
রিচার্ড বার্টন লেখক ছিলেন না। তাঁর মহাতারকা জীবন, তাঁর দীর্ণ দাম্পত্য জীবন, তাঁর জেটসেট সামাজিক জীবন তাঁর লেখক-সত্তার জন্য সূচ্যগ্র পরিসর ছাড়েনি। নিয়মিত বসে লেখার জন্য তাঁর আলাদা কোনও লেখার টেবিল ছিল বলেও মনে হয় না। কিন্তু তবু তিনি ছিলেন অতুলনীয় স্কলার, ক্লান্তিহীন চিন্তক, নিভৃত লেখক। ঝোড়ো রক্তাক্ত যাপনের মধ্যেও তিনি আগলে রাখতে পেরেছিলেন সারস্বত নিবিড়তা। তাঁর জীবনের করুণ সারাৎসার তিনি রেখে গিয়েছেন তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত ডায়েরির আর্তিতে
৭৫.
ডাক্তারের কথা শোনা ধাতে নেই। ইন ফ্যাক্ট, আমার ভালোর জন্য যে যখন যা বলেছে, এক কানে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করে দিয়েছি! এতে একটা উপকার হয়েছে। জীবনটা ভালো হয়নি। কিন্তু কিছুটা অন্তত উপভোগ্য হয়েছে। এত শীতের মধ্যে পাহাড়ে আরও ঠান্ডায় যাবেন না, ডাক্তারের এই বারণ তোয়াক্কা না করে চলে গেলাম কালিম্পংয়ের চা বাগানের মধ্যে এক বিলিতি পিরিয়ড-পিস খামার-বাড়িতে, জ্বলন্ত ফায়ার প্লেসের পাশে পরম-প্রিয় সোনালি তারল্যে চুমুক দিতে দিতে আমার প্রিয় বই ‘The Richard Burton Diaries’– আবার পড়ব বলে।

প্রবল ঠান্ডা। যত রাত বাড়ছে, নামছে পারদ। শুনলাম পাঁচ-ছয় পর্যন্ত নামবে। নিঝুম রাতের বরফ-ঠান্ডা পৃথিবী। কটেজের জানলায় বাইরের কোনও চিহ্ন এসে আর পৌঁছচ্ছে না। ঘন কুয়াশার ইরেজার ঘুচিয়ে দিয়েছে বাগানের আলো গাছ ফোয়ারা পাথরের পরী। শীত আর কুয়াশা গিলে ফেলেছে পৃথিবীর সমস্ত শব্দও। ঘরের মধ্যে শুধু রিচার্ড বার্টনের ব্যারিটোন উঠে আসছে তাঁর দিনলিপির পাতা থেকে। মিশে যাচ্ছে আমার গ্লাসের সোনালি শৈত্যের উষ্ণতায়। ‘She is beautiful beyond the dreams of pornography’ রিচার্ডের উচ্চারণে ছিটকে আসে তাঁর দিনলিপিতে লেখা স্ত্রী এলিজাবেথ টেলরের অনন্য রূপবর্ণনা। স্ত্রীর রূপে ডুবে যাওয়া ভেসে যাওয়া ক’জন পুরুষ এই ভাষায় মনের তলানি থেকে তুলে আনতে পারবে এই সত্য-কথা: She is a wildly exciting lover-mistress. She is a prospectus that can never be entirely catalogued, an almanac for Poor Richard.’
পৃথিবীর কোনও পর্নোগ্রাফির নারীশরীর নাগাল পাবে না আমার স্ত্রী এলিজাবেথের আবেদনের। আমার স্ত্রী বন্য উত্তেজনা জাগাতে দক্ষ প্রেমিকা-রক্ষিতা। এই মেয়ের শরীর এমন এক মুদ্রিত বিবরণী, যার সমস্তটা তালিকাভুক্ত করা যায় না। এই নারীর শরীর এক অন্তহীন তথ্যপঞ্জি, যার শেষ পাতায় বেচারা রিচার্ড কোনও দিন পৌঁছতে পারবে না।

কিন্তু আমার বউ এলিজাবেথ এত রূপবতী, এমন অবিশ্বাস্য সেক্সি, বিছানায় যার আগুন নিভতে চায় না, আর আমরা দু’জন দু’জনকে সত্যিই তো পাগলের মতো ভালোবাসি, এই সব সত্ত্বেও আমাদের বিয়েটা শক্তপোক্ত হল না! কেন কেন কেন ? এই তার উত্তর, আমি লিখে রাখলাম আমার ডায়েরিতে:
Elizabeth never reads a book, at least not more than a couple of pages at a time. As a result of this we have been living this half-life!
শুধু শরীর শরীর শরীর? আমি বলছি না, এলিজাবেথের মন নেই। সে বোধবুদ্ধিহীন! “She is not anybody’s fool.” খুব চালাক-চতুর মেয়ে আমার অপরূপ সুন্দরী বউ। কিন্তু ওর মধ্যে সেই গভীরতা আছে কি, যেখানে আমি ডুব দিতে পারি? আমি এইখানে ‘The Richard Burton Dairies’ বইটা কিছুক্ষণের জন্যে আমার বুকের ওপর উপুড় করে ফায়ার প্লেসের আগুনের দিকে তাকাই। তারপর চোখ বুজি। ভাবি, এই বউকে রিচার্ড বার্টন দু’বার বিয়ে করেছিলেন! প্রথমবার বিয়ের পরে তুমুল তোলপাড় জীবন কাটালেন তাঁর সঙ্গে। লিখলেন তাঁর ডায়েরিতে এই অমোঘ এবং প্যাথেটিক স্বীকারোক্তি:
I might run from her for a thousand years and she is still my baby child!

এই লাইনটার ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করি আমি: এক হাজার বছর ধরে এই মেয়েটার কাছ থেকেই আমি পালাচ্ছি, কিন্তু পালাতে পারছি কি? পালাতে পারছি না, কারণ, ‘শি ইজ স্টিল মাই বেবি চাইল্ড’। আমি নিজে ভাবতে চেষ্টা করি আমিই যেন বার্টন, এক ভয়ংকর মানসিক অবস্থার মধ্যে। আমি এক নারীকে ভালোবাসার এবং একইসঙ্গে জান্তব তাড়নার মধ্যে তারই কাছ থেকে পালাতে চাইছি হাজার বছর ধরে, অথচ পালাতে পারছি না, কেন-না সেই নারী আমার অনুভবে এখনও নেহাত ছোট্ট শিশু! আমি ছাড়া সে অসহায়। কিন্তু তবু তার আমার সম্পর্কের শেষ কথা এই: Our love is so furious that we burn each other out.
বিখ্যাত ব্রিটিশ নাট্যকার নোয়েল কাওয়ার্ড, যিনি রিচার্ড বার্টনের কাছের মানুষ, কিছুটা অন্তত বুঝতে পেরেছিলেন বার্টন-এলিজাবেথ দাম্পত্যের গভীর ট্র্যাজেডি। লিখছেন বার্টন তাঁর ডায়েরিতে:
Noel told me holding my wrist firmly in his beautiful brown hands that Elizabeth and I were so packed with dynamic personality that he expected us any minute to burst out the seams and flow like volcanic lava!
এই সুন্দরীকে নিজের কাছে আকঁড়ে রাখার জন্য তাঁকে পৃথিবীর সব থেকে দামি পান্নার নেকলেস দিচ্ছেন বার্টন। তাঁর জন্মদিনে জগতের সবথেকে মূল্যবান শ্যাম্পেন, গ্লাসে ঢেলে, তার মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন ডুব সূর্যের রাঙা রশ্মি বুকে ধরা আলোকবর্ষ দূরের নক্ষত্রের আকারের রুবি। এলিজাবেথের জন্মদিন নয়, যে-কোনও দিনকে তাঁর জন্মদিন মনে করে, যেমন অ্যান্টনি করতেন ক্লিওপেট্রার রতিলীলায় মাতাল হয়ে, বার্টন দিচ্ছেন এলিজাবেথকে কখনও ভিনটেজ রোলস রয়েস, কখনও পিকাসোর দুর্লভ ছবি!

সেই উপহার গ্রহণ করে এলিজাবেথ যে অযথা গদগদ হয়ে পড়ে নিজেকে সস্তা করে দিচ্ছেন, তা নয়। বরং ধরে রাখছেন সেই অব্যর্থ অন্তরস্রোত, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুন্দরীকে প্রতিরাত্রে বিছানায় অনাবৃত পেতে এবং সেখানে তাকে অজস্র খিস্তি এবং অগুনতি সোহাগ, আদর, আশ্লেষ দেওয়ার সুখ পেতে এই উপহার তো তেমন কিছু নয় ডার্লিং। একদিন ঘটল এই পাগলামির চূড়ান্ত। সেই অভিজ্ঞতা ডায়েরিতে লিখে রাখলেন বার্টন:
At 12 noon I did something beyond outrage. I bought Elizabeth the jet plane we flew in yesterday. It costs, brand new, $960,000! She was not displeased.
শেষ বাক্যটির শ্লেষ ছুরির মতো। এমন ছুরি যাতে দ্বিতীয়বার শান দিতে হয় না।

‘The Richard Burton Diaries’ উপুড় করে বুকে ধরে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘুম যখন ভাঙল, তখন প্রায় রাত তিনটে। চেয়ারে হেলান দিয়ে পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। জেগে উঠতেই চোখ পড়ল পাশেই টেবিলের ওপর অর্ধেক খালি হুইস্কির গ্লাস। সেখানে কাঁপছে ফায়ারপ্লেসের আগুন আলো। দেখেই তেষ্টা পেল। এক চুমুকে বাকিটুকু শেষ করতেই আমার ভাবনা যেখানে থেমে ছিল, সেখান থেকে সুতো তুলে পরের ভাবনা মনে এল: যেখানে প্রেমিকা-রক্ষিতা-স্ত্রীর প্রতি এমন বিরাগ, বিদ্বেষ, বিবিক্তি, বিরক্তি, এমন বিদ্রুপ এবং শ্লেষ, সেখানে পাশাপাশি এমন তীব্র প্রেম, এমন দুর্বার রিরংসা আসে কী করে? আমি ফিরে যাই কালিম্পংয়ের শীতল-রাতে অগ্নিকুণ্ডের পাশে রিচার্ডের দিনলিপির গহন বেদনায়: I can manage a film career and Jet-Set social life with an inexorable alcoholic death-march.
একদিকে আমার ফিল্মজীবনের ক্লান্তিহীন দাবি, অন্যদিকে আমার জেট-দ্রুত সামাজিক জীবন, তবুও দুটোকে ম্যানেজ করে হয়তো চলতে পারতাম। কিন্তু আমি জানি, আমার কোহল-আসক্তি আমাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে অনিবার্য বিনাশে। এই অ্যালকোহলিক ডেথমার্চ থেকে বেরনোর উপায় নেই। নিজের প্রতি এখন আমার একমাত্র স্তোকবাক্য, ‘অল লাইভস এন্ড’!

একটা খুব জরুরি কথা এখানে না-লিখে পারছি না। রিচার্ড বার্টন লেখক ছিলেন না। তাঁর মহাতারকা জীবন, তাঁর দীর্ণ দাম্পত্য জীবন, তাঁর জেটসেট সামাজিক জীবন তাঁর লেখক-সত্তার জন্য সূচ্যগ্র পরিসর ছাড়েনি। নিয়মিত বসে লেখার জন্য তাঁর আলাদা কোনও লেখার টেবিল ছিল বলেও মনে হয় না। কিন্তু তবু তিনি ছিলেন অতুলনীয় স্কলার, ক্লান্তিহীন চিন্তক, নিভৃত লেখক। ঝোড়ো রক্তাক্ত যাপনের মধ্যেও তিনি আগলে রাখতে পেরেছিলেন সারস্বত নিবিড়তা। তাঁর জীবনের করুণ সারাৎসার তিনি রেখে গিয়েছেন তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত ডায়েরির আর্তিতে:
But in my dairy my wry account: Elizabeth’s and mine cornucopian make-up case which contains eye-brow pencils, the usual make-up things, deodorants and perfumes and what seems to be pills for any disease and maladies and balms and elixirs and even spare parts for the Rolls.
‘Cornucopian’ শব্দটাকে যে মানুষ অবলীলায় তাঁর প্রেমিকা-রক্ষিতা-ভার্যার মেকআপ বক্সের বিশেষণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন ডায়েরিতে, তিনি পেশাদার লেখক না হয়েও লেখকের লেখক। ল্যাটিন শব্দ ‘cornucopia’-র অর্থ অপর্যাপ্ত। যে বাক্সের ধারণ ক্ষমতার শেষ নেই, যার থেকে পাওয়ার সম্ভাবনাও অশেষ, এমনই ‘cornucopian’ মেকআপ বক্স এলিজাবেথ টেলরের। কী নেই সেই বাক্সে! ভুরু আঁকার পেনসিল থেকে বগল-নির্গন্ধ করার দণ্ড থেকে বিচিত্র সুগন্ধি থেকে জগতের সমস্ত ম্যাজম্যাজ, অসুখ, ব্যাধি সারানোর বড়ি থেকে মাথাধরার প্রলেপ থেকে সর্বরোগহর, আয়ুবৃদ্ধিকারী মধ্যযুগের ম্যাজিক আরোক থেকে আমাদের রোলস্ রয়েসের বাড়তি পার্টস পর্যন্ত, সব কিছু পাওয়া যাবে আমার বউয়ের মেকআপ বক্সে!

যিনি এমন লিখতে পারেন, জীবনের একেবারে শেষে এসে ডায়েরির পাতার পর পাতায় তিনি শুধু একটাই শব্দ লিখেছেন– booze, booze, booze, booze, booze. সুইজারল্যান্ডের অ্যালপাইন নির্জনতায় জীবনের অন্তিম দিনগুলি কাটালেন রিচার্ড বার্টন। মারা গেলেন ঘুমের মধ্যে। ব্রেনস্ট্রোক। মৃত্যুদিন ৫ অগাস্ট, ১৯৮৪। বয়স, ৫৮।
মৃত্যুর কিছু আগে ডায়েরিতে লিখেছেন:
কেন এত মদ খাই? কারণ মদ খেলে আমি কিছুক্ষণের জন্যে আমার হতাশাকে বাগে আনতে পারি। কিন্তু মদ তো খেতেই থাকি। থামতে পারি না। আর আমার ‘ডেসপেয়ার’-এর ওপর আমার নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হতে থাকে। আমি নিজের ওপর কনট্রোল হারিয়ে ফেলি।
I become very drunk and abuse people a great deal and insult Elizabeth a lot on the telephone. Well, one might call the last few days of my diary, THE DIARY OF A DIPSOMANIAC.

কিন্তু এই অ্যালকোহলিক রোম্যান্টিক তাঁর ডায়েরিতে ক্ষণে ক্ষণে কী সাবলীল অবহেলায় ছড়িয়ে গিয়েছেন তাঁর ব্যাপ্ত স্কলারশিপ, গভীর সন্ধান, তাঁর অকুণ্ঠ শেক্সপিয়র-প্রেম ও প্রজ্ঞা:
Seeing the miraculous words in print again doomed me to a long trance of nostalgia, a stupor of melancholy, like listening to really massive music, music that moves and thunders and plumbs fathomless depths: no other writers hit me with quite the same regard, as William S. What chance combination of genes went to the making of the towering imagination, that brilliant gift of words, that staggering compassion, that understanding of all human frailty, that total absence of pomposity, that wit, that pun, that joy in words, and the later agony. It seems that he wrote everything worth writing, and the rest of his fraternity have merely fugued on his million themes.
এমন কোনও লেখার বিষয় নেই, যা নিয়ে লেখেননি শেক্সপিয়র। তাঁর পরবর্তী লেখকরা, যাঁরা নিজেদের মনে করেন তাঁরই ভ্রাতৃসংঘের সদস্য, তাঁরা শেক্সপিয়রের লক্ষ লক্ষ মূল সুরের ওপর কিছু জটিল নকশা কেটে চলেছেন মাত্র। তখন কালিম্পং সবে চোখ মেলছে শীতের শিশিরভেজা ভোরের ঝাপসা আলোয়। আমার মনে হয়, আরও একবার বেঁচে থাকা সার্থক হল। আর সেই অনুভবে মিশে গেল এই প্রশ্ন, কেন আমার লেখার টেবিল এমন কিছু শব্দ ও প্রকাশ আমাকে দেয় না? এত কৃপণ কেন সে?
…………………….. পড়ুন কাঠখোদাই-এর অন্যান্য পর্ব ……………………
পর্ব ৭৪: সেই তরুণীর জন্য বেঁচে আছে বোকা মনকেমন!
পর্ব ৭৩: কাফকার ভয়-ধরানো প্রেমপত্র!
পর্ব ৭২: থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা, কলকাতা বইমেলায় শ্রেষ্ঠাংশে তবে রবীন্দ্র-ওকাম্পো?
পর্ব ৭১: একশো বছরের নৈরাজ্য ও একটি লেখার টেবিল
পর্ব ৭০: আত্মজীবনী নয়, মার্গারেটের ব্রতভ্রষ্ট স্মৃতিকথা
পর্ব ৬৯: রুশদির ‘দ্য ইলেভেনথ আওয়ার’ শেষ প্রহরের, অনিবার্য অন্তিমের দ্যোতক
পর্ব ৬৮: মাংসও টেবিলের কাছে ঋণী
পর্ব ৬৭: ভ্রমণ-সাহিত্যকে লাজলো নিয়ে গেছেন নতুন পারমিতায়
পর্ব ৬৬: নরম পায়রার জন্ম
পর্ব ৬৫: যে বইয়ের যে কোনও পাতাই প্রথম পাতা
পর্ব ৬৪: খেলা শেষ করার জন্য শেষ শব্দ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন জেফ্রি আর্চার
পর্ব ৬৩: সহজ ভাষার ম্যাজিক ও অবিকল্প মুরাকামি
পর্ব ৬২: জীবন তিক্ত এবং আশা করা ভুল, এই দর্শনই বিশ্বাস করেন ক্রাজনাহরকাই
পর্ব ৬১: লন্ডনে ফিরে এলেন অস্কার ওয়াইল্ড!
পর্ব ৬০: পাপ ও পুণ্যের যৌথ মাস্টারপিস
পর্ব ৫৯: মাতৃভক্তির দেশে, মাকে ছেড়ে যাওয়ার আত্মকথন
পর্ব ৫৮: চিঠিহীন এই যুগের শ্রেষ্ঠ প্রণয়লিপি
পর্ব ৫৭: লেখার টেবিল কি জানে, কবিতা কার দান– শয়তান না ঈশ্বরের?
পর্ব ৫৬: প্রেমের নিশ্চিত বধ্যভূমি বিয়ে, বার্ট্রান্ড রাসেলের লেখার টেবিল জানে সেই নির্মম সত্য
পর্ব ৫৫: জুলিয়া রবার্টসকে হিন্দুধর্মে দীক্ষা দিয়েছিল একটি বই, একটি সিনেমা
পর্ব ৫৪: আপনার লেখার টেবিল নেই কেন মানিকদা?
পর্ব ৫৩: পুরুষরা যে কতদূর অপদার্থ, ড্রেসিং টেবিলের দেখানো পথে মেয়েরা প্রমাণ করে দেবে
পর্ব ৫২: একটাও অরিজিনাল গল্প লেখেননি শেক্সপিয়র!
পর্ব ৫১: প্রমথ-ইন্দিরার মতো প্রেমের চিঠি-চালাচালি কি আজও হয়?
পর্ব ৫০: হাজার হাজার বছর আগের পুরুষের ভিক্ষা এখনও থামেনি
পর্ব ৪৯: কুকথার রাজনীতিতে অমরত্বের স্বাদ পেয়েছেন জর্জ অরওয়েল
পর্ব ৪৮: টেবিলই ওকাম্পোর স্মৃতি, আত্মজীবনীর ছেঁড়া আদর
পর্ব ৪৭: শেষ বলে কিছু কি থাকতে পারে যদি না থাকে শুরু?
পর্ব ৪৬: যে টেবিলে দেবদূত আসে না, আসে শিল্পের অপূর্ব শয়তান
পর্ব ৪৫: ফ্রেডরিক ফোরসাইথকে ফকির থেকে রাজা করেছিল অপরাধের পৃথিবী
পর্ব ৪৪: আম-বাঙালি যেভাবে আমকে বোঝে, দুই আমেরিকান লেখিকা সেভাবেই বুঝতে চেয়েছেন
পর্ব ৪৩: দু’পায়ে দু’রকম জুতো পরে মা দৌড়ে বেরিয়ে গেল, ইবতিসম্-এর উপন্যাসের শুরু এমনই আকস্মিক
পর্ব ৪২: অন্ধকার ভারতে যে সিঁড়িটেবিলের সান্নিধ্যে রামমোহন রায় মুক্তিসূর্য দেখেছিলেন
পর্ব ৪১: বানু মুশতাকের টেবিল ল্যাম্পটির আলো পড়েছে মুসলমান মেয়েদের একাকিত্বের হৃদয়ে
পর্ব ৪০: গোয়েটের ভালোবাসার চিঠিই বাড়িয়ে দিয়েছিল ইউরোপের সুইসাইড প্রবণতা
পর্ব ৩৯: লেখার টেবিল বাঙালির লাজ ভেঙে পর্নোগ্রাফিও লিখিয়েছে
পর্ব ৩৮: বঙ্গীয় সমাজে বোভেয়ার ‘সেকেন্ড সেক্স’-এর ভাবনার বিচ্ছুরণ কতটুকু?
পর্ব ৩৭: ভক্তদের স্তাবকতাই পাশ্চাত্যে রবীন্দ্র-কীর্তি স্থায়ী হতে দেয়নি, মনে করতেন নীরদচন্দ্র চৌধুরী
পর্ব ৩৬: একাকিত্বের নিঃসঙ্গ জলসাঘরে মারিও ভার্গাস লোসা যেন ছবি বিশ্বাস!
পর্ব ৩৫: জীবনের বাইশ গজে যে নারী শচীনের পরম প্রাপ্তি
পর্ব ৩৪: যা যা লেখোনি আত্মজীবনীতেও, এইবার লেখো, রাস্কিন বন্ডকে বলেছিল লেখার টেবিল
পর্ব ৩৩: ফিওনার সেই লেখার টেবিল মুছে দিয়েছিল মেয়েদের যৌনতা উপভোগের লজ্জারেখা
পর্ব ৩২: বাঙালি নয়, আন্তর্জাতিক বাঙালির সংজ্ঞায় স্পিভাক এসে পড়বেনই
পর্ব ৩১: প্রতিভাপাগল একটি বই, যাকে দিনলিপি বলে সামান্য করব না
পর্ব ৩০: পতিতালয়ের সেই লেখার টেবিল জাগিয়ে তুলেছিল ইসাবেলের হৃদয়-চেতনা
পর্ব ২৯: পাথরে প্রাণ আনে যে টেবিলের স্পর্শ
পর্ব ২৮: নিজের টেবিলকে কটাক্ষ করি, কেন অ্যানে মাইকেলসের মতো লিখতে পারি না?
পর্ব ২৭: নারীর রাগ-মোচনের কৌশল জানে মিলান কুন্দেরার লেখার টেবিল!
পর্ব ২৬: ভালোবাসা প্রকাশের সমস্ত শব্দ পেরিয়ে গিয়েছিল এলিয়টের লেখার টেবিল
পর্ব ২৫: যে টেবিলে জন্ম নেয় নগ্নতা আর যৌনতার নতুন আলো
পর্ব ২৪: প্রেমের কবিতার ভূত জন ডানকে ধরেছিল তাঁর উন্মাদ টেবিলে, মোমবাতির আলোয়
পর্ব ২৩: যে টেবিল আসলে বৈদগ্ধ আর অশ্লীলতার আব্রুহীন আঁতুড়ঘর!
পর্ব ২২: মহাবিশ্বের রহস্য নেমে এসেছিল যে টেবিলে
পর্ব ২১: গাছ আমাদের পূর্বপুরুষ, লেখার টেবিল বলেছিল হোসে সারামাগোকে
পর্ব ২০: টেবিলের কথায় নিজের ‘হত্যার মঞ্চে’ ফিরেছিলেন সলমন রুশদি
পর্ব ১৯: প্রতিভা প্রশ্রয় দেয় অপরাধকে, দস্তয়েভস্কিকে শেখায় তাঁর লেখার টেবিল
পর্ব ১৮: বিবেকানন্দের মনের কথা বুঝতে পারে যে টেবিল
পর্ব ১৭: ‘গীতাঞ্জলি’ হয়ে উঠুক উভপ্রার্থনা ও উভকামনার গান, অঁদ্রে জিদকে বলেছিল তাঁর টেবিল
পর্ব ১৬: যে লেখার টেবিল ম্যাকিয়াভেলিকে নিয়ে গেছে শয়তানির অতল গভীরে
পর্ব ১৫: যে অপরাধবোধ লেখার টেবিলে টেনে এনেছিল শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে
পর্ব ১৪: লেখার টেবিল গিলে নিচ্ছে ভার্জিনিয়া উলফের লেখা ও ভাবনা, বাঁচার একমাত্র উপায় আত্মহত্যা
পর্ব ১৩: হ্যামনেট ‘হ্যামলেট’ হয়ে বেঁচে থাকবে অনন্তকাল, জানে সেই লেখার টেবিল
পর্ব ১২: রবীন্দ্রনাথের লেখার টেবিল চিনতে চায় না তাঁর আঁকার টেবিলকে
পর্ব ১১: আর কোনও কাঠের টেবিলের গায়ে ফুটে উঠেছে কি এমন মৃত্যুর ছবি?
পর্ব ১০: অন্ধ বিনোদবিহারীর জীবনে টেবিলের দান অন্ধকারের নতুন রূপ ও বন্ধুত্ব
পর্ব ৯: বুড়ো টেবিল কিয়ের্কেগার্দকে দিয়েছিল নারীর মন জয়ের চাবিকাঠি
পর্ব ৮: অন্ধকারই হয়ে উঠলো মিল্টনের লেখার টেবিল
পর্ব ৭: কুন্দেরার টেবিলে বসে কুন্দেরাকে চিঠি
পর্ব ৬: মানব-মানবীর যৌন সম্পর্কের দাগ লেগে রয়েছে কুন্দেরার লেখার টেবিলে
পর্ব ৫: বিয়ের ও আত্মহত্যার চিঠি– রবীন্দ্রনাথকে যা দান করেছিল লেখার টেবিল
পর্ব ৪: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের টেবিল আর তারাপদ রায়ের খাট, দুই-ই ছিল থইথই বইভরা
পর্ব ৩: টেবিলের গায়ে খোদাই-করা এক মৃত্যুহীন প্রেমের কবিতা
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved