Robbar

মুজিব হত্যার পর অন্নদাশঙ্করের শোকলিপি ছাপা হয়নি সরকারি নিষেধাজ্ঞায়

Published by: Robbar Digital
  • Posted:February 22, 2026 7:36 pm
  • Updated:February 22, 2026 8:32 pm  

অন্নদাশঙ্কর রায়ের বিখ্যাত ছড়ার লাইন ‘তেলের শিশি ভাঙল বলে’ (‘খুকু ও খোকা’) আমাদের সকলেরই মনে আছে, কিন্তু তাঁর লেখা ‘যতদিন রবে পদ্মা যমুনা/ গৌরী মেঘনা বহমান’ (‘বঙ্গবন্ধু’)-এর কথা তেমন বলা হয় না। ১৯৭১-এর মাঝামাঝি সুভাষ মুখোপাধ্যায় কলকাতায় একটি সভা করেছিলেন। সেই সভা থেকে ফিরে তিনি ওই ছড়াটি লিখেছিলেন। আবার ১৯৭৫-এ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ নাম দিয়ে আরেকটি কবিতা লেখেন– এই কবিতাটি ‘কাঁদো, প্রিয় দেশ’-এর শুরুতে ছাপা হয়েছিল। সে কবিতার শেষে তিনি লিখেছিলেন– ‘বাংলাদেশ! বাংলাদেশ! থেকো নাকো নীরব দর্শক/ ধিক্কারে মুখর হও। হাত ধুয়ে এড়াও নরক।’

সুধাংশুশেখর দে

৬৪.

গত শতকে নয়ের দশকের মাঝামাঝি আমার পরিচয় হয় এক আশ্চর্য মানুষের সঙ্গে– সুরজিৎ দাশগুপ্ত। আমি তাঁর নাম জানতাম, বইপত্রের হদিশও রাখতাম, কিন্তু পরিচয় হল অনেক পরে। সুরজিৎ দাশগুপ্তর কথা আমি জানি সেই সাতের দশক থেকেই। ১৩৮১-র বার্ষিক সংখ্যা ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’র বিরাট পাতাজোড়া রঙিন ছবির ওপর লেখা ‘বিদ্ধ করো’ উপন্যাসটি সেসময় বেশ আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। যদিও সুরজিৎ দাশগুপ্তর উপন্যাসের চেয়ে প্রবন্ধের বইয়ের নামই বোধহয় এখনকার পাঠকের বেশি চেনা। ‘ভারতবর্ষ ও ইসলাম’, ‘রামমোহন থেকে রবীন্দ্রনাথ’, ‘মৌলবাদ ও সমকাল’, ‘দান্তে গ্যেটে রবীন্দ্রনাথ’– তাঁর এইসব বই বাংলা প্রবন্ধ-সাহিত্যে খুবই উল্লেখযোগ্য সংযোজন।

সুরজিৎ দাশগুপ্ত

সুরজিৎ দাশগুপ্ত কলকাতায় জন্মালেও তাঁর কৈশোর কেটেছে জলপাইগুড়িতে। তাঁর মা অশ্রুবালা দাশগুপ্ত ছিলেন সেকালের জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালের ‘লেডি ডক্টর’। তাঁর অগ্রজ রণজিৎ যখন কলকাতায় প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়তে আসেন তখন থেকেই আধুনিক বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে তাঁর পরিচয় শুরু হয়– পড়ার বইয়ের বাইরে পড়ায় সাবালক হয়ে ওঠেন স্কুলে পড়তে-পড়তেই।

সুরজিৎ দাশগুপ্তর মাসি হরিপ্রভা তাকেদা (হরিপ্রভা বসুমল্লিক) ওয়েমন তাকেদা নামে এক জাপানি ভদ্রলোককে বিয়ে করেছিলেন। তাঁর লেখা ‘বঙ্গমহিলার জাপানযাত্রা’ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯১৫ সালে– তারও এক বছর পর রবীন্দ্রনাথ, চার্লস ফ্রিয়র অ্যান্ডরুজ, উইলিয়ম পিয়ার্সন এবং মুকুলচন্দ্র দে-র সঙ্গে ‘তোসামারু’ জাহাজে জাপান যাবেন। অল্পবয়স থেকেই হরিপ্রভা ‘মাতৃনিকেতন’-এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন। আশ্রমে কাজের সুবাদেই তাঁর পরিচয় হয় ওয়েমন তাকেদার সঙ্গে। পরিচয় ধীরে-ধীরে প্রণয়ে রূপান্তরিত হয়। ওয়েমন তখন কাজ করতেন ঢাকার বুলবুল সোপ ফ্যাক্টরিতে। ১৯০৭ সালে দুই পরিবারের সম্মতিতে নববিধান ব্রাহ্মসমাজের বিধি অনুযায়ী তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ওয়েমন সুরজিৎ দাশগুপ্তর দাদামশাইয়ের সঙ্গে তৈরি করেন ঢাকা সোপ ফ্যাক্টরি। ঢাকা সোপ ফ্যাক্টরির লভ্যাংশের কিছুটা মাতৃনিকেতনে দান করা হত। কিছুদিন পরে ঢাকা সোপ ফ্যাক্টরি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লে ওয়েমন সস্ত্রীক জাপানে ফিরে যান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হরিপ্রভা টোকিয়ো থেকে আজাদ হিন্দ সরকারের পক্ষে রেডিয়োয় বাংলা অনুষ্ঠান করতেন। যুদ্ধ শেষের পর অশ্রুবালা ভারত সরকারের কাছে বন্ড দিয়ে তাকেদা দম্পতিকে নিয়ে এসেছিলেন জলপাইগুড়িতে।

হরিপ্রভা তাকেদা ও বোন অশ্রুবালা

১৯৫১ সালে, সুরজিৎ দাশগুপ্ত তখনও নাবালক, চলে আসেন কলকাতায়। উদ্দেশ্য ছিল বইয়ের পাতায় পড়া লেখক-কবিদের সঙ্গে আলাপ করা– প্রেমেন্দ্র মিত্র, জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু, সুভাষ মুখোপাধ্যায়– যদিও সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সে-যাত্রায় তাঁর দেখা হয়ে ওঠেনি। কিন্তু বাকিদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে জীবনানন্দের সঙ্গে তাঁর চিঠিপত্রে যোগাযোগের কথাও অনেকে জানেন। কলকাতা ঘুরে যাওয়ার পর জলপাইগুড়ি থেকে সুরজিৎ দাশগুপ্ত এবং তাঁর কয়েকজন আত্মীয়-বন্ধু মিলে বের করেন ‘জলার্ক’ পত্রিকা। ১৯৫২-র জুন মাসে প্রথম প্রকাশিত ‘জলার্ক’ হয়তো উত্তরবাংলার প্রথম লিটল ম্যাগাজিন।

১৯৫১-র গরমের ছুটিতে কলকাতায় আসার সময় সুরজিৎ নেমেছিলেন শান্তিনিকেতনে। তখনও জানতেন না জীবন তাঁকে এখানে টেনে আনবে ফের। কিন্তু বন্ধু নিত্যানন্দের সঙ্গে প্রথম শান্তিনিকেতন যাওয়ার কথা তিনি লিখেছেন ‘স্মৃতির পাখিরা’ বইয়ের শুরুর দিকেই। তাঁর সেই যাত্রার কথা বলতে গিয়ে তিনি লিখেছেন–

‘ততদিনে পূর্ব পাকিস্তানের ভেতর দিয়ে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়েছে, নতুন রেলপথ চালু হয়েছে পুরোপুরি ভারতের মাটির উপর দিয়ে। সেই পথে কলকাতা যেতে হত কিষণগঞ্জ-কাটিহার হয়ে মণিহারী ঘাট থেকে স্টিমারে গঙ্গা পেরিয়ে সকরিগলি ঘাটে আবার শিয়ালদার ট্রেনে চড়ে। কলকাতার পথে আমরা নেমে গেলাম বোলপুর স্টেশনে। তার মানে সেই দারুণ গরমে শান্তিনিকেতনে।

তখন সবে সরকারি চাকরি থেকে অকালে অবসর নিয়ে অন্নদাশঙ্কর শান্তিনিকেতনে এসে বসবাস শুরু করেছেন। থাকতেন সুরুলের পথে লালবাঁধের ধারে একটা বাসায়। রোদ্দুরের দাপট কমলে আমরা দু-জনে মন্দির ও ছাতিমতলা দেখে উত্তরায়ণের সামনে দিয়ে অন্নদাশঙ্কর-এর সঙ্গে দেখা করতে যাই। তখন তাঁর শরীরে অস্তগামী যৌবনের শেষ আভা। ভেবেছিলেন উত্তরায়ণে টেনিস খেলতে যাবেন। আমরা যাওয়াতে প্যান্ট-শার্ট পালটে ধুতি-পাঞ্জাবি পরে নিলেন। খদ্দরের মেটে রঙের পাঞ্জাবি, বোতামের ঘর গলা বরাবর নয়, একটু বাঁ-পাশ কেটে নেমেছে কণ্ঠার থেকে, পরনের খাটো ধুতিটাও খদ্দরের। সবচেয়ে চোখে পড়বার মতো জিনিস ছিল তাঁর দু-খানি খুব বড়ো বড়ো ঝকঝকে চোখ। অন্নদাশঙ্কর আমাদেরকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটতে চললেন একদিকে। তাঁকে জিজ্ঞেস করে জানলাম, ওইদিকেই শ্রীনিকেতন।

হাঁটতে হাঁটতে অন্নদাশঙ্কর প্রায় সারাক্ষণই গান্ধীজির অর্থনীতি ও নীতিতত্ত্ব নিয়ে একাই বলে গেলেন। যেন তিনি মুখে মুখে কথা বলে গান্ধীকে নিয়ে কোনও লেখার জন্য মনে মনে খসড়া তৈরি করছিলেন। এক ফাঁকে তাঁকে আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতির পত্রিকা প্রকাশের পরিকল্পনা জানাই ও সেই সঙ্গে তাঁর কাছে আধুনিক শিল্পের উপর লেখা চাই। তিনি বলেন যে এককালে আর্ট নিয়ে লেখা শুরু করেছিলেন, কিন্তু সরকারি কাজের চাপে সে কাজ মুলতুবি রাখতে বাধ্য হন। তারপর গান্ধী-হত্যা তাঁকে গান্ধীর চিন্তায় ডুবিয়ে রাখে। ‘প্রত্যয়’ বইটির পর এবার গান্ধীর উপরে বই লিখবেন। তারপরে লিখবেন আর্ট নিয়ে, কিন্তু সেগুলো ‘কবিতা’ পত্রিকাতেই লিখবেন। তাঁকে আমরা তখন জীবনানন্দকে নিয়ে লিখতে বলি। তাতে বলেন যে লীলা রায় ইন্ডিয়ান পি ই এন পত্রিকায় জীবনানন্দকে নিয়ে লিখেছেন, কিন্তু তিনি নিজে জীবনানন্দ বিশেষভাবে পড়েননি, তবে দেখেছেন যে তাঁর কবিতায় তেমন ছন্দের দোলা নেই যেমন কবিত্ব আছে।

তখন বলি, ‘আমিও বিশেষ পড়িনি। শুধু মহাপৃথিবীর কতকগুলি কবিতা আর কবিতা পত্রিকায় এবারে প্রকাশিত অন্ধকার নামে কবিতাটি। এতেই আমি তাঁর অন্ধ ভক্ত হয়েছি।’

এর মধ্যে অন্ধকার নেমে এসেছে। আমরা শান্তিনিকেতনে ফেরা শুরু করেছি। অন্নদাশঙ্কর মধ্যে মধ্যে হাতের টর্চ জ্বেলে আমাদের পথ দেখাতে দেখাতে বলেন, ‘কোনোরকম অন্ধতাই ভালো নয়, সে ভক্তিই হোক, বিশ্বাসই হোক। সব কিছুকে বিচার করে নেওয়া চাই।’ কিছুক্ষণ পরে আবার বলেন, ‘যতদূর মনে হয়, জীবনানন্দই আমাদের শুদ্ধতম কবি।’

আগের দিন এক ঝলকের জন্য লীলা রায়-এর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। বলেছিলেন, আজ বিকেলে যেন ওঁদের সঙ্গে চা পান করি। বাড়ির ছায়ায় বারান্দার নীচে লাল কাঁকরের উপর মোড়া পেতে আমাদের চা-পানের আসর। মাসিমা মজা করে বললেন অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ডের টি-পার্টির কথা। চায়ের সঙ্গে ছিল তাঁর হাতে বানানো কেক। আর ওঁদের ছোটো মেয়ের দুষ্টুমি। কথায় কথায় অন্নদাশঙ্কর বলেন যে সুরজিৎ জীবনানন্দ-র একজন না কি অন্ধ ভক্ত। তাতে মাসিমা জানতে চাইলেন, আমি আর কার কার ভক্ত। তখন আমি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ও সুভাষচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের নাম করি। মাসিমা মার্কিন উচ্চারণে হেসে বললেন, ‘একেবারে উত্তর মেরু আর দক্ষিণ মেরু। কিন্তু দুজনেই কবিতার ফর্ম নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্ম করেছেন। সুধীন্দ্রনাথ নিজের সত্তাকে সন্ধান করেন আর সুভাষ সমাজের সত্তাকে। দু-জনের মধ্যে মিল আছে একটা– দু-জনেই লেখা বন্ধ রেখেছেন।’’

ছোট্ট এই অংশটিতেই অন্নদাশঙ্কর আর লীলা রায়ের চেতনাজগৎটা যেন ছুঁয়ে গেছেন তিনি। অন্নদাশঙ্কর রায়ের সঙ্গে এর পরে তাঁর জীবন একেবারে জড়িয়ে যাবে। তিনি হয়ে উঠবেন অন্নদাশঙ্করের ‘পুত্রপ্রতিম’। এমনকী, কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে ইংরেজি অনার্স পড়া মুলতুবি রেখে শান্তিনিকেতনে ইতিহাসের ছাত্র হয়ে যান। যা হয়তো তাঁর পরবর্তী লেখকজীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

সুরজিৎ দাশগুপ্তের সঙ্গে আমার পরিচয় হওয়ায় আমি তাঁকে বলেছিলাম যদি অন্নদাশঙ্কর রায়ের কোনো বই দে’জ থেকে করা যায় তাহলে ভালো হয়। অসাম্প্রদায়িক, যুক্তিবাদী, বিবেকবান সাহিত্যিক অন্নদাশঙ্কর রায়ের বই যেকোনও প্রকাশনার সম্পদ। ১৯৮৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি প্রতিষ্ঠার পর থেকে তাঁর প্রয়াণ পর্যন্ত তিনিই ছিলেন বাংলা আকাদেমির সভাপতি। আমি বিভিন্ন কাজে বা অনুষ্ঠানে বাংলা আকাদেমিতে গিয়ে তাঁকে দেখেছি কিন্তু বই করে উঠতে পারিনি। শেষে সুরজিৎদার চেষ্টায় ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে, বইমেলার সময়, দে’জ থেকে অন্নদাশঙ্করের প্রথম বইটি প্রকাশিত হল– ‘নব্বই পেরিয়ে’। মোট সাতচল্লিশটি প্রবন্ধের এই সংকলনটি ২০০০ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রবীন্দ্র পুরস্কারও পায়। এই বইয়ের ভূমিকায় অন্নদাশঙ্কর লিখেছেন,

‘‘নব্বই পেরিয়ে’ নামক প্রবন্ধ সংগ্রহের কয়েকটি প্রবন্ধ ত্রিশের দশকে রচিত। সেগুলি আকস্মিকভাবে উদ্ধার করা হয়েছে।

সেগুলিকে এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত না করলে অন্যত্র সন্নিবদ্ধ করতে পারা যাবে না। আরও অনেকগুলি প্রবন্ধ গত সাত-আট বছরের মধ্যে রচিত। সেগুলিকে বাদ দেওয়া চলে না। নামকরণ ‘নব্বই পেরিয়ে’ হলেও নব্বইয়ের আগেও যা লিখেছি তাও একসঙ্গে পুস্তকাকারে প্রকাশিত হচ্ছে। এর জন্য আমি আমার পুরাতন বন্ধু মিহিরকিরণ ভট্টাচার্য ও নতুন বন্ধু সুধাংশুশেখর দে-র কাছে কৃতজ্ঞ।

সম্পাদনা করেছেন আমার পুত্রপ্রতিম সুরজিৎ দাশগুপ্ত। সে তো আমাদের ঘরের লোক। আনন্দের সঙ্গে সে এই কাজ করেছে। সুবোধরঞ্জন রায় ও প্রভাতকুমার দাস দুটি বিস্মৃত রচনা উদ্ধার করে আমাকে ঋণী করেছেন। তাঁদের ধন্যবাদ জানাই।’

অন্নদাশঙ্কর রায়

অন্নদাশঙ্করের ছেলেবেলা কেটেছে ওড়িশার ঢেঙ্কানলে। ঢেঙ্কানল তখন করদ রাজ্য। সেখানে স্কুলজীবন শেষ করে পাটনায় যান কলেজে পড়তে। অবশ্য তার আগেই– স্কুলে পড়তেই অন্নদাশঙ্কর, কালিন্দীচরণ পাণীগ্রাহী, বৈকুণ্ঠনাথ পট্টনায়ক, হরিহর মহাপাত্র এবং শরৎচন্দ্র মুখোপাধ্যায় মিলে সেকালের ওড়িয়া সাহিত্যের নামী পত্রিকা ‘উৎকল সাহিত্য’-র পাতায় লেখালিখি করে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিলেন। ওড়িয়া সাহিত্যজগতে তাঁরা ‘সবুজ গোষ্ঠী’ নামে চিহ্নিত হয়েছিলেন। তাঁদের লেখালিখিকে বলা হত ‘সবুজ সাহিত্য’। ‘উৎকল সাহিত্য’ ছাড়াও তিনি ‘সহকার’ পত্রিকাতেও লিখতেন। সে-পত্রিকায় তাঁর ছদ্মনাম ছিল ‘বঙ্গোৎকল’– হয়তো তাঁর বাঙালি-ওড়িয়া দুই সত্তার এভাবেই একটা মীমাংসা সেসময় করতে চেয়েছিলেন। তবে অন্নদাশঙ্কর খুব বেশি দিন ওড়িয়াতে লেখেননি। ‘কমলবিলাসীর বিদায়’ কবিতাটি লিখে তিনি ওড়িয়ায় লেখা বন্ধ করে দেন। তার মধ্যে ১৯২৫ সালে তিনি পাটনা থেকে ইংরেজি অনার্সে প্রথম বিভাগে প্রথম হন এবং তার দু’বছর পরে আইসিএস পরীক্ষায় প্রথম হন। তারপর শিক্ষানবিশী করতে দু’বছরের জন্য ইংল্যান্ড যান। সেইসময় উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায় তাঁর লেখা ধারাবাহিক ‘পথে প্রবাসে’ তাঁকে রাতারাতি বিখ্যাত করে দেয়। পরে দেশে ফিরে কাজে যোগ দিয়ে ফের ‘বিচিত্রা’য় লিখলেন ‘যার যেথা দেশ’ নামে ধারাবাহিক উপন্যাস। যা পরে তাঁর ছ’খণ্ডে লেখা ‘সত্যাসত্য’ উপন্যাসের প্রথম খণ্ড হবে। ‘পথে প্রবাসে’ থেকেই বাংলার সাহিত্যজগতে তাঁকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ এবং প্রমথ চৌধুরীও তাঁর গুণমুগ্ধ ছিলেন।

‘নব্বই পেরিয়ে’ বইয়ের নাম প্রবন্ধে অন্নদাশঙ্কর তাঁর আইসিএস পরীক্ষায় বসার মুখ্য উদ্দেশ্যর কথাও জানিয়েছিলেন। তিনি লিখেছেন– ‘আইসিএস প্রতিযোগিতায় যোগ দেওয়ার অন্য একটি কারণ ছিল। ইউরোপীয় সাহিত্য ও ইতিহাস পড়ে এই পাগলটি ইউরোপে যাওয়ার জন্যও পাগল হয়েছিল। তার মনে হত যে ইউরোপে না গেলে তার জীবন ব্যর্থ হবে। কৈশোরে সে চেয়েছিল আমেরিকা পালাতে। সেটা সম্ভব হয়নি।’ আইসিএস হয়ে দেশে ফিরে তাঁর চাকরিতে যোগদানের কথা তিনি বলেছেন ‘যুক্তবঙ্গের স্মৃতি’ বইতে। সে-বইয়ের শুরুতে ‘সূত্রপাত’ অংশে তিনি লিখেছেন–

‘ভাবতে অবাক লাগে বঙ্গ তখন অবিভক্ত ছিল। আমার উপর নির্দেশ, বম্বেতে জাহাজ থেকে নেমে সটান কলকাতা গিয়ে বঙ্গ সরকারের চীফ সেক্রেটারীর সকাশে রিপোর্ট করতে হবে যে আমি ইণ্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসে নিযুক্ত হয়ে ইংলণ্ড থেকে প্রেরিত হয়েছি। চীফ সেক্রেটারী তখন মিস্টার প্রেন্টিস, পরে স্যার উইলিয়াম প্রেন্টিস। পুত্রের সঙ্গে পিতার মতো ব্যবহার করেন। জিজ্ঞাসা করেন বাড়ি গিয়ে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে চাই কিনা। তা হলে ক’দিন জয়েনিং টাইম চাই। আমি তো লম্বা সময় চেয়েছিলুম। তিনি দিন সাতেক সময় দেন। তার পরেই জয়েন করতে হবে মুর্শিদাবাদ জেলার সদর স্টেশন বহরমপুরে। হতে হবে অ্যাসিস্টান্ট ম্যাজিস্ট্রেট। সেখানে আমার উপরওয়ালা হবেন ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট ও কলেকটর মিস্টার জে. সি. ফ্রেঞ্চ, আই. সি. এস.।

অন্নদাশঙ্কর ও লীলা রায়

একদিন সন্ধ্যার ট্রেনে বহরমপুর পৌঁছই। কেউ আমাকে নিতে আসেনি। পথঘাট অজানা। কোথায় উঠব তাও কি জানতুম? ঘোড়ার গাড়ির গাড়োয়ানকে বলি, “চলো কলেকটর সাহেবের কুঠি।” ফ্রেঞ্চ সাহেব আমাকে দেখে খুশি হন, বিশেষত আমি ইটালি ও দক্ষিণ ফ্রান্স হয়ে এসেছি শুনে। তাঁরও তো পরিকল্পনা অকালে অবসর নিয়ে দক্ষিণ ফ্রান্সে বসবাস। প্রৌঢ় চিরকুমার। শিল্পে আগ্রহশীল। পালযুগের শিল্পকলা সম্বন্ধে একখানি বই লিখেছেন। আমার কথাবার্তা শুনে তাঁর ধারণা জন্মায় যে আমিও একজন কলারসিক। আলাপ শুরু হয় আর্ট নিয়ে, তার থেকে আসে রাজনীতি।’

এই লেখাতেই অন্নদাশঙ্কর লীলা রায়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রণয় পর্বের কথাও সংক্ষেপে জানিয়েছেন। তাঁর সতীর্থ দ্বিজেন্দ্রলাল মজুমদারও কিছুদিন পরে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে বহরমপুরে যান। দুই বন্ধু তখন একসঙ্গেই থাকছিলেন। অন্নদাশঙ্কর লিখেছেন– ‘দ্বিজেন্দ্রলাল ও আমি একসঙ্গে একটি বছর ঘর-সংসার করি। কিন্তু শেষের দিকে এক বিচিত্র ঘটনা ঘটে। অচেনা অজানা এক বিদেশিনী ভারতীয় সঙ্গীত শিক্ষার্থিনী হয়ে কলকাতা আসেন। সেখান থেকে তাঁর লখনউ যাত্রার কথা। আমার নামে একটি পরিচয়পত্র ছিল। আমি তাঁকে পরামর্শ দিই বহরমপুর এসে মুর্শিদাবাদ দর্শন করতে। প্রধান দ্রষ্টব্য হাজারদুয়ারী। আমার চিঠি পেয়ে তিনি কি সত্যি আসবেন? বিশ্বাস হয় না। কিন্তু অঘটন আজও ঘটে। তিনি সত্যি সত্যি এলেন। কাছেই সারকিট হাউস। সেইখানেই রাত্রিযাপন। আমাদের সঙ্গে ভোজন। দিন তিনেক পরে যখন তিনি বিদায় নেন তখন তাঁকে আমি দুটি কি তিনটি বাংলা কথা শেখাই। ধরে নিই যে আর দেখা হবে না। কিন্তু পুজোর ছুটিতে কলকাতা গিয়ে শুনি তিনি তখনো কলকাতায় অপেক্ষমাণ। আবার দেখা করি। কথাচ্ছলে বলি, “আমি যাচ্ছি রাঁচীতে বন্ধুর বাড়ি ছুটি কাটাতে। রাঁচীও একটা দেখবার মতো জায়গা। আপনি কলকাতায় বসে না থেকে রাঁচী বেড়িয়ে আসতে পারেন।” তিনি কথা দেন না, কিন্তু সত্যি সত্যি একদিন রাঁচীতে গিয়ে আমার বন্ধু ও বন্ধুপত্নীর অতিথি হন। সেখান থেকে যখন ফেরেন তখন তিনি শ্রীমতী লীলা রায়। আমাদের বিয়েতে প্রমথ চৌধুরী ও ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী ছিলেন।’ লীলা রায়ের আগের নাম ছিল অ্যালিস ভার্জিনিয়া অনফোর্ড।

তবে অল্পবয়সেই অন্নদাশঙ্কর বুঝেছিলেন চাকরিটা তাঁর প্রধান পরিচয় হতে পারে না। বাংলাদেশে চাকরিতে নিযুক্ত হয়ে তিনি দুটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন– “একটি তো ওই পাঁচ বছরের মধ্যে ‘সত্যাসত্য’ লিখে শেষ করার। অপরটি ওই পাঁচ বছরের মধ্যে সারা বাংলাদেশ ঘুরে দেখার। তার মানে বছরে দু’বার বদলি হওয়ার। এমন এক উদ্‌ভট সিদ্ধান্তের জন্যে পরে আমাকে পশতাতে হয়েছে। তখন তো জানতুম না যে বিলেত থেকে ফিরে আসার বছরখানেকের মধ্যেই আমার বিয়ে ঠিক হয়ে যাবে। বিয়ের চার বছরের মধ্যেই হয় দুটি সন্তান। সপরিবারে বদলি যে কি জ্বালা তা ভুক্তভোগীমাত্রেরই জানা। একুশ বছরে আমাকে একুশবার বদলি করা হয়। কোনোখানেই পুরো তিন বছর মেয়াদ পূর্ণ হয়নি। শেষে আমার স্ত্রী বিদ্রোহ করেন। আমি চাকরিতে ইস্তফা দিই।” চাকরি ছাড়ার পর তাঁর লেখক-জীবন বাড়তি গতি পায়।

অন্নদাশঙ্করের মতো একই সঙ্গে আধুনিক ও আধ্যাত্মিক, সাহিত্যিক ও সমাজবিজ্ঞানী, শিল্প ও নীতিজিজ্ঞাসু মানুষ খুব বেশি দেখা যায় না। দে’জ থেকে আমি তাঁর দ্বিতীয় বই ‘বিদগ্ধ মানস’ প্রকাশ করেছিলাম ১৯৯৭-এর বইমেলায়। ‘বিদগ্ধ মানস’-এর ভূমিকায় লেখক বলেছেন– “আমার এই প্রবন্ধ পর্যায়ের অধিকাংশই লেখা হয়েছে সমসাময়িক ঘটনাবলীর উপর তাৎক্ষণিক ভাষ্য হিসাবে। তা হলে এর নাম ‘বিদগ্ধ মানস’ রাখছি কেন? ‘বিদগ্ধ’ নামটি ব্যবহার করবার জন্য আমার স্ত্রী একবার আমাকে বলেছিলেন। নানা কারণে সে নামটি ব্যবহার করা হয়নি। এবার এই সঙ্কলনের মধ্যে একটি সাক্ষাৎকার আছে। তাতে আমাকে বলা হয়েছে বিদগ্ধ লেখকদের অগ্রণী। অগ্রণী না হই, একজন তো বটে। এই স্বীকৃতিটুকু আমার জীবনে স্মরণযোগ্য। তাই এমন নামকরণ।” প্রসঙ্গত বলে রাখি লীলা রায় প্রয়াত হন ১৯৯২ সালে। এই বইয়ে ‘স্বরবৃত্ত’ পত্রিকার পক্ষ থেকে মানব গঙ্গোপাধ্যায়ের নেওয়া অন্নদাশঙ্করের একটি সাক্ষাৎকারটি সংযোজিত হয়েছে। সাক্ষাৎকারের শুরুতেই ‘আল্টিমেট ট্রুথ’ সম্পর্কে তাঁর অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন– ‘Ultimate truth-কে শুধুমাত্র intellect দিয়ে উপলব্ধি করা যায় না। Intellect-এর যে highest flight সেও সেখানে পৌঁছতে পারবে না, তার এর জন্য দরকার হয় প্রধানত প্রেম। “বিনা প্রেমসে না মিলে নন্দলাল।” ভালবাসা না থাকলে ভগবানকে পাওয়া যায় না। তেমনি ultimate truth-কেও প্রেম দিয়েই পেতে হয়, সেই ultimate truth-ই ভগবান। দ্বিতীয়ত intellect দিয়ে যেখানে পৌঁছানো যায় না সেখানে intuition দিয়েই পৌঁছতে হয়।’– আমার মনে হয় এই উত্তরেই অন্নদাশঙ্করের মূল ভাবনার জগতটা চেনা যায়। যেখানে সংকীর্ণতার কোনও জায়গা নেই, দর্শনের নামে কোনও মতবাদের দাসত্ব নেই। সবটাই মানবকেন্দ্রিক ও মুক্তচেতনার ওপর দাঁড়িয়ে।

দে’জ থেকে অন্নদাশঙ্করের পরের বই ‘কাঁদো, প্রিয় দেশ’ নতুন লেখা নয়। পরিবর্ধিত নতুন সংস্করণ– ১৯৭৬ সালে এই বইটি প্রথমে ছাপা হয়েছিল ‘শঙ্কর প্রকাশন’ থেকে। আমি ১৯৯৮-এর বইমেলায় সেটি ছাপলাম। আমাদের বাংলা স্বাধীনতার সময় দু’টুকরো হলেও অন্নদাশঙ্কর বিশ্বাস করতেন বাংলা ভাষার সূত্রে আমাদের মধ্যে একটি নিবিড় চেতনাগত মিল সম্ভব। সেই বাংলা ভাষার কারণেই বঙ্গবন্ধু মুজিবকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ বলে মনে করতেন। এই বইটি তৈরি হয়েছিল মুজিব হত্যার পরে তাঁর শোক প্রকাশের আবেগে। কিন্তু ‘কাঁদো, প্রিয় দেশ’-এর পিছনের গল্পটা জানা যায় বাংলাদেশের ‘জনকণ্ঠ’ পত্রিকায় ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত সালাম আজাদের নেওয়া সাক্ষাৎকার থেকে। ‘বাংলাদেশ কেন যাইনে’ শিরোনামে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারটিতে অন্নদাশঙ্কর বলেছিলেন– “১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট। সেদিন আমাদের স্বাধীনতা দিবসের একটি অনুষ্ঠান ছিল আনন্দবাজার অফিসে। আমাকে ওরা প্রধান অতিথি করেছিল। সেখানে আমি প্রথম শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের খবর পাই। মুজিবের নিহত হবার সংবাদে আমি এতটা শোকাহত হয়েছিলাম যে, আনন্দবাজারের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ না করেই বাড়িতে ফিরে এলাম। বাড়িতে এসে আমি লিখতে বসলাম। লেখা শেষ হলে ‘কাঁদো, প্রিয় দেশ’ নাম দিয়ে লেখাটি ‘দেশ’ পত্রিকায় পাঠালাম। ওঁরা লেখাটি না ছেপে আমাকে ফেরত পাঠালেন। ফেরত পাঠানোর কারণ জানতে চাইলে, ওঁরা বললেন মুখ্যমন্ত্রীর নিষেধ রয়েছে। আমি মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশংকর রায়কে চিঠি লিখলুম। তিনি আমার চিঠির লিখিত উত্তর না দিয়ে ফোন করলেন এবং পরের দিন বিকালে তাঁর অফিসে চা পানের নিমন্ত্রণ জানালেন। পরের দিন বিকালে তাঁর অফিসে গিয়ে জানতে চাইলাম, কেন লেখাটি ছাপানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তিনি বললেন, কেন্দ্রীয় সরকারের নিষেধ রয়েছে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এই মুহূর্তে কিছু না লেখার। আমি বললুম, একজন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে– যাঁর সঙ্গে এই কিছুদিন আগেও ঢাকায় আমার কথা হয়েছে, তাঁর হত্যাকাণ্ডে আমি শোক জানাতে পারব না? এটা তো কোনো রাজনৈতিক লেখা নয়। তখন মুখ্যমন্ত্রী বললেন, এ ব্যাপারে আমার কিছুই করার নেই। আপনার লেখাটি আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছি। কিছুদিন পরে প্রধানমন্ত্রীর একটি চিঠি এল। ইন্দিরা গান্ধী লিখেছেন, আপনার লেখাটি আমি অনুবাদ করিয়ে পড়েছি। শেখ মুজিব এবং তাঁর পরিবারবর্গের নিমর্ম হত্যাকাণ্ডে আমরা শোকাভিভূত। তিনি লেখাটি সম্পর্কে লিখেছেন: ‘However, we must think of the repercussions of anything that is said or done here. Lest we be misrepresented. We should modulate our public reaction to events in a neighbouring country with the utmost care. What a person of your position in the literary world says will have far reaching impact and I am sure that you would not like to cause us any embarrassment.’ এর পর ‘কাঁদো, প্রিয় দেশ’ আর কোথাও প্রকাশিত হল না। দীর্ঘদিন পরে একজন তরুণ প্রকাশক প্রবন্ধটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেছিল।” অন্নদাশঙ্কর কিন্তু তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী কারওর কথাতেই সন্তুষ্ট হননি। তাঁর বিশ্বাসের কথা তিনি প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় জানিয়েছিলেন, “সে রচনা যদি সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতার ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হতো তা হলে বাংলাদেশের জনমতের উপর তার শুভ প্রভাব পড়তে পারত ও তার ফলে জনাব তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রমুখ নেতাদের প্রাণরক্ষা হতে পারত। তেমনি আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে সেটা যদি এখন পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয় তা হলে বাংলাদেশের জনমতের উপর তার শুভ প্রভাব পড়তে পারে ও তার ফলে বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর প্রাণরক্ষা হতে পারে। সব কাজ কি পুলিশ পারে, না মিলিটারি পারে? তাই যদি হতো তবে লেখকদের প্রয়োজন হতো না। লেখকদের দায়িত্ব সম্বন্ধে লেকচার শুনতেও হতো না। আমাদের যাঁরা লেকচার দিয়ে কৃতার্থ করেন তাঁরাই আবার ‘চুপ চুপ’ বলে নিবৃত্ত করেন। লেখকের দায়িত্বের বিচারক লেখক নিজে।”

অন্নদাশঙ্কর রায়ের বিখ্যাত ছড়ার লাইন ‘তেলের শিশি ভাঙল বলে’ (‘খুকু ও খোকা’) আমাদের সকলেরই মনে আছে, কিন্তু তাঁর লেখা ‘যতদিন রবে পদ্মা যমুনা/ গৌরী মেঘনা বহমান’ (‘বঙ্গবন্ধু’)-এর কথা তেমন বলা হয় না। ১৯৭১-এর মাঝামাঝি সুভাষ মুখোপাধ্যায় কলকাতায় একটি সভা করেছিলেন। সেই সভা থেকে ফিরে তিনি ওই ছড়াটি লিখেছিলেন। আবার ১৯৭৫-এ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ নাম দিয়ে আরেকটি কবিতা লেখেন– এই কবিতাটি ‘কাঁদো, প্রিয় দেশ’-এর শুরুতে ছাপা হয়েছিল। সে কবিতার শেষে তিনি লিখেছিলেন– ‘বাংলাদেশ! বাংলাদেশ! থেকো নাকো নীরব দর্শক/ ধিক্কারে মুখর হও। হাত ধুয়ে এড়াও নরক।’

এই প্রসঙ্গে বলে রাখি তাঁর ছড়ার বই আমি করতে পারিনি। কিন্তু সেই ছড়া যে অনবদ্য– সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাঁর প্রথম ছড়ার বই প্রকাশিত হয়েছিল বুদ্ধদেব বসুর উদ্যোগে। বুদ্ধদেব তখন ‘কবিতাভবন’ থেকে ‘এক পয়সায় একটি’ সিরিজ ছাপতে শুরু করেছেন। তিনি অন্নদাশঙ্করের কাছে একটি বই চেয়েছিলেন। ‘উড়কি ধানের মুড়কি’ বইটির চতুর্থ সংস্করণের (১৯৫৫) ভূমিকায় তিনি লিখেছিলেন– “রবীন্দ্রনাথ আমাকে ছড়া লিখতে উপদেশ দিয়েছিলেন। আমি চেষ্টা করিনি। যুদ্ধের সময় বুদ্ধদেব বহু তাঁর ‘এক পয়সায় একটি’ সিরিজের জন্যে আমার কাছে ষোলোটি কবিতা চান। তখন হঠাৎ আমার হাত খুলে যায়। একদিন কি দু’দিনের মধ্যে গোটা দশ বারো কবিতা বা ছড়া লেখা হয়ে যায়। “উড়কি ধানের মুড়কি”র প্রথম সংস্করণে ও ছাড়া আর ছিল কয়েকটি বিদেশী ধাঁচের পদ্য। অনেক দিন আগে লেখা “লিমেরিক” ও “ক্লেরিহিউ”। পরবর্তী সংস্করণে লিমেরিকগুলি ছোটদের জন্যে আলাদা করে রাখি। ওগুলি যায় “রাঙা খানের খৈ”তে। “উড়কি ধানের মুড়কি” যেমন বড়দের ছড়ার বই “রাঙা ধানের খৈ” তেমনি ছোটদের। আমার যাবতীয় ছড়া এই দুটি মাটির জালায় সঞ্চিত।” পরে অবশ্য তিনি আরও অনেক ছড়া লিখেছেন। বাণীশিল্প থেকে তাঁর ‘ছড়া-সমগ্র’ও প্রকাশিত হয়েছে।

১৯৯৯-এর বইমেলায় দে’জ থেকে প্রকাশ করেছিলাম অন্নদাশঙ্কর রায়ের নতুন বই– ‘নতুন করে ভাবা’। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে তাঁর মনে হচ্ছিল আমাদের দেশ মহাত্মা গান্ধীর দেখানো রাস্তা ছেড়ে কানাগলির দিকে এগিয়ে চলেছে। জওহরলাল নেহরুর ধর্মনিরপেক্ষতাও বিলীন হয়ে যাচ্ছিল। ভূমিকায় তিনি লিখেছিলেন– ‘বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে তার জায়গায় রামমন্দির নির্মাণের তোড়জোড় চলেছে। কোথায় এদেশের Moral Leadership? কোথায় Statesmanship? নতুন করে ভাবা এই বিভ্রান্ত সঙ্কট ক্ষণে নিবেদিত একগুচ্ছ প্রবন্ধ।’ তবে এ-বইয়ের সবই যে খুব গুরুগম্ভীর লেখা তা নয়। এতে তাঁর ‘বিয়ের স্মৃতি’ নামে একটি চমৎকার স্মৃতিচারণও আছে।

অন্নদাশঙ্কর রায়ের পরের যে-বইটি আমি ছেপেছিলাম– তার কুড়িটি লেখা ‘বর্তমান’ পত্রিকায় ‘কাছের মানুষ’ নাম দিয়ে ছাপা হয়েছিল। ‘বর্তমান’ পত্রিকায় লেখাগুলি ছাপা হয়েছিল ‘সন্তোষকুমার ঘোষ-এর কন্যা কাকলি ও গৌরকিশোর ঘোষ-এর কন্যা সাহানার অনুরোধে’। পরে তার সঙ্গে আরও দশটি লেখা যোগ করে ২০০১-এর বইমেলায় দে’জ থেকে প্রকাশিত হয়েছিল– ‘আমার কাছের মানুষ’। অজয়দার (অজয় গুপ্ত) চমৎকার মলাটে বইটি আমার নিজেরও খুব প্রিয়। বইয়ের ‘ভূমিকা’ পড়ে বোঝা যায় সুরজিৎ দাশগুপ্ত সম্ভবত লেখাগুলি অনুলিখন করেছিলেন। এই বইটি হওয়ার সময়েও যথারীতি সুরজিৎদার সহযোগিতা ছিল। ২৩ জুন ২০০০ সালে তাঁর রিজেন্ট এস্টেটের ঠিকানা থেকে সুরজিৎদা আমাকে একটি চিঠিতে লিখছেন–

‘সবিনয় নিবেদন,
গতকাল অন্নদাশঙ্কর রায় লিখিত ‘আমার কাছের মানুষ’ এর পাণ্ডুলিপি আপনার কাছে নিয়ে গেছলাম। শুনলাম আপনি কলকাতায় নেই, কবে আসবেন ঠিক নেই এবং আপনার অনুপস্থিতিতে কথা বলার দ্বিতীয় ব্যক্তি নেই।
আপনি এসে যদি চিঠিতে বা ফোনে জানান তাহলে আমি আবার পাণ্ডুলিপিখানি নিয়ে যাব আপনার কাছে।
নমস্কার জানাই।
ইতি
সুরজিৎ দাশগুপ্ত’

দে’জ থেকে অন্নদাশঙ্করের শেষ বই– ‘রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গে’ প্রকাশিত হয় ২০১১ সালে। অন্নদাশঙ্কর প্রয়াত হয়েছেন ২০০২ সালে। এটি আসলে তাঁর ইচ্ছে অনুযায়ী সংকলিত একটি বই। বইটি সম্পাদনা করেন সুরজিৎ দাশগুপ্তই। সুরজিৎদা যে এই ধরনের একটা বইয়ের কথা ভাবছেন সেই কথাটা আমাকে বলেছিলেন স্বপনদা (স্বপন মজুমদার)। রবীন্দ্রনাথের সার্ধশত জন্মবর্ষ উপলক্ষেই এই বইয়ের পরিকল্পনা। এই বইয়ের শুরুতে সুরজিৎদার ভূমিকার সঙ্গে স্বপনদার একটি লেখা– ‘অন্নদাশঙ্করের রবীন্দ্রনাথ’ও ছাপা হয়েছিল। অন্নদাশঙ্করের কাছে রবীন্দ্রনাথের উত্তারধিকার ছিল বাঙালির পরম সম্পদ। তিনি ১৯৯৪ সালে আনন্দ পুরস্কার প্রাপ্তি উপলক্ষ্যে নিজের বক্তব্য শুরু করেছিলেন এই বলে– ‘গায়ত্রীমন্ত্রে আমার উপনয়ন হয়নি, হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের কবিতায়।’

লিখন শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায়

…… ইতি কলেজ স্ট্রিট-এর অন্যান্য পর্ব ……

পর্ব ৬৩। ভাবনার ভাস্কর্যের দিনগুলি রাতগুলি

পর্ব ৬২। কাদের লিটল ম্যাগাজিন বলা যাবে না, তার তালিকা তৈরি করেছিলেন শিবনারায়ণ রায়

পর্ব ৬১। গৌরদা বিশ্বাস করতেন, কলমের স্বাধীনতা হরণ মাতৃবিয়োগের চেয়ে কম কিছু নয়

পর্ব ৬০। সমরেশ বসু যখন ‘বিশ্বাসঘাতক’!

পর্ব ৫৯। সারাজীবন নিজেকে জানার জন্যেই লিখে গিয়েছেন সমরেশ বসু

পর্ব ৫৮। নবারুণ চেয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ কবিতার সিরিজে তিনিও থাকুন, কিন্তু হল না

পর্ব ৫৭। সত্যজিৎ-মৃণাল-ঋত্বিক ত্রয়ীর মধ্যে ঋত্বিকের লেখাই আমরা প্রথম ছেপেছিলাম

পর্ব ৫৬। অজয় গুপ্তর নিরন্তর শ্রম আর খুঁতখুঁতে সম্পাদনা ছাড়া মহাশ্বেতা দেবীর রচনাসমগ্র হত না

পর্ব ৫৫। দলকল্যাণের জন্য রাজনীতি সমাজকে নরকে পরিণত করবে, বিশ্বাস করতেন মহাশ্বেতা দেবী

পর্ব ৫৪। যা লিখেছেন, না লিখে পারেননি বলেই লিখেছেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

পর্ব ৫৩। ‘অলীক মানুষ’ তাঁকে দিয়ে কেউ লিখিয়ে নিয়েছে, মনে করতেন সিরাজদা

পর্ব ৫২। নিজের লেখা শহরের গল্পকে লেখা বলে মনে করতেন না সিরাজদা

পর্ব ৫১। কর্নেল পড়ে সিরাজদাকে চিঠি লিখেছিলেন অভিভূত সত্যজিৎ রায়

পর্ব ৫০। সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা থেকে বাঁচতে দিব্যেন্দুদার জীবনের দ্বিতীয় গল্পই বদলাতে হয়েছিল

পর্ব ৪৯। রবিশংকর বলের মতো উর্দু সাহিত্যের এত নিবিষ্ট পাঠক খুব কমই দেখেছি

পর্ব ৪৮। দেবেশ রায়ের যেমন ‘বৃত্তান্ত’, আফসার আমেদের তেমন ‘কিস্‌সা’

পর্ব ৪৭। বই বাঁধানো সম্পূর্ণ হয়নি, তাই ‘মহাভুল’ শুধরে নিয়েছিলেন দেবেশ রায়

পর্ব ৪৬। গান্ধীনগরে রাত্রির কবিই প্রথম বিদ্রুপাত্মক তেতো হাসি এনেছিলেন বাংলা কবিতায়

পর্ব ৪৫। নাটকের মহলা পছন্দ হলে তবেই তিস্তাপারের বৃত্তান্তর অনুমতি দেবেন, বলেছিলেন দেবেশ রায় 

পর্ব ৪৪। নিজের বইপত্র বিক্রির বিবরণ দেখে হতাশ হয়েছিলেন দেবেশ রায়

পর্ব ৪৩। থ্রিলার, রহস্য-রোমাঞ্চ কিংবা ক্রাইম স্টোরি অনেক দিন ধরেই বইপাড়ায় ‘সুপারহিট’

পর্ব ৪২। অলংকরণ বা প্রচ্ছদশিল্পীদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা নেই, সখেদে চিঠি লিখেছিলেন নারায়ণ সান্যাল

পর্ব ৪১। রাস্কেল, পাষণ্ড পণ্ডিত, প্রবঞ্চক, বিশ্বাসঘাতক– নারায়ণ সান্যালের বইয়ের নাম নিয়ে প্রবল আপত্তি ছিল আমার!

পর্ব ৪০। সিগারেট ঠোঁটে রথীন্দ্রনাথের ছবি প্রচ্ছদে যাওয়া নিয়ে উঠেছিল প্রবল আপত্তি!

পর্ব ৩৯। শান্তিনিকেতন থেকে কলেজ স্ট্রিট, প্রুফ আদান-প্রদানে সহায়ক ছিলেন বই ব্যবসায়ীরাই

পর্ব ৩৮। পাণ্ডুলিপি জমা দিয়ে সোমেনদা বলেছিলেন, রামকিঙ্করকে নিয়ে এ জাতীয় বই আগে লেখা হয়নি

পর্ব ৩৭। ‘কীর্তির্যস্য’র নাম বদলাতে চেয়েছিলেন ভবতোষ দত্ত

পর্ব ৩৬। কবি-দার্শনিকের বাইরে আরেক রবীন্দ্রনাথকে খুঁড়ে বের করেছিলেন অমিতাভ চৌধুরী

পর্ব ৩৫। ‘শাহজাদা দারাশুকো’ আরও বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে ছিল শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের

পর্ব ৩৪। একজন লেখক হিসেবে আমি কি তোমার মনোযোগের যোগ্য নই, অভিমান ভরা চিঠি লিখেছিলেন শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

পর্ব ৩৩। আমাকে ভাবায়, তারাপদ রায়

পর্ব ৩২। নববর্ষের শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ: লেখকদের মন্তব্যের খাতা!

পর্ব ৩১। পরিব্রাজক সন্ন্যাসী তারাপ্রণব ব্রহ্মচারী ভাগ্যিস থিতু হয়েছিলেন সাহিত্যে!

পর্ব ৩০। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কোনও বই আমাকে চাপিয়ে দেননি, লিখেছেন: বিবেচনা করে দেখো

পর্ব ২৯। কবিতাকে শক্তিদা বলতেন ‘জলজ দর্পণ’, তাঁর বেঁচে থাকার অবলম্বন

পর্ব ২৮। পিঁপড়ে কালিতে চুবিয়ে সাদা পাতায় ছাড়া হয়েছে, এমন পাণ্ডুলিপি ছিল বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের!

পর্ব ২৭। নিজস্ব ঈশ্বরভাবনা থাকলেও শঙ্কু মহারাজের লেখার মূল বিষয় ছিল মানুষের আলো-আঁধারি জীবন

পর্ব ২৬। বাংলাদেশে পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও একুশে বইমেলায় কখনও স্টল পাইনি

পর্ব ২৫। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি মুহূর্তের রক্ত-ঘাম-হাসি-কান্নার এক জীবন্ত দলিলচিত্র ছেপেছিলাম

পর্ব ২৪। রাখাল ছেলে যেমন বাঁশি বাজায়, আমিও তেমন নিজের খুশিতে লিখি, বলেছিলেন যাযাবর

পর্ব ২৩। রয়্যালটি-মুক্ত বইয়ের ওপর প্রকাশকদের ঝোঁক চোখে পড়ছে বইমেলাতেও

পর্ব ২২: শেষমেশ রেগে গিয়ে আমাকে চিঠিই লিখে ফেলেছিলেন শঙ্খ ঘোষ!

পর্ব ২১: ৩০০০ কপি বিক্রির মতো জীবিত বা মৃত লেখক আর হয়তো নেই

পর্ব ২০: কম বয়সে আমাদের রোববারের আড্ডা ছিল ২৮ নম্বর প্রতাপাদিত্য রোড, আশুদার বাড়িতে

পর্ব ১৯: ‘লেখা বড় হচ্ছে’ অভিযোগ আসায় খুদে হাতের লেখায় পাণ্ডুলিপি দিতেন প্রবোধবন্ধু অধিকারী

পর্ব ১৮: দু’বছরের মধ্যে সংস্করণ না ফুরলে অন্য জায়গায় বই ছাপার চুক্তি ছিল শরদিন্দুর চিঠিতে

পর্ব ১৭: পূর্ণেন্দু পত্রীর বাদ পড়া প্রচ্ছদ ও দিনেশ দাসের কবিতার শ্রেষ্ঠ দিনগুলি

পর্ব ১৬: সব প্রকাশনার যাবতীয় বইয়ের হদিশ পাওয়া যেত ‘সম্মিলিত গ্রন্থপঞ্জী’তে

পর্ব ১৫: নিছকই একটা পত্রিকা নয়, ‘কলেজ স্ট্রীট’ আমাদের আবেগ

পর্ব ১৪: খুদে পাঠকদের জন্য মিনিবই তৈরির কথা প্রথম ভেবেছিলেন অভয়দা

পর্ব ১৩: কয়েকটি প্রেসের গল্প

পর্ব ১২: দীর্ঘায়ু বই ও আইয়ুব পরিবার

পর্ব ১১: প্রেমের নয়, অপ্রেমের গল্প সংকলনের সম্পাদনা করেছিলেন সুনীল জানা

পর্ব ১০: ছোট্ট অপুকে দেখেই রঙিন ছবিতে ভরা টানটান গল্পের বই করার ইচ্ছে জেগেছিল

পর্ব ৯: চানঘরে গান-এ সত্যজিৎ রায়ের চিঠি থাকায় ব্যাপারটা গড়িয়েছিল কোর্ট কেস পর্যন্ত

পর্ব ৮: প্রকাশক-লেখকের কেজো সম্পর্কে বুদ্ধদেব গুহর বিশ্বাস ছিল না

পর্ব ৭: পুজো সংখ্যায় না-বেরনো উপন্যাস বই আকারে সুপারহিট

পর্ব ৬: মানবদার বিপুল অনুবাদের কাজ দেখেই শিশির দাশ তাঁর নাম দিয়েছিলেন– ‘অনুবাদেন্দ্র’

পর্ব ৫: সাতবার প্রুফ দেখার পর বুদ্ধদেব বসু রাজি হয়েছিলেন বই ছাপানোয়!

পর্ব ৪: লেখকদের বেঁচে থাকার জন্য অনেক কিছুই লিখতে হয়, প্রফুল্ল রায়কে বলেছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র

পর্ব ৩: পয়লা বৈশাখের খাতায় শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় মজাচ্ছলে লিখেছিলেন, ‘সুধাংশুরা রাজা হোক’

পর্ব ২: বাংলা মাসের সাত তারিখকে বলা হত ‘গ্রন্থতিথি’, বিজ্ঞাপনেও বিখ্যাত ছিল ‘৭-ই’

পর্ব ১: সত্তরের উথাল-পাথাল রাজনৈতিক আবহাওয়ায় আমি প্রকাশনার স্বপ্ন দেখছিলাম