


‘দাস’ আদিতে শূদ্রদের কাস্ট মার্কার ছিল। মধ্যযুগে চৈতন্য-ধর্মান্দোলনে ব্যাপক মাত্রায় ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য এবং শূদ্ররা ‘দাস’ পদবি গ্রহণ করেন। মহাপ্রভুর নিজের পদবি ছিল ‘মিশ্র’। মিশ্রের অর্থ পণ্ডিতশ্রেষ্ঠ। তিনি দশনামী ভারতী সম্প্রদায়ে সন্ন্যাস নিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে অনেকেই ‘ভারতী’ পদবি আকারে ব্যবহার করছেন। কিন্তু চৈতন্য বা বৈষ্ণব ধর্মানুরাগীরা একচ্ছত্র ‘দাস’ উপাধি নিয়েছেন। পদকর্তা নরহরিদের পারিবারিক উপাধি ছিল ‘দাস’। পিতার নাম নারায়ণদাস। নরহরি নিজে ‘সরকার’ পদবি গ্রহণ করেন।
৫০.
নাম– মানুষের আত্মপরিচয়। উপনাম বা পদবি তার বিশেষ পরিচিতি। গোত্রে আছে রক্তের টান। পদবিতে মেলে বৃত্তি ও সম্মানের স্মৃতি। বংশানুক্রমিক পেশা বা জীবিকা-নির্ভর পদবি হল সূত্রধর, কুম্ভকার, মালাকার ইত্যাদি। শাসনতান্ত্রিক পেশা বা জীবিকা-আশ্রিত পদবি হিন্দু-মুসলমান উভয়ে আজও বহন করে চলেছেন– চৌধুরী, মণ্ডল, বক্সি, মজুমদার, খাঁ, মুন্সি, শিকদার ইত্যাদি।
সম্মান মূলত রাজা-রাজড়া বা সমাজ-ধর্ম-শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত উপাধি-কেন্দ্রিক। এই সূত্রে অনেক ব্রাহ্মণ নিষ্কর গ্রামও সম্মান-দক্ষিণা পেয়েছেন। বংশানুক্রমে সেই গ্রামের মাটির দাপট থেকে তৈরি হয়েছে গাঞী-পদবি। সুতরাং ব্রাহ্মণদের ‘গাঁই’ পদবি মানে এক একটি ভার্চুয়াল গ্রামের নীরব উপস্থিতি।
পদবির প্রত্নরূপ জাতি-স্মারক বা কাস্ট মার্কার। মনুস্মৃতি বা বৃহদ্ধর্ম পুরাণ থেকে জানা যায়, চতুর্বর্ণের জন্য স্মারক শব্দ নামের অন্তে বসত। ব্রাহ্মণদের জন্য ‘শর্মা’ বা ‘দেবশর্মা’। শূদ্ররা ব্যবহার করতেন ‘দাস’। ক্ষত্রিয়দের ‘বর্মা’। যেমন বাঁকুড়ার শুশুনিয়া পাহাড়লিপিতে উল্লিখিত রাজা চন্দ্রবর্মন। ক্ষমতার অলিন্দে কাস্ট মার্কারগুলিও দোলাচল। বৈশ্যদের ‘ভূতি’র সূত্রে থানেশ্বরের রাজা ‘পুষ্যভূতি’ হলেও, তাঁরা যখন সার্বভৌম রাজশক্তির অধিকারী হলেন তখন ‘বর্ধন’– রাজ্যবর্ধন, হর্ষবর্ধন ইত্যাদি।

একই অবস্থা দেখা যায় ব্রাহ্মণদের ক্ষেত্রে। প্রাচীনকালে অনেক রাজা ‘পরমভট্টারক মহারাজাধিরাজ-চক্রবর্তী’ সার্বভৌম উপাধি ধারণ করতেন। শাস্ত্রজ্ঞ ব্রাহ্মণ যখন রাজ-ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেন তখন তিনিও হয়ে গেলেন ‘চক্রবর্তী’। অনেকের মতে পরবর্তীকালে টোল চতুষ্পাঠীতে শ্রেষ্ঠ তার্কিক স্কলার হিসাবে সম্মানিত ‘চক্রবর্তী’ উপাধি হল বংশানুক্রমিক পদবি।
পরমভট্টারক ও ভট্টাচার্য– দুই ভট্টের মূলে সংস্কৃত ‘ভর্তৃ’ শব্দ বিদ্যমান। যেমন কবি ভর্তৃহরি। আদি অর্থ– ধারণ করা, পোষণ করা বা রক্ষা করা। ‘ভর্তৃ’ থেকে প্রাকৃতে ‘ভট্ট’। অর্থ তখন বেদজ্ঞ পণ্ডিত। রাজারা ‘পরমভট্টারক’ হলেন তরবারির জোরে। ব্রাহ্মণদের সেটা মেধার জোরে পাওয়া সাম্মানিক; ভট্ট + আচার্য অর্থাৎ ভট্টাচার্য।
ঐতিহাসিক তাম্রশাসনগুলিতে দেখা যায় সেকালে ব্রাহ্মণদের পদবি ছিল না। বরং জাতি-স্মারক ‘শর্মা’ বা ‘স্বামী’র ব্যবহার দেখা যায় আকচার; যেমন– উন্মীলনস্বামী, ব্রহ্মবীরস্বামী কিংবা অহিশর্মা, মঘশর্মা, হিমশর্মা, হরিশর্মা ইত্যাদি। অথচ পেশার দিক থেকে কেউ ছিলেন পুরোহিত কেউ বা পণ্ডিত-উপাধ্যায়।
মনুসংহিতা রচনার পূর্বে খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে গ্রিক দূত মেগাস্থিনিস ‘ইন্ডিকা’য় প্রাচীন ভারতের সমাজকে সাতটি শ্রেণিতে বিভাজন করেছিলেন। তার মধ্যে প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি হিসাবে চিহ্নিত করেন শিক্ষক দার্শনিক বা উপাধ্যায়কে।

‘উপাধ্যায়’ থেকে ‘ওঝা’ পদবিতে এলেও পণ্ডিতের সমার্থক শব্দ। কবি কৃত্তিবাস ওঝা তাঁর রামায়ণপাঁচালিতে পণ্ডিত ভণিতা দিয়েছেন:
‘কৃত্তিবাস পণ্ডিত কবিত্বে বিচক্ষণ।
লঙ্কাকাণ্ডে গাহিলেন গীত রামায়ণ।।’
ওঝা ক্রমশ অর্থকৌলীন্য হারিয়ে যখন সোজা রোজা বা ওস্তাদে পরিণত হল, তখন সে অলৌকিক ক্ষমতা-সম্পন্ন ব্যক্তি। কবি ঘনরাম চক্রবর্তী তাঁর ধর্মমঙ্গল কাব্যে লিখেছেন,
রেতে করে মানুষ দিনে করে অজা।
রানি বলে দূর কর হেন ঘরে ওঝা।।
কুলজি গ্রন্থকারদের মতে: উপাধ্যায়ের সঙ্গে যখন বসতগ্রাম-নাম যুক্ত হল, তখন থেকে মুখোপাধ্যায়, চট্টোপাধ্যায়, বন্দ্যোপাধ্যায়, গঙ্গোপাধ্যায় পদবির জন্ম। বিশেষ সুযোগসুবিধা-প্রাপ্ত গ্রামে বংশানুক্রমিক বসবাস করার ফলে সুনির্দিষ্ট গ্রামনাম হয়ে উঠল বংশগত পদবি।
এ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল– বিয়ে-থা শ্রাদ্ধ পুজো-আচ্চায় বংশগত পদবিকে পিছনে ঠেলে সাময়িকভাবে তাঁরা ‘শর্মা’ জাতি-স্মারক ব্যবহার করেন। ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তাঁর পদবি ‘বন্দ্যোপাধ্যায়’ হলেও স্বাক্ষর করতেন ‘শর্মা’ ।

কুলজি ও কারিকাগুলি গাঞী পদবির সমর্থনে ব্রাহ্মণকে বহিরাগত বলেছেন। ব্রাহ্মণরা না কি রাজা আদিশূরের সময়ে বাংলায় এসে রাজা কর্তৃক নির্দিষ্ট গ্রাম লাভ করেছেন। বংশানুক্রমিক গ্রামে বসবাস করার সূত্রে ‘গাঞী’ বা ‘গাঁই’ পদবি নিয়েছেন। রাঢ় অঞ্চলে ৫৬ বা ৫৯টি গ্রাম এবং বারেন্দ্র অঞ্চলে ১০০টি গ্রাম কালক্রমে সুনির্দিষ্ট ‘গাঁই’ পদবির জন্ম দিয়েছে।
কায়স্থদের সম্পর্কে অনুরূপ কথা বলা হলেও, তাঁদের গোত্র আছে কিন্তু গাঁই-পদবি নেই। আবার কুলজি ও কারিকাতালিকায় পূর্ববঙ্গেরও কোনও গ্রাম নেই। বলাবাহুল্য ঐতিহাসিকেরা রাজা আদিশূরের অস্তিত্বকে অনৈতিহাসিক এবং কুলজি-কারিকার তথ্যকে অপ্রামাণিক মনে করেন।
সুতরাং বিষয়টি ঐতিহাসিক দিক থেকে বিবেচ্য।
ঐতিহাসিক তাম্রশাসনপট্টগুলিতে ভূমিদান বা গ্রামদান প্রসঙ্গে একাধিক ব্রাহ্মণ নাম পাওয়া যায়। শাসনলিপিগুলিতে উল্লিখিত কয়েকটি শব্দ নামের পূর্বে কিংবা পরে যুক্ত হয়েছে। যেমন– ভট্ট উন্মীলন স্বামী, বন্দ্য জ্ঞানমিত্র, বন্দ্য সংঘমিত্র, বৃহচ্চট ইত্যাদি। ‘ভট্ট’ থেকে ভট্টাচার্য, ‘বন্দ্য’ থেকে বন্দ্যোপাধ্যায়, ‘চট্ট’ থেকে চট্টোপাধ্যায়– এমন একটা সরলীকরণ অনেকেই করেছেন। অধ্যাপক নীহাররঞ্জন রায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দোলাচল থেকেও মন্তব্য করেছেন, ‘…ষষ্ঠ-সপ্তম শতকেই এই গাঞী পরিচয়ের রীতি প্রচলিত হইয়াছিল’। (বাঙ্গালীর ইতিহাস, আদিপর্ব, পৃ. ২২১)
গাঁঞীনাম যে ত্রয়োদশ শতকের পূর্ব থেকেই প্রচলিত হয়েছিল– তার প্রমাণ পাওয়া যায় এগারো শতকের ভট্ট ভবদেবের ভুবনেশ্বর প্রশস্তি ও তেরো শতকের আদাবড়ি তাম্রশাসন থেকে। আদাবাড়ি শাসনে নয়টি গাঞীর উল্লেখ আছে, যার মধ্যে রাঢ়ের ৫৬ তালিকার অন্তর্গত গাঞী-পদবির নাম দেখা যায়, যেমন– মাসচটক মূলগ্রাম ইত্যাদি। আবার পূর্ববঙ্গেও যে গাঞীনাম প্রচলিত ছিল তার প্রমাণ পাওয়া যায় এই তাম্রশাসন থেকে।
গাঁই পদবিগুলি খুবই কৌতূহল উদ্রেককারী। এক-একটি গাঁইনাম ভূগোল ইতিহাস ক্ষমতায়ন অর্থনীতি সংস্কৃতির ব্যাসকূট। অবশ্য গাঁইনাম শুধু বাঙালির ক্ষেত্রে নয়, ভারতের বহু স্থানের জনজাতির সঙ্গে সম্পর্কিত। যেমন শচীন তেন্ডুলকর বা লতা মঙ্গেশকর– তাঁদের পদবির মূলে আছে তেন্ডুল বা মঙ্গেশ গ্রামের উপস্থিতি। ‘কর’ ক্রমশ প্রত্যয়ে পরিণত হয়েছিল। করের অর্থ হল অধিবাসী বা বাসিন্দা।

দক্ষিণ ভারতের অনেক ব্যক্তিনাম মস্ত একখানা ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট। নামের মধ্যেই ক্ষয়িত হয়ে আছে গ্রাম, বংশের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব কিংবা বাবার নাম-সহ নিজের নাম ও ধর্মীয় পরিচয়ের শিকড়। যেমন দক্ষিণী যোগগুরু বি কে এস আয়েঙ্গার। এখানে ‘বি’ মানে কর্ণাটকের বেল্লুর গ্রাম। ‘কৃষ্ণমাচারী’ হলেন পিতা। নিজের নাম সুন্দররাজ। ‘আয়েঙ্গার’ হল উপধর্ম। এপিজে আব্দুল কালামের নামকরণটি যেন খণ্ডিত বংশলতিকা। ‘আবুল’ হলেন বংশের আদিপুরুষ। ‘পাকির’ পিতামহ, ‘জৈনুল আবেদিন’ পিতার নাম। নিজের নাম আব্দুলকালাম।
তবে নামের মধ্যে বৃত্তি বা পদবির কোনও উল্লেখ নেই। দক্ষিণ ভারতে গ্রামের তুলনায় প্রাধান্য পেয়েছে বংশলতিকা। গ্রামনামটি ক্রমশ ক্ষয়ে গিয়ে আদ্যক্ষরে পরিণত হয়েছে। বাংলায় গাঞী পদবিতে গ্রাম প্রাধান্য পেলেও স্থবির কাঠামো নয়। সময়ের সঙ্গে বিবর্তিত হয়েছে।
বঙ্গে ব্রাহ্মণদের পদবি বিবর্তন শুরু হয়েছিল নিজের বাসগ্রাম থেকে। কালক্রমে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় অভিঘাতে ব্রাহ্মণরা নিজস্ব গাঁই পদবি পরিত্যাগ করে উচ্চতর প্রশাসনিক কিংবা ধর্মীয় পদমর্যাদার পদবি গ্রহণ করেন। দ্বাদশ গোপালের অন্যতম কমলাকর পিপিলাই ছিলেন রাঢ়ের পিপ্পলি গাঁই পদবিধারী। পরবর্তীকালে তাঁর বংশধররা মাহেশের জগন্নাথের সেবার অধিকার পেয়ে অধিকারী হলেন। আরও পরে গুরুগিরি করার সুবাদে পদবি নিলেন ঠাকুর।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরদের আদি নিবাস ছিল বর্ধমানের হাটগোবিন্দপুরের নিকটবর্তী লুপ্তপ্রায় কুশগ্রামে। সেই সূত্রে তাঁদের আদি পদবি ‘কুশারী’। পরে হলেন ‘ঠাকুর’। ইংরেজরা ঠাকুরকে ‘টেগোর’-এ রূপান্তরিত করলেন। অনেক ব্রাহ্মণ একইভাবে জমিদারি সূত্রে গাঁই পদবি ত্যাগ করে হলেন হাজরা, রায়চৌধুরী, চট্টরাজ, রাজচক্রবর্তী ইত্যাদি।
‘ঠাকুর’ কোনও সংস্কৃত শব্দ নয়। ভাষাতাত্ত্বিকদের মতে তুর্কি ‘তিগির’ শব্দ থেকে ঠাকুরের উদ্ভব। প্রাকৃতে লোনওয়ার্ডটি ‘ঠক্কুর’-এ পরিণত হয়েছিল। মূলত সামন্তান্ত্রিক উপাধি। চর্যাগীতিতে ‘ঠাকুর’ আছে স্বমহিমায়। পরে টাইটেলে পরিণত হয়। বর্ণরত্নাকরের লেখক জ্যোতিরীশ্বর বা বিদ্যাপতির পদবি ঠক্কুর।

‘ঠাকুর’ ক্রমশ ‘গুরুঠাকুর’-এ পরিণত হন। ঠাকুরের ভাবসূচক ‘ঠাকুরালি’ শব্দটি মধ্যযুগীয় সাহিত্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। ‘ঠাকুর’ থেকে আরেকটি পদবির জন্ম ‘ঠাকুরতা’। ‘তা’ শব্দটি ‘তাত’-র ক্ষয়িত রূপ। রাঢ় অঞ্চলে যাঁরা সমাজপতি হতেন– তাঁরা এই পদবি গ্রহণ করতেন। পূর্ববঙ্গীয় কায়স্থদের মধ্যে ঠাকুরতার প্রচলন আছে বেশি।
সাবর্ণদের আদি গাঞী পদবি ছিল ‘গঙ্গুল’ থেকে গঙ্গোপাধ্যায়। পরে তাঁরা মোগলদের কাছ থেকে যখন জমিদারি পেলেন, তখন থেকে হয়ে গেলেন সাবর্ণ রায়চৌধুরী। রাঢ় বাংলায় ব্রাহ্মণদের গোত্র সেভাবে প্রাধান্য না পেলেও একমাত্র সাবর্ণ ব্যতিক্রম।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, ব্রাহ্মণরা ক্রমশ ভূগোলের মায়া ত্যাগ করে রাষ্ট্রীয় বা ধর্মীয় সুযোগসুবিধা লাভের জন্য গাঁই পদবি দ্রুত পরিত্যাগ করেছেন। কায়স্থ বৈশ্য বা অন্যান্যদের ক্ষেত্রে এর ঠিক উল্টোটা ঘটেছে। তাঁদের আদি পদবির সঙ্গে গাঁই নামের কোনও সম্পর্ক ছিল না। পরবর্তীকালে উচ্চতর অর্থনৈতিক সুযোগসুবিধা বা অন্যান্য কারণে ক্রমশ ভূমির সঙ্গে তাঁরা যুক্ত হয়েছেন। গাঁইনামের বদলে ‘সমাজ’ বা ‘থাক’এর জন্ম দিয়েছেন। কায়স্থদের ভূমি বা ভূগোলের সঙ্গে সংযুক্ত চারটি সমাজ বা থাক আছে– উত্তর রাঢ়ী, দক্ষিণ-রাঢ়ী, বঙ্গজ এবং বারেন্দ্রী।
তাম্রশাসনগুলিতে ব্রাহ্মণদের নামের উপান্তে ‘স্বামী’ বা ‘শর্মা’র মতো অন্যান্য জনজাতিরও অন্ত্যনাম দেখা যায়। দত্ত, দেব, বিষ্ণু, নন্দী, বসু, মিত্র, ঘোষ, চন্দ্র, নাগ, নাথ, কুণ্ডু, ভদ্র, বর্মণ, দাস ইত্যদি। শুধু তাম্রশাসন নয়, মহাকাব্য এবং পুরাণ সাহিত্যে এর নিদর্শন আছে, যেমন রামায়ণের বিশ্বামিত্র, মহাভারতের ভীমসেন, সহদেব, শিশুপাল কিংবা পুরাণের উগ্রসেন তার দৃষ্টান্ত।

অন্ত্যনামগুলি পরবর্তীকালে ব্রাহ্মণেতর জনজাতির পদবিতে পরিণত হয়েছে। ঐতিহাসিক নীহাররঞ্জন রায় এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন, ‘ব্রাহ্মণেতর বর্ণের লোকেরাই এই অন্ত্যনামগুলি ব্যবহার করিতেন’ (পৃ. ২২৩)। অন্ত্যনামগুলি বিমূর্ত গুণবাচক বিশেষণ বা শৌর্য-বীর্য কিংবা কুলধর্মের স্মারক।
দক্ষিণ ভারতে নামের সঙ্গে যুক্ত ধর্মীয় স্মারক যেমন ‘আয়েঙ্গার’, ঠিক তেমনই যাঁরা সূর্য উপাসক তাঁরা হলেন ‘মিত্র’। চন্দ্র উপাসকেরা ‘চন্দ্র’, নাগধর্মের ক্ষেত্রে ‘নাগ’, নাথধর্মের ‘নাথ’ ইত্যাদি। ‘বসু’ পদবিতে অষ্টবসুর স্মৃতি আছে। বিশেষ করে মহাভারত পুরাণে উল্লিখিত উপরিচরবসুর নাম উল্লেখযোগ্য। এছাড়া জৈন ও বৌদ্ধধর্মের প্রভাব পড়েছে। ভদ্র, শীল, নন্দী ইত্যাদি উপনামগুলি বৌদ্ধ বা জৈনধর্মের স্মারক বলে পণ্ডিত ক্ষিতিমোহন সেন মনে করেন।
ধর্মীয় স্মারকের পাশাপাশি পেশারও পরিচয় পাওয়া যায়। ‘কায়স্থ’ শব্দের অর্থ হল রাজার কায়া বা শরীরে থাকেন যিনি। অর্থাৎ রাজ্যের প্রশাসনিক কায়া বা শরীর হল কায়স্থ। তাঁদের আরেকটি নাম ছিল ‘করণ’; করণ-কায়স্থ। ‘করণ’ শব্দের অর্থ খোদাইযন্ত্র, যেমন করণিক। আসলে এঁরাই ছিলেন আদি লিপিকর। করণ– সেকালের পেন বা কলম। এটাই তাঁদের গৌরব স্মারক। ভাঁড়ুদত্ত যখন কালকেতুর কাছে গিয়েছিলেন তখন কানে গোঁজা ছিল গৌরব স্মারকটি: ‘শ্রবণে কলম খরসান’।
কায়স্থদের মধ্যে যাঁরা গুপ্তচর বিভাগকে পরিচালনা করতেন তাঁরা হলেন ‘গুপ্ত’ পদবিধারী। আয়ুর্বেদের গুপ্ত-রোগ-চিকিৎসক বৈদ্যরাও ‘গুপ্ত’ পদবি নিয়েছিলেন। কায়স্থ বাংলার খাঁটি বুদ্ধিজীবী জনজাতির উদাহরণ। দেবীসরস্বতী ও চিত্রগুপ্ত তাঁদের অন্যতম আরাধ্য দেবতা। কায়স্থ-বুদ্ধিকে অনেকেই ভয় করতেন। চৈতন্যচরিতামৃতে রঘুনাথদাস প্রসঙ্গে তার ইঙ্গিত আছে। একইভাবে লোকপ্রবাদে কায়স্থ-বুদ্ধিকে সমীহ ও ভয়ের কথা পাওয়া যায়–
‘কায়েত মরে জলে ভাসে।
কাক বলে কোন ছলে আসে।’
‘সেন’ পদবির মধ্যে সেনা বা সেনাপতির স্মৃতি আছে। ‘সাহা’ পদবির মূল উৎস সাধু অর্থাৎ বণিক, ‘সাহা’ থেকে ‘সাউ’ হয়েছেন অনেকে।

‘ঘোষ’ শব্দের আদি অর্থ আওয়াজ বা ধ্বনি। আদি পশুপালক আহীর গোপদের পশু রাখার গোশালা ও চারণের জন্য ‘ডেন্টাল ক্লিক সাউন্ড’ করার সূত্রে তাঁরা হলেন গোয়ালা-ঘোষ। পরে তাঁদের বৃহত্তর অংশ কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত হবার ফলে ‘সদগোপ’। পশুপালক থেকে ভূমির মালিক। ফলে সম্মানও বাড়ল। ‘সৎ’ যুক্ত হলেও আদি পদবি ‘ঘোষ’কে আঁকড়ে থাকলেন। বর্ধমানের ইতিহাসে গোপরাজাদের বিরাট দাপট ছিল। তাম্রশাসনের ঈশ্বরঘোষ ও ধর্মমঙ্গলের ইছাইঘোষ উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।
একইভাবে কায়স্থদের একাংশ যখন রাজ-আদেশ পাঠ করে জনসম্মুখে জানাতেন, সেই সূত্রে তাঁদের পদবি হল ‘ঘোষ’। ঘোষ অধ্যুষিত (গোপ) গ্রামের পাশে ব্রাহ্মণদের গ্রাম ‘ঘোষুলি’ থেকে গাঁইপদবি ‘ঘোষাল’-এর জন্ম।
তবে শেষপর্যন্ত ব্রাহ্মোণেতর জনজাতি মাটির টানেই ফিরে এসেছেন নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে বসবাস করার সূত্রে। যেমন বালির ‘দত্ত’, পাটুলি শেওড়াফুলির ‘ঘোষ’, আকনা বালি প্রভৃতি স্থাননামের সঙ্গে তাঁরা যুক্ত হয়েছেন। ব্রাহ্মণ যখন ভূগোলকে বিস্মৃত হয়ে বিমূর্ত হয়েছেন, ব্রাহ্মণেতর উচ্চবর্ণরা তখন বিমূর্ত থেকে ভূগোলের বন্ধনে বাঁধা পড়েছেন।
সব গ্রামনাম বা গাঞী থেকে যে পদবির জন্ম হয়েছে– এমন কথা বলা অনৈতিহাসিক। অন্যতম উদাহরণ– বন্দ্যোপাধ্যায় চট্টোপাধ্যায় মুখোপাধ্যায় ভট্টাচার্য ইত্যাদি। ড. সুকুমার সেন মনে করেন, বাঁড়ুজ্জ্যে মুখুজ্জ্যে চাটুজ্জ্যে পদবিগুলি গ্রামনাম থেকে আসেনি। ব্রাহ্মণ মহাপণ্ডিত বা উপাধ্যায় যখন রাজসভায় হস্তিবেষ্টিত হয়ে সোনার ঘড়ায় করে ঢালা জলে অভিষিক্ত হতেন, তখন তিনি ‘গজঘটা বন্দ্যঘটীয়’ বলে বিখ্যাত হতেন। (বাংলার স্থাননাম)।
‘বন্দ্য’ শব্দের অর্থ বন্দনীয় এবং রাঢ়ীদের ‘ঘটি’ বলার মূল কারণ এখানেই নিহিত। যে ব্রাহ্মণপণ্ডিত পরিব্রাজক বা ভ্রাম্যমান হতেন, তার নাম চাটবৃত্তি। এখান থেকে চট্টোপাধ্যায় পদবির জন্ম। প্রাচীনকালে এমন ভ্রাম্যমান একাধিক দিগবিজয়ী পণ্ডিতের সাক্ষাৎ মেলে। হয়তো তাঁদের স্মৃতি আছে চাটবৃত্তির মধ্যে। মুখুটির মূলে রয়েছে ‘মুখ্যভট্ট’ বা পুরাণপাঠক।
তাম্রশাসনে উল্লিখিত বন্দ্যজ্ঞানমিত্র বা বন্দ্যসঙ্ঘমিত্রের পরে স্বামী বা শর্মা নেই। ‘বন্দ্য’র সঙ্গে যোগ আছে বৌদ্ধ শ্রমণ সংস্কৃতির। পরম পূজনীয় আচার্যদের ক্ষেত্রে ‘বন্দ্য’ যোগ করা প্রচলিত প্রথা। নেপালের বজ্রযান ও মহাযান বৌদ্ধসমাজে উচ্চস্তরের গৃহস্থ বৌদ্ধ পুরোহিতদের একাংশের পদবি হল ‘বন্দ্য’।

স্থাননামতত্ত্বের ইতিহাসে ব্যাক ফরমেশনের মূলকথা হল শক্তিশালী গুণবাচক প্রাতিষ্ঠানিক উপাধি থেকে গ্রামনামের রূপান্তর বা গ্রামপত্তন। মধ্যযুগে বৈষ্ণব শ্রীপাট শ্রীখণ্ডের নাম হয়েছিল বৈদ্যখণ্ড। আদতে গ্রামের আদি নাম খণ্ডগ্রাম। অমরকোষের টীকা রচয়িতা ‘বন্দ্যঘটীয়’ সর্বানন্দের নামের শেষে ‘স্বামী’ বা ‘শর্মা’ নেই। ‘বন্দ্যঘটীয়’ বিশেষণ বাচক শব্দ। বন্দ্যঘাট গ্রামনিবাসী নন। বন্দ্যঘটীয়-এর ‘ঘটীয়’ প্রত্যয়টি প্রমাণ করে শক্তিশালী আভিজাত্যের বিশেষণ। এই কারণে বন্দ্যঘাটী মুখুটি ব্যাক ফরমেশনে সৃষ্ট গ্রাম।
‘দাস’ আদিতে শূদ্রদের কাস্ট মার্কার ছিল। মধ্যযুগে চৈতন্য-ধর্মান্দোলনে ব্যাপক মাত্রায় ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য এবং শূদ্ররা ‘দাস’ পদবি গ্রহণ করেন। মহাপ্রভুর নিজের পদবি ছিল ‘মিশ্র’। মিশ্রের অর্থ পণ্ডিতশ্রেষ্ঠ। তিনি দশনামী ভারতী সম্প্রদায়ে সন্ন্যাস নিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে অনেকেই ‘ভারতী’ পদবি আকারে ব্যবহার করছেন। কিন্তু চৈতন্য বা বৈষ্ণব ধর্মানুরাগীরা একচ্ছত্র ‘দাস’ উপাধি নিয়েছেন। পদকর্তা নরহরিদের পারিবারিক উপাধি ছিল ‘দাস’। পিতার নাম নারায়ণদাস। নরহরি নিজে ‘সরকার’ পদবি গ্রহণ করেন। পরবর্তী বংশধররা দাস, সরকার পরিহার করে গুরুগিরির সুবাদে ‘ঠাকুর’ পদবি নিয়েছেন।
কবি গোবিন্দদাস ছিলেন ‘সেন’ পদবির অধিকারী। বাবার নাম চিরঞ্জীবসেন। গোবিন্দ কবি-খ্যাতির জন্য পেয়েছিলেন ‘কবিরাজ’ উপাধি। যদিও বৈদ্যরা মধ্যযুগে চিকিৎসাশাস্ত্র কাব্যের আকারে লিখতেন বলেই হয়তো উপাধি হল কবিরাজ। দুই কবিরাজ মিশে আছে গোবিন্দদাসের মধ্যে। বলরামদাস জ্ঞানদাস প্রমুখরা বিভিন্ন জনজাতির হলেও একচ্ছত্র ‘দাস’ উপাধি নিয়েছেন। মহাভারত রচয়িতা কাশীরাম ছিলেন ‘দেব’ পদবির কায়স্থ। তিনিও বৈষ্ণবধার্মাশ্রিত হয়ে দাসে পরিণত হয়েছেন।
বড়ু চণ্ডীদাসের ‘বড়ু’ শব্দটি সংস্কৃত নয়। অনার্য ভাষাগোষ্ঠীর ‘বড়ু’ শব্দটির মূলে আছে মন্দিরের সেবাইত বা পূজারি– বাড়ু। উড়িষ্যার লিঙ্গরাজ মন্দিরে বাড়ু পূজারীদের অস্তিত্ব আজও দেখা যায়। বাড়ু ব্রাহ্মণদের সেকালে রাঢ়ের কুলীন ব্রাহ্মণরা নিচু নজরে দেখতেন। এই কারণে বর্ধমানের গ্রামগঞ্জে আজও হেয় করার উদ্দেশ্যে বলা হয় ‘বেঁড়ে বামুন’। ‘বেঁড়ে’ শব্দটি ‘বাড়ু’ বা ‘বড়ু’ থেকে যে এসেছে– সন্দেহ নেই। ‘বড়ু’ থেকে হয়েছে আসামে ‘বড়ুয়া’ পদবির জন্ম।
…………. পড়ুন ঠাকুরদার ঝুলির অন্যান্য পর্ব ………….
পর্ব ৪৯: খিস্তি খেউড়ের ছড়া
পর্ব ৪৮: ভাঁজো আমাদের আদি কৃষি-লোকবিজ্ঞান
পর্ব ৪৭: মাঠ মাটি মানুষ
পর্ব ৪৬: গুজব কিংবা হুপুই: সে যুগের ‘ভাইরাল’
পর্ব ৪৫: সর্প হয়ে দংশন করো, ওঝা হয়ে ঝাড়ো
পর্ব ৪৪: অলৌকিক জলযাত্রা
পর্ব ৪৩: হরেক রকম হুড়ুম
পর্ব ৪২: মাহেশের রথের সারথি
পর্ব ৪১: জগন্নাথের শবরযোগ
পর্ব ৪০: ভিটের ভাস্কর্য
পর্ব ৩৯: হারানো নদীপথ, হারানো জলরেখা
পর্ব ৩৮: বর্ষামঙ্গল
পর্ব ৩৭: তরুর ঠাকুরঘর
পর্ব ৩৬: জাল রাজার রাজনীতি
পর্ব ৩৫: ঢেঁকি মোটেই অকম্মার নয়
পর্ব ৩৪: বহুরূপে সম্মুখে তোমার
পর্ব ৩৩: আলকাপ: বিরল মায়ার স্মৃতিচিহ্ন
পর্ব ৩২: তালবাহার
পর্ব ৩১: পোড়ামাটির শিল্পকে জনপ্রিয় করেছে কাঁঠালিয়ার শিল্পীরা
পর্ব ৩০: মৎস্য দেবতা মৎস্য ভোগ
পর্ব ২৯: কুবের পুজোর আচার থেকেই সোনা কেনা হয় অক্ষয় তৃতীয়ায়
পর্ব ২৮: বৈশাখ বিষ্ণুর প্রিয়, পুরাণের শ্রেষ্ঠ মাস?
পর্ব ২৭: গর্জন থেকেই গাজন
পর্ব ২৬: অসুরদের ফসল বলেই কি আখ বলিপ্রদত্ত?
পর্ব ২৫: যুদ্ধবাজ নয়, বাঙালির রাম করুণরসের
পর্ব ২৪: অগ্রদ্বীপের গোপীনাথ নিয়ে কৃষ্ণচন্দ্র-নবকৃষ্ণের মামলা লন্ডন অবধি গড়িয়েছিল
পর্ব ২৩: কিম্ভূত-কিমাকার মূর্তির নাম কেন ‘কাকতাড়ুয়া’?
পর্ব ২২: দেড় ফুটের ল্যাংচাভোগ ছাড়া রং খেলেন না মদনমোহন
পর্ব ২১: মায়া মমতায় গড়া বাংলা বিয়ের ছড়া
পর্ব ২০: মাদারি কা খেল
পর্ব ১৯: কোনও পসরাই অবিক্রিত পড়ে থাকে না বৈরাগ্যতলার ভাঙামেলায়
পর্ব ১৮: সুর নয়, আদিতে সুরার সঙ্গেই অধিক যোগাযোগ ছিল সরস্বতীর
পর্ব ১৭: পৌষপার্বণের সঙ্গে মিশে গেছে টুসু, সোদরব্রত কিংবা কুড়মালি আইখানযাত্রা
পর্ব ১৬: বাংলার মনসা ও চণ্ডীপুজোর ধারা এসে জগৎগৌরীতে মিলেছে
পর্ব ১৫: রাঢ়ের কবিগানের পালায় হিঁদু হলেন চাঁদ মুহম্মদ, কাশীনাথ মুসলিম
পর্ব ১৪: খেজুর গাছে হাঁড়ি বাঁধো মন
পর্ব ১৩: বৈদিক যুগের ‘স্থালী’-ই আজকের প্লেট, ‘উখ্য’-ই ফ্রাইং প্যান
পর্ব ১২: লোকখেলার মধ্যে মিশে রয়েছে হাজার বছরের ফেলে আসা জীবনের স্মৃতি
পর্ব ১১: অঘ্রানের নবান্ন মূলত নববর্ষেরই উৎসব ছিল
পর্ব ১০: বারবণিতাদের আরাধনার মধ্যে দিয়েই শুরু হয়েছিল কাটোয়ার কার্তিক লড়াই
পর্ব ৯: শিশুঘাতক থেকে কেন শিশুরক্ষক দেবতা হয়ে উঠলেন কার্তিক?
পর্ব ৮: তেনাদের পুজো, তেনাদের মেলা-মোচ্ছব
পর্ব ৭: প্রেত মানেই ভূত বা অতীত, কিন্তু সকল প্রেতই ভূত নয়!
পর্ব ৬: কেবল কালী নন, লৌকিক লক্ষ্মী ঠাকরুনও দাঁড়ান স্বামী নারায়ণের বুকে পা রেখেই
পর্ব ৫: মহিষাসুরমর্দিনী নন, কৃষিপ্রধান বাংলায় আদিপূজিতা ছিলেন শস্যদেবী নবপত্রিকা
পর্ব ৪: পুকুরের দেবতা পুকুরের ভূত
পর্ব ৩: পুকুরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে লোককথা আর লোকবিশ্বাস
পর্ব ২: পৌরাণিক হিন্দু ও বৌদ্ধ সাহিত্যে দেবতা অথবা মানুষের বন্ধু হিসেবেই স্থান পেয়েছে কুকুর
পর্ব ১: সেকালের ডাকাতির গপ্প
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved