পী, যে আনবে নতুন দেখার দেখা। ভারতের দারিদ্রকে তিনি দেখলেন সমবেদনায়, মায়ায়, একাত্মতায়, দার্শনিক প্রমায়, শৈল্পিক বীক্ষায়। এবং তিনি আঁকলেন তিনটি সাধারণ গরিব গ্রামীণ তরুণীর ছবি। ছবির নাম, ‘আ গ্রুপ অফ ইয়ং গার্লস’। ছবিটা দেখলেই চোখে পড়ে অন্তর্নিহিত বিরোধাভাস। তিনটি মেয়ে একসঙ্গে আছে ঠিকই। কিন্তু তারা প্রত্যেকেই একা। এবং একাকিত্বেও তারা পৃথক। তাদের নিঃসঙ্গতার পার্থক্য বোঝা যায় তাদের চোখের দিকে তাকালে। প্রত্যেকের দৃষ্টিই বিমর্ষ। কিন্তু তিন কন্যার দৃষ্টির ম্লানতায় অমৃতা নিয়ে এসেছেন আভাসের তফাত। বলা যেতে পারে, অমৃতা তিন মেয়ের চোখে ফুটিয়ে তুলেছেন বেদনার তিনটি শেড। এবং নিজের নিজের বেদনার রঙে তারা আলাদা এবং একা। এই ছবিকে ১৯৩৭ সালে বোম্বের আর্ট সোসাইটি সোনার পদক দিল। এবং প্রায় রাতারাতি বিখ্যাত হলেন অমৃতা। এবং এর পর জীবনের সবচেয়ে ভুল কাজটি করে ফেললেন তিনি। অমৃতা বিয়ে করলেন এক হাঙ্গেরিয়ান চিকিৎসক ভিক্টর ইগানকে। অমৃতার ফরাসি মা তাঁর মেয়ের স্বভাব এবং প্রবণতা জানতেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, একই সম্পর্কে নিষ্ঠ থাকা তাঁর বহুগামী কন্যার পক্ষে সম্ভব নয়। সে সংসার করার জন্য জন্মায়নি। জন্মেছে শিল্পী হওয়ার জন্য। এই সরল সত্য ভিক্টরের মতো মধ্যবিত্ত মনের হাঙ্গেরিয়ান পুরুষ বুঝবে না। এবং বিপর্যয় ডেকে আনবে অমৃতার জীবনে। তিনি এই বিয়ের পথে যতদূর সম্ভব বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু অমৃতার জেদ তাতে আরও বেড়ে গেল। এবং অমৃতার নিয়তি জিতল। বিয়েটা হল ওই ডাক্তারের সঙ্গেই।

zoom
অমৃতা ও ভিক্টর

বিয়ের পরে অমৃতার প্রেমজীবন আরও স্বাধীন এবং মুক্ত হয়ে উঠল। এবং দিন দিন বাড়তে লাগল অমৃতার খ্যাতি ও অর্থ। তাঁর ছবি তুলল আন্তর্জাতিক আলোড়ন। ভারতের বাজার, মেলা, গ্রাম, সমাজ, সংসার, জীবন, দারিদ্র, হতাশা, বেদনা, নানা ছবিতে অসামান্য মননে, বিন্যাসে, মৌলিকতায় ফুটিয়ে তুলতে লাগলেন অমৃতা তাঁর তুলির টানে, তাঁর রঙের ব্যবহারে, তাঁর ছবির বিষয়ে। হঠাৎ এক রাত্রে অমৃতা স্পষ্ট শুনতে পেল, আঁকার ইজেল বলছে– Amrita, meditate on otherness, address your multiple identities and visit the caves of Ajanta and Ellora. And look at your self and make yourself, not the object but the living subject of your paintings.

