
‘নল দময়ন্তী’ সিরিজে একটি প্রেমের আখ্যানের কতরকম অনুষঙ্গ ফুটিয়ে তুলেছেন রাজা রবি বর্মা তাঁর অবিস্মরণীয় তৈলচিত্র পরম্পরায়! নিষেধ-রাজ নলের একাকিত্ব। বিদর্ভ রাজ্যের রাজকুমারী দময়ন্তীর শরীরতেষ্টা। দময়ন্তীর স্বয়ম্ভর-সভা। নলের সঙ্গে দময়ন্তীর দৃষ্টিবিনিময়। তাদের বিয়ে, সুখ, সম্ভোগ। নলের জুয়ায় আসক্তি। স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ। নলের শোচনা। এবং স্ত্রীর কাছে ফিরে আসা। রবি বর্মার জীবনে আসা সব নারী যেন একে একে ধরা দিয়েছে, রেখে গিয়েছে তাঁদের শরীরচিহ্ন, রূপের মোহ দময়ন্তী-আড়ালে।
৮৯.
২০২৬-এর পয়লা এপ্রিল। কিন্তু খবরটা লোক-ঠকানো মিথ্যে খবর নয়। ঘটনাটা সত্যি ঘটেছে। এবং ঘটেছে মুম্বইয়ের বিখ্যাত স্যাফ্রন আর্ট নিলামঘরে। উনিশ শতকের বিখ্যাত ভারতীয় শিল্পী রাজা রবি বর্মার অয়েল পেন্টিং– ‘যশোদা ও কৃষ্ণ’, বিক্রি হয়েছে ১৮ মিলিয়ন ডলারে। ভারতীয় মুদ্রায় ১৬৭ কোটি!

খবরটা পেয়ে পিলে চমকে ওঠার দুটো কারণ। প্রথম কারণ, রাজা রবি বর্মা চেয়েছিলেন তাঁর আঁকা তেল রঙের ছবি ভারতের সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে যেন পৌঁছয়। সামান্য অর্থ মূল্যে সাধারণ মানুষ যেন তাঁর আঁকা ছবি কিনতে পারে। তাই তিনি তাঁর অয়েল পেন্টিং নিজের প্রেসে ছেপে শয়ে শয়ে বিক্রি করতেন। ফলে তাঁর জনপ্রিয়তা দেশময় যত বেড়ে ছিল, তত কিন্তু তাঁর ছবির দাম বাড়েনি। কিন্তু এ কী কাণ্ড! তাঁর কৃষ্ণ-যশোদা যে নিউ ইয়র্কে ক্রিস্টিজ নিলামে হুসেনের ১২৮ কোটি টাকায় বিক্রি হওয়া ‘গ্রামযাত্রা’ ছবির রেকর্ড ভেঙে দিল!

কোনও ভারতীয় শিল্পীর আঁকা ছবি ১৬৭ কোটি টাকায় বিক্রি হয়নি এখনও পর্যন্ত। আর রবি বর্মার এই ছবিটা এমনই এক ছবি, যে ছবির সস্তা ছাপা সংস্করণের সঙ্গে আমি বড় হয়েছি শ্যামপুকুরের নিতান্ত গেরস্ত বাড়িতে। এবং এটি এমনই ছাপা ছবি, যা দেখলে মনে হত অরিজিনাল। যতদিন না অবশ্য ত্রিবাঙ্কুরের আর্ট গ্যালারিতে রবি বর্মার মূল অয়েল পেন্টিং দেখে বিস্মিত হয়েছি।

প্রশ্ন হল, মা যশোদা আর তাঁর শিশুপুত্র কৃষ্ণর ছবি ১৬৭ কোটি টাকা দিয়ে কিনলেন কে? কিনলেন, সাইরাস পুনাওয়ালা। তিনি কে? তিনি সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর। কেন কিনলেন এত দাম দিয়ে? নিজের ছবির সম্পত্তি বাড়াতে? না, তিনি কিনেছেন আপনার আমার মতো সাধারণ মানুষের জন্য, যাঁরা ছবি দেখতে ভালোবাসেন এবং রবি বর্মার ছবি দেখে যাঁরা এখনও মুগ্ধ হন।
ছবিটা কেনার পরে সাইরাস পুনাওয়ালা ঠিক কী বলেছেন শুনুন: এই বিরল সম্পদকে আমি শুধুমাত্র নিজের উপভোগের জন্যে কিনছি না। জনসাধারণের দেখার জন্যে এই ছবি আমি মাঝেমধ্যেই উন্মুক্ত করে দেব। ছবিটা সম্ভবত পুনাওয়ালা প্রথম দেখেন ১৯৯৪ সালে দিল্লির ন্যাশনাল গ্যালারির এক প্রদর্শনীতে। সেই থেকে অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। নিলাম কর্তৃপক্ষ ভেবেছিল, ছবিটার দাম ৮০ কোটি টাকার বেশি উঠবে না। দাম উঠল অবিশ্বাস্য ১৬৭ কোটি!

এবার ছবিটার ভেতরে ঢোকা যাক।
তেল রঙের ছবি। আগেই বলেছি, এই ছবির একটা ছাপা সংস্করণের সঙ্গে বড় হয়েছি। চোখ জুড়ানো, মন ভরানো সেই ছবি। ছবিতে খুদে কৃষ্ণের পালক মা যশোদা দুধ দুইছেন। আর মাখন চোর একরত্তি নধর সুন্দর কৃষ্ণ, কালো নয়, সোনার বরন কৃষ্ণ, এক্কেবারে ন্যাংটো, কিন্তু তার গা-ভর্তি গয়না, মা যশোদাকে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে। ডান হাতে তার ভারি সুন্দর একটি যাচনাপাত্র। মা যশোদার কাছে সে সদ্য দোয়া দুধ চাইছে। মা যশোদার মুখে সেই হাসি, যে হাসি বলছে, তোকে দেব বাবা। কিন্তু দিলেও তো তুই ননী চুরি করবি কৃষ্ণ। কী অসামান্য ছবি, কী বলব! এই ছবি কিন্তু ভগবানের ছবি নয়। চিরন্তন মা-ছেলের ছবি। বাৎসল্যের এই ছবি থেকে উথলে পড়ছে স্নেহ মায়া মমতা আদর খুনসুটি, খুদের ডাক, মায়ের সাড়া। এই ছবি ফুরবে না কোনও দিন।
রাজা রবি বর্মার সমস্ত অয়েল পেন্টিং রোমান্টিকতায় অফুরান। এতটুকু আজও নিভে যায়নি তাদের আবেদন, ক্লান্ত হয়নি তাদের উজ্জ্বলতা, নিস্তেজ হয়নি তাদের প্রাণ।
১৮৯০-এর দশকের কোনও এক ভোরবেলা। ১৮৬৬ সালে ত্রিবাঙ্কুর রাজ পরিবারের এক মেয়ের ছবি আঁকতে গিয়ে তুমুল প্রেমে পড়ে তাঁকে বিয়ে করেছেন রাজা রবি। বলতে গেলে তিনিও তো রাজার ছেলে। রানির মতো এমন সুন্দরী তিনি দেখেননি, একে বিয়ে না-করতে পারলে প্রাণ যাবে, এমনই মনে হয়েছে রাজা রবির। ১৮৯০-এর কোনও এক সকালে ইজেলের ওপর সাদা ক্যানভাসের দিকে তাকাতেই যশোদা আঁকতে রাজার মনে এল স্ত্রী রানি পূর্বে তিলকের মুখ। আর যেন সায় দিল আঁকার ইজেল, রং, তুলি। সব একসঙ্গে বলে উঠল, হ্যাঁ, ঠিক ভেবেছ। যশোদার পরে যশোদা এঁকে চললেন রাজা রবি বর্মা। কৃষ্ণের বাল্যলীলা। আর তার পালক মা যশোদা।

রবি বর্মা ধারণা করতেই পারেননি, এমন ভারতজুড়ে প্রিয়তা অর্জন করবে তাঁর যশোদা, আর তাঁর শিশু কৃষ্ণ। একদিন রবি বর্মা স্বপ্নে শুনতে পেলেন তাঁর আঁকার ইজেল তাঁকে বলছে, রাজা, তোমাকে অমর করে রাখবে তোমার যশোদা আর কৃষ্ণ। এরাই ভারতের আইকনিক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড।
একটা সময় ছিল, তখন কিন্তু রাজা রবির কোনও আঁকার ইজেল ছিল না। তখন তো রবি বর্মা নেহাত বালক। তার খুব ইচ্ছে করে, তাদের রাজপ্রাসাদের দেওয়াল জুড়ে ছবি আঁকতে। আর চারধারে ফাঁকা দেওয়াল বুক পেতে তাকে বলে, তোমার যা খুশি তুমি এঁকে চলো আমার গায়ে। সাহস করে দেওয়াল ভরে আঁকতে শুরু করে ছোট্ট রবি। যা কিছু দেখে তার চোখের সামনে, তাই সে আঁকতে চায় এবং হুবহু আঁকতে পারে। বাস্তবের নিখুঁত ছবি! রবির কাকা ওইটুকু বালকের আঁকা ছবি দেখে বিস্মিত। রাজসিংহাসনে তখন ইলিয়াম থিরুনাল। রাজাকে ডেকে রবির কাকা দেখান বালক-শিল্পীর কীর্তি। রাজা থিরুনাল বলেন, এই প্রতিভাকে নষ্ট হতে দেওয়া চলবে না। ডেকে পাঠালেন সেই সময়ে তৈলচিত্রের বিখ্যাত শিল্পী ও শিক্ষক রামস্বামী নায়েকেরকে। ছোট্ট রবিকে তাঁর হাতে তুলে দিয়ে বললেন, এই বিরল প্রতিভাকে মনের মতো শিল্পী তৈরি করুন।
তাই করলেন রামস্বামী। রাজা রবি বর্মা কৈশোর না পেরতেই হয়ে উঠলেন ভারতের অন্যতম পোর্ট্রেট পেন্টার। দক্ষিণ ভারতে একের পর এক রাজপরিবারে আমন্ত্রণ আসতে লাগল তাঁর: রাজা রবি বর্মা, আপনি আসুন আমাদের অতিথি হয়ে, রাজপরিবারের সদস্যদের ছবি আঁকার জন্যে। এমনই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে রাজকুমারী পূর্বে তিলকের সঙ্গে দেখা হল তাঁর। ছবি আঁকলেন পূর্বে-র। আর দু’জনেই দু’জনের প্রেমে পড়লেন। পূর্বের সঙ্গে দেখা না-হলে কি যশোদার ছবি কোনওদিন আঁকতে পারতেন রাজা রবি বর্মা?

এই প্রসঙ্গে আমার হঠাৎ মনে এল, রাজা রবি বর্মাকে নিয়ে রণজিৎ দেশাইয়ের দুর্ধর্ষ উপন্যাস। পড়েছেন? যদি পড়ে থাকেন, তাহলে জেনেছেন সত্যি-মিথ্যে আর মিথ মিশিয়ে রবি বর্মাকে নিয়ে লেখকের ভাবনা কতদূর গড়াতে পারে। আর যদি না-পড়ে থাকেন এই উপন্যাস এবং এখনও না-দেখে থাকেন এই উপন্যাস অবলম্বনে কেতন মেহতার সিনেমা ‘রং রসিয়া’, আজই দেখুন ইউটিউবে। বুঝবেন, রবি বর্মার রেঞ্জ, কোথায় মা যশোদা, আর কোথায় অনন্তকালের প্রিয়া, অনির্বাণ সেক্স সিম্বল, রবি বর্মার শকুন্তলা।
রবি বর্মা জয় করেছিলেন একের পর এক রাজকন্যা আর রাজবধূর মুগ্ধতা ও হৃদয়, যাঁদের ছবি তিনি এঁকেছেন। যেমন মহারানি লক্ষীবাই, মহাপ্রভা থাম্পূরত্তি, জানকী সুবাম্মাবাই সাহিব, রাজকুমারী পুজুকোট্টাই। এঁরাই তো হয়ে উঠেছেন, রাজা রবি বর্মার অবচেতন মনের অন্তরাল থেকে বেরিয়ে এসে কখনও তাঁর সরস্বতী লক্ষ্মী, কখনও তাঁর সীতা দময়ন্তী। এ এক আশ্চর্য রসায়ন। কিংবা হয়তো গর্হিত গলন। ‘রং রসিয়া’ সিনেমায় কি সেই ইঙ্গিত দেননি কেতন মেহতা?

‘নল দময়ন্তী’ সিরিজে একটি প্রেমের আখ্যানের কতরকম অনুষঙ্গ ফুটিয়ে তুলেছেন রাজা রবি বর্মা তাঁর অবিস্মরণীয় তৈলচিত্র পরম্পরায়! নিষেধ-রাজ নলের একাকিত্ব। বিদর্ভ রাজ্যের রাজকুমারী দময়ন্তীর শরীরতেষ্টা। দময়ন্তীর স্বয়ম্ভর-সভা। নলের সঙ্গে দময়ন্তীর দৃষ্টিবিনিময়। তাদের বিয়ে, সুখ, সম্ভোগ। নলের জুয়ায় আসক্তি। স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ। নলের শোচনা। এবং স্ত্রীর কাছে ফিরে আসা। রবি বর্মার জীবনে আসা সব নারী যেন একে একে ধরা দিয়েছে, রেখে গিয়েছে তাঁদের শরীরচিহ্ন, রূপের মোহ দময়ন্তী-আড়ালে।

রবি বর্মাকে হন্ট করে শকুন্তলার সেক্সুয়ালিটি। কিন্তু কোনও চেনা মেয়ের মধ্যে খুঁজে পান না তিনি তাঁর অবচেতনের অরণ্যকন্যাকে। শকুন্তলাকে নিয়ে কি কোনওদিন এঁকে উঠতে পারবেন তাঁর স্বপ্নের সিরিজ? হঠাৎ একদিন তাঁর ছাপাখানায় এসে ঢুকল সেই অপ্রত্যাশিত অরণ্যকন্যা। আর ঢুকতেই তার পায়ে যেন কিছু ফুটল! আর সেই মেয়ে নিচু হয়ে হাত দিল তার গোড়ালিতে। আর রবি বর্মা তাঁর অন্তরে শুনতে পেলেন তাঁর ইজেলের কণ্ঠস্বর: এই সেই মুহূর্ত, দ্য ম্যাজিক মোমেন্ট, রাজা, তোমার শকুন্তলা দুষ্মন্তকে খুঁজছে। হঠাৎ তার পায়ে বিঁধেছে কাঁটার মতো কিছু। সে নিচু হয়ে হাত দিচ্ছে গোড়ালিতে। তার সমস্ত শরীরের সন্ধান ও ভঙ্গি এবং বেদনা ছড়িয়ে থাকবে তোমার এই ছবিতে। তোমার জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ রাজা। ধরে রাখো তোমার মধ্যে এই মুহূর্ত।

রবি বর্মা ছুটে যান ওই যুবতীর কাছে। জানতে চান, কী নাম তোমার সুন্দরী?
–রাজিবাই মুলগাঁওকর, বলে সেই অরণ্যকন্যা।
–আমি তোমার ছবি আঁকতে চাই, বলেন রবি বর্মা।
–আমি তো কোনও রাজকন্যা নই, এমনকী কোনও বড়লোকের মেয়েও নই। আপনি আমার মতো গরিব মেয়ের ছবি আঁকবেন? আমার এক আত্মীয় আপনার ছাপাখানায় কাজ করে। আমি এসেছি তার সঙ্গে দেখা করতে।
রবি বর্মা রাজিবাইয়ের দিকে তাকিয়ে হাসেন। বলেন, আমি আর রাজকন্যা চাই না। তুমি আমার অরণ্যকন্যা শকুন্তলা। তুমি দুষ্মন্তকে খুঁজে বেড়াচ্ছ। তোমার পায়ে হঠাৎ ফুটেছে গাছের কাঁটা। তুমি নিচু হয়ে গোড়ালি থেকে বের করার চেষ্টা করছ সেই কাঁটা। কিন্তু তোমার চোখ থেকে সন্ধান সরে যায়নি। রাজি, তুমি যদি আমার মডেল হও, আমি তোমার মধ্যে আমার শকুন্তলাকে ফুটিয়ে তুলব। আমি আঁকা শুরু করব আমার শকুন্তলা সিরিজের একের পর এক ছবি। এখুনি চলো আমার স্টুডিও-তে। রাজি, এটা ১৮৯৮ সাল। এটাই তোমার দারিদ্রের শেষ বছর।

রাজি বাক্যহারা। সে রবি বর্মার হাত ধরে চলে আসে তাঁর স্টুডিও-তে। দাঁড়ায় ইজেলের সামনে। সে কেমন যেন মায়াচ্ছন্ন। রাজা তার গায়ে হাত রাখেন। রাজার স্পর্শের সব কথা শোনে, সমস্ত ইশারা বোঝে রাজির শরীর। সে তো এখন আর রাজি নয়। সে রাজা রবি বর্মার শকুন্তলা! রাজার একটি কথা তার মনে আটকে গিয়েছে, ১৮৯৮ তোমার দারিদ্রের শেষ বছর। রাজিবাইয়ের আর কিছু বোঝার দরকার আছে কি? এত সহজে এত রং, এত রস আসতে পারে জীবনে? আকস্মিক!

রাজি আঁচল ঝরিয়ে ধীরে ধীরে নিচু হয়ে সামান্য মুখ ফিরিয়ে চোখে মুখে সারা শরীরে ফুটিয়ে তোলে সন্ধান! সে গোড়ালিতে কাঁটা তোলার ভঙ্গিতে হাত রাখে। অভাবের কাঁটা। আর থাকবে না। রাজা রবি বর্মা ক্যানভাসে তুলির আঁচড় দেন। রঙে রসে একাকার তুলির অব্যর্থ টান।
…………………….. পড়ুন কাঠখোদাই-এর অন্যান্য পর্ব ……………………
পর্ব ৮৮: ন্যুড মডেলই মাতিসের ভাবনার টেবিল
পর্ব ৮৭: চণ্ডীমঙ্গল না পড়লে সে কীসের বাঙালি!
পর্ব ৮৬: সাধারণের জীবন রাজনীতির বিষয়, শিখিয়েছে মনুর সংহিতা
পর্ব ৮৫: চিঠির মোড়কে নষ্ট প্রেমের গোপন অভিসার
পর্ব ৮৪: চা নয়, চায়ের বই যখন প্রেমের অনুঘটক
পর্ব ৮৩: আধ্যাত্মিক বিরহ দিয়ে গড়া প্রেমের মহাকাব্য
পর্ব ৮২: এক মৃত্যুহীন ক্লাসিক কিংবা যৌনতার সহজপাঠ
পর্ব ৮১: দেশহীন, ভাষাহীন ঝুম্পা
পর্ব ৮০: সাহসী প্রেমের চিঠি লেখা শিখিয়েছিল যে বাঙালি যুগল
পর্ব ৭৯: সুরানিলয়ের টেবিল থেকেই জন্ম নিয়েছিল উপন্যাসের ভাবনা
পর্ব ৭৮: একবিন্দু আত্মকরুণা নেই অঞ্জনের আত্মজীবনীতে
পর্ব ৭৭: অ্যানির ‘দ্য ইয়ার্স’ শেখায় অন্তহীন ইরোটিসিজম-ই জীবনের পরমপ্রাপ্তি
পর্ব ৭৬: জয় গোস্বামীর সাজেশনে মুগ্ধতা জাগাল ‘সিম্পল প্যাশন’
পর্ব ৭৫: যে নারীর শেষপাতা পর্যন্ত পৌঁছতে পারেননি লেখক
পর্ব ৭৪: সেই তরুণীর জন্য বেঁচে আছে বোকা মনকেমন!
পর্ব ৭৩: কাফকার ভয়-ধরানো প্রেমপত্র!
পর্ব ৭২: থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা, কলকাতা বইমেলায় শ্রেষ্ঠাংশে তবে রবীন্দ্র-ওকাম্পো?
পর্ব ৭১: একশো বছরের নৈরাজ্য ও একটি লেখার টেবিল
পর্ব ৭০: আত্মজীবনী নয়, মার্গারেটের ব্রতভ্রষ্ট স্মৃতিকথা
পর্ব ৬৯: রুশদির ‘দ্য ইলেভেনথ আওয়ার’ শেষ প্রহরের, অনিবার্য অন্তিমের দ্যোতক
পর্ব ৬৮: মাংসও টেবিলের কাছে ঋণী
পর্ব ৬৭: ভ্রমণ-সাহিত্যকে লাজলো নিয়ে গেছেন নতুন পারমিতায়
পর্ব ৬৬: নরম পায়রার জন্ম
পর্ব ৬৫: যে বইয়ের যে কোনও পাতাই প্রথম পাতা
পর্ব ৬৪: খেলা শেষ করার জন্য শেষ শব্দ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন জেফ্রি আর্চার
পর্ব ৬৩: সহজ ভাষার ম্যাজিক ও অবিকল্প মুরাকামি
পর্ব ৬২: জীবন তিক্ত এবং আশা করা ভুল, এই দর্শনই বিশ্বাস করেন ক্রাজনাহরকাই
পর্ব ৬১: লন্ডনে ফিরে এলেন অস্কার ওয়াইল্ড!
পর্ব ৬০: পাপ ও পুণ্যের যৌথ মাস্টারপিস
পর্ব ৫৯: মাতৃভক্তির দেশে, মাকে ছেড়ে যাওয়ার আত্মকথন
পর্ব ৫৮: চিঠিহীন এই যুগের শ্রেষ্ঠ প্রণয়লিপি
পর্ব ৫৭: লেখার টেবিল কি জানে, কবিতা কার দান– শয়তান না ঈশ্বরের?
পর্ব ৫৬: প্রেমের নিশ্চিত বধ্যভূমি বিয়ে, বার্ট্রান্ড রাসেলের লেখার টেবিল জানে সেই নির্মম সত্য
পর্ব ৫৫: জুলিয়া রবার্টসকে হিন্দুধর্মে দীক্ষা দিয়েছিল একটি বই, একটি সিনেমা
পর্ব ৫৪: আপনার লেখার টেবিল নেই কেন মানিকদা?
পর্ব ৫৩: পুরুষরা যে কতদূর অপদার্থ, ড্রেসিং টেবিলের দেখানো পথে মেয়েরা প্রমাণ করে দেবে
পর্ব ৫২: একটাও অরিজিনাল গল্প লেখেননি শেক্সপিয়র!
পর্ব ৫১: প্রমথ-ইন্দিরার মতো প্রেমের চিঠি-চালাচালি কি আজও হয়?
পর্ব ৫০: হাজার হাজার বছর আগের পুরুষের ভিক্ষা এখনও থামেনি
পর্ব ৪৯: কুকথার রাজনীতিতে অমরত্বের স্বাদ পেয়েছেন জর্জ অরওয়েল
পর্ব ৪৮: টেবিলই ওকাম্পোর স্মৃতি, আত্মজীবনীর ছেঁড়া আদর
পর্ব ৪৭: শেষ বলে কিছু কি থাকতে পারে যদি না থাকে শুরু?
পর্ব ৪৬: যে টেবিলে দেবদূত আসে না, আসে শিল্পের অপূর্ব শয়তান
পর্ব ৪৫: ফ্রেডরিক ফোরসাইথকে ফকির থেকে রাজা করেছিল অপরাধের পৃথিবী
পর্ব ৪৪: আম-বাঙালি যেভাবে আমকে বোঝে, দুই আমেরিকান লেখিকা সেভাবেই বুঝতে চেয়েছেন
পর্ব ৪৩: দু’পায়ে দু’রকম জুতো পরে মা দৌড়ে বেরিয়ে গেল, ইবতিসম্-এর উপন্যাসের শুরু এমনই আকস্মিক
পর্ব ৪২: অন্ধকার ভারতে যে সিঁড়িটেবিলের সান্নিধ্যে রামমোহন রায় মুক্তিসূর্য দেখেছিলেন
পর্ব ৪১: বানু মুশতাকের টেবিল ল্যাম্পটির আলো পড়েছে মুসলমান মেয়েদের একাকিত্বের হৃদয়ে
পর্ব ৪০: গোয়েটের ভালোবাসার চিঠিই বাড়িয়ে দিয়েছিল ইউরোপের সুইসাইড প্রবণতা
পর্ব ৩৯: লেখার টেবিল বাঙালির লাজ ভেঙে পর্নোগ্রাফিও লিখিয়েছে
পর্ব ৩৮: বঙ্গীয় সমাজে বোভেয়ার ‘সেকেন্ড সেক্স’-এর ভাবনার বিচ্ছুরণ কতটুকু?
পর্ব ৩৭: ভক্তদের স্তাবকতাই পাশ্চাত্যে রবীন্দ্র-কীর্তি স্থায়ী হতে দেয়নি, মনে করতেন নীরদচন্দ্র চৌধুরী
পর্ব ৩৬: একাকিত্বের নিঃসঙ্গ জলসাঘরে মারিও ভার্গাস লোসা যেন ছবি বিশ্বাস!
পর্ব ৩৫: জীবনের বাইশ গজে যে নারী শচীনের পরম প্রাপ্তি
পর্ব ৩৪: যা যা লেখোনি আত্মজীবনীতেও, এইবার লেখো, রাস্কিন বন্ডকে বলেছিল লেখার টেবিল
পর্ব ৩৩: ফিওনার সেই লেখার টেবিল মুছে দিয়েছিল মেয়েদের যৌনতা উপভোগের লজ্জারেখা
পর্ব ৩২: বাঙালি নয়, আন্তর্জাতিক বাঙালির সংজ্ঞায় স্পিভাক এসে পড়বেনই
পর্ব ৩১: প্রতিভাপাগল একটি বই, যাকে দিনলিপি বলে সামান্য করব না
পর্ব ৩০: পতিতালয়ের সেই লেখার টেবিল জাগিয়ে তুলেছিল ইসাবেলের হৃদয়-চেতনা
পর্ব ২৯: পাথরে প্রাণ আনে যে টেবিলের স্পর্শ
পর্ব ২৮: নিজের টেবিলকে কটাক্ষ করি, কেন অ্যানে মাইকেলসের মতো লিখতে পারি না?
পর্ব ২৭: নারীর রাগ-মোচনের কৌশল জানে মিলান কুন্দেরার লেখার টেবিল!
পর্ব ২৬: ভালোবাসা প্রকাশের সমস্ত শব্দ পেরিয়ে গিয়েছিল এলিয়টের লেখার টেবিল
পর্ব ২৫: যে টেবিলে জন্ম নেয় নগ্নতা আর যৌনতার নতুন আলো
পর্ব ২৪: প্রেমের কবিতার ভূত জন ডানকে ধরেছিল তাঁর উন্মাদ টেবিলে, মোমবাতির আলোয়
পর্ব ২৩: যে টেবিল আসলে বৈদগ্ধ আর অশ্লীলতার আব্রুহীন আঁতুড়ঘর!
পর্ব ২২: মহাবিশ্বের রহস্য নেমে এসেছিল যে টেবিলে
পর্ব ২১: গাছ আমাদের পূর্বপুরুষ, লেখার টেবিল বলেছিল হোসে সারামাগোকে
পর্ব ২০: টেবিলের কথায় নিজের ‘হত্যার মঞ্চে’ ফিরেছিলেন সলমন রুশদি
পর্ব ১৯: প্রতিভা প্রশ্রয় দেয় অপরাধকে, দস্তয়েভস্কিকে শেখায় তাঁর লেখার টেবিল
পর্ব ১৮: বিবেকানন্দের মনের কথা বুঝতে পারে যে টেবিল
পর্ব ১৭: ‘গীতাঞ্জলি’ হয়ে উঠুক উভপ্রার্থনা ও উভকামনার গান, অঁদ্রে জিদকে বলেছিল তাঁর টেবিল
পর্ব ১৬: যে লেখার টেবিল ম্যাকিয়াভেলিকে নিয়ে গেছে শয়তানির অতল গভীরে
পর্ব ১৫: যে অপরাধবোধ লেখার টেবিলে টেনে এনেছিল শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে
পর্ব ১৪: লেখার টেবিল গিলে নিচ্ছে ভার্জিনিয়া উলফের লেখা ও ভাবনা, বাঁচার একমাত্র উপায় আত্মহত্যা
পর্ব ১৩: হ্যামনেট ‘হ্যামলেট’ হয়ে বেঁচে থাকবে অনন্তকাল, জানে সেই লেখার টেবিল
পর্ব ১২: রবীন্দ্রনাথের লেখার টেবিল চিনতে চায় না তাঁর আঁকার টেবিলকে
পর্ব ১১: আর কোনও কাঠের টেবিলের গায়ে ফুটে উঠেছে কি এমন মৃত্যুর ছবি?
পর্ব ১০: অন্ধ বিনোদবিহারীর জীবনে টেবিলের দান অন্ধকারের নতুন রূপ ও বন্ধুত্ব
পর্ব ৯: বুড়ো টেবিল কিয়ের্কেগার্দকে দিয়েছিল নারীর মন জয়ের চাবিকাঠি
পর্ব ৮: অন্ধকারই হয়ে উঠলো মিল্টনের লেখার টেবিল
পর্ব ৭: কুন্দেরার টেবিলে বসে কুন্দেরাকে চিঠি
পর্ব ৬: মানব-মানবীর যৌন সম্পর্কের দাগ লেগে রয়েছে কুন্দেরার লেখার টেবিলে
পর্ব ৫: বিয়ের ও আত্মহত্যার চিঠি– রবীন্দ্রনাথকে যা দান করেছিল লেখার টেবিল
পর্ব ৪: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের টেবিল আর তারাপদ রায়ের খাট, দুই-ই ছিল থইথই বইভরা
পর্ব ৩: টেবিলের গায়ে খোদাই-করা এক মৃত্যুহীন প্রেমের কবিতা
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved