Robbar

চিঠির মোড়কে নষ্ট প্রেমের গোপন অভিসার

Published by: Robbar Digital
  • Posted:March 16, 2026 8:48 pm
  • Updated:March 16, 2026 8:48 pm  

পুরো চিঠিটা একটা সিনেমা। দৃশ্যের পর দৃশ্য। অতুলনীয়। তবে আমাদের দেশে সত্যি সত্যি প্রাপ্তবয়স্ক ছবি তো হয় না। সবই ‘খোকাখুকু’ সিনেমা। সারা দেশটাই খোকাখুকি ভরা। কেউ কখনও বড় হয় না। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া নিষিদ্ধ। আজীবন বনসাই জীবন। টবের মধ্যে বটগাছ হয়ে বেঁচে থাকা। দ্য সেন্সরড অ্যাবসার্ড!

রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

৮৫.

পাঁচ পাতার ছোটগল্প। নাম ‘দ্য লেটার’। লেখক জেফ্রি আর্চার। আমার মতে, এই যুগের শ্রেষ্ঠ গল্পকারদের একজন। ‘দ্য লেটার’ গল্পটা পাওয়া যাবে ‘প্যান বুকস’ প্রকাশিত আর্চারের ৮৫৮ পাতার ‘দ্য নিউ কালেক্টেড শর্ট স্টোরিজ’-এ।

জেফ্রি আর্চার

আর্চারের উপন্যাস এবং তাঁর ঈর্ষণীয় লেখার টেবিল এবং বাণিজ্যিক সাফল্য নিয়ে আগে লিখেছি। কিন্তু তাঁর ছোটগল্পের সোনার খনি নিয়ে কখনও কিছু লিখিনি।

‘দ্য লেটার’ গল্পটা অন্তত তিন-চারবার পড়েছি। এবং আজকের কাঠখোদাইয়ে এই গল্পটা নিয়ে লেখার লোভ সামলাতে চাই না। চারটে কারণে।

১. গল্পটা শেষ লাইন পর্যন্ত থ্রিলিং।
২. লেখার টেবিলটা কত ধুরন্ধর হলে এমন একটা বেপরোয়া সুপারহিট গল্প লেখা যায়!
৩. গল্পটা টু ইন ওয়ান! ‘দ্য লেটার’ একটা দুর্ধর্ষ ছোটগল্প এবং একইসঙ্গে উপচে পড়া সেক্সের শর্ট ফিল্ম।
৪. ফিল্মটা করবে কে? সৃজিত মুখার্জি? কৌশিক গাঙ্গুলি? অঞ্জন দত্ত? তবে গল্পটাকে পুরোপুরি বাঙালি করার পরে, তিনজনে তিনরকম মোচড় নিয়ে আসবে, সে-বিষয়েও আমি নিশ্চিত। সেই আকর্ষণীয় অ্যাম্বিভালেন্স গল্পে আছে!

এবার গল্পে আসি। গল্পের শুরু: All the guests were seated around the breakfast table where Muriel Arbuthnot strode into the room, clutching the morning post. She extracted a long white envelope from the pile and handed it over to her oldest chum.

শুরুর বাক্যটা পড়লে মনে হয়, ব্রেকফাস্ট টেবিলে অনেকে বসেছে। তা নয়। ব্রেকফাস্ট টেবিলে মাত্র দু’জন। স্বামী-স্ত্রী। রবার্ট এবং অ্যানা। এরা এসেছে মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আরবুথনটের বাড়িতে, উইকএন্ড কাটাতে। সারা গল্পে মিস্টার রেগি আরবুথনট অনুপস্থিত। সুতরাং, মূল চরিত্র তিনজন। অ্যানা, রবার্ট, মুরিয়েল। মুরিয়েল এইমাত্র ঘরে ঢুকে অনেক দিনের পুরনো বন্ধু অ্যানার কাছে এল। অ্যানা ব্রেকফাস্ট টেবিলে বসে। ওই টেবিলেই অনেকটা দূরে তার স্বামী রবার্ট ডুবে আছে ‘দ্য টাইমস’ সংবাদপত্রে। মুরিয়েলের হাতে সকালের পোস্টে আসা একতাড়া চিঠিপত্র। তার থেকে একটা লম্বা খাম বের করে সে বন্ধু অ্যানার হাতে ধরিয়ে দেয়। অ্যানা খামটা হাতে পেয়েই চমকে ওঠে। খামের ওপর চেনা হাতের লেখা। মুহূর্তে তার মুখে হাসি ফুটে ওঠে। এই চমক সে আশা করেনি। স্বামীর দিকে তাকায়। সে নজর করেনি তো? না, ডুবে আছে খবরের কাগজে।

অ্যানা কোলের ওপর খামটা রেখে আঙুল গলিয়ে খাম খোলার চেষ্টা করে। তার চোখ কিন্তু স্বামীর ওপর। রবার্ট হঠাৎ তাকায় তার দিকে। হাসে। অ্যানাও হাসে। কিন্তু কোলের ওপর খামটা ফেলে সে তাড়াতাড়ি টেবিল থেকে কাঁটাটা তুলে একটা মাশরুম মুখে দেওয়ার চেষ্টা করে। চিঠিটা খোলার সে আর কোনও চেষ্টা করে না, যতক্ষণ না রবার্ট আবার মগ্ন হয় খবরের কাগজে। অ্যানা বুঝতে পারে কিছুক্ষণের মধ্যেই, তার স্বামী ঢুকে পড়েছে ‘দ্য টাইমস’-এর বাণিজ্য সেকশনে। সে এবার নিশ্চিন্ত। সে টেবিল থেকে মাখন লাগানোর ছুরিটা তুলে নিয়ে খামের কোণে ঢোকায়। ধীরে ধীরে খামটা ছিঁড়ে ছুরিটা নিঃশব্দে মাখনদানির পাশে রাখে। এরপর অ্যানার পরের চাল। তার আগে স্বামীকে আর একবার দেখে নেয়। রবার্ট এখনও সংবাদপত্রের আড়ালে।

She held down the envelope with her hand, while carefully extracting the letter with her right. She then placed the envelope in the bag by her side.

এরপর একটি নিখুঁত নাটকীয় বাক্য। বেস্টসেলার লেখকের সবথেকে অব্যর্থ অস্ত্র। এবং শুরু হল সিনেমা। ছবিটা চোখের সামনে দেখতে পাবেন: One more casual glance in Robert’s direction; as he remained out of sight (কেননা তার মুখের সামনে উঁচু করে ধরা খবরের কাগজ), she unfolded the two-page letter.

পুরো চিঠিটা একটা সিনেমা। দৃশ্যের পর দৃশ্য। অতুলনীয়। তবে আমাদের দেশে সত্যি সত্যি প্রাপ্তবয়স্ক ছবি তো হয় না। সবই ‘খোকাখুকু’ সিনেমা। সারা দেশটাই খোকাখুকি ভরা। কেউ কখনও বড় হয় না। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া নিষিদ্ধ। আজীবন বনসাই জীবন। টবের মধ্যে বটগাছ হয়ে বেঁচে থাকা। দ্য সেন্সরড অ্যাবসার্ড!

চিঠির প্রথম প্যারা। এই রকম প্রেমপত্র কতদিন পড়েননি বলুন তো? জীবনে একবারও কি পেয়েছেন এমন চিঠি? বরের সামনে বসে এমন প্রেমের চিঠি পড়ার থ্রিল ও পরম-লগ্ন কি এসেছে জীবনে?
‘My darling Titania’. The first night of the Dream at Stratford, followed by the first night they had slept together. (এই দুটো রাতের ছবি, নারী-পুরুষের রসায়ন ও বাৎস্যায়ন যাপন তিন পরিচালক ভিন্ন ভিন্ন ভাবে ভাবতে পারে। তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা, যতটুকু এই দেশের সেন্সর বোর্ডের লক্ষণরেখার মধ্যে সম্ভব)। তারপর এই মারাত্নক বাক্য: Two firsts on the same night. I am sitting in my bedroom, our bedroom, penning these thoughts only moments after you have left me. This is a third attempt, as I can’t find the right words to let you know how I really feel.

পরের বাক্যটি প্রায় আত্মজৈবনিক। এই চিঠি আসছে এমন একজন লেখকের কাছ থেকে, যে শব্দ, বাক্য, ভাষা বিক্রি করে তৈরি করেছে তার বিশাল আর্থিক সম্পদ। জেফ্রি আর্চারের মতো বেস্টসেলার লেখক যখন বলে এক নারীকে, তার কাছ থেকে পাওয়া উত্তেজনা, সুখ, সম্ভোগের বর্ণনা করার ভাষা তাঁর নেই, সেটা ওই নারীর বেশ কিছু প্রাপ্তি নয় কি?
Anna smiled. For a man who had made his fortune with words, that must have been quite difficult for him to admit.

এইবার অ্যানাকে সেই লেখক প্রেমিক ওই প্রণয়পত্রে ভাষার তুবড়ি জ্বালিয়ে জানাচ্ছে:
Last night you were everything a man could ask from a lover: You were exciting, tender, provocative, teasing, and for an exquisite moment, a rampant whore.

গত রাত্রে একজন পুরুষ যা চাইতে পারে তার প্রেমিকার কাছে, সব হয়েছিলে তুমি। কখনও উত্তেজক। কখনও কোমল। কখনও কামোদ্দীপক। কখনও খুনসুটি ভরা। এবং এক অনবদ্য মুহূর্তে তুমি হয়ে উঠলে অবাধ উন্মত্ত বেশ্যা।
I wanted you to come back home with me. I lay awake all night imagining you lying next to the prune.

আমি চেয়েছিলাম আমার সঙ্গে আমার বাড়িতে চলে এসো। তুমি এলে না। আমি সারা রাত ঘুমোতে পারিনি। ভেবেছি তুমি ওই মিনসে, ওই শালা শুকনো খেজুরটার পাশে শুয়ে! অ্যানা এটা পড়ার পরেই রবার্টের দিকে তাকায়। সে খবরের কাগজের শেষ পাতায়।

অ্যানা বাকি চিঠি না-পড়ে থাকতে পারে না। সে ঝুঁকি নেয়। বাকি চিঠিতে চোখ রাখে: ১১ দিন আমাকে তুমি অপেক্ষা করিয়ে রাখলে। শুকনো খেজুরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকলে। তারপর, the prune was away in Brussels. That night went far too quickly for me.

আমার কাছ অন্তত মনে হল, রাতটা এল আর গেল। মনে আছে তোমার, তুমি আমার ঝি সেজে আমাকে মশগুল রেখেছিলে? যদি তোমার শুকনো খেজুর তোমাকে ওই পোশাকে কোনওদিন দেখত! আমার কিন্তু বেশ লেগেছিল। একেবারে অন্য তুমি, ইন ইওর মেড’স আউটফিট!
In a white see-through blouse, no bra, a skin-tight black leather skirt with a zip up the front, fishnet stockings and stiletto-heels, not forgetting the shocking-pink lipstick.

সত্যি মানুষটাকে এতটাই আনন্দ দিতে পেরেছি! তাহলে তো ওর খরচে আরও একদিন সোহোতে শপিং ট্রিপ করাই যায়, ভাবে অ্যানা। চিঠিটা থেকে সে চোখ তুলতে পারে না:
My darling, there is no aspect of our lovemaking that I don’t relish, but I confess that what turns me on the most is the places you choose when you can only take an hour off work during your lunch break. I can recall every one of them. On the back seat of my Mercedes in that NCP carpark in Mayfair; the service lift in Harrods; the loo at the Caprice. But the most exciting of all was that little box in the dress circle at Covent Garden during a performance of Tristan and Isolde. Once before the first interval and then again during the final act-well, it is long opera.

এখানে নিজেকে সামলাতে পারেনি অ্যানা। খিলখিল করে হেসে ফেলেছে! সে কী করে ভুলে গেল কিছু দূরে, টেবিলের অন্য মাথায় বসে রবার্ট! সে তাকায়। খবরের কাগজের ওপর দিয়ে রবার্টের চোখ উঁকি দিচ্ছে।
–হঠাৎ হাসলে কেন? রবার্ট প্রশ্ন করে।
–জেমস বন্ডের ছবি। গম্বুজের ওপরে ল্যান্ড করছে। তোমার খবরের কাগজটার প্রথম পাতায়।
–তাই! রবার্ট কাগজের প্রথম পাতাটা দেখে। হাসে না। গম্ভীরভাবে বিজনেস পাতায় ফিরে যায়।
(চিঠির এখানে কল্পিত দৃশ্যগুলোর এক এক রূপ ফুটিয়ে তুলতে পারে এক এক পরিচালক। অনন্ত সম্ভাবনা। যার যেমন বাৎস্যায়ন যাপনের ইচ্ছে ও তাড়না, তার তেমন ফ্ল্যাশব্যাক! শর্ট ফিল্মে কয়েকটা ঝলকে কী কাণ্ডই না ঘটানো যায়!)

বাকি চিঠিতে ফিরে না-গিয়ে অ্যানা পারে না:
What maddens me most about your spending the weekend with Muriel and Reggie Arbuthnot is the thought of your being in the same bed as the prune. I’ve tried to convince myself that as the Arbuthnots are related to the Royal family, they’ve probably given you separate bedrooms.

আমাকে সবচেয়ে বেশি পাগল করে যে ভাবনা সেটা এই: আরবুথনটদের বাড়িতে উইকএন্ড কাটাতে তুমি শুকনো খেজুরের সঙ্গে এক বিছানায় রাত কাটাচ্ছ। তবে আমি জেনেছি, আরবুথনট পরিবার কোনওভাবে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে ডালপালায় জড়িত। আমি নিজেকে বোঝাতে চেষ্টা করছি, আমাদের রয়্যাল ফ্যামিলির রীতি অনুসারে ওরা স্বামী-স্ত্রীকে নিশ্চয় দুটো আলাদা ঘর দিয়েছে।

তাই তো! সত্যিই দুটো সেপারেট বেডরুম দিয়েছে! ইসস! ওকে যদি এক্ষুনি জানাতে পারতাম!

সৃষ্টির ভুবনে মগ্ন আর্চার

আরও লিখেছে লেখক প্রেমিক। অ্যানা ফিরে যায় চিঠিতে:
I can see him now sitting on the far side of the breakfast table. Harris tweed jacket, grey trousers, checked shirt, wearing an MCC tie.

এবার অ্যানা হইহই করে হেসে উঠল। এবং গল্পে এই একবার মাত্র ঢুকল রেগি আরবুথনট: ‘কেউ টেনিস খেলতে ইন্টারেস্টেড?’

‘আমি অবশ্যই চাই’, অ্যানা চট করে চিঠিটা টেবিলের তলায় লুকিয়ে ফেলে বলল। রাজি হল না রবার্ট। তার কিছু টেলিফোন কল করতে হবে।

রবার্ট তার ঘরে ফিরে গেল। অ্যানা আবার চিঠিতে ফিরে গেল। তার নজরে পড়ল, টেবিলে চশমা ফেলে গিয়েছে রবার্ট। ঘরে ফেরার সময় আমিই নিয়ে যাব চশমা, আগে বাকি চিঠিটা নিশ্চিন্তে পড়া যাক। টেনিস খেলার ডাক দিয়ে রেগিও বাইরে চলে গিয়েছে। ঘরে অ্যানা একা। সে চিঠিতে মন দেয়:
আমাদের সম্পর্কের এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে। কীভাবে অ্যানিভারসারি প্ল্যান করেছি, শোনো। সেই সময় তোমার শুকনো খেজুর লিডসে থাকবে, কনফারেন্স। আর তুমি কী করবে, শোনো:
I want to be tied up in a four- poster bed, with you standing over me in a police sergeant’s uniform: truncheon, whistle, handcuffs, wearing tight black outfit with silver buttons down the front, which you will undo slowly to reveal a black bra. And my darling , you are not to release me until I have made you scream at the top of your voice, the way you did in that underground carpark in Mayfair.

ভাবনার পৃথিবীতে একটু বিরতি

অ্যানা চোখ তুলে তাকায়। তার চোখে পড়ে, টেবিলে রবার্টের চশমা নেই। তার পিছনে রবার্টের কণ্ঠে বিস্ফোরণ। সে পিছনে দাঁড়িয়ে চিঠিটা পড়েছে: What scoundrel could write such an outrageous letter to a married woman?

অ্যানা আঁতকে ওঠে। রবার্টের কপালে ঘামের ফোঁটা। ঠিক সময় টেনিস র‍্যাকেট হাতে বন্ধু মুরিয়েল এসে দাঁড়ায় অ্যানার সামনে। ‘আমি কী করে জানব কে লিখেছে! তবে এইটুকু জানি, তোর যতই ফ্যাসিনেটিং লাগুক, চিঠিটা রেগির হাতে পড়লে কিন্তু সর্বনাশ হবে।’ অ্যানা হাসতে হাসতে চিঠিটা গুঁজে দেয় মুরিয়েলের হাতে।

এই না হলে বন্ধু! মনে হয় অ্যানার। সে মুরিয়েলকে আলতো চোখ মারে!

…………………….. পড়ুন কাঠখোদাই-এর অন্যান্য পর্ব  ……………………

পর্ব ৮৪: চা নয়, চায়ের বই যখন প্রেমের অনুঘটক

পর্ব ৮৩: আধ্যাত্মিক বিরহ দিয়ে গড়া প্রেমের মহাকাব্য

পর্ব ৮২: এক মৃত্যুহীন ক্লাসিক কিংবা যৌনতার সহজপাঠ

পর্ব ৮১: দেশহীন, ভাষাহীন ঝুম্পা

পর্ব ৮০: সাহসী প্রেমের চিঠি লেখা শিখিয়েছিল যে বাঙালি যুগল

পর্ব ৭৯: সুরানিলয়ের টেবিল থেকেই জন্ম নিয়েছিল উপন্যাসের ভাবনা

পর্ব ৭৮: একবিন্দু আত্মকরুণা নেই অঞ্জনের আত্মজীবনীতে

পর্ব ৭৭: অ্যানির ‘দ্য ইয়ার্স’ শেখায় অন্তহীন ইরোটিসিজম-ই জীবনের পরমপ্রাপ্তি

পর্ব ৭৬: জয় গোস্বামীর সাজেশনে মুগ্ধতা জাগাল ‘সিম্পল প্যাশন’

পর্ব ৭৫: যে নারীর শেষপাতা পর্যন্ত পৌঁছতে পারেননি লেখক

পর্ব ৭৪: সেই তরুণীর জন্য বেঁচে আছে বোকা মনকেমন!

পর্ব ৭৩: কাফকার ভয়-ধরানো প্রেমপত্র!

পর্ব ৭২: থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা, কলকাতা বইমেলায় শ্রেষ্ঠাংশে তবে রবীন্দ্র-ওকাম্পো?

পর্ব ৭১: একশো বছরের নৈরাজ্য ও একটি লেখার টেবিল

পর্ব ৭০: আত্মজীবনী নয়, মার্গারেটের ব্রতভ্রষ্ট স্মৃতিকথা

পর্ব ৬৯: রুশদির ‘দ্য ইলেভেনথ আওয়ার’ শেষ প্রহরের, অনিবার্য অন্তিমের দ্যোতক

পর্ব ৬৮: মাংসও টেবিলের কাছে ঋণী

পর্ব ৬৭: ভ্রমণ-সাহিত্যকে লাজলো নিয়ে গেছেন নতুন পারমিতায়

পর্ব ৬৬: নরম পায়রার জন্ম

পর্ব ৬৫: যে বইয়ের যে কোনও পাতাই প্রথম পাতা  

পর্ব ৬৪: খেলা শেষ করার জন্য শেষ শব্দ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন জেফ্রি আর্চার

পর্ব ৬৩: সহজ ভাষার ম্যাজিক ও অবিকল্প মুরাকামি

পর্ব ৬২: জীবন তিক্ত এবং আশা করা ভুল, এই দর্শনই বিশ্বাস করেন ক্রাজনাহরকাই

পর্ব ৬১: লন্ডনে ফিরে এলেন অস্কার ওয়াইল্ড!

পর্ব ৬০: পাপ ও পুণ্যের যৌথ মাস্টারপিস

পর্ব ৫৯: মাতৃভক্তির দেশে, মাকে ছেড়ে যাওয়ার আত্মকথন

পর্ব ৫৮: চিঠিহীন এই যুগের শ্রেষ্ঠ প্রণয়লিপি

পর্ব ৫৭: লেখার টেবিল কি জানে, কবিতা কার দান– শয়তান না ঈশ্বরের?

পর্ব ৫৬: প্রেমের নিশ্চিত বধ্যভূমি বিয়ে, বার্ট্রান্ড রাসেলের লেখার টেবিল জানে সেই নির্মম সত্য

পর্ব ৫৫: জুলিয়া রবার্টসকে হিন্দুধর্মে দীক্ষা দিয়েছিল একটি বই, একটি সিনেমা

পর্ব ৫৪: আপনার লেখার টেবিল নেই কেন মানিকদা?

পর্ব ৫৩: পুরুষরা যে কতদূর অপদার্থ, ড্রেসিং টেবিলের দেখানো পথে মেয়েরা প্রমাণ করে দেবে

পর্ব ৫২: একটাও অরিজিনাল গল্প লেখেননি শেক্সপিয়র!

পর্ব ৫১: প্রমথ-ইন্দিরার মতো প্রেমের চিঠি-চালাচালি কি আজও হয়?

পর্ব ৫০: হাজার হাজার বছর আগের পুরুষের ভিক্ষা এখনও থামেনি

পর্ব ৪৯: কুকথার রাজনীতিতে অমরত্বের স্বাদ পেয়েছেন জর্জ অরওয়েল 

পর্ব ৪৮: টেবিলই ওকাম্পোর স্মৃতি, আত্মজীবনীর ছেঁড়া আদর

পর্ব ৪৭: শেষ বলে কিছু কি থাকতে পারে যদি না থাকে শুরু?

পর্ব ৪৬: যে টেবিলে দেবদূত আসে না, আসে শিল্পের অপূর্ব শয়তান

পর্ব ৪৫: ফ্রেডরিক ফোরসাইথকে ফকির থেকে রাজা করেছিল অপরাধের পৃথিবী

পর্ব ৪৪: আম-বাঙালি যেভাবে আমকে বোঝে, দুই আমেরিকান লেখিকা সেভাবেই বুঝতে চেয়েছেন

পর্ব ৪৩: দু’পায়ে দু’রকম জুতো পরে মা দৌড়ে বেরিয়ে গেল, ইবতিসম্‌-এর উপন্যাসের শুরু এমনই আকস্মিক

পর্ব ৪২: অন্ধকার ভারতে যে সিঁড়িটেবিলের সান্নিধ্যে রামমোহন রায় মুক্তিসূর্য দেখেছিলেন

পর্ব ৪১: বানু মুশতাকের টেবিল ল্যাম্পটির আলো পড়েছে মুসলমান মেয়েদের একাকিত্বের হৃদয়ে

পর্ব ৪০: গোয়েটের ভালোবাসার চিঠিই বাড়িয়ে দিয়েছিল ইউরোপের সুইসাইড প্রবণতা

পর্ব ৩৯: লেখার টেবিল বাঙালির লাজ ভেঙে পর্নোগ্রাফিও লিখিয়েছে

পর্ব ৩৮: বঙ্গীয় সমাজে বোভেয়ার ‘সেকেন্ড সেক্স’-এর ভাবনার বিচ্ছুরণ কতটুকু?

পর্ব ৩৭: ভক্তদের স্তাবকতাই পাশ্চাত্যে রবীন্দ্র-কীর্তি স্থায়ী হতে দেয়নি, মনে করতেন নীরদচন্দ্র চৌধুরী

পর্ব ৩৬: একাকিত্বের নিঃসঙ্গ জলসাঘরে মারিও ভার্গাস লোসা যেন ছবি বিশ্বাস!

পর্ব ৩৫: জীবনের বাইশ গজে যে নারী শচীনের পরম প্রাপ্তি

পর্ব ৩৪: যা যা লেখোনি আত্মজীবনীতেও, এইবার লেখো, রাস্কিন বন্ডকে বলেছিল লেখার টেবিল

পর্ব ৩৩: ফিওনার সেই লেখার টেবিল মুছে দিয়েছিল মেয়েদের যৌনতা উপভোগের লজ্জারেখা

পর্ব ৩২: বাঙালি নয়, আন্তর্জাতিক বাঙালির সংজ্ঞায় স্পিভাক এসে পড়বেনই

পর্ব ৩১: প্রতিভাপাগল একটি বই, যাকে দিনলিপি বলে সামান্য করব না

পর্ব ৩০: পতিতালয়ের সেই লেখার টেবিল জাগিয়ে তুলেছিল ইসাবেলের হৃদয়-চেতনা

পর্ব ২৯: পাথরে প্রাণ আনে যে টেবিলের স্পর্শ

পর্ব ২৮: নিজের টেবিলকে কটাক্ষ করি, কেন অ্যানে মাইকেলসের মতো লিখতে পারি না?

পর্ব ২৭: নারীর রাগ-মোচনের কৌশল জানে মিলান কুন্দেরার লেখার টেবিল!

পর্ব ২৬: ভালোবাসা প্রকাশের সমস্ত শব্দ পেরিয়ে গিয়েছিল এলিয়টের লেখার টেবিল

পর্ব ২৫: যে টেবিলে জন্ম নেয় নগ্নতা আর যৌনতার নতুন আলো

পর্ব ২৪: প্রেমের কবিতার ভূত জন ডানকে ধরেছিল তাঁর উন্মাদ টেবিলে, মোমবাতির আলোয়

পর্ব ২৩: যে টেবিল আসলে বৈদগ্ধ আর অশ্লীলতার আব্রুহীন আঁতুড়ঘর!

পর্ব ২২: মহাবিশ্বের রহস্য নেমে এসেছিল যে টেবিলে

পর্ব ২১: গাছ আমাদের পূর্বপুরুষ, লেখার টেবিল বলেছিল হোসে সারামাগোকে

পর্ব ২০: টেবিলের কথায় নিজের ‘হত্যার মঞ্চে’ ফিরেছিলেন সলমন রুশদি

পর্ব ১৯: প্রতিভা প্রশ্রয় দেয় অপরাধকে, দস্তয়েভস্কিকে শেখায় তাঁর লেখার টেবিল

পর্ব ১৮: বিবেকানন্দের মনের কথা বুঝতে পারে যে টেবিল

পর্ব ১৭: ‘গীতাঞ্জলি’ হয়ে উঠুক উভপ্রার্থনা ও উভকামনার গান, অঁদ্রে জিদকে বলেছিল তাঁর টেবিল

পর্ব ১৬: যে লেখার টেবিল ম্যাকিয়াভেলিকে নিয়ে গেছে শয়তানির অতল গভীরে

পর্ব ১৫: যে অপরাধবোধ লেখার টেবিলে টেনে এনেছিল শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে

পর্ব ১৪: লেখার টেবিল গিলে নিচ্ছে ভার্জিনিয়া উলফের লেখা ও ভাবনা, বাঁচার একমাত্র উপায় আত্মহত্যা

পর্ব ১৩: হ্যামনেট ‘হ্যামলেট’ হয়ে বেঁচে থাকবে অনন্তকাল, জানে সেই লেখার টেবিল

পর্ব ১২: রবীন্দ্রনাথের লেখার টেবিল চিনতে চায় না তাঁর আঁকার টেবিলকে

পর্ব ১১: আর কোনও কাঠের টেবিলের গায়ে ফুটে উঠেছে কি এমন মৃত্যুর ছবি?

পর্ব ১০: অন্ধ বিনোদবিহারীর জীবনে টেবিলের দান অন্ধকারের নতুন রূপ ও বন্ধুত্ব

পর্ব ৯: বুড়ো টেবিল কিয়ের্কেগার্দকে দিয়েছিল নারীর মন জয়ের চাবিকাঠি

পর্ব ৮: অন্ধকারই হয়ে উঠলো মিল্টনের লেখার টেবিল

পর্ব ৭: কুন্দেরার টেবিলে বসে কুন্দেরাকে চিঠি

পর্ব ৬: মানব-মানবীর যৌন সম্পর্কের দাগ লেগে রয়েছে কুন্দেরার লেখার টেবিলে

পর্ব ৫: বিয়ের ও আত্মহত্যার চিঠি– রবীন্দ্রনাথকে যা দান করেছিল লেখার টেবিল

পর্ব ৪: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের টেবিল আর তারাপদ রায়ের খাট, দুই-ই ছিল থইথই বইভরা

পর্ব ৩: টেবিলের গায়ে খোদাই-করা এক মৃত্যুহীন প্রেমের কবিতা

পর্ব ২: লেখার টেবিল ভয় দেখিয়েছিল টি এস এলিয়টকে

পর্ব ১: একটি দুর্গ ও অনেক দিনের পুরনো নির্জন এক টেবিল