Robbar

কলকাতা: পূর্ণেন্দু সংস্করণ

Published by: Robbar Digital
  • Posted:July 19, 2026 7:03 pm
  • Updated:July 19, 2026 7:11 pm  

তাঁর বাড়িতে আমার যাতায়াত ছিল প্রায় নিয়মিতই। আমি প্রথম দিকে গিয়েছি তাঁদের বাঙ্গুর অ্যাভেনিউয়ের বাড়িতে। সেই বাড়ির একবারে কাছেই ছিল নীরেনদার (নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী) বাড়ি। পরে ১৯৮১ সালে পূর্ণেন্দুদা সল্টলেকের নতুন বাড়িতে চলে এলে আমি সেখানেই গিয়েছি। তাঁর বাড়িতে যাওয়া মানে কেবল একজন লেখক বা প্রচ্ছদশিল্পীর কাছে যাওয়া নয়। তিনি এক অর্থে আমার শিক্ষকও ছিলেন। প্রকাশনায় আসার এক দশক পরেও আমি তাঁর কাছে ছাপাছাপির নানান জিনিস শিখেছি। তিনি বইয়ের তাক থেকে একের পর পর এক বিদেশি বই বের করে এনে আমাকে নানা জিনিস বোঝাতেন। আমি মুগ্ধ হয়ে শিখতাম তাঁর কাছে। আবার মাস্টারমশাইয়ের কাছে ছাত্রের মতো বকুনিও খেয়েছি বিস্তর। আর বউদির কাছে প্রায় প্রতিবারই রকমারি খাবারদাবার খেয়ে এসেছি।

প্রচ্ছদে ব্যবহৃত পূর্ণেন্দু পত্রীর ছবি: শুভঙ্কর দে

সুধাংশুশেখর দে

৮০.

প্রকাশনায় আসার পর কত লেখক, কবি, শিল্পীর সঙ্গে পরিচয় হল– কিন্তু পূর্ণেন্দুদার মতো এত রকমের কাজ করতে দ্বিতীয় আর কাউকে আমি দেখিনি। কবি হিসেবে তিনি যেমন অসামান্য, তেমনই গল্প-উপন্যাস, প্রবন্ধ-নিবন্ধের ক্ষেত্রেও তাঁর সমান সিদ্ধি। কলকাতার ইতিহাস নিয়ে তাঁর লেখালিখি খুবই জনপ্রিয়। তাছাড়া বইয়ের মলাট আঁকায় তিনি প্রায় কিংবদন্তির পর্যায়ে পৌঁছেছেন। আর চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও বাঙালি তাঁকে মনে রাখবে– তাঁর পরিচালনায় ‘স্বপ্ন নিয়ে’, ‘স্ত্রীর পত্র’ বা ‘ছেঁড়া তমসুক’-এর মতো ছবির কথা এখনও আলোচিত হয়। এত রকমের কাজে নিজেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াটা মোটেই সহজ কথা নয়। প্রবল প্রতিভাবান না হলে এই কাজ করা যায় না। পরিণত বয়সে নিজের এই বহুমুখী কাজ নিয়ে বলতে গিয়ে ‘নিজের সম্পর্কে’ বলে একটি লেখায় তিনি জানিয়েছিলেন– ‘অপরিচিত জনের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেওয়ার সময় বন্ধুবান্ধবেরা বা অন্য কেউ যখন বলেন– ইনি একাধারে কবি, শিল্পী, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, চলচ্চিত্রকার অ্যান্ড হোয়াট নট্, কলহাস্যে মুখরিত হয়ে ওঠে পরিবেশ। যিনি বলেন এবং যিনি শোনেন তাদের উভয়ের মুখের রেখাতেই তখন কিম্ভুতকিমাকার এক বিস্ময়। যেন হাঁসজারু গোছের কোনো আজব প্রাণীর একজন চাক্ষুষ পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন আরেকজনের। সুসভ্য সুসজ্জিত মার্জিত এক ক্লাউনের মত লাগে তখন নিজেকে। আর ওই সব মুহূর্তে চমৎকার বুঝে যাই, ভুল করেছি কোথায়। আমারও অন্বিষ্ট হওয়া উচিত ছিল ক-বাবু, খ-বাবু, গ-বাবু, ঘ-বাবু, ঙ-বাবুদের মতো একমুখীনতা। কবিতা লিখছি তো কবিতাই, উপন্যাস তো আজীবন শুধু উপন্যাস। গান গাইছি তো অহোরাত্র শুধু গানই। ছবি তো লাগাতার ছবিই। অস্ত্রে দীক্ষা দেওয়ার সময় দ্রোণাচার্য যেভাবে শেখাতেন, সেটাই এখনকার মডেল। যা তোমার টারগেট, তার বাইরের সব কিছুই থাকবে তোমার দৃষ্টির অন্তরালে। ঔপন্যাসিকের কাছে ছবি আঁকিয়ে এসে আমন্ত্রণ জানালে তিনি করজোড়ে বলে উঠবেন, মাপ করবেন ভাই, ছবি-টবি আমি দেখিও না, আর বুঝিও না। আর এই উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে আমরা বুঝে যাব ঔপন্যাসিক হিসেবে কী পরিমাণ একনিষ্ঠ অথবা নিষ্ঠাবান তিনি। হিন্দুদের পক্ষে বহুবিবাহ যে অপরাধ, তাকে আইনের সম্মান দিয়েছে আদালত। বুদ্ধিজীবীর পক্ষে বহু বিষয়ে আগ্রহও যে কোন ক্ষমাহীন অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না, এ নিয়ে আদালতে এখনও কেউ দরখাস্ত লেখেননি বলেই আমি এবং আমার মত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এখনও সৌভাগ্যবশত জেলখানার বাইরেই।’ ওই লেখাতেই মজার ছলে বলেছিলেন– ‘রবীন্দ্রনাথ ছবিকে বলেছিলেন– শেষ বয়সের প্রিয়া। ওই হিসেবে মলাট আমার বাল্যকালের বিয়ে করা বৌ। তা হলে কবিতা? না কবিতাই বরং বাল্য-বিবাহের বৌ। মলাট দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী। দুই সতীনের ভালোই ভাবসাব এখনো পর্যন্ত। তবে দ্বিতীয় পক্ষের সঙ্গে ক্রমশই বনিবনাটা আসছে কমে। তার বদলে দ্বিতীয় পক্ষেরই আর এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় তার সঙ্গে চলেছে আমার আধা গোপন আধা-প্রকাশ্য প্রণয়। তার নাম, ছবি। কবিতার বিধবা-মার্কা বইকে ছবি দিয়ে সালঙ্কারা করার অবিকল ইচ্ছে আজকাল মনের মধ্যে। কবিতাকে নিয়ে ছবি। কবিতার জন্যে ছবি। কবিতার মতো ছবি। সিনেমা আমার মেজাজ-মর্জির খাপের মাপের শিল্প নয় সম্ভবত। সেই কারণে গোড়া থেকেই একটা ‘লাভ-হেট’ অর্থাৎ আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক। দু’দিন গলায় গলায় ভাব তো, দশদিন বাক্যি বন্ধ।’

পূর্ণেন্দু পত্রী, ছবি: শুভঙ্কর দে

পূর্ণেন্দুদার সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দেন প্রবোধবন্ধু অধিকারী। প্রবোধদা ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ দপ্তরে অন্য অনেক লেখক-কবির মতোই একদিন বিকেলবেলা আমাকে পূর্ণেন্দু পত্রীর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেন। আমি গিয়েছিলাম আমার আসন্ন-প্রকাশ একটি বইয়ের মলাট এঁকে দেবার আর্জি নিয়ে। বইটি ছিল প্রতিভা বসুর ‘সমুদ্র-হৃদয়’। পূর্ণেন্দুদা তখন পর-পর বুদ্ধদেব বসুর বইয়ের মলাট আঁকছেন। প্রতিভা বসুর বইটির জন্য বুদ্ধদেবই আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন পূর্ণেন্দুদার কাছে যেতে। আমার প্রস্তাব শুনে পূর্ণেন্দু পত্রী রাজিও হয়ে গিয়েছিলেন। তারপর যথাসময়ে তাঁর মলাটেই প্রকাশিত হয় ‘সমুদ্র-হৃদয়’।

‘সমুদ্র-হৃদয়’ বইয়ের প্রচ্ছদ

১৯৭০ সালে আমি যে চারটি বই নিয়ে প্রকাশনার কাজ শুরু করেছিলাম, তার মধ্যে প্রথম বই বেদুইনের ‘মহানায়ক লেনিন’ এবং আশাপূর্ণা দেবীর ‘মনের মুখ’-এর মলাট তৈরি করে দিয়েছিলেন গণেশ বসু, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কুমারসম্ভবের কবি’র মলাট ছিল অজিত গুপ্তর, আর ‘সমুদ্র-হৃদয়’ ছিল পূর্ণেন্দুদার আঁকা। সেই ১৯৭০ সালের জুলাই মাসে প্রকাশিত বইটি থেকে শুরু করে পূর্ণেন্দুদা দে’জ পাবলিশিং-এর জন্য অসংখ্য মলাট এঁকেছেন। আমাদের প্রকাশনায় তাঁর আঁকা মলাটের সংখ্যা ২২৭টির কম নয়, তার থেকে কিছু বেশিই হবে। শুধু তা-ই নয়। ‘মহানায়ক লেনিন’ প্রকাশের সময় দে’জ পাবলিশিং-এর কোনও লোগো ছিল না। গণেশদা প্রদীপ ও শিখার আদলে একটা ছোট্ট ড্রয়িং দিয়েছিলেন সে-বইয়ের স্পাইনে ব্যবহারের জন্য। আশাপূর্ণা দেবীর ‘মনের মুখ’ বইয়ের স্পাইনেও সেই ছবি ছিল। তারপর বিভিন্ন সময় গণেশ বসু, অজিত গুপ্ত, খালেদ চৌধুরীরা দে’জের জন্য লেটারিং-এ লোগো করে দিয়েছেন।

 

‘মহানায়ক লেনিন’-এর প্রচ্ছদ ও প্রদীপ শিখার লোগো, শিল্পী: গণেশ বসু

এইসব লোগো তখন আমি কেবল বইয়ের স্পাইনেই ছাপতাম। টাইটেল পেজে তখনও দে’জের লোগো বসানো হত না। আমার যতদূর মনে পড়ে খালেদদার করা লোগোটিকেই পূর্ণেন্দুদা খানিকটা বদলে নিয়ে, তাকে একটি বৃত্তের মধ্যে বসিয়ে, দে’জ পাবলিশিং-এর বহু পরিচিত লোগোটি বানিয়ে দিয়েছিলেন। আমাদের পাগলাডাঙার লাইব্রেরিতে পুরোনো বইগুলো খুঁজতে গিয়ে দেখলাম অনেক পুরনো বইয়েরই স্পাইন নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাই আজ নিশ্চিতভাবে বলা মুশকিল কোন বইয়ে প্রথম পূর্ণেন্দুদা আমাদের পরিচিত লোগোটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন। সবচেয়ে পুরনো যে-বইটির স্পাইনে দে’জের এখনকার লোগোটি দেখতে পেলাম সেটি ১৯৭১ সালের বাংলা নববর্ষে প্রকাশিত সম্রাট সেনের ‘সিরাজের পরে’ এবং সে-বইতেও দেখছি টাইটেল পেজে লোগো বসানো হয়নি।

সন্তোষকুমার ঘোষের বইয়ের প্রচ্ছদশিল্পী পূর্ণেন্দু পত্রী

‘সমুদ্র-হৃদয়’ প্রকাশের পর ১৯৭০-এই পূর্ণেন্দুদা আমাকে সন্তোষকুমার ঘোষের ‘সোজাসুজি’ বইটির একটি চমৎকার মলাট এঁকে দিয়েছিলেন। আবার, ১৯৭১-এ প্রকাশিত সন্তোষদার ‘শেষ নমস্কার, শ্রীচরণেষু মা-কে’ বইটির শুধু মলাট নয়, টাইটেল পেজটাও পূর্ণেন্দুদাই ডিজাইন করে দিয়েছিলেন। আমার মনে আছে তিন-তিনবার এঁকে তবেই তিনি ওই বইয়ের মলাট এবং টাইটেল পেজের ডিজাইন ঠিক করেছিলেন।

ক্ষুদ্রপট রুদ্রপ্রাণ বইয়ের প্রচ্ছদ

প্রতিভা বসুর মলাট ছাপার সময়েই আমি পূর্ণেন্দুদার কাছে একটি বই চেয়ে রেখেছিলাম। তিনি প্রথমে বলেছিলেন ভেবে দেখবেন। কিন্তু ‘সমুদ্র-হৃদয়’-এর কাজ শেষ হওয়ার পর একদিন আমাকে ডেকে জানালেন তাঁর একটা বই আমি প্রকাশ করতে পারি। প্রকাশনার প্রথম বছরেই পূর্ণেন্দু পত্রীর বই ছাপার সুযোগ ক’জনই বা পায়, তাই আমি একবাক্যে রাজি হয়ে গেলাম। সেই বই– ‘ক্ষুদ্রপট রুদ্রপ্রাণ’ প্রকাশিত হয় ১৯৭০-এর নভেম্বর মাসে। সেই শুরু, তারপর পূর্ণেন্দুদার একের পর এক বই আমি দে’জ পাবলিশিং থেকে প্রকাশ করেছি। অবশ্য ‘ক্ষুদ্রপট রুদ্রপ্রাণ’ বইটি তিনি করেছিলেন ‘সমুদ্রগুপ্ত’ ছদ্মনামে। নিজের বইয়ের মলাট তিনি চিরকাল নিজেই এঁকেছেন। ‘ক্ষুদ্রপট রুদ্রপ্রাণ’-এর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এই বইয়ের শুধু মলাটই নয়, ভেতরের যাবতীয় অলংকরণও তিনি নিজের হাতে করে দিয়েছিলেন। ‘ক্ষুদ্রপট রুদ্রপ্রাণ’ বেশ কয়েকজন আলোকসামান্য মানুষের জীবনের কথা– প্রথম লেখাটিই ছিল স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে। বইটির শুরুতে এক পাতার ভূমিকা-তুল্য লেখায় তিনি জানিয়েছিলেন–

‘এই বইয়ের মানুষগুলি বড়। রুদ্রপ্রাণ। ঘটনাগুলি ছোট। ক্ষুদ্রপট। কিন্তু সেই ক্ষুদ্র পটেই ছায়া ফেলেছে তাঁদের সমগ্র জীবনের তেজোদীপ্ত মহিমা। এতে তত্ত্বকথা নেই। যে সব স্মরণীয় মানুষকে আজ আমরা ভুলতে বসেছি, ভুলতে চাইছি, ভুলে দেশের ভালো হবে ভাবছি, তাঁদের ভাস্বর জীবনের কিছু খণ্ডচিত্রকে সাধারণের কাছে সরল ও সরস করে তুলে ধরা কেবল। এর অধিকাংশ লেখা বেরিয়েছিল আনন্দবাজার রবিবাসরীয়তে। কিছু নতুন লেখা যোগ হয়েছে বই হয়ে ওঠার তাগিদে।

বইটি উৎসর্গ করলাম শঙ্করী প্রসাদ বসুকে, মাত্র এক দিনের কিছুক্ষণের আলাপের উজ্জ্বল স্মৃতিকে মনে রেখে। আপাতঃ-খ্যাতির [য.] অন্তরালে থেকে তিনি প্রায় তপস্যার মত যে বৃহৎ কাজে ব্রতী, তারই প্রতি আমার শ্রদ্ধা নিবেদন।…’

শঙ্করীপ্রসাদ বসু ও পূর্ণেন্দু পত্রী

‘ক্ষুদ্রপট রুদ্রপ্রাণ’ বইটি আমি পটুয়াটোলা লেনে অজিতকুমার সাউ-এর নিউ রূপলেখা প্রেস থেকে ছেপেছিলাম। মোট ১৫টি লেখার এই সংকলনের নিবন্ধগুলির বিষয় এবং নামও ছিল বেশ চিত্তাকর্ষক– ‘অমৃতের পুত্রেরা ও বিবেকানন্দ’, ‘শালগ্রামশিলা ও সুরেন্দ্রনাথ’, ‘চিড়িয়াখানা ও অশ্বিনীকুমার’, ‘কাঁচকলা ও ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়’, ‘কাঠের চেয়ার ও বিপিন পাল’, ‘বজ্র ও নিবেদিতা’, ‘কিপলিং-এর শৃগাল ও সরলাদেবী’, ‘গুপ্তসমিতি, গুপ্তপ্রেম ও যতীন্দ্রনাথ’, ‘কবিতা, কাটলেট ও বারীন ঘোষ’, ‘মেঘনাদবধ কাব্য ও ফুলার সাহেব’, ‘আলিপুরের সেক্‌সপীয়র ও অরবিন্দ ঘোষ’, ‘রবীন্দ্র-সংগীত ও উল্লাসকর’, ‘মোচার ঘণ্ট ও হেমচন্দ্র কানুনগো’, ‘প্ল্যানচেট ও স্বাধীনতার আন্দোলন’ এবং ‘পলাশীর যুদ্ধ ও মোহনবাগান’।

‘পুরনো কলকাতার কথাচিত্র’ বইয়ের প্রচ্ছদ

দে’জ পাবলিশিং-এর জন্য মলাট আঁকা অব্যাহত থাকলেও থেকে পূর্ণেন্দুদার পরের বইটা পেতে আমাকে প্রায় ন’বছর অপেক্ষা করতে হয়। এবার আর ছদ্মনামে নয়, স্বনামেই– ১৯৭৯-র নভেম্বরে আমি প্রকাশ করেছিলাম ‘পুরনো কলকাতার কথাচিত্র’।

কলকাতার ইতিহাসের অলিগলিতে ছিল পূর্ণেন্দুদার স্বচ্ছন্দ যাতায়াত। পাঠকমহলে কলকাতার ইতিহাস নিয়ে সুখপাঠ্য, তথ্যনির্ভর লেখার একটা চাহিদা চিরকালই ছিল আর সে-ধরনের লেখায় শ্রীপান্থ (নিখিল সরকার) আর পূর্ণেন্দুদা ছিলেন সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই লেখক। দু’জনে প্রায় সমবয়সিও ছিলেন। নিখিলদার জন্ম ১৯৩২-এ, পূর্ণেন্দু পত্রী তাঁর থেকে এক বছরের বড়।

শ্রীপান্থ (নিখিল সরকার)

নিখিল সরকারের সঙ্গেও আমার আনন্দবাজারের দপ্তরেই পরিচয়। তিনি সেখানকার সম্পাদকীয় বিভাগে ছিলেন। শ্রীপান্থের প্রয়াণের পর ২০০৪-এর ১৮ আগস্ট ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’য় তাঁর প্রয়াণলেখ-তে বলা হয়েছিল– “সাংবাদিক হিসাবে তাঁর বেশির ভাগ সময় কেটেছে তাঁর ভাষায় ‘হেঁসেলে’, সম্পাদকীয় দফতরে। তাঁর তত্ত্বাবধানে ‘পুস্তক পরিচয়’ ও ‘কলকাতার কড়চা’ বিভাগ দুটি জনপ্রিয় ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।” তাঁর মতো পড়ুয়া মানুষও আমি খুব কম দেখেছি। আনন্দ পাবলিশার্স থেকে শ্রীপান্থের একটা চমৎকার বই আছে– ‘পড়ার বইয়ের বাইরে পড়া’। সম্ভবত তিনি জীবিত থাকতে এটাই তাঁর শেষ প্রকাশিত বই।

নিখিলদার সঙ্গে আলাপের অনেক পরে তিনি আমাকে নিজের বই ছাপতে দেন। এক্ষেত্রে অনুঘটকের কাজ করেছিলেন জগন্নাথদা (জগন্নাথ ভট্টাচার্য)– তাঁর কথা আগেই লিখেছি। জগন্নাথদার উদ্যোগেই আমি শ্রীপান্থের দু’টি বই পাই। ১৯৮৫-র ৫ সেপ্টেম্বর একটা চিঠিতে আমি নিখিলদাকে লিখেছিলাম–

‘শ্রদ্ধাভাজনেষু,

জগ্ননাথদা (শ্রীজগন্নাথ ভট্টাচার্য) আপনার ঠগী ও হারেম বই দুটি আমাকে পৌঁছে দেবার পর প্রেসে দিয়েছি। প্রুফ উঠলে বিপুলদার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন। সে-সময় আপনাকেও প্রুফটা দেখাবো…।’

ঠগী ও হারেম বইয়ের প্রচ্ছদ

আমি নিখিলদার মোট চারটে বই প্রকাশ করেছি। যতদূর মনে পড়ছে সবগুলোই ছিল পুনর্মুদ্রণ– ১৯৮৬ সালে প্রথম ছেপেছিলাম ‘হারেম’, তার পরের বছর ‘ঠগী’। ‘হারেম’ কিন্তু শ্রীপান্থের প্রবন্ধ-নিবন্ধের বই নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। ‘ঠগী’ বইটা আগে সম্ভবত আনন্দ পাবলিশার্সের ছিল। ‘ঠগী’র শুরুতে তিনি ছোট্ট একটি ভূমিকায় লিখেছিলেন–

‘এই বইয়ের স্থান কাল পাত্র কিছুই কাল্পনিক নয়। প্রতিটি ঘটনা, প্রতিটি চরিত্র, এমনকি পরিবেশ এবং সংলাপও ঐতিহাসিক সত্য। অবশ্য উদ্ধৃতিগুলি কোন কোন ক্ষেত্রে– শব্দ নয়, বক্তব্যের দিক থেকেই আক্ষরিক। যে সব পুঁথিপত্র এবং রিপোর্টের ভিত্তিতে এ-কাহিনী রচিত হয়েছে পরিশিষ্টে তার উল্লেখ আছে। সুতরাং পুনর্কথন উপলক্ষে আপন বাচনভঙ্গি এবং নতুন করে ঘটনা-বিন্যাস ছাড়া লেখক হিসেবে আমার কৃতিত্ব অতি সামান্য। যাঁদের উৎসাহ এবং আন্তরিক সহযোগিতায় এই সামান্যটুকু অবশেষে নিষ্পন্ন হল তাঁদের মধ্যে সর্বাগ্রে উল্লেখযোগ্য শ্রীরমাপদ চৌধুরীর নাম। তাঁর কাছে আমি কৃতজ্ঞ।…’

শ্রীপান্থের আরও দু’টি বইয়ের প্রচ্ছদ

১৯৯৩ সালে দে’জ থেকে প্রকাশিত হয় শ্রীপান্থের ‘দেবদাসী’ এবং ঠিক তার পরের বছর ‘জিপসীর পায়ে পায়ে’। ‘জিপসীর পায়ে পায়ে’ও উপন্যাসোপম রচনা। আর ‘দেবদাসী’ হল তিনটি লেখার সংকলন। এই বইয়ের সূচনায় লেখক জানিয়েছেন–

‘এই বইয়ে আছে তিন কন্যার কাহিনি: ‘সতী’ ‘দেবদাসী’ আর ‘বিষকন্যা’। তবু নাম দেওয়া হল ‘দেবদাসী’। কেননা, তিনজনই মূলত তা-ই, দেবতাদের দাসী। সে দেবতা কখনও স্বর্গের, কখনও মর্তের, এই যা।
তিনটি রচনাই পূর্বপ্রকাশিত। ‘আরও কিছু কথা’র ছলে নতুন কথাও কিছু শোনানো হল। আর, আরও উৎসাহী পাঠক-পাঠিকার জন্য সেই সঙ্গে পরিবেশিত হল কিছু পুঁথিপত্রের নাম।’

‘দেবদাসী’ বইটির মলাট এঁকে দিয়েছিলেন সুধীর মৈত্র। তবে শ্রীপান্থের কলকাতার ইতিহাস নিয়ে কোনও বই আমি পাইনি।

পূর্ণেন্দুদার ‘পুরনো কলকাতার কথাচিত্র’ বইটি নিখিলদাকেই উৎসর্গ করা। বইয়ের উৎসর্গের পাতায় পূর্ণেন্দুদা লিখেছেন– ‘শ্রীপান্থ/ যার ছদ্মবেশ,/সেই/ নিখিল সরকারকে’। অনেক পুরনো ছবি দিয়ে সাজানো ‘পুরনো কলকাতার কথাচিত্র’ বইটির ভূমিকাটিও পূর্ণেন্দুদা সাজিয়েছিলেন কবিতার মতো করে লেফট অ্যালাইনমেন্টে। প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় তিনি লিখেছিলেন–

‘বছর চব্বিশ আগে কী করে যেন একটা বই লিখে ফেলেছিলুম কলকাতাকে নিয়ে। নাম ছিল, শহর কলকাতার আদিপর্ব। বইটা সমাদরও পেয়েছিল কিছুটা। বেশ কয়েকটি মুদ্রণের পর দীর্ঘকাল অমুদ্রিত পড়ে ছিল সে বই। নতুন করে ছাপতে দেওয়ার সময় মনে হল, গোটা বইটাই নতুন করে লেখা দরকার। ফলে নামটাও পাল্টালো, আকৃতিও বদলালো। সবিনয়ে বলে রাখি, আমি গবেষক নই। যা পড়ি, তাই লিখি। কলকাতার বিষয়ে পড়তে আনন্দ পাই। সেই আনন্দের টানেই লেখা ইতিহাসের জটিল বিষয়কে কতটা সহজ এবং সুখপাঠ্য করে লেখা যায় সেটাই আমার লক্ষ্য। কলকাতা বিষয়ে নানা মুনির নানা মত। মোটামুটি সমস্ত মতকে সামনে রেখেই গল্প বলার মতো করে ইতিহাস বলেছি বা বলতে চেয়েছি। ভুল-ত্রুটি রয়ে গেছে তার মধ্যেও। তবুও যেহেতু ইদানীংকালে কলকাতার কোনো ধারাবাহিক ইতিহাস নিয়ে কেউ মাথা ঘামাননি, নিজেকে অযোগ্য জেনেও, সে দায়িত্ব মাথা পেতে নিয়েছি, এইটুকুই আমার দুঃসাহস।’

পূর্ণেন্দুদা এই ভূমিকায় যে-বইয়ের উল্লেখ করেছেন, সেই ‘শহর কলকাতার আদিপর্ব’ তাঁর কলকাতা বিষয়ক প্রথম বই। ১৯৫৬ সালে বইটি বেরিয়েছিল নতুন সাহিত্য ভবন থেকে। সুশীলকুমার সিংহের নতুন সাহিত্য ভবনের ঠিকানা ছিল ৩ নং শম্ভুনাথ পণ্ডিত স্ট্রিট। নতুন সাহিত্য ভবন থেকেই একসময়ের বিখ্যাত পত্রিকা ‘নতুন সাহিত্য’ প্রকাশিত হত– সেই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন অনিলকুমার সিংহ। ‘শহর কলকাতার আদিপর্ব’ যেমন পূর্ণেন্দু পত্রীর প্রথম কলকাতা বিষয়ক বই, তেমনই সম্ভবত ‘সমুদ্রগুপ্ত’ ছদ্মনামেও প্রথম বই।

‘পুরনো কলকাতার কথাচিত্র’ বইটিতে মূল লেখা শুরু হওয়ার আগে, লেখকের ভূমিকার ঠিক পরেই ছিল রূপচাঁদ পক্ষীর ‘কলিকাতা বর্ণন’ যার শুরুর লাইনটি হল– ‘ধন্য ধন্য কলিকাতা সহর, স্বর্গের জ্যেষ্ঠ সহোদর’।

পূর্ণেন্দু পত্রীর লেখা চিঠি (১)

আমার চিঠির সংগ্রহে পূর্ণেন্দুদার সবচেয়ে পুরনো যে চিঠিটা আছে সেটা ১৯৮৪ সালের। সেবছরের ২৯ জুন তিনি আমাকে লেখেন–

“প্রিয় সুধাংশু,

এই চিঠি নিয়ে যিনি যাচ্ছেন, তিনি কবি বীরেন রক্ষিত। আমার লেখা ‘কবিতার ঘর ও বাহির’-এর ১টা কপি এঁকে দিলে খুব উপকৃত হবো।

প্রীতিসহ
পূর্ণেন্দু পত্রী”

পূর্ণেন্দুদার ‘কবিতার ঘর ও বাহির’-এর প্রসঙ্গে পরে আসব। আপাতত বলে রাখি এই বইটি আমি প্রকাশ করেছিলাম ১৯৮৩-র সেপ্টেম্বরে। চিঠির বীরেন রক্ষিত হলেন কবি বীরেন্দ্রনাথ রক্ষিত। তাঁর দু’টি প্রবন্ধের বই খুব বিখ্যাত– ‘কাব্যবীজ ও কমলকুমার মজুমদার’ এবং ‘জীবনানন্দের ছোটোগল্প নিজস্ব পাঠ’। পাঁচের দশকের এই উল্লেখযোগ্য কবির ‘কবিতাসংগ্রহ’ প্রকাশিত হয়েছে আদম প্রকাশন থেকে। শিশির ভট্টাচার্য সম্পাদিত কবিতাকেন্দ্রিক সাহিত্যপত্র ‘অন্যদিন’-এর শীত-বসন্ত সংখ্যা ১৩৮৮-র কবি-পরিচিতি অংশে দেখছি শিলং-এর কবিদের কথা আছে। সেখানে বীরেন্দ্রনাথ রক্ষিত সম্পর্কে লেখা হয়েছিল– “পঞ্চাশের বিশিষ্ট কবি। দীর্ঘদিন তিনি শিলঙে ছিলেন। যুক্ত ছিলেন শিলঙের প্রতিটি পত্র-পত্রিকার সঙ্গে। যদিও তিনি কোনো পত্র-পত্রিকার ভিতরে আসতে নারাজ; তবু, শিলঙের কাব্যে সহৃদয় সাহায্য করেছেন বীরেন্দ্রনাথ। ‘শিলঙের কবিতা’ বের হবার দশ বারো বছর আগে (সম্ভবত ১৯৫৬ সালে) ‘উৎস’ নামে একটি সাইক্লোস্টাইলড কবিতার কাগজ শিলঙ থেকে বেরিয়েছিলো। এই পত্রিকাটির অন্যতম কবি ছিলেন বীরেন্দ্রনাথ। তিনি শিলঙ থেকে প্রকাশিত ‘পূর্বভারতী’ (১৯৬৯-৭০) সাহিত্য পত্রিকার দ্বিতীয় সংখ্যার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। পঞ্চাশের বীরেন্দ্রনাথের প্রথম ও একমাত্র কবিতার বই ‘পরবাসী’। যে ক’জন কবি বাংলা কবিতার ছন্দে, আত্মা ও শরীরে নতুনত্ব এনেছেন ইনি তাঁদের অন্যতম। তাঁর চিত্রকল্প ব্যবহারের বাহাদুরি, ছন্দ-নিপুণতা ও দৃষ্টিভঙ্গি বহু তরুণ কবিকে মুগ্ধ করে। তাঁর আশ্চর্য সুন্দর চিত্র-কল্প উল্লসিত করে হৃদয়। বীরেন্দ্রনাথের কবিতার বিরুদ্ধে অভিযোগও আছে– অভিযোগ একটিই দুর্বোধ্যতা। তাঁর কবিতার সংকলন বেরুনো আশু প্রয়োজন বাংলা কবিতার বৃহত্তর স্বার্থে।” আদম সংস্করণ বীরেন্দ্রনাথ রক্ষিতের ‘কবিতাসংগ্রহ’ থেকে জানতে পারলাম তিনি পড়াশোনা করেছেন শিলং এবং কলকাতায়। শিলং লেডিকেন গার্লস কলেজে এবং পরে গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। চাকরিতে অবসরের পর চলে আসেন কল্যাণীতে। বীরেন্দ্রনাথ রক্ষিতের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পরবাসী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ সালে। যদিও তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা মাত্র চার। অন্য তিনটি কবিতাবই হল– ‘সাক্ষাৎকার’, ‘একা যাবে’ এবং ‘৩২ যোগিনী বসিবেক’। ‘কাব্যবীজ ও কমলকুমার মজুমদার’ এবং ‘জীবনানন্দের ছোটোগল্প নিজস্ব পাঠ’ ছাড়া বীরেন্দ্রনাথের গদ্যবই: ‘কবিতার শব্দ ও শব্দভ্রম’ এবং ‘রবীন্দ্রনাথ ও একশো বছরের বাংলা কবিতা’।

কলকাতা বিষয়ক পূর্ণেন্দুদার অনেকগুলি বই আমি এরপর দে’জ থেকে পরপর ছেপেছি এবং তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্কও গভীর হয়েছে। তাঁর বাড়িতে আমার যাতায়াত ছিল প্রায় নিয়মিতই। আমি প্রথম দিকে গিয়েছি তাঁদের বাঙ্গুর অ্যাভেনিউয়ের বাড়িতে। সেই বাড়ির একবারে কাছেই ছিল নীরেনদার (নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী) বাড়ি। পরে ১৯৮১ সালে পূর্ণেন্দুদা সল্টলেকের নতুন বাড়িতে চলে এলে আমি সেখানেই গিয়েছি। তাঁর বাড়িতে যাওয়া মানে কেবল একজন লেখক বা প্রচ্ছদশিল্পীর কাছে যাওয়া নয়। তিনি এক অর্থে আমার শিক্ষকও ছিলেন। প্রকাশনায় আসার এক দশক পরেও আমি তাঁর কাছে ছাপাছাপির নানান জিনিস শিখেছি। তিনি বইয়ের তাক থেকে একের পর পর এক বিদেশি বই বের করে এনে আমাকে নানা জিনিস বোঝাতেন। আমি মুগ্ধ হয়ে শিখতাম তাঁর কাছে। আবার মাস্টারমশাইয়ের কাছে ছাত্রের মতো বকুনিও খেয়েছি বিস্তর। আর বউদির কাছে প্রায় প্রতিবারই রকমারি খাবারদাবার খেয়ে এসেছি।

পূর্ণেন্দু পত্রীর সঙ্গে সুবীর ভট্টাচার্য

১৯৮৫-র ২ জানুয়ারি আমাকে নবর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে পূর্ণেন্দুদা লিখেছিলেন–

‘… বইয়ের জন্য ধন্যবাদ।

কলকাতা দেব। বৈশাখের মধ্যে একটা প্রবন্ধ, একটা ডিটেকটিভ, আর একটা কলকাতার বই পাবে। ১৫টা ছবি পাঠালুম। মাপ পাশে দেখানো আছে। ঐ ভাবে Reduction হবে। এবং Block হবে 45 half line Screen-এ। Proof ও পাঠালুম, আরেকবার দেখে।…’

এই চিঠির ওপরে ডানদিকের কোণে আবার একটা তারা চিহ্ন দিয়ে লিখেছেন– ‘সমরেন্দ্র সেনগুপ্তের শ্রেষ্ঠ কবিতা– পাইনি। কাল অবশ্যই পাঠিও। দরকার আছে। পূ’

পূর্ণেন্দু পত্রীর লেখা চিঠি (২)

 ২৩ জানুয়ারি ১৯৮৫ আবার তিনি আমাকে একটি চিঠিতে লিখেছেন–

‘প্রিয় সুধাংশু,

ছবির Block Proof কই ?

আমাদের কাগজে তোমাদের একটা ½ Page বিজ্ঞাপন যাওয়ার কথা। আজ দুপুরের মধ্যে না পেলে মুশকিল। বইমেলার জন্যে আমাদের কাগজ এবারে ৩/৪ দিন আগে বেরোবে। কালকেই Last Page চলে যাবে Press-এ। তুমি যাহোক একটা ম্যাটার দিও। আমি সাজিয়ে নেবো।

তোমাদের
পুর্ণেন্দু পত্রী’

পূর্ণেন্দু পত্রীর লেখা চিঠি (৩)

চিঠিটার তারিখ দেখে বুঝতে পারছি তিনি সেসময় আর আনন্দবাজারে নেই। ১৯৮৪ সালের কোনও একটা সময় তিনি আনন্দবাজার ছেড়ে ‘প্রতিক্ষণ’ পত্রিকায় যোগ দেন। তাই এই চিঠির ‘আমাদের কাগজ’ মানে অবশ্যই ‘প্রতিক্ষণ’। স্বপ্না দেব সম্পাদিত ‘প্রতিক্ষণ’ পত্রিকা প্রথম বেরয় ১৯৮৩-র ২ জুলাই। প্রসঙ্গত বলে রাখি ‘প্রতিক্ষণ’-এর লোগো পূর্ণেন্দুদারই করা।

‘কলকাতার প্রথম’ বইয়ের প্রচ্ছদ

১৯৮৬ সালের বইমেলায় দে’জ থেকে আমি প্রকাশ করি পূর্ণেন্দুদার কলকাতা সিরিজের পরের বই– ‘কলকাতার প্রথম’। বইটির ভূমিকায় তিনি লিখেছিলেন– ‘কলকাতাকে নিয়ে এটা আমার আট নম্বর বই। যখন লেখায় হাত দিই, তখন মনে হয়েছিল, এ বইটা লেখাই হবে আমার পক্ষে সবচেয়ে সহজ। কিন্তু লিখতে গিয়ে টের পেলাম, কাঁধ পেতেছি অসম্ভব কঠিন এক কাজে। প্রচুর বই থেকে তথ্য সংগ্রহ না করলে এ-বইকে শেষ করা দুঃসাধ্য। তা ছাড়া এর শেষও নেই বুঝি। কেননা এ-বইয়ে যা রইল তা ছাড়াও আরও অনেক প্রথম তো রয়ে গেল বাইরে। যেমন প্রথম চিত্রপ্রদর্শনী, প্রথম চিত্রকর, প্রথম ডাক্তার, প্রথম শিশু পত্রিকা, প্রথম কবি, প্রথম স্কুল ইত্যাদি ইত্যাদি। এ বইটা যদি সমাদর পায়, তাহলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া রইল পরের খণ্ডটি হবে বাকি-পড়ে যাওয়া প্রথমদের নিয়ে।’ অবশ্য এই শহরের প্রথমদের নিয়ে দ্বিতীয় বইটি তিনি আর লিখে উঠতে পারেননি। তাঁর প্রয়াণের পর ২০১০-এর নতুন সংস্করণ ছাপার সময় লেখক অশোককুমার মিত্র বইটির কয়েকটি অসম্পূর্ণতা ও তথ্যগত বিভ্রান্তির কথা জানালে আমরা তাঁকে দিয়ে বইটির পরিমার্জন করিয়েছি, পরিমার্জিত সংস্করণে অশোককুমার মিত্রের লেখা একটি পরিচ্ছেদও যুক্ত হয়েছে।

‘ছড়ায় মোড়া কলকাতা’ বইয়ের প্রচ্ছদ

‘কলকাতার প্রথম’-এর দু’ বছর পরে আমি পুনর্মুদ্রণ করলাম ‘ছড়ায় মোড়া কলকাতা’। এই বইটি ১৯৭৩ সালে আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। তবে দে’জ সংস্করণে ভূমিকা-সহ আরও কয়েকটি নতুন ছড়া তাদের জন্মবৃত্তান্ত-সহ সংযোজিত হয়েছিল। ভেতরের ছবিও বেড়েছিল। এই বইটিও যথারীতি অত্যন্ত অভিনব ভাবনার ফসল। ভূমিকার শুরুতেই তিনি জানিয়েছিলেন– ‘ছড়ায় মোড়া কলকাতা কোনো বানিয়ে বলা কথা নয়। সত্যিই কলকাতাটা ছিল একসময়ে ছড়ায় মোড়া। কোথাও কিছু একটা ঘটলেই হল। অমনি কেউ না কেউ কোথাও না কোথাও বানিয়ে ফেলবে একটা ছড়া। তারপর সেটা এমুখ-ওমুখ হয়ে ছড়িয়ে পড়বে সারা শহরে। পরে মানুষের মুখ থেকেই সে-সব ছড়া ঠাঁই পেয়ে যাবে বই-এর পাতায়। কলকাতায় যত ছড়া তৈরি হয়েছিল কলকাতারই ঘটনাবলী নিয়ে তার সবই যে ছাপার অক্ষরে ধরা আছে, তা হয়তো নয়। হারিয়েও গেছে অনেক বিস্মৃতির ভিতরে। শেষ পর্যন্ত যা রয়ে গেছে তাও অবশ্য কম নয়। আর ঐ সব ছড়া থেকে আমরা তখনকার পুরনো কলকাতাকে চিনে নিতে পারি অনেকখানি। কারণ এই সব ছড়ার মধ্যেই রয়ে গেছে একদিকে যেমন সমসাময়িক ইতিহাস বা কোনো বিশেষ ঘটনার ছাপ, অন্যদিকে তেমনি রয়ে গেছে সেই সব ঘটনা সম্পর্কে তখনকার অধিবাসীদের মনোভাবেরও ছবিটাও। সাধারণ অধিবাসীরাই বানিয়েছে সে-সব ছড়া। তাই তাদের মনের প্রতিক্রিয়াই যে ঐ সব ছড়ার অক্ষরে অক্ষরে, ছন্দে ছন্দে ফুটে থাকবে সে তো জানা কথাই। ছড়ার মাধ্যমেই তারা তাদের উপরতলার অভিজাতশ্রেণীর আচার-আচরণের সমালোচনা করেছে কখনও। কখনও জানিয়েছে প্রতিবাদ। কখনও ফেটে পড়েছে ঠাট্টা-বিদ্রূপের হাসাহাসিতে।’

‘পুরনো কলকাতার পড়াশোনা’ বইয়ের প্রচ্ছদ

১৯৯০-এর ডিসেম্বর আর ১৯৯১-এর বইমেলার সময় আমি ছেপেছিলাম তাঁর দু’ খানি বই– ‘পুরনো কলকাতার পড়াশোনা’ আর ‘কী করে কলকাতা হল’। এর মধ্যে দ্বিতীয় বইটি ১৯৭২ সালে আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। এই বইয়ের উৎসর্গের পাতায় লেখা ছিল– ‘বড় হয়ে যারা কলকাতাকে গড়বে/ নতুন করে তাদের হাতে’। আর ‘পুরনো কলকাতার পড়াশোনা’ দে’জ থেকেই প্রথম প্রকাশিত হয়। আবার ১৯৯১-এর অক্টোবরেই আমি পুনর্মুদ্রণ করেছিলাম– ‘কলকাতার রাজকাহিনী’, এটিও আনন্দর বই ছিল। এ বইয়ের ব্যাক-কভারে বইয়ের পরিচিতি হিসেবে ছাপা হয়েছিল– ‘যে কলকাতাকে আমরা অনেকদিন আগে পিছনে ফেলে এসেছি, তার ভিতর থেকে বেছে-নেওয়া ৭টি চরিত্রকে নিয়ে এই বই। এঁদের মধ্যে ৬ জন হলেন রাজা। আর একজন হলেন রাজকুমার। পূর্ণেন্দু পত্রীর কলমে ইতিহাসের বাসি গল্প হয়ে উঠেছে ফুলের মতো তাজা। বাংলা শিশু-সাহিত্যের অল্প যে-ক’টি বইকে আমরা বলতে পারি– “‘অপূর্ব’, এ-বই তাদের মধ্যে অন্যতম।”

‘কলকাতার গল্পসল্প’ বইয়ের প্রচ্ছদ

১৯৯৩-এর বইমেলায় দে’জ থেকে পুনর্মুদ্রিত হয়েছিল ‘কলকাতার গল্পসল্প’– বইটির পরিচিতিতে লেখা হয়েছিল– ‘…এই নতুন বইটিতে মজার সব গল্প আদ্যিকালের নামডাকওয়ালা মানুষদের নিয়ে। অক্ষরে অক্ষরে যেন এক আজব শহরের রূপকথা’।

দে’জ দপ্তরে পূর্ণেন্দু পত্রী

এর ঠিক পরের বছরের বাংলা নববর্ষে আমি প্রকাশ করেছিলাম তাঁর নতুন বই ‘কলকাতা সংক্রান্ত’। পূর্ণেন্দুদার ‘সংক্রান্ত’ সিরিজের বেশ কয়েকটা বই দে’জ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। অন্যগুলির কথা যথাসময়ে বলা যাবে, কিন্তু এটা বলে রাখি যে তাঁর কলকাতা বিষয়ক বইগুলির মধ্যে এটিই আমাদের প্রকাশনা থেকে শেষ বই। তারাপদ সাঁতরা-কে উৎসর্গ করা এই বইটির ভূমিকায় পূর্ণেন্দুদা লিখেছিলেন–

“এ-বইয়ের অধিকাংশ লেখাই কলকাতা-তিনশর ঈষৎ আগে ও পরে। আর সবচেয়ে বেশি বেরিয়েছিল ‘আজকাল’ পত্রিকায়। জমতে জমতে স্তূপাকার হয়ে উঠছে দেখেই, মনে হল এদের একটা জায়গায় জড়ো করে নেওয়া দরকার।
লেখাগুলো যেমন বেরিয়েছিল, ছাপা হল প্রায় তেমনই। ইচ্ছে করলে সংশোধন, পরিমার্জন আর পরিবর্ধন করা যেতে পারতো অনেকখানি। তাতে এসব লেখার তাৎক্ষণিকতার স্বাদ বদলে গিয়ে ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনা ছিল গুরুগম্ভীর প্রবন্ধের দিকে। আটপৌরে সাজটা চাপা পড়ে যেত চোখ-ধাঁধানো চোগা-চাপকানে। আমার পছন্দ এই বৈঠকী মেজাজটাই।”

‘কলকাতা সমগ্র’ ১ ও ২-এর প্রচ্ছদ

১৯৯৭-এর ১৯ মার্চ পূর্ণেন্দুদা আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়ার পরেও তাঁর কলকাতা বিষয়ক বইগুলির চাহিদা পাঠকের কাছে কখনও কমেনি। তাই ২০২২ সাল নাগাদ অপু স্থির করে পূর্ণেন্দুদার কলকাতা বিষয়ক যত বই আছে সেগুলি ‘কলকাতা সমগ্র’ নাম দিয়ে খণ্ডে-খণ্ডে প্রকাশ করবে। অপুর প্রস্তাবে পূর্ণেন্দুদার ছেলে– শিল্পী পুণ্যব্রত পত্রী সাগ্রহে রাজি হন, এমনকী পূর্ণেন্দুদার ‘কলকাতা সমগ্র’-র প্রচ্ছদও তাঁরই করে দেওয়া। তরুণ সম্পাদক অয়ন দত্তের সম্পাদনায় ২০২৩ থেকে বেরতে শুরু করেছে ‘কলকাতা সমগ্র’। এখনও পর্যন্ত দু’টি খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে আর তৃতীয় খণ্ডটি প্রকাশের কাজ চলছে।

লিখন: শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায়

…… ইতি কলেজ স্ট্রিট-এর অন্যান্য পর্ব ……

পর্ব ৭৯। নানা রঙের নবনীতা

পর্ব ৭৮। প্রথম বইয়ের প্রচ্ছদ নিজেই এঁকেছিলেন নবনীতা দেবসেন

পর্ব ৭৭। অপরাজিতা দেবীকে ছদ্মনামে পুরুষ কবি ভেবেছিলেন পাঠক

পর্ব ৭৬। বিদেশেও সমাদৃত হয়েছিল স্বর্ণকুমারী দেবীর উপন্যাস

পর্ব ৭৫। নারীকলম: দিনগুলি রাতগুলি

পর্ব ৭৪। বই-মানবী

পর্ব ৭৩। প্রেসের কাজে গাফিলতি দেখলে কড়া চিঠি লিখতেন সুবীরদা

পর্ব ৭২। করোগেটেড কাগজের অভাবে আটকে ছিল সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কাব্যসংগ্রহ

পর্ব ৭১। অমিয় চক্রবর্তীর ‘কবিতাসংগ্রহ’ ছিল নরেশ গুহ-র গুরুদক্ষিণা

পর্ব ৭০। এক মুখে কবিতা, অন্য মুখে মিছিলের স্লোগান

পর্ব ৬৯। সুভাষিত অনুবাদ

পর্ব ৬৮। শঙ্খদাই চেয়েছিলেন, সুভাষদার কবিতাসংগ্রহ সুবীর রায়চৌধুরী সম্পাদনা করুন

পর্ব ৬৭। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা দিয়েই শুরু হয়েছিল দে’জের ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ সিরিজ

পর্ব ৬৬। প্রেমেনদার উৎসর্গ করা বই বেচে দিয়েছিলেন বন্ধু ‘শিব্রাম’!

পর্ব ৬৫। প্যাঁচানো লোহার সিঁড়ি দিয়ে উঠলেই প্রেমেন্দ্র মিত্রর অবারিত দ্বার!

পর্ব ৬৪। মুজিব হত্যার পর অন্নদাশঙ্করের শোকলিপি ছাপা হয়নি সরকারি নিষেধাজ্ঞায়

পর্ব ৬৩। ভাবনার ভাস্কর্যের দিনগুলি রাতগুলি

পর্ব ৬২। কাদের লিটল ম্যাগাজিন বলা যাবে না, তার তালিকা তৈরি করেছিলেন শিবনারায়ণ রায়

পর্ব ৬১। গৌরদা বিশ্বাস করতেন, কলমের স্বাধীনতা হরণ মাতৃবিয়োগের চেয়ে কম কিছু নয়

পর্ব ৬০। সমরেশ বসু যখন ‘বিশ্বাসঘাতক’!

পর্ব ৫৯। সারাজীবন নিজেকে জানার জন্যেই লিখে গিয়েছেন সমরেশ বসু

পর্ব ৫৮। নবারুণ চেয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ কবিতার সিরিজে তিনিও থাকুন, কিন্তু হল না

পর্ব ৫৭। সত্যজিৎ-মৃণাল-ঋত্বিক ত্রয়ীর মধ্যে ঋত্বিকের লেখাই আমরা প্রথম ছেপেছিলাম

পর্ব ৫৬। অজয় গুপ্তর নিরন্তর শ্রম আর খুঁতখুঁতে সম্পাদনা ছাড়া মহাশ্বেতা দেবীর রচনাসমগ্র হত না

পর্ব ৫৫। দলকল্যাণের জন্য রাজনীতি সমাজকে নরকে পরিণত করবে, বিশ্বাস করতেন মহাশ্বেতা দেবী

পর্ব ৫৪। যা লিখেছেন, না লিখে পারেননি বলেই লিখেছেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

পর্ব ৫৩। ‘অলীক মানুষ’ তাঁকে দিয়ে কেউ লিখিয়ে নিয়েছে, মনে করতেন সিরাজদা

পর্ব ৫২। নিজের লেখা শহরের গল্পকে লেখা বলে মনে করতেন না সিরাজদা

পর্ব ৫১। কর্নেল পড়ে সিরাজদাকে চিঠি লিখেছিলেন অভিভূত সত্যজিৎ রায়

পর্ব ৫০। সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা থেকে বাঁচতে দিব্যেন্দুদার জীবনের দ্বিতীয় গল্পই বদলাতে হয়েছিল

পর্ব ৪৯। রবিশংকর বলের মতো উর্দু সাহিত্যের এত নিবিষ্ট পাঠক খুব কমই দেখেছি

পর্ব ৪৮। দেবেশ রায়ের যেমন ‘বৃত্তান্ত’, আফসার আমেদের তেমন ‘কিস্‌সা’

পর্ব ৪৭। বই বাঁধানো সম্পূর্ণ হয়নি, তাই ‘মহাভুল’ শুধরে নিয়েছিলেন দেবেশ রায়

পর্ব ৪৬। গান্ধীনগরে রাত্রির কবিই প্রথম বিদ্রুপাত্মক তেতো হাসি এনেছিলেন বাংলা কবিতায়

পর্ব ৪৫। নাটকের মহলা পছন্দ হলে তবেই তিস্তাপারের বৃত্তান্তর অনুমতি দেবেন, বলেছিলেন দেবেশ রায় 

পর্ব ৪৪। নিজের বইপত্র বিক্রির বিবরণ দেখে হতাশ হয়েছিলেন দেবেশ রায়

পর্ব ৪৩। থ্রিলার, রহস্য-রোমাঞ্চ কিংবা ক্রাইম স্টোরি অনেক দিন ধরেই বইপাড়ায় ‘সুপারহিট’

পর্ব ৪২। অলংকরণ বা প্রচ্ছদশিল্পীদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা নেই, সখেদে চিঠি লিখেছিলেন নারায়ণ সান্যাল

পর্ব ৪১। রাস্কেল, পাষণ্ড পণ্ডিত, প্রবঞ্চক, বিশ্বাসঘাতক– নারায়ণ সান্যালের বইয়ের নাম নিয়ে প্রবল আপত্তি ছিল আমার!

পর্ব ৪০। সিগারেট ঠোঁটে রথীন্দ্রনাথের ছবি প্রচ্ছদে যাওয়া নিয়ে উঠেছিল প্রবল আপত্তি!

পর্ব ৩৯। শান্তিনিকেতন থেকে কলেজ স্ট্রিট, প্রুফ আদান-প্রদানে সহায়ক ছিলেন বই ব্যবসায়ীরাই

পর্ব ৩৮। পাণ্ডুলিপি জমা দিয়ে সোমেনদা বলেছিলেন, রামকিঙ্করকে নিয়ে এ জাতীয় বই আগে লেখা হয়নি

পর্ব ৩৭। ‘কীর্তির্যস্য’র নাম বদলাতে চেয়েছিলেন ভবতোষ দত্ত

পর্ব ৩৬। কবি-দার্শনিকের বাইরে আরেক রবীন্দ্রনাথকে খুঁড়ে বের করেছিলেন অমিতাভ চৌধুরী

পর্ব ৩৫। ‘শাহজাদা দারাশুকো’ আরও বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে ছিল শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের

পর্ব ৩৪। একজন লেখক হিসেবে আমি কি তোমার মনোযোগের যোগ্য নই, অভিমান ভরা চিঠি লিখেছিলেন শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

পর্ব ৩৩। আমাকে ভাবায়, তারাপদ রায়

পর্ব ৩২। নববর্ষের শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ: লেখকদের মন্তব্যের খাতা!

পর্ব ৩১। পরিব্রাজক সন্ন্যাসী তারাপ্রণব ব্রহ্মচারী ভাগ্যিস থিতু হয়েছিলেন সাহিত্যে!

পর্ব ৩০। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কোনও বই আমাকে চাপিয়ে দেননি, লিখেছেন: বিবেচনা করে দেখো

পর্ব ২৯। কবিতাকে শক্তিদা বলতেন ‘জলজ দর্পণ’, তাঁর বেঁচে থাকার অবলম্বন

পর্ব ২৮। পিঁপড়ে কালিতে চুবিয়ে সাদা পাতায় ছাড়া হয়েছে, এমন পাণ্ডুলিপি ছিল বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের!

পর্ব ২৭। নিজস্ব ঈশ্বরভাবনা থাকলেও শঙ্কু মহারাজের লেখার মূল বিষয় ছিল মানুষের আলো-আঁধারি জীবন

পর্ব ২৬। বাংলাদেশে পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও একুশে বইমেলায় কখনও স্টল পাইনি

পর্ব ২৫। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি মুহূর্তের রক্ত-ঘাম-হাসি-কান্নার এক জীবন্ত দলিলচিত্র ছেপেছিলাম

পর্ব ২৪। রাখাল ছেলে যেমন বাঁশি বাজায়, আমিও তেমন নিজের খুশিতে লিখি, বলেছিলেন যাযাবর

পর্ব ২৩। রয়্যালটি-মুক্ত বইয়ের ওপর প্রকাশকদের ঝোঁক চোখে পড়ছে বইমেলাতেও

পর্ব ২২: শেষমেশ রেগে গিয়ে আমাকে চিঠিই লিখে ফেলেছিলেন শঙ্খ ঘোষ!

পর্ব ২১: ৩০০০ কপি বিক্রির মতো জীবিত বা মৃত লেখক আর হয়তো নেই

পর্ব ২০: কম বয়সে আমাদের রোববারের আড্ডা ছিল ২৮ নম্বর প্রতাপাদিত্য রোড, আশুদার বাড়িতে

পর্ব ১৯: ‘লেখা বড় হচ্ছে’ অভিযোগ আসায় খুদে হাতের লেখায় পাণ্ডুলিপি দিতেন প্রবোধবন্ধু অধিকারী

পর্ব ১৮: দু’বছরের মধ্যে সংস্করণ না ফুরলে অন্য জায়গায় বই ছাপার চুক্তি ছিল শরদিন্দুর চিঠিতে

পর্ব ১৭: পূর্ণেন্দু পত্রীর বাদ পড়া প্রচ্ছদ ও দিনেশ দাসের কবিতার শ্রেষ্ঠ দিনগুলি

পর্ব ১৬: সব প্রকাশনার যাবতীয় বইয়ের হদিশ পাওয়া যেত ‘সম্মিলিত গ্রন্থপঞ্জী’তে

পর্ব ১৫: নিছকই একটা পত্রিকা নয়, ‘কলেজ স্ট্রীট’ আমাদের আবেগ

পর্ব ১৪: খুদে পাঠকদের জন্য মিনিবই তৈরির কথা প্রথম ভেবেছিলেন অভয়দা

পর্ব ১৩: কয়েকটি প্রেসের গল্প

পর্ব ১২: দীর্ঘায়ু বই ও আইয়ুব পরিবার

পর্ব ১১: প্রেমের নয়, অপ্রেমের গল্প সংকলনের সম্পাদনা করেছিলেন সুনীল জানা

পর্ব ১০: ছোট্ট অপুকে দেখেই রঙিন ছবিতে ভরা টানটান গল্পের বই করার ইচ্ছে জেগেছিল

পর্ব ৯: চানঘরে গান-এ সত্যজিৎ রায়ের চিঠি থাকায় ব্যাপারটা গড়িয়েছিল কোর্ট কেস পর্যন্ত

পর্ব ৮: প্রকাশক-লেখকের কেজো সম্পর্কে বুদ্ধদেব গুহর বিশ্বাস ছিল না

পর্ব ৭: পুজো সংখ্যায় না-বেরনো উপন্যাস বই আকারে সুপারহিট

পর্ব ৬: মানবদার বিপুল অনুবাদের কাজ দেখেই শিশির দাশ তাঁর নাম দিয়েছিলেন– ‘অনুবাদেন্দ্র’

পর্ব ৫: সাতবার প্রুফ দেখার পর বুদ্ধদেব বসু রাজি হয়েছিলেন বই ছাপানোয়!

পর্ব ৪: লেখকদের বেঁচে থাকার জন্য অনেক কিছুই লিখতে হয়, প্রফুল্ল রায়কে বলেছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র

পর্ব ৩: পয়লা বৈশাখের খাতায় শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় মজাচ্ছলে লিখেছিলেন, ‘সুধাংশুরা রাজা হোক’

পর্ব ২: বাংলা মাসের সাত তারিখকে বলা হত ‘গ্রন্থতিথি’, বিজ্ঞাপনেও বিখ্যাত ছিল ‘৭-ই’

পর্ব ১: সত্তরের উথাল-পাথাল রাজনৈতিক আবহাওয়ায় আমি প্রকাশনার স্বপ্ন দেখছিলাম