

আমির খানের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে ওঁর বাড়িতেই ছিলাম কয়েকদিন। পাঁচগনির সেই বাড়িতে একটি বিলাসবহুল টয়লেট আমার থাকার ঘরের লাগোয়া ছিল। সেখানে স্নানঘরের যাবতীয় কিছুর সঙ্গে, কমোডের ডাইনে-বাঁয়ে দেওয়ালের গায়ে পছন্দমতো ছোট্ট লাইব্রেরিও ছিল। ছিল বসে বই পড়া এবং নোট লেখার ব্যবস্থা।
কয়েক বছর আগে হাওড়া স্টেশন থেকে বেরিয়ে সেই দুর্গন্ধময় ছোট টানেল পার হয়ে যেখানে ব্রিজে ওঠার মোড়, তার ঠিক আগেটায় স্বগতোক্তি শুনলাম– ‘রাস্তা যে কে চেনে!’ তারপর সওয়ারির উদ্দেশে, ‘এই যে জায়গাটা দেখছেন, ৫০ বছর আগে এইখানে কী ছিল জানেন?’
কথামৃত মুখের থেকে নিঃসৃত অমৃত, তা পান করলে তা ভেতরে বইতে থাকে। যার ভেতরে গেল তার আধার অনুযায়ী নানা বদল হয়। ঠাকুরের গল্প আর উপদেশ তার মনের মধ্যে সেঁধিয়ে গিয়ে তার হয়ে যায়।
এক দেবীরই কতরকম রূপ। সাধনাও কত আলাদা আলাদা। কোথাও সাড়ম্বরে ষোড়শোপচারে পূজা হয়। কোথাও আবার তারই সঙ্গে পশুবলিও হয়। কোথাও পুজো-আচ্চা সবই গোপন। কেউ শ্মশানে শবসাধনা করে।
ঢেঁকির সঙ্গে শিবের গাজনের যোগ ছিল। কাঠের তৈরি বাণেশ্বরের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকার জন্য লোকে বলত ‘ঢেঁকি বাণেশ্বর’। উত্তর রাঢ়ের শিবগাজনে ভক্তদের সঙ্গে অনেকে মাথায় ঢেঁকি চাপিয়ে নাচতেন। আবার শিবতলায় গিয়ে কোনও ভক্তকে ঢেঁকির উপর বসিয়ে সাতপাক ঘোরাতেন।
শুরুর কলাভবনের অন্দরমহল। শান্তিনিকেতনে ক্লাসের সহজ অনাড়ম্বর অন্দরসজ্জা ছিল আশ্রমজীবনের সঙ্গে বেশ মানানসই। মার্কা দেওয়া আর্ট কলেজের মতো নয়, একেবারে সাদাসাপ্টা। ব্যবস্থাপনাও খানিক আলাদা।
দুই শিল্পী, যারা শুধু জানে সৃজনের আনন্দ। যে আনন্দের তুল্য কিছু নেই। কিন্তু সেই আনন্দের উৎসার অন্যায় ও পাপ থেকে। এবং তারা মরছেও সেই দু’টি অসুখে, যাকে সমাজ-সংসার বলে পাপের শাস্তি। পঙ্ক থেকেই জন্মাচ্ছে সৃষ্টির পদ্ম।
জ্যোতির্ময়ী দেবীর তিনটি বইয়ের জন্য তাঁর ছবি-সহ রচনা-সংকলনের জন্মশতবার্ষিকী সংস্করণের অগ্রিম গ্রাহক পেতে (বইপাড়ার চলতি ভাষায় এখন যাকে ‘প্রি-বুকিং’ বলে) আমরা একটি ফোল্ডার প্রকাশ করেছিলাম। তাঁর শততম জন্মদিনে ‘বর্তমান’ পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। তাতে বেশ সাড়াও পাওয়া গিয়েছিল।
প্রায় ২০ জন কবিতা পড়লেন। গল্প ও নাটকের অংশবিশেষও পড়া হল। সে সাহিত্যের অন্যতম বিষয় তখন মণিপুরে ঘটে চলা রক্তক্ষয়ী ঘটনা ও মৃত্যু। সন্ধে নামলে গুলিগালার শব্দ আর আধাসামরিক বাহিনীর ভারী গাড়ির সশব্দ যাতায়াত তখন মণিপুরের মানুষের নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা।
সতী-ভৈরবী ছিলেন মোটামুটি ফরসা, মুখমণ্ডল সবিশেষ গৌর। অথচ সেই মুহূর্তে তাঁর মুখখানা যেন গাঢ় মসীবর্ণ ধারণ করেছে। কপালে ও সিঁথিতে সিঁদুরের চিহ্ন যেন আরও বেশি জ্বলজ্বল করছে। এই সতী-ভৈরবীকে আমি এর আগে দেখিনি কখনও। কেমন যেন ভয়-ভয় করতে লাগল আমার।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved