Robbar

চা নয়, চায়ের বই যখন প্রেমের অনুঘটক

Published by: Robbar Digital
  • Posted:March 10, 2026 8:00 pm
  • Updated:March 11, 2026 2:52 pm  

ওকাকুরার প্রেমের গল্প একে একে ভেসে এসেছে প্রিয়ম্বদার কানে: আমেরিকার বোস্টনে ক্লারা নামের এক অপেরা গায়িকার প্রেমে ভেসে গেলেন ওকাকুরা। আবার ১৮৮৭ সালে হাতসুকো নামের এক অন্তঃসত্ত্বা জাপানি মেয়েকে আমেরিকা থেকে জাপানে নিয়ে আসার পথে জড়িয়ে গেলেন তার সঙ্গে। আবার ১৯০৩ সালে এমা নামের এক লাস্যময়ী গায়িকার সঙ্গে ওকাকুরার সহবাস। এবং সেই সহবাস চলাকালীন ইসাবেলার সঙ্গে প্রেমলীলা। এছাড়া ১৯০২ সালে কলকাতায় এসেই ওকাকুরা তীব্র প্রেম জানালেন রবীন্দ্রনাথের দিদি স্বর্ণকুমারী দেবীর কন্যা, রবীন্দ্রনাথের গভীর স্নেহের পাত্রী, সরলা ঘোষালকে। এবং তিনি প্রেম নিবেদনের অর্বাচীন সাহস দেখিয়েছিলেন স্বয়ং নিবেদিতাকে!

রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

৮৪.

প্রতিদিনের মতো আজও ভোর না-হতেই লেখার টেবিলে তিনি। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, এই লেখার টেবিল তাঁকে এনে দিয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতি। এই টেবিলে লেখার কাগজ-কালি-কলম নিয়ে বসলেই তাঁর মাথায় আসে বিচিত্র ভাবনার ঢেউ। মনের মধ্যে এত রকমের ভাবনা, স্রোত এবং চোরাস্রোতের টানাপোড়েন, কে জানাত তাঁকে, এই টেবিল না-জানালে!

ওকাকুরা কাজুকো

১৯০২-এ প্রথম ভারতে যান তিনি। ইন্ডিয়া দর্শন তাঁকে মুগ্ধ করল। কিন্তু তিনি জাপান থেকে ইন্ডিয়ায় এলেন কেন? এলেন বিবেকানন্দের টানে। তাঁর উদ্দেশ্য, বিবেকানন্দকে সঙ্গে করে জাপানে নিয়ে আসা। জাপানে ‘পার্লামেন্ট অফ ওরিয়েন্টাল রিলিজিয়ন্স’-এ বিবেকানন্দকে যে আসতেই হবে। তিনিই তো হয়ে উঠবেন আলোর আলো। কিন্তু, এই সন্ন্যাসী আর বাঁচতে চাইলেন না। দেহ রাখলেন ১৯০২-এর ৪ জুলাই।

স্বামী বিবেকানন্দ, কলম্বোয়

স্বামীজির না কি ইচ্ছামৃত্যু! তাঁর কাজ ফুরিয়েছে। আর থাকতে চাইলেন না। জাপানে ফিরে এলেন ওকাকুরা। ওকাকুরা কাজুকো। আর তাঁর সঙ্গে নিয়ে এলেন ভারত থেকে কাশ্মীরি কাঠের এই হালকা সুন্দর লেখার টেবিল। আর নিয়ে এসেছেন এক অসাধারণ বন্ধুত্বের স্মৃতি। তাঁর এই সুদর্শন বাঙালি বন্ধুর নাম, সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মেজোদাদা, প্রথম ইন্ডিয়ান আইসিএস, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুত্র।

সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর

লেখার টেবিলটার ওপর জাপানি বসন্তের প্রথম দান, এক গুচ্ছ ভোরের ফুল, সাজিয়ে রাখেন ওকাকুরা। আর ভাবেন এই টেবিলেই তিনি ইংরেজিতে পরপর তিনটি বই লিখেছেন: ‘দ্য আইডিয়ালস অফ দ্য ইস্ট’, ‘দ্য অ্যাওয়েকনিং অফ জাপান’, ‘দ্য বুক অফ টি’। এই তিনটি বইয়ের সৌজন্যে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর ভাবনা ও লেখার আলো। তাঁর সম্মানে বন্ধু সুরেন্দ্রনাথ পার্টি দিচ্ছেন ঠাকুরবাড়িতে। তিনি প্রধান অতিথি। ১০ বছর পরে, ১৯১২ সালে, তিনি আবার কলকাতায় ফিরে আসবেন সুরেন্দ্রর নৈশপার্টিতে যোগ দিতে। আবার দেখা হবে রবীন্দ্রনাথ, গগনেন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ এবং নিবেদিতার সঙ্গে। একটি খবর ইংল্যান্ড থেকে উড়ে এসেছে ওকাকুরার কানে সম্প্রতি: রবীন্দ্রনাথ নাকি খুব তাড়াতাড়ি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেতে চলেছেন!

আজ সেই রাত। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি ক্রমশ গমগম করছে। জমে উঠছে সুরেন্দ্রর পার্টি। পার্টিতে যোগদানের জন্য সুদূর জাপান থেকে ওকাকুরা কলকাতায়। তবে এখনও এসে পৌঁছননি। এইমাত্র পার্টিতে এলেন বছর চল্লিশের এক বিধবা বিদূষী। চোখ ঝলসানো সুন্দরী। নাম প্রিয়ম্বদা বন্দ্যোপাধ্যায়। কে এই নারী, হিন্দু বিধবা হয়েও সেই যুগে মদ আর আমোদের নৈশপার্টিতে? যেখানে বিদেশি ম্লেচ্ছরাও আমন্ত্রিত!

প্রিয়ম্বদা বন্দ্যোপাধ্যায়

এই বিধবা সুন্দরীর মামা কলকাতার নামকরা ব্যারিস্টার আশুতোষ চৌধুরী। তিনি রবীন্দ্রনাথের বিশেষ বন্ধু। তাঁর ছোটভাই প্রমথ চৌধুরী, প্রিয়ম্বদার আর এক মামা, ইতিমধ্যেই খ্যাতি অর্জন করেছেন বাঙালি ইন্টেলেকচুয়াল পরিচিতিতে। কিছুদিনের মধ্যেই প্রকাশিত হবে তাঁর সম্পাদনায় ‘সবুজপত্র’। রবীন্দ্রনাথ এই পত্রিকায় চলতি বাংলা গদ্যে লিখতে প্রতিশ্রুত হয়েছেন। প্রমথর আর এক পরিচয়, তিনি সত্যেন্দ্রনাথের কন্যা, সুরেন্দ্রর বোন ইন্দিরাকে বিয়ে করে ঠাকুরবাড়ির জামাই।

এবার আসা যাক, প্রিয়ম্বদা সম্বন্ধে দু’-চার কথায়। ১৮৮২ সালে তিনি বিয়ে পাশ করেছেন বেথুন কলেজ থেকে। বিয়ে পাশ করার ১০ বছর পরে অ্যাডভোকেট তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হল। একটি পুত্রসন্তান হল। নাম, তারাকুমার। বিয়ের তিন বছর পরে বিধবা হলেন প্রিয়ম্বদা। হারালেন ১১ বছরের পুত্র তারাকুমারকেও। নিজের সংসার বলতে আর কিছুই থাকল না প্রিয়ম্বদার। তিনি চলে এলেন মা প্রসন্নময়ীর আশ্রয়ে।

প্রিয়ম্বদার আরও এক আশ্রয় তাঁর ভাবনা ও লেখার টেবিল। শত দুঃখকষ্টেও নষ্ট হয়নি এই সুন্দরী বিধবার রোম্যান্টিক মন। সেই মনের প্রকাশ ঘটে তাঁর লেখার টেবিলে। আর সেই টেবিলে চেয়ার টেনে বসলেই এই নারীর মনে উদয় হন রবীন্দ্রনাথ। এই লেখার টেবিলের বুকের ওপর তাঁর কবিতার খাতায় ‘রবীন্দ্র জয়ন্তী’ নামের কবিতায় প্রিয়ম্বদা লিখলেন রবীন্দ্রনাথকে:

‘তোমার গাহিতে জয় ভালবাসে হিয়া
যার সবটুকু আলো এনেছি বহিয়া
কৈশোরের তীর হতে যে গীত লহরী
চিত্ততলে চিরদিন বাজাল বাঁশরী।’

এহেন রোম্যান্টিক প্রিয়ম্বদা এসেছেন সুরেন্দ্রর নৈশপার্টিতে দুরুদুরু বক্ষে। কেননা সেই পার্টিতে আসছেন ওকাকুরা। যাঁর তিনটি বিখ্যাত বই-ই পড়েছেন তিনি। যাঁর সম্বন্ধে শুনেছেন অনেক গল্প। বিশেষ করে ওকাকুরার নারীপ্রীতির রূপকথা। এক নারী থেকে অন্য নারীতে ক্লান্তিহীনভাবে বহমান তিনি। একইসঙ্গে এই পুরুষ গভীর দার্শনিক, রসিক ইন্টেলেকচুয়াল, গবেষক, লেখক এবং শিল্পের অনুরাগী। কিন্তু তবু প্রেমের জন্য এত সময় তাঁর! কী করে?

ওকাকুরার প্রেমের গল্প একে একে ভেসে এসেছে প্রিয়ম্বদার কানে: আমেরিকার বোস্টনে ক্লারা নামের এক অপেরা গায়িকার প্রেমে ভেসে গেলেন ওকাকুরা। আবার ১৮৮৭ সালে হাতসুকো নামের এক অন্তঃসত্ত্বা জাপানি মেয়েকে আমেরিকা থেকে জাপানে নিয়ে আসার পথে জড়িয়ে গেলেন তার সঙ্গে। আবার ১৯০৩ সালে এমা নামের এক লাস্যময়ী গায়িকার সঙ্গে ওকাকুরার সহবাস। এবং সেই সহবাস চলাকালীন ইসাবেলার সঙ্গে প্রেমলীলা। এছাড়া ১৯০২ সালে কলকাতায় এসেই ওকাকুরা তীব্র প্রেম জানালেন রবীন্দ্রনাথের দিদি স্বর্ণকুমারী দেবীর কন্যা, রবীন্দ্রনাথের গভীর স্নেহের পাত্রী, সরলা ঘোষালকে। এবং তিনি প্রেম নিবেদনের অর্বাচীন সাহস দেখিয়েছিলেন স্বয়ং নিবেদিতাকে!

সিস্টার নিবেদিতা

ওকাকুরার জীবনে এই নারী প্রবাহের গল্প কেমন যেন এক কুহক সৃষ্টি করল প্রিয়ম্বদার মনে। কিন্তু অবনীন্দ্রনাথের বর্ণনায় ওকাকুরার যে ছবিটা ফুটে উঠল প্রিয়ম্বদার মনে, সেই ছবিটাকে অপার মুগ্ধতায় তিনি আকঁড়ে ধরতে চাইলেন:
When I first saw him, he was sitting on a couch with a bronze cigarette box before him, shaped like a lotus, from which he would draw cigarettes and smoke them in an endless chain. He was a very heavy smoker and very sparing of words. Of short stature, handsome appearance, though with slanting eyes, he would sit in his couch, calm and serene, like the very image of a superman, wrapt in meditation.

এই ছবির যেটুকু প্রিয়ম্বদা শত চেষ্টা করে মন থেকে মুছতে পারলেন না: একটি মানুষ বসে আছেন। একটির পর একটি সিগারেট তাঁর ঠোঁটে। তিনি গম্ভীর। মগ্ন। ডুবে আছেন নিজের মধ্যে। উদাসীন। কথা বলেন খুব কম। তিনি ভাবনায় প্রচ্ছন্ন এক মহামানব।

ওকাকুরা পার্টিতে এলেন রাত করে। আসা নয় তো, আবির্ভাব। মনে হল প্রিয়ম্বদার। ওকাকুরা দেখলেন প্রিয়ম্বদাকে। দীর্ঘ নিরীক্ষণ। প্রিয়ম্বদার মন যেন শুষে নিল সেই দৃষ্টি। ধীর স্পষ্ট উচ্চারণে ইংরেজিতে কথা বললেন ওকাকুরা। ইংরেজি ভাষায় সাবলীল অনর্গল! প্রতিটি শব্দের প্রয়োগে কী অব্যর্থ! মুগ্ধ প্রিয়ম্বদা কেমন যেন অবশ।

পার্টি থেকে বাড়ি ফিরে লেখার টেবিলে বসলেন এই নারী। তাঁর মন ছেয়ে আছে ওকাকুরার ‘বুক অফ টি’। তিনি লিখলেন ওকাকুরাকে তাঁর প্রথম প্রণয়পত্র:
Dry shrunken tea leaves, whoever dreamt held in them yet such green wealth of spring-tide beauty and poetry; fragile, frail, shell-like earthen cup. Whoever believed could reveal in a drop of gold-pure liquid the joys of a lifetime fancies and divine dreams. Beautifully hast thou, son of Japan, painted eternal life’s smiles and tears, lights and shadows in thy tea-water-colour.

তারপর এই ইংরেজি মুক্ত ছন্দের কবিতাটিকে নিজের ডায়েরিতে বাংলা ভাষার ছন্দে বেঁধে রাখলেন প্রিয়ম্বদা:

শুকানো চায়ের পাতা কে জানিত তায়
সবুজ ফাগুন ছিল ভরা কবিতায়!
মাটির ঠুনকো ছোটো ঝিনুক পেয়ালা
জীবনের হাসি খুশি খেয়াল দেয়ালা
ফটিক সোনালি জলে সকলি দেখায়!
জাপানি, চা-পানি দিয়ে আঁকিয়াছ ভালো
দিন দুনিয়ার যত হাসিকান্না আলো।

কিছুদিনের মধ্যেই ভারত থেকে বিদায় নিলেন ওকাকুরা। জাহাজ থেকে লিখলেন প্রিয়ম্বদাকে: এক অদ্ভুত বিষণ্ণতা আচ্ছন্ন আমি। যদিও আপনার দেশের তটরেখা সরে যাচ্ছে, আমি আপনার বাংলায় ফিরে যেতে চাই।

প্রিয়ম্বদা দেবীকে লেখা ওকাকুরার চিঠি

ওকাকুরাকে লিখলেন প্রিয়ম্বদা: আমি তোমাকে ধরে রাখতে পারছি না। তোমাকে বাঁধতে পারলাম না। ইচ্ছে করে তোমাকে আমার হৃদয়ের সঙ্গে বুনে দিতে। I can not hold thee, can not bind thee, blend thee in my heart, make thee mine, although I love thee ever and love thee much. I wish I could weave thee ever into my rhymes, on my love, my all!

প্রিয়তম, যদি পারতাম তোমাকে আমার কবিতার ছন্দে বুনে দিতে! But futile tears dry up, and lingering remembrance fàdes and at last life seems shelter trailing in the dust, unfortunate for ever.

লিখতে লিখতে হঠাৎ থেমে যান প্রিয়ম্বদা। তিনি বিধবা। স্বামীকে মনে পড়ে তাঁর। এসব কী লিখছেন তিনি! তিনি পাপ করছেন না তো? সামাজিক অন্যায়? সামাজিক লজ্জা? পারিবারিক কেলেঙ্কারি? এই সব বোধ গেল কোথায়? এই আবেগতাড়িত নারী তাকান তাঁর লেখার টেবিলটার দিকে! টেবিলটা আরও একবার এই বিধবার ভিতরের আগুন বের করে আনে:
Alas! I never can make thee out of my heart, for at times I find thee lying in me like the dull, hard, insensate, insensible stone, heavy and unbearable.

আমার মনের মধ্যে নিঃসঙ্গ কামনা কুরে কুরে খাচ্ছে। কী যন্ত্রণা! কোথাও নেই উপশমের সম্ভাবনা। আকাশে কোথাও কি আছে এক টুকরো সজল মেঘ? আমি জানি, এই সব কথা লেখা অন্যায়, হয়তো পাপ। তবু আমার এই সর্বনেশে লেখার টেবিল, আমার মনের কথা সব বের করে আনছে। আমি পালাতে চাই আমার এই বন্দি, আটকে যাওয়া জীবন থেকে, তোমারই মতো যাযাবর জীবনে! প্রিয়তম, এই কথাটুকু নিছক সত্য!

ঋণ স্বীকার: নটি অ্যান্ড লোটাস হার্ট: দ্য ওকাকুরা-প্রিয়ম্বদা করেসপনডেন্স,
সম্পাদনা: নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

…………………….. পড়ুন কাঠখোদাই-এর অন্যান্য পর্ব  ……………………

পর্ব ৮৩: আধ্যাত্মিক বিরহ দিয়ে গড়া প্রেমের মহাকাব্য

পর্ব ৮২: এক মৃত্যুহীন ক্লাসিক কিংবা যৌনতার সহজপাঠ

পর্ব ৮১: দেশহীন, ভাষাহীন ঝুম্পা

পর্ব ৮০: সাহসী প্রেমের চিঠি লেখা শিখিয়েছিল যে বাঙালি যুগল

পর্ব ৭৯: সুরানিলয়ের টেবিল থেকেই জন্ম নিয়েছিল উপন্যাসের ভাবনা

পর্ব ৭৮: একবিন্দু আত্মকরুণা নেই অঞ্জনের আত্মজীবনীতে

পর্ব ৭৭: অ্যানির ‘দ্য ইয়ার্স’ শেখায় অন্তহীন ইরোটিসিজম-ই জীবনের পরমপ্রাপ্তি

পর্ব ৭৬: জয় গোস্বামীর সাজেশনে মুগ্ধতা জাগাল ‘সিম্পল প্যাশন’

পর্ব ৭৫: যে নারীর শেষপাতা পর্যন্ত পৌঁছতে পারেননি লেখক

পর্ব ৭৪: সেই তরুণীর জন্য বেঁচে আছে বোকা মনকেমন!

পর্ব ৭৩: কাফকার ভয়-ধরানো প্রেমপত্র!

পর্ব ৭২: থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা, কলকাতা বইমেলায় শ্রেষ্ঠাংশে তবে রবীন্দ্র-ওকাম্পো?

পর্ব ৭১: একশো বছরের নৈরাজ্য ও একটি লেখার টেবিল

পর্ব ৭০: আত্মজীবনী নয়, মার্গারেটের ব্রতভ্রষ্ট স্মৃতিকথা

পর্ব ৬৯: রুশদির ‘দ্য ইলেভেনথ আওয়ার’ শেষ প্রহরের, অনিবার্য অন্তিমের দ্যোতক

পর্ব ৬৮: মাংসও টেবিলের কাছে ঋণী

পর্ব ৬৭: ভ্রমণ-সাহিত্যকে লাজলো নিয়ে গেছেন নতুন পারমিতায়

পর্ব ৬৬: নরম পায়রার জন্ম

পর্ব ৬৫: যে বইয়ের যে কোনও পাতাই প্রথম পাতা  

পর্ব ৬৪: খেলা শেষ করার জন্য শেষ শব্দ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন জেফ্রি আর্চার

পর্ব ৬৩: সহজ ভাষার ম্যাজিক ও অবিকল্প মুরাকামি

পর্ব ৬২: জীবন তিক্ত এবং আশা করা ভুল, এই দর্শনই বিশ্বাস করেন ক্রাজনাহরকাই

পর্ব ৬১: লন্ডনে ফিরে এলেন অস্কার ওয়াইল্ড!

পর্ব ৬০: পাপ ও পুণ্যের যৌথ মাস্টারপিস

পর্ব ৫৯: মাতৃভক্তির দেশে, মাকে ছেড়ে যাওয়ার আত্মকথন

পর্ব ৫৮: চিঠিহীন এই যুগের শ্রেষ্ঠ প্রণয়লিপি

পর্ব ৫৭: লেখার টেবিল কি জানে, কবিতা কার দান– শয়তান না ঈশ্বরের?

পর্ব ৫৬: প্রেমের নিশ্চিত বধ্যভূমি বিয়ে, বার্ট্রান্ড রাসেলের লেখার টেবিল জানে সেই নির্মম সত্য

পর্ব ৫৫: জুলিয়া রবার্টসকে হিন্দুধর্মে দীক্ষা দিয়েছিল একটি বই, একটি সিনেমা

পর্ব ৫৪: আপনার লেখার টেবিল নেই কেন মানিকদা?

পর্ব ৫৩: পুরুষরা যে কতদূর অপদার্থ, ড্রেসিং টেবিলের দেখানো পথে মেয়েরা প্রমাণ করে দেবে

পর্ব ৫২: একটাও অরিজিনাল গল্প লেখেননি শেক্সপিয়র!

পর্ব ৫১: প্রমথ-ইন্দিরার মতো প্রেমের চিঠি-চালাচালি কি আজও হয়?

পর্ব ৫০: হাজার হাজার বছর আগের পুরুষের ভিক্ষা এখনও থামেনি

পর্ব ৪৯: কুকথার রাজনীতিতে অমরত্বের স্বাদ পেয়েছেন জর্জ অরওয়েল 

পর্ব ৪৮: টেবিলই ওকাম্পোর স্মৃতি, আত্মজীবনীর ছেঁড়া আদর

পর্ব ৪৭: শেষ বলে কিছু কি থাকতে পারে যদি না থাকে শুরু?

পর্ব ৪৬: যে টেবিলে দেবদূত আসে না, আসে শিল্পের অপূর্ব শয়তান

পর্ব ৪৫: ফ্রেডরিক ফোরসাইথকে ফকির থেকে রাজা করেছিল অপরাধের পৃথিবী

পর্ব ৪৪: আম-বাঙালি যেভাবে আমকে বোঝে, দুই আমেরিকান লেখিকা সেভাবেই বুঝতে চেয়েছেন

পর্ব ৪৩: দু’পায়ে দু’রকম জুতো পরে মা দৌড়ে বেরিয়ে গেল, ইবতিসম্‌-এর উপন্যাসের শুরু এমনই আকস্মিক

পর্ব ৪২: অন্ধকার ভারতে যে সিঁড়িটেবিলের সান্নিধ্যে রামমোহন রায় মুক্তিসূর্য দেখেছিলেন

পর্ব ৪১: বানু মুশতাকের টেবিল ল্যাম্পটির আলো পড়েছে মুসলমান মেয়েদের একাকিত্বের হৃদয়ে

পর্ব ৪০: গোয়েটের ভালোবাসার চিঠিই বাড়িয়ে দিয়েছিল ইউরোপের সুইসাইড প্রবণতা

পর্ব ৩৯: লেখার টেবিল বাঙালির লাজ ভেঙে পর্নোগ্রাফিও লিখিয়েছে

পর্ব ৩৮: বঙ্গীয় সমাজে বোভেয়ার ‘সেকেন্ড সেক্স’-এর ভাবনার বিচ্ছুরণ কতটুকু?

পর্ব ৩৭: ভক্তদের স্তাবকতাই পাশ্চাত্যে রবীন্দ্র-কীর্তি স্থায়ী হতে দেয়নি, মনে করতেন নীরদচন্দ্র চৌধুরী

পর্ব ৩৬: একাকিত্বের নিঃসঙ্গ জলসাঘরে মারিও ভার্গাস লোসা যেন ছবি বিশ্বাস!

পর্ব ৩৫: জীবনের বাইশ গজে যে নারী শচীনের পরম প্রাপ্তি

পর্ব ৩৪: যা যা লেখোনি আত্মজীবনীতেও, এইবার লেখো, রাস্কিন বন্ডকে বলেছিল লেখার টেবিল

পর্ব ৩৩: ফিওনার সেই লেখার টেবিল মুছে দিয়েছিল মেয়েদের যৌনতা উপভোগের লজ্জারেখা

পর্ব ৩২: বাঙালি নয়, আন্তর্জাতিক বাঙালির সংজ্ঞায় স্পিভাক এসে পড়বেনই

পর্ব ৩১: প্রতিভাপাগল একটি বই, যাকে দিনলিপি বলে সামান্য করব না

পর্ব ৩০: পতিতালয়ের সেই লেখার টেবিল জাগিয়ে তুলেছিল ইসাবেলের হৃদয়-চেতনা

পর্ব ২৯: পাথরে প্রাণ আনে যে টেবিলের স্পর্শ

পর্ব ২৮: নিজের টেবিলকে কটাক্ষ করি, কেন অ্যানে মাইকেলসের মতো লিখতে পারি না?

পর্ব ২৭: নারীর রাগ-মোচনের কৌশল জানে মিলান কুন্দেরার লেখার টেবিল!

পর্ব ২৬: ভালোবাসা প্রকাশের সমস্ত শব্দ পেরিয়ে গিয়েছিল এলিয়টের লেখার টেবিল

পর্ব ২৫: যে টেবিলে জন্ম নেয় নগ্নতা আর যৌনতার নতুন আলো

পর্ব ২৪: প্রেমের কবিতার ভূত জন ডানকে ধরেছিল তাঁর উন্মাদ টেবিলে, মোমবাতির আলোয়

পর্ব ২৩: যে টেবিল আসলে বৈদগ্ধ আর অশ্লীলতার আব্রুহীন আঁতুড়ঘর!

পর্ব ২২: মহাবিশ্বের রহস্য নেমে এসেছিল যে টেবিলে

পর্ব ২১: গাছ আমাদের পূর্বপুরুষ, লেখার টেবিল বলেছিল হোসে সারামাগোকে

পর্ব ২০: টেবিলের কথায় নিজের ‘হত্যার মঞ্চে’ ফিরেছিলেন সলমন রুশদি

পর্ব ১৯: প্রতিভা প্রশ্রয় দেয় অপরাধকে, দস্তয়েভস্কিকে শেখায় তাঁর লেখার টেবিল

পর্ব ১৮: বিবেকানন্দের মনের কথা বুঝতে পারে যে টেবিল

পর্ব ১৭: ‘গীতাঞ্জলি’ হয়ে উঠুক উভপ্রার্থনা ও উভকামনার গান, অঁদ্রে জিদকে বলেছিল তাঁর টেবিল

পর্ব ১৬: যে লেখার টেবিল ম্যাকিয়াভেলিকে নিয়ে গেছে শয়তানির অতল গভীরে

পর্ব ১৫: যে অপরাধবোধ লেখার টেবিলে টেনে এনেছিল শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে

পর্ব ১৪: লেখার টেবিল গিলে নিচ্ছে ভার্জিনিয়া উলফের লেখা ও ভাবনা, বাঁচার একমাত্র উপায় আত্মহত্যা

পর্ব ১৩: হ্যামনেট ‘হ্যামলেট’ হয়ে বেঁচে থাকবে অনন্তকাল, জানে সেই লেখার টেবিল

পর্ব ১২: রবীন্দ্রনাথের লেখার টেবিল চিনতে চায় না তাঁর আঁকার টেবিলকে

পর্ব ১১: আর কোনও কাঠের টেবিলের গায়ে ফুটে উঠেছে কি এমন মৃত্যুর ছবি?

পর্ব ১০: অন্ধ বিনোদবিহারীর জীবনে টেবিলের দান অন্ধকারের নতুন রূপ ও বন্ধুত্ব

পর্ব ৯: বুড়ো টেবিল কিয়ের্কেগার্দকে দিয়েছিল নারীর মন জয়ের চাবিকাঠি

পর্ব ৮: অন্ধকারই হয়ে উঠলো মিল্টনের লেখার টেবিল

পর্ব ৭: কুন্দেরার টেবিলে বসে কুন্দেরাকে চিঠি

পর্ব ৬: মানব-মানবীর যৌন সম্পর্কের দাগ লেগে রয়েছে কুন্দেরার লেখার টেবিলে

পর্ব ৫: বিয়ের ও আত্মহত্যার চিঠি– রবীন্দ্রনাথকে যা দান করেছিল লেখার টেবিল

পর্ব ৪: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের টেবিল আর তারাপদ রায়ের খাট, দুই-ই ছিল থইথই বইভরা

পর্ব ৩: টেবিলের গায়ে খোদাই-করা এক মৃত্যুহীন প্রেমের কবিতা

পর্ব ২: লেখার টেবিল ভয় দেখিয়েছিল টি এস এলিয়টকে

পর্ব ১: একটি দুর্গ ও অনেক দিনের পুরনো নির্জন এক টেবিল