


তিন দশক আগেও শচীন ভৌমিক বাঙালির কাছে পরিচিত এবং বেশ জনপ্রিয় লেখক ছিলেন। তবে তাঁর আসল জনপ্রিয়তা হিন্দি সিনেমার কাহিনিকার বা চিত্রনাট্য রচয়িতা হিসেবে। তাঁর লেখা ‘মনে পড়ে রুবি রায়’ গানটা তো বাংলার একটা প্রজন্মের স্মৃতিচিহ্ন হয়ে আছে। রাহুল দেববর্মণ তাঁর নিকট বন্ধু ছিলেন। আর যদি তাঁর হিন্দি সিনেমার নাম বলতে শুরু করি তাহলে অনেকেই চমকে উঠবেন। এত ‘হিট’ ছবি একজন মানুষ কীভাবে লিখতে পারলেন!
৮৬.
কলকাতা বইমেলার প্রথম তিন বছর আমি কোনও স্টল পাইনি– সেকথা আগে বলেছি। তবে ১৯৭৬ সালেই আমার একটা অন্যরকম অভিজ্ঞতা হয়েছিল মুম্বইতে (তখন অবশ্য সবাই ‘বম্বে’ বলতাম)। সেবার পুজোর সময় মুম্বইয়ের বান্দ্রা এলাকার একটি পার্কে ছোট আকারে বইমেলার আয়োজন করা হয়েছিল। আমি সেখানে একটা স্টল দিয়েছিলাম। ১৯৭৬-এর পুজোর সময়, মানে অপু তখন মাস ছয়েকের– ছোট্ট অপুকে নিয়েই আমরা স্বামী-স্ত্রী সেবার মুম্বই গিয়েছিলাম, আর আমাদের সঙ্গে গিয়েছিলেন আমার বাবাও। সেখানে যে ক’দিন ছিলাম বাবা খুব খুশি ছিলেন। প্রতিদিন বইমেলায় আমাদের স্টলে এসে বসতেন। মুম্বইয়ে সেবার আমার বইপত্র নিয়ে যাওয়ার পিছনে প্রধান যে মানুষটি ছিলেন, তিনি হলেন পরিতোষ মজুমদার। পরিতোষ মজুমদারের সঙ্গে তখন আমার খুব বেশিদিনের আলাপ নয়, তাঁর বই তখনও দে’জ পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত হয়নি– তবু মূলত তাঁর কথাতেই আমি সেবার বইপত্র নিয়ে হাওড়া থেকে ট্রেনে করে মুম্বই পৌঁছেছিলাম। সেখানে গিয়ে তো দেখি একেবারে চাঁদের হাট বসে গেছে। তখনকার হিন্দি সিনেমা জগতের একটা বড় অংশই ছিলেন বাঙালিরা। আর প্রবাসী বাঙালিরা মোটামুটি সকলেই একবার না একবার সেই মেলাতে এসেছেন। সেবারের বম্বে বইমেলার সাফল্য আমাকে কলকাতা বইমেলায় স্টল না পাওয়ার দুঃখ খানিকটা হলেও ভুলিয়ে দিয়েছিল। পরের বছর আমি আবারও সেই মেলায় স্টল দিয়েছিলাম। সেবার আমার ভাই বাবু সঙ্গে গিয়েছিল। ১৯৭৭-এ বম্বে যাবার সময় কলকাতা থেকে একটা ছোট্ট অটোগ্রাফের খাতা নিয়ে গিয়ে তাতে আমি অনেক বিখ্যাত মানুষের সই সংগ্রহ করেছিলাম। খাতাটা অনেকদিন হল অপুকে দিয়ে দিয়েছি। এখন সেটা হাতে নিয়ে দেখছি– হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, অজিতকুমার (‘অজিত’ নামে বিখ্যাত), অসিত সেন, পরিতোষ মজুমদার, শচীন ভৌমিক অনেকেরই সই আছে।

পরিতোষ মজুমদারের কথায় বম্বে যাওয়ার কথা বললাম– তিনি কিন্তু ততদিনে বাংলার পাঠকদের কাছে চেনা নাম। তাঁর বেশ কিছু বই, অনুবাদ– বইপাড়ায় পাওয়া যেত। বেঙ্গল পাবলিশার্স থেকে তাঁর অনুবাদে অ্যাডলফ হিটলারের ‘মাইন ক্যাম্ফ’ বেশ নামী বই ছিল। পরিতোষদার জন্ম পূর্ব বাংলার নারায়ণগঞ্জে। তিনি পেশায় ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আর নেশায় লেখক। আমি যখন বম্বে গেলাম ততদিনে বোধহয় তিনি চাকরি ছেড়ে ইঞ্জিনিয়ারিং সংক্রান্ত কোনও নিজস্ব ব্যবসা শুরু করেছেন। লেখক হিসেবে তিনি বাংলা কথাসাহিত্যের ভূগোলকে অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর অনেক উপন্যাস এবং গল্পের পটভূমি পশ্চিম এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপ। আমার সঙ্গে পরিচয়ের পর দে’জ থেকেই মূলত পরিতোষদার বই বেরত। আমি ১৯৭৭ সালে প্রথম তাঁর ‘কন্সেন্ট্রেশন্ ক্যাম্প’ বইটি ছেপেছিলাম। তারপর নতুন-পুরোনো, অনুবাদ মিলিয়ে দে’জ থেকে তাঁর বইয়ের সংখ্যা ১৫-১৬টার কম নয়। তার মধ্যে আছে– ‘ক্রিসেন্ট পাহাড়ের নরখাদক’, ‘আফ্রিকার বনেজঙ্গলে’, ‘ভারতের বনেজঙ্গলে’, ‘কার্পেট সাহেব/ জিম করবেটের জীবনকথা’, ‘বার্লিন বাংকারে হিটলার’, “চে’র শেষের দিনগুলো ও বলিভিয়ার ডায়েরি” ইত্যাদি। নাম থেকেই বইগুলির বিষয়বস্তু বোঝা যাচ্ছে। এগুলোর মধ্যে আলাদা করে বলা দরকার ‘ভারতের বনেজঙ্গলে’ বইটার কথা। ‘ভারতের বনেজঙ্গলে’ হিউ অ্যালেনের বইয়ের অনুবাদ। হিউ অ্যালেনের জন্ম মিশরে, লেখাপড়া ইংল্যান্ডে, পড়াশোনার পাট চুকিয়ে তিনি ফের মিশরেই ফিরে যান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিউ অ্যালেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। কিন্তু মাথায় চোট পাওয়ায় অবসৃত হন। সেসময় তাঁর চিকিৎসা হয়েছিল ভারতেই। পরে তিনি ভারতেই থেকে যান। বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে অ্যালেন মধ্যপ্রদেশের মান্দিখেরাতে জমিদারি কিনে খামারবাড়ির তত্ত্বাবধান এবং শিকার নিয়ে পড়াশোনা করে বাকি দিনগুলো কাটান। নিজের জমিদারির আশপাশের জঙ্গলে প্রায়ই অ্যালেন শিকারের জন্য ঘুরে বেড়াতেন। ১৯৬৮ সালে লেখক-শিকারী হিউ অ্যালেনের মৃত্যু হয়। হিউ অ্যাালেনের বই একসময় রূপা থেকেও প্রকাশিত হয়েছিল।

