Robbar

ন্যুড মডেলই মাতিসের ভাবনার টেবিল

Published by: Robbar Digital
  • Posted:April 6, 2026 7:10 pm
  • Updated:April 6, 2026 9:06 pm  
Inside Henri Matisse’s Odalisque Series by Ranjan Bandyopadhyay

১৯২০ থেকে ১৯৩০, টানা ১০ বছর ওদালিস্ক সিরিজের ছবি এঁকেছেন হেনরি মাতিস। পৃথিবী জুড়ে নানা আর্ট গ্যালারিতে ছড়িয়ে আছে সেই সব ছবি। ‘ওদালিস্ক উইথ রেজড আর্মস’, হাত তুলে বাহুমূলে দেখিয়ে হারেমের ক্রীতদাসী, অনেক দিনের স্বপ্নের এই ছবি মাতিস আঁকলেন ১৯২৩ সালে। সেই ছবি আমার দেখার সৌভাগ্য হয় ওয়াশিংটনের ‘ন্যাশনাল আর্ট গ্যালারি’তে। সেই ছবি ‘fauvist’ অর্থাৎ, জান্তব বিকৃতি নামে গাল খেয়েছিল এককালে।

রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

৮৮.

ভুবনপ্রসিদ্ধ ফরাসি শিল্পী হেনরি (ফরাসি উচ্চারণ– ওঁরি ) মাতিস যখন ১৯২২ সালে আঁকলেন তাঁর ‘ওদালিস্ক অন দ্য টেরেস’ নামের ছবি, যে-ছবিতে বারান্দায় বসে এক সম্পূর্ণ লজ্জাহীন মধ্যবয়সি নগ্ন নারী মেলে আছে চওড়া কোমর, ছড়ানো তলপেট, গভীর নাভী, ঈষৎ আলগা-ভারী স্তন, হেনরি তখন ভাবতেও পারেননি ২০২৬-এর ২২ মার্চ, ওই ছবিটা দক্ষ চোরের দল ইতালির পারমা শহরের কাছে এক আর্ট গ্যালারি থেকে চুরি করে উধাও হবে। আরও একটা কথা ভাবতে পারেননি হেনরি মাতিস। ২০২৬-এ ওই ছবির অর্থমূল্য দেওয়ার মতো বিত্তবান মানুষ পৃথিবীতে খুব বেশি থাকবে না।

হেনরি মাতিসের আঁকা ‘ওদালিস্ক অন দ্য টেরেস’

১৯১৩ সাল। এক বছর, অর্থাৎ ১৯১২ থেকে ১৯১৩, মাতিস ভেসেছেন উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকায়, আলজেরিয়ার কাছে, মরক্কোর হারেম থেকে হারেমে নারীতরঙ্গে। ১৮৬৯-এর শেষদিনে জন্মানো মাতিস ১৯১৩-তে সবে ৩৩। তিনি মনে করেন, যৌনতার এই উজান মরক্কো ছাড়া কোথাও সম্ভব হত না। কারণ, মরক্কো জুড়ে হারেম আর হারেম। আর সেই হারেমে পৃথিবীর সেরা সুন্দরীরা যৌন কৃতদাসী, যাদের বলা হয় ‘ওদালিস্ক’। টার্কিশ ভাষায় ‘ওদা’ শব্দের অর্থ ‘হারেম’। আর ‘ওদালিস্ক’-এর মানে ‘হারেমের ক্রীতদাসী’। তবে তাদের আপাত আরামের শেষ নেই। শরীর এলিয়ে যত খুশি সুখভোগ করো। নেই শুধু মুক্তির আনন্দ। মাতিস আরও একটি ব্যাপারে বিস্মিত! বয়স হলেও এদের শরীরের আবেদন ও ছলাকলা কমে না। এখানেই ইউরোপের সঙ্গে তফাত। হারেম দাম জানে অভিজ্ঞ বেশ্যার। যাদের শরীরে অভিজ্ঞতার সই, তাদের বাজার পাল তোলে পুরুষের যৌন খোয়াবে।

৩৩ বছরের মাতিস আরও একটা গুরুতর হদিশ পেয়েছেন: মরক্কোর হারেম তাঁর মধ্যে জাগিয়ে তুলেছে তুমুল তুফান। শিল্পী থেকে তিনি হয়ে উঠেছেন একটা আস্ত জন্তু। তুলি আর রঙের সামনে বসলেই তাঁর সামনে চলে আসে মরক্কোর হারেমের অভিজ্ঞ নারীশরীরের উত্তর আফ্রিকান আবেদন। তিনি হারেমের মতো করেই স্টুডিও সাজিয়েছেন। ফ্রান্সের নিস শহরে তাঁর স্টুডিও। মরক্কো থেকে ফিরে ১৯১৩ সালে তিনি তৈরি করেছেন এই নতুন স্টুডিও। জানলার কাছে বসিয়েছেন ছবি আঁকার নতুন ইজেল। একটু দূরে ভাবনার নতুন টেবিল। চড়া রঙের পর্দা, কার্পেট, টেবিল ক্লথ এবং মডেলের জন্য নগ্ন শরীর হেলানোর সোফা। তবে তিনি ঠিক করেছেন, সম্পূর্ণ নগ্ন হয়েও তাঁর ছবিতে নারী দেখাবে না তার গোপনাঙ্গ। কখনও দেখাবে না। হারেমের নারী শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোপন অঙ্গ ঢেকে রাখার কায়দা জানে। ওটাই তো পুরুষকে ধরে রাখার, জাগিয়ে রাখার, খেলিয়ে তোলার মোক্ষম চাল। সরু কোমরের, ছোট স্তনের, হালকা নিতম্বের, পাতলা পেটের তরুণীরা বড্ড তাড়াতাড়ি সরিয়ে দেয় আড়াল। ধরে রাখতে শেখে বয়সের সঙ্গে।

শিল্পী হেনরি মাতিস

মাতিস এক অপ্রত্যাশিত সমস্যায়। তিনি আঁকতে চান মরক্কোয় দেখে আসা তাঁর হারেমের নারীদের। একটা-দুটো ছবি নয়, আগামী ১০-১২ বছর ধরে তিনি শুধুই আকঁতে চান সুদূর মরক্কোয় ফেলে আসা হারেমের সেই সব নারী, যারা তৃপ্ত করেছিল তাঁর সমস্ত যৌনস্বপ্ন, যারা নিয়ে গিয়েছিল তাঁকে চূড়ান্ত সম্ভোগের শেষবিন্দুতে, দিয়েছিল জান্তব তাড়নার আনন্দ।

মরক্কোর হারেমস্মৃতি নিয়ে মাতিস আঁকতে চান– বছরের পর বছর এমন একটা সিরিজ, যার কোনও তুলনা নেই পৃথিবীতে। এবং যেরকম ছবি ইউরোপ দেখেনি। যে-ছবি একই সঙ্গে শকিং এবং স্টানিং। মাতিস মনে মনে বলেন, দেখুক ইউরোপ, জানুক ইউরোপ, বুঝুক ইউরোপ– কাকে বলে নারীনগ্নতার বিস্ফোরণ, যে বিস্ফোরণে নেই তরুণী শরীরের কাঁচা আবেদন! যে-শরীরে হারেমে অবিরাম ব্যবহৃত নারীর অভিজ্ঞ অবদান!

এই আসন্ন সিরিজের একটা নামও দিয়েছেন মাতিস। নামটা হঠাৎ ভেসে উঠল তাঁর নতুন ইজেলের গায়ে: ‘দ্য ওদালিস্ক সিরিজ’! মাতিস নিশ্চিত,পৃথিবী-জুড়ে নিন্দার ঝড় তুলবে তাঁর ছবির পর ছবিতে মরক্কোর হারেমে ফেলে আসা নগ্ন বেশ্যাদের জান্তব লজ্জাহীনতা!

হেনরি মাতিসের ‘ব্লু নুড’

মাতিস তো সেটাই চান। তাঁর মরক্কো সফরের সাফল্য তো সেখানেই। কিন্তু অপ্রত্যাশিত এক সমস্যা তাঁর সামনে! ইউরোপের তরুণী পূজায় না-আছে জব্বর উরু, না-আছে বিছানো তলপেট। না-আছে কুয়োর মতো নাভী, না-আছে নদীর মতো কোমর। না-আছে পাহাড়ের মতো নিতম্ব, না-আছে ঈষৎ ঝোলা নধর পয়োধর। আর মরক্কোর সেই মেয়ে যে হাত তুলে, বাহুমূল দেখিয়ে, কালো রেশম মেলে, হেলিয়ে শুয়ে দেয় অমোঘ ডাক! কোথায় পাব তাকে সারা ইউরোপে? এদেশে তো সমস্ত নারীর বাহুমূল কামানো নির্বেদ। সেটাই নাকি সভ্যতা! আধুনিকতা!

মাতিসের মনে পড়ে, মরক্কোর হারেমে নারীর হাততোলা অলস আহ্বান। মনে পড়ে, তার বাহুমূলে ছায়াবিতান। তিনি এই ছবি একদিন আঁকবেনই। আর মনে মনে ভাবে, নিন্দার তুফান। ভাবে, তাঁর বদনাম কতদূর গড়াবে। আর তাঁর বদনামই জীবনে ডেকে আনবে মেয়েমানুষের তোলপাড়। তারপর এমন একদিন আসবে, এই ছবি কেনার মতো বড়লোক পৃথিবীতে হাতেগোনা যাবে! আর ঠিক তখনই তাঁর ইজেলের গায়ে ফুটে ওঠে একটা নাম: হেনরিয়েটা (ফরাসি ওঁরিয়েত) দারিকারে।

ঠিক তো! এতক্ষণ মনে পড়েনি! বাড়ির কাছেই তো থাকে মেয়েটা। মরক্কো যাওয়ার আগে কিছুদিনের জন্য ঘনিষ্ঠ হয়েছিল। হেনরিয়েটাকে মডেল করে একদিন তো ছবিও এঁকেছিলেন! নগ্ন ছবি। সহজে রাজিও হয়েছিল মেয়েটা। বয়সের তুলনায় স্থূল বলে একটু লজ্জা করেছিল তার। মাতিস বলেছিল, আমার সবকিছু একটু বেশি বেশি ভালো লাগে। তারপর আর বাধা দেয়নি হেনরিয়েটা।

২২ মার্চ ইতালির এক আর্ট গ্যালারির দরজা ভেঙে অনেক রাতে চোরের দল যে-ছবিটা চুরি করেছে, তার মধ্যে আছে হেনরি মাতিসের অমূল্য ওদালিস্ক সিরিজের সেই ছবি, যার মডেল হেনরিয়েটা। মাতিসের স্টুডিওর বারান্দায় বসে আছে এই মেয়ে। নগ্ন কোমর বুক পেট নিয়ে। অনেক মাংস, সন্দেহ নেই। বাঁ-হাত পিছনের দিকে সরানো। ডান হাত সামনে। একটা নেকলেস ঝুলছে ভারি স্তনের ওপরে।

১৯২০ থেকে ১৯৩০, টানা ১০ বছর ওদালিস্ক সিরিজের ছবি এঁকেছেন হেনরি মাতিস। পৃথিবী জুড়ে নানা আর্ট গ্যালারিতে ছড়িয়ে আছে সেইসব ছবি। ‘ওদালিস্ক উইথ রেজড আর্মস’, হাত তুলে বাহুমূলে দেখিয়ে হারেমের ক্রীতদাসী, অনেক দিনের স্বপ্নের এই ছবি মাতিস আঁকলেন ১৯২৩ সালে। সেই ছবি আমার দেখার সৌভাগ্য হয় ওয়াশিংটনের ‘ন্যাশনাল আর্ট গ্যালারি’তে। সেই ছবি ‘fauvist’ অর্থাৎ, জান্তব বিকৃতি নামে গাল খেয়েছিল এককালে। ফরাসি ভাষায় ‘fauv’ মানে, ‘বন্য জন্তু’। যে শিল্পী এমন অশ্লীল ছবি আঁকতে পারে, সে-ও এক সময়ে সমাজের চোখে হয়ে উঠেছিল ‘ওয়াইল্ড বিস্ট’। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার, যে-মেয়েরা তাঁর মডেল হয়েছে, তারা প্রত্যেকে তাঁর বিছানায় আদর পেয়েছে, আদর দিয়েছে। এবং তাঁর মডেল হয়ে কৃতার্থ হয়েছে তাদের সৌভাগ্যের কাছে।

মাতিসের ‘ওদালিস্ক উইথ রেজড আর্মস’

যে-মেয়েদের শরীর, সমস্ত আড়াল সরিয়ে, উৎসবায়িত হয়েছে হেনরি মাতিসের ওদালিস্ক সিরিজে, তাদের অন্যতম মাতিসের পাড়ার মেয়ে লোরেত। এছাড়া রাশিয়ান লিডিয়া, ফরাসি হেনিয়েটা আর এমেলিয়ে আর ওলগা। ১৮৯৮-তে মাতিস বিয়ে করে তাঁর মডেল এমেলিয়েকে। এবং বিয়েটা চলে ১৯৩৯ পর্যন্ত। তাতে অবশ্য মাতিসের কোনও অসুবিধে হয়নি হারেম সিরিজ চালাতে।

মাতিসের ছবিজীবনের ভার নিজের হাতে তুলে নেয় তাঁর মডেল হেনরিয়েটা। হয়ে যায় বান্ধবী-মডেল। রাশিয়ান লিডিয়া ক্রমশ হয়ে ওঠে মাতিসের সেক্রেটারি এবং বিছানাসঙ্গিনী। কারণ, মাতিস নারীর মধ্যে সবকিছু একটু বেশিই পছন্দ করে। আরও দুই মডেল, লোরেত এবং ওলগা– নিজেদের ইচ্ছেমতো গিয়েছে মাতিসের বিছানায়। কিন্তু ক্রমশ অসুস্থ ও পঙ্গু হয়ে যান মাতিস। অসাড় হয়ে যায় তাঁর কোমর থেকে পা, ১৯৪১ সালে একটা সার্জারির পর।

১৯৫৪-তে ৮৪ বছর বয়সে মৃত্যু পর্যন্ত কিন্তু সৃজন থামেনি তাঁর। আর নারীসঙ্গও পেয়েছেন মাতিস। বন্ধুনিরা ঠেলেছে তখন জগৎজোড়া হেনরি মাতিসের হুইল চেয়ার! এবং পেয়েছে একদা বন্য জন্তুর মৃদু সান্নিধ্য।

…………………….. পড়ুন কাঠখোদাই-এর অন্যান্য পর্ব  ……………………

পর্ব ৮৭: চণ্ডীমঙ্গল না পড়লে সে কীসের বাঙালি!

পর্ব ৮৬: সাধারণের জীবন রাজনীতির বিষয়, শিখিয়েছে মনুর সংহিতা

পর্ব ৮৫: চিঠির মোড়কে নষ্ট প্রেমের গোপন অভিসার

পর্ব ৮৪: চা নয়, চায়ের বই যখন প্রেমের অনুঘটক

পর্ব ৮৩: আধ্যাত্মিক বিরহ দিয়ে গড়া প্রেমের মহাকাব্য

পর্ব ৮২: এক মৃত্যুহীন ক্লাসিক কিংবা যৌনতার সহজপাঠ

পর্ব ৮১: দেশহীন, ভাষাহীন ঝুম্পা

পর্ব ৮০: সাহসী প্রেমের চিঠি লেখা শিখিয়েছিল যে বাঙালি যুগল

পর্ব ৭৯: সুরানিলয়ের টেবিল থেকেই জন্ম নিয়েছিল উপন্যাসের ভাবনা

পর্ব ৭৮: একবিন্দু আত্মকরুণা নেই অঞ্জনের আত্মজীবনীতে

পর্ব ৭৭: অ্যানির ‘দ্য ইয়ার্স’ শেখায় অন্তহীন ইরোটিসিজম-ই জীবনের পরমপ্রাপ্তি

পর্ব ৭৬: জয় গোস্বামীর সাজেশনে মুগ্ধতা জাগাল ‘সিম্পল প্যাশন’

পর্ব ৭৫: যে নারীর শেষপাতা পর্যন্ত পৌঁছতে পারেননি লেখক

পর্ব ৭৪: সেই তরুণীর জন্য বেঁচে আছে বোকা মনকেমন!

পর্ব ৭৩: কাফকার ভয়-ধরানো প্রেমপত্র!

পর্ব ৭২: থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা, কলকাতা বইমেলায় শ্রেষ্ঠাংশে তবে রবীন্দ্র-ওকাম্পো?

পর্ব ৭১: একশো বছরের নৈরাজ্য ও একটি লেখার টেবিল

পর্ব ৭০: আত্মজীবনী নয়, মার্গারেটের ব্রতভ্রষ্ট স্মৃতিকথা

পর্ব ৬৯: রুশদির ‘দ্য ইলেভেনথ আওয়ার’ শেষ প্রহরের, অনিবার্য অন্তিমের দ্যোতক

পর্ব ৬৮: মাংসও টেবিলের কাছে ঋণী

পর্ব ৬৭: ভ্রমণ-সাহিত্যকে লাজলো নিয়ে গেছেন নতুন পারমিতায়

পর্ব ৬৬: নরম পায়রার জন্ম

পর্ব ৬৫: যে বইয়ের যে কোনও পাতাই প্রথম পাতা  

পর্ব ৬৪: খেলা শেষ করার জন্য শেষ শব্দ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন জেফ্রি আর্চার

পর্ব ৬৩: সহজ ভাষার ম্যাজিক ও অবিকল্প মুরাকামি

পর্ব ৬২: জীবন তিক্ত এবং আশা করা ভুল, এই দর্শনই বিশ্বাস করেন ক্রাজনাহরকাই

পর্ব ৬১: লন্ডনে ফিরে এলেন অস্কার ওয়াইল্ড!

পর্ব ৬০: পাপ ও পুণ্যের যৌথ মাস্টারপিস

পর্ব ৫৯: মাতৃভক্তির দেশে, মাকে ছেড়ে যাওয়ার আত্মকথন

পর্ব ৫৮: চিঠিহীন এই যুগের শ্রেষ্ঠ প্রণয়লিপি

পর্ব ৫৭: লেখার টেবিল কি জানে, কবিতা কার দান– শয়তান না ঈশ্বরের?

পর্ব ৫৬: প্রেমের নিশ্চিত বধ্যভূমি বিয়ে, বার্ট্রান্ড রাসেলের লেখার টেবিল জানে সেই নির্মম সত্য

পর্ব ৫৫: জুলিয়া রবার্টসকে হিন্দুধর্মে দীক্ষা দিয়েছিল একটি বই, একটি সিনেমা

পর্ব ৫৪: আপনার লেখার টেবিল নেই কেন মানিকদা?

পর্ব ৫৩: পুরুষরা যে কতদূর অপদার্থ, ড্রেসিং টেবিলের দেখানো পথে মেয়েরা প্রমাণ করে দেবে

পর্ব ৫২: একটাও অরিজিনাল গল্প লেখেননি শেক্সপিয়র!

পর্ব ৫১: প্রমথ-ইন্দিরার মতো প্রেমের চিঠি-চালাচালি কি আজও হয়?

পর্ব ৫০: হাজার হাজার বছর আগের পুরুষের ভিক্ষা এখনও থামেনি

পর্ব ৪৯: কুকথার রাজনীতিতে অমরত্বের স্বাদ পেয়েছেন জর্জ অরওয়েল 

পর্ব ৪৮: টেবিলই ওকাম্পোর স্মৃতি, আত্মজীবনীর ছেঁড়া আদর

পর্ব ৪৭: শেষ বলে কিছু কি থাকতে পারে যদি না থাকে শুরু?

পর্ব ৪৬: যে টেবিলে দেবদূত আসে না, আসে শিল্পের অপূর্ব শয়তান

পর্ব ৪৫: ফ্রেডরিক ফোরসাইথকে ফকির থেকে রাজা করেছিল অপরাধের পৃথিবী

পর্ব ৪৪: আম-বাঙালি যেভাবে আমকে বোঝে, দুই আমেরিকান লেখিকা সেভাবেই বুঝতে চেয়েছেন

পর্ব ৪৩: দু’পায়ে দু’রকম জুতো পরে মা দৌড়ে বেরিয়ে গেল, ইবতিসম্‌-এর উপন্যাসের শুরু এমনই আকস্মিক

পর্ব ৪২: অন্ধকার ভারতে যে সিঁড়িটেবিলের সান্নিধ্যে রামমোহন রায় মুক্তিসূর্য দেখেছিলেন

পর্ব ৪১: বানু মুশতাকের টেবিল ল্যাম্পটির আলো পড়েছে মুসলমান মেয়েদের একাকিত্বের হৃদয়ে

পর্ব ৪০: গোয়েটের ভালোবাসার চিঠিই বাড়িয়ে দিয়েছিল ইউরোপের সুইসাইড প্রবণতা

পর্ব ৩৯: লেখার টেবিল বাঙালির লাজ ভেঙে পর্নোগ্রাফিও লিখিয়েছে

পর্ব ৩৮: বঙ্গীয় সমাজে বোভেয়ার ‘সেকেন্ড সেক্স’-এর ভাবনার বিচ্ছুরণ কতটুকু?

পর্ব ৩৭: ভক্তদের স্তাবকতাই পাশ্চাত্যে রবীন্দ্র-কীর্তি স্থায়ী হতে দেয়নি, মনে করতেন নীরদচন্দ্র চৌধুরী

পর্ব ৩৬: একাকিত্বের নিঃসঙ্গ জলসাঘরে মারিও ভার্গাস লোসা যেন ছবি বিশ্বাস!

পর্ব ৩৫: জীবনের বাইশ গজে যে নারী শচীনের পরম প্রাপ্তি

পর্ব ৩৪: যা যা লেখোনি আত্মজীবনীতেও, এইবার লেখো, রাস্কিন বন্ডকে বলেছিল লেখার টেবিল

পর্ব ৩৩: ফিওনার সেই লেখার টেবিল মুছে দিয়েছিল মেয়েদের যৌনতা উপভোগের লজ্জারেখা

পর্ব ৩২: বাঙালি নয়, আন্তর্জাতিক বাঙালির সংজ্ঞায় স্পিভাক এসে পড়বেনই

পর্ব ৩১: প্রতিভাপাগল একটি বই, যাকে দিনলিপি বলে সামান্য করব না

পর্ব ৩০: পতিতালয়ের সেই লেখার টেবিল জাগিয়ে তুলেছিল ইসাবেলের হৃদয়-চেতনা

পর্ব ২৯: পাথরে প্রাণ আনে যে টেবিলের স্পর্শ

পর্ব ২৮: নিজের টেবিলকে কটাক্ষ করি, কেন অ্যানে মাইকেলসের মতো লিখতে পারি না?

পর্ব ২৭: নারীর রাগ-মোচনের কৌশল জানে মিলান কুন্দেরার লেখার টেবিল!

পর্ব ২৬: ভালোবাসা প্রকাশের সমস্ত শব্দ পেরিয়ে গিয়েছিল এলিয়টের লেখার টেবিল

পর্ব ২৫: যে টেবিলে জন্ম নেয় নগ্নতা আর যৌনতার নতুন আলো

পর্ব ২৪: প্রেমের কবিতার ভূত জন ডানকে ধরেছিল তাঁর উন্মাদ টেবিলে, মোমবাতির আলোয়

পর্ব ২৩: যে টেবিল আসলে বৈদগ্ধ আর অশ্লীলতার আব্রুহীন আঁতুড়ঘর!

পর্ব ২২: মহাবিশ্বের রহস্য নেমে এসেছিল যে টেবিলে

পর্ব ২১: গাছ আমাদের পূর্বপুরুষ, লেখার টেবিল বলেছিল হোসে সারামাগোকে

পর্ব ২০: টেবিলের কথায় নিজের ‘হত্যার মঞ্চে’ ফিরেছিলেন সলমন রুশদি

পর্ব ১৯: প্রতিভা প্রশ্রয় দেয় অপরাধকে, দস্তয়েভস্কিকে শেখায় তাঁর লেখার টেবিল

পর্ব ১৮: বিবেকানন্দের মনের কথা বুঝতে পারে যে টেবিল

পর্ব ১৭: ‘গীতাঞ্জলি’ হয়ে উঠুক উভপ্রার্থনা ও উভকামনার গান, অঁদ্রে জিদকে বলেছিল তাঁর টেবিল

পর্ব ১৬: যে লেখার টেবিল ম্যাকিয়াভেলিকে নিয়ে গেছে শয়তানির অতল গভীরে

পর্ব ১৫: যে অপরাধবোধ লেখার টেবিলে টেনে এনেছিল শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে

পর্ব ১৪: লেখার টেবিল গিলে নিচ্ছে ভার্জিনিয়া উলফের লেখা ও ভাবনা, বাঁচার একমাত্র উপায় আত্মহত্যা

পর্ব ১৩: হ্যামনেট ‘হ্যামলেট’ হয়ে বেঁচে থাকবে অনন্তকাল, জানে সেই লেখার টেবিল

পর্ব ১২: রবীন্দ্রনাথের লেখার টেবিল চিনতে চায় না তাঁর আঁকার টেবিলকে

পর্ব ১১: আর কোনও কাঠের টেবিলের গায়ে ফুটে উঠেছে কি এমন মৃত্যুর ছবি?

পর্ব ১০: অন্ধ বিনোদবিহারীর জীবনে টেবিলের দান অন্ধকারের নতুন রূপ ও বন্ধুত্ব

পর্ব ৯: বুড়ো টেবিল কিয়ের্কেগার্দকে দিয়েছিল নারীর মন জয়ের চাবিকাঠি

পর্ব ৮: অন্ধকারই হয়ে উঠলো মিল্টনের লেখার টেবিল

পর্ব ৭: কুন্দেরার টেবিলে বসে কুন্দেরাকে চিঠি

পর্ব ৬: মানব-মানবীর যৌন সম্পর্কের দাগ লেগে রয়েছে কুন্দেরার লেখার টেবিলে

পর্ব ৫: বিয়ের ও আত্মহত্যার চিঠি– রবীন্দ্রনাথকে যা দান করেছিল লেখার টেবিল

পর্ব ৪: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের টেবিল আর তারাপদ রায়ের খাট, দুই-ই ছিল থইথই বইভরা

পর্ব ৩: টেবিলের গায়ে খোদাই-করা এক মৃত্যুহীন প্রেমের কবিতা

পর্ব ২: লেখার টেবিল ভয় দেখিয়েছিল টি এস এলিয়টকে

পর্ব ১: একটি দুর্গ ও অনেক দিনের পুরনো নির্জন এক টেবিল