Robbar

ভাবনার ভাস্কর্যের দিনগুলি রাতগুলি

Published by: Robbar Digital
  • Posted:February 14, 2026 8:25 pm
  • Updated:February 14, 2026 8:25 pm  

ভাবনার ভাস্কর্য’ প্রকাশের পর দে’জ থেকে ১৯৯৭-এর বইমেলার সময় কেতকীদির দুটি বই একসঙ্গেই প্রকাশিত হয়। তার মধ্যে প্রথমটি নাটক— ‘রাতের রোদ’। এই বইটি নিয়ে ১৯৯৬-এর অক্টোবর থেকেই চিঠির আদান-প্রদান শুরু হয়। তবে ব্যাপারটা ঠিক ততটাও সহজ ছিল না। ১ অক্টোবর ১৯৯৬ কেতকীদি বিলেত থেকে আমাকে কম্পিউটারে বাংলায় টাইপ করে একটি চিঠি লিখেছিলেন। কম্পিউটারে বাংলা টাইপ কথাটা আলাদা করে উল্লেখ করার কারণ হল তখনও আমাদের এখানে লেখকেরা এই ব্যাপারে খুব সড়গড় ছিলেন বলে মনে হয় না।

সুধাংশুশেখর দে

—প্রথমে গৌরদা আর তার পরে শিবদা— দু-বারই একজনের কথা উঠেছে, তিনি অম্লান দত্ত। গৌরকিশোর ঘোষ, শিবনারায়ণ রায় আর অম্লান দত্ত কেবল নিকটবন্ধুই ছিলেন না, তাঁদের চিন্তাজগতেও অনেক মিল ছিল। আমি দে’জ পাবলিশিং থেকে গৌরদা বা শিবদার যেমন বেশ কয়েকটা বই প্রকাশ করেছি, অম্লানবাবুর তেমন পারিনি। তিনি অবশ্য খুব বেশি লিখতেনও না। তবে দে’জ পাবলিশিং-এর পুস্তক তালিকায় অম্লান দত্তেরও নাম আছে।

অম্লান দত্তের ‘প্রবন্ধ সংগ্রহ’-তে ‘সম্পাদনার কথা’য় গৌরদা বন্ধুর পরিচয় দিতে গিয়ে লিখেছেন— ‘অম্লান এক সময় অর্থনীতির অধ্যাপক হিসাবেই কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু আমাদের সৌভাগ্য, তিনি অচিরেই অর্থনীতির যান্ত্রিক অভ্যাসের দাসত্ব থেকে নিজের ভাবনা-চিন্তাকে মুক্ত করে নিতে পেরেছিলেন।… অম্লানের বিচার বিশ্লেষণ কোনও মত থেকে কোনও মতবাদে পৌঁছবার ছক কষা কোনও মানচিত্র নয়। অম্লান জানেন, মানুষের সমাজ এবং মানুষ যখন কোনও সমস্যায় পীড়িত হয় বা সংকটে পড়ে, তার থেকে উত্তীর্ণ হবার কোনও একটা নির্দিষ্ট পথ নেই। সমস্যায় যাঁরা পীড়িত অথবা সংকটে যাঁরা পতিত হয়েছেন, নিজ নিজ অভিজ্ঞতা এবং চেতনা সম্বল করে সমস্যা বা সংকট থেকে বেরিয়ে যাবার পথ তাঁদেরই আবিষ্কার করে নিতে হয়। এই ভাবেই মানুষ সৃষ্টির ঊষাকালের প্রাকৃত সরল জীবন থেকে আজকের জটিলতম সমাজ সংগঠনে এসে পোঁচেছে। পথে আসতে আসতে মানুষ সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায়, সংকট থেকে ত্রাণের বিভিন্নমুখী পথ আবিষ্কার করতে করতে এগিয়ে এসেছে। এ বোধটি অম্লানের মৌল বোধ। দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়েই মানুষের উত্তরণ ঘটে, এই সত্য মেনে নেওয়ার সুবিধা এই যে, মানুষ বিপরীত মত ও পথকে শ্রদ্ধা করতে শেখে। পরস্পর-বিরোধী মত ও পথকে শ্রদ্ধা জানাবার পূর্বশর্ত হল, বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেগুলির অন্তর্নিহিত সত্যকে যত্ন সহকারে খুঁজে বার করা। যে মানুষ এই প্রচেষ্টায় রত, সে দ্বন্দ্বকে স্বীকার করে নেয়, কিন্তু বৈরিতাকে অস্বীকার করে। কারণ দ্বন্দ্ব ও বৈরিতার যোগ বিভ্রম মাত্র। দ্বন্দ্বের মধ্যে বৈরিতা নেই, যাঁরা স্বমতে নিধনং শ্রেয় বিবেচনা করেন, তাঁদের অহং প্রবল, অহং প্রবল হয়ে উঠলেই বৈরিতার জন্ম হয়। দ্বন্দ্ব উত্তরণের উপায়, বৈরিতা ধ্বংস ডেকে আনে। অম্লান এই সত্যের প্রতি বারে বারে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন।’

অম্লান দত্ত

অম্লান দত্ত ১৯৪৭ সাল থেকে অধ্যাপনা করেছেন। বিভিন্ন সময়ে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও ছিলেন। কিন্তু মাত্রই উনত্রিশ বছর বয়সে তাঁর লেখা ‘ফর ডেমোক্র্যাসি’ নামে বইটি আন্তর্জাতিক স্তরে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছিল। অ্যালবার্ট আইনস্টাইন তাঁকে চিঠি লিখেছিলেন। প্রোলেতারিয়েতের একনায়কতন্ত্র প্রসঙ্গে তাঁর আলোচনা আকৃষ্ট করেছিল বার্ট্রান্ড রাসেলকেও। নিজের সম্পর্কে অম্লান দত্ত লিখেছেন— ‘বিধিবদ্ধভাবে কোনও দলের সভ্য আমি হইনি কখনও। ঘনিষ্ঠতা ঘটেছিল একাধিক গোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে, সেই সৌহার্দ্য কখনও ভাঙেনি। স্মরণীয় নেতাদের ভিতর বিশেষভাবে দু’জনের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় হয়। দু’জনেই আমার চেয়ে বয়সে অনেক বড়, তবু বন্ধুভাবে আমাকে গ্রহণ করেছিলেন। এঁদের একজন জয়প্রকাশ নারায়ণ, অন্যজন মানবেন্দ্রনাথ রায়। জয়প্রকাশকে কাছ থেকে দেখবার সুযোগ আমি পেয়েছিলাম। শিবনারায়ণ ছিলেন মানবেন্দ্রনাথের ঘনিষ্ঠতর। মার্কসবাদ ছেড়ে দু-জনেই উত্তীর্ণ হন নবমানবতাবাদে। সেই উত্তরণের সময়ই ওঁদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ।’

শিবনারায়ণ রায়

১৯৫৮ সাল থেকে দশ বছর আবু সয়ীদ আইয়ুবের সঙ্গে অম্লান দত্ত যুগ্মভাবে ‘কোয়েস্ট’ পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। এই ‘কোয়েস্ট’ পত্রিকা নিয়ে একসময় বাংলার বুদ্ধিজীবী মহলে একটা বিতর্কের ঢেউ উঠেছিল। ‘১৯৬৬-৬৭ সালে NEW York Times-এ প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদে জানা যায় যে Quest পত্রিকার প্রকাশক গোষ্ঠী Congress for Cultural Freedom অংশত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা CIA-এর অর্থপুষ্ট।’ ফলে আইয়ুব এবং অম্লান দত্তকে বিশেষ সমালোচনার মুখে পড়তে হয়— বিশেষত বামপন্থী বুদ্ধিজীবী মহলের। তবে  আইয়ুব কিন্তু স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন পত্রিকার প্রকাশক গোষ্ঠীর সঙ্গে সিআইএ-র কোনো যোগাযোগের কথা তাঁরা জানতেন না। তবে সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তে কখনোই কোনো বাইরের শক্তির প্রভাব ছিল না। এ-ব্যাপারে সম্পাদকদ্বয়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ছিল। এমনকী তাঁদের সম্পাদনাকালে সিআইএ-বিরোধী লেখাও প্রকাশিত হয়েছে। এই সব বিতর্কেই হয়তো তাঁরা ‘কোয়েস্ট’ পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন।

আমি গৌরদাকে অনেকদিন ধরেই বলে রেখেছিলাম যদি অম্লান দত্তের কোনো বই পাই তাহলে আমি দে’জ থেকে সেই বই প্রকাশ করতে চাই। সেই সুযোগ এল বহু পরে— ১৯৯২ সালে আমি দে’জ পাবলিশিং থেকে অম্লান দত্তের একমাত্র বইটি প্রকাশ করতে পেরেছিলাম। সাড়ে আট ফর্মার ছোট্ট বই, কিন্তু বহু বিদগ্ধ মানুষের মুখে শুনেছি অম্লান দত্তের এই বই— ‘শান্তির সপক্ষে’ বাংলা প্রবন্ধসাহিত্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরেক প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব পান্নালাল দাশগুপ্তকে উৎসর্গ করা বইটির একাধিক সংস্করণও হয়েছে। বইয়ের ভূমিকায় অম্লানবাবু লিখেছিলেন— ‘…অনেক বছর আগে প্রকাশিত আমার প্রথম বইটির প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল, গণতন্ত্র। আজও আমার কাছে গণতন্ত্র মূল্যবান। তবু ১৯৮৯ থেকে ১৯৯২ সালের এই কয়েকটি প্রবন্ধের কেন্দ্রে রেখেছি শান্তির প্রশ্ন। শান্তির পথেই গণতন্ত্র আজ রক্ষা পেতে পারে। গণতন্ত্র ছাড়া শান্তি নেই। শান্তি ছাড়া মানুষের ভবিষ্যৎ নেই। গত কয়েক দশকের বিশেষ শিক্ষা এই। হিংসার জোরে একটি অন্যায়কে উৎপাটিত করে আরেকটির ভিত্তি স্থাপন করা যায়, তার বেশি কিছু নয়। আজকের সংকটের সমাধান নেই ঐ পথে। সেই সংকটের কিছু অন্তরঙ্গ পরিচয় দিতে চেয়েছি এই বইটিতে।’

পাঞ্জাব, আসাম, কাশ্মীর, শ্রীলঙ্কা চারিদিকে হিংসাত্মক আন্দোলনের উন্মত্ত চেহারা দেখেই তিনি ‘শান্তির সপক্ষে’র আটটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন। এই বইয়ের ‘ঐক্য নিয়ে আরো কিছু’ প্রবন্ধের শেষের দিকে অম্লানবাবু তাঁর অনবদ্য গদ্যে লিখছেন— ‘দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর থেকে পূর্ব ও পশ্চিম ইউরোপে দুই যুদ্ধশিবির গড়ে উঠেছে। দীর্ঘ চল্লিশ বছর এই অবস্থাটাকে অনিবার্য মনে হয়েছে, পরিবর্তনের কোনো আশাই দেখা যায়নি। অবশেষে ১৯৮৯ সালে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে গেছে। ইউরোপ শান্তি ও পুনর্মিলনের দিকে পা বাড়িয়েছে। এটা কোনো যুদ্ধের পথে ঘটেনি, ঘটতে পারত না। অহিংসা শব্দটি অথবা তার প্রতিশব্দ এখন ইউরোপীয় নেতাদের মুখে বারবার শোনা যাচ্ছে। মানুষের ইতিহাসে ভবিষ্যদ্বাণী করা যায় না, তবু ইউরোপ যে একটা নতুন পথ খুঁজে পেয়েছে সেটা স্পষ্ট। ভারতের সামনে কি নতুন পথ নেই ? সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের জন্য একটাই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকবে, একটিই সেনাবাহিনী, এটা কি অসম্ভব স্বপ্ন ? অতিসীমিত কিছু দায়িত্ব নিয়ে একটি কেন্দ্রীয় শাসন, অঙ্গরাজ্যগুলির জন্য স্বায়ত্তশাসনের উদার অধিকার, গ্রামপঞ্চায়ত ও পঞ্চায়ত সমিতিকে স্বায়ত্তশাসনের বনিয়াদী প্রতিষ্ঠান বলে স্বীকৃতি দান, এই পথেই তো শান্তি স্বাধীনতা ও ঐক্যের জন্য নতুন সংবিধান রচনা সম্ভব। এটা হয়তো আজও দূরের লক্ষ্য। কিন্তু ইতিহাস অভাবনীয় পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আশা রক্ষা করা ছাড়া উপায় কি ?’ তিনি গণতন্ত্রকে কীভাবে দেখতে চেয়েছিলেন তার একটি স্পষ্ট ছবি এখানে পাওয়া যায়।

দে’জ থেকে অম্লান দত্তের একটিই মাত্র বই প্রকাশিত হলেও তাঁর সঙ্গে আমার একেবারেই চেনা-পরিচয় ছিল না এমনটাও নয়। নিয়মিত দেখা না হলেও কোনো-কোনো অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ হত। তাছাড়া আমাদের প্রকাশনার বই সম্পর্কেও তাঁর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এমনকী আমি বিভিন্ন সময়ে তাঁকে আমাদের নতুন কোনো বই পাঠিয়েছি—মতামতের প্রত্যাশায়। সেরকমই চিঠি হাতে এল ১৯৮৮ সালে লেখা। সল্টলেকের ঠিকানা থেকে সেপ্টেম্বরের ২ তারিখে তিনি লিখেছেন—

‘মাননীয়েষু,

‘ভাবনার ভাস্কর্য’ বইটির এক কপি আপনাদের কাছ থেকে উপহার পেলাম। এজন্য ধন্যবাদ। শ্রীমতী কেতকী কুশারী ডাইসনকে দয়া করে জানাবেন যে, ঐ বইটি পেয়ে আমি আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ বোধ
করছি।

প্রীতিনমস্কারান্তে
ইতি
অম্লান দত্ত’

সে-বছর নববর্ষে আমি প্রকাশ করেছিলাম কেতকী কুশারী ডাইসনের ‘ভাবনার ভাস্কর্য’। তারই একটি কপি অম্লানবাবুর কাছে পাঠিয়েছিলাম। সম্ভবত কেতকীদিও সেরকমটাই চেয়েছিলেন। অম্লানবাবুর চিঠির সঙ্গে আমার লেখা একটা চিঠির খসড়াও পেয়ে গেলাম। আমি সেপ্টেম্বরের ৮ তারিখে লিখেছিলাম—

‘শ্রদ্ধাভাজনেষু,

 আপনার চিঠি পেয়েছি। শ্রদ্ধেয়া অমিতা কুশারীর কাছে সংবাদ পেয়েছি যে, আপনি ‘ভাবনার ভাস্কর্য’ পেয়েছেন। সেই মর্মে শ্রী[য.] কুশারী ডাইসনকে চিঠিও দিয়েছি।
আপনার শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করি।

                                                                             সশ্রদ্ধ নমস্কার সহ                                                                                সুধাংশু’


আমার চিঠিতে অমিতা কুশারী হলেন কেতকীদির মা।
১৯৮৮ সালে ‘ভাবনার ভাস্কর্য’ দিয়ে আমাদের প্রকাশনা থেকে কেতকীদির বই-প্রকাশ শুরু। সংখ্যায় খুব বেশি না হলেও ২০০৫ সাল পর্যন্ত আমি কেতকীদির বই করেছি। কেতকীদির সঙ্গে আমার পরিচয়ে অনুঘটকের কাজ করেছিলেন স্বপনদা (স্বপন মজুমদার)। কেতকী কুশারী ডাইসনের সঙ্গে আমার পরিচয় ১৯৮৭ সাল নাগাদ। তখন তিনি ইংল্যান্ডের বাসিন্দা। অক্সফোর্ডশায়ারের কিডলিংটনে ৬৩ নম্বর ব্যানবেরি রোড ছিল তাঁর বাড়ির ঠিকানা। তাঁর চিঠিপত্র বের করতে গিয়ে ঠিকানাটা খুব চেনা লাগল। আসলে একসময় ওই ঠিকানায় প্রচুর চিঠি পাঠিয়েছি, পেয়েওছি। ১৯৮৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি কেতকীদি একটি চিঠিতে লিখেছিলেন—

‘সবিনয় নিবেদন,

আমি কলকাতা ছেড়ে চ’লে আসার আগে পর্যন্ত কোনো প্রুফ আপনি
পাঠাননি, তবে আশা করি আমার প্রবন্ধসংগ্রহটির ছাপার কাজ ঠিকমতো
শেষ হয়েছে এবং বইমেলায় বার হবে। কোনো খবর পাই নি। কাজ কত দূর
এগোলো, কবে বার হবে— এসব জানিয়ে অনুগ্রহ ক’রে পত্র দেবেন। বই
বার হলে অন্তত একটি কপি এয়ারে পাঠাবেন।

নমস্কার জানাই
কেতকী কুশারী ডাইসন’

এই প্রবন্ধসংগ্রহটিই দে’জ থেকে প্রকাশিত তাঁর প্রথম বই ‘ভাবনার ভাস্কর্য’। যদিও তিনি চিঠিতে আশা প্রকাশ করেছেন যে সেবারের বইমেলায় বইটি প্রকাশিত হবে, কার্যত তা কিন্তু হয়নি। তিনি যে-তারিখে চিঠি লিখেছেন তখন সেবারের বইমেলা চলছে। ১৯৮৮-র কলকাতা বইমেলা হয়েছিল ২৭ জানুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বইটা পয়লা বৈশাখে প্রকাশের পর আমি তাঁকে ২০ এপ্রিল লেখা একটি চিঠিতে জানিয়েছিলাম—

‘…পত্রে আমার নববর্ষের নমস্কার নেবেন। ভাবনার ভাস্কর্য বইটি ১লা

বৈশাখ প্রকাশিত হয়েছে। দু-কপি বই Air Mail-এ আপনার ঠিকনায়

পাঠিয়েছি। প্রাপ্তি সংবাদ দেবেন। বইটি কেমন হয়েছে জানাবেন। আশাকরি

কুশলে আছেন।…’

চিঠির ওপর দেখছি আমি লিখে রেখেছি এরোগ্রামে চিঠি যাবে। গৌতম রায়ের প্রচ্ছদে তৈরি ‘ভাবনার ভাস্কর্য’ বইটি উৎসর্গ করা হয়েছিল প্রাবন্ধিক সত্যেন্দ্রনাথ রায়কে। মুখবন্ধে কেতকীদি লিখেছিলেন— ‘এই প্রবন্ধগুলি এবং গ্রন্থসমালোচনাগুলি প্রকাশিত হয়েছে ‘পরিচয়’, ‘হীনযান’, ‘দেশ’, ‘বিভাব’, ‘কবি ও কবিতা’, ‘তথ্যকেন্দ্র’, ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ এবং ‘জিজ্ঞাসা’-র বিভিন্ন সংখ্যায়। ‘ ‘বিনুর বই’ প্রসঙ্গে’ নামক প্রবন্ধটি অন্নদাশঙ্কর রায়ের আশি বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে শিবনারায়ণ রায় কর্তৃক সম্পাদিত প্রবন্ধসংকলন ‘বিবেকী শিল্পী অন্নদাশঙ্কর’-এর (ডি. এম. লাইব্রেরি ) অন্তর্গত হয়েছে।’ ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৫-র মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে চব্বিশটি প্রবন্ধ এবং গ্রন্থসমালোচনা সংকলিত হয়েছিল বইটিতে। বাদল সরকারের ‘ভোমা’ নাটক নিয়ে অভিজ্ঞতার কথা দিয়ে শুরু করে মানবেন্দ্রনাথ রায়— কেতকীদির বিস্তৃত ভাবনাজগতের চালচিত্র ধরা আছে বইটিতে।

কেতকীদির জীবন পুববাংলা, কলকাতা এবং বিলেতে কেটেছে। তাঁর মায়ের উল্লেখ আগেই করলাম। তাঁর বাবা অবনীমোহন কুশারী ছিলেন বুদ্ধদেব বসু, অজিত দত্ত, বিষ্ণু দে, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত প্রমুখের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। অবনীমোহন একসময় অবিভক্ত বাংলার মেহেরপুরের মহকুমা প্রশাসক ছিলেন। দেশভাগের পর তিনি মালদা জেলায় পোস্টিং নেন। কেতকীদি ছাত্রী হিসেবে অসামান্য কৃতিত্বের সাক্ষর রেখেছেন। কলকাতা ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশুনো করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বছরখানেক পড়িয়েছেন। তারপর রবার্ট ডাইসনের সঙ্গে বিয়ে এবং বিলেতে পাকাপাকিভাবে থাকতে শুরু করা। কেতকীদির বই যখন আমি করছি ততদিনে তিনি অন্য একটি বইয়ের জন্য রীতিমতো বিখ্যাত— ‘রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্‌তোরিয়া ওকাম্পোর সন্ধানে’। এই বইয়ের জন্য তিনি ১৯৮৬ সালে আনন্দ পুরস্কার পান। তাছাড়া ‘জিজ্ঞাসা’ পত্রিকার সঙ্গেও তাঁর নিবিড় যোগ ছিল। সেখানে তিনি যেমন লিখেছেন, তেমনই কখনো কোনো সংখ্যার আমন্ত্রিত সম্পাদক হিসেবেও থেকেছেন।

দে’জ পাবলিশিং-এর দপ্তরে কেতকী কুশারী ডাইসন

‘ভাবনার ভাস্কর্য’ প্রকাশের পর দে’জ থেকে ১৯৯৭-এর বইমেলার সময় কেতকীদির দুটি বই একসঙ্গেই প্রকাশিত হয়। তার মধ্যে প্রথমটি নাটক— ‘রাতের রোদ’। এই বইটি নিয়ে ১৯৯৬-এর অক্টোবর থেকেই তাঁর সঙ্গে আমার চিঠির আদান-প্রদান শুরু হয়। তবে চিঠির আদান-প্রদান বললে যতটা সহজ লাগছে ব্যাপারটা ঠিক ততটাও সহজ ছিল না। কেননা সবই চালিত হচ্ছিল কলকাতা থেকে বিলেতে বা উলটো পথে চিঠি-পাণ্ডুলিপি আদানপ্রদানের মাধ্যমে। সেদিক থেকেও এই বই আমাদের কাছে অভিনব। ১ অক্টোবর ১৯৯৬ কেতকীদি বিলেত থেকে আমাকে কম্পিউটারে বাংলায় টাইপ করে একটি চিঠি লিখেছিলেন। কম্পিউটারে বাংলা টাইপ কথাটা আলাদা করে উল্লেখ করার কারণ হল তখনও আমাদের এখানে লেখকেরা এই ব্যাপারে খুব সড়গড় ছিলেন বলে মনে হয় না। সেই চিঠিতে উনি লিখেছিলেন—

‘সুধাংশুবাবু,

আজ আপনাদের দোকানে ফোন করেছিলাম। আপনি ছিলেন না। আপনাদের কর্মী বঙ্কিমবাবুর সঙ্গে ফোনে কথা হলো। তদনুযায়ী আপনাদের প্রার্থিত সাইজে নাটকের ক্যামেরারেডি কপি এইসঙ্গে পাঠাচ্ছি। উনি জানতে চেয়েছিলেন ডিস্কও পাঠানো সম্ভব কিনা। আমার স্বামী কম্পিউটর-ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ, তাঁর সঙ্গে আলোচনা ক’রে বুঝলাম, সেটা সহজ হবে না। আমার কাজ যে-প্রোগ্রামে করা হয়েছে (লাইনোটাইপ-হেলের ইন্ডিয়ান ডিজাইন স্টুডিও) ঠিক সেটাই আপনাদের কাছে না থাকলে আপনারা ডিস্ক পড়তে পারবেন না। পোস্টস্ক্রিপ্ট-এ কনভার্ট ক’রে পাঠাতে হলে চল্লিশ-পঞ্চাশটা ফ্লপি ডিস্ক নাকি লেগে যাবে। আমার ধারণা, এই কপিতে ভুল নেই। আমি অনেকবার দেখে দিয়েছি। আপনারা নিশ্চিন্ত মনে এর থেকেই অফসেটে ছাপতে পারেন। আগামী বইমেলার মধ্যে বার ক’রে দিন।

মূল টেক্সটের পৃষ্ঠাসংখ্যা ১-৯৭। তা ছাড়া আর কয়েকটা অতিরিক্ত পাতা বুঝে নিন।

ক) নামপত্র। তলায় আপনাদের নাম যোগ হবে। এর উল্টো দিকের পাতা, যেখানে প্রকাশনের খুঁটিনাটি থাকে, আপনারা সরবরাহ করবেন।

খ) নাটকের রচনাকাল, প্রথম মঞ্চায়নের খুঁটিনাটি ইত্যাদি। এটি একটি recto পৃষ্ঠা হবে।

গ) স্থানকাল চরিত্র ইত্যাদি। এটি উপরের খ-চিহ্নিত পাতার উল্টো দিকে ছাপা একটি verso পৃষ্ঠা হবে, facing page 1 of the main text; প্রথম দৃশ্যের বাঁ দিকে যাবে।

ঘ) এটি বইয়ের ব্যাক কাভারের জন্য— নাটক ও বিলেতে তার প্রথম মঞ্চায়ন সম্বন্ধে কিছু মূল্যবান মতামত এখানে সংকলন ক’রে দেওয়া হয়েছে। সুধীজনের এই মতামতগুলি অবশ্যই বইয়ের ব্যাক কাভারে ছাপবেন। নাটকটির প্রথম মঞ্চায়ন যেহেতু ভারতের বাইরে হয়েছে, তাই এই অভিমতগুলি আপনাদের ওখানকার পাঠকদের কাছে পৌছে দেওয়া বিশেষ দরকারী।

ঙ) নাটকে ব্যবহৃত ইংরেজী গানের স্বরলিপি—এটি যাবে নাটকের শেষে, ৯৭-সংখ্যক পৃষ্ঠার পরে। এটি ছাপতে হবে, নয়তো নাটকটির পরিবেশন অসম্পূর্ণ থাকে। এই স্বরলিপি যে বইয়ে যাচ্ছে তা ১৮-সংখ্যক পৃষ্ঠায় ব’লে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনমতো বড় পাতায় ছেপে ক্রোড়পত্রের মতো ভাঁজ ক’রে বাঁধাই করতে দেবেন, মানচিত্র বা বংশতালিকা যেভাবে যায়।

এই গেলো নাটকের কথা। এর পর রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্‌তোরিয়া ওকাম্পোর সন্ধানে বইটির পুনর্মুদ্রণের কথা। আপনাদের প্রস্তাবে আমি সানন্দে সম্মতি দিচ্ছি। নাভানার সঙ্গে কথা ব’লে নেওয়া দরকার হলে আপনারা নিজেরাই কথা ব’লে নেবেন। বহু লোক বইটি পড়তে চায়, কিনতে চায়, আমার কাছে খোঁজ নেয়, কিন্তু আমি বইটি তাদের হাতে তুলে দিতে পারি না। অনেক দিনই বাজারে কপি পাওয়া যাচ্ছে না। সব থেকে ভালো হয় আপনারা যদি বইটির সর্বপ্রথম সংস্করণের (১৯৮৫) পাতা থেকে অফসেটে ছাপতে পারেন। এই সর্বপ্রথম মুদ্রণটি প্রায় নির্ভুল। পরবর্তী কোনো মুদ্রণ থেকে অনুগ্রহ ক’রে ছাপবেন না, কেননা সেগুলোতে কিছু কিছু ভুল আছে। প্রথম মুদ্রণ আর পরবর্তী মুদ্রণ মিলিয়ে দেখলে বোঝা যায়, দ্বিতীয়বার ছাপবার সময় ওরা বইয়ের পাতা থেকে ফোটো নেয় নি, uncorrected proof sheet থেকে ফোটো নিয়ে ছেপেছে। ফলে প্রথম সংস্করণে যা ঠিক আছে, পরে তা আর ঠিক নেই। কেন এমন বোকামি করেছে জানি না।

বইটার কাগজ পাতলা। ফোটো নেওয়ার সময়ে উল্টো দিকের ছাপার ছায়া যাতে এসে না যায় তা দেখতে হবে। প্রতি পৃষ্ঠার পিছনে কালো পাতা বসিয়ে ফোটো তুললে হয়তো সুফল পাবেন। যদি প্রথম সংস্করণ থেকে ফোটো নিয়ে ছাপা টেকনিকালি সম্ভব না হয়, যদি পুরোটা আবার কম্পোজ করতে চান, তা হলে কিন্তু আমাকে আবার প্রুফ দেখতে হবে। আপনাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন। এই বইয়ে প্রচুর বিদেশী শব্দ, স্প্যানিশ টুকরো প্রভৃতি আছে। অনেক যত্ন ক’রে বিদেশী শব্দদের প্রতিবর্ণীকরণ করা হয়েছিলো। সেইসব বানান রক্ষা করা বিধেয়। আজকাল বিদেশী শব্দের বানান নিয়ে অনেক স্বেচ্ছাচার চলছে, আমি তার পক্ষপাতী নই। প্রসঙ্গতঃ জানিয়ে রাখি, বইটির ৯৬-সংখ্যক পৃষ্ঠার তৃতীয় প্যারায় আমি তর্জমার ব্যাপারে একটি পরিমার্জনা করতে চাই।

এই প্যাকেটের প্রাপ্তিস্বীকার ক’রে বাধিত করবেন। আপনাদের সবাইকে বিজয়ার অগ্রিম অভিবাদন। অদূর ভবিষ্যতেই দেখা হবে ভরসা রাখি। ইতি আপনাদের

কেতকী কুশারী ডাইসন’

চিঠির শেষে তারা চিহ্ন দিয়ে ‘বিদেশী শব্দের’ সঙ্গে জুড়েছেন ‘এবং দেশী !’ এই চিঠিটি পড়লেই বোঝা যায় কেন আমি এই বই করার অভিজ্ঞতাকে অন্যরকম বলেছিলাম। গোটা বইটাই কম্পোজ হয়ে বিলেত থেকে আমার হাতে পৌঁছেছিল। বাকি সামান্য যে তথ্য সংযোজনের প্রয়োজন ছিল তা এখানেই করিয়ে নিয়েছিলাম। বই ছাপার খুঁটিনাটি বিষয় তাঁর আয়ত্তে ছিল। অবশ্যই স্বামী রবার্ট ডাইসনের সহযোগও পেয়েছিলেন। এই চিঠির পরে ৩০ অক্টোবর তিনি আমাকে আবার একটি চিঠি লিখেছিলেন। এবার অবশ্য হাতে-লেখা চিঠি। সে-চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন—

‘ …আমার বিজয়ার অভিবাদন জানবেন। গত ২রা অক্টোবর আপনাকে নাটকের ক্যামেরা রেডি কপি International Recorded Air Mail পোস্টে পাঠিয়েছি— Ref. no. RR 552368253GB— পেয়েছেন ?   প্রাপ্তিসংবাদ দিয়ে নিশ্চিন্ত করবেন। বঙ্কিমবাবুর সঙ্গে অন্য বইটি নিয়েও আলোচনা হয়েছিলো। সেবিষয়েও খবর দেবেন।…’

বঙ্কিমদার (বঙ্কিম শী) কথা এর আগে অনেকবারই বলেছি। সেসময় তিনি অনেক দায়িত্ব সামলাতেন বোঝাই যাচ্ছে। কেতকীদির দ্বিতীয় চিঠিটা পড়ে তাঁর উৎকণ্ঠার কথা সহজেই বোঝা যায়। কিন্তু এখন ইন্টারনেটে ক্যালেন্ডার মিলিয়ে দেখছি সেবছর দুর্গাপুজোর সপ্তমী পড়েছিল ৩ অক্টোবর। আর পুজো মানেই যে আমরা সপরিবারে নিজেদের গ্রাম ঘৃতপুরায় অন্তত দু-সপ্তাহের জন্য চলে যাই তাও বেশ কয়েকবার বলেছি। ফলে উত্তর দিতে আমার দেরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু উত্তর যে দিয়েছিলাম তার একটি প্রমাণ পাচ্ছি ২১ নভেম্বর আমার লেখা একটি চিঠিতে। এই চিঠিটা অবশ্য কেতকীদিকে নয়, লিখেছিলাম কলকাতার আইটিও-কে—

‘ITO

Calcutta 2482973

Sir,

It is very much surprised to apprise you that on 20th instant a Fax message has been communicated to Mss  KETAKI KUSHARI DYSON at 63 Banbury Road, Kidlington, OXON OX5 IAH, ENGLAND under Fax No. 00 44 1865 375983 vide your Receipt No. 246 dt. 20.11.96. But while contacted over phone Mss Dyson has told us that only the upper portion, i,e, only letter-head has reached her but the hand written portion of the letter has not reached, the reason of which is better known to you. As a result the very purpose of the Fax message has not been served though we had to pay Rs. 95.00 as Fax charges.

Kindly arrange to transmit such message over Fax again with free of cost to the addressee as cited above OR  refund the amount paid earlier for the purpose.

Thanking you in anticipation,

Yours faithfully, …’

এই চিঠি পড়লে সেকালের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ছবিটাও খানিক স্পষ্ট হয়। আজকের ই-মেল, উন্নত ক্যুরিয়র ব্যবস্থা আর শক্তিধর মোবাইল এই সমস্ত সমস্যা এক লহমায় দূর করে দেয়। কিন্তু যে-সময়ের কথা বলছি তখন এসব ব্যবস্থা আমাদের দেশে সেভাবে চালু হয়নি। অন্তত আমাকে ফ্যাক্স মেশিনের ভরসাতেই কাজ চালাতে হয়েছিল, আর ছিল এয়ার মেল।

যাইহোক, ১৯৯৭-এর বইমেলায় ‘রাতের রোদ’-এর সঙ্গে-সঙ্গেই আমরা পুনর্মুদ্রণ করেছিলাম তাঁর বিখ্যাত বই— ‘রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্‌তোরিয়া ওকাম্পোর সন্ধানে’। বিষয়টি নিয়ে তাঁর সঙ্গে আগেই কথা হয়েছিল। তবে ফ্যাক্সের গোলমাল ইত্যাদি পেরিয়ে আমি নভেম্বরের ১৯ তারিখ তাঁকে একটি চিঠি লিখেছিলাম যাতে ‘রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্‌তোরিয়া ওকাম্পোর সন্ধানে’ বইটির প্রসঙ্গ আছে। এই চিঠিতে কেতকীদিকে লিখেছিলাম—

‘আপনার চিঠি এবং আপনার নাটকের ক্যামেরা রেডি কপি পেয়েছি। আপনার

নির্দেশ অনুযায়ী নামপত্র ইত্যাদি ছাপা হবে। বইটি বইমেলায় প্রকাশ করার

চেষ্টা করছি।

‘রবীন্দ্রনাথ ও ভিকতোরিয়া ওকাম্পোর সন্ধানে’ বইটি পুনর্মুদ্রণের প্রস্তাবে

আপনার সানন্দ সম্মতি জানানোর জন্য ধন্যবাদ। বইটির প্রথম মুদ্রণ এখানে আমি

পাচ্ছি না। প্রথম মুদ্রণের কপি আপনার সংগ্রহে থাকলে অনুগ্রহ করে পাঠাবেন।

নাভানার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা আমার পক্ষে সমীচীন হবে না। বইটি আমাদেরকে

ছাপতে দিয়েছেন— এই মর্মে যদি একটা চিঠি ওদের কাছে পাঠান তাহলে খুব ভাল

হয়। চিঠিতে আরো উল্লেখ থাকবে যে ওঁরা যেন বইটি আর পুনর্মুদ্রণ না করেন।

আপনার কাছ থেকে ১ম মুদ্রণের কপি অথবা যে কোনো সংশোধিত কপি পেলেই

ছাপার কাজ শুরু করে দেবো।…’

এখন আর মনে নেই কেতকীদি কোনো সংশোধিত কপি পাঠিয়েছিলেন না কি প্রথম মুদ্রণের কপি। তবে সেবছর বইমেলায় বইটি ‘রাতের রোদ’-এর সঙ্গে প্রকাশিত হয়।

‘রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্‌তোরিয়া ওকাম্পোর সন্ধানে’ একটি জনপ্রিয় বই। ২০২৫-এর জুন মাসে এই বইটির চতুর্থ সংস্করণও প্রকাশিত হয়েছে। বইটির পরিচিতিতে বলা হয়েছিল— ‘অভিনব পদ্ধতিতে নির্মিত এই বই যেন এক নদী, যার একটি ধারা কেতকী কুশারী ডাইসনের দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস, অপর ধারা তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা। দুটি ধারা মিলিত হয়েছে সৃষ্টির ও অন্বেষণের এক বিচিত্র কল্লোলে। ঠিক এই স্বাদের অন্য কোনো বইয়ের কথা জানা নেই আমাদের। তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাসের সঙ্গে লেখিকা বেণীর মতো বেঁধে দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ভিক্‌তোরিয়া ওকাম্পো এবং লেনার্ড এল্‌ম্‌হার্স্ট সম্পর্কে তাঁর কিছু মূল্যবান অনুসন্ধানকে, পরিবেশন করেছেন এ বিষয়ে অনেক নতুন তথ্য। তা ছাড়াও এখানে পাওয়া যাবে কিছু সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকের রবীন্দ্রবিশ্লেষণ, স্প্যানিশের উপভাষা লাদিনো থেকে পাঁচটি লোকগীতিকার অনুবাদ, মূল স্প্যানিশ থেকে ভিক্‌তোরিয়া ওকাম্পোর বিভিন্ন রচনাংশের তর্জমা ইত্যাদি। গৌতমবুদ্ধের জীবনের ছায়ায় ভিক্‌তোরিয়া একটি রূপকথাধর্মী ছোট নাটক লিখেছিলেন; সেটি যখনও ছাপা হয়নি তখন তার একটি ইংরেজি সারাংশ তৈরি করেছিলেন তিনি নিজে; সেই সারাংশের একটি বাংলা অনুবাদও পাওয়া যাবে এখানে।’

এই বইয়ের মুখবন্ধে লেখাটির প্রাথমিক প্রেরণার কথা কেতকীদি নিজেই জানিয়েছেন— ‘এই বইয়ের দ্বিতীয় ও চতুর্থ অধ্যায়ের আদিরূপ প্রকাশিত হয়েছিল ‘জিজ্ঞাসা’ পত্রিকার দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম ও দ্বিতীয় সংখ্যায়। সে-লেখা দুটি দেখে নাভানা’র অধ্যক্ষ শ্রীবিরাম মুখোপাধ্যায় আমাকে অনুরোধ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্‌তোরিয়া-সম্পর্কে একটি বই লিখতে। সেই আইডিয়াটা মনের মধ্যে নাড়াচাড়া করতে করতে ১৯৮১ সালে ব্রিটেনে ফিরে এসেছিলাম এবং পড়াশোনা আরম্ভ করে দিয়েছিলাম।’ বিরামবাবু সত্যিই বইয়ের জহুরি ছিলেন।

তবে বইটি নিয়ে সুধীসমাজে ভালো যেমন প্রতিক্রিয়া ছিল, তেমন অনেকের আবার লেখাটি মনঃপূত হয়নি। গৌরীদি (গৌরী আইয়ুব) যেমন ‘চতুরঙ্গ’ পত্রিকায় পর-পর দুটি সংখ্যায় (জুন ও জুলাই ১৯৯১) বইটির (সঙ্গে অবশ্য ছিল ১৯৮৮ সালে সাহিত্য অকাদেমি প্রকাশিত ‘In Your Blossoming Flower-garden : Rabindranath Tagore and Victoria Ocampo’ বইটিরও সমালোচনা) দীর্ঘ সমালোচনা করেছিলেন। সেই সমালোচনার উত্তরে কেতকীদি ‘আমার রবীন্দ্রনাথ-ভিক্তোরিয়া-বিষয়ক বইদুটির সূত্রে’ শিরোনামে যে লেখাটি লিখেছিলেন তাতেও ‘রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্‌তোরিয়া ওকাম্পোর সন্ধানে’ লেখার কিছু ভেতরের কথা জানা যায়। কেতকীদি লিখেছেন—

‘১৯৮১ সালে শ্রদ্ধেয় বিরাম মুখোপাধ্যায় আমাকে রবীন্দ্রনাথ আর ভিক্তোরিয়ার উপরেই একটি ছোট বই লিখতে বলেছিলেন, কিন্তু সেই মুহূর্তে আমার ভিতরে একটা উপন্যাসই রূপ নিচ্ছিলো। বিলেতে ফিরে এসে অনুসন্ধানগুলো করেছি, কিন্তু তথ্যগুলোকে সাজানোর কোনো পদ্ধতি আমার মনঃপূত হয়নি, এদিকে উপন্যাসটা উত্তরোত্তর দাবিদার হয়ে উঠেছে। এক বিনিদ্র রাত্রে হঠাৎ ক’রেই বুঝতে পারলাম, সাংগীতিক অথবা সিনেমাটিক কায়দায় উপন্যাসটার পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যগুলো কিভাবে সাজানো যায়। আমার মন ব’লে উঠলো, ইউরেকা। সেই থেকে দুটো জিনিস পরস্পরে প্রবিষ্ট হলো, তাদের গ্রন্থন আর ছাড়ানো গেলো না। তখন দুটো ধারায় মিলে-মিশে বইটা তার বর্তমান রূপে আমার ভিতর থেকে বেরিয়ে আসতে লাগলো। অন্বীক্ষার পরবর্তী পর্যায়ে যা-কিছু এসেছে, যেমন রবীন্দ্রনাথের নারীভাবনা বা আমার কাদম্বরী-চিন্তা, তাদের সাজাতে কোনো অসুবিধা হয়নি। নিয়ম-না-মানা বইটাকে যখন বিরামবাবুর কাছে পাঠালাম…কিছুকাল একেবারে নীরব থাকার পর সাদরে তাকে স্বাগত করেছিলেন। যদিও লোকে একে কিভাবে নেবে সে-বিষয়ে তাঁর একটা উদ্বেগ ছিলো। আজ বুঝতে পারি, কী উদার ছিলো তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি। ব্যক্তি-শিল্পীর উপরে আস্থা স্থাপন ক’রে নতুন আঙ্গিকের পরীক্ষামূলক কাজকে যাঁরা পরিবেশন করতে দ্বিধা করেন না, তেমন ইম্প্রেসারিওরাই শিল্পীদের যথার্থ বন্ধু। বাঙালীর সংস্কৃতি-জগতে এরকম দু’-একজনকে সর্বদা পেয়ে গেছি ব’লেই এ যাবৎ যা-কিছু করেছি তা পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছি, এবং আমার বিশ্বাস এঁদের সব সময়ই পাওয়া যাবে।

কিন্তু ১৯৮২ সালে বিরামবাবুর কাছে পাঠানো পাণ্ডুলিপিখানার নাম ছিলো ‘ভিক্তোরিয়া। ভিক্তোরিয়া।‘ ঐ নামটা গৃহীত হলে অনামিকা আর ভিক্তোরিয়ার মধ্যবর্তী সরাসরি লাইনটা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা পেতো। আমার গল্পে অনামিকা তার জীবনের প্রথম সংকটকে কাটিয়ে উঠতে তার নবারন্ধ স্প্যানিশ-চর্চাকে অবলম্বন করেছে এবং সেই সূত্রে রবীন্দ্রনাথের বিজয়াকে বুঝতে বাঙালী কৌতূহলে এগিয়ে গেছে। তার পর তার জীবনের দ্বিতীয় সংকট কাটিয়ে ওঠার ব্যাপারে সে প্রেরণা পেয়েছে ভিক্তোরিয়ার ফেমিনিস্ট দিকটার কাছ থেকে, যা তাকে ধাক্কা দিয়ে পাঠিয়েছে রবীন্দ্রনাথের নারীবিষয়ক ভাবনা আর কাদম্বরী দেবীর দিকে। ভিক্তোরিয়ার প্রতি অনামিকার আর্ত আবাহনটা তাই এই বইয়ের যোগ্য নাম ব’লে মনে হয়েছিলো আমার। কিন্তু বিরামবাবু বললেন, বইয়ের টাইট্‌লে রবীন্দ্রনাথের নাম রাখতেই হবে। তখন ভেবে নিয়ে তাঁকে বর্তমান নামটা বললাম। এটা তাঁর তৎক্ষণাৎ পছন্দ হলো।…’

দে’জ থেকে এখনও পর্যন্ত কেতকীদির শেষ বইটি হল তাঁর প্রবন্ধ ও গ্রন্থসমালোচনার আরেকটি সংকলন— ‘চলন্ত নির্মাণ’। ২০০৫-এর বইমেলায় প্রকাশিত এই বইটির সময় অপুই আমাদের তরফে যাবতীয় দায়িত্ব পালন করেছিল। তবে সে-বইয়েরও প্রাথমিক কাজকর্মের সময় কেতকীদি আমাকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। ২৭ অগাস্ট ২০০৪-এ কিডলিংটন থেকেই লেখা সেই চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন—

‘সুচরিতেষু,

আমার নতুন প্রবন্ধসংগ্রহ ভাবনার ভাস্কর্য : দ্বিতীয় পর্যায়-এর সম্পূর্ণ ক্যামেরা-রেডি কপি, যা থেকে প্রিন্টিং করতে পারবেন, আপনাকে পুজোর ছুটির আগেই পাঠাতে পারবো আশা করছি।

একজন বিখ্যাত ইয়োরোপীয় ভাস্করের গঠিত একটি নাম-করা ভাস্কর্য দিয়ে প্রচ্ছদও আমিই তৈরি ক’রে পাঠাচ্ছি। এর জন্য যা-কিছু প্রয়োজনীয় অনুমতি ও সম্মানী তার সব ব্যবস্থা আমিই করছি, আপনি একদম চিন্তা করবেন না। এই প্রচ্ছদ বইটির আকর্ষণ নিঃসন্দেহে আরও বাড়িয়ে দেবে।

কাভারটি আপনাকে সি-ডিতে পাঠানো হবে। আপনারা তা থেকে প্রিন্টিং করবেন। কাভারের শিরদাঁড়া-অংশ আপনারাই তৈরি ক’রে নেবেন।

কাভারটি একটু উৎকৃষ্ট কাগজে ছাপবেন, যাতে ভাস্কর্যের ছবিটা ভালো খোলে,  নয়তো শিল্পীর এস্টেট মনে করবেন যে তাঁদের শিল্পীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। ওঁদের একটা কপি দিতে হবে তো ওরা যেন আবার না ভাবেন যে কলকাতার লোকেরা ছাপার কাজ জানে না। দেখবেন কলকাতার এবং বাংলা ছাপার মর্যাদা যেন রক্ষিত হয়। বইয়ের কাগজও দয়া ক’রে একটু ভালো কোয়ালিটির দেবেন। বইয়ের আনুমানিক প্রকাশতারিখ ওঁদের জানাতে হয়েছে— আমি বলেছি জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি ২০০৫। অর্থাৎ আশা করছি বইটি আপনারা আগামী বইমেলায় বার করতে পারবেন।…’

বইটি ২০০৫-এর বইমেলাতেই প্রকাশিত হয়েছিল। প্রচ্ছদে তিনি জার্মান শিল্পী রুডলফ বেলিং-এর ‘মানুষ’ ভাস্কর্যটির ছবি ব্যবহার করেছিলেন। তবে বইয়ের নামটাও কাজের অগ্রগতির সঙ্গে পালটে গিয়ে ‘ভাবনার ভাস্কর্য : দ্বিতীয় পর্যায়ে’র বদলে ‘চলন্ত নির্মাণ’ হয়। এই বইয়ের ক্যামেরা-রেডি কপি তৈরির জন্য তিনি লাইনোটাইপের বাংলা কি-বোর্ড লে-আউট ব্যবহার করে মাইক মিয়রের (Mike Meir) তৈরি করা সফটওয়্যার ‘Executive Bengali’ কাজে লাগিয়েছিলেন।

‘চলন্ত নির্মাণ’কে দে’জ থেকে কেতকীদির এখনও পর্যন্ত প্রকাশিত শেষ বই বলে আলাদা করে উল্লেখ করলাম, কেননা আমি জানি তিনি শারীরিকভাবে তীব্র অসুস্থতার সঙ্গে লড়ছেন। তবে তিনি দ্রুত সেরে উঠবেন এই আশাটুকু আমি রাখতে চাই। আর চাই তাঁর মতো বিদুষী ও সুসাহিত্যিকের আরও নতুন-নতুন বই দে’জ পাবলিশিং থেকে প্রকাশ করতে।

লিখন শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায়

…… ইতি কলেজ স্ট্রিট-এর অন্যান্য পর্ব ……

পর্ব ৬২। কাদের লিটল ম্যাগাজিন বলা যাবে না, তার তালিকা তৈরি করেছিলেন শিবনারায়ণ রায়
পর্ব ৬১। গৌরদা বিশ্বাস করতেন, কলমের স্বাধীনতা হরণ মাতৃবিয়োগের চেয়ে কম কিছু নয়

পর্ব ৬০। সমরেশ বসু যখন ‘বিশ্বাসঘাতক’!

পর্ব ৫৯। সারাজীবন নিজেকে জানার জন্যেই লিখে গিয়েছেন সমরেশ বসু

পর্ব ৫৮। নবারুণ চেয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ কবিতার সিরিজে তিনিও থাকুন, কিন্তু হল না

পর্ব ৫৭। সত্যজিৎ-মৃণাল-ঋত্বিক ত্রয়ীর মধ্যে ঋত্বিকের লেখাই আমরা প্রথম ছেপেছিলাম

পর্ব ৫৬। অজয় গুপ্তর নিরন্তর শ্রম আর খুঁতখুঁতে সম্পাদনা ছাড়া মহাশ্বেতা দেবীর রচনাসমগ্র হত না

পর্ব ৫৫। দলকল্যাণের জন্য রাজনীতি সমাজকে নরকে পরিণত করবে, বিশ্বাস করতেন মহাশ্বেতা দেবী

পর্ব ৫৪। যা লিখেছেন, না লিখে পারেননি বলেই লিখেছেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

পর্ব ৫৩। ‘অলীক মানুষ’ তাঁকে দিয়ে কেউ লিখিয়ে নিয়েছে, মনে করতেন সিরাজদা

পর্ব ৫২। নিজের লেখা শহরের গল্পকে লেখা বলে মনে করতেন না সিরাজদা

পর্ব ৫১। কর্নেল পড়ে সিরাজদাকে চিঠি লিখেছিলেন অভিভূত সত্যজিৎ রায়

পর্ব ৫০। সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা থেকে বাঁচতে দিব্যেন্দুদার জীবনের দ্বিতীয় গল্পই বদলাতে হয়েছিল

পর্ব ৪৯। রবিশংকর বলের মতো উর্দু সাহিত্যের এত নিবিষ্ট পাঠক খুব কমই দেখেছি

পর্ব ৪৮। দেবেশ রায়ের যেমন ‘বৃত্তান্ত’, আফসার আমেদের তেমন ‘কিস্‌সা’

পর্ব ৪৭। বই বাঁধানো সম্পূর্ণ হয়নি, তাই ‘মহাভুল’ শুধরে নিয়েছিলেন দেবেশ রায়

পর্ব ৪৬। গান্ধীনগরে রাত্রির কবিই প্রথম বিদ্রুপাত্মক তেতো হাসি এনেছিলেন বাংলা কবিতায়

পর্ব ৪৫। নাটকের মহলা পছন্দ হলে তবেই তিস্তাপারের বৃত্তান্তর অনুমতি দেবেন, বলেছিলেন দেবেশ রায় 

পর্ব ৪৪। নিজের বইপত্র বিক্রির বিবরণ দেখে হতাশ হয়েছিলেন দেবেশ রায়

পর্ব ৪৩। থ্রিলার, রহস্য-রোমাঞ্চ কিংবা ক্রাইম স্টোরি অনেক দিন ধরেই বইপাড়ায় ‘সুপারহিট’

পর্ব ৪২। অলংকরণ বা প্রচ্ছদশিল্পীদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা নেই, সখেদে চিঠি লিখেছিলেন নারায়ণ সান্যাল

পর্ব ৪১। রাস্কেল, পাষণ্ড পণ্ডিত, প্রবঞ্চক, বিশ্বাসঘাতক– নারায়ণ সান্যালের বইয়ের নাম নিয়ে প্রবল আপত্তি ছিল আমার!

পর্ব ৪০। সিগারেট ঠোঁটে রথীন্দ্রনাথের ছবি প্রচ্ছদে যাওয়া নিয়ে উঠেছিল প্রবল আপত্তি!

পর্ব ৩৯। শান্তিনিকেতন থেকে কলেজ স্ট্রিট, প্রুফ আদান-প্রদানে সহায়ক ছিলেন বই ব্যবসায়ীরাই

পর্ব ৩৮। পাণ্ডুলিপি জমা দিয়ে সোমেনদা বলেছিলেন, রামকিঙ্করকে নিয়ে এ জাতীয় বই আগে লেখা হয়নি

পর্ব ৩৭। ‘কীর্তির্যস্য’র নাম বদলাতে চেয়েছিলেন ভবতোষ দত্ত

পর্ব ৩৬। কবি-দার্শনিকের বাইরে আরেক রবীন্দ্রনাথকে খুঁড়ে বের করেছিলেন অমিতাভ চৌধুরী

পর্ব ৩৫। ‘শাহজাদা দারাশুকো’ আরও বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে ছিল শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের

পর্ব ৩৪। একজন লেখক হিসেবে আমি কি তোমার মনোযোগের যোগ্য নই, অভিমান ভরা চিঠি লিখেছিলেন শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

পর্ব ৩৩। আমাকে ভাবায়, তারাপদ রায়

পর্ব ৩২। নববর্ষের শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ: লেখকদের মন্তব্যের খাতা!

পর্ব ৩১। পরিব্রাজক সন্ন্যাসী তারাপ্রণব ব্রহ্মচারী ভাগ্যিস থিতু হয়েছিলেন সাহিত্যে!

পর্ব ৩০। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কোনও বই আমাকে চাপিয়ে দেননি, লিখেছেন: বিবেচনা করে দেখো

পর্ব ২৯। কবিতাকে শক্তিদা বলতেন ‘জলজ দর্পণ’, তাঁর বেঁচে থাকার অবলম্বন

পর্ব ২৮। পিঁপড়ে কালিতে চুবিয়ে সাদা পাতায় ছাড়া হয়েছে, এমন পাণ্ডুলিপি ছিল বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের!

পর্ব ২৭। নিজস্ব ঈশ্বরভাবনা থাকলেও শঙ্কু মহারাজের লেখার মূল বিষয় ছিল মানুষের আলো-আঁধারি জীবন

পর্ব ২৬। বাংলাদেশে পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও একুশে বইমেলায় কখনও স্টল পাইনি

পর্ব ২৫। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি মুহূর্তের রক্ত-ঘাম-হাসি-কান্নার এক জীবন্ত দলিলচিত্র ছেপেছিলাম

পর্ব ২৪। রাখাল ছেলে যেমন বাঁশি বাজায়, আমিও তেমন নিজের খুশিতে লিখি, বলেছিলেন যাযাবর

পর্ব ২৩। রয়্যালটি-মুক্ত বইয়ের ওপর প্রকাশকদের ঝোঁক চোখে পড়ছে বইমেলাতেও

পর্ব ২২: শেষমেশ রেগে গিয়ে আমাকে চিঠিই লিখে ফেলেছিলেন শঙ্খ ঘোষ!

পর্ব ২১: ৩০০০ কপি বিক্রির মতো জীবিত বা মৃত লেখক আর হয়তো নেই

পর্ব ২০: কম বয়সে আমাদের রোববারের আড্ডা ছিল ২৮ নম্বর প্রতাপাদিত্য রোড, আশুদার বাড়িতে

পর্ব ১৯: ‘লেখা বড় হচ্ছে’ অভিযোগ আসায় খুদে হাতের লেখায় পাণ্ডুলিপি দিতেন প্রবোধবন্ধু অধিকারী

পর্ব ১৮: দু’বছরের মধ্যে সংস্করণ না ফুরলে অন্য জায়গায় বই ছাপার চুক্তি ছিল শরদিন্দুর চিঠিতে

পর্ব ১৭: পূর্ণেন্দু পত্রীর বাদ পড়া প্রচ্ছদ ও দিনেশ দাসের কবিতার শ্রেষ্ঠ দিনগুলি

পর্ব ১৬: সব প্রকাশনার যাবতীয় বইয়ের হদিশ পাওয়া যেত ‘সম্মিলিত গ্রন্থপঞ্জী’তে

পর্ব ১৫: নিছকই একটা পত্রিকা নয়, ‘কলেজ স্ট্রীট’ আমাদের আবেগ

পর্ব ১৪: খুদে পাঠকদের জন্য মিনিবই তৈরির কথা প্রথম ভেবেছিলেন অভয়দা

পর্ব ১৩: কয়েকটি প্রেসের গল্প

পর্ব ১২: দীর্ঘায়ু বই ও আইয়ুব পরিবার

পর্ব ১১: প্রেমের নয়, অপ্রেমের গল্প সংকলনের সম্পাদনা করেছিলেন সুনীল জানা

পর্ব ১০: ছোট্ট অপুকে দেখেই রঙিন ছবিতে ভরা টানটান গল্পের বই করার ইচ্ছে জেগেছিল

পর্ব ৯: চানঘরে গান-এ সত্যজিৎ রায়ের চিঠি থাকায় ব্যাপারটা গড়িয়েছিল কোর্ট কেস পর্যন্ত

পর্ব ৮: প্রকাশক-লেখকের কেজো সম্পর্কে বুদ্ধদেব গুহর বিশ্বাস ছিল না

পর্ব ৭: পুজো সংখ্যায় না-বেরনো উপন্যাস বই আকারে সুপারহিট

পর্ব ৬: মানবদার বিপুল অনুবাদের কাজ দেখেই শিশির দাশ তাঁর নাম দিয়েছিলেন– ‘অনুবাদেন্দ্র’

পর্ব ৫: সাতবার প্রুফ দেখার পর বুদ্ধদেব বসু রাজি হয়েছিলেন বই ছাপানোয়!

পর্ব ৪: লেখকদের বেঁচে থাকার জন্য অনেক কিছুই লিখতে হয়, প্রফুল্ল রায়কে বলেছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র

পর্ব ৩: পয়লা বৈশাখের খাতায় শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় মজাচ্ছলে লিখেছিলেন, ‘সুধাংশুরা রাজা হোক’

পর্ব ২: বাংলা মাসের সাত তারিখকে বলা হত ‘গ্রন্থতিথি’, বিজ্ঞাপনেও বিখ্যাত ছিল ‘৭-ই’

পর্ব ১: সত্তরের উথাল-পাথাল রাজনৈতিক আবহাওয়ায় আমি প্রকাশনার স্বপ্ন দেখছিলাম