


ভাঁজো উৎসবে (সাতটি শস্য সাত ডুব ইত্যাদি) সাত সংখ্যাটি তাৎপর্যপূর্ণ। ‘সাত ধাতু’ অর্থাৎ ত্বক রক্ত মাংস মেদ অস্থি মজ্জা শুক্র যেমন মানব শরীরের গঠনে মূল ভূমিকা নেয়; তেমনি ধরিত্রী গর্ভে সাত বীজ রোপণ ফসলের পূর্ণতার প্রতীক। লোকবিজ্ঞানের সঙ্গে লোকদর্শনের চমৎকার যুগলবন্দি। সাত দিন ধরে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে কুমারী মেয়েরা দিনে কয়েকবার জলের হালকা ছিটে দেয় অঙ্কুরিত সরায়। নগ্নতাই এখানে পবিত্রতা। সাতদিন পর তিনটি সরা ভাঁজোর কাছে নিয়ে যায় পুজোর প্রধান অর্ঘ্য হিসাবে।
৪৮.
আজ ইন্দ্র দ্বাদশী। রাঢ়ের ‘ইঁদ-পরব’। দেবরাজ ইন্দ্রের আর সেদিন নেই। বছরে একবার নমো নমো করে তাঁর নামে ইন্দ্রধ্বজের বাঁশ ওঠে। জমিদারি প্রথার অবলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে ইঁদপরবের গৌরব অস্তমিত। তবে চাষি বাউরি হাড়ি বাগদি মুচি ডোমপাড়া থেকে কুমারী মেয়েরা আজও ভাঁজোর শসপাতার জন্য ইঁদের মাটি নিতে আসে।
হাতে পোড়ামাটির সরা। ফুল। কাগজমোড়ানি চিনি। আমলা হলুদ বাসতেল। ইঁদতলা থেকে এক টুকরো মাটি নিয়ে তারা সোজা নদীর ঘাটে।
অপটু হাতের তৈরি ইন্দরঠাকুর। গলায় বনফুলের মালা। চিনির প্রসাদ খেয়ে ব্রতিনীরা প্রসাধনী মেখে ঠাকুর মাথায় চাপিয়ে গুনে গুনে সাত ডুব দেয়। প্রতিবার একমুঠো বালি নিয়ে কঞ্চির খাড়ুইয়ে ভরে। তারপর দল বেঁধে হুল্লোড় করে বাড়ি ফেরে আলপথ ধরে।

তুলসীমঞ্চের পাশে সাজানো উপকরণ। বালি মাটি। ইঁদের মাটি। ইঁদুরে তোলা শুকনো মাটি। সাত রকমের শস্যদানা। যব, গম, সরষে, মাষকলাই, ছোলা, মুসুরি ও শনবীজ। এক গেলাস মা-গঙ্গা। পোড়ামাটির সরা আর দু’টি কপটে।
কুমারী-কন্যা শুচিবস্ত্র পরে ঠাকুমায়ের তত্ত্বাবধানে সরায় ভাঁজো ও কপটেতে ইঁদুর এবং ব্যাঙের নামে পরিপাটি মাটি বিছিয়ে সাত রকমের শস্যদানা বুনে দিল। উলুধ্বনির সঙ্গে গঙ্গাজলের ছিটেন দিয়ে ‘শসপাতা’ সম্পন্ন হল।
শসপাতা মানে রবিশস্যের বীজের অঙ্কুরোদ্গমের প্রতীকী পরীক্ষা। বীজ বোনার আগে তার জীবনীশক্তি যাচাই করা। ভাঁজোপুজো বা ব্রতর সেটি প্রধান উপকরণ। সাতদিন পর দেবীর পুজো। সেই রাতে অঙ্কুরিত সরা-কপটে সাজিয়ে ভাঁজোর সামনে পরিবেশিত হবে আদিরসাত্মক ছড়া-কাটাকাটি। দেবী সন্তুষ্ট হলে হৈমন্তিক শস্যে ভরিয়ে দেবেন দো-জমির মাঠ। যার যত ভালো ‘শস’ হবে তার সমৃদ্ধি তত বেশি। সেই যৌথ লোকবিশ্বাসের ফসল ‘শসপাতা’ বা ভাঁজো ব্রত।
রোদবৃষ্টির সুতোয় বোনা ভাদ্রমাস। বাতাসে আর্দ্রতা সর্বাধিক ৮০-৯০ শতাংশ। ২৮-৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস গড় তাপমাত্রা। ভ্যাপসা গরম। গুমোট ভাব থাকলেও শিশির-ভেজা ভোরে হালকা হিমেল শিরশিরানি। বীজের অঙ্কুরোদ্গমের সবচেয়ে অনুকূল পরিবেশ। এই কারণে ভাদ্রমাসে সংশ্লিষ্ট বিষয়কেন্দ্রিক কৃষি-ব্রতর পাশাপাশি উৎসবেরও রঙিন মেজাজ। কারণ আউশধান কাটার মরসুম। ভাদুর স্থাপনা মাসের শুরুতেই। ধান কাটার পর প্রতিমা-পুজো। নাচগান। সংক্রান্তিতে বিসর্জন। ভাদু আউশধানের দেবী। নারীপুরুষ সকলে ভাদুকে গানে গানে আরাধনা করেন।

ইঁদপরবের আগের দিন আদিবাসী বুনোপাড়ায় করম ঠাকুরের পুজো। করম ঠাকুর মানে করমগাছের ডালপালা। ডালে ডালে বেনাঘাসের মঞ্জরিত শিষের ‘কাকনি’ বালা। শসার চাকতি। নতুন গামছা দিয়ে খানিকটা মোড়া। ঝুলছে রঙিন চাঁদমালা।
নিচে বাঁশের চটায় তৈরি দু’-দুটো ধামা। তাতে অঙ্কুরিত কিশলয়। আর আছে খড়ের তৈরি ঘোড়া। প্রত্ন-ধূসর ঘোড়ার পিঠে উত্থিত লিঙ্গের মতো আস্ত শসা। তার উপর একটুকুন ঝিঙের ফুল। এক দফা নাচের পর ‘মহিনের ঘোড়া’গুলিও করম থানে চক্রাকারে দাঁড়িয়ে যায় ব্রতকথা শুনতে।
মোড়ল বা লায়া বলছেন ব্রতকথা। ধরম করমের কথা। চাঁদ-সুরজ নদী বন পাহাড়ের সৃষ্টির কথা। কর্মাতিরা শুনছে। উলু দিয়ে একটা একটা করে ফুল দিচ্ছে করম রাজার পায়ে। পর্যাপ্ত ফসল, সন্তান আর ভালো বরের কামনায় পরিবেশ-বান্ধব এই ব্রত।

ভাঁজোর সঙ্গে ভাদু বা করমঠাকুরের বেশ খানিকটা মিল থাকলেও অমিল প্রচুর। করম মূলত আদিবাসীদের খারিফ ও রবি মরসুমের সন্ধিক্ষণে ‘জাওয়াপাতা’ তথা অঙ্কুরোদ্গম এবং বৃক্ষ বা অরণ্যপুজোর সম্মিলিত গীতি-মহোৎসব। ভাদুতে শস্যের অঙ্কুরোদ্গমের কোনও প্রসঙ্গ নেই। প্রধানত মূর্তিকেন্দ্রিক পুজো, যার সঙ্গে মিশে আছে লোকায়ত রাজকন্যার ট্রাজিক পরিণতি। তারই স্মৃতিসম্বলিত গীতি-আলেখ্য ভাদুর পালাগান।
ভাঁজোপুজোয় ধান সম্পূর্ণ রূপে ব্রাত্য। মাটির সরায় রবিফসল, বিশেষ করে যব গমের সঙ্গে ডাল ও শনবীজের অঙ্কুরোদগম বা শসপাতার বীজ-পরীক্ষা ব্রতের মৌলিক দর্শন। এর সঙ্গে মিশে আছে নীরোগ শস্যের দ্রুত সমৃদ্ধিবর্ধক নারীদের আদিরসাত্মক ছড়া কাটাকাটির উর্বরতাকেন্দ্রিক জাদুর সম্মোহিনী শক্তি। তিনটি উৎসবের মধ্যে বাংলায় ভাঁজো অর্বাচীনকালের হলেও সবচেয়ে প্রাচীনতার স্বাক্ষর তার মধ্যে রয়েছে; রয়েছে বীজ পরীক্ষার কৃষি লোকবিজ্ঞান ও আদিরসাত্মক ছড়া পরিবেশনার মধ্যে।
সরায় শসপাতা আসলে রবিচাষের লৌকিক পরীক্ষাগারের রূপক। আধুনিক কৃষিবিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘ইন-ভিট্রো’ (in-vitro) অর্থাৎ ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিম ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বীজের অঙ্কুরোদগমের পরীক্ষা। বীজের সুপ্তিদশা কাটানোয় শব্দতরঙ্গের ভূমিকা থাকে। উদ্ভিদবিজ্ঞানের পরিভাষায় বলে ‘মেকানোট্রান্সডাকশন’। সুতরাং মেয়েদের নাচগানের সঙ্গে ফসলের বেড়ে ওঠা কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়।

অঙ্কুরিত সরাটি যেন দো-জমির প্রতীক। বালি, ইঁদুরে তোলা আলগা মাটি যেন অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন পূর্ণ দো-চাষের উপযুক্ত খেতের পরিপাটি মৃত্তিকা। ইঁদুর ও ব্যাঙের নামেও শসপাতা আসলে দুই কৃষি-মিত্রের উপকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা। ইঁদুর ধানের ব্যাপক ক্ষতি করলেও রবিচাষে মাটিকে আলগা করে। সর্বভূক প্রাণী ব্যাঙ। রবি ফসলের ক্ষতিকারক পোকা-কীট-পতঙ্গ খেয়ে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায়।
বাংলায় খারিফ ফসলের উপযুক্ত ভৌগোলিক পরিবেশ প্রকৃতির দান। আমনধান চাষের বাড়বাড়ন্তের মূলে মৌসুমী বৃষ্টিপাতের প্রাচুর্য। তুলনায় প্রাচীনকালে রবিচাষ ছিল বহু কঠিন, ঝুঁকিপূর্ণ এবং শ্রমসাধ্য। রবিচাষের ভরসা গ্রামের পুকুর, নদীর দহের জল। দো-জমির চাষ এই কারণে খারিপের তুলনায় অনেক পরে বাংলায় শুরু হয়েছিল। আমনধানের দেবী লক্ষ্মী হলেও, ভাঁজো রবিশস্যের লৌকিক দেবী।
রবিশস্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডালশষ্যের লোকায়ত দেবীও ভাঁজো। অধ্যাপক নীহাররঞ্জন রায় ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস: আদি পর্ব’তে লিখছেন, প্রাচীন বাংলাসাহিত্যে খাদ্য সম্পর্কে নানারকম তথ্য থাকলেও বাঙালির ডাল খাওয়ার কোনও ইঙ্গিত নেই। সেকালের ধনী বাঙালিরা একমাত্র বিয়ে-থা ভোজে-কাজে ডাল ব্যবহার করতেন। লোকপ্রবাদ আছে, ‘ডাল পড়লেই ভোজ’। অধ্যাপক রায়ের মতে, ডালচাষ ও ডাল খাওয়ার রীতি বোধহয় আর্য ভারতের দান। (পৃ. ৪৪৮)

ভাঁজোর আচার-বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায়, ডাল চাষ অনেক পরে উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে রাঢ় বাংলায় আমদানি হয়েছিল। তারও ঐতিহাসিক সাক্ষ্য আছে। সেকথাও বলা হবে। আপাতত জেনে রাখা প্রয়োজন, রাঢ়-বাংলায় ভাঁজো উৎসব ভাদু ও করমের তুলনায় অর্বাচীনকালের হলেও বীজ পরীক্ষার লোকবিজ্ঞানটি অতি সুপ্রাচীন।
শসপাতার তালিকায় ডালের মধ্যে মাষকলাইয়ের সঙ্গে রাঢ়ের মণিকাঞ্চন যোগ। জমির আলে ডালশস্যটি লাগানো হয় বলে ‘আলকলাই’ নামেও পরিচিত। মেঠো ইঁদুর, ব্যাঙ শিকার করার জন্য কেউটে সাপ আলে ঘাপটি মেরে থাকে। সেই কারণে তার নাম আলকেউটে। লক্ষ করুন, ভাঁজোর সরায় ইঁদুর ব্যাঙ আলকলাইয়ের যে সহাবস্থান– মাঠের বাস্তুতন্ত্রে সেটি আলকেউটের পরিমণ্ডল। সাপের বাড়বাড়ন্তের জন্য আমনধানের জমির আলে বর্ধমান-বীরভূমে মাষকলাই চাষ বর্তমানে কমেছে।

কালোরঙের ডালকে যখন জাঁতায় ভাঙেন তখন তার নাম বিউলিডাল। বিউলি মানে (জাঁতায়) ভাঙা বা বিদলিত করা। ঘটিদের খাদ্যতালিকায় বিউলিডালের সঙ্গে পোস্তর জনপ্রিয়তার মূলে আছে ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক কারণ।
শন মূলত খারিফ ফসল হলেও উৎপাদনের নিরিখে ‘প্রাক-রবিশস্য’। ভাঁজোর সরায় তার স্থান কোনও আকস্মিক খেয়ালে নয়, বরং আগামী বছরের মহার্ঘ বস্ত্র ও দড়ির জন্য বীজের শক্তি পরীক্ষা। মুখ্যত আবহাওয়ার অনুকূল পরিবেশকে কাজে লাগানোর পরীক্ষামূলক প্রয়াস। কেননা শনচাষ একসময় আমাদের জাতীয় অর্থনীতির একটি স্তম্ভ স্বরূপ ছিল।
শন থেকেই তৈরি হত প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ক্ষৌমবস্ত্র। টেকসই দড়ি ও প্রতিমার চুল। সেকালের রাজা মহারাজারা মহার্ঘ ক্ষৌমবস্ত্র পরতেন। প্রাচীন সাহিত্যে, শাসনপট্টে ক্ষৌমের অপর নাম ‘অংশুপট’ বা ‘অংশুপট্ট’। তবে রাঢ়ের তুলনায় উত্তরবঙ্গে শণের চাষ আরও প্রাচীন। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র থেকে জানা যায়, পুণ্ড্রবর্ধনের ক্ষৌমবস্ত্র ছিল জগৎ-বিখ্যাত। খ্রিস্টীয় প্রথম শতকের ‘পেরিপ্লাস অব দি ইরিথ্রিয়ান সি’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, গঙ্গারিডাইয়ের গঙ্গে বন্দর থেকে মহার্ঘ ক্ষৌমবস্ত্র রোমে রপ্তানি করা হত।

ভাঁজো একমাত্র রাঢ় অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হবার মূল কারণ হল তার কঠিন মাটির সন্নিবেশ। কঠিন মাটি ডালচাষকে খরা-সহিষ্ণু হতে বাধ্য করেছে। সুতরাং ভাঁজোর সরায় কোমল শস্যকে বাদ দিয়ে গম যব ডাল বা শনপাটের বীজ পরীক্ষা আসলে রাঢ়ের রুক্ষ ভৌগোলিক বাস্তবতার সঙ্গে লৌকিক কৃষিবিজ্ঞানের নিপুণ অভিযোজনের দৃষ্টান্ত।
ভাঁজোর সঙ্গে ইন্দ্রপুজোর যোগও স্বাভাবিক ঘটনা। লোকায়ত বিশ্বাসে ভাঁজো হলেন স্বর্গের নর্তকী অপ্সরা ভঞ্জিকা। অপ্সরা অর্থাৎ জলের দেবী। প্রাচীন ধর্মীয় বিশ্বাসে ইন্দ্র শুধু স্বর্গের রাজা নন, তিনি বজ্র বৃষ্টি মেঘের দেবতা। তাঁর সভাতেই স্থান পেয়েছিল নাচ গান বাজনা ও কামকলায় অভিজ্ঞ অপ্সরাবৃন্দ। রবিচাষের বড় সমস্যা ছিল সেচের। ইন্দ্র প্রসন্ন হয়ে ভাঁজো অপ্সরাকে মর্তে পাঠিয়েছিলেন কৃষকদের সাহায্যার্থে। এমন লোক-আখ্যান ভাঁজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
ভাঁজো উৎসবে (সাতটি শস্য সাত ডুব ইত্যাদি) সাত সংখ্যাটি তাৎপর্যপূর্ণ। ‘সাত ধাতু’ অর্থাৎ ত্বক রক্ত মাংস মেদ অস্থি মজ্জা শুক্র যেমন মানব শরীরের গঠনে মূল ভূমিকা নেয়; তেমনি ধরিত্রী গর্ভে সাত বীজ রোপণ ফসলের পূর্ণতার প্রতীক। লোকবিজ্ঞানের সঙ্গে লোকদর্শনের চমৎকার যুগলবন্দি। সাত দিন ধরে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে কুমারী মেয়েরা দিনে কয়েকবার জলের হালকা ছিটে দেয় অঙ্কুরিত সরায়। নগ্নতাই এখানে পবিত্রতা। সাতদিন পর তিনটি সরা ভাঁজোর কাছে নিয়ে যায় পুজোর প্রধান অর্ঘ্য হিসাবে।

ভাঁজো কোনও আঞ্চলিক শস্য উৎসব নয়। বিশ্ব-লোকসংস্কৃতির আদিম ধারার এক বিশিষ্ট রূপ। যে উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শস্যের অঙ্কুরোদ্গম ও আদিরসাত্মক নাচগানের অনুষঙ্গ। গ্রিসের গার্ডেন অব আডোনিস, মিশরের ‘ওসাইরিস শয্যা’ কিংবা আফ্রিকার ইগবো সমাজের ধরিত্রীপুজোর সঙ্গে ভাঁজোর কোনও পার্থক্য নেই। সেখানেও অঙ্কুরোদগমের পাশাপাশি আদিরসের সোল্লাসে পুরুষতন্ত্রের অনুশাসন ভেঙে নারীরা নিজেদের প্রজননের আবেগ ও রতিরসকে মৃত্তিকাগর্ভজাত শস্যের সঙ্গে একাত্ম করেছেন। ভাঁজোর সরায় শসপাতা তখন হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক লোক-শস্যবিজ্ঞানের প্রতীক।
…………. পড়ুন ঠাকুরদার ঝুলির অন্যান্য পর্ব ………….
পর্ব ৪৭: মাঠ মাটি মানুষ
পর্ব ৪৬: গুজব কিংবা হুপুই: সে যুগের ‘ভাইরাল’
পর্ব ৪৫: সর্প হয়ে দংশন করো, ওঝা হয়ে ঝাড়ো
পর্ব ৪৪: অলৌকিক জলযাত্রা
পর্ব ৪৩: হরেক রকম হুড়ুম
পর্ব ৪২: মাহেশের রথের সারথি
পর্ব ৪১: জগন্নাথের শবরযোগ
পর্ব ৪০: ভিটের ভাস্কর্য
পর্ব ৩৯: হারানো নদীপথ, হারানো জলরেখা
পর্ব ৩৮: বর্ষামঙ্গল
পর্ব ৩৭: তরুর ঠাকুরঘর
পর্ব ৩৬: জাল রাজার রাজনীতি
পর্ব ৩৫: ঢেঁকি মোটেই অকম্মার নয়
পর্ব ৩৪: বহুরূপে সম্মুখে তোমার
পর্ব ৩৩: আলকাপ: বিরল মায়ার স্মৃতিচিহ্ন
পর্ব ৩২: তালবাহার
পর্ব ৩১: পোড়ামাটির শিল্পকে জনপ্রিয় করেছে কাঁঠালিয়ার শিল্পীরা
পর্ব ৩০: মৎস্য দেবতা মৎস্য ভোগ
পর্ব ২৯: কুবের পুজোর আচার থেকেই সোনা কেনা হয় অক্ষয় তৃতীয়ায়
পর্ব ২৮: বৈশাখ বিষ্ণুর প্রিয়, পুরাণের শ্রেষ্ঠ মাস?
পর্ব ২৭: গর্জন থেকেই গাজন
পর্ব ২৬: অসুরদের ফসল বলেই কি আখ বলিপ্রদত্ত?
পর্ব ২৫: যুদ্ধবাজ নয়, বাঙালির রাম করুণরসের
পর্ব ২৪: অগ্রদ্বীপের গোপীনাথ নিয়ে কৃষ্ণচন্দ্র-নবকৃষ্ণের মামলা লন্ডন অবধি গড়িয়েছিল
পর্ব ২৩: কিম্ভূত-কিমাকার মূর্তির নাম কেন ‘কাকতাড়ুয়া’?
পর্ব ২২: দেড় ফুটের ল্যাংচাভোগ ছাড়া রং খেলেন না মদনমোহন
পর্ব ২১: মায়া মমতায় গড়া বাংলা বিয়ের ছড়া
পর্ব ২০: মাদারি কা খেল
পর্ব ১৯: কোনও পসরাই অবিক্রিত পড়ে থাকে না বৈরাগ্যতলার ভাঙামেলায়
পর্ব ১৮: সুর নয়, আদিতে সুরার সঙ্গেই অধিক যোগাযোগ ছিল সরস্বতীর
পর্ব ১৭: পৌষপার্বণের সঙ্গে মিশে গেছে টুসু, সোদরব্রত কিংবা কুড়মালি আইখানযাত্রা
পর্ব ১৬: বাংলার মনসা ও চণ্ডীপুজোর ধারা এসে জগৎগৌরীতে মিলেছে
পর্ব ১৫: রাঢ়ের কবিগানের পালায় হিঁদু হলেন চাঁদ মুহম্মদ, কাশীনাথ মুসলিম
পর্ব ১৪: খেজুর গাছে হাঁড়ি বাঁধো মন
পর্ব ১৩: বৈদিক যুগের ‘স্থালী’-ই আজকের প্লেট, ‘উখ্য’-ই ফ্রাইং প্যান
পর্ব ১২: লোকখেলার মধ্যে মিশে রয়েছে হাজার বছরের ফেলে আসা জীবনের স্মৃতি
পর্ব ১১: অঘ্রানের নবান্ন মূলত নববর্ষেরই উৎসব ছিল
পর্ব ১০: বারবণিতাদের আরাধনার মধ্যে দিয়েই শুরু হয়েছিল কাটোয়ার কার্তিক লড়াই
পর্ব ৯: শিশুঘাতক থেকে কেন শিশুরক্ষক দেবতা হয়ে উঠলেন কার্তিক?
পর্ব ৮: তেনাদের পুজো, তেনাদের মেলা-মোচ্ছব
পর্ব ৭: প্রেত মানেই ভূত বা অতীত, কিন্তু সকল প্রেতই ভূত নয়!
পর্ব ৬: কেবল কালী নন, লৌকিক লক্ষ্মী ঠাকরুনও দাঁড়ান স্বামী নারায়ণের বুকে পা রেখেই
পর্ব ৫: মহিষাসুরমর্দিনী নন, কৃষিপ্রধান বাংলায় আদিপূজিতা ছিলেন শস্যদেবী নবপত্রিকা
পর্ব ৪: পুকুরের দেবতা পুকুরের ভূত
পর্ব ৩: পুকুরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে লোককথা আর লোকবিশ্বাস
পর্ব ২: পৌরাণিক হিন্দু ও বৌদ্ধ সাহিত্যে দেবতা অথবা মানুষের বন্ধু হিসেবেই স্থান পেয়েছে কুকুর
পর্ব ১: সেকালের ডাকাতির গপ্প
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved