
১৯৯৪-এর জানুয়ারিতে সুভাষদার অনুবাদে আমি পুনর্মুদ্রণ করেছিলাম ‘ইভান দেনিসোভিচের জীবনের একদিন’। বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬৫ সালে। আমাদের সংস্করণের জন্য অনবদ্য প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন দেবব্রত ঘোষ। বইটির উৎসর্গের পাতায় অনুবাদক লিখেছিলেন– ‘গদ্য-পদ্য অনুবাদে অনবদ্য/ মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়-কে সস্নেহে’। প্রসঙ্গত মনে করিয়ে দেব তাঁর ‘একটু পা চালিয়ে ভাই’ বইটিতে আলেকজান্ডার সলঝেনিৎসিনের কয়েকটি লেখার অনুবাদ রাখার জন্যই সিপিআইয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ মনোমালিন্যটা হয়। তাই আমার মনে হয় তিনি ‘ইভান দেনিসোভিচের জীবনের একদিন’ বইটির ‘অনুবাদকের কথা’ অংশটি ইতিহাসের কারণেই অত্যন্ত জরুরি।
৬৯.
সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অনুবাদ-কবিতার কথা উঠেছিল ‘দিন আসবে’ বইটির সূত্রে। বাংলা ভাষায় গদ্য-পদ্য অনুবাদ সাহিত্যের যে বিপুল ঐতিহ্য, তাতে সুভাষদা একজন সত্যিকারের ব্যতিক্রমী অনুবাদক। তাঁর অনন্যতা একদিকে যেমন বিষয়বস্তু খুঁজে নেওয়ায়, তেমনই লেখার ভঙ্গিতে। ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট থেকে প্রকাশিত সুভাষদার একটা অনুবাদের বই আমি দেখেছি, পেপারব্যাক বইটা বিশিষ্ট পক্ষী-বিশারদ সালিম আলির আত্মকথা– ‘Fall of a Sparrow’, সুভাষদা তার বাংলা নাম দিয়েছেন ‘চড়াই উতরাই’। অনুবাদের ক্ষেত্রে লক্ষ্যভাষায় দখল আর তার ভাণ্ডার থেকে বেছে আনা লাগসই প্রবাদ-প্রবচনের প্রয়োগ তাঁর অনুবাদকে একেবারেই অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে। ১৯৯৪ সালের বইমেলায় দে’জ থেকে সুভাষদার অনেকগুলি বই পুনর্মুদ্রিত হয়। তার মধ্যে বেশিরভাগই অনুবাদ-কবিতা, একটি অনুবাদ-উপন্যাস আর তাঁর নিজের লেখা কবিতার সংকলন একটি।
সেবার যে-বইগুলি প্রকাশিত হয়েছিল তার মধ্যে ছিল নাজিম হিকমতের কবিতার অনুবাদ ‘নির্বাচিত নাজিম হিকমত’। তাঁর ‘নাজিম হিকমতের কবিতা’ বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৫২ সালে, পরে ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত হয় ‘নাজিম হিকমতের আরও কবিতা’। আমাদের বইটি এই দুই বইকে এক জায়গায় করে প্রকাশ করা।

নাজিম হিকমতের কবিতা দিয়েই সুভাষদার অনুবাদ-কবিতার শুরু। তুরস্কের কবি নাজিম হিকমত সুভাষদার থেকে বয়সে ১৭ বছরের বড়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তুরস্ক মিত্রশক্তির কবজায় চলে যাওয়ার পর, হিকমত দেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে যোগ দেবার জন্য ইস্তানবুল ছেড়ে আনাতোলিয়ায় চলে যান। পরে যান মস্কোয়। সেখানে লেখাপড়া শেষ করে দেশে ফেরেন। তাঁর দেশ স্বাধীন হলেও তিনি তুরস্কে ফিরে বামপন্থী পত্রিকায় কাজ করার অপরাধে গ্রেফতার হন। সেসময় কোনওমতে তিনি ফের সোভিয়েত ইউনিয়নে পালিয়ে যান। ১৯২৮-এ আবার ফেরেন তুরস্কে। যদিও সবসময়েই পুলিশের নজরদারি ছিল তাঁর ওপর। ১৯৩৮ সালে সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্রোহের উস্কানি দেওয়ার অপরাধে তাঁর ২৮ বছরের কারাদণ্ড হয়। সেই পর্বে ১৩ বছর জেল খেটেছিলেন তিনি। যদিও জেলকর্তাদের চোখ এড়িয়ে তিনি কবিতা লিখে গেছেন সবসময়। ১৯৪৯ সালে নাজিম হিকমতের মুক্তির দাবিতে প্যারিসে একটি আন্তর্জাতিক কমিটি গঠিত হয়। সেই কমিটিতে ছিলেন– পাবলো নেরুদা, পাবলো পিকাসো, জ্যঁ-পল সার্ত্র প্রমুখও। জনমতের চাপে ১৯৫০ সালে নাজিম হিকমত জেল থেকে মুক্তি পান। ‘নাজিম হিকমতের কবিতা’ বইটিতে সুভাষদা লিখেছিলেন তাঁর সঙ্গে নাজিম হিকমতের প্রথম দেখা হয় ১৯৫৮ সালে তাসখন্দে আফ্রো-এশীয় লেখক সম্মেলনে। এরপরে দ্বিতীয়বার তাঁদের দেখা হয়েছিল ১৯৬২-তে কায়রোতে, উপলক্ষ সে-ই একই– আফ্রো-এশীয় সম্মেলন। তবে সুভাষদা নিজের অনুবাদ প্রসঙ্গে লিখেছেন– ‘হিকমতকে দু-দুবার কাছে পেয়েও ফরাসী বা রুশ ভাষা আমার জানা না থাকায় তাঁর সঙ্গে মন খুলে আলাপ করা সম্ভব হয়নি। আমি তাঁর কবিতা বাংলায় অনুবাদ করেছিলাম তাঁকে দেখবার ঢের আগে– প্রধানত ইংরেজি অনুবাদ থেকে, এবং বন্ধু রণজিৎ গুহ ও আমার স্ত্রী গীতা মুখোপাধ্যায়ের সাহায্যে কিছুটা ফরাসী কবিতা থেকে।’ সুভাষদা এখানে ‘গীতা মুখোপাধ্যায়’ লিখলেও, গীতাদি চিরকালই অবশ্য ‘বন্দ্যোপাধ্যায়’ পদবিতে স্বচ্ছন্দ ছিলেন। প্রসঙ্গত বলে রাখি, সুভাষদার বন্ধু এই রণজিৎ গুহ-ই কিন্তু নিম্নবর্গের ইতিহাসচর্চার প্রাণপুরুষ রণজিৎ গুহ। ‘নাজিম হিকমতের আরও কবিতা’য় সুভাষদা তাঁর প্রথম নাজিম হিকমত পড়ার কথাও জানিয়েছেন– “উনিশ শো একান্ন কি বাহান্ন সালে কলকাতায়, জানি না কী ক’রে, আমাদের বন্ধু ডেভিড কোহেনের হাতে এসেছিল নাজিম হিকমতের একগুচ্ছ কবিতার ইংরিজি তর্জমা। ইংরিজি খুব উচ্চাঙ্গের নয়। তবু প’ড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম। প্রধানত সেই কবিতাগুচ্ছ অবলম্বন ক’রেই বাংলায় বার হয়েছিল আমার ‘নাজিম হিকমতের কবিতা’। অনেকে বলেন, এই সময়কার আমার নিজের অনেক কবিতাতেও নাজিম হিকমতের লেখার ছাপ পড়েছে।”

শঙ্খদা (শঙ্খ ঘোষ) তাঁর ‘আর এক আরম্ভের জন্য’ লেখাটিতে ১৯৫২-য় পার্ক সার্কাস ময়দানে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী সর্বভারতীয় শান্তি উৎসবের একটা চমৎকার ছবি আঁকতে গিয়ে লিখেছেন– ‘…তুর্কি কবি নাজিম হিকমতের কবিতার টাইপ-করা ইংরেজি স্ক্রিপ্ট হাতে নিয়ে সুভাষ মুখোপাধ্যায় ইন্টারভিউ দিচ্ছেন এক অবাঙালি সাংবাদিকের কাছে।…’ এর আগে, ১৯৬৭ সালে পল এঙ্গেলের আমন্ত্রণে আমেরিকার আয়ওয়া শহরে প্রবাসের দিনগুলির কথা বলতে গিয়েও ‘ঘুমিয়েপড়া অ্যালবামে’ শঙ্খদা সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের নাজিম হিকমত অনুবাদের কথা বলেছিলেন। আয়ওয়ায় তাঁর সতীর্থ তুর্কি রমণী বিয়ার্শানের সামনে তিনি যখন বলেন– নাজিম হিকমতের কবিতা তাঁর পড়া, তখন বিয়ার্শান অবাক হন। শঙ্খদা যখন জানান, তিনি গত ১৫ বছর ধরে নাজিম হিকমত পড়ছেন বাংলা অনুবাদে, তখন বিয়ার্শান খানিক সন্দেহই করেন।

শঙ্খদা লিখছেন–
“…‘পনেরো বছর?’ আরো একবার প্রতিবাদে ঝংকার দিয়ে ওঠে বিয়ার্শান। কেননা, ও জানায়, পনেরো বছর আগে কোনো অনুবাদই বার হয়নি হিকমতের। জানায়, ওদের নিজেদেরই দেশে দীর্ঘকাল জুড়ে নিষিদ্ধ এই কবি, ওরাই হিকমতের কবিতা পড়ছে মাত্র ষাট সালের পর থেকে, আর এখন তো মোটে সাতষট্টি। শুনে বিস্ময়ের চেয়েও প্রথমে অহংকারে ভরে ওঠে মন, খানিকটা ওপর থেকে বলবার ভঙ্গিতে জানাই ওকে ‘চমৎকার। তাহলে তোমাদের কবিতা তোমাদের চেয়ে আমরাই পড়েছি আগে। আমাদের একজন কবি, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, এসব অনুবাদ করেছেন সেই ১৯৫২ সালে, সঙ্গে সঙ্গে ছাপা হয়েছে বই, দুঃখ কেবল এইটুকু যে বইটি আমার সঙ্গে নেই এখানে।’

কিন্তু কী করে তা হল?
…
মনে পড়ল অনেকদিনের পুরনো একটা ছবি। পার্ক সার্কাস ময়দানের বিরাট শান্তি সম্মেলন। তারুণ্যের সুবাদে আমরা তখন সব সময়েই আছি তার কাছাকাছি, খ্যাত লোকদের খুব সামীপ্য থেকে দেখতে পাবার নিরুপদ্রব সুযোগ। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের তখনই প্রায় সর্বভারতীয় যশ, ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি, অন্য কোন অঞ্চলের এক প্রতিনিধি এসে ইন্টারভিউ নিচ্ছেন তাঁর। পাশে দাঁড়ানো আমার হাতে টাইপ-করা কিছু কাগজ এগিয়ে দিয়ে বললেন সুভাষ মুখোপাধ্যায়: ‘দেখো, কবিতাগুলি কেমন।’ বই ছাপা হবার আগে, বাংলায় নয়, ইংরেজিতে, সেই আমার প্রথম নাজিম হিকমত পড়া। ইন্টারভিউ দায়মুক্ত হয়ে বললেন তিনি ‘এগুলির অনুবাদ করছি। ভালো হবে না?’
চকিতে একবার মনে হয়েছিল বটে, টাইপ-করা কাগজ কেন, ইংরেজিতে ছাপা কোনও বই নয় কেন। তেরো বছর জেলে কাটানোর পর তখন তিনি দেশান্তরী, ফরাসিতে আর ইংরেজিতে কিছু কিছু অনুবাদ হয়েছে তাঁর, সেসব থেকেই তখন তৈরি হয়ে উঠছিল বাংলা লেখাগুলি, জেনেছি পরে।…”

তবে সুভাষদার অনুবাদে নাজিম হিকমতের কবিতা বাংলায় বেশ আলোড়ন ফেলেছিল। বইটির রিভিউ করতে গিয়ে শ্রাবণ ১৩৫৯ সংখ্যার ‘পরিচয়’ পত্রিকায় মৃগাঙ্ক রায় প্রশংসা করে লিখেছিলেন– “সুভাষবাবুর এ-অনুবাদে আর একটি জিনিস লক্ষ্য করবার আছে। সে হচ্ছে তাঁর বাঙালিয়ানা। সম্পূর্ণ বিদেশী কবিতার অনুবাদ করতে বসে অনুবাদককে সর্বপ্রথম যে-সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় সে হচ্ছে, ইমেজ এবং কথার রূপ নিয়ে। ইমেজ এবং কথার বিদেশী রূপ যদি অনুবাদেও অপরিবর্তিত থাকে তা হলে এদেশের ভিন্ন পরিবেশ এবং মানসিকতায় বর্ধিত পাঠকদের পক্ষে তা গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে না; অপরপক্ষে, বিদেশী ইমেজ এবং কথাকে সম্পূর্ণ দেশী চালে অনুবাদ করলেও মূল কবিতার রস ক্ষুণ্ণ হতে পারে। সুভাষবাবু এ দুয়ের সমন্বয় করতে পেরেছেন, কিন্তু ঝোঁকটা রেখেছেন বাঙালিয়ানার দিকে। তাই উপমায় ‘উজানী নৌকা’ও মিলছে, এমন কি ‘পাটিসাপটা’র মতো বাঙালী ব্যাপারও দুর্লভ নয়। তাই বলতে হয়, সুভাষবাবুর এই অনুবাদ-প্রচেষ্টা ইংরেজী এবং ফরাসীফেরতা হয়ে এলেও সার্থক হয়েছে। নাজিক হিকমতকে বাঙালী পাঠকের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য তিনি নিশ্চয়ই ধন্যবাদার্হ।”

১৯৯৪-এর বইমেলাতে আমি সুভাষদার নাজিম হিকমতের সঙ্গে সঙ্গে পাবলো নেরুদার অনুবাদ-কবিতার বইটিও প্রকাশ করি। এই বইটিও দু’টি বইয়ের একত্র সংস্করণ– ‘পাবলো নেরুদার কবিতাগুচ্ছ’ এবং ‘পাবলো নেরুদার আরও কবিতা’। নতুন বইটির নাম হয় ‘নির্বাচিত পাবলো নেরুদা’। দে’জ সংস্করণের ভূমিকায় সুভাষদা লিখেছিলেন– ‘পাবলো নেরুদার কবিতা অনুবাদে হাত লাগিয়েছিলাম প্রথম উপন্যাসটি লেখার একঘেয়েমি ঘোচাতে। নেরুদার কবিতা-অনুবাদ আমার কাছে তুলনায় দুঃসাধ্য মনে হয়েছিল। কবি শঙ্খ ঘোষকে প্রথম খসড়া শুনিয়েছিলাম। ওর উৎসাহজনক কথায় মনে জোর পেয়েছিলাম।…’ সুভাষদার ‘পাবলো নেরুদার কবিতাগুচ্ছ’ এবং ‘পাবলো নেরুদার আরো কবিতা’– দুটো বই-ই বিশ্ববাণীর ব্রজদা (ব্রজকিশোর মণ্ডল) প্রকাশ করেছিলেন। তবে ‘পাবলো নেরুদার আরো কবিতা’ বইটির পাণ্ডুলিপি হারিয়ে যাওয়ার একটা গল্প আছে। বইটিতে ‘অনুবাদকের কথা’য় সুভাষদা জানিয়েছেন–
“একজন লেখকের পক্ষে তৈরি পাণ্ডুলিপি হারিয়ে যাওয়া যে কতটা দুঃখের ব্যাপার যে কোনো ভুক্তভোগীই তা বুঝবেন। ‘পাবলো নেরুদার আরো কবিতা’র বাংলা তর্জমার বান্ডিলটি সারা বাড়ি তন্নতন্ন ক’রে খুঁজেও যখন পেলাম না, তখন আমি ধরেই নিয়েছিলাম ওটা আমি ভুল ক’রে বিদেশে কোথাও হোটেলে ফেলে-দেওয়া কাগজের ঝুড়িতে সমর্পণ ক’রে এসেছি। সুতরাং পাণ্ডুলিপিটি যে আর উদ্ধার করা যাবে না, এ বিষয়ে আমি নিঃসন্দেহ ছিলাম। পণ্ডশ্রমের কথা ভেবে মনটা যে কী খারাপ হয়ে গিয়েছিল বলার নয়। সময় ক’রে তর্জমার কাজে ব’সে আবার পুরোটা কেঁচে গণ্ডুষ করার কথা ভাবতেই পারছিলাম না।
কিছুদিন আগে এবার বাইরে থেকে ফিরে বাড়িতে পা দেওয়ামাত্র সবাই সমস্বরে যখন বলে উঠল, ‘পাওয়া গেছে’– আমার নিজের কানকেই যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না। পরে শুনলাম অনিল বিশ্বাস নামে স্টেট ব্যাঙ্কের একজন কর্মী বাসের মধ্যে লেখাসুদ্ধ খামটি কুড়িয়ে পান এবং তাতে ‘বিশ্ববাণী’র নামঠিকানা দেখে নিজে কষ্ট ক’রে আমার প্রকাশকের কাছে খামটি পৌঁছে দেন। তাঁর কাছে এজন্যে আমি চিরকৃতজ্ঞ।”

১৯৯৪-এ আমার পুনর্মুদ্রণ করা বইগুলোর মধ্যে সুভাষদার ‘রোগা ঈগল’ বইটিও ছিল। কাজাখ কবি ওলঝাস ওমর-উলি সুলেমানভ-এর ‘রোগা ঈগল’ বইটি অনুবাদের পিছনেও সুভাষদার বিদেশি বন্ধুদের সহযোগ আছে। তিনি লিখেছেন–
“ওলঝাস সুলেমেনভের সঙ্গে আমার গত বছর প্রথম আলাপ। মস্কোয়। সোভিয়েত লেখক সঙ্ঘের একজন কর্মকর্তা মারিয়াম সালগানিকের কাছে আগেই ওলঝাসের লেখার প্রশংসা শুনেছিলাম। কিন্তু ওর লেখার ইংরেজি অনুবাদ পেয়েছি অনেক পরে। কবিতারও আগে আমার দেখেই ভাল লেগে গিয়েছিল মানুষটাকে। গলা ফাটিয়ে হাসে, ধারালো বুদ্ধি, সূক্ষ্ম রসবোধ, সেইসঙ্গে অসম্ভব ফুর্তিবাজ।
এরপর আলমা-আতায় সম্মেলনের সময় দেখলাম ওলঝাসের অন্য চেহারা। রাতের পর রাত ঘুমোয়নি। এক ফোঁটা মদ ছোঁয়নি। অক্লান্তভাবে খেটে গেছে।
অল্প কিছুদিন আগে মারিয়াম আমাকে ওলঝাসের কবিতার ইংরেজি অনুবাদগুলো পাঠিয়ে দেন। প’ড়ে আমার এত ভাল লাগে যে, তখনই তর্জমা করতে ব’সে যাই।”

লেখক সংঘের কাজে সুভাষদা বহুবার নানা দেশে, বিশেষ করে মস্কোয় গেছেন। তাঁর মাঝেমাঝেই মস্কোয় যাওয়া নিয়ে বন্ধুরা মজাও করতেন। যে কোনও বিষয়ে সরস টিপ্পনীর জন্য বিখ্যাত সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় যেমন তাঁর ‘কাল মধুমাস’ গদ্যে এরকম একটা মজার গল্প বলেছেন–
“একদিন সুভাষদার সঙ্গে বেরিয়েছি। তখন সন্ধেবেলা। ওঁর পরনে ক্রিজহীন প্যান্টুল, সিজন জুড়ে পরা কোট। পরিতোষ সেন থাকেন দু-এক বাড়ি পরেই। তিনতলা থেকে চেঁচিয়ে বললেন, ‘কীঈ সুভাষদা, চললেন কোথা?’ সুভাষদা মুখ উঁচু করে বললেন, ‘এই একটু মস্কো যাচ্ছি। তোমার কাছে একটা ওভারকোট হবে?’
আমি সেই তখন জানতে পারলাম, উনি সান্ধ্য ভ্রমণে বেরোননি, বা, আমাকে এগিয়ে দিতে। আমাকে শুধু বলেছিলেন, ‘চলো, আমিও বেরুব।’
ও, বলতে ভুলেছি, ওঁর কাঁধে ছিল তা-ছাড়া একটি হালকা ঝোলা।”

১৯৯৪-এর জানুয়ারিতে সুভাষদার অনুবাদে আমি পুনর্মুদ্রণ করেছিলাম ‘ইভান দেনিসোভিচের জীবনের একদিন’। বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬৫ সালে। আমাদের সংস্করণের জন্য অনবদ্য প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন দেবব্রত ঘোষ। বইটির উৎসর্গের পাতায় অনুবাদক লিখেছিলেন– ‘গদ্য-পদ্য অনুবাদে অনবদ্য/ মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়-কে সস্নেহে’। প্রসঙ্গত মনে করিয়ে দেব তাঁর ‘একটু পা চালিয়ে ভাই’ বইটিতে আলেকজান্ডার সলঝেনিৎসিনের কয়েকটি লেখার অনুবাদ রাখার জন্যই সিপিআইয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ মনোমালিন্যটা হয়। তাই আমার মনে হয় তিনি ‘ইভান দেনিসোভিচের জীবনের একদিন’ বইটির ‘অনুবাদকের কথা’ অংশটি ইতিহাসের কারণেই অত্যন্ত জরুরি। সেখানে সুভাষদা লিখছেন–
“স্তালিন সম্পর্কে খুশ্চভের মোহমুদগর সত্ত্বেও লেখকশিল্পীদের ভোগান্তির শেষ হয়নি। ‘ডক্টর জিভাগো’ লেখার জন্যে ১৯৫৮ সালে পার্টির পাণ্ডাপুরুতেরা যখন যত্রতত্র পাস্তেরনাকের মুণ্ডপাত করছে, তখন সেই প্রথম আমি মস্কোয়।
স্তালিনের আওতায় বড় হওয়া নেতারা যত গর্জেছিলেন, তার সিকির সিকিও বর্ষাননি। ফলে, পরের তিন দশকেও লেখকশিল্পীরা যে তিমির সেই তিমিরেই থেকে গিয়েছিলেন।
১৯৬৩ সালে ‘চতুরঙ্গ’-সম্পাদক হুমায়ুন কবির আমার বন্ধু আতাউর রহমান মারফত সোলঝেনিৎসিনের ‘ওয়ান ডে ইন দি লাইফ অব ইভান দেনিসোভিচ’ বইটি অনুবাদ করার জন্যে পাঠান। সেই সময় ‘সোভিয়েট লিটারেচার’ পত্রিকাতেও আরেকটি অনুবাদ বার হয়। বাংলা করার সময় আমি দুটিরই সাহায্য নিই।
এর অনেক পরে একইভাবে সোলঝেনিৎসিনের কয়েকটি কবিতার ইংরিজি তর্জমা পেয়ে ‘চতুরঙ্গে’র জন্যে অনুবাদ করি।
…
এইসঙ্গে এটাও কবুল করে রাখি, ‘ইভান দেনিসোভিচের জীবনের একদিন’ যখন অনুবাদ করেছিলাম মনে তখন ভয় ছিল। যদিও তার দশ বছর আগেই ‘ভূতের বেগার’ লিখে পার্টির হাতে মার খাওয়া আমার রপ্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু খোদ সোভিয়েটেই ‘ইভান দেনিসোভিচ’ ছাপা হয়ে যাওয়ায় সে-যাত্রায় রেহাই পেয়ে গিয়েছিলাম। ১৯৬৯ সালে সোভিয়েট লেখক সঙ্ঘ থেকে বিতাড়িত করার পর থেকে এদেশের কমিউনিস্ট নেতৃত্বের কাছেও সোলঝেনিৎসিন অস্পৃশ্য হয়ে গেলেন।
এর পরেও ‘চতুরঙ্গে’ আবারও আমি সোলঝেনিৎসিনের কবিতা অনুবাদ করি এবং পরে তা আমার বইতে ছাপা হয়। পার্টির রাজ্যনেতৃত্ব এর জন্যে আমাকে নাকেখত দেওয়াতে চান। রাজি না হয়ে আমি পার্টি থেকে সরে যাই।…”
‘ইভান দেনিসোভিচের জীবনের একদিন’ বইটির দে’জ সংস্করণে সলঝেনিৎসিনের কয়েকটি কবিতা এবং ‘মিথ্যের সঙ্গে যেন ঘর না করি’ অনুবাদ-প্রবন্ধটিও জুড়ে দেওয়া হয়েছিল।
তবে ১৯৯৪ সালে আমি কেবল তাঁর অনুবাদ কবিতার বই-ই ছাপিনি, সুভাষদার নিজের কবিতার বইও পুনর্মুদ্রণ করেছি। ১৯৮৩ সালে নাভানা থেকে প্রকাশিত ‘চইচই-চইচই’ বইটি আমি নতুন করে ছেপেছিলাম।

এই বইয়ের ভূমিকায় কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের সংবেদনশীল মনের একটা ঝলক দেখতে পাওয়া যায়। তিনি লিখছেন–
“কবিতা জমলে তবেই বই হয়।
এবার জমবার আগেই হাতছাড়া করতে হল। তার কারণ, অবিলম্বে কবি বিরাম মুখোপাধ্যায়ের হাতে পড়ার লোভ সম্বরণ করা গেল না।
তবে সান্ত্বনা এই যে, এ এমন একটা লোভ যাতে পাপের ভয় নেই।
কবিতার বই বার করায় বিরামবাবুর যা হাতযশ, তাতে লোকে খোশমেজাজে এ বই হাতে নেবে– কবিতাগুলোর পক্ষে সেটাই বড়ো ভরসা।
ছাপার পর কবিতা চলে যায় পরের ঘরে। তবু মায়া জিনিসটা যাবার নয়।
তারপর কে কী বলল সেটা কানে এলে সুখের হলে সুখ, দুঃখের হলে দুঃখ হয়।
কবিতা কী ভাগ্যিস কবিকে চিরকাল ধ’রে বসে থাকে না।…”
সে বছরের বইমেলায় একগুচ্ছ বই করলেও দে’জ পাবলিশিং ধীরে-ধীরে প্রস্তুত হচ্ছিল সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের গদ্যসংগ্রহের কাজ করার জন্য।

তবে সুভাষদার অনুবাদের বই পরেও আমরা করেছি। তখন সুভাষদা আর আমাদের মধ্যে নেই। ২০১০-এর আগস্টে বিশ্বভারতীর বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক রবিন পাল, অপুকে জানান তিনি সুভাষদার ১৯৫৩-য় অনুবাদ করা একটা উপন্যাসের সন্ধান পেয়েছেন। ভবানী ভট্টাচার্যের লেখা ‘So Many Hungers’ উপন্যাসটির সুভাষদার করা অনুবাদ ‘কত ক্ষুধা!’-র কথা অনেকেরই স্মৃতিতে ছিল কিন্তু বইটি বাজারে লভ্য ছিল না। ১৯৫৩ সালে বইটি ছাপা হয়েছিল র্যাডিকাল বুক ক্লাব থেকে। রবিনবাবুকে বইটি খুঁজে দিয়েছিলেন বিশিষ্ট চিন্তক রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য। দে’জ সংস্করণ ‘কত ক্ষুধা!’ প্রকাশের সময় রবিনবাবুর একটি বিস্তারিত ভূমিকা ছাড়াও বইয়ের শেষে প্রাসঙ্গিক কিছু বিষয়ের টীকা সংযোজিত হয়েছে। আজকের পাঠক হয়তো ভবানী ভট্টাচার্যকে তেমন চেনেন না। কিন্তু গত শতকের চারের দশকে তিনি নামী লেখক ছিলেন। এমনকী ১৯৬৮-তে তাঁর ‘Shadow from Ladakh’ উপন্যাসটি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পেয়েছিল। তাঁর বেশিরভাগ লেখা ইংরেজিতে হলেও তিনের দশকে বাংলা পত্রপত্রিকায় তাঁর লেখাও প্রকাশিত হত। বাংলার পঞ্চাশের মন্বন্তরের ওপরে লেখা এই উপন্যাসটি যেমন ভবানী ভট্টাচার্যের প্রথম উপন্যাস, তেমনই এটি সুভাষদার প্রথম অনুবাদ-উপন্যাস।

ভবানী ভট্টাচার্যের বইটি ১৯৪৭ সালে বোম্বে থেকে প্রথম প্রকাশের পর তেমন সাড়া ফেলতে না-পারলেও, পরে ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশিত হলে প্রশংসা পায়। সুভাষদা যেমন বইটির বাংলা অনুবাদ করেন তেমনই রুশ, চেক, পোলিশ, জার্মান, সুইডিশ, চিনা ভাষাতেও অনূদিত হয়। বাংলায় পঞ্চাশের মন্বন্তর নিয়ে অনেক লেখালিখি হয়েছে– বিভূতিভূষণ, তারাশঙ্কর থেকে অমলেন্দুদার (অমলেন্দু চক্রবর্তী) ‘আকালের সন্ধানে’ পর্যন্ত সে প্রসঙ্গে এসেছে বারবার। এমনকী সুভাষদার ‘চিরকুট’ বইয়ের ‘স্বাগত’ কবিতাটিতেও অবিভক্ত বাংলার ৩০-৩৫ লক্ষ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া মন্বন্তরের কথা উঠে এসেছে। তবে সুভাষদার দেখার দৃষ্টি কখনও অন্ধকারে থেমে থাকে না। অন্ধকারে আলোর কথা বলে। ‘স্বাগত’ কবিতাটিও গ্রাম উঠে গিয়েছে শহরে– ‘শূন্য ঘর, শূন্য গোলা,/ ধান-বোনা জমি আছে পড়ে।’– দিয়ে শুরু হলেও শেষে তিনি পৌঁছেছেন নতুন দিনের স্বপ্নে, যেখানে–
‘প্রতিজ্ঞাকঠিন হাতে
একে একে তারা সব
চোখের শোকাশ্রু মুছে ভাবে–
ঘরে ঘরে নবান্ন পাঠাবে।
পথে পথে পদশব্দ ওঠে,
আকাশে নক্ষত্র ফোটে;
নদী করে সম্ভাষণ, পাখি করে গান–
মাঠের সম্রাট দেখে মুগ্ধ নেত্রে
ধান আর ধান।।’

দে’জ থেকে সুভাষদার অনুবাদ-বইয়ের প্রকাশ কিন্তু চলছেই। ২০২৫-এর নভেম্বর মাসে পুনর্মুদ্রিত হয়েছে ‘আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরী’। ‘আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরী’ বইটির কোনও পরিচিতি লাগে না। গোটা দুনিয়ার মানুষ এই বইয়ের কথা জানেন। কিন্তু সুভাষদার অনুবাদ পড়ার অভিজ্ঞতা সবসময় আলাদা। শুধুমাত্র ইহুদি হওয়ার ‘অপরাধে’ হিটলারের ঘাতকবাহিনীর হাতে প্রাণ দিতে হয়েছিল অসংখ্য মানুষকে। বন্দিশিবিরের প্রাণ দিয়েছিল এক কিশোরীও। নাম তার আনা ফ্রাঙ্ক। ঘাতকবাহিনীর হাতে বন্দি হওয়ার আগে, দু’-বছর দু’-মাস ধরে, দিনলিপি লিখেছিল আনা। সে এক আশ্চর্য দিনলিপি। দর্শন, সাহিত্য, রাজনীতি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ইহুদিদের লাঞ্ছনা, প্রেম, জীবনবোধ, ঈশ্বর– দিনলিপির পৃষ্ঠায় মূর্ত হয়েছে সবই এবং তা লিপিবদ্ধ করেছে সেই কিশোরী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আনা যখন হারিয়ে গেছে বন্দিশিবিরের অন্ধকারে, তখন প্রকাশিত হয়েছিল ‘আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরী’। তারপর পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে সেই ডায়েরি। এক কিশোরীর আশ্চর্য গভীর উচ্চারণে ঋদ্ধ সেই দিনলিপিরই পূর্ণাঙ্গ বাংলা রূপান্তর এই বই– ‘আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরী’। সুভাষদার এই অনুবাদ-বইটি প্রথমবার ছাপা হয়েছিল ১৯৮২ সালে, নাথ পাবলিশিং থেকে। প্রসঙ্গত মনে করিয়ে দিই ২০২৯ সালের ১২ জুন আনা ফ্রাঙ্কের জন্মের ১০০ বছর পূর্ণ হবে।
লিখন: শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায়
…… ইতি কলেজ স্ট্রিট-এর অন্যান্য পর্ব ……
পর্ব ৬৮। শঙ্খদাই চেয়েছিলেন, সুভাষদার কবিতাসংগ্রহ সুবীর রায়চৌধুরী সম্পাদনা করুন
পর্ব ৬৭। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা দিয়েই শুরু হয়েছিল দে’জের ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ সিরিজ
পর্ব ৬৬। প্রেমেনদার উৎসর্গ করা বই বেচে দিয়েছিলেন বন্ধু ‘শিব্রাম’!
পর্ব ৬৫। প্যাঁচানো লোহার সিঁড়ি দিয়ে উঠলেই প্রেমেন্দ্র মিত্রর অবারিত দ্বার!
পর্ব ৬৪। মুজিব হত্যার পর অন্নদাশঙ্করের শোকলিপি ছাপা হয়নি সরকারি নিষেধাজ্ঞায়
পর্ব ৬৩। ভাবনার ভাস্কর্যের দিনগুলি রাতগুলি
পর্ব ৬২। কাদের লিটল ম্যাগাজিন বলা যাবে না, তার তালিকা তৈরি করেছিলেন শিবনারায়ণ রায়
পর্ব ৬১। গৌরদা বিশ্বাস করতেন, কলমের স্বাধীনতা হরণ মাতৃবিয়োগের চেয়ে কম কিছু নয়
পর্ব ৬০। সমরেশ বসু যখন ‘বিশ্বাসঘাতক’!
পর্ব ৫৯। সারাজীবন নিজেকে জানার জন্যেই লিখে গিয়েছেন সমরেশ বসু
পর্ব ৫৮। নবারুণ চেয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ কবিতার সিরিজে তিনিও থাকুন, কিন্তু হল না
পর্ব ৫৭। সত্যজিৎ-মৃণাল-ঋত্বিক ত্রয়ীর মধ্যে ঋত্বিকের লেখাই আমরা প্রথম ছেপেছিলাম
পর্ব ৫৬। অজয় গুপ্তর নিরন্তর শ্রম আর খুঁতখুঁতে সম্পাদনা ছাড়া মহাশ্বেতা দেবীর রচনাসমগ্র হত না
পর্ব ৫৫। দলকল্যাণের জন্য রাজনীতি সমাজকে নরকে পরিণত করবে, বিশ্বাস করতেন মহাশ্বেতা দেবী
পর্ব ৫৪। যা লিখেছেন, না লিখে পারেননি বলেই লিখেছেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
পর্ব ৫৩। ‘অলীক মানুষ’ তাঁকে দিয়ে কেউ লিখিয়ে নিয়েছে, মনে করতেন সিরাজদা
পর্ব ৫২। নিজের লেখা শহরের গল্পকে লেখা বলে মনে করতেন না সিরাজদা
পর্ব ৫১। কর্নেল পড়ে সিরাজদাকে চিঠি লিখেছিলেন অভিভূত সত্যজিৎ রায়
পর্ব ৫০। সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা থেকে বাঁচতে দিব্যেন্দুদার জীবনের দ্বিতীয় গল্পই বদলাতে হয়েছিল
পর্ব ৪৯। রবিশংকর বলের মতো উর্দু সাহিত্যের এত নিবিষ্ট পাঠক খুব কমই দেখেছি
পর্ব ৪৮। দেবেশ রায়ের যেমন ‘বৃত্তান্ত’, আফসার আমেদের তেমন ‘কিস্সা’
পর্ব ৪৭। বই বাঁধানো সম্পূর্ণ হয়নি, তাই ‘মহাভুল’ শুধরে নিয়েছিলেন দেবেশ রায়
পর্ব ৪৬। গান্ধীনগরে রাত্রির কবিই প্রথম বিদ্রুপাত্মক তেতো হাসি এনেছিলেন বাংলা কবিতায়
পর্ব ৪৫। নাটকের মহলা পছন্দ হলে তবেই তিস্তাপারের বৃত্তান্তর অনুমতি দেবেন, বলেছিলেন দেবেশ রায়
পর্ব ৪৪। নিজের বইপত্র বিক্রির বিবরণ দেখে হতাশ হয়েছিলেন দেবেশ রায়
পর্ব ৪৩। থ্রিলার, রহস্য-রোমাঞ্চ কিংবা ক্রাইম স্টোরি অনেক দিন ধরেই বইপাড়ায় ‘সুপারহিট’
পর্ব ৪২। অলংকরণ বা প্রচ্ছদশিল্পীদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা নেই, সখেদে চিঠি লিখেছিলেন নারায়ণ সান্যাল
পর্ব ৪০। সিগারেট ঠোঁটে রথীন্দ্রনাথের ছবি প্রচ্ছদে যাওয়া নিয়ে উঠেছিল প্রবল আপত্তি!
পর্ব ৩৯। শান্তিনিকেতন থেকে কলেজ স্ট্রিট, প্রুফ আদান-প্রদানে সহায়ক ছিলেন বই ব্যবসায়ীরাই
পর্ব ৩৮। পাণ্ডুলিপি জমা দিয়ে সোমেনদা বলেছিলেন, রামকিঙ্করকে নিয়ে এ জাতীয় বই আগে লেখা হয়নি
পর্ব ৩৭। ‘কীর্তির্যস্য’র নাম বদলাতে চেয়েছিলেন ভবতোষ দত্ত
পর্ব ৩৬। কবি-দার্শনিকের বাইরে আরেক রবীন্দ্রনাথকে খুঁড়ে বের করেছিলেন অমিতাভ চৌধুরী
পর্ব ৩৫। ‘শাহজাদা দারাশুকো’ আরও বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে ছিল শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের
পর্ব ৩৪। একজন লেখক হিসেবে আমি কি তোমার মনোযোগের যোগ্য নই, অভিমান ভরা চিঠি লিখেছিলেন শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
পর্ব ৩৩। আমাকে ভাবায়, তারাপদ রায়
পর্ব ৩২। নববর্ষের শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ: লেখকদের মন্তব্যের খাতা!
পর্ব ৩১। পরিব্রাজক সন্ন্যাসী তারাপ্রণব ব্রহ্মচারী ভাগ্যিস থিতু হয়েছিলেন সাহিত্যে!
পর্ব ৩০। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কোনও বই আমাকে চাপিয়ে দেননি, লিখেছেন: বিবেচনা করে দেখো
পর্ব ২৯। কবিতাকে শক্তিদা বলতেন ‘জলজ দর্পণ’, তাঁর বেঁচে থাকার অবলম্বন
পর্ব ২৮। পিঁপড়ে কালিতে চুবিয়ে সাদা পাতায় ছাড়া হয়েছে, এমন পাণ্ডুলিপি ছিল বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের!
পর্ব ২৭। নিজস্ব ঈশ্বরভাবনা থাকলেও শঙ্কু মহারাজের লেখার মূল বিষয় ছিল মানুষের আলো-আঁধারি জীবন
পর্ব ২৬। বাংলাদেশে পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও একুশে বইমেলায় কখনও স্টল পাইনি
পর্ব ২৫। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি মুহূর্তের রক্ত-ঘাম-হাসি-কান্নার এক জীবন্ত দলিলচিত্র ছেপেছিলাম
পর্ব ২৪। রাখাল ছেলে যেমন বাঁশি বাজায়, আমিও তেমন নিজের খুশিতে লিখি, বলেছিলেন যাযাবর
পর্ব ২৩। রয়্যালটি-মুক্ত বইয়ের ওপর প্রকাশকদের ঝোঁক চোখে পড়ছে বইমেলাতেও
পর্ব ২২: শেষমেশ রেগে গিয়ে আমাকে চিঠিই লিখে ফেলেছিলেন শঙ্খ ঘোষ!
পর্ব ২১: ৩০০০ কপি বিক্রির মতো জীবিত বা মৃত লেখক আর হয়তো নেই
পর্ব ২০: কম বয়সে আমাদের রোববারের আড্ডা ছিল ২৮ নম্বর প্রতাপাদিত্য রোড, আশুদার বাড়িতে
পর্ব ১৯: ‘লেখা বড় হচ্ছে’ অভিযোগ আসায় খুদে হাতের লেখায় পাণ্ডুলিপি দিতেন প্রবোধবন্ধু অধিকারী
পর্ব ১৮: দু’বছরের মধ্যে সংস্করণ না ফুরলে অন্য জায়গায় বই ছাপার চুক্তি ছিল শরদিন্দুর চিঠিতে
পর্ব ১৭: পূর্ণেন্দু পত্রীর বাদ পড়া প্রচ্ছদ ও দিনেশ দাসের কবিতার শ্রেষ্ঠ দিনগুলি
পর্ব ১৬: সব প্রকাশনার যাবতীয় বইয়ের হদিশ পাওয়া যেত ‘সম্মিলিত গ্রন্থপঞ্জী’তে
পর্ব ১৫: নিছকই একটা পত্রিকা নয়, ‘কলেজ স্ট্রীট’ আমাদের আবেগ
পর্ব ১৪: খুদে পাঠকদের জন্য মিনিবই তৈরির কথা প্রথম ভেবেছিলেন অভয়দা
পর্ব ১৩: কয়েকটি প্রেসের গল্প
পর্ব ১২: দীর্ঘায়ু বই ও আইয়ুব পরিবার
পর্ব ১১: প্রেমের নয়, অপ্রেমের গল্প সংকলনের সম্পাদনা করেছিলেন সুনীল জানা
পর্ব ১০: ছোট্ট অপুকে দেখেই রঙিন ছবিতে ভরা টানটান গল্পের বই করার ইচ্ছে জেগেছিল
পর্ব ৯: চানঘরে গান-এ সত্যজিৎ রায়ের চিঠি থাকায় ব্যাপারটা গড়িয়েছিল কোর্ট কেস পর্যন্ত
পর্ব ৮: প্রকাশক-লেখকের কেজো সম্পর্কে বুদ্ধদেব গুহর বিশ্বাস ছিল না
পর্ব ৭: পুজো সংখ্যায় না-বেরনো উপন্যাস বই আকারে সুপারহিট
পর্ব ৬: মানবদার বিপুল অনুবাদের কাজ দেখেই শিশির দাশ তাঁর নাম দিয়েছিলেন– ‘অনুবাদেন্দ্র’
পর্ব ৫: সাতবার প্রুফ দেখার পর বুদ্ধদেব বসু রাজি হয়েছিলেন বই ছাপানোয়!
পর্ব ৪: লেখকদের বেঁচে থাকার জন্য অনেক কিছুই লিখতে হয়, প্রফুল্ল রায়কে বলেছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র
পর্ব ৩: পয়লা বৈশাখের খাতায় শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় মজাচ্ছলে লিখেছিলেন, ‘সুধাংশুরা রাজা হোক’
পর্ব ২: বাংলা মাসের সাত তারিখকে বলা হত ‘গ্রন্থতিথি’, বিজ্ঞাপনেও বিখ্যাত ছিল ‘৭-ই’
পর্ব ১: সত্তরের উথাল-পাথাল রাজনৈতিক আবহাওয়ায় আমি প্রকাশনার স্বপ্ন দেখছিলাম
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved