old tradition of worshipping tree temples and tree gods | Robbar
Robbar
  • ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তরুর ঠাকুরঘর

সংস্কৃতিবিদদের মতে, কল্পবৃক্ষের ধারণাটিও এসেছে লোকধর্ম থেকে। কল্পবৃক্ষ ইচ্ছাপূরণকারী গাছ। বৈদিক সাহিত্যে কল্পবৃক্ষের কথা নেই। পৌরাণিক সাহিত্য থেকে জানা যায়, সমুদ্র মন্থনের ফলে যে রত্নরাজি উঠেছিল তার মধ্যে অন্যতম কল্পবৃক্ষ। পরে স্বর্গের নন্দনকাননে রোপিত হয়েছিল। রামায়ণ মহাভারত জাতক সাহিত্য থেকে জানা যায়, কল্পবৃক্ষ উত্তরকুরু অঞ্চলের স্বর্গীয় বৃক্ষ।

শেষ আপডেট: জুন ১৭, ২০২৬, ২০:৪২   
Facebook WhatsApp Messenger

৩৭.

আজ মঙ্গলবার। দঙ্গল বেঁধে জঙ্গলে যাওয়ার দিন। তবে জঙ্গল শুধু নামেই। মানুষের লোভের আগুনে কয়েক দশক আগেই গোটা এলাকা চাষের জমি হয়ে গিয়েছে। শুধু টিকে আছে জঙ্গলেশ্বর ওরফে জাঁওলেশ্বর বাবার থানটুকু।

থান বলতে আহামরি কিছু নয়। খণ্ডহর ডাঙাডহর, ঝোপঝাড়। চোখ টাটানো বস্তু বলতে বিরাট বটবৃক্ষ। ঝুড়ি নেমেছে ইতিউতি। নদীর দিকে ঝুঁকে পড়েছে। গাছতলায় গোল করে মাটি দিয়ে উঁচু করে বাঁধানো বেদিকা। চারপাশে স্টিলের বেড়ি।

বেদিকায় তেমন কিছু নেই। কয়েকটা মাটির মূর্তি। ঘট। মোটা ত্রিশূল। গাছের ডালে ডালে চাঁদমালা। প্লাস্টিকের লাল-সাদা রঙের বনমালা। নাবালে ঝুলছে লাল সুতোয় বাঁধা ইটের টুকরো বা ঢিলের চেন। ভক্তদের বিশ্বাস, ইচ্ছাপূরণকারী স্বর্গীয় গাছ। মগডালে নানা ধরনের পাখি কিচিরমিচির করছে।

ভাদরের ঝাঁঝালো রোদ। ঝলসে দিচ্ছে। দমকা হাওয়ায় পাট পচার উগ্র গন্ধ। ধানিজমিতে লেগেছে ধানসিড়ি বাওর। মাথার ওপরে নীল রঙের গোলায় নিকানো অবারিত আকাশ। কোণে কোণে দুধ-সাদা মেঘের অপটু আলপনার আলসেপনা। চলকে পড়েছে ব্রহ্মাণী নদীর জলে।

গহন গম্ভীর বেগে সাপের মতো এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হচ্ছে আমাদের ছোট নদী ব্রহ্মাণী।

মাঠ ভেঙে আসছে পুণ্যার্থীরা। ঢাকঢোলের বাজনায় কেমন একটা চিরকালীন বিষণ্ণতার সুর। মেয়ে-মরদের মাথায় গামলা বা বড় পরতায় পুজোর সামগ্রী। দু’জনের কাঁধে মই সাজিয়ে পুজো আসছে। পিছনে গলায় মালা জড়ানো ছাগল বা গাড়ল ভেঁড়া। গলায় টান পড়তে মাঝেমাঝে ম্যা ম্যা ব্যা ব্যা করে নালিশ জানাচ্ছে।

