Robbar

এক মুখে কবিতা, অন্য মুখে মিছিলের স্লোগান

Published by: Robbar Digital
  • Posted:April 5, 2026 8:16 pm
  • Updated:April 5, 2026 8:16 pm  

সুভাষদার বইপত্র প্রকাশের কাজে বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতার কথা বললেও একজনের কথা এতক্ষণ বলা হয়নি– তিনি গীতাদির নিকটাত্মীয়– দিব্য মুখোপাধ্যায়। দিব্য মুখোপাধ্যায় সুভাষদার বহু লেখা শুধু খুঁজে বের করাই নয়, বই ছাপার বিভিন্ন পর্বে আমাকে প্রভূত সাহায্য করেছেন। তিনি নিজে কবি ও চিকিৎসক হলেও তাঁর আরেকটা পরিচয় আছে গানের জগতে। ১৯৯৫ সালে বইমেলার সময় ‘আশা অডিও’ থেকে বেরনো ‘মহীনের ঘোড়াগুলি সম্পাদিত’ ‘আবার বছর কুড়ি পরে’ ক্যাসেটটিতে তাঁর লেখা ও গাওয়া ‘আকাশে ছড়ানো মেঘের কাছাকাছি’ গানটি বিপুল সমাদর পেয়েছে।

সুধাংশুশেখর দে

৭০.

সুবীর রায়চৌধুরী সুভাষদার ‘কবিতাসংগ্রহ’-এর সঙ্গে সঙ্গেই ‘গদ্যসংগ্রহ’-এর কাজও শুরু করেছিলেন। তাঁর অকাল প্রয়াণে ‘কবিতাসংগ্রহ’-এর মতোই ‘গদ্যসংগ্রহ’ সম্পাদনার কাজও শেষ হয়নি। ‘কবিতাসংগ্রহ’-এর দু’টি খণ্ডের প্রকাশ সুবীরদা দেখে গিয়েছেন। বাকিগুলোর কাজ তাঁর অবর্তমানে সৌরীনদা করেছেন, সেকথাও বলেছি। কিন্তু ‘গদ্যসংগ্রহ’-এর ক্ষেত্রে সুবীরদা কেবল পরিকল্পনার স্তর পর্যন্তই দেখে গিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণের পর তাঁর আর একজন বন্ধু ও সহকর্মী, বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক অমিয় দেবের সম্পাদনায় ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয় সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘গদ্যসংগ্রহ’-এর প্রথম খণ্ডটি।

সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের গদ্যসংগ্রহ

সুভাষদার ‘গদ্যসংগ্রহ’ কী পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত হবে, সেটা এবং প্রথম খণ্ডের সম্পাদনা কাজের অনেকটাই সুবীরদা করে গিয়েছিলেন। তাঁর পরিকল্পনা মতোই অমিয়দা প্রথম খণ্ডটি গড়ে তোলেন। তবে এই সংগ্রহে অমিয় দেবকে সাহায্য করেছেন প্রণব বিশ্বাস। বইয়ের বিপুল ‘গ্রন্থপরিচয়’ অংশটি প্রণবদার তৈরি করা। তাঁর সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে অমিয়দা লিখেছেন– ‘এই দায়িত্বের এক বৃহৎ অংশের ভার নিয়েছেন তরুণ প্রণব বিশ্বাস। গ্রন্থপরিচয় তাঁরই গবেষণাপ্রসূত এবং এর জন্যে তিনি যে-পরিশ্রম করছেন তার মর্ম আমার প্রৌঢ়তার অভিমানে আমি সবটা বুঝে উঠতে পারছি কিনা জানি না। সুবীর রায়চৌধুরী বুঝতেন– প্রৌঢ়তার অভিমান তাঁর ছিলো না, প্রণব বিশ্বাসের মতো তিনিও তথ্যের সন্ধানে সারা শহর ঢুঁড়ে বেড়াতে পারতেন। এই খণ্ডের গ্রন্থপরিচয়ে যে-ফাঁক থেকে গেলো তার দায় আমার, কারণ অত্বরতার পূর্ণ সুযোগ আমি প্রণব বিশ্বাসকে দিইনি। আশা করছি পরবর্তী সংস্করণে এই ফাঁকটুকু ঘোচানো যাবে।’

সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘গদ্যসংগ্রহ’-এর প্রথম খণ্ডটিতে আছে তাঁর ছ’-খানি গদ্য সংকলন। অমিয় দেবের ভাষায়– ‘সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের বঙ্গদর্শন যার সূত্রপাত হয়েছিলো ১৯৪২-৪৩-এ সাংবাদিক হিশেবে এবং যার আপাত সমাপ্তি ঘটেছে সাতের দশকের শেষদিকে।’

১৯৯৪ সালে দে’জ পাবলিশিং থেকে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘গদ্যসংগ্রহ’-এর প্রথম খণ্ডটি প্রকাশের সময় সুভাষদা তাঁর ছোট্ট প্রাক্‌কথনে নিজের ছ’-টি গদ্য সংকলন প্রসঙ্গে খুব সংক্ষেপে লিখেছিলেন–

“সাহিত্যে আমার হাতেখড়ি হয় গদ্য দিয়ে। ‘ধ’রে ভদ্র’ বলে বাংলায় একটা কথা আছে। অনুরাগীদের মন রাখতে গদ্য ছেড়ে যখন পদ্য ধরলাম, তখন গদ্য আমাকে ছেড়ে চলে গেল। তারপর কলম ছেড়ে আবার যখন কলম ধরলাম তখন আমি পার্টির কাগজে। সোমনাথ লাহিড়ী আমার ঘাড়ে জোয়াল দিয়ে গদ্য না লেখালে এবং লিখতে না শেখালে আমার কলম দিয়ে আবার কখনও গদ্য বার হত কিনা সন্দেহ।

গ্রামাঞ্চল আর শিল্পাঞ্চলে ঘুরে ঘুরে পার্টির কাগজে সেই সময় কয়েকটা রিপোর্টাজ  লিখেছিলাম। জেল থেকে বেরিয়ে বন্ধু দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের তাড়নায় ছোটদের কথা মনে রেখে কিছু কিছু সেই রিপোর্টাজের অন্তর্বস্তু নিয়ে ‘রংমশালে’র জন্যে ‘আমার বাংলা’ লিখি। আমার সেই লেখা পড়ে প্রেমেন্দ্র মিত্র যে কী খুশী হয়েছিলেন বলার নয়।

আমার সবই ঘুরে বেড়িয়ে চোখে দেখে কানে শুনে লেখা।

‘ডাকবাংলার ডায়েরি’ লেখার পেছনে ছিল স্বাধীনতা-উত্তর বাংলায় কতটা কী পরিবর্তন হয়েছে তার খোঁজখবর নেওয়া। ‘নারদের ডায়েরি’, ‘আবার ডাকবাংলার ডাকে’তে আছে তার অনুবর্তন।

‘যখন যেখানে’ জেল থেকে ফিরে লেখা।

বাংলাদেশের যশোর-খুলনায় মুক্তিযুদ্ধের শেষপর্বের চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা থেকে লেখা ‘ক্ষমা নেই’। তখনকার তাৎক্ষণিক ক্রোধ এতদিনের ব্যবধানে কারো কারো কর্কশ লাগতে পারে। লেখক এক্ষেত্রে নিরুপায়। আজকের মন দিয়ে সেদিনের মনের অবস্থা পরিমাপ করা সম্ভব নয়।

আমার কথা এইখানেই ফুরুল।”

মধ্যবয়সে সুভাষ মুখোপাধ্যায়

আগেও বলেছি, সুভাষদা নিজের গদ্য বা কবিতার সংগ্রহে একেবারেই কিছু লিখতে চাইতেন না। সবটাই ছেড়ে দিতে চাইতেন সম্পাদকের ওপর। তবু এই ছোট্ট গদ্যটুকু অমিয়দা লেখাতে পেরেছিলেন।

আনন্দ পাবলিশার্স থেকে ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত ‘কবিতার বোঝাপড়া’ বইটিতে ‘কবিতা কেন লিখেও লিখি না’ নামের গদ্যটিতে সুভাষদা তাঁর কবিতাজীবনের শুরুর দিকের কিছু কথা শুনিয়েছিলেন। সেখানেও তিনি জানিয়েছেন গদ্যেই তাঁর হাতেখড়ি। তবে চেনাজানা মানুষের চাহিদা মেটাতে তিনি না কি কবিতা লেখার চেষ্টা শুরু করেছিলেন। সুভাষদা লিখছেন–

‘কাউকে কিছু বললাম না। কদিন গুম হয়ে থাকলাম। গদ্যও লিখতে পারছি না। লিখতে গেলেই কে যেন চাবুক হাতে নিয়ে বলে, ও কী হচ্ছে। বলেছি না তোমাকে কবি হতে হবে?

আমাদের বাসার পাশেই সে সময়ে বড় একটা পুকুর আর তার চারপাশ ঘিরে ছিল তালগাছ।

আমাদের পাঁচিলের প্রায় গায়েই ছিল ধোপার পাট। জোরে জোরে নিশ্বাস ফেলার শব্দে তারা তাতে তালে তালে কাপড় আছড়াত।

গরমের ছুটিতে সারা দুপুর জেগে গলদঘর্ম হয়ে আমি তখন পদ্যের আরাধনা করছি। হঠাৎ একদিন আমার কলমে পদ্য এসে গেল। বিষয় ছিল ধোপাদের জীবন। চোখে দেখে টোকা। তাতে ছিল কানে শোনা কাপড় আছড়ানোর ছন্দ। এইভাবে বাইরেটা ভেতরে এসে গিয়ে শরীরের মধ্যে একটা রসায়ন গোছের কোনো ব্যাপার ঘটেছিল। সেই পদ্যে ‘বিহান’ কথাটা ব্যবহার করেছিলাম। তার আসল মানে না জেনে।

তাতেই কেল্লা ফতে করেছিলাম। হিতার্থীরা সবাই একবাক্যে বলেছিল– হ্যাঁ, এখন তুমি কবি বটে।”

কোনও এক বক্তৃতাসভায় কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়

নিজেকে নিয়ে এমন মজার কথা সুভাষদার মতো বড় কবিই বলতে পারেন। তবে তাঁর প্রথম যৌবনের গদ্যচর্চা সম্পর্কে তিনি ১৯৮৭ সালে (শ্রাবণ, ১৩৯৪) ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’য় প্রকাশিত তাঁর একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন–

‘…অনেক কষ্টে আদাজল খেয়ে কবিতা লিখতে আরম্ভ করলাম। বার বার লিখি বার বার কাটি। সেগুলো হয়তো কবিতাও বলা যায় না। আর এভাবেই কবিতা লেখার নেশা ধরে যায়। পরে আবার গদ্য লেখা শুরু করি কমিউনিস্ট পার্টির ‘জনযুদ্ধ’ কাগজে লেখার সময়। তখন গদ্য লিখতে খুবই কষ্ট হত। বস্তুত সেই সময় সোমনাথ লাহিড়ী আমাকে গদ্য লেখা শিখিয়েছিলেন। একটা লেখাকে বারো-চোদ্দ বার কাটতেন। সেটা ছিল বিয়াল্লিশ সাল। সে সময় অনেক দিন কবিতা লেখা বন্ধ ছিল [।] গ্রাম ও শিল্পাঞ্চল ঘুরে রিপোর্টাজ লিখতে লাগলাম। লোকের খুব পছন্দ হয়েছিল সে লেখা। সাধারণ মানুষের মুখের কথাই আমার লেখায় ব্যবহার করেছি। এই ভাষাকে লোকে ভীষণ বাহবা দিয়েছে। এই সময়েই নানা ধরনের, নানা বৃত্তিতে নিযুক্ত সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রচুর মেলামেশার সুযোগ পেয়েছি। কৃষক, শ্রমিক, খনি-শ্রমিক, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গোরা সৈন্যদের ছাউনি ও তার আশপাশের লোকজন, দুর্ভিক্ষ, চোরাচালানি ব্যবসা ইত্যাদি সম্পর্কে আমার গল্প তখনকার জনযুদ্ধের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে আছে। চাক্ষুষ দেখাশুনো ও অভিজ্ঞতা থেকে আমার গল্প। যা দেখেছি তার বেশি লিখিনি। বানিয়ে লিখতে ইচ্ছে হয়নি বলেই ছোট গল্প লেখা হয়নি।’

রংমশালে প্রকাশিত ‘আমার বাংলা’ (১৩৫৩)

সুভাষদার আশ্চর্য গদ্যবই ‘আমার বাংলা’র লেখাগুলো প্রকাশিত হয়েছিল ছোটদের কাগজ– ‘রংমশাল’-এ। ১৯৫১ সালে ১১টি গদ্যের এই সংকলন প্রথম প্রকাশিত হয় ‘ঈগল পাবলিশার্স’ থেকে। ‘আমার বাংলা’ বইটি অলংকরণের ছবিগুলো ছিল চিত্তপ্রসাদের আঁকা, সেইসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছিল সুনীল জানার তোলা কয়েকটা ফটোগ্রাফও। যে-পত্রিকায় ‘আমার বাংলা’ প্রকাশিত হয়েছিল, সেই ‘রংমশাল’ কিশোর-পত্রিকাটি একসময় সম্পাদনা করতেন দুই ভাই– দেবীপ্রসাদ ও কামাক্ষীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়। বই হওয়ার সময় বিশিষ্ট ঐতিহাসিক নীহাররঞ্জন রায় লিখেছিলেন–

“ ‘পদাতিক’-কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় বাঙালী পাঠকের কাছে পরিচয়ের অপেক্ষা রাখেন না। সাম্প্রতিক বাংলা কাব্যে নিজের পরিচয় তিনি নিজেই বহন ক’রে এনেছিলেন, এবং দেখামাত্র মনে হ’য়েছিল, সে পরিচয়ে কোন মেকী নেই।

