


আমাদের প্রকাশ করা ‘স্বর্ণকুমারী দেবীর রচনা-সংকলন’ বইটিতে কিন্তু তাঁর কোনও উপন্যাস ছাপা হয়নি। তবে প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কৌতুকনাট্য ছাপা হয়েছে। এর আগে অবশ্য যাদবপুর স্কুল অফ উইমেন্স স্টাডিজ বিকল্প প্রকাশনীর সঙ্গে যৌথভাবে ১৯৯৮ সালে ‘স্বর্ণকুমারী দেবীর সংকলিত প্রবন্ধ’ নামে অভিজিৎ সেন ও অভিজিৎ ভট্টাচার্যের সম্পাদনায় একটি বই প্রকাশ করেছিল। ২০০২ সালে আমি দে’জ পাবলিশিং থেকে নতুন করে প্রকাশ করেছিলাম স্বর্ণকুমারী দেবীর ‘কাহাকে’ উপন্যাসটি। সে বইয়ের ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন সুদক্ষিণা ঘোষ।
৭৬.
মানবীচর্চা কেন্দ্রের সঙ্গে কাজ করতে-করতে যশোধরাদির সঙ্গে আমার সুসম্পর্কের কথা তো আগেই বলেছি, আজ হঠাৎ হাতে এল তাঁর লেখা একটি চিঠি। এই চিঠির বিষয় সরাসরি মানবীচর্চা কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত নয়, আমাকে প্রকাশক হিসেবে ভরসা করতেন বলেই পুরনো একটা কথা মনে করিয়ে দিতে লেখা। বিশিষ্ট অনুবাদক কৌশিক গুহ-র অনুবাদের বইয়ের প্রস্তাব দিয়ে ১৯৯৩-এর ৫ জুলাইয়ের সেই চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন
‘মাননীয় সুধাংশুবাবু,
আপনি হয়ত জানেন যে শ্রী কৌশিক গুহ মূল রুশ ভাষা থেকে মারিনা স্ভেতায়েভা এবং আনা আখমাতোভা-র কবিতা (ভূমিকা ও টীকা সহ) বাঙলায় অনুবাদ করেছেন। এ ব্যাপারে আমি এবং শ্রীসুবীর রায়চৌধুরী আপনার সঙ্গে আলোচনা করি এবং দে’জ থেকে বইটি প্রকাশ করবার ব্যাপারে আপনি আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। আমার বিদেশে থাকাকালীন কৌশিক ও অভিজিৎ শ্রীসুবীর ভট্টাচার্যের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথাবার্তা বলেছে। কৌশিকের অনুবাদের সঙ্গে আমরা পরিচিত, এবং আমার বিশ্বাস যে অত্যন্ত যত্ন নিয়েই তিনি এ-কাজটা শেষ করে খুব তাড়াতাড়ি পাণ্ডুলিপি জমা দেবেন। অনুগ্রহ করে এই পুজোর আগেই যদি কৌশিকের বইয়ের ছাপার কাজ শুরু করতে পারেন তো খুবই ভালো হয়। আশা করি ভালো আছেন।
শুভেচ্ছা জানবেন…’

চিঠির ওপরের দিকে দেখছি আমি লিখে রেখেছি ‘কৌশিকবাবু ও অভিজিৎবাবু এসেছিলেন। বইটি ছাপার ব্যাপারে’, তারিখ দিয়ে রেখেছি ১২ জুলাই ১৯৯৩। তার মানে তাঁরা দু’জন হয়তো এই চিঠিটা সঙ্গে নিয়েই এসেছিলেন। সুবীরদা বা যশোধরাদি যে-অনুবাদের প্রশংসা করছেন, সে-বই তো না-ছাপার কোনও কথাই ওঠে না। তবে দে’জ পাবলিশিং থেকে আমি কৌশিক গুহ-র বই করতে পারিনি। এতদিন পরে আর মনেও নেই কেন সেসময় বইটা হয়নি। তবে আমি দেখেছি, মারিনা স্ভেতায়েভা-র বইটি পরে থীমা থেকে প্রকাশিত হয়েছে আর আনা আখমাতোভার অনুবাদ স্ত্রী প্রকাশন থেকে ‘কান্না ভাঙা গান’ নামে প্রকাশিত হয়েছে।

যশোধরাদি ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত যাদবপুর স্কুল অফ উইমেন্স স্টাডিজের কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। তাঁর সময়কালে মানবীচর্চা কেন্দ্রের সঙ্গে দে’জ পাবলিশিং-এর যৌথ উদ্যোগে শেষ বইটি হল ‘অনিন্দিতা দেবীর রচনা-সংকলন’। এই বইয়ে “‘বঙ্গনারী’ অনিন্দিতা দেবী” নামে লেখাটিতে যশোধরাদি খুবই প্রাসঙ্গিক কিছু কথা উত্থাপন করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন কেবল বৃহত্তর রাজনীতিতেই নয়, দৈনন্দিন জীবনেও ক্ষমতার বৈষম্য যেহেতু নারীকে প্রাপ্য সামাজিক স্বীকৃতি দেয় না, তাই তার বিরদ্ধে লড়াটাও নারী আন্দোলন। আমাদের দেশে নারীকে অন্দরমহলে রাখার যে প্রথা ছিল, নারীদের কলমে কিন্তু তার বিরোধিতাই আছে। অবরোধমুক্ত জীবনের সাধনাই সেকালের নারী-লেখকদের প্রধান সুর ছিল। অনিন্দিতা দেবীর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি আসামান্য মুনশিয়ানায় লিখেছিলেন–
“যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবীবিদ্যাচর্চা কেন্দ্র প্রয়াত অধ্যাপক সুবীর রায়চৌধুরীর নেতৃত্বে এই লেখিকাদের অসামান্য অবদান পুনরুদ্ধারের সূত্রপাত করেছিলেন প্রতিষ্ঠানের জন্মলগ্ন থেকেই। যে পাঁচজন লেখিকার লেখা আমরা সংকলিত করতে পেরেছি, অর্থাৎ গিরিবালা, জ্যোতির্ময়ী ও হেমন্তবালা দেবী এবং ছবি বসু, এঁদের বাংলার পাঠককুল অবহেলা করলেও বিস্মৃতির অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করেননি। আমাদের এই নবতম সংকলনে আমরা এমন একজন লেখিকার লেখা আপনাদের সামনে তুলে ধরছি, যিনি সত্যিই বিস্মৃতা। অনিন্দিতা দেবীর পরিচয় দিতে হলে আজও তাঁর বিখ্যাত পুত্রের পরিচয় হাজির করতে হয়। রবীন্দ্রোত্তর ‘আধুনিক’ কবিদের মধ্যে অন্যতম অমিয় চক্রবর্তীর মাতৃপরিচয়ই ছিল তাঁর প্রধান পরিচয়। রবীন্দ্রনাথ তাঁকে কিছু চিঠি লিখেছিলেন, এই পর্যন্ত। কিন্তু ‘বঙ্গনারী’ ছদ্মনামে তিনি বাংলা পত্র-পত্রিকায় প্রায় আড়াই দশক ধরে নারী-সমস্যার বিভিন্ন দিক নিয়ে যে অসামান্য প্রবন্ধগুলি লেখেন তার পরিচয় লোকের মন থেকে কত সহজে মুছে গেছে, তা আমাদের শ্রেণী সমাজের বিবর্তনে লিঙ্গ-বৈষম্য যে কত গভীরে কাজ করেছে, এ ঘটনা তারই সাক্ষ্য বহন করছে। তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণী ক্ষমতা, পবিষ্কার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সেটা তুলে ধরা এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন লোকের লেখনী থেকে তার সপক্ষে এবং বিপক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ করে লেখাগুলিকে তথ্যসমৃদ্ধ করে পাঠকের সামনে তুলে ধরা, কোনোটিই সমাজে প্রচলিত নারীত্বের প্রতিমার সঙ্গে সঙ্গতির দাবি রাখে না। আজকে যাঁরা নারী-লেখনীর ভিন্নতা সম্পর্কে নানারকম তত্ত্ব উপস্থাপিত করেন তাঁদের পক্ষে হয়ত এই লেখাগুলি কিছু সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু যে তাত্ত্বিক উপলব্ধিজনিত বিশ্বাস নিয়ে আমরা সমাজে অনুমোদিত নারীত্বের আদর্শকে নানারকম প্রশ্নের সামনে দাঁড় করাই, অনিন্দিতা দেবীর লেখার পেছনে সেই একই ধরনের তাত্ত্বিক উপলব্ধির সন্ধান আমরা পাই।
…
অনিন্দিতা দেবীর লেখা নারীর ‘আপন ভাগ্য জয় করিবার’ সম্ভাবনায় ভাস্বর।
…
লিঙ্গ-বৈষম্যের শিকড় যে আমাদের সমাজের কত গভীরে প্রবিষ্ট, তার প্রমাণ হল যে, ১৩৩০ সালে লেখা এই ঘোষণাকে অর্ধশতাব্দীর কিছু পরে আবার নতুন করে টেনে বার করতে হল বিস্মৃতির অতল গহ্বর থেকে। শ্রীমান অভিজিৎ সেনের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ এই কাজ করবার জন্য। নতুন প্রজন্মের সমাজ-বদলের লড়াইতে এই লেখাগুলি সাহস জোগাবে, নতুন চিন্তার খোরাক জোগাবে।…”

সুবীর রায়চৌধুরী এবং অরুন্ধতী বন্দ্যোপাধ্যায় দুই অকালপ্রয়াত মানুষের স্মৃতিতে উৎসর্গ করা হয়েছিল। অরুন্ধতী বন্দ্যোপাধ্যায় তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগে একসময় সুবীরদার ছাত্রী ছিলেন, পরে তিনি ওই বিভাগেই পড়াতেন। অরুন্ধতী বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় নামকরা মঞ্চাভিনেত্রীও ছিলেন। তাঁর অভিনীত অনেক নাটকের মধ্যে বুদ্ধদেব বসুর ‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ নাটকে তরঙ্গিণী-র ভূমিকায় অরুন্ধতীর অভিনয়ের সুখ্যাতি আমি অনেকের মুখে শুনেছি।
‘অনিন্দিতা দেবীর রচনা-সংকলন’-এর সংকলক হলেন অভিজিৎ সেন। ৫৯০ পৃষ্ঠার এই বিরাট বইয়ের অনেক লেখাই তাঁকে সরাসরি সাময়িকপত্র থেকে সংগ্রহ করতে হয়েছে। এই কাজ যাঁরা করেন, তাঁরা বুঝবেন এমন বই তৈরি করা কতটা কঠিন। বইয়ের কৃতজ্ঞতা স্বীকারে ‘জয়শ্রী’ পত্রিকার বিজয়কুমার নাগ এবং ‘উত্তরা’ পত্রিকার সমররঞ্জন দে-রও উল্লেখ আছে। তাঁরা পত্রিকার পাতা থেকে অভিজিৎকে কিছু লেখার প্রতিলিপি দিয়েছিলেন।
‘অনিন্দিতা দেবীর রচনা-সংকলন’-এর ভূমিকা লিখেছিলেন মহাশ্বেতা দেবী। অনিন্দিতা দেবীর সঙ্গে মহাশ্বেতাদির সম্পর্ক ছিল পারিবারিক। অনিন্দিতা দেবী ছিলেন মহাশ্বেতাদির মায়ের মামিমা। মহাশ্বেতাদি লিখেছেন, “এঁর ছবি আমি অনেক দেখেছি। শ্যামবর্ণা, অসামান্যা সুন্দরী, রবীন্দ্রনাথের প্রিয়পাত্রী। শিক্ষিতা (পাস করা নয়), সুরুচি, শালীনতা, কোমল হৃদয়, কিন্তু খুব সবল ছিলেন না। বিয়ের ব্যাপারে অনিন্দিতার মত ছিল কি না জানা যায় না। খুব বড় একান্নবর্তী পরিবার। বিয়ের পরেই ননদদের, ভাসুরের মাতৃহীন সন্তানদের ‘রাঙা-মা’ হতে হল। গয়ার বাড়িতে ১৯৪৩ অবধি এঁর ডিজাইনে তৈরি করানো আসবাব, লাইব্রেরি, রেকর্ড সংগ্রহ দেখেছি। সম্ভবত গয়াতে এক মেয়েদের স্কুল স্থাপনের কাজও করেন। চলমান কবিতার মতো অনন্যা এই মহিলা ১৯৩৬ সালে মারা যান।”

রবীন্দ্রনাথের ‘চিঠিপত্র’-র একাদশ খণ্ডের শুরুতে অনিন্দিতা দেবীকে লেখা রবীন্দ্রনাথের চিঠিটি পড়লেও তাঁকে অনেকটা জানা যায়। রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন–
‘কল্যাণীয়াসু
তোমার খাতাগুলি আমার হাতে আসিয়া পৌঁছিয়াছে এবং সবগুলি পড়িয়া দেখিলাম। লেখাগুলি খুব পাকা হইয়াছে, ছাপাইলে দেশের অধিকাংশ পাঠক তোমার উপরে বিষম বিরক্ত হইবে। কিন্তু সেইজন্যই ছাপানো কর্তব্য বোধ করি। আমার গল্পসপ্তক প্রভৃতি দুইএকখানি বই আজ পর্যন্ত প্রথম সংস্করণের চৌকাঠ পার হইতে পারে নাই বিবাহিত বাঙালী পুরুষের ভয়, পাছে এইগুলি পড়িয়া যথাসময়ে স্বামীর লুচি-ভাজা সম্বন্ধে স্ত্রীর উৎসাহ লেশমাত্র ম্লান হয়। কোনো কোনো বিষয়ে তোমার সঙ্গে আমার তর্ক করিবার ছিল কিন্তু সময় একেবারেই নাই। যদি কোন দিন দেখা হয় মোকাবিলায় বাদপ্রতিবাদ করিবার ইচ্ছা রহিল। যদি কোনো অবসরে আশ্রমে আসিতে পার তবে মেয়েদের শিক্ষা সম্বন্ধে এখানকার ব্যবস্থা দেখিতে পাইবে। আর কয়েকদিন পরে তোমার খাতাগুলি ফিরিয়া পাঠাইব। ইতি ১৬ আষাঢ় ১৩২৯
শ্রীরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’
‘অনিন্দিতা দেবীর রচনা-সংকলন’ প্রকাশের পর ১৯৯৭-এর ২৩ আগস্ট অভিজিৎ সেন আমাকে চিঠিতে লিখেছিলেন–
‘শ্রদ্ধেয় সুধাংশুদা,
কার্তিকদা-মারফত গত বৃহস্পতিবার আপনি যে ১৩ কপি অনিন্দিতা দেবীর রচনা-সংকলন পাঠিয়েছেন তা পেয়ে আমরা আনন্দিত এবং বিশেষ করে কৃতজ্ঞ। এই বইটির আরো ৮ কপি আমাদের বিশেষ প্রয়োজন। অনুগ্রহ করে আগামী সপ্তাহের কোনো একটা দিন আমাদের অফিসে ওই ৮ কপি পাঠাবার ব্যবস্থা করলে বাধিত হবো। বইটির ছাপা এবং বিশেষ করে প্রচ্ছদ, খুবই দৃষ্টিনন্দন হয়েছে। শ্রদ্ধেয় শ্রী অজয় গুপ্তকে শুভেচ্ছা ও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালাম। শুধুমাত্র ২২৪ পৃষ্ঠার ১৪তম লাইনে লেখার ওপরে একটা কাটা দাগ এসে গিয়েছে। এটা কীভাবে হলো বুঝতে পারছি না, সম্ভবত ট্রেসিং-এর কোনো গোলমাল থাকতে পারে। এ-ব্যাপারে একটু জানাবেন।…’

চিঠিতে দেখছি বৃহস্পতিবারে বই পেয়ে শনিবারের মধ্যেই এত বড় বইয়ের একটি লাইনে ছাপার ভুল ঠিক অভিজিতের চোখে পড়েছে। এমনই নিবিড় সম্পাদক ও পাঠক তিনি। নিশ্চয়ই ট্রেসিং-এ কিছু সমস্যা হয়েছিল। তবে ২০১৯-এর পুনর্মুদ্রণের সময় বইটা নতুন করে কম্পোজ করায় এখন সেই দাগ আর নেই।
মানবীচর্চা কেন্দ্রের সঙ্গে পরের বইটি হল ‘পূর্ণশশী দেবীর নির্বাচিত রচনা’। ১৯৯৮ সালে যখন এই বইটি প্রকাশিত হল, তখন যশোধরাদির জায়গায় স্কুল অফ উইমেন্স স্টাডিজের কর্মাধ্যক্ষের পদে ছিলেন শমিতা সেন। ‘পূর্ণশশী দেবীর নির্বাচিত রচনা’ সংকলন ও সম্পাদনার কাজ করেছেন অরুণকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিজিৎ সেন। চিত্রা দেব লিখেছিলেন ভূমিকা।

পূর্ণশশীর জন্ম ১৮৮৮ সালে, পাঞ্জাবের কারনালে। পূর্ণশশীর ছোটবেলায় তাঁর বাবার কর্মস্থল ছিল সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারত জুড়ে। মা রাজবালা দেবীর আগ্রহে পূর্ণশশীরা সব ভাই-বোন যত্ন করে বাংলা শেখেন। প্রবাসী বাঙালি হলেও তাঁর সরকারি ইঞ্জিনিয়ার বাবা, মেয়ের জন্য এক বাঙালি যুবককে গৃহশিক্ষক নিযুক্ত করেন। কথামালা, বোধোদয়, চারুপাঠ, পদ্যপাঠ, আখ্যানমঞ্জরী, চরিতাবলী প্রভৃতি পড়ার পর পূর্ণশশী পড়েন ‘কঙ্কাবতী’, ‘সোনার তরী’ এবং বিয়ের পর মায়ের আলমারিতে রাখা একাধিক গ্রন্থাবলি। শুধু পড়াই নয়, পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি লেখার স্বপ্ন দেখতেও শুরু করেন। পূর্ণশশীর দিদিরা কবিতা লিখতেন, তাঁদের দেখাদেখি তিনিও কবিতা লেখা শুরু করেন। সেকালের রেওয়াজ অনুযায়ী ১০ বছর বয়সের আগেই পূর্ণশশীর বিয়ে হয় প্যারীমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। প্যারীমোহনরাও ছিলেন প্রবাসী বাঙালি পরিবার। বিবাহোত্তর জীবনে পূর্ণশশীর কবিতা লেখায় ছেদ পড়েনি। পূর্ণশশী লিখছেন, ‘দুপুরবেলার স্বল্প অবকাশে দিবানিদ্রার অভ্যাস আমার ছিল না কোনোকালেই, শাশুড়ি ননদ যখন ঘুমাইয়া পড়িতেন তখন চুপি চুপি কবিতার খাতাখানা লইয়া একটুকু বসিতাম নিরিবিলিতে।’ তবে পূর্ণশশীর সাহিত্য-সাধনায় প্রেরণা জুগিয়েছিলেন তাঁর দাদা কমলকৃষ্ণও। সেসময়ের কুন্তলীন পুরস্কারের কথা অনেকেই জানেন। এই পুরস্কারের কারণে একসময় বাংলা সাহিত্যে অনেক নবীন প্রতিভা আবিষ্কৃত হয়েছে। পূর্ণশশী কুন্তলীন পুরস্কারের জন্য বহুবার লেখা পাঠিয়েছেন। তাঁর প্রথম প্রকাশিত ও পুরস্কৃত গল্পটি হল ‘আভা’। এরপরও বহুবার তিনি কুন্তলীন পুরস্কারের জন্য লেখা পাঠিয়েছেন। ‘পূর্ণশশী দেবীর নির্বাচিত রচনা’-য় তাঁর লেখা উপন্যাস ছোটগল্প স্মৃতিকথা নানা ধরনের লেখা ছাপা হয়েছিল। চিত্রাদি তাঁর ‘ভূমিকা’র শুরুতে পূর্ণশশীর পরিচয় দিতে গিয়ে লিখেছেন–
“পূর্ণশশী দেবী বর্তমান প্রজন্মের পাঠকের কাছে হয়ত একটি অপরিচিত নাম। এই শতাব্দীর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দশকে, ড. সুকুমার সেন যে সময়টিকে বলেছেন, মহিলা সাহিত্যিকদের স্বর্ণযুগ, সেই সময়েই বাংলা সাহিত্যজগতে পূর্ণশশী দেবীকে আমরা পেয়েছি, অনেকের মধ্যে একজন ঠিকই কিন্তু হারিয়ে যাবার মতো নয়। প্রথম যখন তাঁর আত্মকথা পড়ি তখনই মনে হয়েছিল, এ এক অন্য জগৎ। আমাদের চেনা পরিবেশের বাইরে দাঁড়িয়ে এই সাহিত্যসাধিকা শোনাচ্ছেন সেই জগতের কথা:
কাশীতে বসন্ত রোগ প্রায় বারোমাসেই চলে বিশেষ করিয়া গলিঘুঁজির মধ্যে। মিউনিসিপ্যালিটির নজর সেদিকে নাই বলিলেই হয়। এও তো গলির মধ্যে… কি জানি আমার দশা কি যে হইবে।
কিন্তু আমি মরিলাম না, রোগশয্যা ছাড়িয়া উঠিলাম শীঘ্রই, তবে শরীর অত্যন্ত দুর্বল, প্রমোদ বলিল, মাসিমা, এবার দুধ খান বেশি করে, এত দুর্বল হয়ে পড়েছেন। কথাটা শুনিয়া হাসি আসিল। দুধ খাব কি? বাক্সে আমার একটা আধুলি আর দু-তিনটি পয়সা মাত্র, এই তো সম্বল এখন, তারপর…?
সকালের দিকে শুধু এক কাপ চা পান করিয়া বিছানায় পড়িয়া ভাবিতেছিলাম আকাশ-পাতাল, সে ভাবনায় নাই কূল নাই কিনারা।
সহসা নিচে পিয়নের ডাক শুনিলাম বিকৃত উচ্চারণে, পূ-রা-ণা-শ-শী দেবী, মানি আডার
বুকের ভিতর ধক করিয়া উঠিল সত্যি কি, হে জগদীশ্বর…। পিয়ন উপরে আসিল না নিয়ম নাই বলিয়া। কাজেই অতি কষ্টে কাঁপিতে কাঁপিতে চারতলা হইতে নিচে গিয়া কম্পিত করে ‘সই’ দিয়া টাকা লইলাম। ‘রাতের ফুলে’র দরুণ প্রাপ্য টাকা হইতে মাত্র পঁচিশটি পাবলিশার মহোদয় দয়া করিয়া পাঠাইয়া দিয়াছেন। এবং বাকি টাকা আগামী ফাল্গুনে অবশ্য পাঠাইবেন আশ্বাস দিয়াছেন। উঃ। ধন্যবাদ শত ধন্যবাদ। … ইচ্ছা হইল প্রাপ্তি রসিদে লিখিয়া দিই বড় বড় অক্ষরে, দয়াময়। এত দয়া তোমার? সে পঁচিশ টাকা তখন আমার কাছে পঁচিশ মোহরের সমান।…
এটি পূর্ণশশী দেবীর লেখা কোন গল্প বা উপন্যাসের পৃষ্ঠা থেকে নেওয়া নয়, এ তাঁর জীবন-স্মৃতির একটি পাতা থেকে নেওয়া।…”

তাঁর স্মৃতিকথা ‘মনে পড়ে’ তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা ‘প্রভাতে’, ‘মধ্যাহ্নে’ এবং ‘সায়াহ্নে’।
যাদবপুর স্কুল অফ উইমেন্স স্টাডিজের সঙ্গে দে’জ পাবলিশিং-এর যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা তিরিশের কম নয়। প্রতিটি বই-ই রচনার প্রসাদগুণে ও সুসম্পাদনার কারণে অনন্য। ২০০০ সালে যেমন অভিজিৎ সেন এবং অনিন্দিতা ভাদুড়ী যৌথভাবে সংকলন করেন ‘স্বর্ণকুমারী দেবীর রচনা-সংকলন’। ততদিনে যাদবপুর স্কুল অফ উইমেন্স স্টাডিজের কর্মাধ্যক্ষ হয়েছেন মালিনী ভট্টাচার্য।
স্বর্ণকুমারী দেবী রবীন্দ্রনাথের দিদি। ঠাকুরবাড়ির শিক্ষা-সংস্কৃতির ছাপ তাঁর জীবনেও এসে পড়েছিল। তাঁর বিয়ে হয়েছিল নদিয়ার জমিদার পরিবারের উচ্চশিক্ষিত যুবক জানকীনাথ ঘোষালের সঙ্গে। জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবার ‘পিরালি’ ব্রাহ্মণ হওয়ায় বিয়ের পরে জানকীনাথ ত্যাজ্যপুত্র হন। স্বর্ণকুমারী দেবী ‘ভারতী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ‘ভারতী’র প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক ছিলেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর পরেই স্বর্ণকুমারী এই পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্ব সামলেছেন বেশ কিছুদিন। ১৮৯৯ সালে তদানীন্তন বোম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত কংগ্রেস অধিবেশনের প্রকাশ্য সভায় উপস্থিত অল্প কিছু মহিলার মধ্যে তিনিও ছিলেন। কলকাতায় নারী কল্যাণ-মূলক সংস্থা ‘সখি সমিতি’রও তিনি প্রতিষ্ঠাতা। স্বদেশি দ্রব্যের প্রচারের জন্য তিনি বেথুন স্কুলে একটি তিন দিনের প্রদর্শনী আয়োজন করেন। উপন্যাস, প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কৌতুকনাট্য নানা ধরনের লেখায় তিনি পারদর্শী ছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে জগত্তারিণী স্মৃতি পদকে ভূষিত করে।

আমাদের প্রকাশ করা ‘স্বর্ণকুমারী দেবীর রচনা-সংকলন’ বইটিতে কিন্তু তাঁর কোনও উপন্যাস ছাপা হয়নি। তবে প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কৌতুকনাট্য ছাপা হয়েছে। এর আগে অবশ্য যাদবপুর স্কুল অফ উইমেন্স স্টাডিজ বিকল্প প্রকাশনীর সঙ্গে যৌথভাবে ১৯৯৮ সালে ‘স্বর্ণকুমারী দেবীর সংকলিত প্রবন্ধ’ নামে অভিজিৎ সেন ও অভিজিৎ ভট্টাচার্যের সম্পাদনায় একটি বই প্রকাশ করেছিল।
২০০২ সালে আমি দে’জ পাবলিশিং থেকে নতুন করে প্রকাশ করেছিলাম স্বর্ণকুমারী দেবীর ‘কাহাকে’ উপন্যাসটি। সে বইয়ের ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন সুদক্ষিণা ঘোষ। ‘ভূমিকা’য় সুদক্ষিণাদি লিখেছিলেন–
“…শুধু স্বদেশেই নয়, বিদেশি পাঠকের কাছেও সমাদৃতই হয়েছিল স্বর্ণকুমারী দেবীর এই উপন্যাসটি তাঁর ইংরেজি অনুবাদের সাফল্য এবং ‘কাহাকে’-র একাধিক ইংরেজি অনুবাদই তার প্রমাণ।
উপন্যাসরচনার পনেরো বছর বাদে ১৯১৩ সালে লন্ডনের T. Werner Laurie Ltd. থেকে প্রকাশিত হয়েছিল ‘কাহাকে’-র ইংরেজি অনুবাদ An Unfinished Song, অনুবাদক স্বয়ং স্বর্ণকুমারী দেবী। অনূদিত বইটির ভূমিকায় E. M. Lang লিখেছিলেন ‘…it should be of deep interest to all those who are concerned with the woman-question, for it presents a careful study of the Indian girl at this intensely interesting stage in the history of her development, and particularly of her attitude towards love and marriage…’
প্রকাশের এক বছরের মধ্যেই, ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়েছিল An Unfinished Song-এর দ্বিতীয় সংস্করণ। পরবর্তীকালে, আরেকটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল নিউ ইয়র্কের The Macmillan Company থেকেও।
বিদেশি সমালোচকের প্রশংসাও অর্জন করেছিল স্বর্ণকুমারীর উপন্যাস, যেমন New York Herald লিখেছিল ‘Mrs. Ghosal has contrived in an absorbing narrative to convey to the Western reader a valuable insight into the Hindu nature.’ কিংবা Westminister [য.] Gazette লিখেছিল ‘Mrs. Ghosal, as one of the pioneers of the Woman movement in Bengal, and fortunate in her own upbringing, is well qualified to give this picture of a Hindu maiden’s development.’
দীর্ঘদিন পরে, কলকাতা থেকেও সম্ভবত প্রকাশিত হয়েছিল এ উপন্যাসের আরেকটি অনুবাদ To Whom? Or An Indian Love Story, অনুবাদক ছিলেন শোভনা দেবী।”

২০০৯ সালের পয়লা বৈশাখের সময় মূলত অপুর উদ্যোগে আমি দে’জ থেকে প্রকাশ করেছি দু’ খণ্ডে ‘স্বর্ণকুমারী দেবীর উপন্যাসসমগ্র’। ‘স্বর্ণকুমারী দেবীর উপন্যাসসমগ্র’ সম্পাদনা করেছেন অধ্যাপক অরুণকুমার মুখোপাধ্যায়, তাঁকে সম্পাদনায় সহায়তা করেছিলেন সুধাংশুশেখর মুখোপাধ্যায়। স্বর্ণকুমারী দেবীর মোট উপন্যাসের সংখ্যা ১১, আমাদের সমগ্রে প্রথম খণ্ডে পাঁচটি এবং দ্বিতীয় খণ্ডে ছ’টি উপন্যাস সংকলিত হয়েছে। উপন্যাস-সমগ্রের ভূমিকায় অরুণদা জানিয়েছেন– “কলকাতার দুটি শতাধিক বৎসরের প্রাচীন গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত ‘স্বর্ণকুমারী দেবীর নূতন গ্রন্থাবলী’ (বসুমতী সংস্করণ) থেকে এগুলি উদ্ধার ও জেরক্স করে নিয়েছি। দুষ্প্রাপ্য উপন্যাসগুলি উদ্ধারে, নানাবিধ তথ্য সংগ্রহে এবং প্রুফ সংশোধনে প্রধান সহায়ক আমার কৃতী ছাত্র ড. সুধাংশুশেখর মুখোপাধ্যায়। অনেক সাহায্য পেয়েছি শ্রীমান শুভঙ্কর দে-র কাছ থেকেও।”

‘স্বর্ণকুমারী দেবীর রচনা-সংকলন’ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মালিনী ভট্টাচার্যের কথা উঠল। মালিনীদিকে আমি কিন্তু ২০০০ সালের অনেক আগে থেকেই চিনি। সুবীরদা-মানবদার সূত্রেই তাঁর সঙ্গে আমার আলাপ। ১৯৯৬ সালে আমি দে’জ থেকে মালিনীদির ‘নির্মাণের সামাজিকতা ও আধুনিক বাংলা উপন্যাস’ বইটি পুনর্মুদ্রণ করেছিলাম। এই বইয়ের প্রবন্ধগুলি মূলত ‘এক্ষণ’, ‘বারোমাস’, ‘জলার্ক’-র মতো পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।

আমার চিঠির ফাইলে মালিনীদির লেখা একটা চিঠি পেলাম। ২০০০ সালের ২ মে-র সেই চিঠিতে তিনি লিখছেন–
‘…সবিনয় নিবেদন,
গত বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল, ২০০০) এন. বি. টি. পূর্ব আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর শ্রীসুবীর দত্ত আমাদের দপ্তরে এসেছিলেন। তিনি বললেন যে খুব শীঘ্রই এন. বি. টি. এবং সেন্ট্রাল কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজ এম্পোরিয়ামের যৌথ উদ্যোগে চৌরঙ্গি রোড এন. বি. টি.– কটেজ বইঘর উদ্বোধিত হবে। এই বইঘরে কলকাতার বিভিন্ন নামী ও অনামা প্রকাশকের বই তাঁরা রাখবেন। দে’জ পাবলিশিং প্রকাশিত প্রায় প্রায় সব বই তাঁরা রাখতে ইচ্ছুক। এন. বি. টি.’র কর্মাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডঃ নির্মলকান্তি ভট্টাচার্য এই প্রসঙ্গে আপনাকে পত্রযোগে অবহিত করবেন। অনুগ্রহ করে দে’জের অন্যান্য বইপত্রের সঙ্গে যদি মানবীবিদ্যাচর্চা কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত প্রতিটি বই (রায়বাড়ি বাদে) কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজের নতুন শো-রুমে পাঠানোর উদ্যোগ নেন তবে আমরা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ থাকব। …’

যদিও বিষয়টা এখন আর সবটা মনে নেই, তবে এই ধরনের উদ্যোগে আমি কখনওই না বলিনি। আমার বিশ্বাস, বই যত বেশি মানুষের চোখের সামনে আনা যায় ততই ভালো। নির্মলদার সঙ্গেও আমার অনেকদিনের আলাপ। তিনি এন. বি. টি. কর্মাধ্যক্ষ যেমন হয়েছিলেন, তেমনই একসময় সাহিত্য অকাদেমির পূর্বাঞ্চলীয় সচিব ছিলেন। যাদবপুরের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগে কিছুদিন অধ্যাপনাও করেছেন। যতদূর জানি, এখন নির্মলদা দিল্লির ‘নিয়োগী বুকস’-এর প্রধান সম্পাদক। চিঠিতে মালিনীদি ‘রায়বাড়ি’ বইটি প্রস্তাবিত বইঘরে যে কারণে রাখতে বারণ করেছেন তার ইতিহাসটা আমি ইতিমধ্যেই লিখেছি। ‘রায়বাড়ি’ আমি পুনর্মুদ্রণ করেছিলাম প্রথম প্রকাশের ৩৩ বছর পরে।
লিখন: শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায়
…… ইতি কলেজ স্ট্রিট-এর অন্যান্য পর্ব ……
পর্ব ৭৫। নারীকলম: দিনগুলি রাতগুলি
পর্ব ৭৪। বই-মানবী
পর্ব ৭৩। প্রেসের কাজে গাফিলতি দেখলে কড়া চিঠি লিখতেন সুবীরদা
পর্ব ৭২। করোগেটেড কাগজের অভাবে আটকে ছিল সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কাব্যসংগ্রহ
পর্ব ৭১। অমিয় চক্রবর্তীর ‘কবিতাসংগ্রহ’ ছিল নরেশ গুহ-র গুরুদক্ষিণা
পর্ব ৭০। এক মুখে কবিতা, অন্য মুখে মিছিলের স্লোগান
পর্ব ৬৯। সুভাষিত অনুবাদ
পর্ব ৬৮। শঙ্খদাই চেয়েছিলেন, সুভাষদার কবিতাসংগ্রহ সুবীর রায়চৌধুরী সম্পাদনা করুন
পর্ব ৬৭। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা দিয়েই শুরু হয়েছিল দে’জের ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ সিরিজ
পর্ব ৬৬। প্রেমেনদার উৎসর্গ করা বই বেচে দিয়েছিলেন বন্ধু ‘শিব্রাম’!
পর্ব ৬৫। প্যাঁচানো লোহার সিঁড়ি দিয়ে উঠলেই প্রেমেন্দ্র মিত্রর অবারিত দ্বার!
পর্ব ৬৪। মুজিব হত্যার পর অন্নদাশঙ্করের শোকলিপি ছাপা হয়নি সরকারি নিষেধাজ্ঞায়
পর্ব ৬৩। ভাবনার ভাস্কর্যের দিনগুলি রাতগুলি
পর্ব ৬২। কাদের লিটল ম্যাগাজিন বলা যাবে না, তার তালিকা তৈরি করেছিলেন শিবনারায়ণ রায়
পর্ব ৬১। গৌরদা বিশ্বাস করতেন, কলমের স্বাধীনতা হরণ মাতৃবিয়োগের চেয়ে কম কিছু নয়
পর্ব ৬০। সমরেশ বসু যখন ‘বিশ্বাসঘাতক’!
পর্ব ৫৯। সারাজীবন নিজেকে জানার জন্যেই লিখে গিয়েছেন সমরেশ বসু
পর্ব ৫৮। নবারুণ চেয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ কবিতার সিরিজে তিনিও থাকুন, কিন্তু হল না
পর্ব ৫৭। সত্যজিৎ-মৃণাল-ঋত্বিক ত্রয়ীর মধ্যে ঋত্বিকের লেখাই আমরা প্রথম ছেপেছিলাম
পর্ব ৫৬। অজয় গুপ্তর নিরন্তর শ্রম আর খুঁতখুঁতে সম্পাদনা ছাড়া মহাশ্বেতা দেবীর রচনাসমগ্র হত না
পর্ব ৫৫। দলকল্যাণের জন্য রাজনীতি সমাজকে নরকে পরিণত করবে, বিশ্বাস করতেন মহাশ্বেতা দেবী
পর্ব ৫৪। যা লিখেছেন, না লিখে পারেননি বলেই লিখেছেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
পর্ব ৫৩। ‘অলীক মানুষ’ তাঁকে দিয়ে কেউ লিখিয়ে নিয়েছে, মনে করতেন সিরাজদা
পর্ব ৫২। নিজের লেখা শহরের গল্পকে লেখা বলে মনে করতেন না সিরাজদা
পর্ব ৫১। কর্নেল পড়ে সিরাজদাকে চিঠি লিখেছিলেন অভিভূত সত্যজিৎ রায়
পর্ব ৫০। সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা থেকে বাঁচতে দিব্যেন্দুদার জীবনের দ্বিতীয় গল্পই বদলাতে হয়েছিল
পর্ব ৪৯। রবিশংকর বলের মতো উর্দু সাহিত্যের এত নিবিষ্ট পাঠক খুব কমই দেখেছি
পর্ব ৪৮। দেবেশ রায়ের যেমন ‘বৃত্তান্ত’, আফসার আমেদের তেমন ‘কিস্সা’
পর্ব ৪৭। বই বাঁধানো সম্পূর্ণ হয়নি, তাই ‘মহাভুল’ শুধরে নিয়েছিলেন দেবেশ রায়
পর্ব ৪৬। গান্ধীনগরে রাত্রির কবিই প্রথম বিদ্রুপাত্মক তেতো হাসি এনেছিলেন বাংলা কবিতায়
পর্ব ৪৫। নাটকের মহলা পছন্দ হলে তবেই তিস্তাপারের বৃত্তান্তর অনুমতি দেবেন, বলেছিলেন দেবেশ রায়
পর্ব ৪৪। নিজের বইপত্র বিক্রির বিবরণ দেখে হতাশ হয়েছিলেন দেবেশ রায়
পর্ব ৪৩। থ্রিলার, রহস্য-রোমাঞ্চ কিংবা ক্রাইম স্টোরি অনেক দিন ধরেই বইপাড়ায় ‘সুপারহিট’
পর্ব ৪২। অলংকরণ বা প্রচ্ছদশিল্পীদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা নেই, সখেদে চিঠি লিখেছিলেন নারায়ণ সান্যাল
পর্ব ৪০। সিগারেট ঠোঁটে রথীন্দ্রনাথের ছবি প্রচ্ছদে যাওয়া নিয়ে উঠেছিল প্রবল আপত্তি!
পর্ব ৩৯। শান্তিনিকেতন থেকে কলেজ স্ট্রিট, প্রুফ আদান-প্রদানে সহায়ক ছিলেন বই ব্যবসায়ীরাই
পর্ব ৩৮। পাণ্ডুলিপি জমা দিয়ে সোমেনদা বলেছিলেন, রামকিঙ্করকে নিয়ে এ জাতীয় বই আগে লেখা হয়নি
পর্ব ৩৭। ‘কীর্তির্যস্য’র নাম বদলাতে চেয়েছিলেন ভবতোষ দত্ত
পর্ব ৩৬। কবি-দার্শনিকের বাইরে আরেক রবীন্দ্রনাথকে খুঁড়ে বের করেছিলেন অমিতাভ চৌধুরী
পর্ব ৩৫। ‘শাহজাদা দারাশুকো’ আরও বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে ছিল শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের
পর্ব ৩৪। একজন লেখক হিসেবে আমি কি তোমার মনোযোগের যোগ্য নই, অভিমান ভরা চিঠি লিখেছিলেন শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
পর্ব ৩৩। আমাকে ভাবায়, তারাপদ রায়
পর্ব ৩২। নববর্ষের শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ: লেখকদের মন্তব্যের খাতা!
পর্ব ৩১। পরিব্রাজক সন্ন্যাসী তারাপ্রণব ব্রহ্মচারী ভাগ্যিস থিতু হয়েছিলেন সাহিত্যে!
পর্ব ৩০। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কোনও বই আমাকে চাপিয়ে দেননি, লিখেছেন: বিবেচনা করে দেখো
পর্ব ২৯। কবিতাকে শক্তিদা বলতেন ‘জলজ দর্পণ’, তাঁর বেঁচে থাকার অবলম্বন
পর্ব ২৮। পিঁপড়ে কালিতে চুবিয়ে সাদা পাতায় ছাড়া হয়েছে, এমন পাণ্ডুলিপি ছিল বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের!
পর্ব ২৭। নিজস্ব ঈশ্বরভাবনা থাকলেও শঙ্কু মহারাজের লেখার মূল বিষয় ছিল মানুষের আলো-আঁধারি জীবন
পর্ব ২৬। বাংলাদেশে পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও একুশে বইমেলায় কখনও স্টল পাইনি
পর্ব ২৫। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি মুহূর্তের রক্ত-ঘাম-হাসি-কান্নার এক জীবন্ত দলিলচিত্র ছেপেছিলাম
পর্ব ২৪। রাখাল ছেলে যেমন বাঁশি বাজায়, আমিও তেমন নিজের খুশিতে লিখি, বলেছিলেন যাযাবর
পর্ব ২৩। রয়্যালটি-মুক্ত বইয়ের ওপর প্রকাশকদের ঝোঁক চোখে পড়ছে বইমেলাতেও
পর্ব ২২: শেষমেশ রেগে গিয়ে আমাকে চিঠিই লিখে ফেলেছিলেন শঙ্খ ঘোষ!
পর্ব ২১: ৩০০০ কপি বিক্রির মতো জীবিত বা মৃত লেখক আর হয়তো নেই
পর্ব ২০: কম বয়সে আমাদের রোববারের আড্ডা ছিল ২৮ নম্বর প্রতাপাদিত্য রোড, আশুদার বাড়িতে
পর্ব ১৯: ‘লেখা বড় হচ্ছে’ অভিযোগ আসায় খুদে হাতের লেখায় পাণ্ডুলিপি দিতেন প্রবোধবন্ধু অধিকারী
পর্ব ১৮: দু’বছরের মধ্যে সংস্করণ না ফুরলে অন্য জায়গায় বই ছাপার চুক্তি ছিল শরদিন্দুর চিঠিতে
পর্ব ১৭: পূর্ণেন্দু পত্রীর বাদ পড়া প্রচ্ছদ ও দিনেশ দাসের কবিতার শ্রেষ্ঠ দিনগুলি
পর্ব ১৬: সব প্রকাশনার যাবতীয় বইয়ের হদিশ পাওয়া যেত ‘সম্মিলিত গ্রন্থপঞ্জী’তে
পর্ব ১৫: নিছকই একটা পত্রিকা নয়, ‘কলেজ স্ট্রীট’ আমাদের আবেগ
পর্ব ১৪: খুদে পাঠকদের জন্য মিনিবই তৈরির কথা প্রথম ভেবেছিলেন অভয়দা
পর্ব ১৩: কয়েকটি প্রেসের গল্প
পর্ব ১২: দীর্ঘায়ু বই ও আইয়ুব পরিবার
পর্ব ১১: প্রেমের নয়, অপ্রেমের গল্প সংকলনের সম্পাদনা করেছিলেন সুনীল জানা
পর্ব ১০: ছোট্ট অপুকে দেখেই রঙিন ছবিতে ভরা টানটান গল্পের বই করার ইচ্ছে জেগেছিল
পর্ব ৯: চানঘরে গান-এ সত্যজিৎ রায়ের চিঠি থাকায় ব্যাপারটা গড়িয়েছিল কোর্ট কেস পর্যন্ত
পর্ব ৮: প্রকাশক-লেখকের কেজো সম্পর্কে বুদ্ধদেব গুহর বিশ্বাস ছিল না
পর্ব ৭: পুজো সংখ্যায় না-বেরনো উপন্যাস বই আকারে সুপারহিট
পর্ব ৬: মানবদার বিপুল অনুবাদের কাজ দেখেই শিশির দাশ তাঁর নাম দিয়েছিলেন– ‘অনুবাদেন্দ্র’
পর্ব ৫: সাতবার প্রুফ দেখার পর বুদ্ধদেব বসু রাজি হয়েছিলেন বই ছাপানোয়!
পর্ব ৪: লেখকদের বেঁচে থাকার জন্য অনেক কিছুই লিখতে হয়, প্রফুল্ল রায়কে বলেছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র
পর্ব ৩: পয়লা বৈশাখের খাতায় শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় মজাচ্ছলে লিখেছিলেন, ‘সুধাংশুরা রাজা হোক’
পর্ব ২: বাংলা মাসের সাত তারিখকে বলা হত ‘গ্রন্থতিথি’, বিজ্ঞাপনেও বিখ্যাত ছিল ‘৭-ই’
পর্ব ১: সত্তরের উথাল-পাথাল রাজনৈতিক আবহাওয়ায় আমি প্রকাশনার স্বপ্ন দেখছিলাম
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved