Robbar

ঢেঁকি মোটেই অকম্মার নয়

Published by: Robbar Digital
  • Posted:June 4, 2026 1:16 pm
  • Updated:June 4, 2026 1:16 pm  

বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর কমলাকান্তের দপ্তরে ‘ঢেঁকি’ নিবন্ধে ঢেঁকিকে ‘আর্যসভ্যতার এক বিশেষ ফল’ বলে রসিকতা করলেও, ‘ঢেঁকি’ শব্দটি মূলত অস্ট্রিক ভাষা থেকে আগত। সুতরাং বলা যেতে পারে ঢেঁকি প্রাগার্য সংস্কৃতির অবদান। প্রত্নতত্ত্বে বাংলায় ধানের প্রথম খবর পাওয়া যাচ্ছে পাণ্ডুরাজার ঢিবি থেকে, খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দে। ধরা যেতে পারে তখন থেকেই ধান ভানার জন্য ঢেঁকি জাতীয় সরল লোকযন্ত্রের উদ্ভব হয়েছিল।

স্বপনকুমার ঠাকুর

৩৫.

দাঁত থাকতে যেমন অনেকে দাঁতের মর্যাদা বোঝেন না, বিরহ ছাড়া যেমন বোঝা যায় না প্রেমের গভীরতা– ঠিক তেমনই ঢেঁকি লুপ্ত হবার ফলে বুঝতে পারছি কী সম্পদ ছিল আমাদের। না হলে ঢেঁকি-ছাঁটা চালের প্রতি এত আগ্রহ বাড়ছে কেন?

একসময় গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে ঢেঁকি। ওটা যে বিস্ময়ের বস্তু হতে পারে এ ধারণা গ্রামবাসী হবার সুবাদে কস্মিনকালেও হয়নি। অধিকাংশ মাটির বাড়ি। তার মধ্যে চালাঘর, ঢেঁকিশাল। পরিচিত জ্বলজ্বলে ছবি। 

মূলত দুপুর থেকে ঢেঁকিতে ধান ভানার কাজ শুরু। চলত সন্ধেবেলা পর্যন্ত। একটানা বিলম্বিত অদ্ভুত শব্দ। বড় বড় চাষিবাড়িতে ধানের পাড় দেওয়ার জন্য বাগদি বা বাউড়িপাড়া থেকে বাঁধা ধানভানুনি আসত নিয়ম করে। মাসমাইনে বা ঠেকো প্রথায় তাদের মজুরি নির্ধারিত হত।

সহজ গ্রামীণ ঢেঁকি

প্রাচীনকাল থেকে দালানকোঠা বাড়ির পলেস্তারা বানানোর জন্য ইটের টুকরো পেশাই করা হত ঢেঁকিতে। পোশাকি নাম ‘খোয়া ভাঙা’। এ কাজ করতেন এক শ্রেণির পুরুষ মজুর। বিয়ে-থা বা ভোজ-কাজের জন্য গোটা মশলাকেও পার দেওয়া হত ঢেঁকিতে। 

ঢেঁকিতে চিঁড়ে-কোটা আরেকটি গুরুত্ত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। গ্রামে চিঁড়ে কুটতেন ছুতোর মহিলারা। প্রথমে ধান সিদ্ধ করে ঠান্ডা জলে ১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতেন। তারপর ধান গরম করে ঢেঁকিতে কুটতেন। ধান গরম করা ও ঢেঁকিতে কুটে চিঁড়ে করা– দু’টি প্রক্রিয়ার ক্ষিপ্রতার দৃশ্যখানি আজও বিস্ময় উৎপন্ন করে।

আমড়াকাঠের ঢেঁকি হয় না। দেশি বাবলা কাঠের ঢেঁকি জবরদস্ত। কাঁঠাল বা কুড়ুৎ জামকাঠের ঢেঁকিও খুব শক্তপোক্ত। মোটামুটি দু’ রকম সাইজের ঢেঁকি দেখেছি। ছয় বা পাঁচ ফুট সিধে কাঠের গদির। ধান ভাঙার জন্য বড় ও ভারী ঢেঁকিই লাগত।

মাথাটা ত্রিভুজাকৃতি। উপরের অংশ থেকে কাঠ ছুলে খানিকটা পাটার মতো করে নেওয়া। ঢেঁকির মুখে লাগানো থাকে দেড় ফুট মাপের শক্ত কাঠের দণ্ড। দণ্ডটির মুখে পরানো লোহার বেড়– সামি। কাষ্ঠদণ্ডটির নাম মুষল। গ্রাম্যভাষায় মুষলুই। 

হরেন দাসের ছবিতে গ্রাম বাংলার ঢেঁকি

মুখের কাছে ফুট দুয়েক গভীরতার গর্ত। তলায় থাকে পাথর। একেই বলে গড়। ঢেঁকিকে নির্দিষ্ট স্থানে দেড় ফুট উচ্চতায় দু’ দিকে দুটো পায়ার মধ্যে কাঠের রোঁধখিলে বসিয়ে ঝোলানো থাকে। একেই বলে পোয়া বা প। আর যে পায়ার উপর ঢেঁকি ঝোলানো থাকে তার নাম আসলাই। 

ঢেঁকির পাছার অর্থাৎ নিচের দিকে থাকে মাটির ছোট বেদি। এখানে দাঁড়িয়ে পা দিয়ে ঢেঁকিতে পাড় দেন। শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য সামনে দড়ি দিয়ে ঝোলানো বাঁশ। এটাকে ধরে অনেক সময় ধান ভানায় গতি আনা হয়। প্রধানত একজন গড়ে থেকে ধান দেয় এবং তোলে। আর পাড় দেয় একজন বা দু’জন। যিনি গড় সামলান তাঁকে সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। মুহূর্তের অসতর্কতায় তাঁর হাতে মুষলের আঘাতে থেঁতলে গিয়ে জখম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

অনেকসময় একজনই ঢেঁকি চালান। সেক্ষেত্রে ধান গড়ে দেওয়ার জন্য তিনি কাঠের লগা ব্যবহার করেন। এর নাম শিকে লড়ি। ধান ভানতে শারীরিক শক্তি, বিশেষ করে পশ্চাদ্দেশের বল যথেষ্ট লাগে। লোকপ্রবাদে আছে–

আন কিছু হয় ছলে বলে।
ধান ভানা হয় পাছার বলে।।

বাংলার লোকসংস্কৃতিতে অনেকখানি স্থান জুড়ে আছে ঢেঁকি। লোকভাষা, লোকধর্ম, লোকসংগীত, লোকপ্রবাদ-প্রবচনের অন্যতম উপাদান ঢেঁকি। বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে এখনও দু’-একটি ফলকে দেখা যায় ঢেঁকিতে ধান ভানার পরিচিত ছবিখানি। বীরভূমের গণপুরের শিবমন্দিরে ফুল-পাথরে খোদিত ঢেঁকির পাড় দেওয়ার দৃশ্যটি অনবদ্য।

গণপুরে শিবমন্দিরে ঢেঁকিশালের ফলক, ছবি: ডা. আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

ফলকে দেখুন পুরুষ ঢেঁকিতে পাড় দিচ্ছে। সলজ্জ মহিলা মাথায় কাপড় দিয়ে গড়ে হাত দিয়ে ধান জোগাচ্ছে। সম্ভবত এরা স্বামী-স্ত্রী। লোকশিল্পী শুধু ঢেঁকির ছবি আঁকেননি; কুলো-ঝুড়ি ইত্যাদি নিয়ে ঢেঁকিশালের চমৎকার ছবিটিও ফুটিয়ে তুলেছেন।

বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর কমলাকান্তের দপ্তরে ‘ঢেঁকি’ নিবন্ধে ঢেঁকিকে ‘আর্যসভ্যতার এক বিশেষ ফল’ বলে রসিকতা করলেও, ‘ঢেঁকি’ শব্দটি মূলত অস্ট্রিক ভাষা থেকে আগত। সুতরাং বলা যেতে পারে ঢেঁকি প্রাগার্য সংস্কৃতির অবদান। প্রত্নতত্ত্বে বাংলায় ধানের প্রথম খবর পাওয়া যাচ্ছে পাণ্ডুরাজার ঢিবি থেকে, খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দে। ধরা যেতে পারে তখন থেকেই ধান ভানার জন্য ঢেঁকি জাতীয় সরল লোকযন্ত্রের উদ্ভব হয়েছিল।

বৈদিক সভ্যতায় অবশ্য ঢেঁকি ছিল না। আর্যদের প্রধান খাদ্য গম যব। তাঁরা ব্যবহার করতেন উদুখল ও মুষল। বিভিন্ন উৎস থেকে জানা যায়, তিন ফুট উচ্চতা এবং তিন ফুট ব্যাস-বিশিষ্ট গোলাকার কাষ্ঠখণ্ডের ভিতর প্রায় দেড় ফুট গর্ত করে উদুখল বানানো হয়। মুষল হল নয় ইঞ্চি ব্যাস এবং প্রায় সাড়ে তিন ফুট লম্বা গোলাকার দণ্ড। কাঠের গর্তে গম ইত্যাদি রেখে দণ্ডের আঘাতে পেশাই করা হত। 

প্রতীকী উদুখল ও মুষল, উপনয়নের উপকরণ

উদুখল যে আর্যসভ্যতার বিশেষ দান, তা বোঝা যায় ব্রাহ্মণদের উপনয়নের সময় প্রতীকী উদুখল ও মুষলের ব্যবহার থেকে। তবে সবাই যে ঢেঁকি ব্যবহার করতেন এমনটি নয়। কোচবিহারের গ্রামগঞ্জে স্থানীয় রাজবংশী সম্প্রদায়ের অনেকে ঢেঁকি ব্যবহার করেন না। এই অঞ্চলে ‘ছামগাইন’ নামে ডুগডুগি আকৃতির কাঠের উদুখল ব্যবহার করা হয়। ধান থেকে চাল, চিড়ে ইত্যাদি তৈরি করতে ব্যবহার হয় ছামগাইনের।

বিশেষ করে চালগুঁড়ো, হলুদগুঁড়ো ইত্যাদি এবং ‘সিদল’ নামে এক ধরনের আমিষ লোকখাদ্য তৈরি করতে ছামগাইনের ব্যবহার আজও এই অঞ্চলের অধিবাসীরা করে থাকেন। যাই হোক, ঢেঁকি ক্রমশ আর্যসভ্যতায় সমাদরে গৃহীত হয়েছে বলেই এটি নারদের বাহন হয়ে ওঠে।

পুরাণের নারদ বললেই ভেসে ওঠে ঢেঁকিতে চড়া এক মজাদার বুড়ো সাধুর ছবি। ময়ূরভট্টের ‘শূন্যপুরাণ’ কিংবা বড়ু চণ্ডীদাসের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যে ঢেঁকিবাহনা নারদের ছবি শুধু নয়; বাংলার টেরাকোটা মন্দিরেও জ্বলজ্বল করছেন তিনি। অনেক মন্দিরে ঢেঁকিবাহনা নারদের ছবি খোদাই আছে। যেমন কোতুলপুরের গিরিগোবর্ধন মন্দির, ভট্টবাটির রত্নেশ্বর মন্দির কিংবা উচকরণের শিবমন্দির, তকিপুরের শিবমন্দির।

প্রাচীন প্রস্তরফলকে ঢেঁকির উপর আসীন নারদ

ঢেঁকির সঙ্গে মানুষের নির্বুদ্ধিতাকে কেন তুলনা করা হল– সেটা বোঝা না-গেলেও, ঢেঁকির সঙ্গে নারদের যোগ নিয়ে বেশ মজার এক লোকগল্প এখনও লোকসমাজে প্রচলিত রয়েছে। এক পণ্ডিত মশায়ের নিরেট বুদ্ধির এক ছাত্র ছিল। যাকে বলে ‘মাথামোটা ঢেঁকি’ বা ‘অকম্মার ঢেঁকি’। 

গুরুমশাই ছাত্রটিকে একটি শ্লোক মুখস্থ করতে দিয়েছেন, কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। রেগে ছাত্রটিকে মজা করে বললেন– তুই এক কাজ কর। অন্য কিছু না-করে, ‘ঢেঁকি’ মন্ত্র সবসময় জপ করতে থাক। ছাত্রটি গুরুর নির্দেশে সবসময় ‘ঢেঁকি ঢেঁকি’ মন্ত্র জপ করে যাচ্ছে। এদিকে মন্ত্রমুগ্ধ নারদ আর থাকতে পারলেন না। ছাত্রটির অবিরাম মন্ত্রজপের ফলে সশরীরে ঢেঁকিতে চেপে হাজির হলেন বেচারা ছাত্রটির কাছে…

–বৎস, তোমার ভক্তিতে আমি প্রীত হয়েছি। কী চাও বাবা, বলো…

ছাত্রটি বললে, আমি কিচ্ছু চাই না ঠাকুর। শুধু গুরুর স্নেহ-ভালোবাসা চাই।

নারদ খুশি হয়ে বললে, তাই হবে। আর শোনো, আজ থেকে তুমি একবার যা পড়বে তাই তোমার মনে থাকবে। পণ্ডিতমশাই তোমাকেই পণ্ডিত হিসেবে খাতির করবে। সেই থেকে ‘অকম্মার ঢেঁকি’ ছাত্রটি পণ্ডিত হিসাবে দেশ ও দশের কাছে পরিচিত হলেন।

ঢেঁকি লোকধর্মের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পূর্বে হিন্দুদের বিয়ের আগেরদিন কনে এবং এয়ো-স্ত্রীরা ফুলদূর্বা এবং সিঁদুরের ফোঁটা দিত ঢেঁকিকে। তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে ঢেঁকিতে চাল কোটা শুরু হত। একে বলা হয় ঢেঁকি মোঙলানো। এই লোকাচারটি হিন্দুবাড়িতে উঠে গেলেও, কোথাও কোথাও মুসলমান বাড়িতে এখনও টিকে আছে। ময়ূরভট্টের শূন্যপুরাণে ঢেঁকিমঙ্গল-এর বিস্তৃত পরিচয় আছে।

বৈশাখমাসে ঢেঁকির বাৎসরিক পুজো হত। বিশেষ বার দেখে ঢেঁকিপুজোর আয়োজন করতেন জাতি-বর্ণ-নির্বিশেষে মহিলারা। ব্রাহ্মণবাড়িতে ঢেঁকিপুজো না হলেও, ব্রাহ্মণীরা পুজোর মূল উদ্যোগী ছিলেন। সকালে গিয়ে ঢেঁকিশালে আলপনা দিয়ে, ঢেঁকির গা সাদা লাল আর হলুদ রঙে চিত্রিত করতেন। পুজোর উপকরণ ছিল চাল দূর্বাঘাস তেল সিঁদুর ও নৈবেদ্য।

সেঁজুতি ব্রতে ঢেঁকির বিশেষ পুজো হয়। তবে সরাসরি ঢেঁকিশালে নয়, ব্রতের আলপনায় ঢেঁকি এঁকে। সেঁজুতি এমন এক কুমারী ব্রত, যেখানে বাঙালির ঘর গেরস্থালী– পুতুল ও ১৬টি ঘর ছাড়াও গোয়ালঘর, রান্নাঘর, শিবের মন্দির, নাটমন্দির, আমকাঁঠালের পিঁড়ে, ধানের মড়াই, শরগাছ, বেনাগাছ, ঢেঁকি-সহ আরও নানা ধরনের মোট ৫২টি দ্রব্যের প্রতীকচিহ্ন অঙ্কণ করে ফুল, দূর্বাঘাস দিয়ে পুজো করতে হয়। ব্রতটি আজও পালিত হয় কার্তিক সংক্রান্তি থেকে অগ্রহায়ণ সংক্রান্তির সাপ্তাহিক বিশেষ দিনের সাঁঝবেলায়। ঢেঁকিপুজোর মন্ত্রে বলা হয়েছে–

ঢেঁকি পড়ন্ত গাই বিয়ন্ত উনুন জ্বলন্ত
কালো ধানে রাঙা পুতে
জন্ম যায় যেন এয়োস্ত্রীতে।

ঢেঁকির সঙ্গে শিবের গাজনের যোগ ছিল। কাঠের তৈরি বাণেশ্বরের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকার জন্য লোকে বলত ‘ঢেঁকি বাণেশ্বর’। উত্তর রাঢ়ের শিবগাজনে ভক্তদের সঙ্গে অনেকে মাথায় ঢেঁকি চাপিয়ে নাচতেন। আবার শিবতলায় গিয়ে কোনও ভক্তকে ঢেঁকির উপর বসিয়ে সাতপাক ঘোরাতেন।

আবার ঢেঁকি নিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ রাজকীয় উৎসব হত। সেকথা জানা যায় ওয়ার্ড সাহেবের লেখা হিন্দু গ্রন্থ থেকে। আয়োজক ছিলেন যশোরের নলডাঙার রাজা মহেন্দ্রদেব রায়। তিনি তিনলক্ষ টাকা খরচ করে জমজমাট ঢেঁকি উৎসব পালন করেছিলেন। সেই উপলক্ষে নানারকমভাবে সাজানো হয়েছিল রাজবাড়িটি। বোঝা যায়, তখনকার দিনে রাজবাড়িতেও ঢেঁকিশাল ছিল। 

একসময় ঢেঁকি নিয়ে মেয়েরা মুখে-মুখে গান বাঁধতেন। এগুলিকে ‘ঢেঁকির গান’ বলা হত। ধানে পাড় দেওয়ার সময় মেয়েরা সমবেতভাবে গাইতেন এই গান। তাল রক্ষা করা হত ঢেঁকির গড়ে পাড় পড়ার আওয়াজের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে। মূলত শ্রমের একঘেয়েমি থেকে মুক্ত হবার জন্য এই গান গাওয়া হত। অধিকাংশই বৈষ্ণব বা হরগৌরী বিষয়ক গান। কথায় আছে, ধান ভানতে শিবের গীত। শেষে তেমন একটি বৈষ্ণবপ্রধান গানের নমুনা রাখা থাক–

ও ধান ভানুরে ভানি
বিন্দাবনে ধান ভানে ষোলশো গোপিনী।।
ঢেঁকিটি বলেরে ভাই আমি নারদের কাঠি।
এপাশ ওপাশ বাদ দিয়ে পাছায় মারে লাথি।।

…………. পড়ুন ঠাকুরদার ঝুলি অন্যান্য পর্ব ………….

পর্ব ৩৪: বহুরূপে সম্মুখে তোমার

পর্ব ৩৩: আলকাপ: বিরল মায়ার স্মৃতিচিহ্ন

পর্ব ৩২: তালবাহার

পর্ব ৩১: পোড়ামাটির শিল্পকে জনপ্রিয় করেছে কাঁঠালিয়ার শিল্পীরা

পর্ব ৩০: মৎস্য দেবতা মৎস্য ভোগ

পর্ব ২৯: কুবের পুজোর আচার থেকেই সোনা কেনা হয় অক্ষয় তৃতীয়ায়

পর্ব ২৮: বৈশাখ বিষ্ণুর প্রিয়, পুরাণের শ্রেষ্ঠ মাস?

পর্ব ২৭: গর্জন থেকেই গাজন

পর্ব ২৬: অসুরদের ফসল বলেই কি আখ বলিপ্রদত্ত?

পর্ব ২৫: যুদ্ধবাজ নয়, বাঙালির রাম করুণরসের

পর্ব ২৪: অগ্রদ্বীপের গোপীনাথ নিয়ে কৃষ্ণচন্দ্র-নবকৃষ্ণের মামলা লন্ডন অবধি গড়িয়েছিল

পর্ব ২৩: কিম্ভূত-কিমাকার মূর্তির নাম কেন ‘কাকতাড়ুয়া’?

পর্ব ২২: দেড় ফুটের ল্যাংচাভোগ ছাড়া রং খেলেন না মদনমোহন

পর্ব ২১: মায়া মমতায় গড়া বাংলা বিয়ের ছড়া

পর্ব ২০: মাদারি কা খেল

পর্ব ১৯: কোনও পসরাই অবিক্রিত পড়ে থাকে না বৈরাগ্যতলার ভাঙামেলায়

পর্ব ১৮: সুর নয়, আদিতে সুরার সঙ্গেই অধিক যোগাযোগ ছিল সরস্বতীর

পর্ব ১৭: পৌষপার্বণের সঙ্গে মিশে গেছে টুসু, সোদরব্রত কিংবা কুড়মালি আইখানযাত্রা

পর্ব ১৬: বাংলার মনসা ও চণ্ডীপুজোর ধারা এসে জগৎগৌরীতে মিলেছে

পর্ব ১৫: রাঢ়ের কবিগানের পালায় হিঁদু হলেন চাঁদ মুহম্মদ, কাশীনাথ মুসলিম

পর্ব ১৪: খেজুর গাছে হাঁড়ি বাঁধো মন

পর্ব ১৩: বৈদিক যুগের ‘স্থালী’-ই আজকের প্লেট, ‘উখ্য’-ই ফ্রাইং প্যান

পর্ব ১২: লোকখেলার মধ্যে মিশে রয়েছে হাজার বছরের ফেলে আসা জীবনের স্মৃতি

পর্ব ১১: অঘ্রানের নবান্ন মূলত নববর্ষেরই উৎসব ছিল

পর্ব ১০: বারবণিতাদের আরাধনার মধ্যে দিয়েই শুরু হয়েছিল কাটোয়ার কার্তিক লড়াই

পর্ব ৯: শিশুঘাতক থেকে কেন শিশুরক্ষক দেবতা হয়ে উঠলেন কার্তিক?

পর্ব ৮: তেনাদের পুজো, তেনাদের মেলা-মোচ্ছব

পর্ব ৭: প্রেত মানেই ভূত বা অতীত, কিন্তু সকল প্রেতই ভূত নয়!

পর্ব ৬: কেবল কালী নন, লৌকিক লক্ষ্মী ঠাকরুনও দাঁড়ান স্বামী নারায়ণের বুকে পা রেখেই

পর্ব ৫: মহিষাসুরমর্দিনী নন, কৃষিপ্রধান বাংলায় আদিপূজিতা ছিলেন শস্যদেবী নবপত্রিকা

পর্ব ৪: পুকুরের দেবতা পুকুরের ভূত

পর্ব ৩: পুকুরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে লোককথা আর লোকবিশ্বাস

পর্ব ২: পৌরাণিক হিন্দু ও বৌদ্ধ সাহিত্যে দেবতা অথবা মানুষের বন্ধু হিসেবেই স্থান পেয়েছে কুকুর

পর্ব ১: সেকালের ডাকাতির গপ্প