তারপর সুভাষ পদাতিক হ’য়ে বাংলার পথে ঘাটে মাঠে বেরিয়েছিলেন দেশের অগণিত মানুষের পরিচয় নেবার জন্য, তাদের দুঃখ সুখ, আনন্দ বেদনা, আশা আকাঙ্ক্ষাকে হৃদয়ের মধ্যে গ্রহণের জন্য, নিজের যথার্থ পরিচয় পাবার জন্য। সে-সুদীর্ঘ কয়েকটি বৎসর সুভাষের অজ্ঞাতবাস, নাগর সাহিত্যের মুখর কোলাহল থেকে আত্মনির্বাসন। এ-অজ্ঞাতবাস, এ-নির্বাসন ব্যর্থ হয়নি; পদাতিক জীবন তাঁকে নতুন ঐশ্বর্যের সন্ধান দিয়েছে, দেশের মাটির সঙ্গে পরিচয় সাধন করিয়েছে। এই তো যথার্থ আত্মপরিচয়।

‘আমার বাংলা’ এই পরিচয়-সাধনার ইতিহাস এবং সাধন-অভিজ্ঞতার আনন্দময় কাব্য।

দেশকে ও দেশের মানুষকে জানা, হৃদয়ের মধ্যে গ্রহণ করা– এর চেয়ে গভীরতর জীবন-উৎসের কথা আমি জানিনে। সুভাষ সেই উৎসের সন্ধান পেয়েছেন এবং তার সন্ধান আমাদের দিয়েছেন। কোথায় যেন তাঁর সঙ্গে গভীর একটি আত্মীয়তা প্রতিষ্ঠিত হ’লো– এই আমার একান্ত আনন্দময় স্বীকৃতি।”

প্রসঙ্গত বলে রাখি, অনেকটা সময় সুভাষদা নীহাররঞ্জনের প্রতিবেশী ছিলেন। সুভাষদার বাড়ির ঠিকানা ছিল– ‘৫বি ড. শরৎ ব্যানার্জি রোড’ আর নীহাররঞ্জনের ঠিকানা ছিল– ‘১৯ নম্বর ড. শরৎ ব্যানার্জি রোড’। রাজনৈতিক বিশ্বাসে নীহাররঞ্জন আর সুভাষদা খুব কাছাকাছি মানসিকতার না হলেও অনুজ লেখকের প্রতি নীহাররঞ্জনের অনুরাগ ছিল। তাছাড়া নীহাররঞ্জন রায় একসময় আরএসপি-র পত্রিকা ‘ক্রান্তি’ও সম্পাদনা করেছেন (ত্রিদিব চৌধুরীর সঙ্গে যৌথভাবে)। ১৯৪৯ সালে যখন নীহাররঞ্জনের বিখ্যাত বই ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস/ আদি পর্ব’ প্রকাশিত হয় তখন সুভাষদা জেলে। জেলে বসেই তিনি বইটি পড়েন এবং পরে ১৯৫২ সালে বুক ওয়ার্ল্ড থেকে তাঁর করা ‘বাঙালীর ইতিহাস’ নামে নীহাররঞ্জনের সুবৃহৎ বইটির একটি কিশোর সংস্করণ প্রকাশিত হয়।

গদ্যসংগ্রহের প্রচ্ছদ

দে’জ থেকে অমিয় দেবেরই সম্পাদনায় সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘গদ্যসংগ্রহ’-এর দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৯৯৬ সালে বাংলা নববর্ষে। দ্বিতীয় খণ্ডে সংকলিত হয়েছে সুভাষদার পাঁচটি উপন্যাস– ‘হাংরাস’, ‘কে কোথায় যায়’, ‘অন্তরীপ বা হ্যানসেনের অসুখ’, ‘কাঁচাপাকা’ এবং ‘কমরেড কথা কও’। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাসগুলি আসলে আত্মজৈবনিক কি না, এমন একটা প্রশ্ন অমিয়দা দ্বিতীয় খণ্ডের ভূমিকায় তুলে দিয়েছেন। নবারুণ ভট্টাচার্যও তাঁর ‘সুভাষ মুখোপাধ্যায়: বিনম্র ব্যক্তিগত কথায়’ নামক গদ্যে লিখেছেন– “ ‘হাংরাস’ থেকে শুরু করে ‘কমরেড কথা কও’ আমার কাছে একটাই লেখা। ‘অন্তরীপ বা হ্যানসেনের অসুখ’ বোধহয় এই একটাই লেখা-র মধ্যে পড়বে যদিও তাঁর বিষয় অন্য এক কারাগারের মানুষ যার আঘাত, মুক্তি বা স্বাধীনতাও অদৃশ্য এক কারাগারের মধ্যে বন্দী।”

‘সন্দেশ’ পত্রিকার সহ-সম্পাদক হিসেবে সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে(১৯৬১)। ছবি: আমানুল হক

তবে সুভাষদার প্রথম উপন্যাস ‘হাংরাস’ তাঁর ‘গদ্যসংগ্রহ’-এর দু’-বছর আগেই আমি দে’জ থেকে প্রকাশ করেছিলাম। এই উপন্যাসটি তিনি সত্যজিৎ রায়কে উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে ১৯৬১ সাল থেকে অনেকদিন ‘সন্দেশ’ পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। দে’জ থেকে পুনর্মুদ্রিত ‘হাংরাস’ উপন্যাসের ভূমিকায় সুভাষদা জানিয়েছিলেন, একটা উপন্যাস লেখার ইচ্ছে তিনি ২০-২২ বছর ধরে বুকে লালন করেছিলেন–

“…কেমন ক’রে লিখতে হয় না জানায় লেখবার সাহস সঞ্চয় করতে পারিনি। সত্তর সালের পর অবস্থাবৈগুণ্যে ধাক্কা দিয়ে আমাকে জলে ফেলে দিল। ভেসে থাকার জন্যে আমাকে হাত-পা ছুঁড়তেই হল। কিন্তু তাতে উপন্যাস হল কিনা জানি না।

‘হাংরাস’ নামটা অনেকের কাছেই একটু খটমটে লেগেছে। লবণ-আইন ভঙ্গের সময় মেদিনীপুরের যে গ্রামবাসীরা কারাবরণ করেছিল, পরে তাদের মুখে হাঙ্গার-স্ট্রাইক কথাটা ‘হাংরাস’ হিসেবে বলতে শুনেছিলাম। কথাটা তাদের কাছ থেকেই ধার করে নিয়েছি।…”

‘হাংরাস’ প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল বিশ্ববাণী থেকে, ১৯৭৩ সালের এপ্রিলে। আর ‘পরিচয়’ পত্রিকার ১৯৭৪ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় এই উপন্যাসের সমালোচনা করেছিলেন জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়। ‘হাংরাস’ পড়ার মুগ্ধতা জানাতে গিয়ে জ্যোতিদা লিখেছিলেন– “চমকে গিয়েছিলাম প্রথম বিজ্ঞাপনে। দ্বিতীয়বারেও ঘোর কাটেনি। ‘হাংরাস’ মানে কি? … হাঙ্গারস্ট্রাইক কতো অনায়াসে হাংরাস হয়ে ওঠে বিশ সালের আন্দোলনে মাহাতোদের নেতা সরডিহার সেই পাকাচুল চাষীর মুখে। আর একথা কে না জানে, মানুষের বুকে মুখে ভাঙা গড়া ও জন্ম যাদের সেইসব সামান্য শব্দ মুকুটে মণির মতো কবিতার অসামান্য অঙ্গ হয়ে ওঠে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের হাতে, কি আশ্চর্য বিস্ময়ে।… সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘হাংরাস’ নামেই যার মাটির সোঁদাগন্ধ, কারখানা থেকে বেরিয়ে আসা মানুষের শরীরের ঘাম আর কালির স্পর্শ– আসলে হয়তো সেই বিপ্লবের পক্ষে প্রয়োজনীয় মানুষগুলোকে বোঝার, খোঁজার, এক আশ্চর্য আন্দোলনেরই পূর্বাভাস।”

সুভাষদার ‘গদ্যসংগ্রহ’-এর দ্বিতীয় খণ্ডটিতেও বিস্তারিত গ্রন্থপরিচয় তৈরি করে দিয়েছেন প্রণব বিশ্বাস। শুধু তা-ই নয়, প্রণবদা বিভিন্ন সময়ে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের লেখা ছোটগল্প বা গল্পোপম সাতটি লেখা উদ্ধার করে এই খণ্ডে সংযোজিত করেছেন।

‘সুভাষ মুখোপাধ্যায়/ কথা ও কবিতা’ বইয়ের প্রচ্ছদ

১৯৯৮ সালে সুভাষদার ৮০ বছর উপলক্ষে দে’জ পাবলিশিং থেকে সুভাষদাকে নিয়ে একটি সংকলন গ্রন্থ প্রকাশিত হয়– ‘সুভাষ মুখোপাধ্যায়/ কথা ও কবিতা’। এই বইটি সবদিক থেকেই সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের সম্মাননা গ্রন্থ হয়ে উঠেছিল। বইটি সম্পাদনা করেছিলেন শঙ্খ ঘোষ, সৌরীন ভট্টাচার্য, অমিয় দেব, মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রণব বিশ্বাস।

‘সুভাষ মুখোপাধ্যায়/ কথা ও কবিতা’র সম্পাদকমণ্ডলীর পক্ষে ভূমিকা লিখেছিলেন সৌরীনদা। ‘বইয়ের কথা’ শিরোনামে সেই ভূমিকায় সৌরীনদা বলেছিলেন– ‘ভালোবাসার ভাবনা থেকেই এ-বইয়ের ভাবনা। সুভাষদার ভালোবাসাকে ছুঁতে গেলে সুভাষদাকেই ভালোবাসতে হয়।’ তবে লেখার শেষ লাইনে সৌরীনদা আক্ষেপ করে লিখেছিলেন– ‘সুভাষদাকে নিয়ে একটা বই হলো। সুবীর, সুবীর রায়চৌধুরী নেই।’ বাংলা-ইংরেজি দ্বিভাষিক এই সংকলনের লেখক তালিকা ঈর্ষণীয়। ব্যক্তি সুভাষ মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু করে তাঁর সাহিত্যের সব দিক নিয়েই নানা আলোচনা আছে এই বইটিতে।

ব্যক্তি সুভাষদার কথা যখন উঠল তখন একটা মজার কথা বলি।

দুই নাতনি মিউ আর বুমলার সঙ্গে সুভাষ মুখোপাধ্যায়

মহাশ্বেতাদির মতোই সুভাষদার বাড়িও ছিল যেকোনও মানুষের জন্য অবারিত দ্বার। প্রচুর মানুষ আসতেন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। চিঠিপত্র আসত এন্তার। মহাশ্বেতাদির মতোই অনেক অল্প পরিচিত লেখককে সুভাষদা চিঠি লিখে পাঠাতেন প্রকাশকের দপ্তরে– তাদের বই প্রকাশের অনুরোধ করে। এমনই এক লেখককে সুপারিশ করে তিনি আমার কাছে পাঠিয়েছিলেন। সেই লেখকের বই আমি প্রকাশ করে উঠতে পারিনি। কিন্তু বছরখানেক পরে সেই লেখক নিজের চিঠির সঙ্গে তাঁকে লেখা সুভাষদার একটা চিঠির ফটোকপি আমাকে পাঠিয়ে দেন। সেই চিঠিতে সুভাষদা ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর লিখেছিলেন–

“কল্যাণীয়েষু,
তোমার রেজিস্ট্রি-করা চিঠি পেলাম। আমার ল্যাজেগোবরে অবস্থা। ভাঙা কোমর। হাঁটা-চলায় অক্ষম। তাঁর ওপর ইদানিং [য.] বদ্ধ কালা। এখন আমি মনুষ্য সমাজের বাইরে।
প্রকাশকেরা ব্যবসায়ী। বই ছাপিয়ে আর বই বিক্রী ক’রে লাভ করাই তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। বই বিক্রির পয়সায় দে-জ পাবলিশার্স দীঘায় হোটেল খুলেছে।
ওরা বই ছাপাতে রাজী না হলে আমার কিছু করার নেই।
সেক্ষেত্রে অনেকে নিজের পয়সায় বই ছাপায়। কোনো কোনো প্রকাশক সে-বইয়ের ডিস্ট্রিবিউটার হতে রাজী হয়।
আমি এই বয়স আর শরীরের এই অবস্থায় ইচ্ছে থাকলেও তোমাকে সাহায্য করতে অপারগ। আমার এই অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি তুমি মার্জনা ক’রো।
প্রীতিসহ
সুভাষ মুখোপাধ্যায়”

সুভাষদার এই চিঠিটার কথা উঠলে এখনও আমাদের বাড়িতে একটা মজার ঢেউ খেলে যায়। কলকাতার অনেকে মনে করেন, দিঘায় দে’জ পাবলিশিংয়ের হোটেল আছে। তাঁর কারণ হয়তো এই যে, আমাদের কাউন্টার থেকে দিঘার হোটেলের বুকিং করা যায়, বা ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া আমাদের প্রকাশনার লোগো-ছাপা ক্যারিব্যাগে সেই হোটেলের বিজ্ঞাপন থাকে। কিন্তু দিঘার ‘হোটেল ব্লু ভিউ’-এর স্বত্বাধিকারী আদৌ দে’জ পাবলিশিং নয়। এই হোটেল আমাদের বৃহত্তর পরিবার এবং আমাদের নিকটাত্মীয় কর পরিবারের যৌথ উদ্যোগে গড়ে উঠেছে।

সুভাষদার কথা বলতে গিয়ে গীতাদির কথা বলেছি। তবে নতুন প্রজন্মের পাঠকের কাছে লেখক গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম হয়তো তেমন পরিচিত নয়। কিন্তু একসময় কিশোর রচনায় গীতাদি বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। দে’জ পাবলিশিং থেকে ১৯৯৪ সালে আমি গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কিশোর রচনাসম্ভার’-এর প্রথম খণ্ড প্রকাশ করি। আর তার পরের বছর প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় খণ্ডটি।

কিশোর রচনাসম্ভারের(খণ্ড ১ ও ২) প্রচ্ছদ

গীতাদির জন্ম কলকাতায় হলেও শৈশব কেটেছে সিঙ্গাপুরে। পরে কলকাতায় আইএ পর্যন্ত পড়াশোনা করে তিনি মুম্বইতে চলে যান বিভিন্ন ইংরেজি পত্রপত্রিকায় লেখার কাজ নিয়ে। ১৯৪৭-এ ভারতীয় ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন সংগঠনের কাজে তিনি ইউরোপ পাড়ি দেন। সেখানে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে সমাজতত্ত্ব নিয়ে লেখাপড়া করে দেশে ফেরেন। গীতাদির ঠাকুরদা, কৃষ্ণচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ‘বঙ্গবাসী’ পত্রিকার সম্পাদক। মহারানি ভিক্টোরিয়ার বিরুদ্ধে লিখে সিডিশনের অপরাধে কৃষ্ণচন্দ্রকে জেল খাটতেও হয়েছিল। গীতাদির বাবা দুর্গানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় সপরিবারে বিদেশ পাড়ি দিয়েছিলেন। বুদাপেস্ট পর্ব কাটিয়ে গীতাদি দেশে ফিরে কলকাতায় নানা রকম রাজনৈতিক কাজকর্মে জড়িয়ে পড়েন। পরে অবশ্য জীবিকা-সূত্রে আইএসআই-তে কাজ করেছেন, নিজে খুলেছিলেন ‘সুশিক্ষণ’ নামে একটি স্কুলও।

গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে বিখ্যাত বই ‘ববির বন্ধু’। সিগনেট প্রেস থেকে ডিকে (দিলীপকুমার গুপ্ত) ‘ববির বন্ধু’ ছেপেছিলেন। ১৯৫৭ সালে ছাপা সে-বইয়ের প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন সত্যজিৎ রায়, বইয়ের ভেতরের ছবি এঁকেছিলেন হৈমন্তী সেন। নিজের লেখালিখি নিয়ে গীতাদি ‘কিশোর রচনাসম্ভার’-এর দ্বিতীয় খণ্ডের ভূমিকায় জানিয়েছেন–

“আজ থেকে চল্লিশ বছরেরও আগে চীন গিয়েছিলাম ভারতের মহিলা সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে। সে দেশ দেখে মুগ্ধ হয়ে সুভাষ মুখোপাধ্যায়কে এক চিঠিতে তার বিবরণ লিখেছিলাম। তখন সুভাষ ‘পরিচয়’ পত্রিকার সম্পাদনা করছেন। আমাকে তার উত্তরে লেখা চেয়ে পাঠালেন। সেই-ই আমার বাংলায় লেখা শুরু। এর আগে সাংবাদিকতা করেছি বিভিন্ন স্বদেশী এবং বিদেশী ইংরেজি পত্রপত্রিকার।

‘পরিচয়’-এ প্রথমে সে লেখা ধারাবাহিক বেরবার পর আমি দেশে ফিরলে, বই আকারে ‘মস্কো থেকে চীন’ নামে বেরয়। ইতিমধ্যে যখন এইসব বিদেশভিত্তি লেখা আর নাম করা উপন্যাস অবলম্বনে কিশোরদের জন্যে লেখা শুরু করলাম, হঠাৎ-ই একদিন নিকট বন্ধুবান্ধবদের বিশেষ করে দিলীপ গুপ্তের (ডি.কে) উৎসাহে মৌলিক লেখার বান ডেকে গেল ‘ববির বন্ধু’ দিয়ে। তারপর বেশ কিছু উপন্যাস আর ছোটগল্প বেরিয়ে গেল। ‘সিগনেট প্রেসে’র দিলীপ গুপ্ত যে আগ্রহ আর যত্ন নিয়ে ‘ববির বন্ধু’ বার করেছিলেন, পরে আর তা কারোর মধ্যে দেখিনি। ফলে, আমার বেশিরভাগ উপন্যাস প্রকাশনায় যত্নের অভাবে, আমার প্রিয় কিশোর উপন্যাস– ‘সেই জলছবি’ ‘হনুমানুষ’ ‘হাওয়াগাড়ি গাড়ি হাওয়া’ ‘যেখানে বাঘের ভয়’ প্রভৃতি পাঠকের হাতে পৌঁছয়নি বললেই হয়। পত্রপত্রিকায় যেসব ছোটগল্প বা উপন্যাস ছাপা হয়েছে, সেগুলোই যা পাঠকেরা মোটামুটি পড়েছেন।”

গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

দে’জ থেকে প্রকাশিত গীতাদির ‘কিশোর রচনাসম্ভার’-এর দুটি খণ্ডে তাঁর বিখ্যাত বই ‘ববির বন্ধু’ যেমন আছে তেমনই তাঁর অন্যান্য উপন্যাস, ছোটগল্প এবং মাদাম কুরির জীবনীগ্রন্থটিও সংযোজিত হয়েছে। মাদাম কুরির জীবনীটি প্যাপিরাসের জীবনীগ্রন্থমালার একটি বই ছিল।

দে’জ থেকে প্রকাশিত গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মশতবর্ষের ফোল্ডার

সিগনেট থেকে গীতাদির লেখার দৃষ্টিনন্দন সংস্করণ প্রকাশিত হলেও তারপর বিভিন্ন পত্রপত্রিকা বা প্রকাশন সংস্থা থেকে তাঁর লেখা নিয়ে যে অযত্ন হয়েছে, তা নিয়ে তাঁর মনে একটা ক্ষোভ ছিল। সেই সংগত ক্ষোভের কথাই তিনি মজার ভঙ্গিতে জানিয়েছিলেন একটি লেখায়। গীতাদির জন্মশতবর্ষে প্রণব বিশ্বাসের সহযোগিতায় আমাদের বিদ্যাসাগর টাওয়ারের নতুন দোকানে আয়োজিত অনুষ্ঠানের জন্য অপু একটি আট পাতার ফোল্ডার প্রকাশ করেছিল। সেই ফোল্ডারে ছাপা হয়েছিল গীতাদির চমৎকার লেখাটি– ‘কেন লিখি না’। বাংলা ছাপাছাপির জগতের কিছু নিখাদ সত্যি কথাই গীতাদির লেখায় ফুটে উঠেছে। প্রসঙ্গত বলে রাখি, গীতাদির ‘কিশোর রচনাসম্ভার’-এর দ্বিতীয় খণ্ডটির উৎসর্গ বেশ মজাদার। জীবনসঙ্গীকে বইটি উৎসর্গ করতে গিয়ে তিনি লিখেছেন– ‘সুভাষ মুখোপাধ্যায়-কে/ সংসারে কবিসুলভ শান্তি/ বিরাজ করতে দেবার/ জন্যে’।

সুভাষ মুখোপাধ্যায় ও গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

গীতাদির ‘ভালোবাসার কথা’ গদ্যটির কথা আগেও একবার বলেছি। দে’জ থেকে প্রকাশিত ‘সুভাষ মুখোপাধ্যায়/ কথা ও কবিতায়’ বইটির জন্য লেখা ওই গদ্যে তিনি নিজেদের কথা লিখেছিলেন অনবদ্য ভঙ্গিতে–

“হ্যাঁ, বেশ মনে আছে। ব্যাপারটা হয়েছিল এইরকম তারপর যেতে যেতে যেতে যেতে এক কবির সঙ্গে দেখা। সেই কবির দু’-দিকে দুটো মুখ। এক মুখে কবিতা, অন্য মুখে মিছিলের স্লোগান। সেই স্লোগানের সুর ধরে ধরে মিছিল থেকেই কবিকে পাকড়ানো গেল। কেননা, সত্যি বলতে কী, কবিতার দিকের মুখটা– যারা জানে তারাই জানে– একেবারে বদ্ধ উন্মাদের– এবং কোনো চিকিৎসা নেই।

তারপর আর কী?
বাঃ বাহবা!
বাহবা বাঃ!
সাবাস বলিহারি–
হাঁড়ির মধ্যে
মাটি আছে, না
মাটির মধ্যে হাঁড়ি!

এই ছিল না–
এই তো আছে।
এই আছে, এই ফক্কা।
বুকের মধ্যে
রঙের তাস
হরতনের টেক্কা।

এই যে হরতনের টেক্কা, এটা কিন্তু একটা অদ্ভুত ধরনের তুরুপের তাস। দু’-জন ‘হাইপার-অ্যাক্টিভ’ লোকের হাতে একখানা হরতনের টেক্কা। এর মধ্যে আবার যে কবি তার গন্‌গনে রাগ খুব চাপা হওয়ায় এই টেক্কাখানা অপর পক্ষের হাতে দিয়ে বলে– ‘খেলো’। তখন অপরপক্ষ, যার রাগলেই চণ্ডাল-চামুণ্ডা মূর্তি– সে, মানে আমি, হেরে ঢোল!

তাই বলে, সত্যি সত্যি কি আর হেরেছি!”

সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘ছড়াসংগ্রহ’

দে’জ থেকে ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুভাষদার ৮৯-তম জন্মদিনে প্রণব বিশ্বাসের সম্পাদনায় আমি প্রকাশ করেছি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘ছড়াসংগ্রহ’। সুভাষদা সারাজীবনে অনেক লেখাই লিখেছিলেন যে-কবিতাগুলিকে হয়তো ছড়াও বলা চলে। সেগুলো তাঁর বিভিন্ন কাব্যগ্রন্থে ছড়িয়ে-ছিটিয়েও ছিল। কিন্তু ৬১ বছর বয়সের আগে সুভাষদার কোনও ছড়ার বই আলাদা করে প্রকাশিত হয়নি। ১৯৮০ সালে আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত ‘মিউ-এর জন্যে ছড়ানো ছিটনো’ তাঁর প্রথম ছড়ার বই। সুভাষদার ‘ছড়াসংগ্রহ’র কাজ যখন শুরু হয়ে তখনও সুভাষদা আমাদের মধ্যে আছেন। যদিও বইটি প্রকাশিত হয়েছে তাঁর প্রয়াণের পাঁচ বছর পর। ‘ছড়াসংগ্রহ’র ভূমিকায় প্রণবদা জানিয়েছেন– “২০০৩-এর জুনের মাঝামাঝি। সদ্য একদফা হাসপাতাল ঘুরে বাড়ি ফিরেছেন তখন। এরকম এক সময়ে, এক শুক্রবারের বিকেলে কবি অনেক সংযোজন সংবর্জন করে সংকলনের জন্য বাছাই ছড়ার তালিকাটি ফিরিয়ে দিলেন। আর লিখে দিলেন বইয়ের উৎসর্গপত্রটি। বললেন, ‘জানো, এ বইয়ের একটা ভূমিকা থাকা জরুরি, লিখে রাখব কাল সকালে, খুব ছোটো করে।’ ভূমিকা অবশ্য শেষপর্যন্ত তিনি লিখে উঠতে পারেননি। পরদিন সকালেই আবার তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন, সন্ধ্যায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। আর তাঁর বাড়ি ফেরা হয়নি। আট জুলাই-এর ভোরে তাঁর জীবনাবসান হয়।”

বন্ধু জলিমোহন কলের সঙ্গে সুভাষ মুখোপাধ্যায়

‘ছড়াসংগ্রহ’র উৎসর্গের পাতার জন্য সুভাষদা লিখে দিয়েছিলেন– ‘যাঁর কাঁধে সবসময় ভর করা যায় এমন স্নেহভাজন/ সৌরীন ভট্টাচার্যকে’। শানু লাহিড়ীর ছবি অবলম্বনে এই বইটির প্রচ্ছদ অজয়দার (অজয় গুপ্ত) করা। তবে বইটিতে বাড়তি মূল্য যোগ করেছে পাঁচ জন প্রখ্যাত শিল্পীর আঁকা ছবি। এই বইয়ের জন্য ছবি এঁকে দিয়েছিলেন– পরিতোষ সেন, বিষ্ণু দাস, শুভাপ্রসন্ন, শানু লাহিড়ী এবং রবীন মণ্ডল।

পরিতোষ সেন, বিষ্ণু দাস, শুভাপ্রসন্ন, শানু লাহিড়ী এবং রবীন মণ্ডলের আঁকা ‘ছড়াসংগ্রহ’-র ছবি

সুভাষদার বইপত্র প্রকাশের কাজে বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতার কথা বললেও একজনের কথা এতক্ষণ বলা হয়নি– তিনি গীতাদির নিকটাত্মীয়– দিব্য মুখোপাধ্যায়। দিব্য মুখোপাধ্যায় সুভাষদার বহু লেখা শুধু খুঁজে বের করাই নয়, বই ছাপার বিভিন্ন পর্বে আমাকে প্রভূত সাহায্য করেছেন। তিনি নিজে কবি ও চিকিৎসক হলেও তাঁর আরেকটা পরিচয় আছে গানের জগতে। ১৯৯৫ সালে বইমেলার সময় ‘আশা অডিও’ থেকে বেরনো ‘মহীনের ঘোড়াগুলি সম্পাদিত’ ‘আবার বছর কুড়ি পরে’ ক্যাসেটটিতে তাঁর লেখা ও গাওয়া ‘আকাশে ছড়ানো মেঘের কাছাকাছি’ গানটি বিপুল সমাদর পেয়েছে।

দিব্য মুখোপাধ্যায়ের বাবা প্রখ্যাত সংস্কৃতজ্ঞ ও দর্শনশাস্ত্রবেত্তা গোবিন্দগোপাল মুখোপাধ্যায়। গোবিন্দগোপাল মুখোপাধ্যায় অনেক বই লিখেছেন। আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত তাঁর ‘চেতনার আরোহিণী’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বই। গোবিন্দগোপাল আর তাঁর স্ত্রী মাধুরী মুখোপাধ্যায় বাংলা সংগীতের জগতে উজ্জ্বল দু’টি নাম। গোবিন্দগোপাল ছিলেন গীতাদির কাকা।

‘নতুন কবিতার বই’-এর প্রচ্ছদ ও বহু-বিশিষ্টদের স্বাক্ষর সম্বলিত আখ্যাপত্র

সুভাষদার ৯০-তম জন্মদিনে, ২০০৯-এর ১২ ফেব্রুয়ারি, আমি দে’জ থেকে প্রকাশ করেছি তাঁর ‘নতুন কবিতার বই’। এই বইটা প্রকাশের জন্য একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল কার্জন পার্কের ভাষা শহীদ মঞ্চে। যতদূর মনে পড়ছে, তখন সুনীলদারা ভাষা শহীদ স্মারক সমিতি থেকে কার্জন পার্কে (আমি যাকে মজা করে ইঁদুর পার্ক বলি) ভাষা শহীদ মঞ্চ তৈরি করেছিলেন। সেদিনের অনুষ্ঠানে বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতের গণ্যমান্য মানুষেরা অনেকেই এসেছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষে অপু একটি বইয়ের টাইটেল পেজে সবার সই করিয়ে রেখেছিল। সে-বই আমাদের লাইব্রেরিতে আছে। এখন তাঁর পাতা ওলটাতে গিয়ে বেশ স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ছি। কত নাম, সব নামের সঙ্গেই কোনও-না-কোনও স্মৃতি জড়িয়ে আছে। দেখছি, সই আছে জলি কল-এরও। মনে পড়ে গেল ‘আমার বাংলা’ বইটা উৎসর্গ করতে গিয়ে সুভাষদা লিখেছিলেন– ‘বাংলা দেশের জেলখানায় বন্দী কাশ্মীরের ছেলে জলিমোহন কলকে’।

লিখন: শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায়

…… ইতি কলেজ স্ট্রিট-এর অন্যান্য পর্ব ……

পর্ব ৬৯। সুভাষিত অনুবাদ

পর্ব ৬৮। শঙ্খদাই চেয়েছিলেন, সুভাষদার কবিতাসংগ্রহ সুবীর রায়চৌধুরী সম্পাদনা করুন

পর্ব ৬৭। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা দিয়েই শুরু হয়েছিল দে’জের ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ সিরিজ

পর্ব ৬৬। প্রেমেনদার উৎসর্গ করা বই বেচে দিয়েছিলেন বন্ধু ‘শিব্রাম’!

পর্ব ৬৫। প্যাঁচানো লোহার সিঁড়ি দিয়ে উঠলেই প্রেমেন্দ্র মিত্রর অবারিত দ্বার!

পর্ব ৬৪। মুজিব হত্যার পর অন্নদাশঙ্করের শোকলিপি ছাপা হয়নি সরকারি নিষেধাজ্ঞায়

পর্ব ৬৩। ভাবনার ভাস্কর্যের দিনগুলি রাতগুলি

পর্ব ৬২। কাদের লিটল ম্যাগাজিন বলা যাবে না, তার তালিকা তৈরি করেছিলেন শিবনারায়ণ রায়

পর্ব ৬১। গৌরদা বিশ্বাস করতেন, কলমের স্বাধীনতা হরণ মাতৃবিয়োগের চেয়ে কম কিছু নয়

পর্ব ৬০। সমরেশ বসু যখন ‘বিশ্বাসঘাতক’!

পর্ব ৫৯। সারাজীবন নিজেকে জানার জন্যেই লিখে গিয়েছেন সমরেশ বসু

পর্ব ৫৮। নবারুণ চেয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ কবিতার সিরিজে তিনিও থাকুন, কিন্তু হল না

পর্ব ৫৭। সত্যজিৎ-মৃণাল-ঋত্বিক ত্রয়ীর মধ্যে ঋত্বিকের লেখাই আমরা প্রথম ছেপেছিলাম

পর্ব ৫৬। অজয় গুপ্তর নিরন্তর শ্রম আর খুঁতখুঁতে সম্পাদনা ছাড়া মহাশ্বেতা দেবীর রচনাসমগ্র হত না

পর্ব ৫৫। দলকল্যাণের জন্য রাজনীতি সমাজকে নরকে পরিণত করবে, বিশ্বাস করতেন মহাশ্বেতা দেবী

পর্ব ৫৪। যা লিখেছেন, না লিখে পারেননি বলেই লিখেছেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

পর্ব ৫৩। ‘অলীক মানুষ’ তাঁকে দিয়ে কেউ লিখিয়ে নিয়েছে, মনে করতেন সিরাজদা

পর্ব ৫২। নিজের লেখা শহরের গল্পকে লেখা বলে মনে করতেন না সিরাজদা

পর্ব ৫১। কর্নেল পড়ে সিরাজদাকে চিঠি লিখেছিলেন অভিভূত সত্যজিৎ রায়

পর্ব ৫০। সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা থেকে বাঁচতে দিব্যেন্দুদার জীবনের দ্বিতীয় গল্পই বদলাতে হয়েছিল

পর্ব ৪৯। রবিশংকর বলের মতো উর্দু সাহিত্যের এত নিবিষ্ট পাঠক খুব কমই দেখেছি

পর্ব ৪৮। দেবেশ রায়ের যেমন ‘বৃত্তান্ত’, আফসার আমেদের তেমন ‘কিস্‌সা’

পর্ব ৪৭। বই বাঁধানো সম্পূর্ণ হয়নি, তাই ‘মহাভুল’ শুধরে নিয়েছিলেন দেবেশ রায়

পর্ব ৪৬। গান্ধীনগরে রাত্রির কবিই প্রথম বিদ্রুপাত্মক তেতো হাসি এনেছিলেন বাংলা কবিতায়

পর্ব ৪৫। নাটকের মহলা পছন্দ হলে তবেই তিস্তাপারের বৃত্তান্তর অনুমতি দেবেন, বলেছিলেন দেবেশ রায় 

পর্ব ৪৪। নিজের বইপত্র বিক্রির বিবরণ দেখে হতাশ হয়েছিলেন দেবেশ রায়

পর্ব ৪৩। থ্রিলার, রহস্য-রোমাঞ্চ কিংবা ক্রাইম স্টোরি অনেক দিন ধরেই বইপাড়ায় ‘সুপারহিট’

পর্ব ৪২। অলংকরণ বা প্রচ্ছদশিল্পীদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা নেই, সখেদে চিঠি লিখেছিলেন নারায়ণ সান্যাল

পর্ব ৪১। রাস্কেল, পাষণ্ড পণ্ডিত, প্রবঞ্চক, বিশ্বাসঘাতক– নারায়ণ সান্যালের বইয়ের নাম নিয়ে প্রবল আপত্তি ছিল আমার!

পর্ব ৪০। সিগারেট ঠোঁটে রথীন্দ্রনাথের ছবি প্রচ্ছদে যাওয়া নিয়ে উঠেছিল প্রবল আপত্তি!

পর্ব ৩৯। শান্তিনিকেতন থেকে কলেজ স্ট্রিট, প্রুফ আদান-প্রদানে সহায়ক ছিলেন বই ব্যবসায়ীরাই

পর্ব ৩৮। পাণ্ডুলিপি জমা দিয়ে সোমেনদা বলেছিলেন, রামকিঙ্করকে নিয়ে এ জাতীয় বই আগে লেখা হয়নি

পর্ব ৩৭। ‘কীর্তির্যস্য’র নাম বদলাতে চেয়েছিলেন ভবতোষ দত্ত

পর্ব ৩৬। কবি-দার্শনিকের বাইরে আরেক রবীন্দ্রনাথকে খুঁড়ে বের করেছিলেন অমিতাভ চৌধুরী

পর্ব ৩৫। ‘শাহজাদা দারাশুকো’ আরও বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে ছিল শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের

পর্ব ৩৪। একজন লেখক হিসেবে আমি কি তোমার মনোযোগের যোগ্য নই, অভিমান ভরা চিঠি লিখেছিলেন শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

পর্ব ৩৩। আমাকে ভাবায়, তারাপদ রায়

পর্ব ৩২। নববর্ষের শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ: লেখকদের মন্তব্যের খাতা!

পর্ব ৩১। পরিব্রাজক সন্ন্যাসী তারাপ্রণব ব্রহ্মচারী ভাগ্যিস থিতু হয়েছিলেন সাহিত্যে!

পর্ব ৩০। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কোনও বই আমাকে চাপিয়ে দেননি, লিখেছেন: বিবেচনা করে দেখো

পর্ব ২৯। কবিতাকে শক্তিদা বলতেন ‘জলজ দর্পণ’, তাঁর বেঁচে থাকার অবলম্বন

পর্ব ২৮। পিঁপড়ে কালিতে চুবিয়ে সাদা পাতায় ছাড়া হয়েছে, এমন পাণ্ডুলিপি ছিল বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের!

পর্ব ২৭। নিজস্ব ঈশ্বরভাবনা থাকলেও শঙ্কু মহারাজের লেখার মূল বিষয় ছিল মানুষের আলো-আঁধারি জীবন

পর্ব ২৬। বাংলাদেশে পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও একুশে বইমেলায় কখনও স্টল পাইনি

পর্ব ২৫। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি মুহূর্তের রক্ত-ঘাম-হাসি-কান্নার এক জীবন্ত দলিলচিত্র ছেপেছিলাম

পর্ব ২৪। রাখাল ছেলে যেমন বাঁশি বাজায়, আমিও তেমন নিজের খুশিতে লিখি, বলেছিলেন যাযাবর

পর্ব ২৩। রয়্যালটি-মুক্ত বইয়ের ওপর প্রকাশকদের ঝোঁক চোখে পড়ছে বইমেলাতেও

পর্ব ২২: শেষমেশ রেগে গিয়ে আমাকে চিঠিই লিখে ফেলেছিলেন শঙ্খ ঘোষ!

পর্ব ২১: ৩০০০ কপি বিক্রির মতো জীবিত বা মৃত লেখক আর হয়তো নেই

পর্ব ২০: কম বয়সে আমাদের রোববারের আড্ডা ছিল ২৮ নম্বর প্রতাপাদিত্য রোড, আশুদার বাড়িতে

পর্ব ১৯: ‘লেখা বড় হচ্ছে’ অভিযোগ আসায় খুদে হাতের লেখায় পাণ্ডুলিপি দিতেন প্রবোধবন্ধু অধিকারী

পর্ব ১৮: দু’বছরের মধ্যে সংস্করণ না ফুরলে অন্য জায়গায় বই ছাপার চুক্তি ছিল শরদিন্দুর চিঠিতে

পর্ব ১৭: পূর্ণেন্দু পত্রীর বাদ পড়া প্রচ্ছদ ও দিনেশ দাসের কবিতার শ্রেষ্ঠ দিনগুলি

পর্ব ১৬: সব প্রকাশনার যাবতীয় বইয়ের হদিশ পাওয়া যেত ‘সম্মিলিত গ্রন্থপঞ্জী’তে

পর্ব ১৫: নিছকই একটা পত্রিকা নয়, ‘কলেজ স্ট্রীট’ আমাদের আবেগ

পর্ব ১৪: খুদে পাঠকদের জন্য মিনিবই তৈরির কথা প্রথম ভেবেছিলেন অভয়দা

পর্ব ১৩: কয়েকটি প্রেসের গল্প

পর্ব ১২: দীর্ঘায়ু বই ও আইয়ুব পরিবার

পর্ব ১১: প্রেমের নয়, অপ্রেমের গল্প সংকলনের সম্পাদনা করেছিলেন সুনীল জানা

পর্ব ১০: ছোট্ট অপুকে দেখেই রঙিন ছবিতে ভরা টানটান গল্পের বই করার ইচ্ছে জেগেছিল

পর্ব ৯: চানঘরে গান-এ সত্যজিৎ রায়ের চিঠি থাকায় ব্যাপারটা গড়িয়েছিল কোর্ট কেস পর্যন্ত

পর্ব ৮: প্রকাশক-লেখকের কেজো সম্পর্কে বুদ্ধদেব গুহর বিশ্বাস ছিল না

পর্ব ৭: পুজো সংখ্যায় না-বেরনো উপন্যাস বই আকারে সুপারহিট

পর্ব ৬: মানবদার বিপুল অনুবাদের কাজ দেখেই শিশির দাশ তাঁর নাম দিয়েছিলেন– ‘অনুবাদেন্দ্র’

পর্ব ৫: সাতবার প্রুফ দেখার পর বুদ্ধদেব বসু রাজি হয়েছিলেন বই ছাপানোয়!

পর্ব ৪: লেখকদের বেঁচে থাকার জন্য অনেক কিছুই লিখতে হয়, প্রফুল্ল রায়কে বলেছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র

পর্ব ৩: পয়লা বৈশাখের খাতায় শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় মজাচ্ছলে লিখেছিলেন, ‘সুধাংশুরা রাজা হোক’

পর্ব ২: বাংলা মাসের সাত তারিখকে বলা হত ‘গ্রন্থতিথি’, বিজ্ঞাপনেও বিখ্যাত ছিল ‘৭-ই’

পর্ব ১: সত্তরের উথাল-পাথাল রাজনৈতিক আবহাওয়ায় আমি প্রকাশনার স্বপ্ন দেখছিলাম