Robbar

টলিউডের কুহেলি ও এক চিরতরুণ

Published by: Robbar Digital
  • Posted:June 8, 2026 8:51 pm
  • Updated:June 8, 2026 8:58 pm  

কোনওদিন আমরা ফিরিয়ে আনতে পারব এই টলিউড? আজকের টলিউডের এই কেচ্ছাক্রান্ত অবরোহণের পানে তাকিয়ে খুব মনে পড়ছে সেই তরুণ মজুমদারকে, যিনি নিঃসঙ্গ লেখার টেবিলে লিখে চলেছেন অন্য এক সময়ের টলিউডের রূপকাহিনি। টলিউড কি কোনওদিন ব্যাকগিয়ারে ফিরতে পারবে সেই ফেলে আসা সোনার সময়ে?

রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

৯৭.

এ বড় আনন্দের সময়। এ বড় বিষাদের সময়। এ এক ঐতিহাসিক সময়। বিশেষ করে আমাদের রাজ্যে। একদিকে ধস নামছে। অন্যদিকে দেখা দিচ্ছে পাড়। একদিকে লুপ্তি। অন্যদিকে উন্মেষ। একদিকে মরণ। অন্যদিকে প্রাণন। এতদিন বেঁচে থাকা সার্থক হল! কী বিপুল পরিবর্তন পেরিয়ে, আরশোলার মতো, এসে পৌঁছলাম নতুন যুগে। একদিকে বাংলার মনে বুলেট ট্রেনের স্বপ্ন। অন্যদিকে বাঙালির মায়ামহল টলিউড ত্রাসিত, শোষিত, রক্তাক্ত। একদিকে স্বপ্নের দ্রুতি। অন্যদিকে দুঃস্বপ্নের অগতি।

কিন্তু কয়েক বছর আগেও, এমন তো ছিল না বাঙালির সিনেমাপাড়া। সিনেমাপাড়ায় সারাদিন কেটেছে, এমন দিন বহুদিন গিয়েছে আমার জীবনে। এবং সিনেমাপাড়ার কার সঙ্গে না আলাপ হয়েছে! কখনও নৈকট্য, কখনও সখ্য, কখনও মধুর সম্পর্ক, কখনও পালিশ-করা পারস্পরিকতা।

সিনেপাড়ার একাল-সেকাল: ইন্দ্রপুরী স্টুডিও

চোখ বুজলে জ্বলে ওঠে লাইট, শুনতে পাই অ্যাকশন, দেখতে পাই বাঙালির জীবন্ত, প্রাণবন্ত, ভয়হীন, চনমনে, সিনেমাপাড়া। উত্তমকুমার বেরলেন সাজঘর থেকে। সুচিত্রা সেন মশগুল পাহাড়ি সান্যালের সঙ্গে। বিকাশ রায় আর তরুণকুমার কিছুক্ষণের আলাপে। ক্লান্ত ছবি বিশ্বাস সন্ধ্যালোকে (বছর বিশের আমি তখনও ছাত্র)। এরপর মাধবী, সাবিত্রী, অপর্ণা, মুনমুন, সৌমিত্র, শুভেন্দু এবং সেদিনের শাশ্বত, কার সঙ্গে না আলাপ! এবং দীর্ঘ স্বার্থহীন আড্ডা! কোথাও কখনও শুনিনি তোলাবাজির সঙ্গে সিনেমার কোনও আত্মীয়তার কথা। বাঙালির সিনেমাপাড়ার প্রবুদ্ধ পরিচালক, সত্যজিৎ, মৃণাল, ঋত্বিক, তপন, তরুণ, প্রত্যেকের সঙ্গে কাটিয়েছি সময় এবং লিখেছি তাঁদের সান্নিধ্যে সময় কাটানোর বিরল-কথা। কেউ কখনও ইঙ্গিত দেননি বাঙালির সিনেমাপাড়ার দুর্বৃত্তায়নের।

চিরদিনের সুর: উত্তমকুমার-সুচিত্রা সেন

বিশেষ করে মনে পড়ছে, পরিচালক তরুণ মজুমদারের সঙ্গে কয়েকটি মধুর সকাল, বিকেল, সন্ধে। কলকাতার স্টুডিওপাড়ায় ওঁর দফতরে বসে কত গল্প যে শুনেছি! এবং সব গল্পের নায়ক আমাদের টলিউড। কখনও তরুণবাবুর বাড়িতেও গিয়েছি টলিউডের রূপকথা শুনতে। সেই সব গল্পের আসর বসত মেঝেতে ফরাস পেতে, বালিশে ঠেস দিয়ে। সে-এক অন্য কলকাতা! ভিন্ন বাঙালি! তরুণ মজুমদার আজকের টলিউডের ধর্ষিত, রক্তাক্ত চেহারা দেখে কী বলতেন, কে জানে! ভাগ্যিস তিনি লিখেছিলেন, দু’-খণ্ডে রূপকথা, ‘সিনেমাপাড়া দিয়ে’! তাই তো তবু বেঁচে রইল আমাদের স্মৃতিবেদনার টলিউড। চিরদিনের হল নস্টালজিয়ার ফ্ল্যাশব্যাকে এক ভয়হীন, তোলাবাজিমুক্ত, কাজের জন্য অর্থ কিংবা শরীর না-চাওয়া এক অলীক সিনেমাপাড়া!

তরুণ মজুমদার

আমি যে সময়ের কথা বলছি, সেই সময়ের সঙ্গে এই সময়ের তফাত কোথায়, তা বোঝা যায় তরুণবাবুর টলি-রূপকথা ‘সিনেমাপাড়া দিয়ে’-র ‘গোড়ার কথা’র শেষ দুটো প্যারা পড়লেই। কলেজ পড়াশোনার কাজ চুকিয়ে যুবক তরুণের মন চাইল ফিল্মের চর্চা করতে। টলিউডের কিছু কাজকর্ম যদি শেখা যায়। তরুণের বড়মামা তখন কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘ফিল্মল্যান্ড’ পত্রিকার সম্পাদক। ফলে তিনি বাঙালির সিনেমাপাড়ার হোমরাচোমরা তো বটেই। ইচ্ছে করলে তিনি সরাসরি ধরাধরি করে তরুণের উচ্চাশার পথ সহজ করতে পারতেন। তা না-করে তিনি ভাগ্নে তরুণের হাতে ধরিয়ে দিলেন ফিল্ম প্রসঙ্গে বইয়ের একটা লম্বা তালিকা! এবং বললেন, এই সব বই পড়ে তোমার মনে যেসব প্রশ্ন জাগবে, সেগুলো নিয়ে তোমার সঙ্গে একদিন আলোচনা করব। তাহলেই বুঝতে পারব, তোমার এই লাইনে আসা উচিত কি না। সেকাল হয়েছে বাসি। এখন বাঙালির সিনেমাপাড়ায় সর্বেসর্বা হতে স্বাক্ষর হওয়ারও হয়তো প্রয়োজন নেই। মুখে হুমকি, হাতে বন্দুক, ঘটে তোলাবাজি থাকলেই হল। বাকি তো মা লক্ষীর কৃপা।

সেই সোনার সময়ে তরুণ মজুমদার তাঁর ফিল্মজীবন শুরু করলেন এইভাবে: শ্রীল শ্রীযুক্ত মিচেল ক্যামেরার সঙ্গে সেই আমার প্রথম মোলাকাত। আধ মন-টাক ভারী একটা বস্তু– তার কোনটা সামনের আর কোনটা পেছনের দিক প্রথম দর্শনে মালুম হল না।

এখান থেকে তরুণ মজুমদার ধীরে ধীরে খুঁজে পেলেন নিজেকে, হয়ে উঠলেন বাণিজ্য-সফল বাঙালি পরিচালকদের একজন। তিনিও তাঁর মতো করে লাঠি ঘুরিয়েছেন টলিউডের সৃজনক্ষেত্রে। কিন্তু সে তো তাঁর প্রতিভার লাঠি। লেখার ক্ষমতাতেও তিনি কম ছিলেন না। মনখারাপ থাকলে তরুণের টলি-রূপকথায় আমি ফিরে ফিরে যাই। মনের মেঘ সরে। টলিউড নিয়ে তরুণ মজুমদারের মতো হিমসাগর-মিষ্টি লেখা কেউ লিখতে পারেননি। দু’-খণ্ডের কোথাও বিন্দু তিক্ততাও পাইনি। স্টুডিও-তে প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা শুনুন, প্রথম দিনেই বিতাড়িত:
–‘সে কী নতুন ঢুকেছেন? কোন ডিপার্টমেন্ট?’
–‘ক্যামেরা। মানে অ্যাপ্রেন্টিস আর কি…’
–‘তার মানে? কার পারমিশনে?’
–‘কেশববাবু পারমিশন দিয়েছেন। তাছাড়া সন্তোষবাবুও…’
–‘একদম বেআইনি। ইউনিয়নের পারমিশন নিয়েছেন?’
–‘ইউনিয়ন? আমি আকাশ থেকে পড়ি।’
–‘হ্যাঁ হ্যাঁ ইউনিয়ন। টেকনিশিয়ানদের একটা ইউনিয়ন আছে। সি. টি. এ. বি. অর্থাৎ টেকনিশিআন্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল। তার কার্ড ছাড়া কাজ করার পারমিশনই নেই। আছে আপনার কার্ড?’
–‘চুপসে গিয়ে বললাম, না তো।’
–‘তা হলে পথ দেখুন।’
‘ঘাবড়ে গিয়ে বললাম, কোথায় গেলে কার্ড পাওয়া যাবে?’
–‘কোথাও না। ধারালো গলায় চাটুজ্যেমশাই বলে উঠলেন, এটা কি ছেলেখেলা না কি? চলুন তো আমার সঙ্গে স্টুডিওতে। কারা কারা আপনাকে ঢুকিয়েছে দেখতে চাই।’

চাঁদের হাট: সত্যজিৎ রায়, সন্ধ্যা রায়, তপন সিন্হা ও তরুণ মজুমদার

তরুণ কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝতে পারলেন, ভদ্রলোকের ছেলে তিনি, এখান থেকে মানে মানে সরে পড়াই ভালো।
তরুণ হাঁটতে হাঁটতে পার্ক সার্কাস ময়দানে: ‘এক কোণে গিয়ে ঘাসের ওপর বসে পড়লাম। ভালোই হলো। এখানে কেউ আমাকে চিনবে না। হঠাৎ চোখ দুটো ভীষণ জ্বালা করতে শুরু করলো।’ লক্ষ করুন, সমস্ত ঘটনাটার মধ্যে কোথাও ঘুষ, তোলাবাজি, টাকা দিয়ে কাজ হাসিলের ইঙ্গিত নেই। যা কিছু হচ্ছে দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।

এরপর তরুণ একটি ছোট্ট পাদটীকা লিখেছেন:
‘যে চাটুজ্যেমশাইয়ের কল্যাণে আমার স্টুডিও-পর্ব অঙ্কুরেই বিনষ্ট হল, তাঁর সঙ্গে বহু ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছি। মানুষ হিসেবেও চমৎকার ভদ্রলোক। হেসে বলতেন, কত বড় উপকার করেছি আপনার সেটা বলুন। ভাগ্যিস সেদিন পথ দেখিয়ে ছিলাম। নইলে বড়জোর আজ ক্যামেরা অ্যাসিস্ট্যান্ট হতেন। এত ঝটপট ডিরেক্টর হতে পারতেন কি?’

এই টলিউডকে কয়েক বছরের মধ্যে কিছু মানুষ কীভাবে ত্রাসে, হুমকিতে, শোষণে নিয়ে গেল নরক যাতনায়!

এরপর তরুণ মজুমদারের এত বড় হয়ে ওঠার একেবারে গোড়ার কোথায়। স্বপ্ন? না, রূপকথা? ওঁর মুখে শুনেছি এই গল্প ওঁর বাড়ির মেঝেতে ফরাশের ওপর বসে। পড়েছি ওঁর লেখাতেও। এই টলিউড কিছুটা আমি দেখেছি। রিজেন্ট গ্রোভে কানন দেবীর বাড়িতেও গিয়েছি। যদি আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসা যেত সেই হারানো সুর? আহা! আরও একবার সেই সুচিত্রা-উত্তম?

হারানো সুর: উত্তম-সুচিত্রা জুটি

মাঝে মাঝে ভাবি, আরও একজন তরুণ মজুমদার কি পাব কোনও দিন? কী অনর্গল লিখেছেন তাঁর স্মৃতিকথা! তাঁকে অনেকবার দেখেছি তাঁর দফতরে একা, লেখার মধ্যে ডুবে আছেন, প্রায় টেবিলের ওপরে ঝুঁকে পড়ে! এতটাই মায়োপিক ছিলেন তিনি। অথচ মানুষটার দূরদৃষ্টিও কম ছিল না।

তরুণের মুখেই শোনা যাক পাকাপোক্তভাবে তাঁর টলিউডে পরিচালক হয়ে এসে পড়ার গল্প। তিনি নিজেও বিশ্বাস করেননি এই গল্প। গায়ে চিমটি কেটে বুঝতে চেয়েছিলেন, স্বপ্ন না সত্যি:
সেটা ছিল বৃষ্টির দুপুর। অফিসে নিজের টেবিলে। সেদিনকার মতো কাজকর্ম সারা হয়েছে। কিন্তু জোর বৃষ্টি। বাইরে বেরবার উপায় নেই। সঙ্গে ছাতা না থাকায় সমস্যা আরো জটিল। এমন সময় আমার অফিসের সামনে একটা ক্রাইসলার থামল! এবং গাড়ি থেকে নামলেন এক মহিলা। এখন হয়তো সেই মহিলাকে অনেকে চিনবেন না। কিন্তু একটা দিন ছিল, স্বাধীনতার আগে, অবিভক্ত ভারতবর্ষে ঝড় উঠে যেত রাওয়ালপিন্ডি থেকে রেঙ্গুন পর্যন্ত। সেই মহিলা ঢুকলেন আমার অফিস ঘরে। কানন দেবী! কলকাতা তখন সারা দেশের ফিল্ম ক্যাপিটাল। আর সেই চলচ্চিত্র রাজধানীর তিনি রানি। যে রাজধানীতে তৈরি হত হিন্দি-বাংলা ডবল ভার্সন ছবি। এবং বললে বিশ্বাস করবে? সারা ভারতবর্ষের ব্যবসাদাররা টাকার থলি নিয়ে হত্যে দিয়ে পড়ে থাকতেন ‘নিউ থিয়েটার্স’-এর মালিক বীরেন্দ্রনাথ সরকারের অফিসে! এদের মধ্যে কিন্তু ‘নিউ থিয়েটার্স’ ছিল সবার ওপরে। একটা কথা বলি, একেবারে হলিউডের কায়দায় তখন টলিউডের নিউ থিয়েটার্সের মাস-মাইনের লিস্টে ছিলেন ইন্ডিয়ার সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী, সংগীত-পরিচালক, কলাকুশলীরা। কোথায় তখন তোমাদের বলিউড?

কানন দেবী

যাই হোক, কানন দেবীর সঙ্গে সেই প্রথম আলাপের কিছুদিন পরে উনি আবার এলেন আমার অফিসে। এবার কিন্তু একা নন। সঙ্গে স্বনামধন্য হরিদাস ভট্টাচার্য। তিনি কানন দেবীর স্বামী। কিন্তু তাঁর আরও একটা পরিচয়, তিনি ‘শ্রীমতি পিকচার্স’-এর ব্যানারে তৈরি ‘নববিধান’ ছবিটার পরিচালক হতে চলেছেন। এবার ঘটল সেই অবিস্মরণীয়, অবিশ্বাস্য ঘটনা!

কানন দেবী আমাকে বললেন, আমাদের এই নতুন ছবির জন্যে তো দু’জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর নেওয়া হয়ে গিয়েছে। আপনি যদি অ্যাপ্রেন্টিস হয়ে এসে কাজ শিখতে চান, তাহলে ভেবে দেখতে পারেন, আমরা রাজি। এই কথা অতি মৃদু স্বরে বলে কানন দেবী তাকালেন তাঁর স্বামীর দিকে। নরম প্রশ্ন, ‘কী গো?’ কানন দেবীর স্বামী হরিদাস ভট্টাচার্য বললেন, ‘কিন্তু কানন, একটা কথা তুমি তরুণবাবুকে বলেছ কি, অ্যাপ্রেন্টিসরা কোনও মাইনে-টাইনে পায় না। এটাই ইন্ডাস্ট্রির নিয়ম।’ স্বপ্ন! না কি সত্যি! গায়ে চিমটি কেটে দেখতে ইচ্ছে করেছিল!

এই ঘটনার কিছুদিনের মধ্যেই কানন দেবীর বাড়িতে নেমন্তন্ন, চায়ের নেমন্তন্ন– আমাকে বললেন তরুণ। তারপর? শোনা যাক তরুণ মজুমদারের মুখেই:
এলাহী ব্যাপার। মহার্ঘ বোন চায়নার সেট। কানন দেবী বললেন, নিজে আমার কাছে একটা টি-পয় টেনে, চায়ের সরঞ্জাম তার ওপর রাখতে। কিন্তু টি-পয়ের পায়ের তলায় যে আমার ধুতির কোঁচার একটা অংশ চাপা পড়ে গিয়েছে, বুঝতে পারিনি।
এরপর: কানন দেবী নিজে চা কাপে ঢেলে আমার দিকে এগিয়ে দিলেন। স্বয়ং কানন দেবী চা দিচ্ছেন আমাকে! আমি সসম্ভ্রমে উঠে দাঁড়ালাম। আর আমার ধুতির হ্যাঁচকায় উল্টে গেল টি ট্রে! আর আমি ভাবলাম আমার ফিউচার চুরমার হল দামি টি-সেটের সঙ্গে।

ঠিক সেই মুহূর্তে ঘরে ঢুকলেন কানন দেবীর স্বামী হরিদাস ভট্টাচার্য। তাঁর কণ্ঠে উদ্বিগ্ন প্রশ্ন, ‘কী ব্যাপার? কী করে?’ ম্যাডামের উত্তর: ‘আর কী করে? আমি গো আমি। মরণ আমার। কী আক্কেলে ওঁর ধুতির ওপরে টি-পয়টা রাখলাম!’ তারপর আমার দিকে তাকিয়ে কানন দেবী: ‘আপনি অমন মুখ করে দাঁড়িয়ে কেন? আপনার কী দোষ?’

সপুত্র কানন দেবী, সঙ্গে স্বামী হরিদাস ভট্টাচার্য

তরুণ মজুমদার বললেন, এরপর আমি শ্রীমতি পিকচার্সে বছর পাঁচেক কাজ করেছিলাম। কাজ শিখেছিলাম! কানন দেবী আমাকে অনেকবার অনুরোধ করেছেন, পারিশ্রমিক নিতে। কিন্তু আর্থিক টানাটানি সত্ত্বেও অর্থ নিতে পারিনি। কারণ মনে হয়েছে, মাঝখানে টাকা এলেই আমাদের সুন্দর সর্ম্পকটা আলো হারাবে।

কোনওদিন আমরা ফিরিয়ে আনতে পারব এই টলিউড? আজকের টলিউডের এই কেচ্ছাক্রান্ত অবরোহণের পানে তাকিয়ে খুব মনে পড়ছে সেই তরুণ মজুমদারকে, যিনি নিঃসঙ্গ লেখার টেবিলে লিখে চলেছেন অন্য এক সময়ের টলিউডের রূপকাহিনি। টলিউড কি কোনওদিন ব্যাকগিয়ারে ফিরতে পারবে সেই ফেলে আসা সোনার সময়ে?

আমি কী ভাগ্যবান! সেই সময়ের টলিউডের সোনাঝুরিতে আমি কাটিয়েছি আমার লেখাজীবনের কিছু অপূর্ব অধ্যায়!

…………………….. পড়ুন কাঠখোদাই-এর অন্যান্য পর্ব  ……………………

পর্ব ৯৬: শিল্পে পাপ, পাপে মৃত্যু

পর্ব ৯৫: বন্ধুত্বের আবেশে ভালোবাসার গল্প

পর্ব ৯৪: একঘেয়েমি যখন মগ্নজীবনের ডুবসাঁতার

পর্ব ৯৩: অমৃতা চেয়েছিলেন, তাঁর পরিচয় তাঁর শরীরকে পেরিয়ে যাক

পর্ব ৯২: নষ্ট নেগেটিভ ফেলতেন না, ব্যর্থতাও সঙ্গে থাক

পর্ব ৯১: টেবিলই মধুসূদনের নেমেসিস, আত্মদহনের আয়না

পর্ব ৯০: সমর্পণ নয়, ব্যাড গার্লের প্রতিস্পর্ধা

পর্ব ৮৯: রঙে রসে অফুরান রবি বর্মার তুলির টান

পর্ব ৮৮: ন্যুড মডেলই মাতিসের ভাবনার টেবিল

পর্ব ৮৭: চণ্ডীমঙ্গল না পড়লে সে কীসের বাঙালি!

পর্ব ৮৬: সাধারণের জীবন রাজনীতির বিষয়, শিখিয়েছে মনুর সংহিতা

পর্ব ৮৫: চিঠির মোড়কে নষ্ট প্রেমের গোপন অভিসার

পর্ব ৮৪: চা নয়, চায়ের বই যখন প্রেমের অনুঘটক

পর্ব ৮৩: আধ্যাত্মিক বিরহ দিয়ে গড়া প্রেমের মহাকাব্য

পর্ব ৮২: এক মৃত্যুহীন ক্লাসিক কিংবা যৌনতার সহজপাঠ

পর্ব ৮১: দেশহীন, ভাষাহীন ঝুম্পা

পর্ব ৮০: সাহসী প্রেমের চিঠি লেখা শিখিয়েছিল যে বাঙালি যুগল

পর্ব ৭৯: সুরানিলয়ের টেবিল থেকেই জন্ম নিয়েছিল উপন্যাসের ভাবনা

পর্ব ৭৮: একবিন্দু আত্মকরুণা নেই অঞ্জনের আত্মজীবনীতে

পর্ব ৭৭: অ্যানির ‘দ্য ইয়ার্স’ শেখায় অন্তহীন ইরোটিসিজম-ই জীবনের পরমপ্রাপ্তি

পর্ব ৭৬: জয় গোস্বামীর সাজেশনে মুগ্ধতা জাগাল ‘সিম্পল প্যাশন’

পর্ব ৭৫: যে নারীর শেষপাতা পর্যন্ত পৌঁছতে পারেননি লেখক

পর্ব ৭৪: সেই তরুণীর জন্য বেঁচে আছে বোকা মনকেমন!

পর্ব ৭৩: কাফকার ভয়-ধরানো প্রেমপত্র!

পর্ব ৭২: থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা, কলকাতা বইমেলায় শ্রেষ্ঠাংশে তবে রবীন্দ্র-ওকাম্পো?

পর্ব ৭১: একশো বছরের নৈরাজ্য ও একটি লেখার টেবিল

পর্ব ৭০: আত্মজীবনী নয়, মার্গারেটের ব্রতভ্রষ্ট স্মৃতিকথা

পর্ব ৬৯: রুশদির ‘দ্য ইলেভেনথ আওয়ার’ শেষ প্রহরের, অনিবার্য অন্তিমের দ্যোতক

পর্ব ৬৮: মাংসও টেবিলের কাছে ঋণী

পর্ব ৬৭: ভ্রমণ-সাহিত্যকে লাজলো নিয়ে গেছেন নতুন পারমিতায়

পর্ব ৬৬: নরম পায়রার জন্ম

পর্ব ৬৫: যে বইয়ের যে কোনও পাতাই প্রথম পাতা  

পর্ব ৬৪: খেলা শেষ করার জন্য শেষ শব্দ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন জেফ্রি আর্চার

পর্ব ৬৩: সহজ ভাষার ম্যাজিক ও অবিকল্প মুরাকামি

পর্ব ৬২: জীবন তিক্ত এবং আশা করা ভুল, এই দর্শনই বিশ্বাস করেন ক্রাজনাহরকাই

পর্ব ৬১: লন্ডনে ফিরে এলেন অস্কার ওয়াইল্ড!

পর্ব ৬০: পাপ ও পুণ্যের যৌথ মাস্টারপিস

পর্ব ৫৯: মাতৃভক্তির দেশে, মাকে ছেড়ে যাওয়ার আত্মকথন

পর্ব ৫৮: চিঠিহীন এই যুগের শ্রেষ্ঠ প্রণয়লিপি

পর্ব ৫৭: লেখার টেবিল কি জানে, কবিতা কার দান– শয়তান না ঈশ্বরের?

পর্ব ৫৬: প্রেমের নিশ্চিত বধ্যভূমি বিয়ে, বার্ট্রান্ড রাসেলের লেখার টেবিল জানে সেই নির্মম সত্য

পর্ব ৫৫: জুলিয়া রবার্টসকে হিন্দুধর্মে দীক্ষা দিয়েছিল একটি বই, একটি সিনেমা

পর্ব ৫৪: আপনার লেখার টেবিল নেই কেন মানিকদা?

পর্ব ৫৩: পুরুষরা যে কতদূর অপদার্থ, ড্রেসিং টেবিলের দেখানো পথে মেয়েরা প্রমাণ করে দেবে

পর্ব ৫২: একটাও অরিজিনাল গল্প লেখেননি শেক্সপিয়র!

পর্ব ৫১: প্রমথ-ইন্দিরার মতো প্রেমের চিঠি-চালাচালি কি আজও হয়?

পর্ব ৫০: হাজার হাজার বছর আগের পুরুষের ভিক্ষা এখনও থামেনি

পর্ব ৪৯: কুকথার রাজনীতিতে অমরত্বের স্বাদ পেয়েছেন জর্জ অরওয়েল 

পর্ব ৪৮: টেবিলই ওকাম্পোর স্মৃতি, আত্মজীবনীর ছেঁড়া আদর

পর্ব ৪৭: শেষ বলে কিছু কি থাকতে পারে যদি না থাকে শুরু?

পর্ব ৪৬: যে টেবিলে দেবদূত আসে না, আসে শিল্পের অপূর্ব শয়তান

পর্ব ৪৫: ফ্রেডরিক ফোরসাইথকে ফকির থেকে রাজা করেছিল অপরাধের পৃথিবী

পর্ব ৪৪: আম-বাঙালি যেভাবে আমকে বোঝে, দুই আমেরিকান লেখিকা সেভাবেই বুঝতে চেয়েছেন

পর্ব ৪৩: দু’পায়ে দু’রকম জুতো পরে মা দৌড়ে বেরিয়ে গেল, ইবতিসম্‌-এর উপন্যাসের শুরু এমনই আকস্মিক

পর্ব ৪২: অন্ধকার ভারতে যে সিঁড়িটেবিলের সান্নিধ্যে রামমোহন রায় মুক্তিসূর্য দেখেছিলেন

পর্ব ৪১: বানু মুশতাকের টেবিল ল্যাম্পটির আলো পড়েছে মুসলমান মেয়েদের একাকিত্বের হৃদয়ে

পর্ব ৪০: গোয়েটের ভালোবাসার চিঠিই বাড়িয়ে দিয়েছিল ইউরোপের সুইসাইড প্রবণতা

পর্ব ৩৯: লেখার টেবিল বাঙালির লাজ ভেঙে পর্নোগ্রাফিও লিখিয়েছে

পর্ব ৩৮: বঙ্গীয় সমাজে বোভেয়ার ‘সেকেন্ড সেক্স’-এর ভাবনার বিচ্ছুরণ কতটুকু?

পর্ব ৩৭: ভক্তদের স্তাবকতাই পাশ্চাত্যে রবীন্দ্র-কীর্তি স্থায়ী হতে দেয়নি, মনে করতেন নীরদচন্দ্র চৌধুরী

পর্ব ৩৬: একাকিত্বের নিঃসঙ্গ জলসাঘরে মারিও ভার্গাস লোসা যেন ছবি বিশ্বাস!

পর্ব ৩৫: জীবনের বাইশ গজে যে নারী শচীনের পরম প্রাপ্তি

পর্ব ৩৪: যা যা লেখোনি আত্মজীবনীতেও, এইবার লেখো, রাস্কিন বন্ডকে বলেছিল লেখার টেবিল

পর্ব ৩৩: ফিওনার সেই লেখার টেবিল মুছে দিয়েছিল মেয়েদের যৌনতা উপভোগের লজ্জারেখা

পর্ব ৩২: বাঙালি নয়, আন্তর্জাতিক বাঙালির সংজ্ঞায় স্পিভাক এসে পড়বেনই

পর্ব ৩১: প্রতিভাপাগল একটি বই, যাকে দিনলিপি বলে সামান্য করব না

পর্ব ৩০: পতিতালয়ের সেই লেখার টেবিল জাগিয়ে তুলেছিল ইসাবেলের হৃদয়-চেতনা

পর্ব ২৯: পাথরে প্রাণ আনে যে টেবিলের স্পর্শ

পর্ব ২৮: নিজের টেবিলকে কটাক্ষ করি, কেন অ্যানে মাইকেলসের মতো লিখতে পারি না?

পর্ব ২৭: নারীর রাগ-মোচনের কৌশল জানে মিলান কুন্দেরার লেখার টেবিল!

পর্ব ২৬: ভালোবাসা প্রকাশের সমস্ত শব্দ পেরিয়ে গিয়েছিল এলিয়টের লেখার টেবিল

পর্ব ২৫: যে টেবিলে জন্ম নেয় নগ্নতা আর যৌনতার নতুন আলো

পর্ব ২৪: প্রেমের কবিতার ভূত জন ডানকে ধরেছিল তাঁর উন্মাদ টেবিলে, মোমবাতির আলোয়

পর্ব ২৩: যে টেবিল আসলে বৈদগ্ধ আর অশ্লীলতার আব্রুহীন আঁতুড়ঘর!

পর্ব ২২: মহাবিশ্বের রহস্য নেমে এসেছিল যে টেবিলে

পর্ব ২১: গাছ আমাদের পূর্বপুরুষ, লেখার টেবিল বলেছিল হোসে সারামাগোকে

পর্ব ২০: টেবিলের কথায় নিজের ‘হত্যার মঞ্চে’ ফিরেছিলেন সলমন রুশদি

পর্ব ১৯: প্রতিভা প্রশ্রয় দেয় অপরাধকে, দস্তয়েভস্কিকে শেখায় তাঁর লেখার টেবিল

পর্ব ১৮: বিবেকানন্দের মনের কথা বুঝতে পারে যে টেবিল

পর্ব ১৭: ‘গীতাঞ্জলি’ হয়ে উঠুক উভপ্রার্থনা ও উভকামনার গান, অঁদ্রে জিদকে বলেছিল তাঁর টেবিল

পর্ব ১৬: যে লেখার টেবিল ম্যাকিয়াভেলিকে নিয়ে গেছে শয়তানির অতল গভীরে

পর্ব ১৫: যে অপরাধবোধ লেখার টেবিলে টেনে এনেছিল শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে

পর্ব ১৪: লেখার টেবিল গিলে নিচ্ছে ভার্জিনিয়া উলফের লেখা ও ভাবনা, বাঁচার একমাত্র উপায় আত্মহত্যা

পর্ব ১৩: হ্যামনেট ‘হ্যামলেট’ হয়ে বেঁচে থাকবে অনন্তকাল, জানে সেই লেখার টেবিল

পর্ব ১২: রবীন্দ্রনাথের লেখার টেবিল চিনতে চায় না তাঁর আঁকার টেবিলকে

পর্ব ১১: আর কোনও কাঠের টেবিলের গায়ে ফুটে উঠেছে কি এমন মৃত্যুর ছবি?

পর্ব ১০: অন্ধ বিনোদবিহারীর জীবনে টেবিলের দান অন্ধকারের নতুন রূপ ও বন্ধুত্ব

পর্ব ৯: বুড়ো টেবিল কিয়ের্কেগার্দকে দিয়েছিল নারীর মন জয়ের চাবিকাঠি

পর্ব ৮: অন্ধকারই হয়ে উঠলো মিল্টনের লেখার টেবিল

পর্ব ৭: কুন্দেরার টেবিলে বসে কুন্দেরাকে চিঠি

পর্ব ৬: মানব-মানবীর যৌন সম্পর্কের দাগ লেগে রয়েছে কুন্দেরার লেখার টেবিলে

পর্ব ৫: বিয়ের ও আত্মহত্যার চিঠি– রবীন্দ্রনাথকে যা দান করেছিল লেখার টেবিল

পর্ব ৪: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের টেবিল আর তারাপদ রায়ের খাট, দুই-ই ছিল থইথই বইভরা

পর্ব ৩: টেবিলের গায়ে খোদাই-করা এক মৃত্যুহীন প্রেমের কবিতা

পর্ব ২: লেখার টেবিল ভয় দেখিয়েছিল টি এস এলিয়টকে

পর্ব ১: একটি দুর্গ ও অনেক দিনের পুরনো নির্জন এক টেবিল