


১৯৮৬-র বইমেলায় আমি প্রকাশ করেছিলাম পূর্ণেন্দুদার ছবি ও কবিতার লাইনের যুগলবন্দিতে ‘হাইকুবানা’ নামে এক অভিনব প্রকাশনা। একটা লাল রঙের চওড়া খামের মধ্যে হ্যান্ডমেড পেপারে দশটা কার্ড। প্রতিটিতে পূর্ণেন্দু পত্রীর ছবি আর ছোট্ট-ছোট্ট কবিতা। খামের লেটারিং থেকে শুরু করে গোটা ব্যাপারটাই অসাধারণ হয়েছিল।
৮১.
পূর্ণেন্দুদার সব কাজ ছাপিয়ে তাঁর ‘কবি’ পরিচয়টাই পাঠকের কাছে বড় হয়ে উঠেছে বলে আমার মনে হয়। তিনি, সারা জীবনে, অসংখ্য কাজ করেছেন যা তুলনারহিত, কিন্তু তাঁর সব কাজের অন্তরে একটা কবিমন কাজ করেছে। সমসাময়িক কবিদের মতোই পূর্ণেন্দুদার অনেক কবিতার লাইন মানুষের মুখে-মুখে ফেরে। এখনও পূর্ণেন্দুদার কবিতা নিয়ে কথা উঠলে তাঁর ‘বড়ে গোলাম’-এর মতো বেশ কিছু কবিতার লাইন পাঠকের মুখস্থ দেখি। পূর্ণেন্দুদার ভাষায় তাঁর ‘বাল্য-বিবাহের বৌ’, কবিতার বীজ কোনও আকাশচারী পাখির ঠোঁট থেকে একদিন তাঁর বুকের জমিতে পড়েছিল। পৃথিবীর জন্ম-ইতিহাসের মতোই সে-ইতিহাসও রহস্যমণ্ডিত। তবে কবিতাকে তিনি কী চোখে দেখতেন তা দিয়েই শুরু করেছিলেন ১৩৮৭-র সাহিত্য সংখ্যা ‘দেশ’ পত্রিকায় ‘লাল সুতো নীল সুতো’ গদ্যটি। সে-আত্মজৈবনিক রচনায় লেখক-শিল্পী পূর্ণেন্দু পত্রীর মনের অন্দরমহলের হদিশ পাওয়া যায়। তিনি লিখছেন,
‘কবিতা লিখে যাওয়া অনেকটা যেন সেকালের ঠাকুমা-দিদিমাদের নকশি কাঁথা বোনা। নিরন্তর রঙীন সুতোর এ’ফোঁড়-ও’ফোঁড়। নিত্যনৈমিত্তিক জ্বালা-যন্ত্রণা, অবসাদ, হতাশা, দীর্ঘশ্বাস ঠেলেঠুলে এবং ছুঁচের সরু ফলার ঘায়ে আঙুলের রক্তের দাগ মুছতে মুছতে, প্রাণপণে, প্রায় প্রতিজ্ঞা পালনের মতো সুস্থির ধৈর্যে কেবলি এগিয়ে চলা। আগুন-জলে ফুটতে ফুটতে গুটি পোকার অপরিচ্ছন্ন জাল থেকে বেরিয়ে আসে স্বচ্ছ আভার রেশমী সুতো। সেইভাবেই আগুন-লাগা বুকের ভিতর থেকে আলোর সুতো টেনে টেনে ক্রমাগত নতুন নতুন নকশায় পরিশুদ্ধ পৃথিবী রচনার এক তিতিবিরক্ত লাগাতার কাজ যেন এই কবিতা লিখে যাওয়া।
বুঝি নিস্তারহীন এক যুদ্ধও বলা যায় একে। ধারে-কাছে কোনোখানে রাজত্ব অথবা রাজছত্র লাভের ছিটেফোঁটা সম্ভাবনা নেই জেনেও কবিরা পিঠে তূণীর এঁটে বেরিয়ে পড়েন এক অজানা দিগ্বিজয়ে। হাতীঘোড়াহীন, সৈন্যসামন্তহীন, তুরীভেরীহীন সে এক ভীষণ নিস্তব্ধ এবং শ্বাসরোধকারী যুদ্ধাভিযান। এবং সে যুদ্ধের একদিকে কবি একা, অন্যদিকে পৃথিবীর সব কিছু।’

হাতে-লেখা পত্রিকার পর্ব পেরিয়ে, ম্যাট্রিক পরীক্ষার পর তিনি এসে উপস্থিত হন কলকাতায়। তাঁর ছোটকাকার বন্ধু, ভাস্কর সুনীল পালের চিঠি নিয়ে গিয়ে ভর্তি হয়ে গেলেন ইন্ডিয়ান আর্ট স্কুলে। আর্ট স্কুলের পাশাপাশি চলতে থাকল কলেজ স্ট্রিট কফি হাউসের আড্ডা। সেসময়ের কফি হাউস ছিল কবিতা আর বাম রাজনৈতিক দর্শনের পীঠস্থান। পূর্ণেন্দুদা ছাত্রাবস্থায় দু’-দিকেই জড়িয়ে পড়েছিলেন আষ্টেপৃষ্ঠে। মায়াকোভস্কি, লুই আরাগঁ, পাবলো নেরুদা আর বিশেষ করে পল এলুয়ার ছিল তাঁর আরাধ্য কবি। এলুয়ারের লেখায় মুগ্ধ ছিলেন তিনি। তিনি লিখছেন,
‘আমাদের বিস্তৃত চেনামহলে কবিবন্ধু সতীন্দ্র মৈত্রের কাছেই ছিল তখন এক খণ্ড এলুয়ার। সেখান থেকেই চেয়ে এনে পড়া। হলুদ মলাট। পুরু অ্যান্টিকে ছাপা। পাতা খুললেই এক ধরনের আমেজী গন্ধ। বই-এর গন্ধ ছেলেবেলা থেকেই বড় প্রিয়। এখনকার বইয়ে আর সবই থাকে, কেবল কম-বয়সের সেই গন্ধটুকু ছাড়া। রোলাঁর ‘জাঁ ক্রিস্তফ’ আর এলুয়ারের এই বই এক সময়ে হয়ে উঠল আমার গীতা। সতীন যখন এলুয়ারটা ফেরত চাইতো, ছ্যাঁৎ করে উঠতো বুকের ভিতরটা। মনে হতো, নিঃস্ব হয়ে যাবো বুঝি। শেষ পর্যন্ত এক অসাধ্য সাধন বুদ্ধি বেরোল মগজ থেকে।
থাকি তখন শোভাবাজার। ছোট কাকার মস্ত প্রেস। তারই সামনের অংশটা আপিস আর আমাদের ঘর সংসার। আপিসের ছিল একটা টাইপ রাইটার। আনাড়ি হাতে এবং গোপনে এ বি সি ডি খুঁজে খুঁজে, প্রায় মাসখানেকের প্রাণান্তকর চেষ্টায় কপি করে ফেললাম গোটা বইটা।’

ততদিনে অবশ্য তিনি একটি ছাপা কবিতা-পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক। ‘অঙ্গীকার’ নামে সেই কবিতাপত্রের অল্প কয়েকটি সংখ্যাই প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু কবিতা ছবি রাজনীতি নিয়ে কাটছিল তাঁর জীবন। পূর্ণেন্দুদার নিজের ভাষায় ‘ঝাঁপতালের জীবন’।
এরই মধ্যে ১৯৫১ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কবিতাবই, ‘এক মুঠো রোদ’। তখন ‘পরিচয়’, ‘নতুন সাহিত্য’, ‘সাহিত্যপত্র’, ‘ইস্পাত’-এর মতো প্রগতিশীল পত্রপত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতে শুরু করেছে। ‘এক মুঠো রোদ’ বইটি তিনি উৎসর্গ করছিলেন প্রখ্যাত কমিউনিস্ট মুজফফর আহমেদকে। আমার যতদূর মনে পড়ছে, এক্ষেত্রে তিনি সমর সেনের উত্তরসূরি। সমর সেন নিজের প্রথম কবিতার বই, কবিতাভবন থেকে প্রকাশিত ‘কয়েকটি কবিতা’ উৎসর্গ করেছিলেন মুজফফর আহমেদকেই। প্রথম বইয়ের ছোট্ট ভূমিকায় পূর্ণেন্দুদা লিখেছিলেন, ‘এই সংক্ষিপ্ত ক’বছরের কাব্য সাধনার ক্ষেত্রে যে ইচ্ছা আমাকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করেছে তা হোলো, প্রতিনিয়ত মৃত্যু-যন্ত্রণায় ভেঙে পড়া এবং নির্মমভাবে পরাজিত সমগ্র সমাজজীবনের কাছে বাঁচার উদ্দীপনাকে প্রাণবন্ত করে তোলা। এই আশাবাদের উৎস থেকেই আমার সব কটি কবিতার জন্মলাভ।’ প্রসঙ্গত বলে রাখি প্রথম কবিতাবই প্রকাশের সময়েও তিনি পূর্ণেন্দু পত্রী নন– পূর্ণেন্দুশেখর পত্রী।

দে’জ থেকে আমি ১৯৮০ সালে তাঁর একটা ছোট্ট কবিতার বই করেছিলাম, ‘আমাদের তুমুল হৈ-হল্লা’। দেবেশ রায়কে উৎসর্গ করা ক্রাউন সাইজের বইটি ছেপেছিলাম রমাপ্রসাদ রায় লেনে বিশ্বনাথ পাত্রর সত্যনারায়ণ প্রেস থেকে। এই বইয়ের নাম-কবিতাটিও অত্যন্ত জনপ্রিয়।
এর পরের বছর প্রকাশ করেছিলাম তাঁর আরেকটি কবিতার বই, ‘প্রিয় পাঠক-পাঠিকাগণ’। আরেক বন্ধু, কবি তরুণ সান্যালকে তিনি এই বইটি উৎসর্গ করেছিলেন। তরুণ সান্যালের প্রসঙ্গে মনে পড়ে গেল, পূর্ণেন্দুদা লিখেছিলেন, ‘আমরা একবার কলেজ স্কোয়ারের দীঘিজলে ডুবে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি, তরুণ সান্যাল আর অশোক ভট্টাচার্য। পরে আমাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বোধ হয় যুগান্তর চক্রবর্তী আর নন্দগোপাল ভট্টাচার্য। সিগনেট প্রেসের দিলীপ গুপ্ত তখন ঐতিহাসিক কবি সম্মেলনের আয়োজন করছেন সেনেট হলে। তখনো আমরা ঐ সম্মেলনে কবিতা পাঠের আমন্ত্রণ পাইনি বলেই ঐ সিদ্ধান্ত। পরে পেয়ে যাওয়ায়, মরতে হয়নি।’

১৯৮৩-র বাংলা নববর্ষে দে’জ থেকে প্রকাশিত হয় ‘পূর্ণেন্দু পত্রীর শ্রেষ্ঠ কবিতা’– এটি ছিল দে’জের শ্রেষ্ঠ কবিতা সিরিজের নবম বই এবং সেই সুভাষ মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু করে টানা ন-টি বইয়েরই মলাট করেছিলেন পূর্ণেন্দু পত্রী। ‘পূর্ণেন্দু পত্রীর শ্রেষ্ঠ কবিতা’ প্রকাশের সময় তাঁর কবিতাবইয়ের সংখ্যা ছিল দশ। কিন্তু তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রথম সাতটি বই থেকেই এই সংকলনে কবিতা নেওয়া হবে। পরে অবশ্য বিভিন্ন সংস্করণে তাঁর পরবর্তী বইগুলির কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ১৯৯৩-এ কবির হাতে পরিবর্ধিত সংস্করণে দেখছি ‘রক্তিম বিষয়ে আলোচনা’ বইটির কবিতাও গৃহীত হয়েছে। প্রসঙ্গত, ‘রক্তিম বিষয়ে আলোচনা’ বইটি আমি দে’জ থেকে ১৯৯০ সালে পুজোর সময় প্রকাশ করেছিলাম।

পূর্ণেন্দুদার ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ বইটি আমি অনেকদিন ধরেই করতে চাইছিলাম। কিন্তু কবির ব্যস্ততায় তা ক্রমাগত পিছিতে যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত আমি এমনও প্রস্তাব দিয়েছিলাম, তিনি যদি কারুর ওপর দায়িত্ব দেন কবিতা বাছাইয়ের তাহলেও বইটা করা সম্ভব। কিন্তু তিনি সেটাও চাইছিলেন না। শেষমেশ ১৯৮৩-র এপ্রিলে বইটা প্রকাশিত হয়। প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় তিনি লেখেন,
‘…শ্রেষ্ঠত্বের সারিতে তাকে বসানো যাবে না
জেনেও কবির মমতাচ্ছন্ন আঙুল বারে বারেই
উল্টে দেখতে চাইবে সে কবিতাকে।
এই ভাবেই নিজের কবিতা নিজে নির্বাচন
একজন কবির ক্ষেত্রে বিপদসঙ্কুল এবং বিঘ্নময়।
… … …
শেষ পর্যন্ত, নিজেকেই নিজের কঠোর সমালোচক সাজিয়ে,
এবং মমতার মাত্রা কিঞ্চিৎ কমিয়ে,
এবং নির্দয়তার দাপট কিছুটা বাড়িয়ে,
বসে গেলাম বিচারকের আসনে।
অবশ্য এই কাজে পরোক্ষ-ভাবে সাহায্য পেয়েছি
কয়েকজন পাঠকের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত ভাবে।
আমার কবিতার কোনো কোনো অনুরাগী পাঠক
শ্রেষ্ঠ কবিতার সংকলন প্রকাশিত হতে চলেছে জানতে পেরে,
চিঠিতে দীর্ঘ তালিকা তৈরি করে
পাঠিয়েছেন তাঁদের পছন্দ অনুযায়ী।
পরিশেষে অনুরোধ জানিয়েছেন,
এগুলো যেন অবশ অন্তর্ভুক্ত হয় সংকলনে।…’
বলে রাখা দরকার, এই ভূমিকাও কবিতার মতোই সজানো আছে।

পূর্ণেন্দুদার বই যেমন দে’জ থেকে প্রকাশিত হতে থাকে তেমনই তাঁর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্কও জোরদার হতে থাকে। ১৯৮৭-র ৩ নভেম্বর যেমন দেখছি তিনি একটি চিঠিতে আমাকে লিখেছেন,
‘প্রিয় সুধাংশু,
দুঃখের কথা কি বলব। দীঘা থেকে ফেরার কিছুদিন পরেই শরীর খারাপ। গতকাল প্রথম আপিসে এলাম। আনন্দ থেকে এই বইটা ছাড় পেয়েছি। পাঠালুম। কম্পোজে দিয়ে দে। যাতে বুক ফেয়ারে বেরোয়। যদি ‘গত শতকের প্রেম’ বেরিয়ে থাকে পাঠা। আর একটা বই দরকার। শঙ্খ ঘোষের অনুবাদে নিকোলাস গিয়েমের [গ্যিয়েনের] কবিতা।…’

এখানে পূর্ণেন্দুদা আনন্দ থেকে ‘ছাড় পাওয়া’ বই বলতে হয়তো ‘ছড়ায় মোড়া কলকাতা’র কথা বলতে চেয়েছেন। বইটার ব্যপারে খুব নিশ্চিত না-হলেও তাঁর দিঘা যাওয়ার আয়োজনে যে আমার সামান্য অংশগ্রহণ ছিল, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। কলকাতার লেখক, বিশেষ করে আমার অভিভাবক-তুল্য পূর্ণেন্দুদা দিঘা যাবেন আর আমাদের নতুন হোটেলে যাবেন না, তাই কী হয় ! চিঠিতে শঙ্খদার অনুবাদের যে বইটির কথা লিখেছেন, নিকোলাস গ্যিয়েনের ‘চিড়িয়াখানা ও অন্যান্য কবিতা’ আমি দে’জ থেকে পুর্নমুদ্রণ করেছিলাম ১৯৮৬-র বইমেলার সময়। বইটি ১৯৮০ সালে ‘কালপুরুষ’ প্রকাশন থেকে বের করেছিলেন সিদ্ধার্থ দাশগুপ্ত।

ওদিকে এই চিঠি লেখার কিছুদিন আগেই পুনর্মুদ্রিত হয়েছে ‘গত শতকের প্রেম’। বইটি প্রথম বেরিয়েছিল ১৯৭৩ সালে। দে’জ সংস্করণে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন সুবীরদা– সুবীর ভট্টাচার্য। আমাদের সংস্করণের জন্য একটি ছোট্ট ভূমিকায় পূর্ণেন্দুদা লিখেছিলেন, ‘এই বইটির আবার একটি সংস্করণ হবে আশা করিনি কখনো। বইয়ের লেখক আমি। কিন্তু এই তৃতীয় সংস্করণের যাবতীয় কৃতিত্ব প্রকাশকের পরে যাঁর, তিনি বন্ধুবর সুবীর ভট্টাচার্য। দ্বিতীয় সংস্করণের একটিও কপি ছিল না আমার কাছে। নিজের কপি নির্মম হাতে ছিঁড়ে প্রেসকে ছাপতে দিয়েছেন তিনি। যত্ন নিয়েছেন বানান সংস্কারেই নয় শুধু, সাল তারিখেরও শুদ্ধিকরণে। একদিকে জুগিয়েছেন বই, অন্যদিকে জুগিয়েছেন নতুন তথ্যের সমাচার। হাতের নাগালে প্রশান্তকুমার পাল-এর ‘রবি জীবনী’ থাকা সত্ত্বেও কাদম্বরী দেবী সংক্রান্ত নতুন তথ্যের দিকে নজর পড়েনি আমার। সে সংযোজন তাঁরই করে দেওয়া। জানি আমার ধন্যবাদ পাওয়ার জন্য করেন নি তিনি এসব। করেছেন বইকে ভালোবেসে।…’

এর ঠিক একবছর পর, ১৯৮৮-র ৩ অক্টোবর পূর্ণেন্দুদা আমাকে দিল্লি থেকে একটি চিঠিতে লিখলেন,
‘প্রিয় সুধাংশু,
আমার ছোট মেয়ে চীনে যাবে দুবছর পড়তে। তার যাওয়ার ব্যবস্থা করতে দিল্লীতে এসে আটকে পড়েছি। এখনো বেশ কদিন অপেক্ষা করতে হবে ভিসার জন্যে। আমি ভেবেছিলাম, ওদের চিঠি পড়ে যে, ৬/৭ দিনে সব হয়ে যাবে। এখন আমি অগাধ জলে। বাড়িতে যৎসামান্য টাকা দিয়ে চলে এসেছিলাম, তাড়াতাড়িই ফিরে আসবো বলে। এখন তারা কিভাবে কি করছে জানি না। তুই এই চিঠি পেয়ে যদি ১ হাজার টাকা Cash পাঠিয়ে দিস বাড়ির উপকারে লাগবে। কলকাতায় ফিরে দেখা করবো।
‘ছড়ায় মোড়া কলকাতা’ কি বেরিয়েছে ?… ’

পূর্ণেন্দুদার ছেলে পুণ্যব্রত পত্রীর কথা আগেই বলেছি, তাঁর তিন মেয়ে হলেন– উপমা, রূপমা ও তন্দ্রিমা। তন্দ্রিমা চিন থেকে পড়াশোনার করে পরে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিনা ভবনে চিনা ভাষা ও সংস্কৃতির অধ্যাপক হয়েছেন। ২০১৩ সালে অপু কমলিনী থেকে তন্দ্রিমা পত্রীর একটি ছোট ইংরেজি বইও প্রকাশ করেছে– ‘ফাইভ আর্টিকেলস অন চাইনিজ স্টাডিজ’ নামে।

১৯৮৭ সালের বইমেলায় আমি পূর্ণেন্দু পত্রীর সবচেয়ে জনপ্রিয় বই ‘কথোপকথন’-এর দু’টি খণ্ড প্রকাশ করি। ‘কথোপকথন’ প্রথমে আনন্দ পাবলিশার্সের বই ছিল। ‘কথোপকথন’ প্রসঙ্গে পুণ্যব্রত পত্রী পরে লিখেছেন, ‘‘যতদূর মনে পড়ে, আমার বাবা, পূর্ণেন্দু পত্রী ‘কথোপকথন’ শুরু করেন ১৯৭৯-৮০ সালের কোনও এক সময়ে। সঠিক মনে নেই। তবে এটা ভেবে নেওয়ার কারণ, ১৯৮১ সালে আমরা বাঙুরের ভাড়া বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছি সল্টলেকে নিজস্ব বাড়িতে, আর ততদিনে প্রকাশিত হয়ে গেছে ‘কথোপকথন’।… এক সময় লক্ষ্য করেছিলাম, বাবা ইলাস্ট্রেশন করছেন কবিতার। জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম যে, খুব শিগগিরই বের হতে চলেছে বাবার একটি নতুন কবিতার বই, সম্পূর্ণ ইলাস্ট্রেটেড, যার নাম ‘কথোপকথন’।’ আমি ১৯৮৯-এ ‘কথোপকথন’-এর তৃতীয় খণ্ড, ১৯৯২-এ চতুর্থ খণ্ড আর ১৯৯৫-এ পঞ্চম খণ্ড প্রকাশ করেছি। পঞ্চম খণ্ডের আগে ‘কথোপকথন /১-২-৩-৪’ নামেও একটি সংস্করণ করেছিলাম।

‘কথোপকথন’ আট ও নয়ের দশকে বাঙালি যুবক-যুবতীর কাছে একটা আবেগের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। প্রথম খণ্ডের শুরুতে পূর্ণেন্দুদা লিখেছিলেন, ‘একদা কলকাতা নামের এই শহরে শুভঙ্কর নামে ৪৫ বছর বয়সী এক সদ্যোজাত যুবক ভালোবেসে ফেলেছিল নন্দিনী নামের এক বিদ্যুৎ-শিখাকে। গেরিলা-যুদ্ধের মতো তাদের গোপন ভালোবাসাবাসির নিত্যসঙ্গী ছিলাম আমি। আর নিজের খাতায় রোজ টুকে রাখতুম তাদের আবীর-মাখানো কথোপকথনগুলো। সেই শুভঙ্করের বয়স এখন ৫০। সেই নন্দিনী হয়তো এখন বন্দিনী নিদারুণ-সুখের কোনো সোনার পালঙ্কে। ওদের মাঝখানে নদী আর খেয়া দুটোই গেছে হারিয়ে। একবার ভেবেছিলুম ঝড়ের অন্ধকারে উড়িয়ে দিই টুকরো এইসব কাগজ। পরে মনে হলো, যারা ভালোবাসে, ভালোবেসে জ্বলে, জ্বলে পৃথিবীর দিগন্তকে রাঙিয়ে দেয় ভিন্ন এক গোধুলি-আলোয়, তাদের সকলেরই অনেক আপন-কথা, গোপন-কথা রয়ে গেছে এর ভিতরে। এমনকি আমার মৃত্যুর পরেও যাদের রক্তে শুরু হবে তুমুল শ্রাবণের চাষ-বাস, তাদের মুখগুলোও ভেসে উঠলো চোখে। অগত্যা ছিন্ন-ভিন্ন ঐ সব কাগজগুলোকে হেলাফেলায় মরতে দিতে পারলাম না আর।’ দে’জ সংস্করণ ‘কথোপকথন’-এ কবিতায় কোনো বদল না হলেও প্রচ্ছদ এবং অলংকরণে পালটেছিল।

শুভঙ্কর আর নন্দিনী এপার-বাংলার মতো ওপার-বাংলাতেও বিপুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। বাংলাদেশে কেউ-কেউ তো সে-বই ইচ্ছেমতো ছেপে বেরও করেছিলেন। লেখক বা প্রকাশকের সম্মতির তোয়াক্কা করেননি তাঁরা! তবে বাংলাদেশের যুবসমাজে এই বইয়ের প্রবল জনপ্রিয়তা কবিকেও অভিভূত করেছিল। চতুর্থ খণ্ডের উৎসর্গের পাতায় তিনি লিখেছিলেন, ‘বাংলাদেশের সেইসব তরুণ তরুণীদের হাতে/ কথোপকথন নিয়ে যারা উন্মাদ।’ ওই খণ্ডের ভূমিকাতেও তিনি লিখেছিলেন– ‘৮৯-তে বাংলাদেশে। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, কক্স বাজারে, যেখানে যাই তরুণ-তরুণীদের উন্মাদ দাবী, চাই কথোপকথন/ ৪। বুঝিয়ে বলি, অসম্ভব। বিয়ের পরই নন্দিনী চলে গেছে স্বামীর সঙ্গে য়ুরোপে। এদের মাঝখানে এখন দেশ-দেশান্তরের লম্বা দেয়াল। এসব শুনেও এদের সহজ উত্তর, আপনি লিখলেই কাছাকাছি এসে যাবে ওরা। আপনিই যে শুভঙ্কর, সে কি আর জানি না আমরা ? কিছুতেই বোঝাতে পারি না যে আমি শুধু ওদের ভালোবাসাবাসির গোপন সাক্ষী।…’ আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ভাবতে অবাক লাগে ৩০ বছর আগেও একটা কবিতার বই নিয়ে বাঙালির কী উন্মাদনা ছিল!
‘কথোপকথন’-এর সবগুলো খণ্ড নিয়ে ২০২১ সালে দে’জ থেকে প্রকাশিত হয়েছে একটি অখণ্ড সংস্করণ। সে-বইয়ে ‘কথোপকথন’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘আমরা আবহমান ধ্বংসে ও নির্মাণে’ বইটিও।

এরই মধ্যে ১৯৮৬-র বইমেলায় আমি প্রকাশ করেছিলাম পূর্ণেন্দুদার ছবি ও কবিতার লাইনের যুগলবন্দিতে ‘হাইকুবানা’ নামে এক অভিনব প্রকাশনা। একটা লাল রঙের চওড়া খামের মধ্যে হ্যান্ডমেড পেপারে দশটা কার্ড। প্রতিটিতে পূর্ণেন্দু পত্রীর ছবি আর ছোট্ট-ছোট্ট কবিতা। খামের লেটারিং থেকে শুরু করে গোটা ব্যাপারটাই অসাধারণ হয়েছিল। খামের ওপরে ‘হাইকুবানা’ লেটারিং-এর নীচে টাইপফেসে লেখা হয়েছিল– ‘হাইকু আর ইকাবেনাকে মিলিয়ে/ এক সঙ্গে আশ্চর্য চিত্ররূপময় কবিতা।/ সঙ্গে সে কবিতারও চিত্ররূপ’।

১৯৯৩ সালে পূর্ণেন্দুদার আরও একটি কবিতার বই দে’জ থেকে প্রকাশিত হয়েছিল, ‘প্রেমের কবিতা একশো’। এই বইটা কবি পূর্ণেন্দু পত্রীর কাছে ‘বিশেষ’ একটি বই ছিল। এর ভূমিকায় তিনি লিখেছিলেন– ‘বইপত্র ঘেঁটে একটু অঙ্ক কষলেই হয়তো খুঁজে বের করা যেতে পারত বিয়ের ঠিক কত বছর পরে নেরুদা তাঁর ভালোবাসার জীবনসঙ্গিনীকে উপহার দেওয়ার প্রগাঢ় ইচ্ছায় লিখেছিলেন একশোটি তরতাজা সনেট। আমার বেলায় অঙ্ক কযার তাড়া নেই কোনো। সাল-তারিখটা জানা। বিয়ের পঁয়ত্রিশ বছর পরে শ্রীমতী পত্রীর হাতে এই প্রথম তুলে দিচ্ছি এমন একটা বই যেখানে প্রেমের কবিতার শত পুষ্প। অবশ্য নেরুদার কাছে আমার হাত [হার]। তাঁর ছিল সদ্য-রচিত কবিতা। আমার ইতিপূর্বে প্রকাশিত। তবুও, একখানা বই উপহার দিতে লেগে যায় দুই নয়, চার নয়, দশ নয়, লম্বা পঁয়ত্রিশ বছর; এমন অকেজো অথবা অমনোযোগী স্বামীর দিকে কঠিন কটাক্ষ হেনেও তিনি এই বিনীত উপহারটিকে সাগ্রহে এবং সানন্দে গ্রহণ করলেই আমার পালকে নেচে উঠবে পুলক।’

২০২৩-এ দে’জ বিক্রম দাসের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে পূর্ণেন্দু পত্রীর ‘কবিতাসমগ্র’র প্রথম খণ্ড। মোট আটটি কাব্যগ্রন্থ নিয়ে ‘কবিতাসমগ্র’র প্রথম খণ্ডে সম্পাদক বিক্রম দাস গ্রন্থপরিচয়ের সঙ্গে-সঙ্গে বিস্তারিত পাঠান্তরও যোগ করেছেন। তবে বইটির গুরুত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছে জয় গোস্বামী একটি হৃদয়গ্রাহী ভূমিকা লেখায়। সেই ভূমিকায় জয়দা এমন একটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন যাতে বোঝা যায় কবি পূর্ণেন্দু পত্রীর বিপুল জনপ্রিয়তা। একবার শিলচরে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে জয়দার সঙ্গে পরিচয় হয় এক ভদ্রমহিলার যিনি পেশায় ফ্যাশন ডিজাইনার। কবিতার লাইন দিয়ে তিনি শাড়ি আর পাঞ্জাবির নকশা করেন। ভদ্রমহিলা জয় গোস্বামীকে জিগ্যেস করেন পূর্ণেন্দু পত্রীকে তিনি কখনো দেখেছেন কি না। জয়দা ইতিবাচক উত্তর দেওয়ায় ভদ্রমহিলা তাঁর এক সঙ্গী তরুণীর ব্যাগ থেকে একটি শাড়ি বের করেন। জয়দা লিখছেন,

‘…ব্যাগ খুলে সেই নারী একটি শাড়ি বার করে মেলে ধরলেন আমার সামনে, শীতের ঝকঝকে রোদ্দুর পড়ল শাড়িতে। দেখলাম শাড়ির গায়ে চিত্রবিচিত্রভাবে কবিতার লাইন লেখা। সেই নারী বললেন, “এই স্কেচপেনটা দিয়ে আপনার একটা স্বাক্ষর করে দেবেন শাড়িতে ? এই শাড়ি আমি কখনোই বিক্রি করব না। নিজের কাছেই রাখব।” আমি কবিতার লাইনগুলিতে চোখে রেখেই বুঝতে পারলাম, পূর্ণেন্দুদার বিখ্যাত ‘বড়ে গোলাম’ কবিতার লাইন এর মধ্যে লেখা। আমি বললাম, “এ তো পূর্ণেন্দু পত্রীর কবিতার লাইন। তিনি তো প্রয়াত হয়েছেন।” নারীটি বললেন, ‘সেই জন্যই তো আপনাকে স্বাক্ষর করতে বলছি।’
আমি সসংকোচ বললাম, ‘এটা আমার স্পর্ধা হয়ে যায়। আমার উচিত নয় তাঁর রচনার নিচে আমার নিজের নাম সই করা।’
আমার জন্য আরও বড় বিস্ময় অপেক্ষা করছিল।

সেই রমণী বললেন, ‘তাঁকে আপনি দেখেছেন, তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। আপনিও কবিতা লেখেন, তিনিও কবিতা লিখতেন।’ বলে একটু থামলেন। চারপাশের ভিড় দেখে হয়তো একটু দ্বিধা হল তাঁর। পরক্ষণে সেই দ্বিধা সরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘যখন কলেজে পড়তাম, খুব ইচ্ছে ছিল পূর্ণেন্দু পত্রীকে একবার সামনে থেকে দেখবার। তিনি তো অনেক কিছু লিখতেন। কিন্তু আমার সবচেয়ে ভালো লাগত তাঁর কবিতা। তখন আমাদের সংসারের অবস্থা এমন যে কলকাতা যেতে পারিনি। একদিন কাগজে দেখলাম তিনি চলে গেছেন। তাঁর সঙ্গে আমার আর দেখা হল না।’ বলে থামলেন।
চারপাশে যে ভিড়, সেই ভিড়ের পারস্পরিক কথাবার্তাও মুহূর্তে থেমে গেল। আমিও চুপ করে আছি। কী বলব এখানে?
বললেন সেই নারীই। ‘আপনি তাঁকে দেখেছিলেন। আপনিও কবি। আপনার স্বাক্ষরের মধ্যে দিয়েই তাঁর উপস্থিতি ধরে রাখব আমার এই নকশার মধ্যে। কারণ কবিরা তো সব এক।’
আমি নিঃশব্দে তাঁর হাত থেকে স্কেচপেন নিয়ে যখন স্বাক্ষর করছি তখন মনে হচ্ছে, এতবড় পুণ্যের কাজ আমি হয়তো জীবনে আর করিনি।’
লিখন: শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায়
…… ইতি কলেজ স্ট্রিট-এর অন্যান্য পর্ব ……
পর্ব ৭৯। নানা রঙের নবনীতা
পর্ব ৭৮। প্রথম বইয়ের প্রচ্ছদ নিজেই এঁকেছিলেন নবনীতা দেবসেন
পর্ব ৭৭। অপরাজিতা দেবীকে ছদ্মনামে পুরুষ কবি ভেবেছিলেন পাঠক
পর্ব ৭৬। বিদেশেও সমাদৃত হয়েছিল স্বর্ণকুমারী দেবীর উপন্যাস
পর্ব ৭৫। নারীকলম: দিনগুলি রাতগুলি
পর্ব ৭৪। বই-মানবী
পর্ব ৭৩। প্রেসের কাজে গাফিলতি দেখলে কড়া চিঠি লিখতেন সুবীরদা
পর্ব ৭২। করোগেটেড কাগজের অভাবে আটকে ছিল সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কাব্যসংগ্রহ
পর্ব ৭১। অমিয় চক্রবর্তীর ‘কবিতাসংগ্রহ’ ছিল নরেশ গুহ-র গুরুদক্ষিণা
পর্ব ৭০। এক মুখে কবিতা, অন্য মুখে মিছিলের স্লোগান
পর্ব ৬৯। সুভাষিত অনুবাদ
পর্ব ৬৮। শঙ্খদাই চেয়েছিলেন, সুভাষদার কবিতাসংগ্রহ সুবীর রায়চৌধুরী সম্পাদনা করুন
পর্ব ৬৭। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা দিয়েই শুরু হয়েছিল দে’জের ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ সিরিজ
পর্ব ৬৬। প্রেমেনদার উৎসর্গ করা বই বেচে দিয়েছিলেন বন্ধু ‘শিব্রাম’!
পর্ব ৬৫। প্যাঁচানো লোহার সিঁড়ি দিয়ে উঠলেই প্রেমেন্দ্র মিত্রর অবারিত দ্বার!
পর্ব ৬৪। মুজিব হত্যার পর অন্নদাশঙ্করের শোকলিপি ছাপা হয়নি সরকারি নিষেধাজ্ঞায়
পর্ব ৬৩। ভাবনার ভাস্কর্যের দিনগুলি রাতগুলি
পর্ব ৬২। কাদের লিটল ম্যাগাজিন বলা যাবে না, তার তালিকা তৈরি করেছিলেন শিবনারায়ণ রায়
পর্ব ৬১। গৌরদা বিশ্বাস করতেন, কলমের স্বাধীনতা হরণ মাতৃবিয়োগের চেয়ে কম কিছু নয়
পর্ব ৬০। সমরেশ বসু যখন ‘বিশ্বাসঘাতক’!
পর্ব ৫৯। সারাজীবন নিজেকে জানার জন্যেই লিখে গিয়েছেন সমরেশ বসু
পর্ব ৫৮। নবারুণ চেয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ কবিতার সিরিজে তিনিও থাকুন, কিন্তু হল না
পর্ব ৫৭। সত্যজিৎ-মৃণাল-ঋত্বিক ত্রয়ীর মধ্যে ঋত্বিকের লেখাই আমরা প্রথম ছেপেছিলাম
পর্ব ৫৬। অজয় গুপ্তর নিরন্তর শ্রম আর খুঁতখুঁতে সম্পাদনা ছাড়া মহাশ্বেতা দেবীর রচনাসমগ্র হত না
পর্ব ৫৫। দলকল্যাণের জন্য রাজনীতি সমাজকে নরকে পরিণত করবে, বিশ্বাস করতেন মহাশ্বেতা দেবী
পর্ব ৫৪। যা লিখেছেন, না লিখে পারেননি বলেই লিখেছেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
পর্ব ৫৩। ‘অলীক মানুষ’ তাঁকে দিয়ে কেউ লিখিয়ে নিয়েছে, মনে করতেন সিরাজদা
পর্ব ৫২। নিজের লেখা শহরের গল্পকে লেখা বলে মনে করতেন না সিরাজদা
পর্ব ৫১। কর্নেল পড়ে সিরাজদাকে চিঠি লিখেছিলেন অভিভূত সত্যজিৎ রায়
পর্ব ৫০। সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা থেকে বাঁচতে দিব্যেন্দুদার জীবনের দ্বিতীয় গল্পই বদলাতে হয়েছিল
পর্ব ৪৯। রবিশংকর বলের মতো উর্দু সাহিত্যের এত নিবিষ্ট পাঠক খুব কমই দেখেছি
পর্ব ৪৮। দেবেশ রায়ের যেমন ‘বৃত্তান্ত’, আফসার আমেদের তেমন ‘কিস্সা’
পর্ব ৪৭। বই বাঁধানো সম্পূর্ণ হয়নি, তাই ‘মহাভুল’ শুধরে নিয়েছিলেন দেবেশ রায়
পর্ব ৪৬। গান্ধীনগরে রাত্রির কবিই প্রথম বিদ্রুপাত্মক তেতো হাসি এনেছিলেন বাংলা কবিতায়
পর্ব ৪৫। নাটকের মহলা পছন্দ হলে তবেই তিস্তাপারের বৃত্তান্তর অনুমতি দেবেন, বলেছিলেন দেবেশ রায়
পর্ব ৪৪। নিজের বইপত্র বিক্রির বিবরণ দেখে হতাশ হয়েছিলেন দেবেশ রায়
পর্ব ৪৩। থ্রিলার, রহস্য-রোমাঞ্চ কিংবা ক্রাইম স্টোরি অনেক দিন ধরেই বইপাড়ায় ‘সুপারহিট’
পর্ব ৪২। অলংকরণ বা প্রচ্ছদশিল্পীদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা নেই, সখেদে চিঠি লিখেছিলেন নারায়ণ সান্যাল
পর্ব ৪০। সিগারেট ঠোঁটে রথীন্দ্রনাথের ছবি প্রচ্ছদে যাওয়া নিয়ে উঠেছিল প্রবল আপত্তি!
পর্ব ৩৯। শান্তিনিকেতন থেকে কলেজ স্ট্রিট, প্রুফ আদান-প্রদানে সহায়ক ছিলেন বই ব্যবসায়ীরাই
পর্ব ৩৮। পাণ্ডুলিপি জমা দিয়ে সোমেনদা বলেছিলেন, রামকিঙ্করকে নিয়ে এ জাতীয় বই আগে লেখা হয়নি
পর্ব ৩৭। ‘কীর্তির্যস্য’র নাম বদলাতে চেয়েছিলেন ভবতোষ দত্ত
পর্ব ৩৬। কবি-দার্শনিকের বাইরে আরেক রবীন্দ্রনাথকে খুঁড়ে বের করেছিলেন অমিতাভ চৌধুরী
পর্ব ৩৫। ‘শাহজাদা দারাশুকো’ আরও বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে ছিল শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের
পর্ব ৩৪। একজন লেখক হিসেবে আমি কি তোমার মনোযোগের যোগ্য নই, অভিমান ভরা চিঠি লিখেছিলেন শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
পর্ব ৩৩। আমাকে ভাবায়, তারাপদ রায়
পর্ব ৩২। নববর্ষের শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ: লেখকদের মন্তব্যের খাতা!
পর্ব ৩১। পরিব্রাজক সন্ন্যাসী তারাপ্রণব ব্রহ্মচারী ভাগ্যিস থিতু হয়েছিলেন সাহিত্যে!
পর্ব ৩০। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কোনও বই আমাকে চাপিয়ে দেননি, লিখেছেন: বিবেচনা করে দেখো
পর্ব ২৯। কবিতাকে শক্তিদা বলতেন ‘জলজ দর্পণ’, তাঁর বেঁচে থাকার অবলম্বন
পর্ব ২৮। পিঁপড়ে কালিতে চুবিয়ে সাদা পাতায় ছাড়া হয়েছে, এমন পাণ্ডুলিপি ছিল বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের!
পর্ব ২৭। নিজস্ব ঈশ্বরভাবনা থাকলেও শঙ্কু মহারাজের লেখার মূল বিষয় ছিল মানুষের আলো-আঁধারি জীবন
পর্ব ২৬। বাংলাদেশে পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও একুশে বইমেলায় কখনও স্টল পাইনি
পর্ব ২৫। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি মুহূর্তের রক্ত-ঘাম-হাসি-কান্নার এক জীবন্ত দলিলচিত্র ছেপেছিলাম
পর্ব ২৪। রাখাল ছেলে যেমন বাঁশি বাজায়, আমিও তেমন নিজের খুশিতে লিখি, বলেছিলেন যাযাবর
পর্ব ২৩। রয়্যালটি-মুক্ত বইয়ের ওপর প্রকাশকদের ঝোঁক চোখে পড়ছে বইমেলাতেও
পর্ব ২২: শেষমেশ রেগে গিয়ে আমাকে চিঠিই লিখে ফেলেছিলেন শঙ্খ ঘোষ!
পর্ব ২১: ৩০০০ কপি বিক্রির মতো জীবিত বা মৃত লেখক আর হয়তো নেই
পর্ব ২০: কম বয়সে আমাদের রোববারের আড্ডা ছিল ২৮ নম্বর প্রতাপাদিত্য রোড, আশুদার বাড়িতে
পর্ব ১৯: ‘লেখা বড় হচ্ছে’ অভিযোগ আসায় খুদে হাতের লেখায় পাণ্ডুলিপি দিতেন প্রবোধবন্ধু অধিকারী
পর্ব ১৮: দু’বছরের মধ্যে সংস্করণ না ফুরলে অন্য জায়গায় বই ছাপার চুক্তি ছিল শরদিন্দুর চিঠিতে
পর্ব ১৭: পূর্ণেন্দু পত্রীর বাদ পড়া প্রচ্ছদ ও দিনেশ দাসের কবিতার শ্রেষ্ঠ দিনগুলি
পর্ব ১৬: সব প্রকাশনার যাবতীয় বইয়ের হদিশ পাওয়া যেত ‘সম্মিলিত গ্রন্থপঞ্জী’তে
পর্ব ১৫: নিছকই একটা পত্রিকা নয়, ‘কলেজ স্ট্রীট’ আমাদের আবেগ
পর্ব ১৪: খুদে পাঠকদের জন্য মিনিবই তৈরির কথা প্রথম ভেবেছিলেন অভয়দা
পর্ব ১৩: কয়েকটি প্রেসের গল্প
পর্ব ১২: দীর্ঘায়ু বই ও আইয়ুব পরিবার
পর্ব ১১: প্রেমের নয়, অপ্রেমের গল্প সংকলনের সম্পাদনা করেছিলেন সুনীল জানা
পর্ব ১০: ছোট্ট অপুকে দেখেই রঙিন ছবিতে ভরা টানটান গল্পের বই করার ইচ্ছে জেগেছিল
পর্ব ৯: চানঘরে গান-এ সত্যজিৎ রায়ের চিঠি থাকায় ব্যাপারটা গড়িয়েছিল কোর্ট কেস পর্যন্ত
পর্ব ৮: প্রকাশক-লেখকের কেজো সম্পর্কে বুদ্ধদেব গুহর বিশ্বাস ছিল না
পর্ব ৭: পুজো সংখ্যায় না-বেরনো উপন্যাস বই আকারে সুপারহিট
পর্ব ৬: মানবদার বিপুল অনুবাদের কাজ দেখেই শিশির দাশ তাঁর নাম দিয়েছিলেন– ‘অনুবাদেন্দ্র’
পর্ব ৫: সাতবার প্রুফ দেখার পর বুদ্ধদেব বসু রাজি হয়েছিলেন বই ছাপানোয়!
পর্ব ৪: লেখকদের বেঁচে থাকার জন্য অনেক কিছুই লিখতে হয়, প্রফুল্ল রায়কে বলেছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র
পর্ব ৩: পয়লা বৈশাখের খাতায় শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় মজাচ্ছলে লিখেছিলেন, ‘সুধাংশুরা রাজা হোক’
পর্ব ২: বাংলা মাসের সাত তারিখকে বলা হত ‘গ্রন্থতিথি’, বিজ্ঞাপনেও বিখ্যাত ছিল ‘৭-ই’
পর্ব ১: সত্তরের উথাল-পাথাল রাজনৈতিক আবহাওয়ায় আমি প্রকাশনার স্বপ্ন দেখছিলাম
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved