


ছবি তুলতে কি খুব দামি ক্যামেরা লাগে? আমার এই অর্বাচীন ইডিওটিক প্রশ্নের উত্তরে রঘু: ফটোগ্রাফি ইজ নট এবাউট দি ক্যামেরা, ছবি তোলার ভেতরের ব্যাপারটা হল ওয়েটিং, অপেক্ষা। আমার কোনও কোনও ছবির পিছনে আছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বা দিনের পর দিনের অপেক্ষা। যেমন একটা হলুদ বাড়ির সামনে দিয়ে দূরন্ত বেগে ছুটে যাওয়া একটা লাল গাড়ির ছবি। মনের মতো পরিবেশে, রাস্তার ওপর একটা হলুদ বাড়ি পেলাম। ঠিক যেরকম বাড়ি খুঁজছিলাম সেইরকম। কিন্তু কোনও মনের মতো লাল গাড়ি দূরন্ত বেগে তার সামনে দিয়ে কবে, কখন যাবে? তখন রাস্তার আলো কেমন থাকবে? রোজ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা। তারপর একদিন ব্যাপারটা হল। আর আমি স্লো স্পিডে ছবি তুললাম। গাড়িটা হলুদ বাড়ির সামনে আর গাড়ি থাকল না। হয়ে উঠল একটা লাল গতির তীব্র রেখা। এখানে মূল বিষয়টা ক্যামেরা নয়। বিষয়টা অপেক্ষা, ওয়েটিং, বাট ইউ মাস্ট নো হোয়াট ইউ আর ওয়েটিং ফর!
৯৩.
কী দুর্লভ সৌভাগ্য একদা আমার মার্জার কপালে শিকে ছেঁড়ার মতো ঘটেছিল! আমি রঘু রাইকে কিছুদিনের জন্যে পেয়েছিলাম– তার ভাবনা, তার মগ্নতা, তার মৌলিক মন আর সৃজনের আলোয়। কাটিয়েছিলাম কিছু বিহ্বল কিংবা মুগ্ধ মুহূর্ত এই অসাধারণ প্রতিভার সঙ্গে। তখন রঘু ‘দি স্টেটসম্যান’ সংবাদপত্রের ফটোগ্রাফার। সেই সময়ের ভাষায়, ক্যামেরাম্যান। আর আমি কখনও কখনও সেই কাগজে লিখি। তখন তো রঘু রাই সবে ভোরের সূর্য। আর আমি সাক্ষী হয়ে থাকছি পুবের আকাশে সেই অবিকল্প অরুণিমার। ছবি তো অনেকেই তোলেন। কিন্তু রঘুর প্রতিটি ছবি তার নিজস্ব স্বাক্ষর। সব ছবিতে ওর নামও থাকে না। কিন্তু দেখলেই বোঝা যায়, এ ছবির শরীরে রঘুর মন, রঘুর মনন, রঘুর ক্যামেরা, রঘুর স্বকীয় প্রকাশ। রঘুর সঙ্গে আলাপ হতেও আমার দেরি হয়নি। তার দু’টি কারণ। রঘুর সৃজনপ্রতিভা যত বিপুল ও স্বাভাবিক, ওর ইগো তত ক্ষুদ্র। দ্বিতীয় কারণ, রঘু আর আমি প্রায় কাঁটায় কাঁটায় সমবয়সী। আমি মাত্র কয়েক মাসের বড়। বলেওছিলাম ওকে– এই একটি ব্যাপারে, রঘু, আমি কিঞ্চিৎ এগিয়ে।

গত ২৬ এপ্রিল ওর চলে যাওয়ার সংবাদ একটা অদ্ভুত ধাক্কা দিল। এবং ‘দি স্টেটসম্যান’ অফিসের ঘোরানো দরজার সামনে রঘুর সঙ্গে প্রথম আলাপের মুহূর্তটা মনে পড়ল: কী অসামান্য দেখতে মানুষটা কে! ওর শরীরের সৌন্দর্য আজও আমাকে শার্টের বোতাম পাকড়ে থামিয়ে দেয়। সত্যজিৎ রায়ের মতো দীর্ঘাঙ্গ পুরুষ। একইরকম বলিষ্ঠ। যেন পাথরে খোদাই করা চেহারা। চোখ দুটো ভাবনার আয়না। একইসঙ্গে উজ্জ্বল ও উদাসীন। আমার এই ভঙ্গুর, দুর্বল, বেঁটে, অনুজ্জ্বল শরীরটা নিয়ে আজও বেঁচে আছি। আর অমন খোদাই করা শরীরের মানুষটা, একই বয়েসের আমাকে ফেলে, আগে চলে গেল? একে একে কত প্রতিভাবান মানুষকে হারিয়েছি আমি! ভাবলে অবাক হই, মনে হয়, দীর্ঘ জীবন যেন স্মৃতির মিউজিয়াম!

রঘুর কাছে আমার প্রশ্নের অভাব নেই। ওর সঙ্গে কথা বলতে বলতে ক্রমশ বুঝতে পারি, ওর ক্যামেরার মধ্যে ওর মনটা ঢুকে আছে। কিংবা ওর মনের মধ্যেই ওর আসল ক্যামেরা। একদিন জানতে চাইলাম, ছবির ঠিক মুহূর্তটা ধরতে পারো কীভাবে? রঘু বলল, মুহূর্ত ধরা দেয় না। মুহূর্ত খুঁজে নিতে হয়। তুমি সেই বিশেষ মুহূর্তটা চাইছ, না কি চাইছ না– এটা মুহূর্তে ঠিক করতে হবে। প্রশ্ন করেছিলাম, কে ঠিক করে, তুমি না তোমার ক্যামেরা? রঘুর আরশি চোখ আমার পানে তাকাল। সে মুখে কোনও উত্তর দেয়নি আমার প্রশ্নের।

সেটা ছিল ফিল্ম ক্যামেরার যুগ। সেই যুগ এখন অস্পষ্ট। সুদূর। নস্টালজিয়ার কুয়াশায় ঢাকা। রঘুর একটা কথা মনে আছে: আমি নষ্ট নেগেটিভ রেখে দিই। ফেলে দিই না। ওগুলো আমার ব্যর্থতার চিহ্ন। রঘুর মৃত্যুর পরে তার এই কথাটা আমার মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। রঘুর কিছু ব্যর্থ নেগেটিভ থেকে ছবি করে যদি কোনওদিন প্রকাশ করা যায়? যেমন প্রকাশিত হয়েছে হেমিংওয়ের ‘এ মুভেবল ফিস্ট’ বইটার সব ক’টা পাণ্ডুলিপি? কিংবা এলিয়টের ‘দি ওয়েস্ট ল্যান্ড’ কাব্যের সমস্ত বাদ দেওয়া অংশ? কেন রেখে দাও তুমি ব্যর্থ নেগেটিভ? আমার প্রশ্নের উত্তরে বলেছিল রঘু, ব্যর্থতা তো আমার টিচার! তার আয়না-চোখে হাসি ফুটিয়ে। আমি জানতে চেয়েছিলাম, তোমার ছবির দার্শনিক দিকটা সহজ করে বলতে পারো? আমাকে অবাক করে রঘুর উত্তর: আপাত সাধারণ কিছুর মধ্যে অসাধারণ কিছু আবিষ্কার করা! আমি বলেছিলাম, এ তো কবি উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থের কথা। রঘু মুহূর্তে বলল, ওয়ার্ডসওয়ার্থের ‘ডাফোডিল’ আর আমার মাদার টেরেসার হাসি। আপাতভাবে সাধারণ। কিন্তু তাই কি?

রঘুর কিছু অসাধারণ ছবি মনের মধ্যে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। গেঁথে গেছে। উপড়ে ফেলার উপায় নেই। ছোট-ছোট ছবি। অথচ তারা মহাকাব্যের মতো। এমন ছবি তুলতে কি খুব দামি ক্যামেরা লাগে? আমার এই অর্বাচীন ইডিওটিক প্রশ্নের উত্তরে রঘু: ফটোগ্রাফি ইজ নট এবাউট দি ক্যামেরা, ছবি তোলার ভেতরের ব্যাপারটা হল ওয়েটিং, অপেক্ষা। আমার কোনও কোনও ছবির পিছনে আছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বা দিনের পর দিনের অপেক্ষা। যেমন একটা হলুদ বাড়ির সামনে দিয়ে দূরন্ত বেগে ছুটে যাওয়া একটা লাল গাড়ির ছবি। মনের মতো পরিবেশে, রাস্তার ওপর একটা হলুদ বাড়ি পেলাম। ঠিক যেরকম বাড়ি খুঁজছিলাম সেইরকম। কিন্তু কোনও মনের মতো লাল গাড়ি দূরন্ত বেগে তার সামনে দিয়ে কবে, কখন যাবে? তখন রাস্তার আলো কেমন থাকবে? রোজ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা। তারপর একদিন ব্যাপারটা হল। আর আমি স্লো স্পিডে ছবি তুললাম। গাড়িটা হলুদ বাড়ির সামনে আর গাড়ি থাকল না। হয়ে উঠল একটা লাল গতির তীব্র রেখা। এখানে মূল বিষয়টা ক্যামেরা নয়। বিষয়টা অপেক্ষা, ওয়েটিং, বাট ইউ মাস্ট নো হোয়াট ইউ আর ওয়েটিং ফর!

১৯৭১ সাল। যশোরের স্মরণার্থী শিবির। সীমান্ত পেরিয়ে আসা মানুষের ঢল। হাজার হাজার অনাহারে ক্লিষ্ট মানুষের করুণ স্রোত ঢুকছে ভারতে। আর ছবি তুলছে রঘু। ছবিগুলো কিন্তু আমার ক্যামেরা তোলেনি। তুলেছে আমার মন আর ভাবনা। কোনও কোনও সময় আমি আর আমার ক্যামেরা এক হয়ে যাই। কোনও তফাৎ থাকে না। ক্লিক ক্লিক ক্লিক… আমার মন তখন আমার আঙুলের ডগায়। আমার মনের আঙুল ছুঁয়ে থাকে আমার ক্যামেরা। ক্যামেরা জানে কখন ক্লিক করতে হবে। সমস্ত ব্যাপারটার মধ্যে একটা চাপা সেক্সুয়ালিটি আছে।

১৯৮৪: ভোপাল গ্যাস ট্র্যাজেডি। বিপুল বিপর্যয়ের ছবি তুলল রঘু। ছবি নয়, প্রতিটি ছবিই এপিক, মহাকাব্য। একটা কবরের ওপর মানবশিশুর নিথর দেহ। সেই ছবি পৃথিবী কাঁপিয়ে দিয়েছিল। এবং এক মর্মান্তিক ঘটনাকে করে তুলেছিল জীবন্ত। আর রঘুর ক্যামেরা রঘুকে দিয়ে লিখিয়ে নিল এই চিরস্মরণীয় উক্তি: If responsible journalism is the first draft of history, then the photo-journalism is the evidence of that history being lived।

ভারত নিয়ে রঘু রাইয়ের বই: “Raghu Rai’s India: Reflections in Colour and Reflections in Black and White” পড়েছেন? রঘু সত্যি ধরতে পেরেছে ভারতের আত্মাকে! এই বইয়ের মধ্যে আমার দেশ, আমার ক্যামেরা, আর আমি এমনভাবে মিশে গিয়েছি, আলাদা করা যাবে না। আর বাংলাদেশ নিয়ে রঘুর ছবিলেখা! রাইজ অফ আ নেশন! পাতায় পাতায় শুধু ছড়িয়ে আছে এক জাগরণের উদ্ভাস ও মাহাত্ম্য।

রঘুর ক্যামেরায় ভারত নিয়ে খুশবন্ত সিং লিখলেন: “Raghu Rai’s camera has done more to interpret India to Indians than all the prose written on the subject”। আর আন্তর্জাতিক খ্যাতির ফরাসি ফটোগ্রাফার মার্ক রিবু জানালেন, ‘When Raghu Rai photographs India, India looks back at you’।

রঘুর ছবি আর রঘুর ইংরেজি লেখা একই জায়গা থেকে উঠে আসে– রঘুর হৃদয়: ‘Colour in India is not decoration. It is life itself. It screams, it bleeds, it laughs’। রিফিউজিদের ছবি তুলল রঘু। তুলল তাদের জ্বলন্ত যন্ত্রণার প্রতিটি মুহূর্ত। সঙ্গে এই লেখা: ‘The refugees did not walk. They flowed. Like a river of broken people’। এই অসহায়, নিয়তিতাড়িত, অনিকেত মানবপ্রবাহের প্রতিটি মুহূর্ত ধরা আছে রঘুর মৃত্যুহীন অব্যর্থ ক্লিকে: রঘু সত্যিই ‘the master of the moment’!
…………………….. পড়ুন কাঠখোদাই-এর অন্যান্য পর্ব ……………………
পর্ব ৯২: টেবিলই মধুসূদনের নেমেসিস, আত্মদহনের আয়না
পর্ব ৯১: সমর্পণ নয়, ব্যাড গার্লের প্রতিস্পর্ধা
পর্ব ৮৯: রঙে রসে অফুরান রবি বর্মার তুলির টান
পর্ব ৮৮: ন্যুড মডেলই মাতিসের ভাবনার টেবিল
পর্ব ৮৭: চণ্ডীমঙ্গল না পড়লে সে কীসের বাঙালি!
পর্ব ৮৬: সাধারণের জীবন রাজনীতির বিষয়, শিখিয়েছে মনুর সংহিতা
পর্ব ৮৫: চিঠির মোড়কে নষ্ট প্রেমের গোপন অভিসার
পর্ব ৮৪: চা নয়, চায়ের বই যখন প্রেমের অনুঘটক
পর্ব ৮৩: আধ্যাত্মিক বিরহ দিয়ে গড়া প্রেমের মহাকাব্য
পর্ব ৮২: এক মৃত্যুহীন ক্লাসিক কিংবা যৌনতার সহজপাঠ
পর্ব ৮১: দেশহীন, ভাষাহীন ঝুম্পা
পর্ব ৮০: সাহসী প্রেমের চিঠি লেখা শিখিয়েছিল যে বাঙালি যুগল
পর্ব ৭৯: সুরানিলয়ের টেবিল থেকেই জন্ম নিয়েছিল উপন্যাসের ভাবনা
পর্ব ৭৮: একবিন্দু আত্মকরুণা নেই অঞ্জনের আত্মজীবনীতে
পর্ব ৭৭: অ্যানির ‘দ্য ইয়ার্স’ শেখায় অন্তহীন ইরোটিসিজম-ই জীবনের পরমপ্রাপ্তি
পর্ব ৭৬: জয় গোস্বামীর সাজেশনে মুগ্ধতা জাগাল ‘সিম্পল প্যাশন’
পর্ব ৭৫: যে নারীর শেষপাতা পর্যন্ত পৌঁছতে পারেননি লেখক
পর্ব ৭৪: সেই তরুণীর জন্য বেঁচে আছে বোকা মনকেমন!
পর্ব ৭৩: কাফকার ভয়-ধরানো প্রেমপত্র!
পর্ব ৭২: থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা, কলকাতা বইমেলায় শ্রেষ্ঠাংশে তবে রবীন্দ্র-ওকাম্পো?
পর্ব ৭১: একশো বছরের নৈরাজ্য ও একটি লেখার টেবিল
পর্ব ৭০: আত্মজীবনী নয়, মার্গারেটের ব্রতভ্রষ্ট স্মৃতিকথা
পর্ব ৬৯: রুশদির ‘দ্য ইলেভেনথ আওয়ার’ শেষ প্রহরের, অনিবার্য অন্তিমের দ্যোতক
পর্ব ৬৮: মাংসও টেবিলের কাছে ঋণী
পর্ব ৬৭: ভ্রমণ-সাহিত্যকে লাজলো নিয়ে গেছেন নতুন পারমিতায়
পর্ব ৬৬: নরম পায়রার জন্ম
পর্ব ৬৫: যে বইয়ের যে কোনও পাতাই প্রথম পাতা
পর্ব ৬৪: খেলা শেষ করার জন্য শেষ শব্দ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন জেফ্রি আর্চার
পর্ব ৬৩: সহজ ভাষার ম্যাজিক ও অবিকল্প মুরাকামি
পর্ব ৬২: জীবন তিক্ত এবং আশা করা ভুল, এই দর্শনই বিশ্বাস করেন ক্রাজনাহরকাই
পর্ব ৬১: লন্ডনে ফিরে এলেন অস্কার ওয়াইল্ড!
পর্ব ৬০: পাপ ও পুণ্যের যৌথ মাস্টারপিস
পর্ব ৫৯: মাতৃভক্তির দেশে, মাকে ছেড়ে যাওয়ার আত্মকথন
পর্ব ৫৮: চিঠিহীন এই যুগের শ্রেষ্ঠ প্রণয়লিপি
পর্ব ৫৭: লেখার টেবিল কি জানে, কবিতা কার দান– শয়তান না ঈশ্বরের?
পর্ব ৫৬: প্রেমের নিশ্চিত বধ্যভূমি বিয়ে, বার্ট্রান্ড রাসেলের লেখার টেবিল জানে সেই নির্মম সত্য
পর্ব ৫৫: জুলিয়া রবার্টসকে হিন্দুধর্মে দীক্ষা দিয়েছিল একটি বই, একটি সিনেমা
পর্ব ৫৪: আপনার লেখার টেবিল নেই কেন মানিকদা?
পর্ব ৫৩: পুরুষরা যে কতদূর অপদার্থ, ড্রেসিং টেবিলের দেখানো পথে মেয়েরা প্রমাণ করে দেবে
পর্ব ৫২: একটাও অরিজিনাল গল্প লেখেননি শেক্সপিয়র!
পর্ব ৫১: প্রমথ-ইন্দিরার মতো প্রেমের চিঠি-চালাচালি কি আজও হয়?
পর্ব ৫০: হাজার হাজার বছর আগের পুরুষের ভিক্ষা এখনও থামেনি
পর্ব ৪৯: কুকথার রাজনীতিতে অমরত্বের স্বাদ পেয়েছেন জর্জ অরওয়েল
পর্ব ৪৮: টেবিলই ওকাম্পোর স্মৃতি, আত্মজীবনীর ছেঁড়া আদর
পর্ব ৪৭: শেষ বলে কিছু কি থাকতে পারে যদি না থাকে শুরু?
পর্ব ৪৬: যে টেবিলে দেবদূত আসে না, আসে শিল্পের অপূর্ব শয়তান
পর্ব ৪৫: ফ্রেডরিক ফোরসাইথকে ফকির থেকে রাজা করেছিল অপরাধের পৃথিবী
পর্ব ৪৪: আম-বাঙালি যেভাবে আমকে বোঝে, দুই আমেরিকান লেখিকা সেভাবেই বুঝতে চেয়েছেন
পর্ব ৪৩: দু’পায়ে দু’রকম জুতো পরে মা দৌড়ে বেরিয়ে গেল, ইবতিসম্-এর উপন্যাসের শুরু এমনই আকস্মিক
পর্ব ৪২: অন্ধকার ভারতে যে সিঁড়িটেবিলের সান্নিধ্যে রামমোহন রায় মুক্তিসূর্য দেখেছিলেন
পর্ব ৪১: বানু মুশতাকের টেবিল ল্যাম্পটির আলো পড়েছে মুসলমান মেয়েদের একাকিত্বের হৃদয়ে
পর্ব ৪০: গোয়েটের ভালোবাসার চিঠিই বাড়িয়ে দিয়েছিল ইউরোপের সুইসাইড প্রবণতা
পর্ব ৩৯: লেখার টেবিল বাঙালির লাজ ভেঙে পর্নোগ্রাফিও লিখিয়েছে
পর্ব ৩৮: বঙ্গীয় সমাজে বোভেয়ার ‘সেকেন্ড সেক্স’-এর ভাবনার বিচ্ছুরণ কতটুকু?
পর্ব ৩৭: ভক্তদের স্তাবকতাই পাশ্চাত্যে রবীন্দ্র-কীর্তি স্থায়ী হতে দেয়নি, মনে করতেন নীরদচন্দ্র চৌধুরী
পর্ব ৩৬: একাকিত্বের নিঃসঙ্গ জলসাঘরে মারিও ভার্গাস লোসা যেন ছবি বিশ্বাস!
পর্ব ৩৫: জীবনের বাইশ গজে যে নারী শচীনের পরম প্রাপ্তি
পর্ব ৩৪: যা যা লেখোনি আত্মজীবনীতেও, এইবার লেখো, রাস্কিন বন্ডকে বলেছিল লেখার টেবিল
পর্ব ৩৩: ফিওনার সেই লেখার টেবিল মুছে দিয়েছিল মেয়েদের যৌনতা উপভোগের লজ্জারেখা
পর্ব ৩২: বাঙালি নয়, আন্তর্জাতিক বাঙালির সংজ্ঞায় স্পিভাক এসে পড়বেনই
পর্ব ৩১: প্রতিভাপাগল একটি বই, যাকে দিনলিপি বলে সামান্য করব না
পর্ব ৩০: পতিতালয়ের সেই লেখার টেবিল জাগিয়ে তুলেছিল ইসাবেলের হৃদয়-চেতনা
পর্ব ২৯: পাথরে প্রাণ আনে যে টেবিলের স্পর্শ
পর্ব ২৮: নিজের টেবিলকে কটাক্ষ করি, কেন অ্যানে মাইকেলসের মতো লিখতে পারি না?
পর্ব ২৭: নারীর রাগ-মোচনের কৌশল জানে মিলান কুন্দেরার লেখার টেবিল!
পর্ব ২৬: ভালোবাসা প্রকাশের সমস্ত শব্দ পেরিয়ে গিয়েছিল এলিয়টের লেখার টেবিল
পর্ব ২৫: যে টেবিলে জন্ম নেয় নগ্নতা আর যৌনতার নতুন আলো
পর্ব ২৪: প্রেমের কবিতার ভূত জন ডানকে ধরেছিল তাঁর উন্মাদ টেবিলে, মোমবাতির আলোয়
পর্ব ২৩: যে টেবিল আসলে বৈদগ্ধ আর অশ্লীলতার আব্রুহীন আঁতুড়ঘর!
পর্ব ২২: মহাবিশ্বের রহস্য নেমে এসেছিল যে টেবিলে
পর্ব ২১: গাছ আমাদের পূর্বপুরুষ, লেখার টেবিল বলেছিল হোসে সারামাগোকে
পর্ব ২০: টেবিলের কথায় নিজের ‘হত্যার মঞ্চে’ ফিরেছিলেন সলমন রুশদি
পর্ব ১৯: প্রতিভা প্রশ্রয় দেয় অপরাধকে, দস্তয়েভস্কিকে শেখায় তাঁর লেখার টেবিল
পর্ব ১৮: বিবেকানন্দের মনের কথা বুঝতে পারে যে টেবিল
পর্ব ১৭: ‘গীতাঞ্জলি’ হয়ে উঠুক উভপ্রার্থনা ও উভকামনার গান, অঁদ্রে জিদকে বলেছিল তাঁর টেবিল
পর্ব ১৬: যে লেখার টেবিল ম্যাকিয়াভেলিকে নিয়ে গেছে শয়তানির অতল গভীরে
পর্ব ১৫: যে অপরাধবোধ লেখার টেবিলে টেনে এনেছিল শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে
পর্ব ১৪: লেখার টেবিল গিলে নিচ্ছে ভার্জিনিয়া উলফের লেখা ও ভাবনা, বাঁচার একমাত্র উপায় আত্মহত্যা
পর্ব ১৩: হ্যামনেট ‘হ্যামলেট’ হয়ে বেঁচে থাকবে অনন্তকাল, জানে সেই লেখার টেবিল
পর্ব ১২: রবীন্দ্রনাথের লেখার টেবিল চিনতে চায় না তাঁর আঁকার টেবিলকে
পর্ব ১১: আর কোনও কাঠের টেবিলের গায়ে ফুটে উঠেছে কি এমন মৃত্যুর ছবি?
পর্ব ১০: অন্ধ বিনোদবিহারীর জীবনে টেবিলের দান অন্ধকারের নতুন রূপ ও বন্ধুত্ব
পর্ব ৯: বুড়ো টেবিল কিয়ের্কেগার্দকে দিয়েছিল নারীর মন জয়ের চাবিকাঠি
পর্ব ৮: অন্ধকারই হয়ে উঠলো মিল্টনের লেখার টেবিল
পর্ব ৭: কুন্দেরার টেবিলে বসে কুন্দেরাকে চিঠি
পর্ব ৬: মানব-মানবীর যৌন সম্পর্কের দাগ লেগে রয়েছে কুন্দেরার লেখার টেবিলে
পর্ব ৫: বিয়ের ও আত্মহত্যার চিঠি– রবীন্দ্রনাথকে যা দান করেছিল লেখার টেবিল
পর্ব ৪: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের টেবিল আর তারাপদ রায়ের খাট, দুই-ই ছিল থইথই বইভরা
পর্ব ৩: টেবিলের গায়ে খোদাই-করা এক মৃত্যুহীন প্রেমের কবিতা
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved