Robbar

সাধারণের জীবন রাজনীতির বিষয়, শিখিয়েছে মনুর সংহিতা

Published by: Robbar Digital
  • Posted:March 23, 2026 6:39 pm
  • Updated:March 23, 2026 7:37 pm  
manusmriti and its political narrative by Ranjan Bandyopadhyay

রাজনীতিতে ‘মারুতব্রত’ শব্দটি, যতদূর জানি, প্রথম নিয়ে এল মনু। শব্দটার অর্থ– বাতাসের মতো। বাতাসকে দেখা যায় না। কিন্তু বাতাস সর্বত্র উপস্থিত। ঠিক যেমন শাসকের গুপ্তচর। শাসককে রাজনৈতিক ক্ষমতায় টিকে থাকতে, মারুতব্রত অবলম্বন করতেই হবে। অর্থাৎ, দেশময়, সমাজ সংসারে, ঘরে ঘরে গুপ্তচর রোপণ করতে হবে। সাধারণ মানুষের আড়ালের জীবন বলে যেন কিছু না থাকে!

রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

৮৬.

লোকটা ইতিহাসের নয়। পুরাণের। অনেক প্রাচীন। আলোকবর্ষ দূরের। অস্পষ্ট। মেঘলা সময়ের। পুরো নামটাও অনেকে জানি না। জেনে তেমন লাভও নেই। কেননা সেই মানুষ তার ডাকনামে অর্জন করেছে অমরত্ব! যত দিন ভারতবর্ষ, একদা সুনীল জলধি হতে যেমন উঠেছিল তেমন ডুবে না যাচ্ছে, আর যতদিন শত্রুদের মুখে ছাই দিয়ে বেঁচে থাকছে হিন্দুধর্ম আর সংস্কার, ততদিন এই লোকটাও বেঁচে থাকবে তার সব নারীবিরোধী শয়তানি এবং তালঠোকা সামাজিক আস্পর্ধা নিয়ে। এবং বেঁচে থাকবে তার ডাকনামেই। ডাকনাম মনু।

প্রতি পাড়াতেই একটা করে মনু থাকে। তবে এই লোকটা পাড়ার মনু নয়, সংহিতার মনু।

মনুর কোনও মা নেই। থাকলেও, তাকে আমি জানি না। মনুর জন্মটা একটু বিদঘুটে। মনু জন্মেছে তার বাপের দেহ থেকে। বাপের নাম ব্রহ্মা। আর মনু ঠিক আমাদের মতো না জন্মে, বাপের শরীর থেকে নিজেই উদ্ভূত হয়েছে বলে, তার নাম স্বয়ম্ভূ মনু।

প্রথম নামটা কেউ মনে রাখে না। লোকটা ডাকনামেই কোন আদিম কাল থেকে হিন্দুদের ঘরের ছেলে। আমাদের জন্ম-মৃত্যু, বিয়ে, পইতে, শ্রাদ্ধ, সামাজিক সব বিধিনিষেধ, সব সংস্কার-কুসংস্কার, সব অত্যাচার, অনাচার, অবিচারের সঙ্গে হাড়ে হাড়ে জড়িয়ে। এমনকী মনুর থেকেই নাকি মনুষ্য জাতির জন্ম ও বিস্তার। তাই আমরা দানব না হয়ে মানব।

এবার এহেন মনুর লেখা নিয়মকানুন, ক্রিয়াকলাপে আসা যাক, যার নাম ‘মনুসংহিতা’। এই মনুসংহিতা আমাদের, মানে, হিন্দুদের ধর্ম, সমাজ, গার্হস্থ্যজীবনের রাস্তা দেখাচ্ছে।

কয়েকটা বিষয়ে মনু প্রায় আজকের মানুষ। অবাক হই, যখন রাজনীতি বলতে মনু কী বোঝে, সেটা নিয়ে একটু খোঁড়াখুড়ি করি। এ তো একেবারে আজকের কথা: যেমন একটু একটু করে রক্ত চোষে জোঁক, যেমন একটু একটু করে দুধ খায় বাছুর, তেমনভাবেই শাসক শোষণ করে সাধারণ মানুষকে এবং সমগ্র দেশকে। অর্থাৎ, শাসকের শোষণ পদ্ধতি ধীর এবং মোলায়েম।

রাজনীতিতে ‘মারুতব্রত’ শব্দটি, যতদূর জানি, প্রথম নিয়ে এল মনু। শব্দটার অর্থ– বাতাসের মতো। বাতাসকে দেখা যায় না। কিন্তু বাতাস সর্বত্র উপস্থিত। ঠিক যেমন শাসকের গুপ্তচর। শাসককে রাজনৈতিক ক্ষমতায় টিকে থাকতে, মারুতব্রত অবলম্বন করতেই হবে। অর্থাৎ, দেশময়, সমাজ সংসারে, ঘরে ঘরে গুপ্তচর রোপণ করতে হবে। সাধারণ মানুষের আড়ালের জীবন বলে যেন কিছু না থাকে! মনুর মতে, মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট ব্যাপার হল, শাসককে বাতাসের মতো অদৃশ্য হয়ে সর্বত্র উপস্থিত থাকতে হবে। কোনও কিছুই গোপন থাকবে না। অথচ সাধারণ মানুষ বুঝতেও পারবে না, শাসক সব দেখছে।

প্রতীকীচিত্র

একটা কথা, কয়েক সন্ধে আগে পানশালায় আমার প্রিয় মধুর বিষণ্ণ আবছায়ায় বসে ভাবছিলাম, মনুসংহিতা কোন সময়ের ভাবনার ফসল! হুইস্কির গায়ে জমেছে বরফের কুয়াশা। সেই মায়াময় ঝাপসামির দিকে তাকিয়ে ভাবলাম, এমনই এক ঝাপসা সময়ে, বেদবাক্যগুলি রচিত হওয়ার পরেই, মনু ভাবতে পেরেছিল তার সংহিতা। এবং প্রশ্ন জাগল মনে, কেমন ছিল মনুর বাড়ি? কোন বনের ধারে? কোন নদীর তীরে? সেই নদীর নাম ছিল কি সরস্বতী? কোথায়, কেমন করে, হারিয়ে গেল তার স্রোত? মনু যে ঘরে বসে লিখত তার পুঁথি, সেই ঘরের জানলায় কি ধরা দিয়েছিল সরস্বতীর ঝিলমিল বহতা? ওই নদীর তীর থেকেই পাথর নিয়ে এসে মনু কি বানিয়েছিল তার লিখনবেদী? সেই বেদীর ওপর পুঁথি রেখে কি মনু একদিন লিখল, নারীকে পুরুষ যেন সারা জীবন নিজের অধিকারে রাখে, নিজের বশে রাখে? কারণ নারী স্বাধীনতার যোগ্য নয়। সে বাপের শাসনে থাকবে কুমারী অবস্থায়। যৌবনে থাকবে স্বামীর শাসনে। আর বৃদ্ধ বয়েসে থাকবে ছেলেদের শাসনে। পাথরের ওই বেদীর ওপরেই পুঁথি রেখে, মনু লিখে গিয়েছে, হিন্দুসমাজে নারীর এই চিরকালীন রূপ ও স্থান: নারী পুরুষের ক্ষেত্র। তার বেশি কিছু নয়। সেই ক্ষেত্র চাষ করবে পুরুষ। রোপণ করবে বীজ। এবং তার বীজরোপণ সার্থক হবে পুত্র-সন্তানের জন্মে।

এবার দেখা যাক, জাতিভেদের বিষয়ে মনুর বিচার কেমন।

সামান্য ঘাবড়ে যেতে পারেন। রক্তচাপ বাড়তে পারে। তবু যে জাতিভেদ আজও ভারত থেকে দূর হয়নি, তার গোড়ার রূপটা দেখুন। মনুর উচ্চস্বর উচ্চারণ: হে শূদ্র শুনে রাখো তুমি, ইচ্ছুক বা অনিচ্ছুক কোনও ব্রাহ্মণ কন্যার সঙ্গে যদি তুমি সঙ্গম কর, যদি সে তোমাকে ফুসলে বিছানায় নিয়ে যায় তা হলেও, তোমার শাস্তি মৃত্যদণ্ড! এটাই হিন্দুধর্মের রায়। কিন্তু কোনও ব্রাহ্মণ যদি বিনা অপরাধে কোনও শূদ্রকে হত্যা করে, সেটা হবে বেড়াল, কুকুর, কাক মারার মতো সামান্য পাপ। মনুর ভাষায়, ‘উপপাতক মাত্র’!

ব্রাহ্মণের কথা যখন উঠলই, তখন ব্রাহ্মণের গলায় পইতে পরার বিভিন্ন স্টাইল নিয়ে মনু কী লিখে গিয়েছে, সেটাও জানা দরকার। এ-যুগে পইতেধারী ব্রাহ্মণের সংখ্যা ক্রমেই কমছে। তার কারণ, পইতে তৈরি করতেই কেউ জানে না। যাই হোক, সাধারণত, বাঁ-ধারের কাঁধ থেকে পইতে ঝোলানো হয়। মনু এই স্টাইলের নাম দিয়েছে ‘উপবীতী’। কিন্তু যদি কেউ ডান-ধারের কাঁধ থেকে উপবীত বা পইতে ঝোলায়? তাহলে সেই পদ্ধতির নাম,
‘প্রাচীনবীতী’। আর যদি মালার মতো করে গলায় কোনও ব্রাহ্মণ পইতে ঝুলিয়ে রাখে? তাহলে মনুর স্টাইল স্টেটমেন্ট, ওটা হল– ‘নিবীতী’ পদ্ধতি।

পইতের সূত্রধরে মনু হিন্দুসমাজে জাতিভেদকে কোন স্তরে নিয়ে গিয়েছিল, সেটা এবার দেখা যাক।

যেখানেই একটি বসবাসের জায়গা গড়ে উঠবে, সেখানেই থাকবে শ্মশানে যাওয়ার চারটি দরজা। শূদ্রের মৃতদেহ যাবে দক্ষিণ দরজা দিয়ে। আর ব্রাহ্মণের দেহ যাবে পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর– যেকোনও দরজা দিয়ে। অর্থাৎ, মৃত্যুর পরেও জাতিভেদ বজায় থাকবে।

মনুর মতে, সব সময়েই সমাজে ব্রাহ্মণ থাকবে শূদ্রের ওপরে। কিন্তু যদি কোনও শূদ্র প্রবল অর্থবান হয়ে ওঠে? মনু বলছে, একেবারে স্পষ্টভাবে, শূদ্র যতই উপার্জন করুক, তার যেন ধন সঞ্চয়ের কোনও পথ না থাকে। শূদ্রকে কোনও ভাবেই ধনী হতে দেওয়া যাবে না। সামাজিক বাধা সৃষ্টি করতে হবে। কিন্তু কোনও রাজ্যে যদি শূদ্র অর্থবলে রাজা হয়ে বসে? মনুর আদেশ: শূদ্র রাজার রাজত্বে ব্রাহ্মণ বাস করবে না। ব্রাহ্মণ কিছুতেই মেনে নেবে না শূদ্রের আধিপত্য।

এই কারণেই, ব্রাহ্মণের জন্য এক আইন, শূদ্রের জন্য আর এক আইন– ভেবেছে মনু। কোনও শূদ্র যদি ব্রাহ্মণের নিন্দা করে, সেই শূদ্রের জিভ কেটে নেওয়ার বিধান দিয়েছে মনু। আর যদি কোনও ব্রাহ্মণ শূদ্র নারীর সঙ্গে লিপ্ত হয়? এটা কোনও অপরাধ নয়! তাছাড়া, সেই ব্যাপারে নালিশ করবার সাহস হবে কী করে! কোন শূদ্রের? তাহলে তো তার জিভ কেটে নেওয়া হবে! কিন্তু, বলছে মনু: যদি কোনও ব্রাহ্মণ কোনও শূদ্র নারীর প্রেমে পড়ে তাকে বিয়ে করে, তাহলে সেই পুরুষ শূদ্রের পর্যায়ে নেমে যাবে। সমাজচ্যুত হবে।

এবার মনুর আরও কয়েকটি বিধান শুনুন। তাহলে হৃদয় জুড়বে।

যদি কোনও মামলায় কোনও ব্রাহ্মণের বিরুদ্ধে কোনও নিম্নবর্ণের মানুষ সাক্ষী দিতে যায়, সে কীভাবে শপথ নেবে? মনু সেই শপথের পদ্ধতি বাতলেছে: নিম্নবর্ণের লোকটাকে হাঁটতে হবে জ্বলন্ত কয়লার ওপর দিয়ে। যদি সে অদগ্ধ অবস্থায় বেরিয়ে আসতে পারে সেই অগ্নিপরীক্ষা থেকে, তবে সে সাক্ষী দেওয়ার যোগ্য।

আরও একটি প্রশ্ন: ধরা যাক, একটি নেমন্তন্ন বাড়ি। ব্রাহ্মণরা পৃথক সারিতে খেতে বসেছে। সেখানে কোনও অব্রাহ্মণ ভুল করে বসে পড়ল। সেক্ষেত্রে মনুর আদেশ কী? এই আদেশ: ওই অব্রাহ্মণের পাছার কিছু অংশ এমনভাবে কেটে নিতে হবে, যাতে সে মরে যাবে না, কিন্তু সারা জীবন কষ্ট না পেয়ে বসতে পারবে না।

ভারতবর্ষে হিন্দু হয়ে জন্মেও মনুসংহিতা পড়েনি, এমন হিন্দুর সংখ্যা কিছু কম নয়। অন্তত মজা পাওয়ার জন্য পড়ুন। আমি তো কোনও কারণে নেতিয়ে পড়লেই মনু পড়ি। অমনি শরীর গরম হয়ে ওঠে। প্রয়াত পণ্ডিত সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় চমৎকার বাংলা অনুবাদে, মূল সংস্কৃত টেক্সট সমেত, টীকা ও অবতরণিকা আলোকিত, শব্দকোষ সংবলিত মনুসংহিতা আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। সেটিকে বাড়িতে নিয়ে আসুন এবং মাঝেমধ্যে পড়ুন। মন্দ কাটবে না সময়।

…………………….. পড়ুন কাঠখোদাই-এর অন্যান্য পর্ব  ……………………

পর্ব ৮৫: চিঠির মোড়কে নষ্ট প্রেমের গোপন অভিসার

পর্ব ৮৪: চা নয়, চায়ের বই যখন প্রেমের অনুঘটক

পর্ব ৮৩: আধ্যাত্মিক বিরহ দিয়ে গড়া প্রেমের মহাকাব্য

পর্ব ৮২: এক মৃত্যুহীন ক্লাসিক কিংবা যৌনতার সহজপাঠ

পর্ব ৮১: দেশহীন, ভাষাহীন ঝুম্পা

পর্ব ৮০: সাহসী প্রেমের চিঠি লেখা শিখিয়েছিল যে বাঙালি যুগল

পর্ব ৭৯: সুরানিলয়ের টেবিল থেকেই জন্ম নিয়েছিল উপন্যাসের ভাবনা

পর্ব ৭৮: একবিন্দু আত্মকরুণা নেই অঞ্জনের আত্মজীবনীতে

পর্ব ৭৭: অ্যানির ‘দ্য ইয়ার্স’ শেখায় অন্তহীন ইরোটিসিজম-ই জীবনের পরমপ্রাপ্তি

পর্ব ৭৬: জয় গোস্বামীর সাজেশনে মুগ্ধতা জাগাল ‘সিম্পল প্যাশন’

পর্ব ৭৫: যে নারীর শেষপাতা পর্যন্ত পৌঁছতে পারেননি লেখক

পর্ব ৭৪: সেই তরুণীর জন্য বেঁচে আছে বোকা মনকেমন!

পর্ব ৭৩: কাফকার ভয়-ধরানো প্রেমপত্র!

পর্ব ৭২: থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা, কলকাতা বইমেলায় শ্রেষ্ঠাংশে তবে রবীন্দ্র-ওকাম্পো?

পর্ব ৭১: একশো বছরের নৈরাজ্য ও একটি লেখার টেবিল

পর্ব ৭০: আত্মজীবনী নয়, মার্গারেটের ব্রতভ্রষ্ট স্মৃতিকথা

পর্ব ৬৯: রুশদির ‘দ্য ইলেভেনথ আওয়ার’ শেষ প্রহরের, অনিবার্য অন্তিমের দ্যোতক

পর্ব ৬৮: মাংসও টেবিলের কাছে ঋণী

পর্ব ৬৭: ভ্রমণ-সাহিত্যকে লাজলো নিয়ে গেছেন নতুন পারমিতায়

পর্ব ৬৬: নরম পায়রার জন্ম

পর্ব ৬৫: যে বইয়ের যে কোনও পাতাই প্রথম পাতা  

পর্ব ৬৪: খেলা শেষ করার জন্য শেষ শব্দ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন জেফ্রি আর্চার

পর্ব ৬৩: সহজ ভাষার ম্যাজিক ও অবিকল্প মুরাকামি

পর্ব ৬২: জীবন তিক্ত এবং আশা করা ভুল, এই দর্শনই বিশ্বাস করেন ক্রাজনাহরকাই

পর্ব ৬১: লন্ডনে ফিরে এলেন অস্কার ওয়াইল্ড!

পর্ব ৬০: পাপ ও পুণ্যের যৌথ মাস্টারপিস

পর্ব ৫৯: মাতৃভক্তির দেশে, মাকে ছেড়ে যাওয়ার আত্মকথন

পর্ব ৫৮: চিঠিহীন এই যুগের শ্রেষ্ঠ প্রণয়লিপি

পর্ব ৫৭: লেখার টেবিল কি জানে, কবিতা কার দান– শয়তান না ঈশ্বরের?

পর্ব ৫৬: প্রেমের নিশ্চিত বধ্যভূমি বিয়ে, বার্ট্রান্ড রাসেলের লেখার টেবিল জানে সেই নির্মম সত্য

পর্ব ৫৫: জুলিয়া রবার্টসকে হিন্দুধর্মে দীক্ষা দিয়েছিল একটি বই, একটি সিনেমা

পর্ব ৫৪: আপনার লেখার টেবিল নেই কেন মানিকদা?

পর্ব ৫৩: পুরুষরা যে কতদূর অপদার্থ, ড্রেসিং টেবিলের দেখানো পথে মেয়েরা প্রমাণ করে দেবে

পর্ব ৫২: একটাও অরিজিনাল গল্প লেখেননি শেক্সপিয়র!

পর্ব ৫১: প্রমথ-ইন্দিরার মতো প্রেমের চিঠি-চালাচালি কি আজও হয়?

পর্ব ৫০: হাজার হাজার বছর আগের পুরুষের ভিক্ষা এখনও থামেনি

পর্ব ৪৯: কুকথার রাজনীতিতে অমরত্বের স্বাদ পেয়েছেন জর্জ অরওয়েল 

পর্ব ৪৮: টেবিলই ওকাম্পোর স্মৃতি, আত্মজীবনীর ছেঁড়া আদর

পর্ব ৪৭: শেষ বলে কিছু কি থাকতে পারে যদি না থাকে শুরু?

পর্ব ৪৬: যে টেবিলে দেবদূত আসে না, আসে শিল্পের অপূর্ব শয়তান

পর্ব ৪৫: ফ্রেডরিক ফোরসাইথকে ফকির থেকে রাজা করেছিল অপরাধের পৃথিবী

পর্ব ৪৪: আম-বাঙালি যেভাবে আমকে বোঝে, দুই আমেরিকান লেখিকা সেভাবেই বুঝতে চেয়েছেন

পর্ব ৪৩: দু’পায়ে দু’রকম জুতো পরে মা দৌড়ে বেরিয়ে গেল, ইবতিসম্‌-এর উপন্যাসের শুরু এমনই আকস্মিক

পর্ব ৪২: অন্ধকার ভারতে যে সিঁড়িটেবিলের সান্নিধ্যে রামমোহন রায় মুক্তিসূর্য দেখেছিলেন

পর্ব ৪১: বানু মুশতাকের টেবিল ল্যাম্পটির আলো পড়েছে মুসলমান মেয়েদের একাকিত্বের হৃদয়ে

পর্ব ৪০: গোয়েটের ভালোবাসার চিঠিই বাড়িয়ে দিয়েছিল ইউরোপের সুইসাইড প্রবণতা

পর্ব ৩৯: লেখার টেবিল বাঙালির লাজ ভেঙে পর্নোগ্রাফিও লিখিয়েছে

পর্ব ৩৮: বঙ্গীয় সমাজে বোভেয়ার ‘সেকেন্ড সেক্স’-এর ভাবনার বিচ্ছুরণ কতটুকু?

পর্ব ৩৭: ভক্তদের স্তাবকতাই পাশ্চাত্যে রবীন্দ্র-কীর্তি স্থায়ী হতে দেয়নি, মনে করতেন নীরদচন্দ্র চৌধুরী

পর্ব ৩৬: একাকিত্বের নিঃসঙ্গ জলসাঘরে মারিও ভার্গাস লোসা যেন ছবি বিশ্বাস!

পর্ব ৩৫: জীবনের বাইশ গজে যে নারী শচীনের পরম প্রাপ্তি

পর্ব ৩৪: যা যা লেখোনি আত্মজীবনীতেও, এইবার লেখো, রাস্কিন বন্ডকে বলেছিল লেখার টেবিল

পর্ব ৩৩: ফিওনার সেই লেখার টেবিল মুছে দিয়েছিল মেয়েদের যৌনতা উপভোগের লজ্জারেখা

পর্ব ৩২: বাঙালি নয়, আন্তর্জাতিক বাঙালির সংজ্ঞায় স্পিভাক এসে পড়বেনই

পর্ব ৩১: প্রতিভাপাগল একটি বই, যাকে দিনলিপি বলে সামান্য করব না

পর্ব ৩০: পতিতালয়ের সেই লেখার টেবিল জাগিয়ে তুলেছিল ইসাবেলের হৃদয়-চেতনা

পর্ব ২৯: পাথরে প্রাণ আনে যে টেবিলের স্পর্শ

পর্ব ২৮: নিজের টেবিলকে কটাক্ষ করি, কেন অ্যানে মাইকেলসের মতো লিখতে পারি না?

পর্ব ২৭: নারীর রাগ-মোচনের কৌশল জানে মিলান কুন্দেরার লেখার টেবিল!

পর্ব ২৬: ভালোবাসা প্রকাশের সমস্ত শব্দ পেরিয়ে গিয়েছিল এলিয়টের লেখার টেবিল

পর্ব ২৫: যে টেবিলে জন্ম নেয় নগ্নতা আর যৌনতার নতুন আলো

পর্ব ২৪: প্রেমের কবিতার ভূত জন ডানকে ধরেছিল তাঁর উন্মাদ টেবিলে, মোমবাতির আলোয়

পর্ব ২৩: যে টেবিল আসলে বৈদগ্ধ আর অশ্লীলতার আব্রুহীন আঁতুড়ঘর!

পর্ব ২২: মহাবিশ্বের রহস্য নেমে এসেছিল যে টেবিলে

পর্ব ২১: গাছ আমাদের পূর্বপুরুষ, লেখার টেবিল বলেছিল হোসে সারামাগোকে

পর্ব ২০: টেবিলের কথায় নিজের ‘হত্যার মঞ্চে’ ফিরেছিলেন সলমন রুশদি

পর্ব ১৯: প্রতিভা প্রশ্রয় দেয় অপরাধকে, দস্তয়েভস্কিকে শেখায় তাঁর লেখার টেবিল

পর্ব ১৮: বিবেকানন্দের মনের কথা বুঝতে পারে যে টেবিল

পর্ব ১৭: ‘গীতাঞ্জলি’ হয়ে উঠুক উভপ্রার্থনা ও উভকামনার গান, অঁদ্রে জিদকে বলেছিল তাঁর টেবিল

পর্ব ১৬: যে লেখার টেবিল ম্যাকিয়াভেলিকে নিয়ে গেছে শয়তানির অতল গভীরে

পর্ব ১৫: যে অপরাধবোধ লেখার টেবিলে টেনে এনেছিল শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে

পর্ব ১৪: লেখার টেবিল গিলে নিচ্ছে ভার্জিনিয়া উলফের লেখা ও ভাবনা, বাঁচার একমাত্র উপায় আত্মহত্যা

পর্ব ১৩: হ্যামনেট ‘হ্যামলেট’ হয়ে বেঁচে থাকবে অনন্তকাল, জানে সেই লেখার টেবিল

পর্ব ১২: রবীন্দ্রনাথের লেখার টেবিল চিনতে চায় না তাঁর আঁকার টেবিলকে

পর্ব ১১: আর কোনও কাঠের টেবিলের গায়ে ফুটে উঠেছে কি এমন মৃত্যুর ছবি?

পর্ব ১০: অন্ধ বিনোদবিহারীর জীবনে টেবিলের দান অন্ধকারের নতুন রূপ ও বন্ধুত্ব

পর্ব ৯: বুড়ো টেবিল কিয়ের্কেগার্দকে দিয়েছিল নারীর মন জয়ের চাবিকাঠি

পর্ব ৮: অন্ধকারই হয়ে উঠলো মিল্টনের লেখার টেবিল

পর্ব ৭: কুন্দেরার টেবিলে বসে কুন্দেরাকে চিঠি

পর্ব ৬: মানব-মানবীর যৌন সম্পর্কের দাগ লেগে রয়েছে কুন্দেরার লেখার টেবিলে

পর্ব ৫: বিয়ের ও আত্মহত্যার চিঠি– রবীন্দ্রনাথকে যা দান করেছিল লেখার টেবিল

পর্ব ৪: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের টেবিল আর তারাপদ রায়ের খাট, দুই-ই ছিল থইথই বইভরা

পর্ব ৩: টেবিলের গায়ে খোদাই-করা এক মৃত্যুহীন প্রেমের কবিতা

পর্ব ২: লেখার টেবিল ভয় দেখিয়েছিল টি এস এলিয়টকে

পর্ব ১: একটি দুর্গ ও অনেক দিনের পুরনো নির্জন এক টেবিল