জঙ্গলেশ্বর কোনকালের দেবতা, তা কেউ বলতে পারে না। কেউ বলে শিব। কেউ বলে জঙ্গলের দেবতা। কোনও মূর্তি নেই। নানা লোককাহিনির ছানাপোনারা গ্রাম-গ্রামান্তরের অন্দরে ঘুরে বেড়ায়।

zoom
মই পুজো

বাবার কৃপায় বন্ধ্যা-নারীর সন্তান হয়। হাঁপানি রোগের ব্যামো থাকলে সেরে যায়। কেউ কেউ মানত করে চাকরিও পেয়েছে। জোড়া পাঁঠা বলি দিয়ে ছিন্ন শিরের রক্ত মাখিয়েছে গাছের গোড়ায়। 

ভাদ্রমাসের কৃষ্ণপক্ষের মঙ্গলবার। বাবার বাৎসরিক পুজো। জঙ্গলের কথা আর কেউ বলে না। বলে গাছপুজো। পাঁচ গাঁয়ের লোকে পুজো দিতে আসে। সকাল থেকে ভিড়ে ভিড়াক্কার। পুজোয় পাঁঠা আর ভেড়া বলি দিয়ে লাঠির মাঝে ঝুলিয়ে বাড়ি ফেরার তাগাদা।

একবেলার মেলা বসে। ঘুগনি পাঁপড় আইসক্রিম আর ফুচকার স্টল তখন ভিড়ে জমজমাট। বেলা পড়তেই শুনশান। চিরন্তন আঁধার নেমে আসে জঙ্গলেশ্বরের আস্তানায়।

টুকরো চালচিত্রটুকু বাংলার প্রায় স্থানেই দেখতে পাবেন।

কোনও মূর্তি নেই। মন্দির নেই। অথচ দেবতার পুজো হচ্ছে রমরমিয়ে। এককথায় পরিচিতি গাছপুজো। কোথাও মনসা, কোথাও ঢেলাইচণ্ডী, কুলাইচণ্ডী, মালুনচণ্ডী ইত্যাদি লোকায়ত দেবী। কোথাও পঞ্চানন জটাধারী ব্রহ্মদৈত্য বা ক্ষেত্রপাল। অধিকাংশই লোকায়ত দেবতা। তবে শাস্ত্রীয় দেবতাও আছেন। যেমন গাছকালী, কর্কটনাগ ইত্যাদি।

বৃক্ষ-উপাসনা অতি প্রাচীন এক ধর্মীয় ধারা। প্রাচীনকালে এই ধরনের বৃক্ষমন্দিরকে বলা হত চৈত্যবৃক্ষ বা যক্ষচৈত্য। চৈত্যবৃক্ষ আসলে বৃহৎ গাছ। মহাভারতে বলা হয়েছে, এ গাছ গ্রামের সম্পদ এবং সেই গাছ কাটা সর্বৈব নিষিদ্ধ। দেবতা অপদেবতা রাক্ষস সকল অতিপ্রাকৃত দৈবী শক্তির আধার। তিনি বৃক্ষদেবতা।

বৃক্ষচৈত্যের ‘চৈত্য’ শব্দ চিতা থেকে আসেনি। মূলে আছে ছত্র। গাছকে দেবতা ও মন্দির হিসাবে মান্যতা দিয়ে প্রাচীনকালে পুজো করা হত। ভারহুত স্তূপের বিবিধ ফলকে দেখা যায়, গাছের মগডালে বাঁধা ছাতা। গাছের ডালে ডালে পরানো নানা ফুলের মালা। বৃক্ষচৈত্যকে কেন্দ্র করে যে উৎসব হত, প্রাকৃত ভাষায় তার নাম ছিল চৈত্যমহ বা রুকখমহ। ‘মহ’ মানে মেলা।

একালে এরই নাম ‘গাছপুজো’।

গাছের গোড়ায় মাটি দেওয়া স্থানটিকে বলা হত ‘বেদিকা’। বাঁশ বা কাঠের বেড়াযুক্ত বৃক্ষবেদিকা ছিল আদিতে মন্দির। গাছই আদি দেবতা। আদি মন্দিরও। মানুষের ধর্মচেতনার এই দুটো বিশেষ বৈশিষ্ট্য যেমন লোকধর্ম থেকে উৎসারিত হয়েছে, তেমনই আজও টিকিয়েও রেখেছে সেই লোকধর্মই।

zoom
বোধিবৃক্ষে বুদ্ধ উপাসনা ভারহুত স্তূপ

তবে বৃক্ষ-উপাসনা গ্রহণ বা আত্মসাৎ করেছে মূল ধর্মমতগুলিও। বৈদিকধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, জৈনধর্মে বৃক্ষ উপাসনাকে বিশেষ গুরুত্ত্ব দেওয়া হয়েছিল। বৈদিক সংস্কৃতিতে অশ্বত্থগাছ মহাজাগতিক বা কসমিক ট্রি। গাছে অধিষ্ঠান করেন ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর। অথর্ববেদের স্কন্দসূক্ত অনুসারে, সনাতন ব্রহ্ম হল খাম্বা বা গাছের গুঁড়ি। দশম কাণ্ডের সপ্তম সূক্তে বলা হয়েছে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মাঝে মহাসাধনায় মগ্ন হয়ে আছেন যক্ষ দেবতা। সেখানে অন্যান্য দেবতারাও আছেন বৃক্ষ নির্গত শাখাপ্রশাখায়।

বৌদ্ধধর্মের প্রথম দিকের স্থাপত্যে বুদ্ধদেবকে নরাকারে উপস্থাপিত করা হয়নি। বিকল্পে বৃক্ষ রূপেই পুজো করা হত। রুকখমহ জাতকে বোধিসত্ত্ব বৃক্ষদেবতা হয়েছিলেন। পরে ধর্মচক্র পদচিহ্ন ইত্যাদি বৌদ্ধধর্মে স্থানলাভ করে।

বুদ্ধের তিন ধরনের প্রকারভেদ দেখা যায়– ধ্যানীবুদ্ধ, মানুষী বুদ্ধ এবং বোধিসত্ত্ব। প্রতিটি বুদ্ধই আলোকপ্রাপ্ত হয়েছেন কোনও না কোনও গাছতলায় সাধনভজন করে। প্রথম যুগে সেই গাছগুলিকে মানুষী বুদ্ধ রূপে পূজা করা হত। সাতজন মানুষী বুদ্ধ হলেন– বিপস্যিন, বিশ্বভূ, ক্রকুচ্ছন্দ, কণকমুনি, কশ্যপ, শিখিন এবং শাক্যমুনি।

পাটলি বৃক্ষ যেমন বিপস্যিন বুদ্ধ রূপে পূজিত হত, তেমনই বিশ্বভূ রূপে শালগাছ, ক্রকুচ্ছন্দ রূপে শিরিষগাছ, কণকমুনি রূপে ডুমুরগাছ, কশ্যপ রূপে বটগাছ, শিখিন রূপে পুণ্ডরিকগাছ, শাক্যমুনি রূপে অশ্বত্থগাছ পূজিত হত। বৌদ্ধধর্মীয় সাহিত্যে গাছগুলিকে বোধিবৃক্ষ রূপে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে জৈনধর্মে কেবল বৃক্ষ রূপে বট, শাল, শিরিষ, জাম, অশ্বত্থ, দেবদারু, আম প্রভৃতি গাছ যুক্ত হয়েছে।

zoom
আদি মন্দির আদি দেবতা, মহেঞ্জোদারোর সিলে

মহেঞ্জোদারো থেকে প্রাপ্ত একটি স্টিয়াটাইট সিলে দেখা যায়, মাথায় শৃঙ্গযুক্ত পাগড়ি, বিনুনি করা চুল, দু’হাতে চুড়ির মতো অলংকার পরিহিত এক দেবপ্রতিম অশ্বত্থবৃক্ষের নিচে দণ্ডায়মান। প্রণামরত ভক্ত। আরেকটি বেশ বড় সাইজের ভেড়া; সম্ভবত দেবতার উদ্দেশে বলি দেওয়ার জন্য আনা হয়েছে। একটি নরমুণ্ড বেদির ওপর থেকে দৃশ্যমান। নিচে সাতজন পূজারি মানব সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে আছেন।

হরপ্পা থেকে প্রাপ্ত অন্য এক সিলে দেখা যাচ্ছে অশ্বত্থবৃক্ষের দু’দিকে দু’টি শৃঙ্গযুক্ত বিচিত্র পশুর মাথা নির্গত হয়েছে। আরও দেখা যায়, দেবতা অশ্বত্থবৃক্ষের নিচে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর মাথা থেকে নির্গত হচ্ছে অশ্বত্থবৃক্ষের শাখা। হরপ্পা সংস্কৃতি থেকে আরও উদাহরণ দেওয়া যায়। যেমন শমী বা খেজুর গাছের ডালে দেবী বসে আছেন। একটি বাঘ একদৃষ্টিতে দেবীকে দেখছেন। দেবী বসে আছেন যোগাসন ভঙ্গিমায়।

টেরাকোটা সিলে স্বস্তিক চিহ্ন। খেজুরগাছের ওপরে দেবী বসে আছেন। পূর্বের মতো একটি বাঘ একদৃষ্টিতে দেবীকে দেখছে, অন্য পীঠে রয়েছে হাতির ছবি। আরও একটি সিলে দেখি– বাঘ ও মানুষীর সমন্বয়কারী দেবীর ছবি। দেবীর মাথা থেকে নির্গত হচ্ছে গাছের শাখাপ্রশাখা। দেবীর যোনিমূল থেকে নির্গত হচ্ছে গাছপালা।

এই সমস্ত উদাহরণ থেকে প্রতীয়মান হয়, তাম্রাশ্মীয়যুগেও দেবতার মন্দির বলতে গাছকেই নির্দেশ করা হত। অনুমান করা যায়, গাছতলা বা গাছের বেদী হল মানুষের মন্দির-ভাবনার আদি রূপ। বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতেও একই তথ্য উঠে আসে।

প্রাগৈতিহাসিক ভয়াল অরণ্য। চতুর্দিকে মৃত্যুর ফাঁদ। হিংস্র জীবজন্তুর বিচরণ। মারাত্মক সরীসৃপের সর্বত্র সঞ্চরণ। অসহায় মানুষ তখন বৃক্ষচারী। নেই সভ্যতা। নেই পাপ-পুণ্য-সামাজিকতা। তখনও দেবতার জন্ম হয়নি। চতুর্দিকে শুধু জীবনমৃত্যুর মারাত্মক লড়াই। মানুষের আশ্রয় গাছ। গাছের শাখায় দুলছে মানুষ। গাছের ফলমূল খেয়েই কোনওক্রমে বেঁচে থাকা। 

একদিন মানুষ গুহাচারী হল। গাছ থেকে নেমে এল মাটিতে। জীবজন্তু শিকার করতে লাগল। প্রথম দিকে গাছের ডাল ভেঙে শিকারের হাতিয়ার বানাল। তারপর পাথরের টুকরো। মানুষ দলবদ্ধভাবে বনের পশু শিকার করতে লাগল। অবসর সময়ে নাচগানে ভরিয়ে তুলল গুহার অভ্যন্তর। দেওয়ালে দেওয়ালে আঁকল কত ছবি। সেই গুহাছবিতে স্থান পেল জীবজন্তু আর অবশ্যই গাছ। তাদের চোখে ঐশ্বরিক বৃক্ষ। আদিম মানুষের প্রথম আশ্রয়দাতা। 

zoom
ভীমবেটকা গুহায় আঁকা ছবি

মধ্যপ্রদেশের বিন্ধ্য ও সাতপুরা পর্বত অধ্যুষিত ভীমবেটকার গুহার চিত্রশালায় সমকালীন জীবজন্তু আর বৃক্ষের ছবি আঁকা। মানুষের ভাবনায় প্রথম ঈশ্বর। ভীমবেটকার গুহাচিত্রে আছে গাছের ওপর বসা ময়ূরের ছবি। 

গাছকে কেন্দ্র করে নাচগান, সাংকেতিক আলপনার মতো ছবিও দৃশ্যমান। মধ্যপ্রদেশের খারওয়াই গুহাচিত্রে অদ্ভুত ধরনের গাছের ছবি আঁকা আছে। গাছটির ডানদিকে দু’টি ময়ূর আঁকা। যেন প্রাগৈতিহাসিক কল্পবৃক্ষের চকিত আভাস।

সংস্কৃতিবিদদের মতে, কল্পবৃক্ষের ধারণাটিও এসেছে লোকধর্ম থেকে। কল্পবৃক্ষ ইচ্ছাপূরণকারী গাছ। বৈদিক সাহিত্যে কল্পবৃক্ষের কথা নেই। পৌরাণিক সাহিত্য থেকে জানা যায়, সমুদ্র মন্থনের ফলে যে রত্নরাজি উঠেছিল তার মধ্যে অন্যতম কল্পবৃক্ষ। পরে স্বর্গের নন্দনকাননে রোপিত হয়েছিল। রামায়ণ মহাভারত জাতক সাহিত্য থেকে জানা যায়, কল্পবৃক্ষ উত্তরকুরু অঞ্চলের স্বর্গীয় বৃক্ষ।

zoom
জাভার মন্দিরগাত্রে খোদাই করা কল্পবৃক্ষ

মহাভারতের ভীষ্মপর্ব অনুসারে সিদ্ধগণ উত্তরকুরুতে বাস করেন। সেই অঞ্চলে কল্পবৃক্ষ দেখা যায়। কিছু গাছ থেকে মেলে দুধের প্রস্রবণ। গাছের ডালপালা থেকে উৎপন্ন হয় মহার্ঘ বস্ত্র, অলংকার, অনন্ত যৌবনবতী নারী ইত্যাদি। কাঙ্ক্ষিত বস্তুসম্ভার।

মধ্যযুগে মহাপ্রভুও একইসঙ্গে কৃষ্ণপ্রেমের কল্পতরু, মালাকার, প্রেমের ফল প্রদানকারী এবং আস্বাদনকারী। গৌরাঙ্গ গঙ্গার তীরে হেঁটে বেড়াচ্ছেন। তাঁর শরীর রোমাঞ্চিত, পুলকিত। কবি গোবিন্দদাস কবিরাজ লিখেছেন,

‘অভিনব হেম- কল্পতরু সঞ্চরু
সুরুধনী তীরে উজোর।’

বৃক্ষদেবতা কল্পতরু হয়ে উঠলেন একালের করুণাঘন অবতার বরিষ্ঠ ঠাকুর রামকৃষ্ণ। ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দের ১ জানুয়ারি– কাশীপুরের উদ্যানবাটীতে ভক্তরা দেখলেন দু’চোখে তাঁর দিব্য প্রেমের অমৃতধারা। অনন্ত ঐশ্বর্য, অনন্ত অধ্যাত্ম রত্নসম্ভারের মূর্ত প্রতীকে তিনি দণ্ডায়মান। চেনা রূপের অন্তরালে মহাচৈতন্যবৃক্ষ। সকলে হাত জোড় করে সেই অমৃতবৃক্ষের কাছে প্রার্থনা করছেন।

zoom
কল্পতরু ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

ঠাকুরের দিব্যশক্তির পরশমণি ভক্তদের অন্তর স্পর্শ করছে। জন্ম নিচ্ছে এক একটি বিচিত্র ভাবতরঙ্গ। অপার আনন্দের সুপ্ত সাগরের লহরী উঠছে উদ্বেলিত হয়ে। ঠাকুর তখন সকলকে স্পর্শ করছেন আর বলছেন– ‘তোমাদের চৈতন্য হোক!’

চৈতন্য হোক তাঁদের যাঁরা নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন করে চলেছেন।

…………. পড়ুন ঠাকুরদার ঝুলি অন্যান্য পর্ব ………….

পর্ব ৩৬: জাল রাজার রাজনীতি

পর্ব ৩৫: ঢেঁকি মোটেই অকম্মার নয়

পর্ব ৩৪: বহুরূপে সম্মুখে তোমার

পর্ব ৩৩: আলকাপ: বিরল মায়ার স্মৃতিচিহ্ন

পর্ব ৩২: তালবাহার

পর্ব ৩১: পোড়ামাটির শিল্পকে জনপ্রিয় করেছে কাঁঠালিয়ার শিল্পীরা

পর্ব ৩০: মৎস্য দেবতা মৎস্য ভোগ

পর্ব ২৯: কুবের পুজোর আচার থেকেই সোনা কেনা হয় অক্ষয় তৃতীয়ায়

পর্ব ২৮: বৈশাখ বিষ্ণুর প্রিয়, পুরাণের শ্রেষ্ঠ মাস?

পর্ব ২৭: গর্জন থেকেই গাজন

পর্ব ২৬: অসুরদের ফসল বলেই কি আখ বলিপ্রদত্ত?

পর্ব ২৫: যুদ্ধবাজ নয়, বাঙালির রাম করুণরসের

পর্ব ২৪: অগ্রদ্বীপের গোপীনাথ নিয়ে কৃষ্ণচন্দ্র-নবকৃষ্ণের মামলা লন্ডন অবধি গড়িয়েছিল

পর্ব ২৩: কিম্ভূত-কিমাকার মূর্তির নাম কেন ‘কাকতাড়ুয়া’?

পর্ব ২২: দেড় ফুটের ল্যাংচাভোগ ছাড়া রং খেলেন না মদনমোহন

পর্ব ২১: মায়া মমতায় গড়া বাংলা বিয়ের ছড়া

পর্ব ২০: মাদারি কা খেল

পর্ব ১৯: কোনও পসরাই অবিক্রিত পড়ে থাকে না বৈরাগ্যতলার ভাঙামেলায়

পর্ব ১৮: সুর নয়, আদিতে সুরার সঙ্গেই অধিক যোগাযোগ ছিল সরস্বতীর

পর্ব ১৭: পৌষপার্বণের সঙ্গে মিশে গেছে টুসু, সোদরব্রত কিংবা কুড়মালি আইখানযাত্রা

পর্ব ১৬: বাংলার মনসা ও চণ্ডীপুজোর ধারা এসে জগৎগৌরীতে মিলেছে

পর্ব ১৫: রাঢ়ের কবিগানের পালায় হিঁদু হলেন চাঁদ মুহম্মদ, কাশীনাথ মুসলিম

পর্ব ১৪: খেজুর গাছে হাঁড়ি বাঁধো মন

পর্ব ১৩: বৈদিক যুগের ‘স্থালী’-ই আজকের প্লেট, ‘উখ্য’-ই ফ্রাইং প্যান

পর্ব ১২: লোকখেলার মধ্যে মিশে রয়েছে হাজার বছরের ফেলে আসা জীবনের স্মৃতি

পর্ব ১১: অঘ্রানের নবান্ন মূলত নববর্ষেরই উৎসব ছিল

পর্ব ১০: বারবণিতাদের আরাধনার মধ্যে দিয়েই শুরু হয়েছিল কাটোয়ার কার্তিক লড়াই

পর্ব ৯: শিশুঘাতক থেকে কেন শিশুরক্ষক দেবতা হয়ে উঠলেন কার্তিক?

পর্ব ৮: তেনাদের পুজো, তেনাদের মেলা-মোচ্ছব

পর্ব ৭: প্রেত মানেই ভূত বা অতীত, কিন্তু সকল প্রেতই ভূত নয়!

পর্ব ৬: কেবল কালী নন, লৌকিক লক্ষ্মী ঠাকরুনও দাঁড়ান স্বামী নারায়ণের বুকে পা রেখেই

পর্ব ৫: মহিষাসুরমর্দিনী নন, কৃষিপ্রধান বাংলায় আদিপূজিতা ছিলেন শস্যদেবী নবপত্রিকা

পর্ব ৪: পুকুরের দেবতা পুকুরের ভূত

পর্ব ৩: পুকুরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে লোককথা আর লোকবিশ্বাস

পর্ব ২: পৌরাণিক হিন্দু ও বৌদ্ধ সাহিত্যে দেবতা অথবা মানুষের বন্ধু হিসেবেই স্থান পেয়েছে কুকুর

পর্ব ১: সেকালের ডাকাতির গপ্প

Ramakrishna Sangbad Pratidin Sangbad Pratidin Robbar Tree Tree god Tree temples

Share this article on