
এই উপন্যাস ৩০-৩২ বছর আগে লেখা। তখন লেখিকা মধ্য-বয়সে। এখন তাঁর বয়স ৮৫-৮৬ হবে। তিনি যৌবনে এক বিবাহিত পুরুষের প্রেমে পড়েন। প্রেম না বলে সেটাকে তীব্র প্যাশন বলাই ভালো। অ্যানি এরনো সেটাই স্পষ্টভাবে বলেছেন। কোনও আড়াল টানেননি। ছোট্ট উপন্যাস। সরাসরি জীবন থেকে উঠে আসা রক্ত-মাংসের লেখা। একদিকে এই অবৈধ সম্পর্কের তীব্রতা এবং আনন্দ। অন্যদিকে সেই সম্পর্কের যন্ত্রণা, দহন।
৭৬.
আমার প্রান্ত বয়েসের পরম প্রাপ্তি: জয়, কবি জয় গোস্বামী, ‘কাঠখোদাই’-এর নিয়মিত এবং নিবিড় পাঠক। এ-কথা ফসকে লিখেই মনে হল, ‘নিবিড়’-এর মতো অমন মগ্ন একটি শব্দকে আমরা খুন করেছি! ওই শব্দ বিশেষ রাজনৈতিক কারণে বাঙালির মনে এখন ডেকে আনছে আতঙ্ক, এমনকী ঘটাচ্ছে ভয় থেকে মৃত্যু! তাই ‘নিবিড়’ প্রত্যাহার করে বরং বলি, আমার সৌভাগ্যের প্রতি নতজানু কৃতজ্ঞতায়, জয় ‘কাঠখোদাই’-এর প্রগাঢ় পাঠক। কিন্তু এখানেই থেমে থাকেনি জয়। সে প্রায়-ই পাঠিয়েছে দীর্ঘ-বার্তা ‘কাঠখোদাই’-এর কোন লেখা, কেন ভালো লেগেছে, সেই মর্মে।

সম্প্রতি জয় খুব অসুস্থতার মধ্যে দিয়ে গেল। কিছুটা ভালো হয়েই ক’দিন আগে সে ফোন করে মধুর দুর্বল ব্যগ্রতায় জানতে চাইল, আমি নোবেলজয়ী ফরাসি সাহিত্যিক অ্যানি এরনো-র (Annie Ernaux) চটি-উপন্যাস ‘সিম্পল প্যাশন’ পড়েছি কি না। বললাম, না জয়, পড়িনি। শুনে জয় ক্ষুণ্ণ কি অবাক, এতটুকু বুঝিনি। মিনিট কুড়ি ধরে জয় একটানা জানাল ‘সিম্পল প্যাশন’ গল্পটার সঙ্গে ওর জড়িয়ে পড়া মুগ্ধতা। এবং আমি নিবিষ্ট হয়ে শুনলাম। জয় যা বলল:
এই উপন্যাস ৩০-৩২ বছর আগে লেখা। তখন লেখিকা মধ্য বয়েসে। এখন তাঁর বয়েস ৮৫-৮৬ হবে। তিনি যৌবনে এক বিবাহিত পুরুষের প্রেমে পড়েন। প্রেম না বলে সেটাকে তীব্র প্যাশন বলাই ভালো। অ্যানি এরনো সেটাই স্পষ্টভাবে বলেছেন। কোনও আড়াল টানেননি। ছোট্ট উপন্যাস। সহজ সত্যিটা তুলে ধরেছেন। সরাসরি জীবন থেকে উঠে আসা রক্ত-মাংসের লেখা। একদিকে এই অবৈধ সম্পর্কের তীব্রতা এবং আনন্দ। অন্যদিকে সেই সম্পর্কের যন্ত্রণা, দহন। সেই সম্পর্কে অপমানের অন্তর-স্রোত এবং অসহনীয় আঘাত। এবং পুরুষটির উদাসীনতা সবকিছু বাস্তব হয়ে উঠছে। কী অকল্পনীয় সততা!

জয়ের মুখে এই বইয়ের প্রসঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও শংসা শোনার পরই পার্ক স্ট্রিটের অক্সফোর্ড বুক স্টোরে ফোন করে জানলাম, বইটা পাওয়া যাবে। বললাম আমার জন্যে এক কপি কাউন্টারে রাখুন। বিকেলে আসছি। বইটা কিনেই অক্সফোর্ডের দোতলায় দার্জিলিং চা আর ফ্লুরিজের ফ্রুট কেক নিয়ে বসে সেই যে ‘সিম্পল প্যাশন’-এ ঢুকে পড়লাম, চারধার নিভে গেল। জয় এতটুকু বাড়িয়ে বলেনি। এই লেখা জয়কেই উৎসর্গ করলাম।
অ্যানি এরনো-র ‘সিম্পল প্যাশন’ শুরু হচ্ছে এই ভাবে: এই বসন্তে আমি জীবনে প্রথম ক্যানাল প্লাসে একটা এক্স-রেটেড ফিল্ম দেখলাম। আমার টেলিভিশন সেটে কোনও ডিকোডার নেই। সুতরাং, ছবি ঝাপসা। ‘And the words replaced by strange sound effects, hissing and babbling, different sort of language, soft and continuous.’ ঠিক যা হয় বিছানায়। তখন কি আমাদের ভাষা বদলে যায় না? হয়ে ওঠে না হিস্ হিস্ জড়ানো কয়েকটা শব্দ?
লিখছেন এরনো: টিভির পর্দায় একটু বুঝতে পারছি, একটা মেয়ে মানুষ, শরীরে পোশাক বলতে একটা কর্সেট আর মোজা। সঙ্গে একটা পুরুষ। ওদের মধ্যে বোঝার মতো কোনও গল্প নেই। পুরুষ মেয়েমানুষটার কাছে আসে। এরপরেই ওই মেয়ের জনোনেন্দ্রিয়ের ক্লোজআপ। “A closeup of the woman’s genitals clearly visible.”
পর্দায় অন্য সবকিছু কম্পমান, ঝাপসা। স্পষ্ট শুধু মেয়েটার যৌনাঙ্গ। পরের ছবিতে “the man’ s penis, fully erect, sliding into the woman’ vagina”, খাড়া হয়ে দাঁড়ানো সেই পুরুষাঙ্গ পিছলে ঢুকে গেল মেয়েটার যৌনাঙ্গে। এরপর “For a long time this coming and going of the two sex organs was shown from several angles.”

এর পরে এরনো আসছেন এই অত্যন্ত জরুরি বাক্যে: পুরুষাঙ্গ আবার দেখা দিল নারীর যৌনাঙ্গ থেকে বেরিয়ে এসে। এবং বীর্য উথলে পড়ল মেয়েটার পেটে। যন্ত্রের সৌজন্যে কী সহজে আমরা আজকাল দেখতে পাই নারী পুরুষের যৌনাঙ্গের এই এক হওয়ার দৃশ্য। যেন দু’টি মানুষের করমর্দনের দৃশ্য।
লিখছেন এরনো: “It is only now that one can see this– a man’ s penis and a woman’s vagina coming together, the sperm.” এরপরেই অ্যানির অসামান্য উক্তি: আমার তো মনে হল, লেখার উদ্দেশ্য এটাই হওয়া উচিত: ‘the impression conveyed by sexual intercourse, a feeling of anxiety and stupefaction, a suspension of moral judgement.’ যৌনমিলনের প্রথমে একটা দুশ্চিন্তার ভাব। তারপর ক্রমশ বিহ্বল হতচেতন অবস্থা। তখন সমস্ত নৈতিকবোধ যেন আটকে থাকে, ঝুলে থাকে। লেখাতেও এই ভাবটা জাগিয়ে রাখতে হবে। লেখার ভাব এবং স্টাইল নিয়ে এরনোর এই বক্তব্য আমার কাছে অত্যন্ত সাহসী এবং নতুন বলে মনে হয়েছে। তিনি তাঁর উপন্যাসের শুরুতেই এই ধাক্কা দিয়েছেন।

‘সিম্পল প্যাশন’ প্রথম প্রকাশিত হয় ফরাসি ভাষায় ১৯৯১ সালে। তখন লেখক অ্যানি এরনোর বয়স ৫১। তিনি ২০২২ সালে ৮২ বছর বয়েসে নোবেল প্রাইজ পান। তাঁর ‘সিম্পল প্যাশন’-এর কাহিনি শুরু মুহূর্তে আঁকড়ে ধরা সহজতায়:
গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে আমার জীবন এক পুরুষের জন্যে অপেক্ষা, আর কোনও কাজ নেই। তার কাজ আমাকে ফোন করে আমার বাড়িতে আসা। আমি সুপার মার্কেটে যাই, সিনেমায় যাই, জামাকাপড় নিয়ে যাই কাচার জায়গায়, বই পড়ি, প্রবন্ধে নম্বর দিই। কিন্তু যে সব কাজ আমাকে করতেই হয়, সব ঝাপসা। কোনও ভবিষ্যৎ নেই আমার। আমি শুধু অপেক্ষা করি, কখন তার ফোন আসবে, সে জানাবে কবে, কখন আবার দেখা হবে। সেই কারণে একান্ত দরকার ছাড়া বাড়ি থেকে বেরই না। পাছে সে ফোন করে যখন আমি বাড়ি নেই। প্রত্যেকবার ফোন এলেই মনে হয়, ওর ফোন। যদি অন্য কারও কণ্ঠ শুনি, হতাশ লাগে। আর যদি বলে এক ঘণ্টার মধ্যে আসছে, তাহলেও মনের মধ্যে একটা তাড়াহুড়ো ও দুশ্চিন্তা। ওকে কতটুকু সময়ের জন্যে পাব! পাছে ওর বউ সন্দেহ করতে শুরু করে, তাই ওর বাড়ি ফেরার তাড়া। ওইটুকু সময়ের মধ্যে আমার কি অর্গাজম হবে? পাব কি রাগমোচনের চূড়ান্ত শিহরন ও আনন্দ? ঘণ্টা গুনে গুনে ওকে পেতে হয়। হাতের ঘড়িটা খুলে রাখি। ও কিন্তু ঘড়ি খোলে না। ঘড়ি দেখলেই বুঝি, দেরি করে ফেলার ভয় ওকে ছাড়ছে না। হঠাৎ সময় হয়ে যায়, পোশাক পরে, চলে যায়। ওর জীবনে আমি আর নেই। আর ও চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাকে তলিয়ে দেয় অবসাদের ঢেউ।
“I wouldn’t tidy up straight away. I would sit staring at the glasses, the plates and their leftovers, the overflowing ashtray, the clothes, the lingerie strewn all over the bedroom and the hallway, sheets spilling over on to the carpet.”

আমি এই অপরিষ্কার নোংরামিকে জিইয়ে রাখতে চাই। কেননা ওর মধ্যেই তো ছড়িয়ে আছে আমাদের তোলপাড়, আমাদের আদর, আমাদের শরীরের চাহিদা ও প্রাপ্তি, আমাদের যৌন তাড়নার আগুন ও দহন। অর্গাজমের চূড়ান্ত বিস্ফোরণ। ঘরটাকে গুছিয়ে আমাদের তাড়নার স্মৃতি ও চিহ্ন মুছে ফেলতে চাই না।
ওর সঙ্গে যখন আমার এই তাড়নার সম্পর্কটা চলছিল, তখন আমার একমাত্র আনন্দ ছিল নতুন নতুন আউটফিট কেনার মধ্যে। যদিও ওর সামনে তো বেশিক্ষণ পোশাক পরে থাকার কোনও মানে হয় না। পোশাক পরে থাকা মানে সময় নষ্ট।
ওর সঙ্গে আমার তাড়িত সম্পর্ক অনেকদিন হল শেষ হয়েছে। তবু মনে আছে: ‘His body with all my being – from his hair down to the tips of his toes. I could conjure up, vividly, his green eyes, the lock of his hair falling over his forehead, the curve on his shoulders. I could feel the teeth, the inside of his mouth, the shape of his thighs, the texture of his skin. I reflected that there was very little difference between this reconstruction and a hallucination, between memory and madness.’ ক্রমশ বুঝতে পারলাম, এই যে মনে মনে আমি আমার অতীতকে আবার নির্মাণ করছি, তার সঙ্গে স্বপ্ন দেখার বিশেষ তফাত নেই। তেমনি পার্থক্য নেই খুব বেশি মনকেমন এবং ম্যাডনেস-এর মধ্যে।

এই সম্পর্ক থেকে আমিই বেরিয়ে আসতে চাইলাম। কখন ফোন করবে সে, এই কথা ভাবতে ভাবতে আর কতদিন বেঁচে থাকব। ফোনের দয়ার ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকার যন্ত্রণা কী ভয়ংকর, আমি সেটা বুঝেছি, জেনেছি। কিন্তু বেরিয়ে আসতে চাইলেই কি বেরিয়ে আসা যায়? সিম্পল প্যাশন যখন আকঁড়ে ধরে, পাগল করে, তখন কি ছিঁড়ে ফেলা সহজ সেই সম্পর্ক? তবু অ্যানি এরনো স্বাধীন জীবন ফিরে পাওয়ার জন্যে সেটা করেন! ‘Now I feel luxury is also being able to live out a passion for a man or a woman.’
যাঁরা আটকে আছেন এমন ডেডলি প্যাশনে, নিজের দহনে নিজেই খাক হচ্ছেন, বেরতে পারছেন না কিছুতেই, তাঁদের পড়তেই হবে ‘সিম্পল প্যাশন’। তাহলে বুঝবেন, কতটা সত্যি কথা কী সহজে সাহসে লিখেছেন অ্যানি এরনো!
ভালো কথা, এবং সেটাই তো আসল কথা, অবৈধ প্যাশনের উন্মত্ত টানে আমরা প্রত্যেকেই জীবনে একবার অন্তত পড়ি! পড়ি না? না-হলে তো বেঁচে থাকাই বৃথা! সেটাও সত্যি কিন্তু!
…………………….. পড়ুন কাঠখোদাই-এর অন্যান্য পর্ব ……………………
পর্ব ৭৫: যে নারীর শেষপাতা পর্যন্ত পৌঁছতে পারেননি লেখক
পর্ব ৭৪: সেই তরুণীর জন্য বেঁচে আছে বোকা মনকেমন!
পর্ব ৭৩: কাফকার ভয়-ধরানো প্রেমপত্র!
পর্ব ৭২: থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা, কলকাতা বইমেলায় শ্রেষ্ঠাংশে তবে রবীন্দ্র-ওকাম্পো?
পর্ব ৭১: একশো বছরের নৈরাজ্য ও একটি লেখার টেবিল
পর্ব ৭০: আত্মজীবনী নয়, মার্গারেটের ব্রতভ্রষ্ট স্মৃতিকথা
পর্ব ৬৯: রুশদির ‘দ্য ইলেভেনথ আওয়ার’ শেষ প্রহরের, অনিবার্য অন্তিমের দ্যোতক
পর্ব ৬৮: মাংসও টেবিলের কাছে ঋণী
পর্ব ৬৭: ভ্রমণ-সাহিত্যকে লাজলো নিয়ে গেছেন নতুন পারমিতায়
পর্ব ৬৬: নরম পায়রার জন্ম
পর্ব ৬৫: যে বইয়ের যে কোনও পাতাই প্রথম পাতা
পর্ব ৬৪: খেলা শেষ করার জন্য শেষ শব্দ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন জেফ্রি আর্চার
পর্ব ৬৩: সহজ ভাষার ম্যাজিক ও অবিকল্প মুরাকামি
পর্ব ৬২: জীবন তিক্ত এবং আশা করা ভুল, এই দর্শনই বিশ্বাস করেন ক্রাজনাহরকাই
পর্ব ৬১: লন্ডনে ফিরে এলেন অস্কার ওয়াইল্ড!
পর্ব ৬০: পাপ ও পুণ্যের যৌথ মাস্টারপিস
পর্ব ৫৯: মাতৃভক্তির দেশে, মাকে ছেড়ে যাওয়ার আত্মকথন
পর্ব ৫৮: চিঠিহীন এই যুগের শ্রেষ্ঠ প্রণয়লিপি
পর্ব ৫৭: লেখার টেবিল কি জানে, কবিতা কার দান– শয়তান না ঈশ্বরের?
পর্ব ৫৬: প্রেমের নিশ্চিত বধ্যভূমি বিয়ে, বার্ট্রান্ড রাসেলের লেখার টেবিল জানে সেই নির্মম সত্য
পর্ব ৫৫: জুলিয়া রবার্টসকে হিন্দুধর্মে দীক্ষা দিয়েছিল একটি বই, একটি সিনেমা
পর্ব ৫৪: আপনার লেখার টেবিল নেই কেন মানিকদা?
পর্ব ৫৩: পুরুষরা যে কতদূর অপদার্থ, ড্রেসিং টেবিলের দেখানো পথে মেয়েরা প্রমাণ করে দেবে
পর্ব ৫২: একটাও অরিজিনাল গল্প লেখেননি শেক্সপিয়র!
পর্ব ৫১: প্রমথ-ইন্দিরার মতো প্রেমের চিঠি-চালাচালি কি আজও হয়?
পর্ব ৫০: হাজার হাজার বছর আগের পুরুষের ভিক্ষা এখনও থামেনি
পর্ব ৪৯: কুকথার রাজনীতিতে অমরত্বের স্বাদ পেয়েছেন জর্জ অরওয়েল
পর্ব ৪৮: টেবিলই ওকাম্পোর স্মৃতি, আত্মজীবনীর ছেঁড়া আদর
পর্ব ৪৭: শেষ বলে কিছু কি থাকতে পারে যদি না থাকে শুরু?
পর্ব ৪৬: যে টেবিলে দেবদূত আসে না, আসে শিল্পের অপূর্ব শয়তান
পর্ব ৪৫: ফ্রেডরিক ফোরসাইথকে ফকির থেকে রাজা করেছিল অপরাধের পৃথিবী
পর্ব ৪৪: আম-বাঙালি যেভাবে আমকে বোঝে, দুই আমেরিকান লেখিকা সেভাবেই বুঝতে চেয়েছেন
পর্ব ৪৩: দু’পায়ে দু’রকম জুতো পরে মা দৌড়ে বেরিয়ে গেল, ইবতিসম্-এর উপন্যাসের শুরু এমনই আকস্মিক
পর্ব ৪২: অন্ধকার ভারতে যে সিঁড়িটেবিলের সান্নিধ্যে রামমোহন রায় মুক্তিসূর্য দেখেছিলেন
পর্ব ৪১: বানু মুশতাকের টেবিল ল্যাম্পটির আলো পড়েছে মুসলমান মেয়েদের একাকিত্বের হৃদয়ে
পর্ব ৪০: গোয়েটের ভালোবাসার চিঠিই বাড়িয়ে দিয়েছিল ইউরোপের সুইসাইড প্রবণতা
পর্ব ৩৯: লেখার টেবিল বাঙালির লাজ ভেঙে পর্নোগ্রাফিও লিখিয়েছে
পর্ব ৩৮: বঙ্গীয় সমাজে বোভেয়ার ‘সেকেন্ড সেক্স’-এর ভাবনার বিচ্ছুরণ কতটুকু?
পর্ব ৩৭: ভক্তদের স্তাবকতাই পাশ্চাত্যে রবীন্দ্র-কীর্তি স্থায়ী হতে দেয়নি, মনে করতেন নীরদচন্দ্র চৌধুরী
পর্ব ৩৬: একাকিত্বের নিঃসঙ্গ জলসাঘরে মারিও ভার্গাস লোসা যেন ছবি বিশ্বাস!
পর্ব ৩৫: জীবনের বাইশ গজে যে নারী শচীনের পরম প্রাপ্তি
পর্ব ৩৪: যা যা লেখোনি আত্মজীবনীতেও, এইবার লেখো, রাস্কিন বন্ডকে বলেছিল লেখার টেবিল
পর্ব ৩৩: ফিওনার সেই লেখার টেবিল মুছে দিয়েছিল মেয়েদের যৌনতা উপভোগের লজ্জারেখা
পর্ব ৩২: বাঙালি নয়, আন্তর্জাতিক বাঙালির সংজ্ঞায় স্পিভাক এসে পড়বেনই
পর্ব ৩১: প্রতিভাপাগল একটি বই, যাকে দিনলিপি বলে সামান্য করব না
পর্ব ৩০: পতিতালয়ের সেই লেখার টেবিল জাগিয়ে তুলেছিল ইসাবেলের হৃদয়-চেতনা
পর্ব ২৯: পাথরে প্রাণ আনে যে টেবিলের স্পর্শ
পর্ব ২৮: নিজের টেবিলকে কটাক্ষ করি, কেন অ্যানে মাইকেলসের মতো লিখতে পারি না?
পর্ব ২৭: নারীর রাগ-মোচনের কৌশল জানে মিলান কুন্দেরার লেখার টেবিল!
পর্ব ২৬: ভালোবাসা প্রকাশের সমস্ত শব্দ পেরিয়ে গিয়েছিল এলিয়টের লেখার টেবিল
পর্ব ২৫: যে টেবিলে জন্ম নেয় নগ্নতা আর যৌনতার নতুন আলো
পর্ব ২৪: প্রেমের কবিতার ভূত জন ডানকে ধরেছিল তাঁর উন্মাদ টেবিলে, মোমবাতির আলোয়
পর্ব ২৩: যে টেবিল আসলে বৈদগ্ধ আর অশ্লীলতার আব্রুহীন আঁতুড়ঘর!
পর্ব ২২: মহাবিশ্বের রহস্য নেমে এসেছিল যে টেবিলে
পর্ব ২১: গাছ আমাদের পূর্বপুরুষ, লেখার টেবিল বলেছিল হোসে সারামাগোকে
পর্ব ২০: টেবিলের কথায় নিজের ‘হত্যার মঞ্চে’ ফিরেছিলেন সলমন রুশদি
পর্ব ১৯: প্রতিভা প্রশ্রয় দেয় অপরাধকে, দস্তয়েভস্কিকে শেখায় তাঁর লেখার টেবিল
পর্ব ১৮: বিবেকানন্দের মনের কথা বুঝতে পারে যে টেবিল
পর্ব ১৭: ‘গীতাঞ্জলি’ হয়ে উঠুক উভপ্রার্থনা ও উভকামনার গান, অঁদ্রে জিদকে বলেছিল তাঁর টেবিল
পর্ব ১৬: যে লেখার টেবিল ম্যাকিয়াভেলিকে নিয়ে গেছে শয়তানির অতল গভীরে
পর্ব ১৫: যে অপরাধবোধ লেখার টেবিলে টেনে এনেছিল শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে
পর্ব ১৪: লেখার টেবিল গিলে নিচ্ছে ভার্জিনিয়া উলফের লেখা ও ভাবনা, বাঁচার একমাত্র উপায় আত্মহত্যা
পর্ব ১৩: হ্যামনেট ‘হ্যামলেট’ হয়ে বেঁচে থাকবে অনন্তকাল, জানে সেই লেখার টেবিল
পর্ব ১২: রবীন্দ্রনাথের লেখার টেবিল চিনতে চায় না তাঁর আঁকার টেবিলকে
পর্ব ১১: আর কোনও কাঠের টেবিলের গায়ে ফুটে উঠেছে কি এমন মৃত্যুর ছবি?
পর্ব ১০: অন্ধ বিনোদবিহারীর জীবনে টেবিলের দান অন্ধকারের নতুন রূপ ও বন্ধুত্ব
পর্ব ৯: বুড়ো টেবিল কিয়ের্কেগার্দকে দিয়েছিল নারীর মন জয়ের চাবিকাঠি
পর্ব ৮: অন্ধকারই হয়ে উঠলো মিল্টনের লেখার টেবিল
পর্ব ৭: কুন্দেরার টেবিলে বসে কুন্দেরাকে চিঠি
পর্ব ৬: মানব-মানবীর যৌন সম্পর্কের দাগ লেগে রয়েছে কুন্দেরার লেখার টেবিলে
পর্ব ৫: বিয়ের ও আত্মহত্যার চিঠি– রবীন্দ্রনাথকে যা দান করেছিল লেখার টেবিল
পর্ব ৪: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের টেবিল আর তারাপদ রায়ের খাট, দুই-ই ছিল থইথই বইভরা
পর্ব ৩: টেবিলের গায়ে খোদাই-করা এক মৃত্যুহীন প্রেমের কবিতা
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved