Nabaneeta DevSen and her journey with Dey's Publishing | Robbar
Robbar
  • ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রথম বইয়ের প্রচ্ছদ নিজেই এঁকেছিলেন নবনীতা দেবসেন

‘আমি, অনুপম’ পুনর্মুদ্রণের তিন বছর পর দে’জ থেকে আমি প্রকাশ করি ‘নবনীতা দেবসেনের শ্রেষ্ঠ কবিতা’। ১৯৮৯-এর বাংলা নববর্ষে পূর্ণেন্দুদার প্রচ্ছদে বইটি প্রকাশিত হয়। ততদিনে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ১৯৭১ সালে নবনীতাদির আরেকটি কবিতার বই বেরিয়েছে কৃত্তিবাস থেকে– ‘স্বাগত দেবদূত’। সে বইয়ের প্রচ্ছদও পূর্ণেন্দুদার আঁকা ছিল। নবনীতাদি সারাজীবনই কবিতা লিখেছেন। কিন্তু তাঁর কবিতার বইয়ের সংখ্যা হাতে গোনা– মোট তিনটি।

শেষ আপডেট: জুন ২৮, ২০২৬, ১৭:২৬   
Facebook WhatsApp Messenger

৭৮.

যাদবপুরের অধ্যাপকদের সঙ্গে আমার খুবই হৃদ্যতা থাকলেও নবনীতা দেবসেনের সঙ্গে আমার সম্পর্ক একবারে পারিবারিক ও নিকটাত্মীয়ের মতো ছিল স্বপনদার সূত্রে পরিচয় হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়েই কিন্তু আটের দশকের মাঝামাঝি থেকে তাঁদের ৭২ নম্বর হিন্দুস্থান পার্কের বাড়িতে আমার যাতায়াত শুরু হয় এই সম্পর্ক কোনওদিন ছিন্ন হয়নি উল্টে অপু বড় হয়ে যখন প্রকাশনায় এল, তখন তারও পরম আশ্রয়ের জায়গা হয়ে উঠেছিল ‘ভালো-বাসা’ বাড়ি। 

নবনীতাদি বাংলা রুচিশীল জনপ্রিয় সাহিত্যের একজন আইকন সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর অবাধ যাতায়াত কবিতা দিয়ে শুরু করে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, ভ্রমণসাহিত্য, অনুবাদ, শিশুসাহিত্য– কী লেখেননি তিনি! তাঁর নিজের কথায়– ‘জানি বললে লোকে বিশ্বাস করবে না, কিন্তু সত্যি সত্যিই আমার দু’চোখ দু’রকমের। ডান চোখটা সর্বদা মিটিমিটি হাসে, শোকের বাড়িতেও নির্লজ্জ, সে শুকনো থাকে– আর বাঁ চোখটা একদম হাসে না, তার গড়নটাই কেমন দুঃখী-দুঃখী। যেন ট্রাজিডির মুখোশ থেকে চুরি করেছি। আমি হেসে কুটিপাটি হলেও বাঁ চোখ আপনমনে দুঃখী হয়ে থাকে। এভাবেই বড় হয়েছি। আমাকে বেলা একবার বলেছিল– “তোর জীবনে মাঝামাঝি কিছু নেই। সবই তুমুল, সবই তীব্রতীব্র সুখ, তুমুল যন্ত্রণা।” কে জানে, হয়তো বা তাই। এটা ঠিকই, জীবনে আমার যা কিছু প্রাপ্তি, সবেতেই একটা চরম ব্যাপার থেকে যায়। কিন্তু শিল্পে? শিল্পেও কি তাই? হাসিহাসি-চোখটা দিয়ে লিখি খোশ গল্প। দুঃখী চোখটা তাকিয়ে থাকে কেবল ভিতর পানে, কবিতা লেখে। আর, দুটো চোখ সমান করে ভিতর বাইরে পাশাপাশি মেলে রেখে লিখি প্রবন্ধ, উপন্যাস। কিন্তু গদ্য তো নিয়মিত লিখতে শুরু করেছি মাত্র এই সেদিন– কবিতাই আমার প্রথম প্রত্যয়। কবিতার দর্পণেই নিজের মুখ দেখেছি প্রথম’ ১৩৮৭-র সাহিত্যসংখ্যা ‘দেশ’ পত্রিকায় ছাপা ‘প্রথম প্রত্যয়’ নামে এই লেখাটির শুরুটাও অনবদ্য রাধারাণী দেবী আর নরেন্দ্র দেবের সন্তান নবনীতাদি লিখেছিলেন– ‘এক কবির গর্ভে আরেক কবির ঔরসে আমার জন্ম। অক্ষরের জগতটাই যার ভিটেমাটি, ঘর সংসার, সে আর কবিতা লিখবে না কেন। যেমন আমার গাছে-চড়া, বৃষ্টিতে ভেজা, কাগজের নৌকো গড়া, তেমনিই আমার কবিতা লেখা। কবিতা আমার জীবনে আক্ষরিক অর্থেই সহ-জ। একা বাড়ির একলা শিশু, কবিতা আমার স্বভাব-সঙ্গী।’

নবনীতা দেবসেনের প্রথম প্রকাশিত বইটির নামও ছিল ‘প্রথম প্রত্যয়’ তখন অবশ্য তিনি নবনীতা দেব ১৯৫৭-’৫৯ সালের মধ্যে লেখা তাঁর কবিতা থেকে বেছে নিয়ে এই ছোট্ট কবিতার বইটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এম. সি. সরকার অ্যাণ্ড সন্স থেকে পরিণত বয়সে ২০১৭-র পুজোসংখ্যা ‘আজকাল’ পত্রিকায় লেখা তাঁর আর একটি স্মৃতিকথা ‘ইকড়ি মিকড়ি’তে নবনীতাদি প্রথম বই প্রকাশ সম্পর্কে জানিয়েছেন– “ ‘প্রথম প্রত্যয়’কবিতার বইয়ের পরিকল্পনার সময়ে প্রথম প্রেম যথানিয়মে পরাভূত, অতীত, আমার পাশে ছিল আমার দুই জিগরি দোস্ত অমিয় দেব আর প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত। কবিতা বেছে দেওয়া, প্রুফ দেখে দেওয়ায় তাদের সাহায্য পেয়েছিলুম। আমার প্রথম বইয়ের মলাট আমারই আঁকা, আর অভ্যন্তরের লেআউট নিজের হাতে সাজানো। বইয়ের মলাট আমি আরও আগে ১৫/১৬ বছর বয়েসে প্রথম এঁকেছিলুম, আমার বাবার বই ‘সাহেব বিবির দেশে’-র জন্যে। সে মলাট খুব রঙচঙে। এ মলাট অসংসারী, জ্যামিতিক রেখায় ছবি কেবল। কবিতার বই, আমার মনে হয়েছিল, ওই রকমেরই হওয়া উচিত।

বইটি তৈরি হচ্ছে দেখে মা-বাবা খুব উত্তেজিত। এতদিনে সত্যি সত্যি কবি-পরিবার ষোলোকলায় পূর্ণতা পেল। প্রকাশক খুঁজতে হবে এবারে। বাবার মুখে বইয়ের খবর শুনে সুধীর কাকাবাবু (বাবার বন্ধু সুধীরচন্দ্র সরকার) বইটি এম সি সরকার থেকে ছেপে দেবেন বললেন। ‘প্রথম প্রত্যয়’ বেরুল আমার বিদেশযাত্রার ঠিক মুখে। হাতে বই পেয়েও বিশ্বাস হচ্ছিল না সত্যি সত্যি এটা আমারই বই। সুন্দর অফ হোয়াইট অ্যান্টিক কাগজে, ধূসরের ওপরে সিঁদুর রঙের জ্যামিতিক রেখাচিত্রের মলাট। পঁচিশটি কবিতা। ভিতরের সজ্জাও সুচারু। বইটা হাতে নিলে সম্ভ্রান্ত লাগে। আমি খুব খুশি। মা-বাবাও। চির খুঁতখুঁতে পুলিনকাকু পর্যন্ত পরিতৃপ্ত। পরে বুঝেছিলুম আঠা, বাঁধাই ভাল ছিল না তেমন। বই সমালোচনায় দেওয়া হল কিনা জানি না, ইচ্ছেমতো কিছু বিলি করে, আর কিছু সঙ্গে নিয়ে বিদেশে চললুম। সব কবিতাই ১৯৫৭-৫৯-এর মধ্যে লেখা। প্রথম বইটি উৎসর্গ মা-বাবাকে।”

২০১০ সালে নবনীতাদির সাহিত্যজীবনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দে’জ পাবলিশিং থেকে আমি পুরনো মলাট সহ ‘নবনীতা দেব’-এর এই কবিতা-বইটি পুনর্মুদ্রণ করেছিলাম তবে এ অনেক পরের কথা তার ২৪ বছর আগে আমি প্রথম নবনীতাদির বই প্রকাশ করেছিলাম

স্বপনদা (স্বপন মজুমদার) আমাকে বলেছিলেন নবনীতাদির প্রথম উপন্যাসটি পুনর্মুদ্রণ করার কথা১৯৮৬-র বইমেলার সময় আমি সেই উপন্যাস– ‘আমি, অনুপম’ নতুন করে প্রকাশ করেছিলাম ‘আমি, অনুপম’ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭৬ সালে, ইমার্জেন্সির সময় ‘আমি, অনুপম’ লেখা নিয়েও নবনীতাদি নিজের স্বভাবসিদ্ধ ঢঙে লিখেছেন–

“১৯৭৬-এর আনন্দবাজার পুজো সংখ্যায় উপন্যাস লেখার আমন্ত্রণ পেলুম। রমাপদ চৌধুরীর চিঠিটি পেয়েও বিশ্বাস করতে পারিনি। তিনি আমাকে জীবনেও চোখে দেখেননি, আমি তো যাই না দেশ-আনন্দবাজারের আড্ডায়, ডাকে কবিতা পাঠাই। আমি তো গদ্যকারই নই। কেমন করে আমার কথা ওঁরা ভাবলেন? কোন দুঃসাহসে? ‘শারদীয় আনন্দবাজার’ বলে কথা! রাজারাজড়ার ব্যাপার! উপন্যাস দূরের কথা, আমি তো গল্প লিখতেই জানি না। পারি শুধু প্রবন্ধ আর কবিতা।

zoom
নবনীতা দেবসেন

আমি যেমন আহ্লাদিত (কিঞ্চিৎ গর্বিতও), তেমনি ভীত, এবং মহা উত্তেজিত। এত বড় সম্মান? এ যেন লেখার আগেই জ্ঞানপীঠ পেয়ে যাওয়া। হ্যাঁ, এক কালে এমনটাই ছিল বটে শারদীয় দেশ-আনন্দবাজারে লেখা বেরুনোর মান-সম্ভ্রম! কাদের সব লেখা বেরুত সেখানে? তাঁদের সঙ্গে তাঁদের পাশে আমার উপন্যাস থাকবে! সে উপন্যাস তো যেমন-তেমন হলে চলবে না? উঃ, খারাপ হলে খুব লজ্জার হবে! মন দিয়ে, এক নিশ্বাসে, একখানা গোটা বই লিখে ফেলতে হবে আমাকে, ভদ্দরলোকের পাতে দেবার মতন, গ্রহণযোগ্য মানের গ্রন্থ। যে-বইটি আগে কেউ লেখেনি।

অঙ্ক কষে যে যাই বলুন, আমার মতে, আমার জীবনের ‘প্রথম বইটি’ আমি লিখেছি ‘প্রথম প্রত্যয়’ প্রকাশের সতেরো বছর পরে, ১৯৭৬-এ। তখন আমার জীবন উলটেপালটে আমি একটা আস্ত মানুষ হয়ে গিয়েছি। তখন ভারতবর্ষে চলেছে জরুরি অবস্থা, আর আমার জীবনেও। কোর্টে আমাদের বিচ্ছেদের আবেদন জমা পড়েছে। কলকাতার শিরা-ধমনিও শোণিতস্রোতে ভেসে যাচ্ছে। আমার প্রথম উপন্যাসে আমি কী লিখতে চাই, তা জানি। কী ভাবে লিখব, মোটামুটি তা-ও ভেবে পেয়েছি। মূল চরিত্রগুলির পরিকল্পনাও করতে পেরে গিয়েছি। তাদের মধ্যে দিয়েই তো ঘটনা সাজানো হবে। একদিন গাড়িতে বসে বন্ধু ধৃতিকান্ত লাহিড়ি চৌধুরীকে পরিকল্পনাটা বলেছিলুম, তিনি প্রবল উৎসাহ দিলেন। এ বারে বন্ধু সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে জিগেস করলুম, ‘শুরু করি কেমন ভাবে?’ সুনীল বললেন, ‘সর্বদা একটা কোনও অ্যাকশনের মাঝখানে, কিংবা কোনও ডায়ালগের মাঝখানে উপন্যাস শুরু করবে।’ সুনীলের উপদেশ মেনেই ‘আমি, অনুপম’ উপন্যাস লেখা শুরু।


কিন্তু ওই উপন্যাস প্রকাশের ফল রীতিমতো বিপজ্জনক হল! না, ইমার্জেন্সির মধ্যে নকশাল নিয়ে লেখা প্রথম বাংলা উপন্যাস বলে নয়। সেটা তো অনেক পরে নজরে এসেছে। কিন্তু একজন নন, দু’জন বুদ্ধিজীবী গুরুজন, চরিত্রায়ণে নিজেদের ছায়া কল্পনা করে অভিমানবশত আমার সঙ্গে কথাই বন্ধ করে দিলেন। অনেক বছরের চেষ্টা লেগেছিল আগের মতো স্নেহে তাঁদের কাছে ফিরে যেতে। ‘প্রথম বই’-এর ফল কিন্তু শুভ হয়নি আমার জীবনে। গোপনে বলি, আনন্দবাজারের পুজোসংখ্যার সব উপন্যাসই তো বেরুনোর সঙ্গে সঙ্গে আনন্দ পাবলিশার্স ছাপে? ‘আমি, অনুপম’ কিন্তু আনন্দ ছাপেনি। দু’বছর বাদে, জেলখাটা নকশাল ছেলে দীপঙ্কর চক্রবর্তী বইটি বের করেছিলেন ‘ঈশান’ থেকে।…”

নবনীতাদি মনে করতেন– “(উপন্যাসটির) নাম ‘আমি, অনুপম’ হলেও বইটি লেখা তৃতীয় পুরুষে। ওটাই আমার একমাত্র পুরুষ-কেন্দ্রিক বই। আমার চোখে দেখা জীবন, নানা বয়সের স্ত্রী-পুরুষ চরিত্রগুলির মধ্যে মিশে আছেন। অনুপম একাই নায়ক ও প্রতিনায়কও, তাঁর পতনের কাহিনিতে দায়িত্বহীন, নির্বাক বুদ্ধিজীবী হিসেবে আমি নিজেকেও প্রতিফলিত দেখেছি। বিপ্লবী সমীরের মধ্যে তো আর নিজের ঠাঁই ছিল না!” প্রসঙ্গত বলে রাখি, অনেক পরে নিয়োগী বুকস ‘আমি, অনুপম’-এর ইংরেজি অনুবাদ ‘আই, অনুপম’ প্রকাশ করেছে

১৯৮৬-র বইমেলায় ‘আমি, অনুপম’ ছাপার পরে আমি প্রথম যেদিন তাঁর বাড়ি গিয়েছিলাম সেদিন তিনি বেশ খুশি ছিলেন আমিও মজা করে ‘শঙ্খবেলা’ সিনেমায় মান্না দে-র গাওয়া ‘আমি আগন্তুক’ গানের অনুকরণে বলেছিলাম দিদি আপনি কী ‘আমি, অনুপম’ নাম লিখলেন? নবনীতাদি মজাটা বুঝতে পেরে খুব হেসেছিলেন

‘আমি, অনুপম’ পুনর্মুদ্রণের তিন বছর পর দে’জ থেকে আমি প্রকাশ করি ‘নবনীতা দেবসেনের শ্রেষ্ঠ কবিতা’ ১৯৮৯-এর বাংলা নববর্ষে পূর্ণেন্দুদার প্রচ্ছদে বইটি প্রকাশিত হয় ততদিনে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ১৯৭১ সালে নবনীতাদির আরেকটি কবিতার বই বেরিয়েছে কৃত্তিবাস থেকে– ‘স্বাগত দেবদূত’ সে বইয়ের প্রচ্ছদও পূর্ণেন্দুদার আঁকা ছিল নবনীতাদি সারাজীবনই কবিতা লিখেছেন কিন্তু তাঁর কবিতার বইয়ের সংখ্যা হাতে গোনা– মোট তিনটি তৃতীয়টি আমিই দে’জ থেকে প্রকাশ করেছি ২০০৯ সালে– ‘তুমি মনস্থির করো’ শ্রেষ্ঠ কবিতার প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় কবি লিখেছেন– ‘এখানে রইল তিরিশ বছরের কবিতার টুকরো। এতদিন ছেদহীনভাবে কবিতা প্রকাশিত হলেও ১৯৭১-এর পরে আমার কোনো কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি, শুধু গদ্যগ্রন্থই বেরিয়েছে। সেজন্য এখানে বই থেকে চয়িত ও অগ্রন্থিত কবিতা সংখ্যায় প্রায় সমান। তিনভাগে কবিতাগুলিকে সাজানো হয়েছে। প্রথমভাগে আছে ১৯৫৭-৫৯-এ লেখা, ১৯৫৯-এ প্রকাশিত আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম প্রত্যয়’ থেকে নেওয়া কবিতা, দ্বিতীয়ভাগে ১৯৫৯-৭১-এ লেখা, ১৯৭১-এ প্রকাশিত আমার দ্বিতীয় কবিতার বই ‘স্বাগত দেবদূত’-এর কিছু কবিতা, আর তৃতীয়াংশে সবই অগ্রন্থিত (কিন্তু প্রকাশিত) কবিতা। ‘রক্তে আমি রাজপুত্র’ নামে একটি বই বেরনোর কথা ছিল ১৯৭৫ নাগাদ, আমারই আলস্যে বের হতে পারেনি। তার কবিতাও এই অংশে অন্তর্ভুক্ত। এই তৃতীয়ভাগে ১৯৭২-৮৮ পর্যন্ত প্রকাশিত কবিতার কিছু সন্নিবেশিত হল। … তর্জমা কবিতা একটিও রাখা হল না। কবিতাগুলিকে ‘শ্রেষ্ঠ’ বলতে যারপর নাই কুণ্ঠাবোধ করছি; নির্বাচনও ভেবেচিন্তে করিনি তেমন, নেহাতই তাড়াহুড়োয় সাজানো। একটি কবিতা লিখতে আমার বহুদিন সময় লাগে, তার বেলা তাড়াহুড়ো করি না বটে, কিন্তু পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতিতে অমনোযোগ আমার স্বভাবসিদ্ধ।…”

‘নবনীতা দেবসেনের শ্রেষ্ঠ কবিতা’ পয়লা বৈশাখ প্রকাশিত হলেও বইটি তাঁর কাছে পাঠাতে কোনও কারণে হয়তো দেরি হয়েছিল বইটিতে কয়েকটি মুদ্রণপ্রমাদও থেকে গিয়েছিল এই নিয়ে নবনীতাদি হয়তো আমাকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন চিঠিটি হাতের কাছে নেই তবে তার উত্তরে ৪ ডিসেম্বর ১৯৮৯ আমি লিখেছিলাম–

‘শ্রদ্ধেয়া দিদি,
পত্রে আমার প্রণাম নেবেন
সুবীরদার কাছে শ্রেষ্ঠ কবিতার মুদ্রণ-প্রমাদ সংক্রান্ত ব্যাপারটি জানলামবিলম্ব হ’লেও দূর করবার জন্য চেষ্টা করবোবইগুলো দেরিতে পৌঁছবার ফলে আপনার যে মানসিক কষ্ট হয়েছে তা আর দূর করতে পারবো না তবে বিশ্বাস করবেন কি না জানি না আমার নির্দেশ ছিল ২/৩ বৈশাখের মধ্যেই যেন আপনার কাছে বই পৌঁছয় যা-হোক আমার অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির জন্য ক্ষমাপ্রার্থী
আপনার পিতৃদেবের বই দুটি ওমর খৈয়াম ও মেঘদূত কীভাবে পুনঃপ্রকাশ করা যায় ভাববেন

আশীর্বাদপ্রার্থী…’

নবনীতাদির বাবা নরেন্দ্র দেবের আগ্রহ ছিল বিচিত্র বিষয়ে প্রথম পরিচয়ে তিনি কবি হলেও বিজ্ঞান, সিনেমা, সংগীত, ইতিহাস, চিত্রকলা, থিয়েটার– নানা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফিচার লিখেছেন নাট্যাচার্য শিশিরকুমার ভাদুড়ী তাঁর বন্ধু ছিলেন বিদেশের দর্শকের সামনে উদয়শংকরের কাজ নিয়ে প্রথম লেখাটিও বোধহয় নরেন্দ্র দেবের কয়েকটি উপন্যাসও লিখেছিলেন কিশোরদের জন্য বের করতেন জনপ্রিয় পত্রিকা ‘পাঠশালা’ অবনীন্দ্রনাথের ‘বুড়ো আংলা’, শরৎচন্দ্রের ‘লালু’ এই ‘পাঠশালা’তেই প্রথম বেরিয়েছিল এই পত্রিকার জন্য পূর্ণচন্দ্র চক্রবর্তীর আঁকা মলাটে লেখা থাকত– ‘আমাদের এই পাঠশালাতে পড়বে শুধু ছুটির পড়া/ পাঠশালার এই আটচালাতে চলবে দেশের মানুষ গড়া’ নরেন্দ্র দেব ‘কাব্যদীপালি’ নামে বাংলা ভাষার একটি সমসাময়িক কবিতার সংকলনও প্রকাশ করেছিলেন নবনীতাদি লিখেছেন– “রবীন্দ্রনাথের নাম দিয়ে বিশ্বভারতী থেকে ছাত্রদের পাঠ্য হিসেবে যেটি বেরিয়েছিল (ত্রুটিপূর্ণ বলে তড়িঘড়ি বাজার থেকে তুলে নেওয়া সত্ত্বেও যেটি ‘প্রথম সংকলন’বলে বিদ্বজ্জনের স্বীকৃতি পেয়ে আসছে) তার অনেক আগেই এসে গিয়েছিল নরেন্দ্র দেবের করা সংকলনটি। তার পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ ত্রিশের দশকের গোড়ায় বেরিয়েছিল, তাতে তিনি এক নারীকবিকে যুগ্ম সম্পাদনায় নিয়েছিলেন, এবং তাঁর নামটিই, রাধারাণী দেবী, প্রথমে বসিয়েছিলেন। কোনো নারীর সম্পাদনায় সমসাময়িক বাংলা কবিতার সংকলনও সম্ভবত সেই প্রথম।”

zoom
নরেন্দ্র দেব ও রাধারানী দেবীর সঙ্গে ছোট্ট নবনীতা

নরেন্দ্র দেবের আরেকটি কাজ হল ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত ‘সিনেমা’ নামের বইটি লেখাগুলি বই হবার আগে বছর তিনেক ধরে ‘ছায়ার মায়া’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল ‘সিনেমা’ বইটির সঙ্গে ছিল বেশ কিছু স্কেচ, ছবি, বিদেশি শব্দের পরিভাষাও বাংলা তথা ভারতে তো বটেই, নবনীতাদির ধারণা ছিল এটি এশিয়ার প্রথম চলচ্চিত্র বিষয়ক বই নরেন্দ্র দেব আবার বিখ্যাত ইম্প্রেসারিও হরেন্দ্রনাথ ঘোষের সঙ্গে মিলে কলকাতায় একটি ফিল্ম ক্লাব গড়েছিলেন ১৯৩১ সালে দু’টি ফরাসি ছবি দেখিয়ে সেই ফিল্ম ক্লাবের উদ্বোধন হয়েছিল– উদ্বোধক ছিলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ক্লাবের কাজকর্ম অবশ্য বেশিদিন চলেনি– আয়ু ছিল সম্ভবত তিন-চার বছর তবে এক অর্থে ১৯৪৭-এর ৫ অক্টোবর সত্যজিৎ রায়, চিদানন্দ দাশগুপ্ত, হরিসাধন দাশগুপ্ত, সুনীল জানা, বংশী চন্দ্রগুপ্ত প্রমুখের উদ্যোগে গড়ে ওঠা ক্যালকাটা ফিল্ম সোসাইটিরও সেটি পুর্বসূরি  

তবে পাঠকের কাছে আজও নরেন্দ্র দেবের কথা উঠলেই যে দু’টি বইয়ের কথা ওঠে, সে-দু’টি অনুবাদ কবিতার বই– ‘রোবাইয়াৎ ই ওমরখৈয়াম’ এবং ‘মেঘদূত’ দে’জ পাবলিশিং থেকে আমি বই দুটির মধ্যে প্রথমটি পুনর্মুদ্রণ করেছি ১৯৯৭ সালে এবং দ্বিতীয়টি তার পরের বছর ‘মেঘদূত’ প্রথমবার ছাপা হয়েছিল গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স থেকে এটা আমি নিশ্চিত জানি সে-বইয়ের পঞ্চম সংস্করণ (১৩৪৬) হাতের কাছেই আছে গত শতকের তিনের দশকে ছাপা বইটির মুদ্রণ পারিপাট্য আজও তাক লাগিয়ে দেবার মতো আগাগোড়া রঙিন বইয়ের কাগজেও হালকা এমবস করা সূক্ষ্ম ছবি ছাপা হয়েছিল ‘রোবাইয়াৎ ই ওমরখৈয়াম’-ও হয়তো গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স ছেপেছিল।  

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করা ‘রোবাইয়াৎ ই ওমরখৈয়াম’ আমি যখন ছাপলাম, তখন তার প্রচ্ছদ করেন পূর্ণজ্যোতি ভট্টাচার্য আমাদের বইটিও একরঙা নয় সেইসঙ্গে পুরোনো সংস্করণগুলিতে ব্যবহৃত পূর্ণ চক্রবর্তী, উপেন্দ্র ঘোষ দস্তিদার, তাপস দত্তের আঁকা ছবিগুলিও পুনর্মুদ্রিত হয়েছে দে’জ সংস্করণের জন্য নবনীতাদি একটি ছোট্ট ভূমিকা সংযোজিত করেছিলেন ‘নরেন্দ্র দেবের ওমর খৈয়াম’ নামে সেই লেখাটিতে তিনি জানিয়েছেন–

“আজ থেকে একাত্তর বছর আগে নরেন্দ্র দেবের ওমর খৈয়ামের সচিত্র অনুবাদগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েই বাঙালি কবিতা-পড়ুয়াদের হৃদয় জয় করে নিয়েছিল। তারই ফলে, ১৯২৬ থেকে ১৯৬৫ পর্যন্ত পরপর তাঁর ‘রোবাইয়াৎ’-এর আঠারোটি সংস্করণ হয়। এই বইতে নরেন্দ্র দেবের ত্রয়োদশ সংস্করণের ভূমিকাটি যাচ্ছে– এটিই অষ্টাদশ সংস্করণেরও ভূমিকা ছিল। বত্রিশ বছর পরে আবার নতুন করে প্রকাশিত হচ্ছে সেই পুরোনো সর্বজনপ্রিয় ‘সচিত্র ওমর খৈয়াম’, নতুন বোতলে পুরোনো সুরা। নেশা এতে বাড়বে বৈ কমবে না।
ভাষা বদলায়, তাই ত্রিশ বছর অন্তর যে-কোনো বইয়েরই নতুন অনুবাদ হওয়া উচিত, অনুবাদ-তাত্ত্বিকরা এমন বলে থাকেন। ‘মেঘদূতে’র অনুবাদের বেলায় দেখেছি বিভিন্ন সংস্করণে নরেন্দ্র দেবেরও পরিমার্জনার ধাত ছিল। যদিও, ফিটস্‌জেরল্ড সাহেব যেমন ওমর খৈয়ামের পাঁচ রকমের অনুবাদ করে পুরো জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন, নরেন্দ্র দেব তাঁর ওমর খৈয়ামের বেলাতে তা করেননি। কিন্তু তিনি তো ফিটস্‌জেরল্ডের অনুবাদ থেকেই অনুবাদ করেছেন, তাই ফিটস্‌জেরল্ডের ত্রুটিগুলি তাঁরও থাকার কথা। কিন্তু এও ঠিক, যে তিনি শুধুই ফিটস্‌জেরল্ড পড়েননি, অনেকগুলি বিভিন্ন অনুবাদ পড়ে, তুলনামূলকভাবে যেটি তাঁর পছন্দ হয়েছিল সব চেয়ে বেশি, সেটিরই অনুবাদ করতে বসেছিলেন। একটা সময়ে ফার্সি শিক্ষারও আন্তরিক প্রয়াস করেছিলেন কবি। বাড়িতে মৌলভি রেখে কিছুদিন ফার্সিচর্চা চলেছিল– কিন্তু অভ্যাস বেশিদূর এগোয়নি। পরে হাফিজ অনুবাদের সময়েও তিনি ফার্সি শিখতে চেষ্টা করেছিলেন (এবার সস্ত্রীক)– কিন্তু সেও বিশেষ ফলপ্রসূ হয়নি। যদিও ভাষাশিক্ষায় তাঁর উৎসাহ এবং মেধা দুইই ছিল, জর্মন ও ফরাসি তিনি নিজের চেষ্টায় শিখতে পেরেছিলেন। ফার্সির বেলায় কিন্তু সেটা ঘটেনি। অতএব শেষ পর্যন্ত তাঁর ফিটস্‌জেরল্ডই ভরসা।
বাংলাভাষায় অনেকে এরপর ওমর খৈয়াম অনুবাদ করেছেন। কিন্তু নরেন্দ্র দেবের পরিবেশনে বোধহয় আলাদা এক নেশা আছে। তাই এই বিশেষ অনুবাদটি পুনর্মুদ্রণের জন্য বাংলাদেশ থেকে এবং স্বদেশ থেকে আমার কাছে অক্লান্ত তাগাদা আসে। এখানে অষ্টাদশ সংস্করণটি হুবহু মুদ্রিত হলো। এর পরবর্তী কোনো সংস্করণ হয়েছিল কিনা আমার জানা নেই।…”

১৯৯৮ সালে একইরকমভাবে নরেন্দ্র দেবের অনুবাদ করা ‘মেঘদূত’ আমরা এক রঙে ছাপিনি শুধু তাই নয়– এই বইটির জন্য চারুচন্দ্র রায়, পূর্ণচন্দ্র চক্রবর্তী, জ্ঞানদাকান্ত দাশের ছবিগুলি এবং ফণী গুপ্তর আঁকা ‘মেঘদূতের পথরেখা’টিও ছাপা হয়েছে নবনীতাদি যেমন ওমর খৈয়ামের রোবাইয়াতের ১৮টা সংস্করণের কথা লিখেছেন, নরেন্দ্র দেব-অনূদিত ‘মেঘদূত’-এরও তেমনই ১৯৫৯ পর্যন্ত ১৪টি সংস্করণ হয়েছিল তবে এই সাড়া জাগানো অনুবাদ প্রকাশের ৩০-৩৫ বছর পরে নরেন্দ্র দেব ফের ‘মল্লিনাথ’ ছদ্মনামে ‘মেঘদূত’ অনুবাদ করেছিলেন ড. অশোকনাথ শাস্ত্রীর উৎসাহে দে’জ সংস্করণে তাঁর দু’টি অনুবাদই রাখা হয়েছে সেইসঙ্গে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদে রক্ষিত প্রথম সংস্করণের সঙ্গে চতুর্দশ সংস্করণের পাঠভেদও দেখানো হয়েছে শেষ সংস্করণটি খুঁজে দিয়েছিলেন স্বপনদা [স্বপন মজুমদার] আর পাঠভেদের কাজে সহায়তা করেছিলেন সন্দীপ স্বর্ণকার দে’জ সংস্করণের কাজে সহায়তা করেছিলেন অভিজিৎ সেন এবং শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়ও আমাদের প্রকাশিত বইটিও পাঠক সাদরে বরণ করে নিয়েছেন আজ আষাঢ় মাসের ঘনঘোর বর্ষার দিনে নরেন্দ্র দেবের অনুবাদের বইটির পাতা ওলটাতে গিয়ে ‘পূর্বমেঘ’-এর চতুর্থ কবিতাটিতে চোখ আটকে গেল অপূর্ব ছন্দে স্পন্দিত এই টুকরোটি যেন অনুবাদ নয়, একটি বাংলা কবিতাই হয়ে উঠেছে–

‘মেঘ দেখে তার পড়ল মনে
আসন্নপ্রায় এই শ্রাবণে
আমায় ছেড়ে বিধুর-হিয়া
কেমন করে বাঁচবে প্রিয়া?
মেঘের মুখে বার্তা পেলে
হয়ত সখীর শান্তি মেলে!
এই ভেবে সে কুর্চি ফুলে
অর্ঘ্য রচি ঊর্ধ্বে তুলে
শিষ্ট-সাদর-সম্ভাষণে
এগিয়ে এলো মেঘার্চনে!’

লিখন: শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায়

…… ইতি কলেজ স্ট্রিট-এর অন্যান্য পর্ব ……

পর্ব ৭৭। অপরাজিতা দেবীকে ছদ্মনামে পুরুষ কবি ভেবেছিলেন পাঠক

পর্ব ৭৬। বিদেশেও সমাদৃত হয়েছিল স্বর্ণকুমারী দেবীর উপন্যাস

পর্ব ৭৫। নারীকলম: দিনগুলি রাতগুলি

পর্ব ৭৪। বই-মানবী

পর্ব ৭৩। প্রেসের কাজে গাফিলতি দেখলে কড়া চিঠি লিখতেন সুবীরদা

পর্ব ৭২। করোগেটেড কাগজের অভাবে আটকে ছিল সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কাব্যসংগ্রহ

পর্ব ৭১। অমিয় চক্রবর্তীর ‘কবিতাসংগ্রহ’ ছিল নরেশ গুহ-র গুরুদক্ষিণা

পর্ব ৭০। এক মুখে কবিতা, অন্য মুখে মিছিলের স্লোগান

পর্ব ৬৯। সুভাষিত অনুবাদ

পর্ব ৬৮। শঙ্খদাই চেয়েছিলেন, সুভাষদার কবিতাসংগ্রহ সুবীর রায়চৌধুরী সম্পাদনা করুন

পর্ব ৬৭। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা দিয়েই শুরু হয়েছিল দে’জের ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ সিরিজ

পর্ব ৬৬। প্রেমেনদার উৎসর্গ করা বই বেচে দিয়েছিলেন বন্ধু ‘শিব্রাম’!

পর্ব ৬৫। প্যাঁচানো লোহার সিঁড়ি দিয়ে উঠলেই প্রেমেন্দ্র মিত্রর অবারিত দ্বার!

পর্ব ৬৪। মুজিব হত্যার পর অন্নদাশঙ্করের শোকলিপি ছাপা হয়নি সরকারি নিষেধাজ্ঞায়

পর্ব ৬৩। ভাবনার ভাস্কর্যের দিনগুলি রাতগুলি

পর্ব ৬২। কাদের লিটল ম্যাগাজিন বলা যাবে না, তার তালিকা তৈরি করেছিলেন শিবনারায়ণ রায়

পর্ব ৬১। গৌরদা বিশ্বাস করতেন, কলমের স্বাধীনতা হরণ মাতৃবিয়োগের চেয়ে কম কিছু নয়

পর্ব ৬০। সমরেশ বসু যখন ‘বিশ্বাসঘাতক’!

পর্ব ৫৯। সারাজীবন নিজেকে জানার জন্যেই লিখে গিয়েছেন সমরেশ বসু

পর্ব ৫৮। নবারুণ চেয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ কবিতার সিরিজে তিনিও থাকুন, কিন্তু হল না

পর্ব ৫৭। সত্যজিৎ-মৃণাল-ঋত্বিক ত্রয়ীর মধ্যে ঋত্বিকের লেখাই আমরা প্রথম ছেপেছিলাম

পর্ব ৫৬। অজয় গুপ্তর নিরন্তর শ্রম আর খুঁতখুঁতে সম্পাদনা ছাড়া মহাশ্বেতা দেবীর রচনাসমগ্র হত না

পর্ব ৫৫। দলকল্যাণের জন্য রাজনীতি সমাজকে নরকে পরিণত করবে, বিশ্বাস করতেন মহাশ্বেতা দেবী

পর্ব ৫৪। যা লিখেছেন, না লিখে পারেননি বলেই লিখেছেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

পর্ব ৫৩। ‘অলীক মানুষ’ তাঁকে দিয়ে কেউ লিখিয়ে নিয়েছে, মনে করতেন সিরাজদা

পর্ব ৫২। নিজের লেখা শহরের গল্পকে লেখা বলে মনে করতেন না সিরাজদা

পর্ব ৫১। কর্নেল পড়ে সিরাজদাকে চিঠি লিখেছিলেন অভিভূত সত্যজিৎ রায়

পর্ব ৫০। সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা থেকে বাঁচতে দিব্যেন্দুদার জীবনের দ্বিতীয় গল্পই বদলাতে হয়েছিল

পর্ব ৪৯। রবিশংকর বলের মতো উর্দু সাহিত্যের এত নিবিষ্ট পাঠক খুব কমই দেখেছি

পর্ব ৪৮। দেবেশ রায়ের যেমন ‘বৃত্তান্ত’, আফসার আমেদের তেমন ‘কিস্‌সা’

পর্ব ৪৭। বই বাঁধানো সম্পূর্ণ হয়নি, তাই ‘মহাভুল’ শুধরে নিয়েছিলেন দেবেশ রায়

পর্ব ৪৬। গান্ধীনগরে রাত্রির কবিই প্রথম বিদ্রুপাত্মক তেতো হাসি এনেছিলেন বাংলা কবিতায়

পর্ব ৪৫। নাটকের মহলা পছন্দ হলে তবেই তিস্তাপারের বৃত্তান্তর অনুমতি দেবেন, বলেছিলেন দেবেশ রায় 

পর্ব ৪৪। নিজের বইপত্র বিক্রির বিবরণ দেখে হতাশ হয়েছিলেন দেবেশ রায়

পর্ব ৪৩। থ্রিলার, রহস্য-রোমাঞ্চ কিংবা ক্রাইম স্টোরি অনেক দিন ধরেই বইপাড়ায় ‘সুপারহিট’

পর্ব ৪২। অলংকরণ বা প্রচ্ছদশিল্পীদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা নেই, সখেদে চিঠি লিখেছিলেন নারায়ণ সান্যাল

পর্ব ৪১। রাস্কেল, পাষণ্ড পণ্ডিত, প্রবঞ্চক, বিশ্বাসঘাতক– নারায়ণ সান্যালের বইয়ের নাম নিয়ে প্রবল আপত্তি ছিল আমার!

পর্ব ৪০। সিগারেট ঠোঁটে রথীন্দ্রনাথের ছবি প্রচ্ছদে যাওয়া নিয়ে উঠেছিল প্রবল আপত্তি!

পর্ব ৩৯। শান্তিনিকেতন থেকে কলেজ স্ট্রিট, প্রুফ আদান-প্রদানে সহায়ক ছিলেন বই ব্যবসায়ীরাই

পর্ব ৩৮। পাণ্ডুলিপি জমা দিয়ে সোমেনদা বলেছিলেন, রামকিঙ্করকে নিয়ে এ জাতীয় বই আগে লেখা হয়নি

পর্ব ৩৭। ‘কীর্তির্যস্য’র নাম বদলাতে চেয়েছিলেন ভবতোষ দত্ত

পর্ব ৩৬। কবি-দার্শনিকের বাইরে আরেক রবীন্দ্রনাথকে খুঁড়ে বের করেছিলেন অমিতাভ চৌধুরী

পর্ব ৩৫। ‘শাহজাদা দারাশুকো’ আরও বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে ছিল শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের

পর্ব ৩৪। একজন লেখক হিসেবে আমি কি তোমার মনোযোগের যোগ্য নই, অভিমান ভরা চিঠি লিখেছিলেন শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

পর্ব ৩৩। আমাকে ভাবায়, তারাপদ রায়

পর্ব ৩২। নববর্ষের শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ: লেখকদের মন্তব্যের খাতা!

পর্ব ৩১। পরিব্রাজক সন্ন্যাসী তারাপ্রণব ব্রহ্মচারী ভাগ্যিস থিতু হয়েছিলেন সাহিত্যে!

পর্ব ৩০। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কোনও বই আমাকে চাপিয়ে দেননি, লিখেছেন: বিবেচনা করে দেখো

পর্ব ২৯। কবিতাকে শক্তিদা বলতেন ‘জলজ দর্পণ’, তাঁর বেঁচে থাকার অবলম্বন

পর্ব ২৮। পিঁপড়ে কালিতে চুবিয়ে সাদা পাতায় ছাড়া হয়েছে, এমন পাণ্ডুলিপি ছিল বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের!

পর্ব ২৭। নিজস্ব ঈশ্বরভাবনা থাকলেও শঙ্কু মহারাজের লেখার মূল বিষয় ছিল মানুষের আলো-আঁধারি জীবন

পর্ব ২৬। বাংলাদেশে পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও একুশে বইমেলায় কখনও স্টল পাইনি

পর্ব ২৫। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি মুহূর্তের রক্ত-ঘাম-হাসি-কান্নার এক জীবন্ত দলিলচিত্র ছেপেছিলাম

পর্ব ২৪। রাখাল ছেলে যেমন বাঁশি বাজায়, আমিও তেমন নিজের খুশিতে লিখি, বলেছিলেন যাযাবর

পর্ব ২৩। রয়্যালটি-মুক্ত বইয়ের ওপর প্রকাশকদের ঝোঁক চোখে পড়ছে বইমেলাতেও

পর্ব ২২: শেষমেশ রেগে গিয়ে আমাকে চিঠিই লিখে ফেলেছিলেন শঙ্খ ঘোষ!

পর্ব ২১: ৩০০০ কপি বিক্রির মতো জীবিত বা মৃত লেখক আর হয়তো নেই

পর্ব ২০: কম বয়সে আমাদের রোববারের আড্ডা ছিল ২৮ নম্বর প্রতাপাদিত্য রোড, আশুদার বাড়িতে

পর্ব ১৯: ‘লেখা বড় হচ্ছে’ অভিযোগ আসায় খুদে হাতের লেখায় পাণ্ডুলিপি দিতেন প্রবোধবন্ধু অধিকারী

পর্ব ১৮: দু’বছরের মধ্যে সংস্করণ না ফুরলে অন্য জায়গায় বই ছাপার চুক্তি ছিল শরদিন্দুর চিঠিতে

পর্ব ১৭: পূর্ণেন্দু পত্রীর বাদ পড়া প্রচ্ছদ ও দিনেশ দাসের কবিতার শ্রেষ্ঠ দিনগুলি

পর্ব ১৬: সব প্রকাশনার যাবতীয় বইয়ের হদিশ পাওয়া যেত ‘সম্মিলিত গ্রন্থপঞ্জী’তে

পর্ব ১৫: নিছকই একটা পত্রিকা নয়, ‘কলেজ স্ট্রীট’ আমাদের আবেগ

পর্ব ১৪: খুদে পাঠকদের জন্য মিনিবই তৈরির কথা প্রথম ভেবেছিলেন অভয়দা

পর্ব ১৩: কয়েকটি প্রেসের গল্প

পর্ব ১২: দীর্ঘায়ু বই ও আইয়ুব পরিবার

পর্ব ১১: প্রেমের নয়, অপ্রেমের গল্প সংকলনের সম্পাদনা করেছিলেন সুনীল জানা

পর্ব ১০: ছোট্ট অপুকে দেখেই রঙিন ছবিতে ভরা টানটান গল্পের বই করার ইচ্ছে জেগেছিল

পর্ব ৯: চানঘরে গান-এ সত্যজিৎ রায়ের চিঠি থাকায় ব্যাপারটা গড়িয়েছিল কোর্ট কেস পর্যন্ত

পর্ব ৮: প্রকাশক-লেখকের কেজো সম্পর্কে বুদ্ধদেব গুহর বিশ্বাস ছিল না

পর্ব ৭: পুজো সংখ্যায় না-বেরনো উপন্যাস বই আকারে সুপারহিট

পর্ব ৬: মানবদার বিপুল অনুবাদের কাজ দেখেই শিশির দাশ তাঁর নাম দিয়েছিলেন– ‘অনুবাদেন্দ্র’

পর্ব ৫: সাতবার প্রুফ দেখার পর বুদ্ধদেব বসু রাজি হয়েছিলেন বই ছাপানোয়!

পর্ব ৪: লেখকদের বেঁচে থাকার জন্য অনেক কিছুই লিখতে হয়, প্রফুল্ল রায়কে বলেছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র

পর্ব ৩: পয়লা বৈশাখের খাতায় শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় মজাচ্ছলে লিখেছিলেন, ‘সুধাংশুরা রাজা হোক’

পর্ব ২: বাংলা মাসের সাত তারিখকে বলা হত ‘গ্রন্থতিথি’, বিজ্ঞাপনেও বিখ্যাত ছিল ‘৭-ই’

পর্ব ১: সত্তরের উথাল-পাথাল রাজনৈতিক আবহাওয়ায় আমি প্রকাশনার স্বপ্ন দেখছিলাম

Bengali books bhalobashar baranda Dey's Publishing Hindusthan Park M C Sarkar Nabaneeta Dev Sen Nabaneeta Devsen Narendra Dev Radharani Devi Sangbad Pratidin Sangbad Pratidin Robbar

Share this article on