zoom
ভিলেজার্স গোইং টু মার্কেট, অমৃতা শেরগিল

ইজেলের উপদেশ, কিংবা আদেশ বলাই ভালো, মাথা পেতে নিল অমৃতা। অজন্তা-ইলোরার গুহামূর্তি আর শিল্পকর্ম নতুন চোখে অমৃতাকে দেখতে শেখাল নারী-পুরুষের সম্পর্ক, তাঁর যৌনদর্শনে যুক্ত করল নতুন মাত্রা ও সাহস। অমৃতা এই প্রথম যেন আবিষ্কার করলেন নগ্নতায় নতুন প্রকাশ, সৌন্দর্য, আবেদন। এবার তিনি ঠিক করলেন, তিনি নিজের ছবি আঁকবেন। সম্পূর্ণ নগ্ন ছবি। একটা সুতোও থাকবে না তাঁর অঙ্গে। কোনও আড়াল নয় আর তাঁর নিজের ন্যুড ছবিতে। সবার সামনে তুলে ধরবেন তিনি তাঁর নগ্নতার শিল্পিত রূপ।

বারোটার বেশি নগ্ন ছবি আঁকলেন তিনি। নানা দিক থেকে তাঁর স্তন, নিতম্ব, উরু, নাভি, তলপেটের উপত্যকা, বিভাজিকার নিবিড়তা, আর আঁকলেন তাঁর চোখ ও ঠোঁটের ভাষা, উচ্চারণ। এবং ঠিক হল একটা প্রদর্শনী হবে এইসব ছবির। ভক্ত পুরুষের অভাব নেই অমৃতার জীবনে। এদের অনেকেই বিপুল ধনী মানুষ। অমৃতার ন্যুড পোর্ট্রেট কিনতে তারা আগ্রহী। ইতিমধ্যে অবিশ্যি অমৃতা শুধু ভারতীয় আর্টেই ঘটাননি বিপ্লব। ভারতীয় নারীর সেক্স লাইফেও এনেছেন নতুন সাহস ও স্বাধীনতা।

হঠাৎ এক কাণ্ড ঘটল। অকস্মাৎ অসুস্থ অমৃতা। সম্ভবত তাঁর ভ্রূণমোচন করতে হয়েছে। কথাটা পাঁচকান হোক, চান না ডাক্তার স্বামী। তাই এই সামান্য কাজ তিনি নিজেই করেছেন। কিন্তু ক’দিনের মধ্যেই অমৃতা কোমায়। মারা গেলেন ১৯৪১-এর ডিসেম্বরে। লাহোরে। লাহোর তখন ভারতের অঙ্গ। অমৃতার বয়স ২৮।

zoom
আত্মপ্রতিকৃতি ১৯৩১, অমৃতা শেরগিল

অমৃতার মৃত্যুসংবাদ এই ভাষাতেও ছাপা হয়েছিল:

The murder of Amrita Shergil in Lahore. A jealous husband poisons a nymphomaniac. She had excessive sexual appetite and she quenched it with affairs with many people.

অমৃতা কেন ২৮ বছর বয়েসে হঠাৎ মারা গেলেন, এই রহস্যের উত্তর আজও মেলেনি। কিন্তু অমৃতাকে হত্যা করা হয়েছিল, এমন প্রমাণ নেই।

zoom
আত্মপ্রতিকৃতি, অমৃতা শেরগিল

অমৃতা শেরগিলের ছবির দাম ক্রমশ বেড়েছে। ২০০৬ সালে দিল্লিতে তাঁর একটি ছবি বিক্রি হয়েছে ৬ কোটি ৯ লক্ষ টাকায়। অমৃতার সব ছবি এখন ভারতের জাতীয় সম্পদ। ভারতের বাইরে বিক্রি করা যায় না। সালমান রুশদি তাঁর Moore’s Last Sigh উপন্যাসে অরোরা নামে যে চরিত্রটি সৃষ্টি করেছেন, তার মধ্যে ধরা আছে অমৃতার অনেকটাই, সৃজনের তাড়নায়, শরীরের তৃষ্ণায়। অরোরা আমার প্রিয় নারী চরিত্রের একটি তো বটেই। নষ্ট নারীর স্বাদই আলাদা। বিশেষ করে সেই নারীর মধ্যে যদি থাকে মন ও মননের ঝলক।

…………………….. পড়ুন কাঠখোদাই-এর অন্যান্য পর্ব  ……………………

পর্ব ৯২: নষ্ট নেগেটিভ ফেলতেন না, ব্যর্থতাও সঙ্গে থাক

পর্ব ৯১: টেবিলই মধুসূদনের নেমেসিস, আত্মদহনের আয়না

পর্ব ৯০: সমর্পণ নয়, ব্যাড গার্লের প্রতিস্পর্ধা

পর্ব ৮৯: রঙে রসে অফুরান রবি বর্মার তুলির টান

পর্ব ৮৮: ন্যুড মডেলই মাতিসের ভাবনার টেবিল

পর্ব ৮৭: চণ্ডীমঙ্গল না পড়লে সে কীসের বাঙালি!

পর্ব ৮৬: সাধারণের জীবন রাজনীতির বিষয়, শিখিয়েছে মনুর সংহিতা

পর্ব ৮৫: চিঠির মোড়কে নষ্ট প্রেমের গোপন অভিসার

পর্ব ৮৪: চা নয়, চায়ের বই যখন প্রেমের অনুঘটক

পর্ব ৮৩: আধ্যাত্মিক বিরহ দিয়ে গড়া প্রেমের মহাকাব্য

পর্ব ৮২: এক মৃত্যুহীন ক্লাসিক কিংবা যৌনতার সহজপাঠ

পর্ব ৮১: দেশহীন, ভাষাহীন ঝুম্পা

পর্ব ৮০: সাহসী প্রেমের চিঠি লেখা শিখিয়েছিল যে বাঙালি যুগল

পর্ব ৭৯: সুরানিলয়ের টেবিল থেকেই জন্ম নিয়েছিল উপন্যাসের ভাবনা

পর্ব ৭৮: একবিন্দু আত্মকরুণা নেই অঞ্জনের আত্মজীবনীতে

পর্ব ৭৭: অ্যানির ‘দ্য ইয়ার্স’ শেখায় অন্তহীন ইরোটিসিজম-ই জীবনের পরমপ্রাপ্তি

পর্ব ৭৬: জয় গোস্বামীর সাজেশনে মুগ্ধতা জাগাল ‘সিম্পল প্যাশন’

পর্ব ৭৫: যে নারীর শেষপাতা পর্যন্ত পৌঁছতে পারেননি লেখক

পর্ব ৭৪: সেই তরুণীর জন্য বেঁচে আছে বোকা মনকেমন!

পর্ব ৭৩: কাফকার ভয়-ধরানো প্রেমপত্র!

পর্ব ৭২: থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা, কলকাতা বইমেলায় শ্রেষ্ঠাংশে তবে রবীন্দ্র-ওকাম্পো?

পর্ব ৭১: একশো বছরের নৈরাজ্য ও একটি লেখার টেবিল

পর্ব ৭০: আত্মজীবনী নয়, মার্গারেটের ব্রতভ্রষ্ট স্মৃতিকথা

পর্ব ৬৯: রুশদির ‘দ্য ইলেভেনথ আওয়ার’ শেষ প্রহরের, অনিবার্য অন্তিমের দ্যোতক

পর্ব ৬৮: মাংসও টেবিলের কাছে ঋণী

পর্ব ৬৭: ভ্রমণ-সাহিত্যকে লাজলো নিয়ে গেছেন নতুন পারমিতায়

পর্ব ৬৬: নরম পায়রার জন্ম

পর্ব ৬৫: যে বইয়ের যে কোনও পাতাই প্রথম পাতা  

পর্ব ৬৪: খেলা শেষ করার জন্য শেষ শব্দ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন জেফ্রি আর্চার

পর্ব ৬৩: সহজ ভাষার ম্যাজিক ও অবিকল্প মুরাকামি

পর্ব ৬২: জীবন তিক্ত এবং আশা করা ভুল, এই দর্শনই বিশ্বাস করেন ক্রাজনাহরকাই

পর্ব ৬১: লন্ডনে ফিরে এলেন অস্কার ওয়াইল্ড!

পর্ব ৬০: পাপ ও পুণ্যের যৌথ মাস্টারপিস

পর্ব ৫৯: মাতৃভক্তির দেশে, মাকে ছেড়ে যাওয়ার আত্মকথন

পর্ব ৫৮: চিঠিহীন এই যুগের শ্রেষ্ঠ প্রণয়লিপি

পর্ব ৫৭: লেখার টেবিল কি জানে, কবিতা কার দান– শয়তান না ঈশ্বরের?

পর্ব ৫৬: প্রেমের নিশ্চিত বধ্যভূমি বিয়ে, বার্ট্রান্ড রাসেলের লেখার টেবিল জানে সেই নির্মম সত্য

পর্ব ৫৫: জুলিয়া রবার্টসকে হিন্দুধর্মে দীক্ষা দিয়েছিল একটি বই, একটি সিনেমা

পর্ব ৫৪: আপনার লেখার টেবিল নেই কেন মানিকদা?

পর্ব ৫৩: পুরুষরা যে কতদূর অপদার্থ, ড্রেসিং টেবিলের দেখানো পথে মেয়েরা প্রমাণ করে দেবে

পর্ব ৫২: একটাও অরিজিনাল গল্প লেখেননি শেক্সপিয়র!

পর্ব ৫১: প্রমথ-ইন্দিরার মতো প্রেমের চিঠি-চালাচালি কি আজও হয়?

পর্ব ৫০: হাজার হাজার বছর আগের পুরুষের ভিক্ষা এখনও থামেনি

পর্ব ৪৯: কুকথার রাজনীতিতে অমরত্বের স্বাদ পেয়েছেন জর্জ অরওয়েল 

পর্ব ৪৮: টেবিলই ওকাম্পোর স্মৃতি, আত্মজীবনীর ছেঁড়া আদর

পর্ব ৪৭: শেষ বলে কিছু কি থাকতে পারে যদি না থাকে শুরু?

পর্ব ৪৬: যে টেবিলে দেবদূত আসে না, আসে শিল্পের অপূর্ব শয়তান

পর্ব ৪৫: ফ্রেডরিক ফোরসাইথকে ফকির থেকে রাজা করেছিল অপরাধের পৃথিবী

পর্ব ৪৪: আম-বাঙালি যেভাবে আমকে বোঝে, দুই আমেরিকান লেখিকা সেভাবেই বুঝতে চেয়েছেন

পর্ব ৪৩: দু’পায়ে দু’রকম জুতো পরে মা দৌড়ে বেরিয়ে গেল, ইবতিসম্‌-এর উপন্যাসের শুরু এমনই আকস্মিক

পর্ব ৪২: অন্ধকার ভারতে যে সিঁড়িটেবিলের সান্নিধ্যে রামমোহন রায় মুক্তিসূর্য দেখেছিলেন

পর্ব ৪১: বানু মুশতাকের টেবিল ল্যাম্পটির আলো পড়েছে মুসলমান মেয়েদের একাকিত্বের হৃদয়ে

পর্ব ৪০: গোয়েটের ভালোবাসার চিঠিই বাড়িয়ে দিয়েছিল ইউরোপের সুইসাইড প্রবণতা

পর্ব ৩৯: লেখার টেবিল বাঙালির লাজ ভেঙে পর্নোগ্রাফিও লিখিয়েছে

পর্ব ৩৮: বঙ্গীয় সমাজে বোভেয়ার ‘সেকেন্ড সেক্স’-এর ভাবনার বিচ্ছুরণ কতটুকু?

পর্ব ৩৭: ভক্তদের স্তাবকতাই পাশ্চাত্যে রবীন্দ্র-কীর্তি স্থায়ী হতে দেয়নি, মনে করতেন নীরদচন্দ্র চৌধুরী

পর্ব ৩৬: একাকিত্বের নিঃসঙ্গ জলসাঘরে মারিও ভার্গাস লোসা যেন ছবি বিশ্বাস!

পর্ব ৩৫: জীবনের বাইশ গজে যে নারী শচীনের পরম প্রাপ্তি

পর্ব ৩৪: যা যা লেখোনি আত্মজীবনীতেও, এইবার লেখো, রাস্কিন বন্ডকে বলেছিল লেখার টেবিল

পর্ব ৩৩: ফিওনার সেই লেখার টেবিল মুছে দিয়েছিল মেয়েদের যৌনতা উপভোগের লজ্জারেখা

পর্ব ৩২: বাঙালি নয়, আন্তর্জাতিক বাঙালির সংজ্ঞায় স্পিভাক এসে পড়বেনই

পর্ব ৩১: প্রতিভাপাগল একটি বই, যাকে দিনলিপি বলে সামান্য করব না

পর্ব ৩০: পতিতালয়ের সেই লেখার টেবিল জাগিয়ে তুলেছিল ইসাবেলের হৃদয়-চেতনা

পর্ব ২৯: পাথরে প্রাণ আনে যে টেবিলের স্পর্শ

পর্ব ২৮: নিজের টেবিলকে কটাক্ষ করি, কেন অ্যানে মাইকেলসের মতো লিখতে পারি না?

পর্ব ২৭: নারীর রাগ-মোচনের কৌশল জানে মিলান কুন্দেরার লেখার টেবিল!

পর্ব ২৬: ভালোবাসা প্রকাশের সমস্ত শব্দ পেরিয়ে গিয়েছিল এলিয়টের লেখার টেবিল

পর্ব ২৫: যে টেবিলে জন্ম নেয় নগ্নতা আর যৌনতার নতুন আলো

পর্ব ২৪: প্রেমের কবিতার ভূত জন ডানকে ধরেছিল তাঁর উন্মাদ টেবিলে, মোমবাতির আলোয়

পর্ব ২৩: যে টেবিল আসলে বৈদগ্ধ আর অশ্লীলতার আব্রুহীন আঁতুড়ঘর!

পর্ব ২২: মহাবিশ্বের রহস্য নেমে এসেছিল যে টেবিলে

পর্ব ২১: গাছ আমাদের পূর্বপুরুষ, লেখার টেবিল বলেছিল হোসে সারামাগোকে

পর্ব ২০: টেবিলের কথায় নিজের ‘হত্যার মঞ্চে’ ফিরেছিলেন সলমন রুশদি

পর্ব ১৯: প্রতিভা প্রশ্রয় দেয় অপরাধকে, দস্তয়েভস্কিকে শেখায় তাঁর লেখার টেবিল

পর্ব ১৮: বিবেকানন্দের মনের কথা বুঝতে পারে যে টেবিল

পর্ব ১৭: ‘গীতাঞ্জলি’ হয়ে উঠুক উভপ্রার্থনা ও উভকামনার গান, অঁদ্রে জিদকে বলেছিল তাঁর টেবিল

পর্ব ১৬: যে লেখার টেবিল ম্যাকিয়াভেলিকে নিয়ে গেছে শয়তানির অতল গভীরে

পর্ব ১৫: যে অপরাধবোধ লেখার টেবিলে টেনে এনেছিল শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে

পর্ব ১৪: লেখার টেবিল গিলে নিচ্ছে ভার্জিনিয়া উলফের লেখা ও ভাবনা, বাঁচার একমাত্র উপায় আত্মহত্যা

পর্ব ১৩: হ্যামনেট ‘হ্যামলেট’ হয়ে বেঁচে থাকবে অনন্তকাল, জানে সেই লেখার টেবিল

পর্ব ১২: রবীন্দ্রনাথের লেখার টেবিল চিনতে চায় না তাঁর আঁকার টেবিলকে

পর্ব ১১: আর কোনও কাঠের টেবিলের গায়ে ফুটে উঠেছে কি এমন মৃত্যুর ছবি?

পর্ব ১০: অন্ধ বিনোদবিহারীর জীবনে টেবিলের দান অন্ধকারের নতুন রূপ ও বন্ধুত্ব

পর্ব ৯: বুড়ো টেবিল কিয়ের্কেগার্দকে দিয়েছিল নারীর মন জয়ের চাবিকাঠি

পর্ব ৮: অন্ধকারই হয়ে উঠলো মিল্টনের লেখার টেবিল

পর্ব ৭: কুন্দেরার টেবিলে বসে কুন্দেরাকে চিঠি

পর্ব ৬: মানব-মানবীর যৌন সম্পর্কের দাগ লেগে রয়েছে কুন্দেরার লেখার টেবিলে

পর্ব ৫: বিয়ের ও আত্মহত্যার চিঠি– রবীন্দ্রনাথকে যা দান করেছিল লেখার টেবিল

পর্ব ৪: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের টেবিল আর তারাপদ রায়ের খাট, দুই-ই ছিল থইথই বইভরা

পর্ব ৩: টেবিলের গায়ে খোদাই-করা এক মৃত্যুহীন প্রেমের কবিতা

পর্ব ২: লেখার টেবিল ভয় দেখিয়েছিল টি এস এলিয়টকে

পর্ব ১: একটি দুর্গ ও অনেক দিনের পুরনো নির্জন এক টেবিল

Amrita Sher-gil Impressionism Indian Painter Matisse Painting Sangbad Pratidin Sangbad Pratidin Robbar

Share this article on