Robbar

আধ্যাত্মিক বিরহ দিয়ে গড়া প্রেমের মহাকাব্য

Published by: Robbar Digital
  • Posted:March 6, 2026 2:41 pm
  • Updated:March 6, 2026 2:56 pm  

দান্তের প্রেমের মহাকাব্য ‘ডিভাইন কমেডি’তে ঢুকে পড়েছে প্রসারিত নরক। কোনও প্রেমকাব্য নরকের এত বিপুল ধারক হয়ে উঠতে পারে, আমার ধারণা ছিল না দান্তে পড়ার আগে। এক রাজনৈতিক তোলপাড়ের মধ্যে ৩৭ বছর বয়েসে নিঃস্ব ও ফ্লোরেন্সে থেকে নির্বাসিত হলেন দান্তে। তিনি একা এবং গরিব। নিরাশ্রয় তিনি। পথে পথে ঘুরছেন এবং চালচুলোহীন অবস্থায় লিখে চলেছেন এমন এক স্পিরিচুয়াল প্রণয়ের মহাকাব্য, যার তুলনা নেই পৃথিবীতে। 

রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

৮৩.

নরক থেকে স্বর্গের পথে দান্তেকে হাত ধরে নিয়ে গিয়েছিলেন মহাকবি ভার্জিল। স্বর্গের দ্বার পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। তারপর দান্তের হাত ধরল বিয়েত্রিস, যাকে কোন ছোটবেলায় দু’বার মাত্র দেখে প্রেমে পড়েছিলেন দান্তে, ভুলতে পারেননি আজীবন। ক’দিন হল আমার লেখাপড়ার টেবিলটা আমাকে বারবার ডেকে নিয়ে যাচ্ছে ওই টেবিলের ওপরে রাখা দান্তের ‘ডিভাইন কমেডি’র কাছে।

এই ‘ডিভাইন কমেডি’তেই আছে দান্তের প্রসারিত নির্মম নরক বর্ণনা, যে-নরকের নাম ইনফারনো। এক এক পাপ ও অন্যায়ের এক এক রকম শাস্তি। দান্তের বর্ণনা ত্রাস জাগায়। আর একটি প্রশ্নও জাগে মনে, বেঁচে থাকাই কি হয়ে উঠতে পারে না পরতে পরতে নরক? কোনও কোনও দিন আমার কাটে একটিও না-কথা বলে। বা কোনও কোনও দিন কাটে কথার ভিড়ে। কিন্তু একটি কথাও কেউ বোঝে না। মনের কথা বোঝার কোনও লোক পাই না। তবু ঝাঁকে ঝাঁকে কথা বলে ক্লান্ত হই। সেটাও কি নরক? তবে দান্তে এমন সূক্ষ্ম নরকের কথা, এমন মনের উপবাসে যন্ত্রণা পাওয়ার কথা লেখেননি। তিনি লিখেছেন, পাপের জন্যে ফুটন্ত তেলে জ্বলে বা আগুনে পুড়ে খাক্ হওয়ার কথা।

দান্তের ‘ইনফারনো’ আমাকে টেনে আনছে বারবার তাঁর প্রেমের মহাকাব্যে।

কিন্তু দান্তের প্রেমের মহাকাব্য ‘ডিভাইন কমেডি’তে ঢুকে পড়েছে প্রসারিত নরক। কোনও প্রেমকাব্য নরকের এত বিপুল ধারক হয়ে উঠতে পারে, আমার ধারণা ছিল না দান্তে পড়ার আগে। দান্তে যখন প্রথম পড়ি, তখনও আমি ছাত্র। মা, বাবা বেঁচে আছেন। এবং আমি নতুন নতুন প্রেমে পড়ছি রোজ। আর ভাবছি, পৃথিবীটা কী সুন্দর! তরু দত্ত, কিটস, শেলির মতো দুম করে মরে যাব না তো! একটা অদ্ভুত আশ্বাস আসে সেই মৃত্যু ভয়ের মধ্যে। বাঁচা গিয়েছে। কবিতা লেখার অসুখ হয়নি আমার! আমি তো শুধু গদ্য লিখি, তাই অনেক দিন বেঁচে থাকতেই পারি! তখন বুঝিনি বেঁচে থাকা মানে একটানা প্রেমের মহাকাব্য নয়। বেঁচে থাকা মানে, পাতা ঝরে যায়। বেঁচে থাকা মানে, নিদ্রাহীন রাত। বেঁচে থাকা মানে, ভোররাতের ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্নের হামলা। আমার সন্তানকে ছেড়ে আসার জন্য লুসিফার আমাকে তপ্ত তেলে ভাজছে। সে কী দারুণ দহন! আমি লেডি ম্যাকবেথের মতো ঘুমের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে পাঁচিলহীন দিগন্তে লাগোয়া ছাদের কিনারে গিয়ে দাঁড়াই। আমার ভার্টিগোগ্রস্ত মাথা নিচের দিকে তাকায়… আমি নরকের দরজার ওপরে স্পষ্ট দেখতে পাই, দান্তের লেখা অমোঘ ক’টি শব্দ: ‘Abandon all hope, ye who enter here!’ এরই নাম বেঁচে থাকা?

ভোররাতের লেখার টেবিল ডেঞ্জারাস। আমার ভোররাতের লেখার টেবিল আমার মাথায় খুঁচিয়ে তোলে যৌবনে পড়া হেনরি এবং ডানা লি টমাসের লেখা ‘লিভিং বায়োগ্রাফিজ অফ গ্রেট পোয়েটস’-এর এই লাইনটা: ছেলেবেলায় দান্তে ছিল খুব দুরন্ত। কী আশ্চর্য, বাবা, মা নাম রেখেছিলেন ‘দুরান্তে’! দুরান্তে থেকে দান্তে!

আমি আমার লেখার টেবিলের দিকে অবাক হয়ে তাকাই। আর ভোররাতের লেখার টেবিলের গায়ে ফুটে ওঠে ১২৬৪-র আগস্ট মাসের ফ্লোরেন্সের আকাশ: সেখানে ধূমকেতুর পিছনে আলোর ঝাঁটার অশনি সংকেত। কিন্তু ধূমকেতু ছুটে চলেছে পূর্ব থেকে পশ্চিমে। ফ্লোরেন্সের মহাকাশবিদরা গণনা করে জানালেন, এক মহাপ্রতিভার জন্ম হতে চলেছে ফ্লোরেন্সে। এবং এক টানা বিপর্যয়ের জীবন এই প্রতিভাকে গ্রাস করতে পারবে না। কিন্তু ধূমকেতু যার জন্মবার্তার বাহক, তার জীবন তো ক্ষতবিক্ষত হবেই। দান্তে জন্মালেন ১২৬৫-র মে মাসে। মাকে হারালেন পাঁচ বছর বয়সে। বাবাকে ১২ বছরে। সেই হারানোর বেদনাবোধ আজীবন ছায়া ফেলে থাকল দান্তের মুখে। চোখ থেকে গেল না বিধুরতা।

এই বিধুর পাংশু মুখের বালক একদিন এক ধনীর কন্যাকে দেখল ফ্লোরেন্সের মেলায়। বালক-বালিকা, দু’জনেরই বয়স ৯। ঝলকের দেখা। দূর থেকে। সেই ছবিটা আটকে গেল দান্তের মনে। ঠিক যেমন বিষণ্ণতা আটকে তাঁর চোখে-মুখে।

বিয়েত্রিস-দান্তে সাক্ষাৎ, শিল্পীর চোখে

এই মেয়ের নাম বিয়েত্রিস। বেশ কিছুদিন পরে আরও একবার ফ্লোরেন্সের পথে হঠাৎ দেখা দান্তে আর বিয়েত্রিসের। থমকে দাঁড়াল দু’জনেই। মুহূর্তের জন্য। তারপর আবার দু’জনেই বিপরীত পথের যাত্রী। কিন্তু দু’জনেই পিছন ফিরে তাকাল। একসঙ্গে। চোখে মিলল চোখ। ইচ্ছায় ইচ্ছে। ব্যস, ওইটুকু! কিছুদিন পর বিয়েত্রিসের বিয়ে হয়ে গেল এক ‘ব্যাঙ্ক কর্মী’র সঙ্গে। এবং বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই মারা গেল বিয়েত্রিস। বিয়ের কিছুদিন কাটতে-না-কাটতে পৃথিবীর সব বিয়েত্রিসই কি মারা যায়? আমার লেখার টেবিলকে এই প্রশ্ন না-করে পারিনি।

আমার মনে পড়ে সেই মেয়েকে। স্নিগ্ধ কালো গায়ের রং তার। জ্যোৎস্নার মতো হাসি। তার সঙ্গে আলাপ হয়েছিল কলকাতা থেকে অনেক দূরে। সে ছিল দূরের মেয়ে। কিন্তু কিছুদিনের জন্য কলকাতায় এসেছিল আশ্রমকন্যা হয়ে। তার সঙ্গে আমার প্রেমে পড়ার মুহূর্তটা আজও আটকে আছে মনের মধ্যে। তার ফোন সেদিন ক্ষণে ক্ষণে যাচ্ছিল কেটে। বললাম, কী ব্যাপার বলো তো? সে বলল, ‘ফোনটায় টাইমার লাগানো। কিন্তু ভয় নেই, আমি আঁচল ভরে কয়েন নিয়ে এসেছি। কাটলেই কয়েন গলিয়ে রিকানেক্ট করব।’

‘আঁচল ভরে কয়েন’– এই তিনটি শব্দ তার সঙ্গে আমার গাঁটছড়া বেঁধে দিয়েছিল। আজও ছিঁড়ে যায়নি। কিছুদিনের মধ্যেই তার বিয়ে হয়ে গেল কলকাতা থেকে অনেক দূরে। কত বিয়েত্রিস কত ভাবে মরে, লেখার টেবিল কি তার খোঁজ রাখে?

এইভাবে মরে যাওয়া বিয়েত্রিসদের জন্য কোনও বিরহ নেই? আছে তো। দান্তে তার নাম দিয়েছেন, ‘আধ্যাত্মিক বিরহ’। ১৩২১– দান্তের জীবন শেষ হল, ৫৬ বছর বয়সে। ‘দোনাতি’ নামের এক দজ্জাল নারীকে বিয়ে করেছিলেন দান্তে। কয়েকটি সন্তানও হয়েছিল। কিন্তু কোনও দিন ক্ষণিকের মনের মিল হয়নি তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে। আধ্যাত্মিক বিরহে আজীবন কষ্ট পেয়েছেন দান্তে। সেই দহনের ফসল তাঁর প্রেমের মহাকাব্য ‘ডিভাইন কমেডি’। তাঁর একমাত্র চেষ্টা বিয়েত্রিসকে এই মহাকাব্যে মৃত্যুহীন আবেদন ও আদরে ধরে রাখা।

১৩০২ সাল। এক রাজনৈতিক তোলপাড়ের মধ্যে ৩৭ বছর বয়েসে নিঃস্ব ও ফ্লোরেন্সে থেকে নির্বাসিত হলেন দান্তে। তিনি একা এবং গরিব। নিরাশ্রয় তিনি। পথে পথে ঘুরছেন এবং চালচুলোহীন অবস্থায় লিখে চলেছেন এমন এক স্পিরিচুয়াল প্রণয়ের মহাকাব্য, যার তুলনা নেই পৃথিবীতে। পথে যেতে যেতে দূর থেকে দেখছেন এক সরাইখানা। এবার হয়তো একটা রাত আর পথে কাটাতে হবে না। কোনও রকমে দয়া ভিক্ষা করে মাথা গোঁজার একটা জায়গা পাওয়া যাবে। হাঁটতে হাঁটতে সেই বাড়িতে পৌঁছন দান্তে? তারপর? দান্তের নিজের লেখা থেকেই জানা যাক তাঁর সরণিভাগ্য:
A pilgrim who goes along a road where he has never been before, and who thinks that every house which he sees in the distance may be the inn, and finding it not so, turns his faith to the next one, and so from house to house until he comes to a place where he may lay down his head.

এই অবস্থার মধ্যে দান্তে লিখছিলেন তাঁর প্রেমের মহাকাব্য। হয়ে উঠেছিলেন মধ্যযুগের কবি, ‘the voice of the silent centuries.’

কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই নরকের নির্বাসনের বাইরে পা ফেলেন দান্তে, হয়তো জীবনে নয়, কিন্তু তাঁর মহাকাব্যে। তাঁর জ্বলন্ত প্রতিভা তাঁকে নিয়ে যায় স্বর্গসরণির এক সুদীর্ঘ যাত্রায়: ‘long and difficult is the ascent over the mountain of purification to the gates of Heaven.’

এতক্ষণ মহাকবি ভার্জিল তাঁকে পথ দেখিয়েছেন। এই পথের শেষে, স্বর্গের বারান্দায়, দান্তের অপেক্ষায় বিয়েত্রিস! দান্তের ভাষায়– ‘The Lady of Light!’ দ্যুতির দুহিতা!

কী এসে গেল দান্তের, যখন তাঁর মৃত্যুর পরেও তাঁর মৃতদেহকে ঢুকতে দেওয়া হল না ফ্লোরেন্সে? তিনি সমাধিস্থ হলেন র‍্যাভেনায়।

দান্তের মৃত্যুর ৫০০ বছর পরে দান্তের সমাধিতে ফুল রেখে একদিন নীরবে কাঁদলেন নিজের দেশ থেকে নির্বাসিত আর এক কবি, লর্ড বাইরন। যিনি আর কারও জন্য হয়তো চোখের জল ফেলেননি কোনও দিন।

…………………….. পড়ুন কাঠখোদাই-এর অন্যান্য পর্ব  ……………………

পর্ব ৮২: এক মৃত্যুহীন ক্লাসিক কিংবা যৌনতার সহজপাঠ

পর্ব ৮১: দেশহীন, ভাষাহীন ঝুম্পা

পর্ব ৮০: সাহসী প্রেমের চিঠি লেখা শিখিয়েছিল যে বাঙালি যুগল

পর্ব ৭৯: সুরানিলয়ের টেবিল থেকেই জন্ম নিয়েছিল উপন্যাসের ভাবনা

পর্ব ৭৮: একবিন্দু আত্মকরুণা নেই অঞ্জনের আত্মজীবনীতে

পর্ব ৭৭: অ্যানির ‘দ্য ইয়ার্স’ শেখায় অন্তহীন ইরোটিসিজম-ই জীবনের পরমপ্রাপ্তি

পর্ব ৭৬: জয় গোস্বামীর সাজেশনে মুগ্ধতা জাগাল ‘সিম্পল প্যাশন’

পর্ব ৭৫: যে নারীর শেষপাতা পর্যন্ত পৌঁছতে পারেননি লেখক

পর্ব ৭৪: সেই তরুণীর জন্য বেঁচে আছে বোকা মনকেমন!

পর্ব ৭৩: কাফকার ভয়-ধরানো প্রেমপত্র!

পর্ব ৭২: থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা, কলকাতা বইমেলায় শ্রেষ্ঠাংশে তবে রবীন্দ্র-ওকাম্পো?

পর্ব ৭১: একশো বছরের নৈরাজ্য ও একটি লেখার টেবিল

পর্ব ৭০: আত্মজীবনী নয়, মার্গারেটের ব্রতভ্রষ্ট স্মৃতিকথা

পর্ব ৬৯: রুশদির ‘দ্য ইলেভেনথ আওয়ার’ শেষ প্রহরের, অনিবার্য অন্তিমের দ্যোতক

পর্ব ৬৮: মাংসও টেবিলের কাছে ঋণী

পর্ব ৬৭: ভ্রমণ-সাহিত্যকে লাজলো নিয়ে গেছেন নতুন পারমিতায়

পর্ব ৬৬: নরম পায়রার জন্ম

পর্ব ৬৫: যে বইয়ের যে কোনও পাতাই প্রথম পাতা  

পর্ব ৬৪: খেলা শেষ করার জন্য শেষ শব্দ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন জেফ্রি আর্চার

পর্ব ৬৩: সহজ ভাষার ম্যাজিক ও অবিকল্প মুরাকামি

পর্ব ৬২: জীবন তিক্ত এবং আশা করা ভুল, এই দর্শনই বিশ্বাস করেন ক্রাজনাহরকাই

পর্ব ৬১: লন্ডনে ফিরে এলেন অস্কার ওয়াইল্ড!

পর্ব ৬০: পাপ ও পুণ্যের যৌথ মাস্টারপিস

পর্ব ৫৯: মাতৃভক্তির দেশে, মাকে ছেড়ে যাওয়ার আত্মকথন

পর্ব ৫৮: চিঠিহীন এই যুগের শ্রেষ্ঠ প্রণয়লিপি

পর্ব ৫৭: লেখার টেবিল কি জানে, কবিতা কার দান– শয়তান না ঈশ্বরের?

পর্ব ৫৬: প্রেমের নিশ্চিত বধ্যভূমি বিয়ে, বার্ট্রান্ড রাসেলের লেখার টেবিল জানে সেই নির্মম সত্য

পর্ব ৫৫: জুলিয়া রবার্টসকে হিন্দুধর্মে দীক্ষা দিয়েছিল একটি বই, একটি সিনেমা

পর্ব ৫৪: আপনার লেখার টেবিল নেই কেন মানিকদা?

পর্ব ৫৩: পুরুষরা যে কতদূর অপদার্থ, ড্রেসিং টেবিলের দেখানো পথে মেয়েরা প্রমাণ করে দেবে

পর্ব ৫২: একটাও অরিজিনাল গল্প লেখেননি শেক্সপিয়র!

পর্ব ৫১: প্রমথ-ইন্দিরার মতো প্রেমের চিঠি-চালাচালি কি আজও হয়?

পর্ব ৫০: হাজার হাজার বছর আগের পুরুষের ভিক্ষা এখনও থামেনি

পর্ব ৪৯: কুকথার রাজনীতিতে অমরত্বের স্বাদ পেয়েছেন জর্জ অরওয়েল 

পর্ব ৪৮: টেবিলই ওকাম্পোর স্মৃতি, আত্মজীবনীর ছেঁড়া আদর

পর্ব ৪৭: শেষ বলে কিছু কি থাকতে পারে যদি না থাকে শুরু?

পর্ব ৪৬: যে টেবিলে দেবদূত আসে না, আসে শিল্পের অপূর্ব শয়তান

পর্ব ৪৫: ফ্রেডরিক ফোরসাইথকে ফকির থেকে রাজা করেছিল অপরাধের পৃথিবী

পর্ব ৪৪: আম-বাঙালি যেভাবে আমকে বোঝে, দুই আমেরিকান লেখিকা সেভাবেই বুঝতে চেয়েছেন

পর্ব ৪৩: দু’পায়ে দু’রকম জুতো পরে মা দৌড়ে বেরিয়ে গেল, ইবতিসম্‌-এর উপন্যাসের শুরু এমনই আকস্মিক

পর্ব ৪২: অন্ধকার ভারতে যে সিঁড়িটেবিলের সান্নিধ্যে রামমোহন রায় মুক্তিসূর্য দেখেছিলেন

পর্ব ৪১: বানু মুশতাকের টেবিল ল্যাম্পটির আলো পড়েছে মুসলমান মেয়েদের একাকিত্বের হৃদয়ে

পর্ব ৪০: গোয়েটের ভালোবাসার চিঠিই বাড়িয়ে দিয়েছিল ইউরোপের সুইসাইড প্রবণতা

পর্ব ৩৯: লেখার টেবিল বাঙালির লাজ ভেঙে পর্নোগ্রাফিও লিখিয়েছে

পর্ব ৩৮: বঙ্গীয় সমাজে বোভেয়ার ‘সেকেন্ড সেক্স’-এর ভাবনার বিচ্ছুরণ কতটুকু?

পর্ব ৩৭: ভক্তদের স্তাবকতাই পাশ্চাত্যে রবীন্দ্র-কীর্তি স্থায়ী হতে দেয়নি, মনে করতেন নীরদচন্দ্র চৌধুরী

পর্ব ৩৬: একাকিত্বের নিঃসঙ্গ জলসাঘরে মারিও ভার্গাস লোসা যেন ছবি বিশ্বাস!

পর্ব ৩৫: জীবনের বাইশ গজে যে নারী শচীনের পরম প্রাপ্তি

পর্ব ৩৪: যা যা লেখোনি আত্মজীবনীতেও, এইবার লেখো, রাস্কিন বন্ডকে বলেছিল লেখার টেবিল

পর্ব ৩৩: ফিওনার সেই লেখার টেবিল মুছে দিয়েছিল মেয়েদের যৌনতা উপভোগের লজ্জারেখা

পর্ব ৩২: বাঙালি নয়, আন্তর্জাতিক বাঙালির সংজ্ঞায় স্পিভাক এসে পড়বেনই

পর্ব ৩১: প্রতিভাপাগল একটি বই, যাকে দিনলিপি বলে সামান্য করব না

পর্ব ৩০: পতিতালয়ের সেই লেখার টেবিল জাগিয়ে তুলেছিল ইসাবেলের হৃদয়-চেতনা

পর্ব ২৯: পাথরে প্রাণ আনে যে টেবিলের স্পর্শ

পর্ব ২৮: নিজের টেবিলকে কটাক্ষ করি, কেন অ্যানে মাইকেলসের মতো লিখতে পারি না?

পর্ব ২৭: নারীর রাগ-মোচনের কৌশল জানে মিলান কুন্দেরার লেখার টেবিল!

পর্ব ২৬: ভালোবাসা প্রকাশের সমস্ত শব্দ পেরিয়ে গিয়েছিল এলিয়টের লেখার টেবিল

পর্ব ২৫: যে টেবিলে জন্ম নেয় নগ্নতা আর যৌনতার নতুন আলো

পর্ব ২৪: প্রেমের কবিতার ভূত জন ডানকে ধরেছিল তাঁর উন্মাদ টেবিলে, মোমবাতির আলোয়

পর্ব ২৩: যে টেবিল আসলে বৈদগ্ধ আর অশ্লীলতার আব্রুহীন আঁতুড়ঘর!

পর্ব ২২: মহাবিশ্বের রহস্য নেমে এসেছিল যে টেবিলে

পর্ব ২১: গাছ আমাদের পূর্বপুরুষ, লেখার টেবিল বলেছিল হোসে সারামাগোকে

পর্ব ২০: টেবিলের কথায় নিজের ‘হত্যার মঞ্চে’ ফিরেছিলেন সলমন রুশদি

পর্ব ১৯: প্রতিভা প্রশ্রয় দেয় অপরাধকে, দস্তয়েভস্কিকে শেখায় তাঁর লেখার টেবিল

পর্ব ১৮: বিবেকানন্দের মনের কথা বুঝতে পারে যে টেবিল

পর্ব ১৭: ‘গীতাঞ্জলি’ হয়ে উঠুক উভপ্রার্থনা ও উভকামনার গান, অঁদ্রে জিদকে বলেছিল তাঁর টেবিল

পর্ব ১৬: যে লেখার টেবিল ম্যাকিয়াভেলিকে নিয়ে গেছে শয়তানির অতল গভীরে

পর্ব ১৫: যে অপরাধবোধ লেখার টেবিলে টেনে এনেছিল শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে

পর্ব ১৪: লেখার টেবিল গিলে নিচ্ছে ভার্জিনিয়া উলফের লেখা ও ভাবনা, বাঁচার একমাত্র উপায় আত্মহত্যা

পর্ব ১৩: হ্যামনেট ‘হ্যামলেট’ হয়ে বেঁচে থাকবে অনন্তকাল, জানে সেই লেখার টেবিল

পর্ব ১২: রবীন্দ্রনাথের লেখার টেবিল চিনতে চায় না তাঁর আঁকার টেবিলকে

পর্ব ১১: আর কোনও কাঠের টেবিলের গায়ে ফুটে উঠেছে কি এমন মৃত্যুর ছবি?

পর্ব ১০: অন্ধ বিনোদবিহারীর জীবনে টেবিলের দান অন্ধকারের নতুন রূপ ও বন্ধুত্ব

পর্ব ৯: বুড়ো টেবিল কিয়ের্কেগার্দকে দিয়েছিল নারীর মন জয়ের চাবিকাঠি

পর্ব ৮: অন্ধকারই হয়ে উঠলো মিল্টনের লেখার টেবিল

পর্ব ৭: কুন্দেরার টেবিলে বসে কুন্দেরাকে চিঠি

পর্ব ৬: মানব-মানবীর যৌন সম্পর্কের দাগ লেগে রয়েছে কুন্দেরার লেখার টেবিলে

পর্ব ৫: বিয়ের ও আত্মহত্যার চিঠি– রবীন্দ্রনাথকে যা দান করেছিল লেখার টেবিল

পর্ব ৪: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের টেবিল আর তারাপদ রায়ের খাট, দুই-ই ছিল থইথই বইভরা

পর্ব ৩: টেবিলের গায়ে খোদাই-করা এক মৃত্যুহীন প্রেমের কবিতা

পর্ব ২: লেখার টেবিল ভয় দেখিয়েছিল টি এস এলিয়টকে

পর্ব ১: একটি দুর্গ ও অনেক দিনের পুরনো নির্জন এক টেবিল