পরিতোষদার সূত্রেই সেবার মুম্বইতে আমার দু’জনের সঙ্গে বিশেষ পরিচয় হয়। একজনের কথা আগে বিশদে বলেছি– সলিল ঘোষ। অন্যজন হলেন শচীন ভৌমিক। শচীন ভৌমিক নামটা আজকের বাঙালি পাঠকের কাছে কতটা পরিচিত তা আমার জানা নেই। তবে তিন দশক আগেও তিনি বাঙালির কাছে পরিচিত এবং বেশ জনপ্রিয় লেখক ছিলেন। তবে তাঁর আসল জনপ্রিয়তা হিন্দি সিনেমার কাহিনিকার বা চিত্রনাট্য রচয়িতা হিসেবে। গত শতকের ছয়ের দশক থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি ১২০টিরও বেশি সিনেমার গল্প বা চিত্রনাট্য লিখেছেন। ১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ছবি ‘অনুরাধা’ দিয়ে শুরু, তারপর তিনি একের পর এক জনপ্রিয় ছবির কাহিনি বা চিত্রনাট্য লিখেছেন। এমনকী কোনও অভিনেতা-অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে তাদের পরের প্রজন্ম যখন ছবির জগতে এসেছেন, তখন তাদের জন্যও ছবির গল্প বা চিত্রনাট্য লিখেছেন। তাঁর লেখা ‘মনে পড়ে রুবি রায়’ গানটা তো বাংলার একটা প্রজন্মের স্মৃতিচিহ্ন হয়ে আছে। রাহুল দেববর্মণ তাঁর নিকট বন্ধু ছিলেন। আর যদি তাঁর হিন্দি সিনেমার নাম বলতে শুরু করি তাহলে অনেকেই চমকে উঠবেন। এত ‘হিট’ ছবি একজন মানুষ কীভাবে লিখতে পারলেন! ‘জিদ্দি’, ‘লাভ ইন টোকিও’, ‘অ্যান ইভনিং ইন প্যারিস’, ‘ব্রহ্মচারী’, ‘আরাধনা’, ‘জুগনু’, ‘খেল খেল মে’, ‘ছোটি সি মুলাকাত’, ‘ত্রি মূর্তি’, ‘হাম কিসিসে কম নেহি’ থেকে একেবারে নয়ের দশকের ছবি পর্যন্ত– শচীনদার লেখা মানেই ছবি হিট, এরকম একটা ধারণা ছিল। তাঁর সঙ্গে শাম্মী কাপুর, রাজ কাপুরের বিশেষ ঘনিষ্ঠতা ছিল। শচীনদা আমাকে প্রচুর চিঠি লিখেছেন। ১৯৯৫ সালে পালি হিলের ১১ নম্বর মারিয়া অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তিনি আমাকে লিখেছিলেন– ‘…এখন ঠাকুরের দয়ায় আজ Career এ ভাল সময় যাচ্ছে। পর পর তিনটে ছবি HIT যাচ্ছে। ১. ইয়ে দিল্লাগী, ২. ম্যায় খিলাড়ী তু আনারি [আনাড়ি], ৩. করণ-অর্জুন। সেজন্য প্রচুর Fan mail পাচ্ছি কোলকাতা থেকে ও বাঙ্গালীদের কাছ থেকে।…’ শচীনদার লেখা ছবির তালিকায় চোখ বুলিয়ে বুঝতে পারছি হিন্দি জনপ্রিয় সিনেমার ইতিহাসে ‘কাল্ট’ ছবির অনেকগুলিই তাঁর রচনা।

শচীন ভৌমিকের জীবনের শুরুর দিকটা কিন্তু একেবারেই অন্যরকম ছিল। শচীনদার জন্ম বার্মার (এখনকার মায়ানমার) প্রোম শহরে। রেঙ্গুনে (এখন ইয়াঙ্গন) লেখাপড়া শুরু। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৪ সালে তাঁরা কলকাতায় আসেন। তারপর এখানেই লেখাপড়া। পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি লিখেছেন– “কলকাতায় এলাম, স্কুল শেষ করে কলেজে ঢুকলাম। তখনকার স্মৃতির থলিতে যে কটি মুক্তো রয়েছে তার ফিরিস্তি দেয়া যাক। আমার বন্ধুভাগ্য আগেই বলেছি খুব ভালো। কলকাতায় পেলাম সহপাঠী বন্ধুদের মধ্যে বীরেশ্বর সরকারকে। ‘বি, সরকার, জহুরির’ দোকানের মালিক প্রখ্যাত পি. বি. সরকারের পুত্র। আমার লেখার সাধনায় বীরেশ্বরের অনেক অবদান। প্রথম উপন্যাস ‘নকল দুর্গ’ বীরেশ্বরই প্রকাশ করেছিল। ছোট গল্প সিরিজে বীরেশ্বরই প্রথম ‘মোমিনপুরের চাঁদমারি’ গল্পটি প্রকাশ করেছিল। প্রেমেনদা, সন্তোষকুমার ঘোষ এঁরা প্রশংসা করেছিলেন এ গল্পের। আমার যুবাবয়েসের লেখা প্রথম গল্প ‘মোমিনপুরের চাঁদমারী’। একেবারে কিশোর বয়েসে স্কুলের ছাত্রাবস্থায় প্রথম গল্প ‘ঝরাপাতা’ ছাপা হয়েছিল ‘মৌচাকে’র গ্রাহক গ্রাহিকা সংখ্যায়। জাহাজের কাপ্তানের সঙ্গে পরিচিত একটি কিশোরীর গল্প। কিশোরীর অকালমৃত্যু হল গল্পের পরিসমাপ্তি। ‘ঝরাপাতা’র কথা আজও স্পষ্ট মনে পড়ছে, যখন আমার জীবনের শেষার্ধে জীবনের পাতাটি ঝরবার জন্য ইতিমধ্যে দুলতে শুরু করেছে। কতকালের পুরোনো কথা। কিন্তু প্রথম ছাপার অক্ষরে নিজের নাম দেখার যে অপার আনন্দ, সেটা যে কি মধুর, কি রমণীয়, যে কোন লেখকের প্রথম লেখা ছাপার অনুভূতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারেন। সে অভিজ্ঞতা যে অর্জন করেছে সেই জানে। কলকাতার বীরেশ্বর ছাড়া বন্ধুত্ব হল ক্যালকাটা বুক পাবলিশার্সের মালিক জ্যোতির্ময় বসুর সঙ্গে। তার হ্যারিসন রোডের দোতলায় আড্ডা জমতো তার দপ্তরে। নিয়মিত সেখানে জমা হতেন সন্তোষকুমার ঘোষ, রমাপদ চৌধুরী, শচীন ভৌমিক আরো কতিপয় সাহিত্যরসিক। আরো দুটো জায়গায় সাহিত্যিক সমাবেশ হতো। এক– প্রেমেন্দ্র মিত্রের হরিশ চ্যাটার্জি রোডের বাড়িতে প্রতি রোববার। সেখানে সাগরময় ঘোষ, রমাপদ চৌধুরী থেকে সত্যি বলতে ‘দেশ’ পত্রিকার অনেক নবীন প্রবীণ লেখকদের সমাবেশ হতো। এ ছাড়া কালীঘাটে থাকতেন বিশ্বনাথ মুখার্জি। তার বড়িতেও আড্ডা জমত। হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়, সন্তোষকুমার ঘোষ, রমাপদ চৌধুরী জমাতেন সে আড্ডা। আমি এইসব আড্ডায় সর্বদা হাজির থাকতাম। আরো এক জায়গায় যেতাম। প্রোগ্রেসিভ রাইটারস অ্যাসোসিয়েশনের ধর্মতলা স্ট্রিটের অফিসে। সেখানে পেতাম মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, গোপাল হালদার, বিনয় ঘোষ, ঋত্বিক ঘটক ও ‘পরিচয়’ মাসিক পত্রিকার সম্পাদকীয় গোষ্ঠীকে। বন্ধু হিসেবে অন্তরঙ্গ ছিলেন রমাপদ চৌধুরী, সাগরময় ঘোষ, হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়, সন্তোষকুমার ঘোষ। এছাড়া প্রণব বিশ্বাস ছিলেন বন্ধুব্যক্তি। শ্রদ্ধাপূর্ণ ভক্তিমূলক সম্পর্ক ছিল নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, নবেন্দু ঘোষ ও সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে।” শচীনদার ‘নকল দুর্গ’ বইটির মলাট এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদের শুরুর স্কেচ করে দিয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়। তিনি তখন সিগনেট প্রেসের বইয়ের জন্য একটার পর একটা অসাধারণ মলাট আঁকছেন। বীরেশ্বর সরকারের উদ্যোগেই ‘নকল দুর্গ’ বইটির মলাট সত্যজিৎ রায় এঁকে দিয়েছিলেন।

এরপর খানিকটা আকস্মিকভাবেই হিন্দি ছবির জগতে শচীন ভৌমিক জড়িয়ে পড়েন। আকস্মিক বলছি, কেননা মুম্বই যাওয়ার আগে পর্যন্ত হিন্দি ছবি সম্পর্কে তাঁর সে অর্থে কোনও ধারণাই ছিল না। ‘স্টার্ট সাউন্ড, ক্যামেরা, অ্যাকশন…’ নামে তাঁর বিখ্যাত স্মৃতিকথায় তিনি লিখেছেন–
‘বোম্বেতে আমি কিন্তু ফিল্মের জগতে যোগদান করতে আসিনি। প্রথমে এসেছিলাম আই. পি. টি. এ. মানে ইন্ডিয়ান পিপলস থিয়েটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সারা ভারতের কনফারেন্স-এ যোগদান করার জন্য। এসেছিলাম বেঙ্গলের ডেলিগেট হিসেবে। আসার কয়েকদিন আগে প্রেমেনদার সঙ্গে দেখা করতে যাই। উনি বললেন, বোম্বে যাচ্ছো আমার একটা কাজ করে দেবে ভাই? বললাম, বলুন কি কাজ? উনি বললেন, বোম্বেতে যেখানেই থাকো, মালাডে বোম্বে টকিজের স্টুডিয়োতে যেতে কোনও অসুবিধে হবে না। বিখ্যাত ল্যান্ডমার্ক জায়গা। মালাড রেলওয়ে স্টেশনে নেমে টাঙা নিয়ে নেবে। বলবে, বোম্বে টকিজ চলো। তাহলেই পৌঁছে যাবে। সেখানে পাবে বিখ্যাত বাঙালি পরিচালক জ্ঞান মুখার্জিকে। তুমি ‘কিসমৎ’ ছবি দেখেছ? লজ্জিত মুখে উত্তর দিয়েছিলাম, না। সত্যি বলতে আমি তখন হিন্দি ছবিটবি দেখতাম না। বাংলা দেখতাম আর মেট্রো ও লাইটহাউসে গিয়ে মাঝে মাঝে ইংরেজি ছবি দেখতাম। প্রেমেনদা অবাক হয়েছিলেন। বললেন, সে কি, কলকাতায় ১০০ সপ্তাহ চলেছিল সে ছবি, দেখোনি? অশোককুমার ও মমতাজ শান্তি ছিল। মাথা নীচু করে ছিলাম। প্রেমেনদা বললেন, ঠিক আছে। ‘কিসমৎ’-এর পরে অশোককুমার নলিনী জয়ন্তকে নিয়ে সম্প্রতি আরেকটি হিট্ ছবি করেছেন ‘সংগ্রাম’। সেটাও নিশ্চয়ই দেখোনি। বললাম– না, হিন্দি ছবিই দেখিনি বিশেষ। হ্যাঁ, একটা দেখেছি– ‘মহল’। প্রেমেনদা বললেন, ঠিক আছে। না দেখেছ তাতে কি। এবার আমার কাজের কথা বলি। জ্ঞান মুখার্জির নামে আমি একটা চিঠি দেব। সেটা মালাডে বোম্বে টকিজে গিয়ে জ্ঞানবাবুকে দিয়ে দিও। পারবে? বললাম, কেন পারব না। সামান্য কাজ, একটা চিঠি পৌঁছে দেওয়া। আলবত পারব। প্রেমেনদা বললেন, তাহলে বোস। চিঠি লিখে দিচ্ছি। লিখে দিলেন চিঠি।

এইবার হাওড়া স্টেশন থেকে বোম্বে মেলে চেপে বসলাম। এটাই হল আমার প্রথম বোম্বে যাত্রা। দাদারে ক্যাডেল রোডে একটা বড় হল ঘরে বিভিন্ন প্রদেশের প্রতিনিধিদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। সেখানে উঠলাম। যতদূর মনে পড়ে শোভা সেনও ছিলেন আমাদের দলে। দু’রাত একদিন পর পৌঁছে গেলাম বোম্বে। দাদার স্টেশনে, যেটা বোম্বের মেইন স্টেশন ভিক্টোরিয়া টার্মিনাসের এক স্টেশন আগে। সেখানে হই হই করে সবাই নেমে গেলাম। বাসে করে ক্যাডেল রোড।

তারপর শুরু হল সমাবেশে যোগদান করা। মনে আছে ফিল্ম জগতের অনেক হোমড়াচোমড়া এসেছেন আই. পি. টি. এ.-র কনফারেন্সে। যেমন সিনেমা জগতের বলরাজ সাহানী, রাজ কাপুর, গীতিকার শৈলেন্দ্র ও প্রেম ধাওয়ান আর বোম্বে প্রবাসী সলিল চৌধুরী ও হৃষিকেশ মুখার্জি।

তিনদিন এইসব সভাসমিতিতে কেটে গেল। এইবার ছুটি পাওয়া গেল চতুর্থ দিন। ঠিক করলাম আজ যাব বোম্বে টকিজ মালাডে। জ্ঞান মুখার্জিকে প্রেমেনদার চিঠি দিতে হবে। দাদার স্টেশন থেকে ভালো করে জিজ্ঞাসাবাদ করে ট্রেনে চাপলাম মালাডের টিকিট কেটে। সেই প্রথম ইলেকট্রিক ট্রেন চাপা। মালাডে নেমে প্রেমেনদার নির্দেশ অনুযায়ী টাঙায় চেপে বললাম, বোম্বে টকিজ লে চলো। পৌঁছে গেলাম গন্তব্যস্থলে। কিন্তু প্রশ্ন করে জানলাম জ্ঞানদা স্টুডিওতে অনুপস্থিত, ওঁকে পাওয়া যাবে ওঁর বাড়িতে। একজন বুদ্ধি করে টাঙাটাকে আটকে দিল। বললো, যাও। সাহেবকে নিয়ে যাও ঘরবন্দর রোড মালাডে দফতরি বিল্ডিং-এ। আমাকে বললেন সে ভদ্রলোক, কাছেই, দশ মিনিটে পৌঁছে যাবেন। দফতরি বিল্ডিং প্রধান রাজপথের ধারেই। কাঠের দোতলা বাড়ি। টাঙা ছেড়ে নামলাম। জ্ঞানদা দোতলায় থাকেন। সিঁড়ি বেয়ে উঠে বাজালাম সংকেত ঘণ্টা। লাবণ্যময়ী এক ভদ্রমহিলা দরজা খুলে দিলেন। আত্মপরিচয় ও আগমনহেতু বলতেই উনি সাদরে ডেকে আনলেন ঘরে। সুপুরুষ কালো চশমা পরে দীর্ঘকায় রূপবান ফর্সা এক ভদ্রলোক সোফা থেকে উঠে বললেন, আসুন, আমিই জ্ঞান মুখার্জি। প্রেমেনদার চিঠি দিলাম। কথায় কথায় জানলেন আমার নাম শচীন ভৌমিক। সদ্য সদ্য লেখক হবার দুঃস্বপ্ন দেখছি। জ্ঞান মুখার্জির স্ত্রী শ্রীমতী উমা মুখার্জি বললেন পাশের সোফা থেকে একটি ‘দেশ’ পত্রিকা তুলে নিয়ে, দেখুন কি রকম অদ্ভুত কো-ইনসিডেন্স, ‘দেশ’-এ আমি এখন যে গল্পটা পড়ছিলাম সেটার নাম ‘ছোবল’। লেখকের নাম শচীন ভৌমিক। সবিনয়ে বললাম, গল্পটা এ অধমের রচনা। আমারই গল্প। জ্ঞানদা বললেন– অবাক কাণ্ড নয়। বলুন? কোথা থেকে ঘুরে ঘুরে আপনি প্রেমেনদার চিঠি পৌঁছাতে এসেছেন আমার বাড়ি আর ঠিক তখন আমার স্ত্রী উমা পড়ছিল আপনারই গল্প। আমি বোকা বোকা মৃদু হাসলাম। আলাপ অনেকক্ষণ ধরে চলল, চা জলখাবারও। তারপর এল খাবারের নেমন্তন্ন। বাঙালি খাবারের জন্য প্রাণ আইঢাই করছিল, তাই রাজি হয়ে গেলাম তৎক্ষণাৎ। প্রেমেনদা লিখেছিলেন না, হাত বাড়ালেই বন্ধু: আর পা বাড়ালেই রাস্তা। সেটাই হল।…’

শচীনদার বাকি জীবনটা রূপকথার মতো। আমি ১৯৭৭ সালে দে’জ পাবলিশিং থেকে প্রথম তাঁর যে বইটা প্রকাশ করি সেটা হল– ‘হাউসফুল’। পূর্ণেন্দুদার প্রচ্ছদে প্রকাশিত বইটি শচীনদা উৎসর্গের পাতায় লিখেছিলেন– ‘স্বর্ণহৃদয় বন্ধু/ বীরেশ্বর সরকারকে’। ‘হাউসফুল’ প্রকৃতপক্ষে একটি সংকলন ছিল। এতে ছিল তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘নকল দুর্গ’, একটি বড় গল্প ‘এক্সট্রা টিকিট’ আর ‘বচন ফকিরের কল্কে’ শিরোনামে পাঁচটি গদ্য এবং ‘বরেণ্য বন্দনা’ শিরোনামে তিনটি গদ্য।

শচীনদার বই দে’জের আগে মূলত ‘বিশ্ববাণী’ থেকে প্রকাশিত হত। ১৯৮৫-র ১ জানুয়ারি তিনি আমাকে একটি চিঠিতে লেখেন–
‘ভাই সুধাংশুবাবু,
অনেক দিন পর চিঠি লিখছি। উত্তর দেবেন। প্রথমে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই। একটা অনুরোধ আমার প্রকাশিত ৫ খানা বইয়ের একটা copy ও আমার কাছে নেই। বন্ধুবান্ধবরা সব copy এক এক করে নিয়ে গেছে। সেজন্য অনুরোধ করছি আমার বইগুলোর ৫ copy করে আমাকে পাঠাবেন।
১। শের শায়েরী
২। বেডসাইড শচীন ভৌমিক
৩। ফর এডাল্টস্ [য.] অনলি
৪। হাউস ফুল
৫। ইহকাল পরকাল
পাঁচ copy each কিনে আমাকে পাঠাবেন। দাম V.P. যোগে পাঠাবেন আমি ছাড়িয়ে নেবো। আরেকটা কথা, আগামী 11th January “আনন্দলোকে” আমার একটা interview ছাপা হচ্ছে। এই সংখ্যাটার ৫/৬ copy আমার চাই। দেখে নেবেন interview টা থাকলেই পাঠাবেন। সুতরাং Total ছ’টা item পাঠাবেন। পাঁচখানা বই (Five each) আর “আনন্দলোক” (11th January সংখ্যা) এটাও ৫/৬ খানা।… “তিন মূর্ত্তি” উপন্যাসরূপ কি চলবে? আপনি যদি বলেন তাহলে বসে বসে চিত্রনাট্য থেকে উপন্যাস তৈরী করতে পারি। মতামত জানাবেন। আশা করি সর্বাঙ্গীণ কুশল।
ইতি
আপনাদের
শচীন ভৌমিক’

এর উত্তরে ৪ জানুয়ারি আমি তাঁকে লিখে জানিয়েছিলাম যে ‘বেডসাইড’ বই ছাপা নেই, ‘ফর অ্যাডাল্টস্ ওনলি’ মাত্র দু’ কপি পাঠাতে পেরেছিলাম কারণ সেটিও আর বিশ্ববাণীর ছাপা ছিল না। চিঠির শেষে জানিয়েছিলাম– “…‘তিন মূর্তি’ চিত্রনাট্য হতে উপন্যাস করে Ready করে দিয়ে আমাদের কাছে পাঠান। আমরা বইটি Publish করব।…” ‘তিন মূর্তি’ সিনেমাটি তার আগের বছর পুজোর সময় মুক্তি পায় এবং ধর্মেন্দ্র, মিঠুন চক্রবর্তী, জিনাম আমন, ড্যানি, অমরীশ পুরী, প্রাণ অভিনীত ছবিটি বক্স-অফিসে তোলপাড় ফেলে দেয়। সিনেমাটির জন্য রাহুল দেববর্মণের সুরে গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা গানও খুব বিখ্যাত হয়েছিল। তবে এই উপন্যাস শচীনদা কখনও লিখে উঠতে পারেননি। সিনেমা বিখ্যাত হয়ে যাওয়ার পরে সেই কাহিনি বড় করে উপন্যাসের আকার দেওয়াটা খুব নতুন কিছু ছিল না। ‘উল্টোরথ’ পত্রিকার গল্প ‘চেনামুখ’ থেকে ঋত্বিক ঘটক ‘মেঘে ঢাকা তারা’ নামে অবিস্মরণীয় সিনেমা করার পর, শক্তিপদ রাজগুরু ওই গল্পটিকে উপন্যাসের আকারে ঢেলে সাজান এবং তার নাম দেন ‘মেঘে ঢাকা তারা’। ২০০১ সালে সে-বই দে’জ থেকে পুনর্মুদ্রিতও হয়েছে।

১৯৯২ বা ১৯৯৩ সালে ‘আনন্দলোক’ পত্রিকায় ছাপা শুরু হয় শচীনদার স্মৃতিকথা– ‘অপরাহ্ণের আলোয়’। আমি পত্রিকায় প্রকাশের সময় থেকেই বইটি ছাপার ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে যাবতীয় কথা সেরে রেখেছিলাম। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৯৩ সালে শচীনদা আমাকে একটা চিঠিতে লিখছেন–
“ভাই সুধাংশুবাবু,
ফোনে কথা হল। ‘আনন্দলোকে’ প্রকাশিত ‘অপরাহ্ণের আলোয়’ মনে হয় মার্চ নাগাদ শেষ হবে। আমি ভালোভাবে সম্পাদনা ও অজস্র ভুল সংশোধন করে আপনাকে পাঠাবো। এ বইটা আপনারাই ছাপবেন। নামকরণ পরিবর্তন করে নিন।
বিশ্ববাণীর বইয়ের ব্যাপারে জানাই। ও বই তিনটে উজ্জ্বলকে দেয়া হয়েছে আমার এক আত্মীয়ের একান্ত অনুরোধে। এতে সে আত্মীয় উপকৃত হবে। এখন বয়েস ষাট ছুঁই ছুঁই। হার্ট এটাক [য.] হয়ে গেছে। কবে আছি কবে নেই, কে জানে। এ সময় কেউ উপকৃত হলে ভালোই। সেজন্য মনে কিছু করবেন না। ইদানীং চিঠিপত্রে যা জানছি সেটা হল আনন্দলোকের ধারাবাহিকটা প্রচুর জনপ্রিয় হয়েছে। সেটা আপনি ছাপবেন। মনে হয় ভালো সাড়া পাবেন। এবার পুজোর সময় বুকে ব্যথা হওয়ায় আবার Nursing Home এর I.C.U তে কাটিয়েছি। পুজোতে একদিনও বেরোন [য.] সম্ভব হয়নি। ৪ দিন থাকতে হয়েছে হাসপাতালে। এখন আমি একরকম। সাবধানে। নমস্কার নেবেন। ‘অপরাহ্ণের আলোয়’ নামটা না দিয়ে কি রাখতে চান জানাবেন। আমি অনেক Suggestions পাঠিয়েছিলাম।
ইতি
আপনাদের
শচীন ভৌমিক”

আসলে, ১৯৮৮ সালের ১৫ এপ্রিল শচীনদা নিজেই একটি চিঠি লিখে আমাকে ‘বিশ্ববাণী’ থেকে প্রকাশিত তাঁর চারখানি বই– ‘শের শায়রী’, ‘বেডসাইড শচীন ভৌমিক’, ‘ফর অ্যাডাল্টস্ ওনলি’, ‘ইহকাল পরকাল’ আমাকেই ছাপতে বলেছিলেন। পরে যে কোনও কারণেই হোক তিনি মত বদলে উজ্জ্বল সাহিত্য মন্দিরকে ‘শের শায়রী’ আর ‘ফর অ্যাডাল্টস্ ওনলি’ ছাপতে দেন।

তবে ১৯৯৩-এর ৩০ ডিসেম্বর আমি তাঁর সে-বছরের ১৬ ডিসেম্বরের চিঠির সূত্র ধরে জানাই উজ্জ্বল সাহিত্য মন্দির ‘শের শায়রী’ আর ‘ফর অ্যাডাল্টস্ ওনলি’ ছাপলেও, আমরা দে’জ থেকে ‘বেডসাইড শচীন ভৌমিক’ ছাপতে আগ্রহী। কার্যত সেসময় ব্রজকিশোর মণ্ডলের অকাল প্রয়াণে বিশ্ববাণীর প্রকাশনা কিছুটা সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। তাই হয়তো শচীনদা চেয়েছিলেন বইগুলো তুলে নিতে। তবে ‘ইহকাল পরকাল’ উজ্জ্বল সাহিত্য মন্দির ছাপেনি বলেই জানি। আমরা সে-বইটা ২০০৩ সালে পুর্নমুদ্রণ করেছিলাম। আর ‘অপরাহ্ণের আলোয়’ লেখাটির জন্য শচীনদা যেসব নাম ভেবেছিলেন, তার মধ্যে আমাদের সবচেয়ে বেশি পছন্দ হয়েছিল– ‘স্টার্ট সাউন্ড, ক্যামেরা, অ্যাকশন…’ নামটি। শচীনদাও সেটা মেনে নিয়েছিলেন।

১৯৯৫-এর বাংলা নববর্ষে ‘স্টার্ট সাউন্ড, ক্যামেরা, অ্যাকশন…’ প্রকাশিত হয়। তার আগে সে-বছরের ৯ জানুয়ারি তিনি আমাকে চিঠিতে লিখেছিলেন–
‘ভাই সুধাংশুবাবু,
প্রুফ দেখে সম্পূর্ণ লেখা পাঠালাম। Glossy কাগজে foder সহ প্রচ্ছদ করবেন। প্রচ্ছদের পেছনে আমার ছবি পাঠালাম। Full back cover এ colour এ ছাপবেন। স্টার্ট সাউণ্ড, ক্যামেরা, একশন্… [য.] বইটা হল glamour জগতের। সেজন্য get Up খুবই আকর্ষণীয় হওয়া চাই। আর সঙ্গে পাঠানো সব ছবিগুলি ছাপবেনই।
(১) ১৮টা colour ছবি খুব ভালোভাবে সুন্দর করে ছাপবেন সব কটি।
(২) ২৮টি black & white ছবি। যত্ন করে ছাপবেন। ছবিগুলোর পেছনে নীচে ছাপার জন্য caption দিয়েছি। ভুল না হয়।
(৩) ভূমিকা ও উৎসর্গপত্র আগে পাঠানো হয়েছে।
ছবিগুলো সব ব্যবহারের পর ফেরত চাই। প্রাপ্তি সংবাদ দেবেন।…’

পয়লা বৈশাখের সময় গৌতম রায়ের প্রচ্ছদে বেরনো সে বইয়ের ভূমিকায় শচীনদা লেখেন–
“আমার জীবনের সিংহভাগ কেটেছে ও এখনো কাটছে চলচ্চিত্র জগতের কাহিনীকার চিত্রনাট্যকার হিসেবে। প্রায় চল্লিশ বছর জড়িত রয়েছি এই ছায়াচিত্রমণ্ডলের মহাতীর্থ বোম্বে নগরীতে, যার নাম– হলিউডের অনুকরণে আজকাল বলিউড বলে পরিচিত। সিনেমার শ্যুটিং শুরু হয় সব দেশে পরিচালকের কর্মসূচনার যে হুংকারে, সেই তিনটি আদেশ হল– ‘স্টার্ট সাউন্ড, ক্যামেরা, অ্যাকশন…।’
প্রথম আদেশ শব্দযন্ত্রীর উদ্দেশে, দ্বিতীয় আদেশ আলোকচিত্রশিল্পীর উদ্দেশে, আর তৃতীয় আদেশ হল অভিনেতা-অভিনেত্রীর উদ্দেশে। আমার কর্মজীবনে সবচেয়ে বেশি শুনতে হয় এই শব্দচতুষ্টয়। সেজন্য স্মৃতিকথার এই গ্রন্থের নাম দিয়েছি, ‘স্টার্ট সাউন্ড, ক্যামেরা, অ্যাকশন…।’ … এককালে আমার নিজস্ব কলাম প্রশ্নোত্তর, বচন ফকিরের কলকে, নকসী কথার মাঠ ইত্যাদি নামে ‘উল্টোরথ’, ‘জলসা’, ‘ঘরোয়া’, ‘প্রসাদ’, ‘শিলাদিত্য’ ইত্যাদি বিভিন্ন কাগজে জনপ্রিয় ছিল। এ ছাড়া বন্ধুবর অধুনা প্রয়াত রাহুল দেববর্মনের জন্য গানও বেশ কিছু লিখেছি। ‘মনে পড়ে রুবি রায়’, ‘ফিরে এসো অনুরাধা’ থেকে গতবছর প্রকাশিত উষা উত্থুপের গানের ক্যাসেট পর্যন্ত বেশ কিছু গীত রচনা করেছি। … আমার এ গ্রন্থ রচনার প্ররোচক হলো অনুজপ্রতিম দুলেন্দ্র ভৌমিক, যিনি ‘আনন্দলোক’-এর সম্পাদক ও প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক। বইটা উৎসর্গ করছি দু’জন ভৌমিককে। যাঁরা আমার রক্তের সম্পর্কে আত্মীয় নন, তবে হৃদয়ের সম্পর্কে অন্তরঙ্গ ভ্রাতৃসুলভবন্ধু।”

বইটির উৎসর্গের পাতায় দুলেন্দ্র ভৌমিক ছাড়া অন্য ‘ভৌমিক’ হলেন বম্বের তাজমহল হোটেলের সেসময়ের জেনারেল ম্যানেজার সুবীর ভৌমিক।
সে-বছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে তাঁর সঙ্গে আমার অনেকবার চিঠিতে কথা চলেছে। শেষে ২৩ এপ্রিল বই হাতে পেয়ে তিনি লিখেছেন–
“ভাই সুধাংশুবাবু, দু’কপি এইমাত্র বই পেলাম। প্রথম দর্শনে খুবই ভালো লেগেছে। একটু ভালো করে বিজ্ঞাপন দিলে বইটা ভালো চলবে বলে আমার ধারণা।…”

আবার পয়লা মে ১৯৯৫ তিনি আমাকে আরেকটি চিঠিতে এই বইটির একটি বিজ্ঞাপনের বয়ান লিখে পাঠিয়েছিলেন। তাঁর বয়ানটি ছিল–
‘প্রথমে কানাকানি, পরে টানাটানি, পরে হানাহানি পর্যন্ত গড়াতে পারে এমন যে বইটি আলোড়ন তুলেছে সেটা হল:
শচীন ভৌমিকের “স্টার্ট সাউণ্ড [য.], ক্যামেরা, অ্যাকশন…” বোম্বের চিত্রজগতে প্রায় চার দশকের অনেক গল্প, গল্পনা ও নানাবিধ জল্পনার খাজানা পাবেন শচীন ভৌমিকের এই আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে। দাম: ১০০, সাদা কালো ও রঙিন ছবিতে বোঝাই।’

আমরা এ-বইয়ের ব্যাপক বিজ্ঞাপন করলেও এই বয়ানটা সম্ভবত ব্যবহার করিনি। এই চিঠিতেই তিনি আবার ‘আনন্দলোক’ পত্রিকায় নতুন ধারাবাহিক শুরুর কথা জানিয়েছিলেন, যার প্রস্তাবিত নাম ছিল ‘ম্যাজিক লন্ঠন’।

সে-বছর জুন মাসের ১২ তারিখ তিনি আরেকটি চিঠিতে আমাকে জানান–
‘১৬ তারিখ মে মাসে সুইজারল্যাণ্ড[য.], লণ্ডন [য.] ও আমেরিকা গিয়েছিলাম। ৯ তারিখ রাত্তিরে পৌঁছেছি। বই কেমন বিক্রি হচ্ছে জানাবেন। বোম্বেতে, লণ্ডন [য.] আমেরিকাতে যে কটি সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলাম সেগুলো ওদেশে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছে। পাঠকদের প্রশংসা পেয়েছে। আপনার ছাপা, বাঁধাই, কাগজ, ছবি সব appropriate হয়েছে।…’

এ চিঠিতেও তিনি ‘আনন্দলোক’-এ প্রকাশিতব্য ‘ম্যাজিক লণ্ঠন’ ধারাবাহিকের উল্লেখ করেছেন। তবে আমার যেন মনে হচ্ছে লেখাটি তিনি লিখে উঠতে পারেননি। কারণ সেক্ষেত্রে বইটা আমারই পাওয়ার কথা। চিঠিতে শচীনদা তেমনই জানিয়েছিলেন। অবশ্য সেই ধারাবাহিকটি উজ্জ্বল সাহিত্য মন্দির থেকে ১৯৯৯-এ প্রকাশিত ‘কিস্সা বলিউড কা’ বইটি কি না আমি নিশ্চিত নই।

প্রসঙ্গত উল্লেখ করি, এক সময় ‘The Asian Age’ পত্রিকা শচীন ভৌমিকের আত্মজীবনী ‘Start Sound, Camera, Action’ ২০ কিস্তিতে অনুবাদ করে ছেপেছিল। যদিও তাঁর অনুমতি ছাড়া এই অনুবাদে শচীনদা একেবারেই খুশি হননি। তিনি চিঠিতে জানতে চেয়েছিলেন, আমি অনুমতি দিয়েছি কি না! আমি তাঁকে জানিয়েছিলাম যে, ওই পত্রিকায় লেখক, প্রকাশক কারওর অনুমতি ছাড়াই অনুবাদটি ছাপা হয়েছিল। তবে সরস ভঙ্গিতে শচীনদা চিঠিতে লিখেছিলেন অনুবাদ করে একদিক থেকে ভালোই হয়েছে– তাতে বাংলা বইটা কিছুটা হলেও বেশি বিক্রি হবে।

২০১১-র দোলযাত্রায় আমরা শচীনদার অনেকদিনের ইচ্ছে অনুযায়ী তাঁর রচনার একটি সমগ্র তৈরি করি। দে’জ থেকে প্রকাশিত ‘শচীন ভৌমিক রচনাসমগ্র’-এ আছে– ‘বেডসাইড শচীন ভৌমিক’, ‘ফর অ্যাডাল্টস্ ওনলি’, ‘হাউসফুল’, ‘ইহকাল পরকাল’, ‘স্টার্ট সাউন্ড, ক্যামেরা অ্যাকশন…’, ‘কিস্সা বলিউড কা’ এবং ‘শের শায়েরী’।

শচীনদাকে যতবার দেখেছি সবসময় খুবই আত্মবিশ্বাসী এবং ইতিবাচক মানসিকতার একজন মানুষ বলে মনে হয়েছে। হিন্দি ছবির জগতে এত সাফল্য পেয়েও নিজের বাঙালিয়ানাটা ধরে রেখেছিলেন। যখন ‘শচীন ভৌমিক রচনাসমগ্র’র কাজ চলছে, সেসময় বউদি বাঁশরী ভৌমিক প্রয়াত হন। শচীনদার বয়স তখন ৮০। তবে বয়স তাঁকে কাবু করতে পারেনি। কাজকর্মের মধ্যেই ছিলেন। সমগ্রর ভূমিকায় তিনি লিখেছিলেন– ‘চীনদেশের একটা প্রবাদ আছে যেটা আমি খুব মানি। প্রবাদটা হল The birds of happiness and sorrow will fly over your head. When the birds of happiness fly, try to cage it as long as you can, and when the birds of sorrow fly, just don’t allow it to make a nest on your head. দুঃখের পাখিটাকে মাথায় নীড় বানাতে দিচ্ছি না। আহত, ক্লান্ত, কিন্তু বেঁচে আছি, এখনও লিখছি, লিখে চলেছি। I want to die with my boots on.’
লিখন: শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায়
…… ইতি কলেজ স্ট্রিট-এর অন্যান্য পর্ব ……
পর্ব ৮৫। উত্তম নিশ্চিন্তে চললেন অধমের সাথে
পর্ব ৮৪। বই সম্পাদনা: নেপথ্যের সংলাপ
পর্ব ৮৩। বই-চিত্রের বৈচিত্র
পর্ব ৮২। পূর্ণ ইন্দু পরকাশে
পর্ব ৮১। পাঠকদের উন্মাদ দাবি: চাই কথোপকথনের নতুন খণ্ড!
পর্ব ৮০। কলকাতা: পূর্ণেন্দু সংস্করণ
পর্ব ৭৯। নানা রঙের নবনীতা
পর্ব ৭৮। প্রথম বইয়ের প্রচ্ছদ নিজেই এঁকেছিলেন নবনীতা দেবসেন
পর্ব ৭৭। অপরাজিতা দেবীকে ছদ্মনামে পুরুষ কবি ভেবেছিলেন পাঠক
পর্ব ৭৬। বিদেশেও সমাদৃত হয়েছিল স্বর্ণকুমারী দেবীর উপন্যাস
পর্ব ৭৫। নারীকলম: দিনগুলি রাতগুলি
পর্ব ৭৪। বই-মানবী
পর্ব ৭৩। প্রেসের কাজে গাফিলতি দেখলে কড়া চিঠি লিখতেন সুবীরদা
পর্ব ৭২। করোগেটেড কাগজের অভাবে আটকে ছিল সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কাব্যসংগ্রহ
পর্ব ৭১। অমিয় চক্রবর্তীর ‘কবিতাসংগ্রহ’ ছিল নরেশ গুহ-র গুরুদক্ষিণা
পর্ব ৭০। এক মুখে কবিতা, অন্য মুখে মিছিলের স্লোগান
পর্ব ৬৯। সুভাষিত অনুবাদ
পর্ব ৬৮। শঙ্খদাই চেয়েছিলেন, সুভাষদার কবিতাসংগ্রহ সুবীর রায়চৌধুরী সম্পাদনা করুন
পর্ব ৬৭। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা দিয়েই শুরু হয়েছিল দে’জের ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ সিরিজ
পর্ব ৬৬। প্রেমেনদার উৎসর্গ করা বই বেচে দিয়েছিলেন বন্ধু ‘শিব্রাম’!
পর্ব ৬৫। প্যাঁচানো লোহার সিঁড়ি দিয়ে উঠলেই প্রেমেন্দ্র মিত্রর অবারিত দ্বার!
পর্ব ৬৪। মুজিব হত্যার পর অন্নদাশঙ্করের শোকলিপি ছাপা হয়নি সরকারি নিষেধাজ্ঞায়
পর্ব ৬৩। ভাবনার ভাস্কর্যের দিনগুলি রাতগুলি
পর্ব ৬২। কাদের লিটল ম্যাগাজিন বলা যাবে না, তার তালিকা তৈরি করেছিলেন শিবনারায়ণ রায়
পর্ব ৬১। গৌরদা বিশ্বাস করতেন, কলমের স্বাধীনতা হরণ মাতৃবিয়োগের চেয়ে কম কিছু নয়
পর্ব ৬০। সমরেশ বসু যখন ‘বিশ্বাসঘাতক’!
পর্ব ৫৯। সারাজীবন নিজেকে জানার জন্যেই লিখে গিয়েছেন সমরেশ বসু
পর্ব ৫৮। নবারুণ চেয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ কবিতার সিরিজে তিনিও থাকুন, কিন্তু হল না
পর্ব ৫৭। সত্যজিৎ-মৃণাল-ঋত্বিক ত্রয়ীর মধ্যে ঋত্বিকের লেখাই আমরা প্রথম ছেপেছিলাম
পর্ব ৫৬। অজয় গুপ্তর নিরন্তর শ্রম আর খুঁতখুঁতে সম্পাদনা ছাড়া মহাশ্বেতা দেবীর রচনাসমগ্র হত না
পর্ব ৫৫। দলকল্যাণের জন্য রাজনীতি সমাজকে নরকে পরিণত করবে, বিশ্বাস করতেন মহাশ্বেতা দেবী
পর্ব ৫৪। যা লিখেছেন, না লিখে পারেননি বলেই লিখেছেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
পর্ব ৫৩। ‘অলীক মানুষ’ তাঁকে দিয়ে কেউ লিখিয়ে নিয়েছে, মনে করতেন সিরাজদা
পর্ব ৫২। নিজের লেখা শহরের গল্পকে লেখা বলে মনে করতেন না সিরাজদা
পর্ব ৫১। কর্নেল পড়ে সিরাজদাকে চিঠি লিখেছিলেন অভিভূত সত্যজিৎ রায়
পর্ব ৫০। সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা থেকে বাঁচতে দিব্যেন্দুদার জীবনের দ্বিতীয় গল্পই বদলাতে হয়েছিল
পর্ব ৪৯। রবিশংকর বলের মতো উর্দু সাহিত্যের এত নিবিষ্ট পাঠক খুব কমই দেখেছি
পর্ব ৪৮। দেবেশ রায়ের যেমন ‘বৃত্তান্ত’, আফসার আমেদের তেমন ‘কিস্সা’
পর্ব ৪৭। বই বাঁধানো সম্পূর্ণ হয়নি, তাই ‘মহাভুল’ শুধরে নিয়েছিলেন দেবেশ রায়
পর্ব ৪৬। গান্ধীনগরে রাত্রির কবিই প্রথম বিদ্রুপাত্মক তেতো হাসি এনেছিলেন বাংলা কবিতায়
পর্ব ৪৫। নাটকের মহলা পছন্দ হলে তবেই তিস্তাপারের বৃত্তান্তর অনুমতি দেবেন, বলেছিলেন দেবেশ রায়
পর্ব ৪৪। নিজের বইপত্র বিক্রির বিবরণ দেখে হতাশ হয়েছিলেন দেবেশ রায়
পর্ব ৪৩। থ্রিলার, রহস্য-রোমাঞ্চ কিংবা ক্রাইম স্টোরি অনেক দিন ধরেই বইপাড়ায় ‘সুপারহিট’
পর্ব ৪২। অলংকরণ বা প্রচ্ছদশিল্পীদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা নেই, সখেদে চিঠি লিখেছিলেন নারায়ণ সান্যাল
পর্ব ৪০। সিগারেট ঠোঁটে রথীন্দ্রনাথের ছবি প্রচ্ছদে যাওয়া নিয়ে উঠেছিল প্রবল আপত্তি!
পর্ব ৩৯। শান্তিনিকেতন থেকে কলেজ স্ট্রিট, প্রুফ আদান-প্রদানে সহায়ক ছিলেন বই ব্যবসায়ীরাই
পর্ব ৩৮। পাণ্ডুলিপি জমা দিয়ে সোমেনদা বলেছিলেন, রামকিঙ্করকে নিয়ে এ জাতীয় বই আগে লেখা হয়নি
পর্ব ৩৭। ‘কীর্তির্যস্য’র নাম বদলাতে চেয়েছিলেন ভবতোষ দত্ত
পর্ব ৩৬। কবি-দার্শনিকের বাইরে আরেক রবীন্দ্রনাথকে খুঁড়ে বের করেছিলেন অমিতাভ চৌধুরী
পর্ব ৩৫। ‘শাহজাদা দারাশুকো’ আরও বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে ছিল শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের
পর্ব ৩৪। একজন লেখক হিসেবে আমি কি তোমার মনোযোগের যোগ্য নই, অভিমান ভরা চিঠি লিখেছিলেন শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
পর্ব ৩৩। আমাকে ভাবায়, তারাপদ রায়
পর্ব ৩২। নববর্ষের শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ: লেখকদের মন্তব্যের খাতা!
পর্ব ৩১। পরিব্রাজক সন্ন্যাসী তারাপ্রণব ব্রহ্মচারী ভাগ্যিস থিতু হয়েছিলেন সাহিত্যে!
পর্ব ৩০। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কোনও বই আমাকে চাপিয়ে দেননি, লিখেছেন: বিবেচনা করে দেখো
পর্ব ২৯। কবিতাকে শক্তিদা বলতেন ‘জলজ দর্পণ’, তাঁর বেঁচে থাকার অবলম্বন
পর্ব ২৮। পিঁপড়ে কালিতে চুবিয়ে সাদা পাতায় ছাড়া হয়েছে, এমন পাণ্ডুলিপি ছিল বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের!
পর্ব ২৭। নিজস্ব ঈশ্বরভাবনা থাকলেও শঙ্কু মহারাজের লেখার মূল বিষয় ছিল মানুষের আলো-আঁধারি জীবন
পর্ব ২৬। বাংলাদেশে পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও একুশে বইমেলায় কখনও স্টল পাইনি
পর্ব ২৫। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি মুহূর্তের রক্ত-ঘাম-হাসি-কান্নার এক জীবন্ত দলিলচিত্র ছেপেছিলাম
পর্ব ২৪। রাখাল ছেলে যেমন বাঁশি বাজায়, আমিও তেমন নিজের খুশিতে লিখি, বলেছিলেন যাযাবর
পর্ব ২৩। রয়্যালটি-মুক্ত বইয়ের ওপর প্রকাশকদের ঝোঁক চোখে পড়ছে বইমেলাতেও
পর্ব ২২: শেষমেশ রেগে গিয়ে আমাকে চিঠিই লিখে ফেলেছিলেন শঙ্খ ঘোষ!
পর্ব ২১: ৩০০০ কপি বিক্রির মতো জীবিত বা মৃত লেখক আর হয়তো নেই
পর্ব ২০: কম বয়সে আমাদের রোববারের আড্ডা ছিল ২৮ নম্বর প্রতাপাদিত্য রোড, আশুদার বাড়িতে
পর্ব ১৯: ‘লেখা বড় হচ্ছে’ অভিযোগ আসায় খুদে হাতের লেখায় পাণ্ডুলিপি দিতেন প্রবোধবন্ধু অধিকারী
পর্ব ১৮: দু’বছরের মধ্যে সংস্করণ না ফুরলে অন্য জায়গায় বই ছাপার চুক্তি ছিল শরদিন্দুর চিঠিতে
পর্ব ১৭: পূর্ণেন্দু পত্রীর বাদ পড়া প্রচ্ছদ ও দিনেশ দাসের কবিতার শ্রেষ্ঠ দিনগুলি
পর্ব ১৬: সব প্রকাশনার যাবতীয় বইয়ের হদিশ পাওয়া যেত ‘সম্মিলিত গ্রন্থপঞ্জী’তে
পর্ব ১৫: নিছকই একটা পত্রিকা নয়, ‘কলেজ স্ট্রীট’ আমাদের আবেগ
পর্ব ১৪: খুদে পাঠকদের জন্য মিনিবই তৈরির কথা প্রথম ভেবেছিলেন অভয়দা
পর্ব ১৩: কয়েকটি প্রেসের গল্প
পর্ব ১২: দীর্ঘায়ু বই ও আইয়ুব পরিবার
পর্ব ১১: প্রেমের নয়, অপ্রেমের গল্প সংকলনের সম্পাদনা করেছিলেন সুনীল জানা
পর্ব ১০: ছোট্ট অপুকে দেখেই রঙিন ছবিতে ভরা টানটান গল্পের বই করার ইচ্ছে জেগেছিল
পর্ব ৯: চানঘরে গান-এ সত্যজিৎ রায়ের চিঠি থাকায় ব্যাপারটা গড়িয়েছিল কোর্ট কেস পর্যন্ত
পর্ব ৮: প্রকাশক-লেখকের কেজো সম্পর্কে বুদ্ধদেব গুহর বিশ্বাস ছিল না
পর্ব ৭: পুজো সংখ্যায় না-বেরনো উপন্যাস বই আকারে সুপারহিট
পর্ব ৬: মানবদার বিপুল অনুবাদের কাজ দেখেই শিশির দাশ তাঁর নাম দিয়েছিলেন– ‘অনুবাদেন্দ্র’
পর্ব ৫: সাতবার প্রুফ দেখার পর বুদ্ধদেব বসু রাজি হয়েছিলেন বই ছাপানোয়!
পর্ব ৪: লেখকদের বেঁচে থাকার জন্য অনেক কিছুই লিখতে হয়, প্রফুল্ল রায়কে বলেছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র
পর্ব ৩: পয়লা বৈশাখের খাতায় শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় মজাচ্ছলে লিখেছিলেন, ‘সুধাংশুরা রাজা হোক’
পর্ব ২: বাংলা মাসের সাত তারিখকে বলা হত ‘গ্রন্থতিথি’, বিজ্ঞাপনেও বিখ্যাত ছিল ‘৭-ই’
পর্ব ১: সত্তরের উথাল-পাথাল রাজনৈতিক আবহাওয়ায় আমি প্রকাশনার স্বপ্ন দেখছিলাম
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved