Robbar

প্রেমেনদার উৎসর্গ করা বই বেচে দিয়েছিলেন বন্ধু ‘শিব্রাম’!

Published by: Robbar Digital
  • Posted:March 8, 2026 3:20 pm
  • Updated:March 8, 2026 5:43 pm  

প্রেমেন্দ্র মিত্রের দু’টি আসামান্য সংকলন দে’জ পাবলিশিং-এর জন্য সম্পাদনা করে দিয়েছেন অজয় গুপ্ত। ২০১৭-র বইমেলায়, অশোককৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায় আর পম্পা মুখোপাধ্যায়– এই দুই অধ্যাপক দম্পতির সহায়তা নিয়ে অজয়দা নির্মাণ করলেন প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘স্মৃতিকথা ও অন্যান্য’ বইটি। এই বইয়ের প্রধান অবলম্বন প্রেমেনদার ‘নানা রঙে বোনা’ নামক স্মৃতিকথাটি– অবশ্য তার সঙ্গে আরও অনেক গদ্যরচনাও আছে।অন্যদিকে বিশিষ্ট প্রেমেন্দ্র-গবেষক রামরঞ্জন রায়ের অভিভাবকত্বে ২০২২-এর বাংলা নববর্ষ থেকে প্রকাশিত হচ্ছে প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘উপন্যাস সমগ্র’।

সুধাংশুশেখর দে

‘দুনিয়ার ঘনাদা’ প্রকাশের পর আমাকে প্রায় আট বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল প্রেমেনদার পরের বই করতে। দে’জ পাবলিশিং থেকে যখন তাঁর বই বেরুতে শুরু করে তখন তিনি বয়সে প্রবীণ, ফলে নতুন লেখার গতিও কম। তবে আমাকে তাঁর বেশ কয়েকটি বই নতুন করে ছাপতে দেবেন বলেছিলেন। সেই বই পেতে-পেতে ১৯৮৪-র বইমেলা চলে এল। সেবার জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে আমি তাঁর তিনটি বই ছেপেছিলাম।

‘পিঁপড়ে পুরাণ’ বইয়ের প্রচ্ছদ

১৯৮৪-র জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত হল ‘পিঁপড়ে পুরাণ’। হেমেন্দ্র সেন স্ট্রিটে অশোক কুমার ঘোষের নিউ শশী প্রেস থেকে ছাপা বইটির প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করেছিলেন গৌতম রায়। উৎসর্গের পাতায় প্রেমেনদা লিখেছিলেন– ‘চিরকালের ছোটদের হাতে–’। ‘পিঁপড়ে পুরাণ’ বইটিতে নাম-লেখাটির সঙ্গে যোগ করা হয়েছিল ‘আকাশের আতঙ্ক’ নামে তাঁর একটি বিজ্ঞানভিত্তিক ছোটগল্পও।

‘পিঁপড়ে পুরাণ’ কিন্তু প্রেমেনদার একেবারে শুরুর দিকের লেখা। ছোটদের ‘রামধনু’ পত্রিকার সম্পাদক ক্ষিতীন্দ্রনারায়ণ ভট্টাচার্যের অনুরোধে তিনি এই লেখাটি লিখেছিলেন ১৯৩২ সালে। ততদিনে ‘বেনামী বন্দর’, ‘পাঁক’ ইত্যাদি গল্প-উপন্যাসের জন্য তিনি রীতিমতো খ্যাতিমান হয়ে উঠেছেন। ‘রামধনু’র সম্পাদকের সঙ্গে তাঁর আগেই আলোচনা হয়েছিল ছোটদের মধ্যে কীভাবে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো যায়। সেইসব কথা মাথায় রেখেই তিনি লেখেন ‘পিঁপড়ে পুরাণ’। পত্রিকায় ছাপার সময় যার নাম ছিল ‘সেকালের কথা’। পরে ডি এম লাইব্রেরী থেকে বই হওয়ার সময় তিনি লেখাটির নাম পালটে ‘পিঁপড়ে পুরাণ’ করেন। ডি এম লাইব্রেরী সংস্করণের শুরুতে লেখক জানিয়েছিলেন– “পিঁপড়ে পুরাণ বইখানি দেখিয়া আর একটি ছেলেদের সুলিখিত ও সুপ্রকাশিত বইএর কথা মনে পড়িতে পারে। পিঁপড়ে পুরাণ সে বইটির অনেক পরে প্রকাশিত হইল বলিয়া ইহাতে সে বইটির ছায়া আছে একথাও মনে হওয়া অসম্ভব নয়। সেই জন্যেই একথা জানান প্রয়োজন মনে করিতেছি যে, ‘পিঁপড়ে পুরাণ’ উক্ত এইটির প্রায় দুই বৎসর পূর্ব্বেই ‘রামধনু’ পত্রিকায় বাহির হইয়াছিল। শুধু তাই নয়, উক্ত বইএর গল্পের সহিত ইহার কোন মিল নাই।” এখানে নিশ্চয়ই প্রেমেনদা ১৯৩০-এ প্রকাশিত গিরীন্দ্রশেখর বসু-র ‘লালকালো’ বইটির কথা বলতে চেয়েছেন। প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী গিরীন্দ্রশেখরের ‘লালকালো’ বাংলা ভাষার ক্লাসিক। যেখানে লাল পিঁপড়ে আর কালো পিঁপড়ের যুদ্ধে জড়িয়ে গেছে গিরগিটি, মোরগ, ব্যাঙ, ছাতারে পাখি, ইঁদুর ইত্যাদি নানা প্রাণী। দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার, সুকুমার রায়ের সারিতে গিরীন্দ্রশেখরের ‘লালকালো’কে রাখা উচিত বলে আমার মনে হয়। এই বইটির বড় আকর্ষণ হল যতীন্দ্রকুমার সেনের আঁকা ছবি।

লাল-কালো বইয়ের মূল প্রচ্ছদ। শিল্পী: যতীন্দ্রকুমার সেন

প্রেমেনদার ‘পিঁপড়ে পুরাণ’কে সুরজিৎ দাশগুপ্ত বাংলা ভাষার প্রথম কল্পবিজ্ঞানের গল্প বলে চিহ্নিত করেছেন। অবশ্য ১৯৩০-এর দশকে ‘কল্পবিজ্ঞান’ না বলে ‘বিজ্ঞান-নির্ভর’ গল্প বলাই দস্তুর ছিল। ১৯৬৪ সালে ‘প্রেমেন্দ্র মিত্রের বিজ্ঞান-নির্ভর গল্প’ বইটির ভূমিকায় লেখক নিজেই জানিয়েছিলেন–
‘…বাংলা ভাষায় মৌলিক বিজ্ঞান-নির্ভর কাহিনীর সংখ্যা খুব বেশি নয়। আমার ছেলেবেলায় সে রকম কোনও কাহিনি চোখে পড়েছে বলে মনে পড়ে না। প্রথম ইংরেজি শিখে স্কুল লাইব্রেরিতে জুলস ভার্ন-এর একটি উপন্যাস পেয়ে তার মধ্যে মগ্ন হয়ে গিয়েছিলাম। পরবর্তীকালে সেই ছেলেবেলার মগ্নতাই এই ধরনের কাহিনী লেখার চেষ্টায় আমায় অত্যন্ত উৎসাহিত করেছে। প্রথম যখন লিখতে আরম্ভ করি সে সময়ের তুলনায় বর্তমানে বিজ্ঞান-নির্ভর কাহিনী সম্বন্ধে পাঠক সাধারণের ঔৎসুক্য ও অনুরাগ অনেক বেশি বেড়েছে। এটা পাঠকমনের সুস্থ লক্ষণ বলেই আমার মনে হয়।
মানুষের রূপকথা বানাবার ব্যাকুলতা কোনও দিন নষ্ট হবার নয়। রূপকথা বাস্তবতাকে এড়িয়ে যেতে চায়– এ ধারণা নিতান্ত ভ্রান্ত। স্থূলভাবে নকল না করলেও বাস্তবতার নির্যাস নিয়েই তা রচিত। আধুনিক যুগের রূপকথা বিজ্ঞান-ভিত্তিক ও বিজ্ঞানের সার সত্যকে কল্পনার ফুৎকারে ফাঁপিয়ে ভাসানো।’

‘প্রেমেন্দ্র মিত্রের শ্রেষ্ঠ কবিতা’ বইয়ের প্রচ্ছদ

১৯৮৪-র কলকাতা বইমেলা হয়েছিল ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত। সেবারের বইমেলার ঠিক আগে দে’জ থেকে প্রেমেনদার ‘পিঁপড়ে পুরাণ’ আর বইমেলার সময় প্রকাশিত হয়েছিল ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’। প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ প্রথমবার ছাপা হয়েছিল নাভানা থেকে ১৯৫৩ সালে। পরে বইটি ভারবি থেকে প্রকাশিত হয় ১৯৭০ সালে। আমি যখন এই বইটি করলাম তখন স্বাভাবিকভাবেই সে-বইয়ের ভেতরে-বাইরে বেশ খানিকটা বদল করা হয়। গৌতম রায়ের মলাটে বইটা ছেপেছিলাম রমাপ্রসাদ রায় লেনে হরিপদ পাত্রর সত্যনারায়ণ প্রেস থেকে। দে’জ সংস্করণের জন্য সুভাষ মুখোপাধ্যায় একটি ছোট্ট ভূমিকা-তুল্য গদ্যে লিখেছিলেন–

“প্রেমেন্দ্র মিত্রর শ্রেষ্ঠ কবিতা-র এটি নতুন সংস্করণ। এতে একদিকে যেমন অনুবাদ-কবিতা পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে, তেমনি অন্যদিকে এতে স্থান পেয়েছে গ্রন্থাকারে এ যাবৎ অপ্রকাশিত কিছু কবিতা। ফলে, গ্রন্থের কলেবর এক থাকলেও পাঠকদের পক্ষে প্রেমেন্দ্র মিত্রর মৌলিক কবিতা আস্বাদনের সুযোগ এ-বইতে আরও বেড়ে গেছে।
চোখ বাধ সাধায় প্রেমেন্দ্র মিত্রর পক্ষে এ-বই আগাগোড়া দেখে দেওয়া সম্ভব হয়নি। সেধে সে-ভার আমিই কাঁধে তুলে নিয়েছিলাম। ফলে, ভুলত্রুটির দায়ও আমার।
পুরনো কবিতা নির্বাচনে আমার কোনো হাত নেই। পুরনো ধারাই বজার  রাখা হয়েছে। প্রেমেন্দ্র মিত্রর আরও অনেক পাঠকের মত আমিও হয়ত এ-বইতে আরও কিছু কবিতা থাকলে খুশি হতাম। কিন্তু যে কারণে তা সম্ভব হল না, সব পাঠকই আজকের বাজারে তা অনুমান ক’রে নিতে পারবেন।
অনুবাদ কবিতা বাদ পড়ায় যাঁদের মন খুঁত খুঁত করবে, প্রকাশকরা কেউ আলাদাভাবে প্রেমেন্দ্র মিত্রর সব অনুবাদ একত্রে বার করলে তাঁকে নিশ্চয়ই তাঁরা সাধুবাদ দেবেন, তাতে সন্দেহ নেই।”

প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখা মূল চিঠি (৩১ মার্চ, ১৯৮৪)

‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ প্রকাশিত হওয়ার পর প্রেমেনদা আমাকে ৩১ মার্চ নিজের লেটারহেডে লিখেছিলেন–

সুধাংশু,
তুমি তো এখনো আসতে পারলে না। যাই হোক অন্য কাউকে দিয়ে না পাঠিয়ে নিজেই অন্ততঃ গোটা দশেক শ্রেষ্ঠ কবিতা নিয়ে একদিন এসো। আপাততঃ এ চিঠি যার হাত দিয়ে পাঠাচ্ছি সেই কবি সমরেন্দ্র সেনগুপ্তকে এক কপি আমার শ্রেষ্ঠ কবিতা দিও। কবে আসতে পারবে ফোনে জানিও।
প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি
                                                                                    শুভার্থী
                                                                             প্রেমেন্দ্র মিত্র

সমরেন্দ্র সেনগুপ্তের দু’টি বই

বইমেলার পর হয়তো তাঁর বাড়ি যেতে সে-সময় একটু দেরি হয়ে থাকবে। এই চিঠিতে উল্লিখিত কবি এবং পরবর্তীকালে ‘বিভাব’ পত্রিকার সম্পাদক সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত আমার বহুদিনের চেনা মানুষ। সে-বছরের জুলাই মাসেই দে’জ থেকে সমরেন্দ্র সেনগুপ্তর ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ প্রকাশিত হয়েছিল। পরে তাঁর সম্পাদনায় ১৯৯১ সালে ‘বিভাব সুবর্ণজয়ন্তী নির্বাচিত গল্প সংকলন’ও প্রকাশ করেছি। আবার, ১৯৯৮ এবং ২০১১ সালে তাঁর দু’খানি কবিতা বই ‘কফি হাউসের সিঁড়ি’ আর ‘আমার সময় অল্প’ও দে’জ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত

প্রেমেন্দ্র মিত্র কত বড় কবি ছিলেন সে আলোচনা করা আমার সাজে না। তবে তাঁর অনেক কবিতাই আমাদের অল্পবয়সে মানুষের মুখে-মুখে ফিরত সেকথা বলতেই হবে। তবে এহেন প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখক-জীবনের শুরুতে কিন্তু তাঁর কবি-পরিচয় খানিকটা চাপা পড়ে ছিল। বিমল রায়চৌধুরীর ‘দৈনিক কবিতা’ পত্রিকার একটি সংখ্যায় শোভন সোমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে প্রেমেনদা বলেছিলেন–

“…তাহলে শোন, আমাদের সময়ের কথা, আমার কথা বলি। আমার সমকালীন কবি-বন্ধুদের তুলনায় একটু বেশি বয়সে, তখন আমার পনেরো, ফার্স্ট ক্লাসে পড়ি, আমি খুব পরিশ্রম করে প্রথম কবিতা লিখি ডি. এল. রায়ের অনুকরণে। সেই কবিতা দেখে আমাদের রণেন পণ্ডিত, যাঁর কথা অচিন্ত্যের ‘কল্লোল যুগে’ আছে, খুব বাহবা দিয়েছিলেন। আমার কজন বন্ধু ছিল যারা বয়সে আমার চেয়ে কিঞ্চিৎ বড় ছিল, তাদের চেনাজানার পরিধিও বড় ছিল। তারা আমার কবিতা পড়ে বলল, ওটা কবিতাই হয়নি। তারাই রবীন্দ্রনাথের কবিতার সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটিয়ে দেয়। রবীন্দ্রনাথের কবিতায় এক নূতন দিগন্তের বিস্তার দেখতে পেলাম। তারপর খুব কবিতা লিখেছি। কিন্তু ছাপাইনি কোথাও। দীর্ঘকাল আমার কবিতা আমার খাতায় আমারই নিজস্ব ছিল।

কাজী নজরুল ইসলাম ও শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়

তার বেশ কিছুদিন পর গল্প লিখে তখন আমার কিছু নাম হয়েছে। ‘কল্লোলে’র গল্পলেখক আমি। কাজী নজরুলের এক ছেলের জন্মদিনে কাজী তাঁর হুগলীর বাড়িতে আমাদের ‘কল্লোলে’র সবাইকে ডেকেছেন। কবির মজলিশ বসেছে সেখানে। মুরলীধর বসু হঠাৎ বলে উঠলেন, প্রেমেন, তোমার কবিতা আবৃত্তি কর। শৈলজানন্দ ও মুরলীবাবু আমার আস্তানায় এসে এর আগে আমার কবিতা দেখে গেছেন। আর কেউ আমার কবিতা লেখার কথা জানত না। আমার ও অচিন্ত্যর আবৃত্তি শুনে কাজী ‘কল্লোলে’র সম্পাদক দীনেশরঞ্জন দাশকে বললেন, দীনেশদা, এসব কবিতা ছাপাও না কেন ? … সেই আমার আত্মপ্রকাশ। দেখ, আমরা তখনকার দিনে ট্র্যাডিশন-ভাঙা কবিতা লিখিনি। আমাদের সম্মুখে তখন রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে সত্যেন দত্ত, মোহিতলাল প্রভৃতির ইন্দ্রসভা। আমরা তাঁদের অ্যাডমায়ারার ছিলাম। তাঁদের অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা করতাম। ট্রাডিশন-ভাঙা কবিতা লিখিনি বটে, কিন্তু আমাদেরও যে বলবার কথা আছে, তা অনুভব করেছি। সেই অনুভবের কথা রয়েছে আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথমা’য়।
কবিতার পত্রিকা বার করার প্রয়োজন আমরা খুব তীব্রভাবে অনুভব করেছিলাম। কবিতা তখন মর্যাদা পেত না, কবিতা পাদপূরণ হিসেবে ছাপা হতো। একমাত্র ‘প্রবাসী’তে তখন কবিতার কিছু মর্যাদা ছিল।

আমরা কবিতার মর্যাদার জন্য, কবিতা আলোচনার সুযোগের জন্য, কবিতায় নূতন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ দেবার জন্য এবং আমাদের বক্তব্য প্রকাশের জন্য কবিতার কাগজ বার করেছিলাম, নাম ‘কবিতা’। বিদেশে, নিছক কবিতার এমন কাগজে আছে কিনা, তখনও আমরা জানতাম না। টমসন সাহেব, এডওঅর্ড টমসন তখন সবে এদেশে এসেছেন। ‘কবিতা’ দেখে অভিভূত হয়ে তিনি টাইমস্ লিটারারি সপ্লিমেন্টে ‘কবিতা’ সম্পর্কে লিডিং আর্টিকল লিখলেন। সে আমাদের এক অভাবনীয় স্বীকৃতি।”

দৈনিক কবিতা সংকলনের প্রচ্ছদ (১৯৭২)

প্রেমেনদা বিদেশে শুধু কবিতার জন্য পত্রিকা ছিল কি না তা নিয়ে সংশয়ী হলেও, ‘কবিতা’ পত্রিকার প্রাণপুরুষ বুদ্ধদেব বসু কিন্তু ‘পরিচয়’-এর আড্ডায় অন্নদাশঙ্কর রায়ের হাতে ‘পোয়েট্রি’ পত্রিকা দেখার স্মৃতির কথা উল্লেখ করেছিলেন।

১৯৮৪-র মে মাসে আমি দে’জ থেকে পুনর্মুদ্রণ করেছিলাম প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘পাতালে পাঁচ বছর’। আবারও গৌতম রায়ের প্রচ্ছদ ও অলংকরণে সাজানো বইটি সেসময় আমি ছেপেছিলাম রামদুলাল সরকার স্ট্রিটে অশোককুমার পাঁজার শিবদূর্গা প্রিণ্টার্স [য.] থেকে। ১২ মে ১৯৮৪ সালে লেখা প্রেমেনদার একটি চিরকুটে দেখছি তিনি আমাকে ‘পাতালে পাঁচ বছর’-এর উৎসর্গের পাতায় কী লেখা হবে সেটা জানাচ্ছেন। যেহেতু বইয়ে লেখা আছে ‘প্রথম দে’জ সংস্করণ’ তাই মনে হচ্ছে যে-পুরনো কপি আমি পেয়েছিলাম তাতে হয়তো উৎসর্গের পাতাটি ছিল না। নয়তো আগে প্রকাশের সময় কোনও উৎসর্গই ছিল না।

পাতালে পাঁচ বছর-এর (দে’জ সংস্করণ) প্রচ্ছদ (১৯৮৪)

উৎসর্গের প্রসঙ্গে মনে পড়ে গেল প্রেমেনদার বন্ধু শিবরাম চক্রবর্তীর লেখা ‘ঈশ্বর পৃথিবী ভালবাসা’র কথা। এই অতুলনীয় বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে শিবরাম লিখছেন–

“…‘একটা কথা বলব আপনাকে? কাউকে বলবেন না। প্রেমেন জানলে মনে ব্যথা পাবে, অবশ্যি এখনও যদি তার ব্যথা পাবার মতন মন থেকে থাকে।’
‘বলুন।’
‘প্রেমেনের প্রথম বই ‘পুতুল ও প্রতিমা’, বেরিয়েছিল গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় থেকে। গল্পের বই। অতুলনীয় গল্প সব। অনেকদিনের পর তার দ্বিতীয় সংস্করণ বেরুল সিগনেটের থেকে। তার একখানা কপি হাতে পেতে পাতা উল্টে দেখি, বইটা আমার নামেই উৎসর্গ করা। এ কী। আমি অবাক হয়ে গেলাম দেখে। তোমার প্রথম বইটা আমাকেই দিয়েছ দেখচি। গদগদ কণ্ঠে তাকে বললাম।’
‘সে কি। তুমি জানতে না ?’ সে সুধালো।
‘না এই দ্বিতীয় সংস্করণ বের হবার পর টের পেলাম।’ আমি বলি– ‘দ্বিতীয় সংস্করণটাই দিয়েছ বুঝি আমায়? প্রথম সংস্করণটা কাকে দিয়েছিলে ?’
‘কেন তোমাকেই তো ! তুমি জানতে না ?’ সে তো হতবাক। ‘বইয়ের প্রথম সংস্করণ একজনকে, দ্বিতীয় সংস্করণ আরেকজনকে এরকম দেওয়া যায় নাকি।’… আশ্চর্য। বইটা বেরুবার দিনই তো দিয়েছিলাম তোমায়, তোমার বাসায় গিয়ে, মনে নেই ?’
‘হ্যাঁ, মনে পড়েছে এখন। আমি বাসার থেকে বেরুচ্ছি আর তুমি এলে– পথেই তো দেখা হল, মনে আছে বেশ।’
‘বইয়ের মলাটও উল্টে দ্যাখনি নাকি !’
‘উল্টে দেখার কী ছিল? তোমার সব লেখাই তো মাসিকে বেরুনোর সঙ্গে সঙ্গেই পড়া। একবার নয়, বারবার। সেই সব জানা গল্প আবার নতুন করে জানতে যাবার কী আছে– তাই কোন কৌতূহল হয়নি আমার।
মনে পড়ল তখন। হাতে পেয়ে বইটার মলাট দেখেই খুশি হয়েছিলাম। মলাটের পাতা উল্টে আরো বেশি খুশি হবার সৌভাগ্য আমার ঘটেনি যে, সেটা আমার ললাট। প্রেমেনের বই তখন লোকের হাতে হাতে চলত, তাই মনে হয়েছিল এই দুর্যোগের দিনে এটাকেও হাতে হাতেই চালিয়ে দিই এই সুযোগে। সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে এম সি সরকারে গিয়ে বেচে দিয়ে এসেছিলাম বইটা।”

শিবরাম চক্রবর্তী

শিবরামের সঙ্গে প্রেমেন্দ্র মিত্রের বন্ধুত্ব কিন্তু তাতে নষ্ট হয়নি। বন্ধু ‘শিব্রাম’কে নিয়ে একাধিক লেখা লিখেছেন প্রেমেনদা। আবার ‘পাতালে পাঁচ বছর’ প্রথমবার প্রকাশের পরে শিবরাম লিখেছিলেন– ‘পাতালে বছর পাঁচেক’ নামে একটি গল্প। সেই গল্পের শুরুতেই আছে–
‘তখনই বারণ করেছিলাম গোরাকে সঙ্গে নিতে। ছোটো ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে কোনো বড়ো কাজে যাওয়া আমি পছন্দ করিনে।
আর ওই অপয়া বইখানা। প্রেমেন মিত্তিরের ‘পাতালে পাঁচ বছর’! যখনই ওটা ওর বগলে দেখেছি, তখনই জানি যে, বেশ গোলে পড়তে হবে।
বেরিয়েছি সমুদ্রযাত্রায়,পাতালযাত্রায় তো নয়! সুতরাং, কী দরকার ছিল ও-বই সঙ্গে নেবার? আর যদি নিতেই হয়, তবে আমার ‘বাড়ী থেকে পালিয়ে’ কী দোষ করল?…’

প্রেমেন্দ্র মিত্র যখন মগ্ন পাঠক

১৯৮৮ সালে প্রেমেনদার প্রয়াণের আগে পর্যন্ত এই বইগুলিই দে’জ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। সে-বছর ৩ মে প্রেমেনদা চলে গেলেন, আর সম্ভবত তার পরের দিন তাঁকে শববাহী শকটে বইপাড়ায় নিয়ে আসা হয়। লেখকের প্রয়াণের পর তাঁদের মৃতদেহ বইপাড়ায় আনার রেওয়াজ আমাদের খুব একটা নেই। আমার দেখা প্রথম এমন ঘটনা প্রেমেনদার প্রয়াণের পরই ঘটেছিল। পরে অবশ্য নবারুণ ভট্টাচার্যের মৃত্যুর পর এবং অতি সম্প্রতি আজিজুল হকের প্রয়াণের পর তাঁদের মৃতদেহ কলেজ স্ট্রিটে নিয়ে আসা হয়।

প্রেমেনদার দেহ শববাহী শকটে শায়িত ছিল সংস্কৃত কলেজের উঠোনে। আমাদের বাড়ির ঠিক সামনেই। সেদিন ছোট্ট অপু অনেক ছবিও তুলেছিল। আর আমার স্মৃতিতে আছে নিমাই ভট্টাচার্য একটি মাইকে ধারাবিবরণী দিচ্ছিলেন। হয়তো আকাশবাণীতে সে-ধারাবিবরণী শোনানো হয়েছিল। কেননা প্রেমেনদা আকাশবাণী কলকাতার সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন। সম্ভবত আমৃত্যু তিনি আকাশবাণী কলকাতার উপদেশক ছিলেন। রবীন্দ্র-প্রয়াণের পর শবানুগমনে আকাশবাণীতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রর ধারাবিবরণী এবং সন্ধেয় কাজী নজরুল ইসলামের ‘রবিহারা’ কবিতা আবৃত্তি এবং শিল্পীদের নিয়ে গাওয়া ‘ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবিরে’ গানটির কথা আমরা জানি।

আমি পড়েছি– তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিধানচন্দ্র রায়ের মৃত্যুর পরও আকাশবাণীতে শবানুগমনের ধারাবিবরণী হয়েছিল। তবে আমার মনে আছে, ২০০১-এর ২৪ সেপ্টেম্বর শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর তাঁর শবানুগমনের ধারাবিবরণী চলেছিল আকাশবাণীর নতুন এফএম চ্যানেলে। সেই ধারাবিবরণী দিয়েছিলেন স্বপ্নময় চক্রবর্তী, কিন্নর রায়, ভগীরথ মিশ্র, অমর মিত্র প্রমুখ তাঁর অনুজ লেখকেরা।

শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

প্রেমেনদা চলে যাওয়ার পর তাঁর দুই ছেলে মৃন্ময়দা আর হিরণ্ময়দার সঙ্গে যোগাযোগের ভিত্তিতে আমরা একের পর এক প্রেমেন্দ্র মিত্রের বই এবং সংগ্রহ-সংকলন প্রকাশ করে গেছি। মৃণ্ময়দা আর হিরন্ময়দার সাহায্য না পেলে দে’জ থেকে প্রেমেন্দ্র মিত্রের বইগুলো করাই যেত না। এমনকী মিন্টো পার্কের কাছে তাঁদের যে-বাড়ি, সেখান থেকে অনুমতি নিয়ে অপু একবার প্রেমেনদার ব্যবহৃত কিছু জিনিস নিয়ে এসেছে। সেসব রাখা আছে আমাদের পাগলাডাঙার লাইব্রেরিতে। কী নেই সেখানে– প্রেমেনদার পাসপোর্ট, তাঁর ব্যবহার করা কয়েকটা কলম-পেনসিল, টুকিটাকি কাগজপত্র, নস্যির ডিবে এবং হোমিওপ্যাথি ওষুধ নাক্স ভম-৩০ আর মার্ক সোল-৩০-র দুটো প্রায় খালি শিশি।

পাগলাডাঙার লাইব্রেরিতে রক্ষিত প্রেমেন্দ্র মিত্রের পাসপোর্ট

দে’জ থেকে প্রথমেই, ২০০০ সালে আমার পুনর্মুদ্রণ করেছিলাম প্রেমেন্দ্র মিত্রের বিখ্যাত কবিতার বই– ‘সাগর থেকে ফেরা’। বইটি ১৯৫৬ সালে প্রথম ছাপা হয়েছিল ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কোং থেকে। এই বইটির জন্য তিনি ১৯৫৬ সালে সাহিত্য অকাদেমি এবং রবীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছিলেন। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করা বইটির মলাট এঁকেছিলেন অজিত গুপ্ত। ‘সাগর থেকে ফেরা’ প্রেমেনদার কিংবদন্তিতুল্য কবিতার বই। এই বইয়ে তাঁর বন্ধু জীবনানন্দ দাশকে নিয়েও একটি কবিতা আছে। ‘জীবনানন্দ’ শিরোনামের সেই কবিতাটিতে তিনি লিখছেন–

‘…নেই সেই নাগরিক আর।
নগর-আত্মার কাছে নিবেদিত হ’য়ে
রেখে গেছে তবু এক সবুজ প্রত্যয়,
আভা যার কিছু কিছু
ছড়াবেই বহুদূর সমুদ্র-সময়।
সে বুঝি গিয়েছে জেনে,
সত্য যা তা আপনাতে আপনি-ই ধ্রুব নয় সব !
তারে পূর্ণ করে চলে
আমাদেরই রক্তে-বওয়া
গূঢ় এক দীপ্ত অনুভব!’

‘সাগর থেকে ফেরা’ বইয়ের প্রচ্ছদ

প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি রাসবিহারী অ্যাভেনিউতে এক ট্রাম দুর্ঘটনার ফলশ্রুতিতে ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ প্রয়াত হন।

প্রেমেন্দ্র মিত্রের শ্রেষ্ঠ গল্প বইয়ের প্রচ্ছদ

দে’জ থেকে প্রেমেনদার পরের বই ২০০১ সালে সৌরীন ভট্টাচার্যের সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘শ্রেষ্ঠ গল্প’। বাংলা ছোটোগল্পে প্রেমেন্দ্র মিত্র অতুলনীয় বললেও কম বলা হয়। আমাদের ‘শ্রেষ্ঠ গল্প’তে ‘শুধু কেরাণী’ থেকে ‘রবিনসন ক্রুশো মেয়ে ছিলেন’ পর্যন্ত মোট ২১টা গল্প আছে। সৌরীনদার সম্পাদনায় বইটিতে একটি বিস্তারিত গ্রন্থপরিচয়ও সংযোজিত হয়েছে। এর অনেক পরে ২০১৫ সালে দু’-খণ্ডে আশিস পাঠকের সম্পাদনায় দে’জ থেকে প্রকাশিত হয়েছে ‘প্রেমেন্দ্র মিত্রের সমস্ত গল্প’। এখন এই বইটির নতুন সংস্করণের কাজ চলছে। ‘শ্রেষ্ঠ গল্প’র গ্রন্থপরিচয়ে সৌরীনদা যুক্ত করেছেন নাভানা থেকে প্রকাশিত প্রেমেনদার ‘শ্রেষ্ঠ গল্প’ বইয়ের পরিবর্ধিত সংস্করণের (১৯৮৯) সম্পাদক পল্লব মিত্রের লেখা ‘সম্পাদনা প্রসঙ্গে’ গদ্যটিও। সেখানে পল্লব মিত্র লিখছেন–

“…একেবারে সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত এই মানুষটির দৈনিক রুজি-রোজগার ও বেঁচে থাকার চৌহদ্দিটাকে একটু দেখলেই আমরা আবিষ্কার করি তাঁর অসংখ্য গল্প, কবিতা, উপন্যাসের প্রেক্ষাপট। হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রীটের তাঁর বাড়ির কাছ দিয়ে অনাদিকাল ধরে আদি গঙ্গার বহমান স্রোতস্বিনীর ছবির পাশে মাছ ব্যবসায়ীদের আনাগোনা, ঘুপচি গলির চারপাশে রাস্তার বাঁদিকে-ডানদিকে ইট, চুন, সুরকির দোকান, বিক্ষিপ্ত ঠেলাগাড়ির জটলার পাশ দিয়ে ফুলকি ছুটছে কামারশালার আগুনের, কোথাও কুমোরের চাক ঘুরছে– এইসব ছোটখাটো ব্যবসায়িক মানুষের জীবনযাপনের ছায়াচিত্র জীবনশিল্পীর চোখে ধরা থাকতো। আর সেই ছায়াচিত্র দেখেই মূর্ত হয়ে উঠতো তাঁর কবিতা, গল্প, উপন্যাস। প্রেমেন্দ্র মিত্রের বাসজীবনের ভৌগোলিক বিবরণটি পেলেই তাঁর অসংখ্য রচনার প্রেক্ষাপট খুব সহজেই উঠে আসে। তাঁর বিখ্যাত ‘পোনাঘাট পেরিয়ে’ গল্প, ‘প্রথমা’ কাব্যগ্রন্থের ‘আমি কবি যত/ কামারের আর কুমোরের আর/ ছুতোরের’ কিংবা ঐ ‘প্রথমা’ কাব্যগ্রন্থের অন্য আরেকটি কবিতা ‘মহাসাগরের নামহীন কূলে/ হতভাগাদের বন্দরটিতে ভাই/ জগতের যত ভাঙা জাহাজের ভিড়’ ‘বেনামী বন্দর’ নামক এই কবিতাটিতে সেই ভেঙে পড়া আদিগঙ্গার চারিদিকের পরিবেশটাই পরিস্ফুট হয়ে ওঠে।
…       
প্রেমেন্দ্র মিত্রের গল্পের বিষয়বস্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাংলার মধ্যবিত্ত জীবনের অস্তিত্ব সংকট থেকে উঠে এসেছে, যার প্রেক্ষাপট ছিল তাঁর অতি পরিচিত শহর কলকাতার রুগ্ন ভগ্নদশাগ্রস্ত চেহারা। ফলত তাঁর প্রতিটি গল্পের মেজাজ এবং অন্তরীণ বিষয়বস্তু আমাদের মুহুর্মুহু নাড়া দিয়েছে, তীর যন্ত্রণায় ক্ষতবিক্ষত করেছে। তাঁর ‘হয়তো’, ‘কুয়াশায়’, ‘মহানগর’, ‘অরণ্যপথ’, ‘নতুন বাসা’, ‘বৃষ্টি’, ‘পরোপকার’ প্রভৃতি গল্পগুলি বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ হয়েই থাকবে শুধু নয়, এই শহরজীবনের অস্তিত্ব সংকটের দলিল হিসেবে চিরদিন বিরাজ করবে। কবি মানসিকতার প্রভাবে প্রেমেন্দ্র মিত্রের গল্প বলার কায়দাটাও ছিল কাব্যিক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রেমেন্দ্র মিত্রের গল্প কবিতা হয়ে উঠেছে।…”

‘পুতুল ও প্রতিমা’ বইয়ের আখ্যাপত্র

তবে শিবরাম যেমন লিখেছেন– “প্রেমেনের প্রথম বই ‘পুতুল ও প্রতিমা’ ”– এই তথ্যটি ঠিক নয়। প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘পুতুল ও প্রতিমা’ প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৩২ সালে। তার আগেই তাঁর গল্প-উপন্যাসের একাধিক বই প্রকাশিত হয়ে গেছে।

দে’জ থেকে প্রকাশিত প্রেমেন্দ্র মিত্রের নানান বইয়ের প্রচ্ছদ

প্রেমেন্দ্র মিত্রের প্রয়াণের পর তাঁর নানা লেখার সংকলন নিয়ে তিনটি সংকলন আমাদের জন্য তৈরি করে দিয়েছিলেন সুরজিৎ দাশগুপ্ত। ২০০৮ থেকে ২০১০-এর মধ্যে প্রতি বছর একটি করে বই প্রকাশিত হয়েছে– প্রথমে ‘মামাবাবু সমগ্র’, তারপর ‘ভূত-শিকারি মেজকর্তা এবং’ এবং সবশেষে ‘কল্পবিজ্ঞান সমগ্র’। প্রেমেন্দ্র মিত্রের মামাবাবু সিরিজের লেখাগুলো দুঃসাহসিক অভিযান আর বিজ্ঞানের মিশেলে গড়ে উঠেছিল। ‘কুহকের দেশে’ নামে ধারাবাহিকভাবে মামাবাবুর কাহিনি শুরু হয়েছিল ‘মৌচাক’ পত্রিকায়। কিন্তু ১৯৪৮ সালে সিগনেট প্রেস থেকে সত্যজিৎ রায়ের আঁকা মলাটে ‘ড্র্যাগনের নিঃশ্বাস’ প্রকাশের পর তা বিপুল জনপ্রিয় হয়েছিল। আবার জীবনের অপরাহ্ণে এসে সৃষ্টি করেছিলেন মেজকর্তা চরিত্রটি। যার নেশা ছিল ভূত শিকার করা আর ভূত শিকারের বিচিত্র ঘটনা একটা খেরোর খাতায় লিখে রাখা। সুরজিৎদা ‘কল্পবিজ্ঞান সমগ্র’-তে ১১টা ছোটগল্প ছ’-টা বড়গল্প আর উপন্যাস ছাড়া ‘সবুজ মানুষ’ এবং ‘সাগর রহস্য’ নামে দু’টি লেখা সংযোজন করেছেন।

প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘স্মৃতিকথা ও অন্যান্য’ বইয়ের প্রচ্ছদ

প্রেমেন্দ্র মিত্রের দু’টি অসামান্য সংকলন দে’জ পাবলিশিং-এর জন্য সম্পাদনা করে দিয়েছেন অজয় গুপ্ত। ২০১৭-র বইমেলায়, অশোককৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায় আর পম্পা মুখোপাধ্যায়– এই দুই অধ্যাপক দম্পতির সহায়তা নিয়ে অজয়দা নির্মাণ করলেন প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘স্মৃতিকথা ও অন্যান্য’ বইটি। এই বইয়ের প্রধান অবলম্বন প্রেমেনদার ‘নানা রঙে বোনা’ নামক স্মৃতিকথাটি– অবশ্য তার সঙ্গে আরও অনেক গদ্যরচনাও আছে। ‘স্মৃতিকথা ও অন্যান্য’ বইটির গ্রন্থপরিচিতি অংশটাও অত্যন্ত জরুরি। অজয়দা লিখছেন–

“গ্রন্থাকারে ‘নানা রঙে বোনা’ প্রকাশিত হবার চার বছর পরে, ১৯৮৫ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে লেখক আর একটি ধারাবাহিক আত্মজীবনী লিখতে শুরু করেন সাপ্তাহিক ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় ‘বিশ শতকের সঙ্গী’ নামে। ১২ এপ্রিল ১৯৮৬ পর্যন্ত মোট ১৯টি কিস্তি প্রকাশিত হবার পর ‘শনিবারের চিঠি’ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ‘বিশ শতকের সঙ্গী’ অসমাপ্তই থেকে যায়। তবে, যতখানি প্রকাশিত হয়েছে তা পড়লেই বোঝা যায, শিরোনামে পার্থক্য থাকলেও এই রচনার সঙ্গে ‘নানা রঙে বোনা’র চরিত্রগত পার্থক্য নামমাত্র। বিষয়বস্তু ও ঘটনা অভিন্ন, শুধুমাত্র রচনাকালগত প্রায় এক দশকের ব্যবধানের কারণে কোথাও কোথাও প্রকাশভঙ্গির কিছু রকমফের ঘটেছে। দু’টি রচনার অন্তর্গত ঘটনা, স্থানকাল, পাত্রপাত্রী এবং লেখকের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় কোনো পার্থক্য নেই। কাজেই, অসমাপ্ত রচনাটির ১৯টি কিস্তিই পুনর্মুদ্রণের কোনো আবশ্যকতা আছে বলে আমাদের মনে হয়নি। তবে ‘বিশ শতকের সঙ্গী’র শুরুর বেশ কিছুটা অংশ ‘নানা রঙে বোনা’র থেকে অনেকটাই আলাদা। তাই আমরা তার প্রথম তিনটি কিস্তি পুনর্মুদ্রিত করছি। এবং রচনা দুটির শিরোনাম আলাদা হলেও মূলত তা যে একই স্মৃতিকথা তা বোঝাবার জন্য ১৮নং কিস্তির শেষ কয়েকটি অনুচ্ছেদ এখানে পুনর্মুদ্রিত করা হল। এই শেষ অংশটি ১৯৮১-তে প্রকাশিত ‘নানা রঙে বোনা’র ১৪২ পৃষ্ঠার প্রথম ৪টি অনুচ্ছেদের হুবহু পুনরাবৃত্তি (বর্তমান সংস্করণের পৃ.১১১-১১৩ দ্রষ্টব্য)।

‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় প্রেমেন্দ্র মিত্রের ধারাবাহিক ‘বিশ শতকের সঙ্গী’

তবে, ‘শনিবারের চিঠি’তে প্রকাশিত, এ যাবৎ অগ্রন্থিত, ‘বিশ শতকের সঙ্গী’র ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে আমরা এখানে পত্রিকার কোন সংখ্যায় কোন কিস্তি প্রকাশিত হয়েছিল তার একটি তালিকা উপস্থিত করছি:

প্রথম কিস্তি: ৭ ডিসেম্বর ১৯৮৫; দ্বিতীয়: ১৪ ডি. ১৯৮৫; তৃতীয়: ২১ ডি, ১৯৮৫; চতুর্থ: ২৮ ডি. ১৯৮৫; পঞ্চম ৪ জানুয়ারি ১৯৮৬; ষষ্ঠ: ১১ জা. ১৯৮৬; সপ্তম: ১৮ জা. ১৯৮৬; অষ্টম: ২৫ জা. ১৯৮৬; নবম: ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬; দশম: ৮ ফে. ১৯৮৬; একাদশ: ১৫ ফে. ১৯৮৬; দ্বাদশ: ২২ ফে. ১৯৮৬; ত্রয়োদশ: ১ মার্চ ১৯৮৬; চতুর্দশ: ৮ মা. ১৯৮৬; পঞ্চদশ: ১৫ মা. ১৯৮৬; ষোড়শ: ২২ মা. ১৯৮৬; সপ্তদশ: ২৯ মা. ১৯৮৬; অষ্টাদশ: ৫ এপ্রিল ১৯৮৬; ঊনবিংশ: ১২ এ. ১৯৮৬।”

সম্পাদকের এই অভিনিবেশ আর চিন্তার স্বচ্ছতা বাংলা প্রকাশনার সম্পদ।

‘প্রেমেন্দ্র মিত্রের অনুবাদ সমগ্র’ বইয়ের প্রচ্ছদ

বিচিত্রপথগামী লেখক প্রেমেন্দ্র মিত্রের আরেকটি দিক হল তাঁর অনুবাদ। তিনি সারাজীবনে বিপুল সংখ্যক লেখা অনুবাদ করেছেন। ২০২৪-এর বইমেলায় অজয় গুপ্তর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে– ‘প্রেমেন্দ্র মিত্রের অনুবাদ সমগ্র’। কী নেই তাতে? আলবেয়ার কামুর ‘অচেনা’ থেকে ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর ‘প্লেট নদীর তীরে রবীন্দ্রনাথ’– উপন্যাস নাটক কবিতা গল্প স্মৃতিকথা কৌতুকধর্মী লেখার এ এক বিচিত্র আয়োজন।

অন্যদিকে বিশিষ্ট প্রেমেন্দ্র-গবেষক রামরঞ্জন রায়ের অভিভাবকত্বে ২০২২-এর বাংলা নববর্ষ থেকে প্রকাশিত হচ্ছে প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘উপন্যাস সমগ্র’। এখনও পর্যন্ত প্রকাশিত তিনটি খণ্ডে প্রেমেনদার মোট ১৬টি উপন্যাস গ্রথিত হয়েছে।

উপন্যাস সমগ্র-র তিনটি খণ্ডে রয়েছে প্রেমেন্দ্র মিত্রের মোট ১৬টি উপন্যাস

মিত্র ও ঘোষ থেকে প্রকাশিত সুভাষ মুখোপাধ্যায় ও প্রণব বিশ্বাসের সম্পাদনায় ‘কেন লিখি’ বইতে প্রেমেন্দ্র মিত্রের একটি অবিস্মরণীয় লেখা আছে। ১৯৪৪ সালে অনিলকুমার সিংহের ইন্টারন্যাশনাল পাবলিশিং হাউস থেকে প্রকাশিত প্রেমেনদার ‘কেন লিখি’ শীর্ষক লেখাটি আবার অজয়দা ‘স্মৃতিকথা ও অন্যান্য’ বইতেও রেখেছেন। ‘কেন লিখি’ বলতে গিয়ে প্রেমেনদা লিখেছেন–

‘…যত দিন যাচ্ছে ততই বুঝতে পারছি সব কিছু ছেড়ে কলম ধরা যায় না, কলম সত্যিকার ধরতে হলে জীবনের কোনো কিছুকেই ছাড়া যায় না। লেখাটা শুধু অবসর বিনোদন নয়, মানসিক বিলাস নয়। সামনে ও পেছনের এই দুর্ভেদ্য অন্ধকারে দুর্জ্ঞেয় পণ্যময় জীবনের কথা জীবনের ভাষায় বলার বিরাট বিপুল এক দায়।

প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখা আরেকটি চিঠি

এ দায় সম্বন্ধে সম্পূর্ণ সচেতন হলে পৃথিবীতে কাগজ কলম কালির এত প্রচুর অপব্যয় অনাদর বোধহয় দেখতে হতো না। লেখার শক্তি থাকা আর লেখা এক জিনিস নয়। দৌড়তে যে পারে সে সামনে না ছুটে পেছনেও অনেক সময় পা চালায়। হাতের জোর যার বেশি সে হাত ধরে না তুলে অপরের হাত মুচড়ে ধরবার চেষ্টাও করে থাকে। লেখার ক্ষমতার এই অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্তে ইতিহাস কণ্টকিত বললে বেশি বলা হয় না। নিজেদের ঢাক পেটাতে লেখকদের জুড়ি নেই। ঢাক যখন নিজের হাতে তখন এ সুযোগ তারা ছাড়বেই বা কেন? কিছু লেখক নিজেরা যাই মনে করুন ও প্রচার করুন, জাতে তাঁরা কোনোদিনই উঁচু ছিলেন না। খোসামুদে মোসাহেবের কুলে তাঁদের জন্ম। গোড়া থেকেই গুণ্ডা আর জুজুর চাটুকারিতাই তাঁরা করে এসেছেন। গায়ের জোরে যে আর সবাইকে দাবিয়ে রাখে তার গুণগানেই তাদের গলাবাজি শুরু। স্বভাব এখনও বিশেষ বদলেছে বলে মনে হয় না। সত্যিকার দায়ে পড়ে লেখার সাহস নেই বলেই আমরা লেখার নানান ছুতো বানিয়ে তুলেছি। সে সব ছুতোর গালভরা সাহিত্যিক নাম আছে অনেক। কিন্তু আমি লেখার একটিমাত্র কারণই বুঝি, বুঝি যে সত্যিকার লেখা শুধু প্রাণের দায়েই লেখা যায়-জীবনের বিরাট বিপুল দায়।
অতবড় দায় হেলায় ফেলায় নিয়ে যখন-তখন কলম ধরতে ভয় করে।’

লিখন: শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায়

…… ইতি কলেজ স্ট্রিট-এর অন্যান্য পর্ব ……

পর্ব ৬৫। প্যাঁচানো লোহার সিঁড়ি দিয়ে উঠলেই প্রেমেন্দ্র মিত্রর অবারিত দ্বার!

পর্ব ৬৪। মুজিব হত্যার পর অন্নদাশঙ্করের শোকলিপি ছাপা হয়নি সরকারি নিষেধাজ্ঞায়

পর্ব ৬৩। ভাবনার ভাস্কর্যের দিনগুলি রাতগুলি

পর্ব ৬২। কাদের লিটল ম্যাগাজিন বলা যাবে না, তার তালিকা তৈরি করেছিলেন শিবনারায়ণ রায়

পর্ব ৬১। গৌরদা বিশ্বাস করতেন, কলমের স্বাধীনতা হরণ মাতৃবিয়োগের চেয়ে কম কিছু নয়

পর্ব ৬০। সমরেশ বসু যখন ‘বিশ্বাসঘাতক’!

পর্ব ৫৯। সারাজীবন নিজেকে জানার জন্যেই লিখে গিয়েছেন সমরেশ বসু

পর্ব ৫৮। নবারুণ চেয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ কবিতার সিরিজে তিনিও থাকুন, কিন্তু হল না

পর্ব ৫৭। সত্যজিৎ-মৃণাল-ঋত্বিক ত্রয়ীর মধ্যে ঋত্বিকের লেখাই আমরা প্রথম ছেপেছিলাম

পর্ব ৫৬। অজয় গুপ্তর নিরন্তর শ্রম আর খুঁতখুঁতে সম্পাদনা ছাড়া মহাশ্বেতা দেবীর রচনাসমগ্র হত না

পর্ব ৫৫। দলকল্যাণের জন্য রাজনীতি সমাজকে নরকে পরিণত করবে, বিশ্বাস করতেন মহাশ্বেতা দেবী

পর্ব ৫৪। যা লিখেছেন, না লিখে পারেননি বলেই লিখেছেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

পর্ব ৫৩। ‘অলীক মানুষ’ তাঁকে দিয়ে কেউ লিখিয়ে নিয়েছে, মনে করতেন সিরাজদা

পর্ব ৫২। নিজের লেখা শহরের গল্পকে লেখা বলে মনে করতেন না সিরাজদা

পর্ব ৫১। কর্নেল পড়ে সিরাজদাকে চিঠি লিখেছিলেন অভিভূত সত্যজিৎ রায়

পর্ব ৫০। সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা থেকে বাঁচতে দিব্যেন্দুদার জীবনের দ্বিতীয় গল্পই বদলাতে হয়েছিল

পর্ব ৪৯। রবিশংকর বলের মতো উর্দু সাহিত্যের এত নিবিষ্ট পাঠক খুব কমই দেখেছি

পর্ব ৪৮। দেবেশ রায়ের যেমন ‘বৃত্তান্ত’, আফসার আমেদের তেমন ‘কিস্‌সা’

পর্ব ৪৭। বই বাঁধানো সম্পূর্ণ হয়নি, তাই ‘মহাভুল’ শুধরে নিয়েছিলেন দেবেশ রায়

পর্ব ৪৬। গান্ধীনগরে রাত্রির কবিই প্রথম বিদ্রুপাত্মক তেতো হাসি এনেছিলেন বাংলা কবিতায়

পর্ব ৪৫। নাটকের মহলা পছন্দ হলে তবেই তিস্তাপারের বৃত্তান্তর অনুমতি দেবেন, বলেছিলেন দেবেশ রায় 

পর্ব ৪৪। নিজের বইপত্র বিক্রির বিবরণ দেখে হতাশ হয়েছিলেন দেবেশ রায়

পর্ব ৪৩। থ্রিলার, রহস্য-রোমাঞ্চ কিংবা ক্রাইম স্টোরি অনেক দিন ধরেই বইপাড়ায় ‘সুপারহিট’

পর্ব ৪২। অলংকরণ বা প্রচ্ছদশিল্পীদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা নেই, সখেদে চিঠি লিখেছিলেন নারায়ণ সান্যাল

পর্ব ৪১। রাস্কেল, পাষণ্ড পণ্ডিত, প্রবঞ্চক, বিশ্বাসঘাতক– নারায়ণ সান্যালের বইয়ের নাম নিয়ে প্রবল আপত্তি ছিল আমার!

পর্ব ৪০। সিগারেট ঠোঁটে রথীন্দ্রনাথের ছবি প্রচ্ছদে যাওয়া নিয়ে উঠেছিল প্রবল আপত্তি!

পর্ব ৩৯। শান্তিনিকেতন থেকে কলেজ স্ট্রিট, প্রুফ আদান-প্রদানে সহায়ক ছিলেন বই ব্যবসায়ীরাই

পর্ব ৩৮। পাণ্ডুলিপি জমা দিয়ে সোমেনদা বলেছিলেন, রামকিঙ্করকে নিয়ে এ জাতীয় বই আগে লেখা হয়নি

পর্ব ৩৭। ‘কীর্তির্যস্য’র নাম বদলাতে চেয়েছিলেন ভবতোষ দত্ত

পর্ব ৩৬। কবি-দার্শনিকের বাইরে আরেক রবীন্দ্রনাথকে খুঁড়ে বের করেছিলেন অমিতাভ চৌধুরী

পর্ব ৩৫। ‘শাহজাদা দারাশুকো’ আরও বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে ছিল শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের

পর্ব ৩৪। একজন লেখক হিসেবে আমি কি তোমার মনোযোগের যোগ্য নই, অভিমান ভরা চিঠি লিখেছিলেন শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

পর্ব ৩৩। আমাকে ভাবায়, তারাপদ রায়

পর্ব ৩২। নববর্ষের শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ: লেখকদের মন্তব্যের খাতা!

পর্ব ৩১। পরিব্রাজক সন্ন্যাসী তারাপ্রণব ব্রহ্মচারী ভাগ্যিস থিতু হয়েছিলেন সাহিত্যে!

পর্ব ৩০। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কোনও বই আমাকে চাপিয়ে দেননি, লিখেছেন: বিবেচনা করে দেখো

পর্ব ২৯। কবিতাকে শক্তিদা বলতেন ‘জলজ দর্পণ’, তাঁর বেঁচে থাকার অবলম্বন

পর্ব ২৮। পিঁপড়ে কালিতে চুবিয়ে সাদা পাতায় ছাড়া হয়েছে, এমন পাণ্ডুলিপি ছিল বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের!

পর্ব ২৭। নিজস্ব ঈশ্বরভাবনা থাকলেও শঙ্কু মহারাজের লেখার মূল বিষয় ছিল মানুষের আলো-আঁধারি জীবন

পর্ব ২৬। বাংলাদেশে পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও একুশে বইমেলায় কখনও স্টল পাইনি

পর্ব ২৫। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি মুহূর্তের রক্ত-ঘাম-হাসি-কান্নার এক জীবন্ত দলিলচিত্র ছেপেছিলাম

পর্ব ২৪। রাখাল ছেলে যেমন বাঁশি বাজায়, আমিও তেমন নিজের খুশিতে লিখি, বলেছিলেন যাযাবর

পর্ব ২৩। রয়্যালটি-মুক্ত বইয়ের ওপর প্রকাশকদের ঝোঁক চোখে পড়ছে বইমেলাতেও

পর্ব ২২: শেষমেশ রেগে গিয়ে আমাকে চিঠিই লিখে ফেলেছিলেন শঙ্খ ঘোষ!

পর্ব ২১: ৩০০০ কপি বিক্রির মতো জীবিত বা মৃত লেখক আর হয়তো নেই

পর্ব ২০: কম বয়সে আমাদের রোববারের আড্ডা ছিল ২৮ নম্বর প্রতাপাদিত্য রোড, আশুদার বাড়িতে

পর্ব ১৯: ‘লেখা বড় হচ্ছে’ অভিযোগ আসায় খুদে হাতের লেখায় পাণ্ডুলিপি দিতেন প্রবোধবন্ধু অধিকারী

পর্ব ১৮: দু’বছরের মধ্যে সংস্করণ না ফুরলে অন্য জায়গায় বই ছাপার চুক্তি ছিল শরদিন্দুর চিঠিতে

পর্ব ১৭: পূর্ণেন্দু পত্রীর বাদ পড়া প্রচ্ছদ ও দিনেশ দাসের কবিতার শ্রেষ্ঠ দিনগুলি

পর্ব ১৬: সব প্রকাশনার যাবতীয় বইয়ের হদিশ পাওয়া যেত ‘সম্মিলিত গ্রন্থপঞ্জী’তে

পর্ব ১৫: নিছকই একটা পত্রিকা নয়, ‘কলেজ স্ট্রীট’ আমাদের আবেগ

পর্ব ১৪: খুদে পাঠকদের জন্য মিনিবই তৈরির কথা প্রথম ভেবেছিলেন অভয়দা

পর্ব ১৩: কয়েকটি প্রেসের গল্প

পর্ব ১২: দীর্ঘায়ু বই ও আইয়ুব পরিবার

পর্ব ১১: প্রেমের নয়, অপ্রেমের গল্প সংকলনের সম্পাদনা করেছিলেন সুনীল জানা

পর্ব ১০: ছোট্ট অপুকে দেখেই রঙিন ছবিতে ভরা টানটান গল্পের বই করার ইচ্ছে জেগেছিল

পর্ব ৯: চানঘরে গান-এ সত্যজিৎ রায়ের চিঠি থাকায় ব্যাপারটা গড়িয়েছিল কোর্ট কেস পর্যন্ত

পর্ব ৮: প্রকাশক-লেখকের কেজো সম্পর্কে বুদ্ধদেব গুহর বিশ্বাস ছিল না

পর্ব ৭: পুজো সংখ্যায় না-বেরনো উপন্যাস বই আকারে সুপারহিট

পর্ব ৬: মানবদার বিপুল অনুবাদের কাজ দেখেই শিশির দাশ তাঁর নাম দিয়েছিলেন– ‘অনুবাদেন্দ্র’

পর্ব ৫: সাতবার প্রুফ দেখার পর বুদ্ধদেব বসু রাজি হয়েছিলেন বই ছাপানোয়!

পর্ব ৪: লেখকদের বেঁচে থাকার জন্য অনেক কিছুই লিখতে হয়, প্রফুল্ল রায়কে বলেছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র

পর্ব ৩: পয়লা বৈশাখের খাতায় শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় মজাচ্ছলে লিখেছিলেন, ‘সুধাংশুরা রাজা হোক’

পর্ব ২: বাংলা মাসের সাত তারিখকে বলা হত ‘গ্রন্থতিথি’, বিজ্ঞাপনেও বিখ্যাত ছিল ‘৭-ই’

পর্ব ১: সত্তরের উথাল-পাথাল রাজনৈতিক আবহাওয়ায় আমি প্রকাশনার স্বপ্ন দেখছিলাম