Dey’s Publishing: The Artists Who Shaped Book Covers | Robbar
Robbar
  • ১২ ভাদ্র ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬

বই-চিত্রের বৈচিত্র

প্রকাশনার দ্বিতীয় বছরে আমার সঙ্গে পরিচয় হয় গৌতম রায়ের। গৌতম রায়ের দু’টি পরিচয় আছে⎯ তিনি একাধারে লেখক এবং প্রচ্ছদশিল্পী। তাঁর একটা আশ্চর্য ক্ষমতা ছিল⎯ তিনি নানা রকম ঘরানার মলাট আঁকতে পারতেন। ১৯৭১ সালের বাংলা নববর্ষে প্রকাশিত মনোজ দত্তের ‘আমি মুজিব বলছি’ বইটির প্রচ্ছদ দে’জের জন্য গৌতমদার প্রথম কাজ। তারপর থেকে তিনি একটানা মলাট এঁকে গিয়েছেন আমাদের প্রকাশনার বইয়ের জন্য। সম্ভবত দে’জ পাবলিশিং থেকে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বইয়ের মলাট তিনিই এঁকেছেন।

শেষ আপডেট: আগস্ট ৩০, ২০২৬, ২১:১০   
Facebook WhatsApp Messenger

৮৩.

পূর্ণেন্দুদার কথা বলতে-বলতেই মনে হচ্ছিল দে’জ পাবলিশিং-এর শুরুর বছর থেকে কত শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় আমাদের বইয়ের মলাট আর অলংকরণের কাজ হয়েছে! প্রথম বছরের বইগুলোর মলাট বা ভেতরের ছবির কাজ করে দিয়েছিলেন সেকালের সব নামজাদা শিল্পীরা। আমি কোথাও পড়েছিলাম মলাটই হল বইয়ের ললাট। তাই যে কোনও বইয়ের বিষয়বস্তু যেমন আমার বিবেচনায় থাকত, তেমনই তার সঙ্গে মানানসই মলাট তৈরির কাজও আমি করে গিয়েছি। আমাদের প্রথম বই ‘মহানায়ক লেনিন’-এর মলাট গণেশ বসু করেছিলেন সেকথা আগেও বলেছি। এছাড়া সেবছরের বাকি আটটা বইয়ের প্রচ্ছদশিল্পী ছিলেন রমেন ভট্টাচার্য, অজিত গুপ্ত, খালেদ চৌধুরী এবং পূর্ণেন্দু পত্রী। তখন প্রকাশক হিসেবে আমার শিক্ষানবিশির কাল। স্বপনদা (স্বপন মজুমদার) থেকে শুরু করে বইপাড়ার বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে বিশেষ করে মণ্ডল বুক হাউসের সুনীলদা, দীননাথ বাইন্ডার্সের কালীবাবুরা আমাকে বইয়ের খুঁটিনাটি জিনিস শিখিয়েছিলেন, সেই সঙ্গে আমার দুই দাদা আর বাবা তো ছিলেনই। তবে সেই শুরুর দিনে যখন নিজেদের ছাপাখানাও ছিল না, বাঁধাইয়ের জগতটাও একেবারে নতুন, তখনকার রেওয়াজ অনুযায়ী ব্লক বানিয়ে মলাট ছাপিয়ে আনার কাজটাও আমাকে ধীরে-ধীরে রপ্ত করতে হয়েছিল। এসব কাজে বিভিন্ন মানুষের সাহায্য আমি পেয়েছি, আমার সৌভাগ্য সেইসব মানুষেরা আমাকে চিরকাল ঠিক উপদেশটাই দিয়েছেন। নইলে নবাগত, সদ্য কৈশোর-উত্তীর্ণ একজন প্রকাশকের পক্ষে প্রকাশনায় পাঁচ-পাঁচটা দশক কাটিয়ে দেওয়া অসম্ভব হত।

zoom
পূর্ণেন্দু পত্রীর সঙ্গে সুবীর ভট্টাচার্য

আমাদের প্রকাশনা থেকে যত বই বেরিয়েছে তার মোট প্রচ্ছদশিল্পীর সংখ্যা কত তা আজ আর হিসেব করে বলা মুশকিল। লেখক, সম্পাদক, প্রুফ সংশোধক, প্রচ্ছদশিল্পী, মুদ্রক, প্রকাশক সবাই মিলে প্রকাশনা একটা সমবায়ী শিল্প। প্রত্যেকেই নিজের সেরাটা দিয়েছেন বলেই আমাদের বই জনপ্রিয় হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। 

তবে ১৯৮৩ সাল নাগাদ আমি এমন একজনের সন্ধান পেলাম যিনি ব্লক মেকিং এবং মলাট ছাপার কাজে এতটাই দক্ষ যে আমাকে আর ও বিষয়ে খুব একটা ভাবতে হয়নি। ১৯৮৩ সালের শ্রীপারাবাতের ‘আরাবল্লী থেকে আগ্রা’ বইটি দিয়ে দে’জ পাবলিশিং-এর সঙ্গে বিদ্যুৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (বাবুদা) সম্পর্কের শুরু। সে-সম্পর্ক এখনও অব্যাহত। বাবুদার নিউ ইন্ডিয়ান প্রসেস নামে ব্লক মেকিং ইউনিট ও রাজা প্রিন্টার্সের কথাও আগে বলেছি। যদিও এখন আর ব্লকে ছাপা হয় না। কিন্তু ছাপাখানার যে কোনও টেকনিক্যাল ব্যাপারে তাঁর পরামর্শ একেবারে আক্ষরিক অর্থেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ। বাবুদার কথা এর আগে অনেকবার বলেছি, ফলে আর বিস্তারে যাচ্ছি না। তবে এটুকু বলে রাখি, এখনও প্রায় প্রতিদিন দুপুরে আমাদের দপ্তরে এলে দেখা যায় বাবুদা নিমগ্ন হয়ে কোনও একটা কাজ করছেন। বিশেষ করে বইমেলার সময় যখন প্রচুর বই প্রকাশের চাপ থাকে, সেসময় তিনি ঠান্ডা মাথায় অনেক দায়িত্ব সামলান।

zoom
শ্রীপারাবতের বইয়ের প্রচ্ছদ

আমাদের প্রকাশনার বইয়ের জন্য প্রচ্ছদ আঁকেননি এমন শিল্পীর সংখ্যা খুবই কম। গণেশ পাইন, সুবোধ দাশগুপ্ত থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে প্রচ্ছদ ও অলংকরণের কাজ করেছেন প্রবীর সেন, প্রণবেশ মাইতি, ধীরেন শাসমল, হিরণ মিত্র, বিপুল গুহ, সমীর সরকার, অজয় গুপ্ত, সুধীর মৈত্র, দেবব্রত ঘোষ, কৃষ্ণেন্দু চাকী, সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়, দেবাশীষ দেব কত নাম করব! এত বছর পরে সকলের নাম হয়তো আলাদা করে উল্লেখ করতে পারছি না, সময়ের দিক থেকেও আগে-পরে হয়ে যাচ্ছে।

zoom
শিল্পী ও লেখক গৌতম রায়

প্রকাশনার দ্বিতীয় বছরে আমার সঙ্গে পরিচয় হয় গৌতম রায়ের। গৌতম রায়ের দু’টি পরিচয় আছে তিনি একাধারে লেখক এবং প্রচ্ছদশিল্পী। তাঁর একটা আশ্চর্য ক্ষমতা ছিল তিনি নানা রকম ঘরানার মলাট আঁকতে পারতেন। আমার সঙ্গে যখন তাঁর প্রথম পরিচয় হয়, তখন আমি তাঁর লেখকসত্তার কথা জানতাম না। ১৯৭১ সালের বাংলা নববর্ষে প্রকাশিত মনোজ দত্তের ‘আমি মুজিব বলছি’ বইটির প্রচ্ছদ দে’জের জন্য গৌতমদার প্রথম কাজ। তারপর থেকে তিনি একটানা মলাট এঁকে গিয়েছেন আমাদের প্রকাশনার বইয়ের জন্য। সম্ভবত দে’জ পাবলিশিং থেকে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বইয়ের মলাট তিনিই এঁকেছেন।

zoom
‘পঞ্চশর’ উপন্যাসটি দে’জ থেকে প্রকাশিত গৌতম রায়ের প্রথম বই

আমার সঙ্গে যখন গৌতমদার প্রথম আলাপ তখন তিনি এন্টালি মার্কেটের কাছে থাকতেন, অনেক পরে তিনি একেবারে আমাদের বাড়ির কাছেই চলে আসেন সূর্য সেন স্ট্রিটে। গৌতম রায় আজ সাধারণের কাছে প্রচ্ছদশিল্পী হিসেবে সুপরিচিত হলেও তাঁর প্রথম প্রেম ছিল নাটক। নাটক লেখা, অভিনয় এবং পরিচালনা। ‘শ্রীমতী ভয়ংকরী’ তার প্রমাণ। শিল্প-সাহিত্যের অনেকগুলি শাখায় যাতায়াত তাঁর শিল্পীসত্তাকে সমৃদ্ধ করেছে। নাটক, উপন্যাস ছাড়াও তিনি লিখেছেন নতুন স্বাদের গোয়েন্দা কাহিনি, চর্চা করেছেন গ্রিক আর ভারতীয় পুরাণ।

দে’জ থেকে গৌতমদার অনেকগুলো বইও আমি প্রকাশ করেছি। ১৯৮৬ সালে বাংলা নববর্ষে প্রকাশিত ‘পঞ্চশর’ উপন্যাসটি দে’জ থেকে প্রকাশিত তাঁর প্রথম বই। তারপর ধীরে-ধীরে বেরিয়েছে ‘ব্ল্যাকপ্রিন্স’, ‘পরম প্রেমী’, ‘কাঞ্চন অভিলাষ’, ‘ফুলে গন্ধ নেই’ ইত্যাদি বই। তবে তাঁর সব থেকে বিখ্যাত লেখাটি একটি নাটক ‘শ্রীমতী ভয়ংকরী’। ১৯৯১ সালে আবার এই নাটকটিকে তিনি কাহিনির রূপ দিয়েছিলেন, ‘শ্রীমতী ভয়ংকরী’র সেই কাহিনিরূপ আমিই প্রকাশ করেছিলাম। এই বইয়ের ভূমিকায় গৌতমদা জানিয়েছিলেন 

zoom
‘শ্রীমতী ভয়ংকরী’ বইয়ের প্রচ্ছদ

‘অনেকদিন আগে আমার নাট্য-প্রকাশক বন্ধু শ্রীসজনীকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় আমার উপর একটি গুরুদায়িত্ব চাপান। আজকাল ভালো হাসির নাটক লেখা হচ্ছে না, এই আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, কেউ লিখছেন না… আপনি একটা লিখুন। উত্তরে বলেছিলাম, কী হবে লিখে, নাটক লিখে কিস্‌স্যু হয় না… হয়ত দু একটা দল অভিনয় করবে… ব্যস্…। তিনি বলেছিলেন, ভালো যদি লিখতে পারেন কী হয় না হয় তখন দেখবেন।

ভালো হাসির নাটক লেখা খুবই শক্ত এটা আমি বিশ্বাস করি, তবু চেষ্টা করে একটা নাটক লিখেছিলাম… যার নাম ‘মধুরেণ’। সেই মধুরেণ-ই পরে হয়েছে ‘শ্রীমতী ভয়ংকরী’। সারা ভারতবর্ষে কেবল বাংলায় নয়, অন্য ভাষাতেও অনুবাদিত হয়ে এ নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। পেয়েছে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা। পাবলিক স্টেজেও এ নাটক হাজার বারেরও বেশী অভিনীত হয়েছে। সজনীকান্তর দূরদৃষ্টির সত্যতা প্রমাণিত।…’

গৌতমদা পরে রহস্য-রোমঞ্চধর্মী অনেক লেখা লিখেছেন সেসবও আমি প্রকাশ করেছি। দে’জ থেকে তাঁর ৫ খণ্ডে ‘কিশোর রহস্য অমনিবাস’ প্রকাশিত হয়েছে। আবার ছোটদের জন্যই ‘কিশোর ইলিয়াড ওডিসি’ নামে একটি বইও দে’জ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

zoom
‘ফুলে গন্ধ নেই’ বইয়ের প্রচ্ছদ

গৌতমদা আমাকে বেশ কয়েকটা চিঠি লিখেছেন বিভিন্ন সময়ে। আমি সবচেয়ে পুরনো যে চিঠিটা খুঁজে পাচ্ছি সেটা ১৯৮৮ সালের ২০ মার্চ লেখা। তিনি লিখেছিলেন 

‘প্রিয় সুধাংশু,

আপনি ত্রিপুরা যাবারও বেশ কয়েকদিন আগে শেষ প্রুফ পেয়েছিলাম। তারপর এল আজ। তিন নম্বর। মাত্র তেরো চোদ্দ পাতা। আমি জানি না এই রেটে কাজ এগুলে পয়লা বৈশাখ বই বেরুনো সম্ভব কিনা?

আপনি কী [য.] খোঁজ নেবেন?

শুভেচ্ছা

গৌতম রায়’

zoom
গৌতম রায়ের লেখা চিঠি (১)

সন-তারিখ মিলিয়ে দেখে মনে হচ্ছে গৌতমদা ‘ব্ল্যাকপ্রিন্স’ বইটির কথাই বলছেন। তবে সব সংকট কাটিয়ে সেবার পয়লা বৈশাখেই বইটি প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছিল। আসলে নিজের লেখালিখি আর আঁকাআঁকি নিয়ে তিনি সারাদিনই মগ্ন থাকতেন। আর একজন লেখক-শিল্পীর কাজ ও তার প্রকাশ নিয়ে এই উৎকণ্ঠাও স্বাভাবিক। ১৯৯০-এর ২১ জানুয়ারি তিনি আমাকে যে-চিঠিটি লিখেছিলেন তাতে তাঁর মনের একটা স্পষ্ট ছবি আজও অনুভব করা যাবে। তিনি লিখেছেন

‘প্রিয় সুধাংশু,

বাবুকে একটি ‘প্রায় রোজই’ দেখা করতে বলবেন রোজই একটা করে দেবার চেষ্টা করছিএকটা অনুরোধ, আমাকে প্রুফ না দেখিয়ে কোন design ছাপতে দেবেন না
আমার Copy আসছে না… একটু খোঁজ নেবেন?

গৌতমদা’

zoom
গৌতম রায়ের লেখা চিঠি (২)

এই চিঠির ‘বাবু’ আমার ভাই সুভাষ নয়, তিনি বাবুদা। কেননা ততদিনে তিনিই মলাট বা ছবি ছাপার যাবতীয় দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আর চিঠির বয়ান পড়ে মনে হচ্ছে এই সময়ে তিনি সম্ভবত সূর্য সেন স্ট্রিটের বাড়িতে চলে এসেছেন। আমি এখন মোটামুটি খুঁজে যা পাচ্ছি, তাতে ১৯৯০-এর বইমেলার আগে পরে গৌতমদা আমাদের জন্য অজিত পূততুণ্ডের ‘টেমস থেকে তিস্তা’ (দু’-খণ্ড একত্রে), অরূপরতন ভট্টাচার্যের ‘বুদ্ধিবিচার’, আফসার আমেদের ‘আত্মপরিচয়’, খগেন্দ্রনাথ মিত্রর ‘সুমন্ত’, নিমাই ভট্টাচার্যের ‘লাস্ট কাউন্টার’, পৃথ্বীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের ‘বাঘা যতীন’, বিক্রমাদিত্যর ‘মুকুটহীন রাজা জহরলাল’, মিহিরকিরণ ভট্টাচার্য ও অরুণাভ গুপ্তর ‘ফুটবলের নিয়ম-কানুন’, শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘গোল’, সন্তোষ চট্টোপাধ্যায়ের ‘পালকি থেকে পাতাল রেল’, সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ‘কাগজে রক্তের দাগ’ মোট ১১-টা বইয়ের প্রচ্ছদ করেছিলেন। 

zoom
গৌতম রায়ের করা একাধিক বইয়ের প্রচ্ছদ

বুদ্ধদেব গুহ প্রসঙ্গে লিখতে গিয়ে সুধীর মৈত্রর কথা বলেছিলাম। বুদ্ধদেব গুহ ছাড়াও দিব্যেন্দু পালিত, নারায়ণ সান্যাল, চিত্তরঞ্জন মাইতি প্রমুখের অনেক বইয়ের মলাট সুধীরদার হাতে তৈরি। সুধীরদার আঁকা মলাট এমন প্রাণবন্ত লাগত যে সে-আমলে অনেকেরই দাবি থাকত সুধীর মৈত্রকে দিয়ে মলাট করানোর। আমিও সাধ্যমতো চেষ্টা করতাম। তবে সুধীরদা ক্রমাগত মলাট এঁকে যাওয়ার মতো মানুষ ছিলেন না। তিনি খানিকটা বেছে কাজ করতেই পছন্দ করতেন। মলাটের সূত্রেই তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক অত্যন্ত নিকট হয়। তাঁদের আড়িয়াদহের জয়শ্রী নগরের বাড়িতে বাবুদাই যেতেন। আমি নিশ্চিত না, তবে হয়তো আমিও কখনও গিয়েছি তাঁদের ‘অলংকরণ’ বাড়িতে। সেই ‘অলংকরণ’ বাড়ি থেকেই নিজের প্যাডে ১৯৯০-এর ১৯ ডিসেম্বর সুধীরদা আমাকে একটি চিঠি লেখেন। কেবল আমাকে বললে ভুল হবে। চিঠিটা আমাকে আর বাবুদাকে যৌথভাবে লেখা। তবে বিশেষ প্রয়োজনের কথাটা আমাকে উদ্দেশ্য করেই লেখা

‘প্রিয় সুধাংশু/বাবু,
আশা করি সব ভাল। বুদ্ধদেব গুহর বইএর [য.] কাজ প্রায় শেষ। আশা করছি আগামীকাল শেষ হবে। চিত্তবাবু আজ ফোন করেছিলেন ওঁর বইটাও ধরেছি। আগামীকাল বা পরশু বৃহস্পতিবার সব শেষ হয়ে যাবে। সব কাজ নিয়ে কাল অথবা পরশু অবশ্যই আসছি।

এবার অন্য কাজের কথা। আগামী শুক্রবার আমরা সপরিবারে দীঘা যাচ্ছি। তোমাদের ‘হোটেলের’ দুটো ডবল বেড একান্ত দরকার। না হলে চলবে না। সব কাজ বন্ধ হয়ে যাবে।

ফোনে অজস্র চেষ্টা করে বিফল হয়েই ছেলেকে পাঠালাম। আশা করছি নিরাশ হব না। জানি এখন খুব ভীড়। তবুও তোমাদের আশাতেই রইলাম।

প্রীতি ও শুভেচ্ছা সহ

সুধীর মৈত্র’

zoom
সুধীর মৈত্রের লেখা মূল চিঠি

হোটেলের ব্যবস্থা নিশ্চয়ই করতে পেরেছিলাম। আর এই চিঠিতে বুদ্ধদেবদার যে বইয়ের কথা বলা হয়েছে সেটা হয় ‘বাজা তোরা, রাজা যায়’ কিংবা ‘সাজঘরে, একা’। কারণ এই দুটো বই-ই প্রকাশিত হয়েছে ১৯৯১-এর পয়লা জানুয়ারি। আর চিত্তরঞ্জন মাইতির বইটা অবশ্যই ‘দাহা তিসি গোংগা’। সুভদ্র, মার্জিত, জ্ঞানী মানুষ চিত্তরঞ্জন মাইতি সুরেন্দ্রনাথ কলেজে বাংলার অধ্যাপক ছিলেন। আমি তাঁর অনেকগুলি বই ছেপেছি। তিনি আবার আমার জেলার মানুষ ছিলেন। তাঁদের বাড়ি ছিল তদানীন্তন মেদিনীপুর (এখন পূর্ব মেদিনীপুর) জেলার কাঁথিতে। ধুতি-পাঞ্জাবিতে সুসজ্জিত, সৌম্যদর্শন চিত্তরঞ্জন মাইতি মাঝেমাঝে আমাদের দোকানেও আসতেন। আমি তাঁর আত্মজৈবনিক উপন্যাস ‘পাতার ভেলা ভাসাই’-ও প্রকাশ করেছি। তবে তাঁর লেখার দু’টি সংকলন বেশ পাঠকপ্রিয় হয়েছিল সেই দু’-খণ্ড বই হল ‘বীর্যবতী বীরভোগ্যা’। আমার যতদূর মনে পড়ছে এই সংকলনের প্রথম খণ্ডের ভূমিকা লিখেছিলেন অধ্যাপক অরুণ মুখোপাধ্যায়।

এই প্রজন্মের শিল্পীদের মধ্যে অলংকরণ ও প্রচ্ছদের ব্যাপারে দে’জ পাবলিশিং-এর অনেক বইয়ের মলাট করেন দেবব্রত ঘোষ। তাঁর সঙ্গেও আমাদের প্রকাশনার সম্পর্ক প্রায় পাঁচ দশকের। যদি খুব ভুল না করি তাহলে দে’জ থেকে দেবব্রত ঘোষের প্রথম প্রচ্ছদ হল মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুবাদে জুল ভের্নের ‘ট্রিবুলেশন অভ এ চাইনিজ জেন্টলম্যান’ বইটির। তারপর থেকে তিনিও বহু বইয়ের জন্য মলাট করে দিয়েছেন। তার মধ্যে সুভাষদা (সুভাষ মুখোপাধ্যায়), শঙ্খদার (শঙ্খ ঘোষ) বই যেমন আছে, তেমনই বাংলা ভাষার অনেকগুলি চিরায়ত সাহিত্যের বইও আছে। দেবব্রতও শুধু মলাট নয়, মলাটের সঙ্গে-সঙ্গে অলংকরণের কাজেও খুবই দক্ষ শিল্পী।

zoom
প্রচ্ছদ: রঞ্জন দত্ত

দে’জের বইয়ের জন্য ইদানীং সবচেয়ে বেশি মলাট তৈরি করেন রঞ্জন দত্ত। এই সুযোগে আপনাদের জানিয়ে দিই, আমাদের বাড়িতেও ইদানীং একজন মলাট-শিল্পী তৈরি হয়ে উঠছে। অপু আজকাল নাম ব্যবহার না করে বেশ কিছু বইয়ের মলাট করে। আসলে আমার মতো অপুও বইয়ের মলাটের ব্যাপারে মনোযোগী। আমার তো মনে আছে সুধাংশুশেখর মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রচনাসমগ্র’র প্রথম খণ্ড ছাপা হয়ে যাওয়ার পরেও সম্ভবত মাসতিনেক ও অপেক্ষা করেছিল কীভাবে বইয়ের মলাট তৈরি করবে সেটা ভাবতে।

মলাট-শিল্পীদের মতোই প্রুফরিডার আর সম্পাদকেরা যে কোনও প্রকাশনার প্রধান স্তম্ভ। আমি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমন মানুষদের সঙ্গে কাজ করছি যাঁরা সম্পাদনার পাশাপাশি বইয়ের প্রুফও দেখে দিয়েছেন। সকলে যে বইয়ে নিজের নাম দিতে চেয়েছেন এমনটাও নয়। কিন্তু আমার ধারণা একজন প্রকৃত সম্পাদক কোনওদিনই নিজের সম্পাদিত বইয়ের প্রুফ অন্তত একবার নিজে না দেখে বই ছাড়বেন না। অন্তত আমি যাঁদের সম্পাদক হিসেবে শ্রদ্ধা করি, তাঁরা কোনওদিন সম্পাদিত বইটির প্রুফ না দেখে ছাপতে পাঠাবার কথা ভাবতেও পারেন না।

zoom
সুবিমল লাহিড়ী ও ‘বঙ্কিমযুগ’ বইয়ের প্রচ্ছদ

এখন যেমন মনে পড়ছে সুবিমল লাহিড়ীর কথা। সদাপ্রসন্ন, রবীন্দ্রনাথে নিবেদিত এই মানুষটিকে দেখলে মনে হত জীবন কতদূর মলিনতাহীন হতে পারে। ধুতি আর প্রায়ই হালকা গেরুয়া রঙের পাঞ্জাবি পরা সুবিমলদার কাঁধের শান্তিনিকেতনী ঝোলাটা ফুলে থাকত নানা রকম বই আর প্রুফের বান্ডিলে। আর পাঞ্জাবির পকেটে থাকত অনেকগুলো কলম। সবুজ কালিতে সংশোধন করতেন। তাঁর হাতে বই যাওয়া মানে প্রুফ, উদ্ধৃতি মেলানো, ইনডেক্স কোনও বিষয় নিয়েই আর চিন্তা করতে হত না। গ্রন্থনির্মাণে সুবিমলদার দীক্ষা পুলিনবিহারী সেনের কাছে। তিনি চাকরি করেছেন বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগে আর সেখান থেকে অবসরের পর অনেক দিন আনন্দ পাবলিশার্সে। সুবিমলদারও একটা চিঠি হাতের কাছ পেয়ে গেলাম। পূর্ণেন্দুদার ‘বঙ্কিমযুগ’ বইটি আমি তাঁর হাতেই দিয়েছিলাম। সুবিমলদার চিঠিটি এই বইটি প্রসঙ্গেই। ১৯৯৬-এর ১১ এপ্রিল তিনি আমাকে লিখেছিলেন

‘সবিনয় নিবেদন

বিষয়: বঙ্কিমযুগ

সেদিন টেলিফোনে আপনাকে আশা দিয়েছিলাম, পয়লা বৈশাখ ১৪০৩-এই বইটির প্রকাশ হতে পারবে। কিন্তু নানান পারিবারিক ঝামেলা আর নিজের শারীরিক কারণেই অনেক চেষ্টা করেও কাজটা শেষ করতে পারলাম না সেজন্য খুবই লজ্জিত।
যতটা কাজ বাকি আছে, তা শেষ করে বইটির প্রকাশ আশা করি কবিপক্ষের মধ্যেই সম্ভব হবে।
বিষয়টি আপনাকে জানানো আমার কর্তব্য বলেই এই পত্র।

নমস্কারান্তে
সুবিমল লাহিড়ী’

zoom
সুবিমল লাহিড়ীর লেখা মূল চিঠি

তবে কবিপক্ষের মধ্যে বইটি প্রকাশ করা যায়নি। সুবিমলদা কাজ শেষ করতেও আরেকটু সময় নিয়েছিলেন আর আমাদেরও গোটা বইটা তৈরি করতে খানিকটা সময় লেগেছিল। সব মিলে সে বছরের ডিসেম্বরে ‘বঙ্কিমযুগ’ প্রকাশিত হয়েছিল। 

‘ইতি কলেজ স্ট্রিট’-এর বিভিন্ন পর্বে আমি সুবীর ভট্টাচার্যের উল্লেখ করেছি কিন্তু তাঁর সম্পর্কে বিশদে লেখা হয়ে ওঠেনি। সুবীরদার সঙ্গে আমার পরিচয় ১৯৮০ সাল থেকে। তখন ‘একব্যাগ শংকর’-এ নতুন সংস্করণের কাজ চলছিল। সুবীরদা সেই সময় প্রুফটা দেখে দিয়েছিলেন। সুবীরদা ছিলেন প্রখ্যাত গবেষক ও বিজ্ঞান-বিষয়ক বইয়ের লেখক গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্যের নাতি। আমি সুবীরদার উদ্যোগেই গোপালচন্দ্রের অনেক বই দে’জ থেকে করেছি। গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্যের ‘বাংলার কীট-পতঙ্গ’, ‘বিজ্ঞান অমনিবাস’, ‘জ্ঞানবিজ্ঞানের নানা খবর’, ‘বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান সংবাদ’, ‘বাংলার মাকড়সা’, ‘জীবন নিয়ে যে বিজ্ঞান’, ‘প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ’, ‘মানবকল্যাণে পারমানবিক শক্তি’, ‘ছোটদের সেরা বিজ্ঞান রচনা সংকলন’, ‘আমার দেখা পোকা-মাকড়’ আমাদের প্রকাশনার খুবই উল্লেখযোগ্য বই।

zoom
গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্যের বইসমূহ

বামপন্থী ভাবাদর্শে বিশ্বাসী সুবীরদা চাকরি করতেন ‘ইএসআই’-তে। তাঁর অফিস ছিল গণেশ অ্যাভেনিউতে। বউদি শ্রীলেখা ভট্টাচার্যও ‘ইএসআই’-তেই চাকরি করেছেন। তবে সুবীরদা চাকরিজীবনের মেয়াদ সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই অবসর নিয়ে নেন। তাঁর ধ্যান-জ্ঞান ছিল বই। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের আগে তিনি আশা প্রকাশনী থেকে বেশ কিছু অসাধারণ বই করেছিলেন। আশা প্রকাশনী ১৯৭৪-এর শেষের দিকে তৈরি হয়। সেখানে সম্পাদনা এবং কোন বই ছাপা উচিত সেটা দেখতেন সুবীরদা, আর মলাট আঁকতেন তাঁর বন্ধু অজয়দা (অজয় গুপ্ত)। এই দু’জনের যুগলবন্দিতে আশা প্রকাশনী অচিরেই সবার নজর কেড়ে নেয়।

zoom
প্রখ্যাত শিল্পী অজয় গুপ্ত

গোপালচন্দ্রের ‘বাংলার কীট-পতঙ্গ’ ওখান থেকেই প্রকাশিত হয়ে ১৯৭৫ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার পেয়েছিল। এছাড়া নবনীতা দেবসেনের ‘ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী’, শিশিরকুমার দাশের ‘কাব্যতত্ত্ব: অ্যারিস্টটল’, তারাপদ রায়ের ‘আবার ডোডো তাতাই’, অরুণ সেনের সম্পাদনায় ‘এই মৈত্রী এই মনান্তর/ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ও বিষ্ণু দে: বন্ধুত্বের ইতিহাস’, সুবিমল রায়ের ‘প্রেতসিদ্ধের কাহিনী ও অন্যান্য রচনা’, বিষ্ণু দে-র ‘যামিনী রায়: তাঁর শিল্পচিন্তা ও শিল্পকর্ম বিষয়ে কয়েকটি দিক’, সমর সেনের ‘বাবুবৃত্তান্ত’-র মতো উল্লেখযোগ্য বইও প্রকাশিত হয়েছিল। আশা প্রকাশনীর কর্ণধার ছিলেন শংকর ভট্টাচার্য। আর প্রকাশক হিসেবে নাম থাকত তাঁর স্ত্রী, দমদম মতিঝিল কলেজের এক সময়ের ইতিহাসের অধ্যাপিকা শীলা ভট্টাচার্যের নাম। আশা প্রকাশনীর ঠিকানা ছিল ৭৪ নম্বর মহাত্মা গান্ধী রোড। তবে এই প্রকাশন সংস্থা বেশিদিন চলেনি। তাঁদের বেশ কিছু বই পরে আমাদের ঘরে আসে, সৌজন্যে অবশ্যই সুবীরদা।

zoom
অমিয় চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সুবীর ভট্টাচার্য

সুবীরদা দে’জ পাবলিশিং-এ এসে আমার একটা স্বপ্ন সার্থক করেছিলেন। আমি ততদিনে বিভিন্ন সংকলন, সংগ্রহ জাতীয় বই প্রকাশ করলেও আদ্যন্ত রচনাবলির কাজ সুবীরদা আসার আগে করিনি। তিনি এসে উদ্যোগ নিলেন ‘ধূর্জটিপ্রসাদ রচনাবলী’ প্রকাশ করার। এটিই দে’জ পাবলিশিং-এর প্রথম রচনাবলির কাজ। ১৯৮৫ সালের বইমেলায় ‘ধূর্জটিপ্রসাদ রচনাবলী’র প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয়। তিন খণ্ডে প্রকাশিত এই রচনাবলির যাবতীয় কৃতিত্ব সুবীরদারই প্রাপ্য।

একসময় আমাদের বাড়ির দোতলার একটা ঘরে বসে তিনি নিয়মিত কাজকর্ম করতেন। সেই সূত্রে আমার স্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক ভাইবোনের মতো হয়ে যায়। নানা চিঠিতে সেসব কথা ধরা আছে। ১৯৮৫ সালের ২৮ জুন তাঁর একটি চিঠি পাচ্ছি ৪১ নম্বর হরিশ নিয়োগী রোড থেকে লেখা। সম্ভবত সে-বছরই তাঁরা উল্টোডাঙার বাড়ি ছেড়ে দক্ষিণে বজবজের দিকে সন্তোষপুর স্টেশনের কাছে নতুন বাড়িতে চলে যান। এই চিঠিতে সুবীরদা লিখছেন

‘প্রিয় সুধাংশুবাবু,

গত ১৬ জুন আপনার দপ্তরে গিয়েছিলাম। শুনলাম আমার দু’খানা চিঠির জবাবে আপনারাও দু’খানা চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু একটিও আমি পাইনি। হরিবাবুর সঙ্গে কথাবার্তা হয়েছে। ২০ জুন আমাকে তিনি আপনার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। কিন্তু ১৮ তারিখ কলকাতার বাইরে যেতে হয় এবং ২৪ জুন ফিরি। আবার ৩০শে জুন যেতে হবে ৬ জুলাই ফিরবো। ৮ জুলাই শুক্রবার থেকে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮/৯টা পর্যন্ত নিয়মিতভাবে সপ্তাহে চারদিন আপাতত যাবো। ধূর্জটিপ্রসাদের কাজ করে দেব। অন্য কোনো কাজ দিলেও সানন্দে করবো।…’

zoom
ধূর্জটিপ্রসাদ রচনাবলীর প্রচ্ছদ

এই চিঠি যখন তিনি লিখেছেন ততদিনে ‘ধূর্জটিপ্রসাদ রচনাবলী’র প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে এবং পাঠকমহলে যথেষ্ট সুনাম পেয়েছে। ‘ধূর্জটিপ্রসাদ রচনাবলী’র প্রথম খণ্ডের নিবেদনে বিমলাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় লিখেছিলেন

‘শ্রদ্ধেয় প্রমথ চৌধুরীর এক ব্যারিস্টার বন্ধু তাঁকে না কি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘বই তো ছাপাচ্ছেন কিন্তু পড়ে কে?’ চৌধুরীমশাই জবাব দিয়েছিলেন, ‘দফতরি’। একটু অপ্রস্তুত হয়ে বন্ধু বললেন, ‘তা কাটে?’ স্বভাবসিদ্ধ সংক্ষিপ্ত উত্তর এল, ‘হুঁ, পোকায়’। ‘সবুজপত্র’ গোষ্ঠীর অন্যতম লেখক এবং চৌধুরী মশাই-এর শিষ্য ধূর্জটিপ্রসাদের অতটা দুর্ভাগ্য না হলেও তাঁর লেখা বইগুলি অনেকদিনই দুষ্প্রাপ্য হয়ে আছে। তাঁর জীবিতকালে কেবল ‘অন্তঃশীলা’ উপন্যাসের আর সংলাপের আকারে ‘আমরা ও তাঁহারা’ প্রবন্ধগুচ্ছের একটি করে নতুন সংস্করণ বেরিয়েছিল। কিন্তু ‘আবর্ত’ ও ‘মোহানা’, বাকি দুই খণ্ড উপন্যাসের ও একমাত্র গল্পসংকলন ‘রিয়ালিস্ট’-এর এবং তাঁর অন্যান্য প্রবন্ধের বইগুলির আর পুনর্মুদ্রণ হয়নি। তার কারণ, বইগুলির কপি সুলভ না এবং প্রকাশক মহলেও উৎসাহের অভাব ছিল। কিন্তু আগ্রহী পাঠকসমাজ চেয়েছিলেন এবং অনুরোধও জানিয়েছিলেন যে ধূর্জটিপ্রসাদের অন্তত উপন্যাসত্রয়ী একত্রভাবে প্রকাশ করা উচিত অযথা বিলম্ব না করে। আর তাঁর সংগীত-বিষয়ক গ্রন্থ ও প্রবন্ধগুলি তো বহুকাল পুনর্মুদ্রণের অভাবে দুর্লভ হয়ে আছে। শুধু তাঁর ‘কথা ও সুর’ বইটি প্রায় ৪৫ বছর পরে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় আবার ছেপে বার করেছেন।

সাধারণ বুদ্ধিমান পাঠক যাঁরা ধূর্জটিপ্রসাদের সাহিত্যিক কৃতিত্বের কথাই শুনেছেন অর্থাৎ বাংলা উপন্যাসে তাঁর এক দিকনির্দেশক মৌলিক অবদানের কথা শুনেছেন, তাঁদের চাহিদাই ছিল বেশি। … কিন্তু এতকাল সে প্রত্যাশা ও চাহিদা পূরণের কোনও ব্যবস্থা করা যায় নি। সম্প্রতি গত পাঁচ-সাত বছরে ধূর্জটিপ্রসাদের সাহিত্যকর্মের মূল্যায়ন দেখা যাচ্ছে এবং তাঁর বহুমুখী প্রতিভার যে পুনর্বিবেচনা শুরু হয়েছে, সেটি আশা ও আনন্দের বিষয়।

বর্তমানে দে’জ পাবলিশিং-এর স্বত্বাধিকারী শ্রীসুধাংশুশেখর দে ধূর্জটিপ্রসাদের রচনাসম্ভার প্রকাশের ব্যাপারে উৎসাহী হয়ে যে এগিয়ে এসেছেন, এটা স্বস্তি ও সুখের কথা। তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।… এই সূত্রে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী শ্রীঅশোক মিত্রের সুপরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। আর এই শ্রমসাধ্য সংকলন ও সম্পাদনার কাজে স্নেহভাজন শ্রী সুবীর ভট্টাচার্য যেভাবে স্বেচ্ছায় এই সাহিত্যিক দায়িত্ব পালন করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁর তথ্যনিষ্ঠা পরিশিষ্ট রচনাতেই প্রমাণিত।’

zoom
ধূর্জটিপ্রসাদ রচনাবলির বিভিন্ন খণ্ড

‘ধূর্জটিপ্রসাদ রচনাবলী’র পরের দু’টি খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৯৮৭ সালে। এবং দ্বিতীয় খণ্ডের মাস তিনেক আগেই তৃতীয় খণ্ডটি প্রকাশিত হয়। এটাও বোধহয় বাংলা প্রকাশনায় একটি অভূতপূর্ব ব্যাপার। তৃতীয় খণ্ডের ‘নিবেদন’-এ বলা বিমলাপ্রসাদ জানিয়েছিলেন ‘ধূর্জটিপ্রসাদের রচনাবলীর প্রথম খণ্ড প্রকাশের সময়ে নিবেদনে বলেছিলাম আর দুটি খণ্ড যথাসম্ভব শীঘ্র বেরুবে এবং ধূর্জটিপ্রসাদের সমগ্র রচনা একত্র গ্রন্থিত হয়ে সম্পূর্ণতা লাভ করবে। কিন্তু অনিবার্য কারণে বাকি দুটি খণ্ড প্রকাশিত হতে বেশ কিছু দেরি হয়ে গেল। তার কারণ, প্রথম খণ্ডে তিনখানা উপন্যাস ও গল্পগুচ্ছ নির্দিষ্ট থাকার ফলে তার বিষয়বস্তু, আয়তন এবং প্রাসঙ্গিক তথ্যসংগ্রহ শ্রমসাপেক্ষ হলেও তেমন কঠিন হয়নি। কিন্তু দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ডের প্রকাশকালে দেখা গেল, পরিস্থিতি ভিন্ন ও জটিলতর হয়ে পড়েছে। কারণ, ধূর্জটিপ্রসাদের প্রবন্ধাবলী শুধু বহুচারী নয়, তাঁর মননধর্মী রচনাগুলি কেবল বহুমুখী নয় তারা নানা জায়গায়, পত্র-পত্রিকায় এত বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে আছে যে সেগুলিকে উদ্ধার করে একত্র সন্নিবিষ্ট করা সত্যিই পরিশ্রম ও অধ্যবসায় এবং সুচিন্তিত পরিকল্পনার কাজ। তাই দ্বিতীয় খণ্ডে ধূর্জটিপ্রসাদের যাবতীয় প্রবন্ধ নিবন্ধ খুঁজে বার করা, তারপর তাদের বিষয় ও প্রকৃতি অনুযায়ী শ্রেণীবদ্ধভাবে গ্রথিত করা এক ধৈর্য ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই দ্বিতীয় খণ্ডের আগেই তৃতীয় খণ্ডটি প্রকাশ করা হল। তার প্রধান কারণ, দ্বিতীয় খণ্ডে অগ্রন্থিত প্রবন্ধের সংখ্যা অনেক বেশি। যেগুলি নানা জায়গা থেকে সংগ্রহ করতে হচ্ছে। সে তুলনায় এই তৃতীয় খণ্ডের কাজ অর্থাৎ রচনাগুলির প্রকৃতি ও পরিধি অনুসারে সাজিয়ে বার করা অনেকটা সহজ হয়েছে।’

zoom
শঙ্খ ঘোষের সঙ্গে সুবীর ভট্টাচার্য

প্রসঙ্গত বলে রাখি ‘ধূর্জটিপ্রসাদ রচনাবলী’র তিনটি খণ্ডের যাবতীয় কাজ পুরনো পত্রিকার পাতা ঢুঁড়ে লেখা আনা থেকে শুরু করে প্রেসকপি তৈরি করা, বিস্তৃত রচনা-পরিচয়, প্রুফ দেখা সব কাজ করলেও সুবীরদা বইয়ের কোথাও সম্পাদক হিসেবে নিজের নাম দেননি। এটা নিজেকে নিয়ে কুণ্ঠা নয়, বরং আত্মবিশ্বাসী সৌজন্য বলেই আমার মনে হয়। তিনি আগাগোড়া নিজেকে এই ‘ধূর্জটিপ্রসাদ রচনাবলী’র সংকলক বলে গেছেন। সংকলন ও সম্পাদনার অর্থ তাঁর কাছে স্পষ্ট ছিল এবং প্রথম খণ্ডের শেষে ‘সংকলকের নিবেদন’ অংশেও তিনি কোথাও ‘আমি’ না লিখে ‘আমরা’ লিখেছেন। এই সৌজন্য এবং কাজের প্রতি মমত্ব বাংলা প্রকাশনায় উদাহরণ হয়ে থাকবে বলেই আমার বিশ্বাস।

লিখন: শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায়

…… ইতি কলেজ স্ট্রিট-এর অন্যান্য পর্ব ……

পর্ব ৮২। পূর্ণ ইন্দু পরকাশে

পর্ব ৮১। পাঠকদের উন্মাদ দাবি: চাই কথোপকথনের নতুন খণ্ড!

পর্ব ৮০। কলকাতা: পূর্ণেন্দু সংস্করণ

পর্ব ৭৯। নানা রঙের নবনীতা

পর্ব ৭৮। প্রথম বইয়ের প্রচ্ছদ নিজেই এঁকেছিলেন নবনীতা দেবসেন

পর্ব ৭৭। অপরাজিতা দেবীকে ছদ্মনামে পুরুষ কবি ভেবেছিলেন পাঠক

পর্ব ৭৬। বিদেশেও সমাদৃত হয়েছিল স্বর্ণকুমারী দেবীর উপন্যাস

পর্ব ৭৫। নারীকলম: দিনগুলি রাতগুলি

পর্ব ৭৪। বই-মানবী

পর্ব ৭৩। প্রেসের কাজে গাফিলতি দেখলে কড়া চিঠি লিখতেন সুবীরদা

পর্ব ৭২। করোগেটেড কাগজের অভাবে আটকে ছিল সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কাব্যসংগ্রহ

পর্ব ৭১। অমিয় চক্রবর্তীর ‘কবিতাসংগ্রহ’ ছিল নরেশ গুহ-র গুরুদক্ষিণা

পর্ব ৭০। এক মুখে কবিতা, অন্য মুখে মিছিলের স্লোগান

পর্ব ৬৯। সুভাষিত অনুবাদ

পর্ব ৬৮। শঙ্খদাই চেয়েছিলেন, সুভাষদার কবিতাসংগ্রহ সুবীর রায়চৌধুরী সম্পাদনা করুন

পর্ব ৬৭। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা দিয়েই শুরু হয়েছিল দে’জের ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ সিরিজ

পর্ব ৬৬। প্রেমেনদার উৎসর্গ করা বই বেচে দিয়েছিলেন বন্ধু ‘শিব্রাম’!

পর্ব ৬৫। প্যাঁচানো লোহার সিঁড়ি দিয়ে উঠলেই প্রেমেন্দ্র মিত্রর অবারিত দ্বার!

পর্ব ৬৪। মুজিব হত্যার পর অন্নদাশঙ্করের শোকলিপি ছাপা হয়নি সরকারি নিষেধাজ্ঞায়

পর্ব ৬৩। ভাবনার ভাস্কর্যের দিনগুলি রাতগুলি

পর্ব ৬২। কাদের লিটল ম্যাগাজিন বলা যাবে না, তার তালিকা তৈরি করেছিলেন শিবনারায়ণ রায়

পর্ব ৬১। গৌরদা বিশ্বাস করতেন, কলমের স্বাধীনতা হরণ মাতৃবিয়োগের চেয়ে কম কিছু নয়

পর্ব ৬০। সমরেশ বসু যখন ‘বিশ্বাসঘাতক’!

পর্ব ৫৯। সারাজীবন নিজেকে জানার জন্যেই লিখে গিয়েছেন সমরেশ বসু

পর্ব ৫৮। নবারুণ চেয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ কবিতার সিরিজে তিনিও থাকুন, কিন্তু হল না

পর্ব ৫৭। সত্যজিৎ-মৃণাল-ঋত্বিক ত্রয়ীর মধ্যে ঋত্বিকের লেখাই আমরা প্রথম ছেপেছিলাম

পর্ব ৫৬। অজয় গুপ্তর নিরন্তর শ্রম আর খুঁতখুঁতে সম্পাদনা ছাড়া মহাশ্বেতা দেবীর রচনাসমগ্র হত না

পর্ব ৫৫। দলকল্যাণের জন্য রাজনীতি সমাজকে নরকে পরিণত করবে, বিশ্বাস করতেন মহাশ্বেতা দেবী

পর্ব ৫৪। যা লিখেছেন, না লিখে পারেননি বলেই লিখেছেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

পর্ব ৫৩। ‘অলীক মানুষ’ তাঁকে দিয়ে কেউ লিখিয়ে নিয়েছে, মনে করতেন সিরাজদা

পর্ব ৫২। নিজের লেখা শহরের গল্পকে লেখা বলে মনে করতেন না সিরাজদা

পর্ব ৫১। কর্নেল পড়ে সিরাজদাকে চিঠি লিখেছিলেন অভিভূত সত্যজিৎ রায়

পর্ব ৫০। সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা থেকে বাঁচতে দিব্যেন্দুদার জীবনের দ্বিতীয় গল্পই বদলাতে হয়েছিল

পর্ব ৪৯। রবিশংকর বলের মতো উর্দু সাহিত্যের এত নিবিষ্ট পাঠক খুব কমই দেখেছি

পর্ব ৪৮। দেবেশ রায়ের যেমন ‘বৃত্তান্ত’, আফসার আমেদের তেমন ‘কিস্‌সা’

পর্ব ৪৭। বই বাঁধানো সম্পূর্ণ হয়নি, তাই ‘মহাভুল’ শুধরে নিয়েছিলেন দেবেশ রায়

পর্ব ৪৬। গান্ধীনগরে রাত্রির কবিই প্রথম বিদ্রুপাত্মক তেতো হাসি এনেছিলেন বাংলা কবিতায়

পর্ব ৪৫। নাটকের মহলা পছন্দ হলে তবেই তিস্তাপারের বৃত্তান্তর অনুমতি দেবেন, বলেছিলেন দেবেশ রায় 

পর্ব ৪৪। নিজের বইপত্র বিক্রির বিবরণ দেখে হতাশ হয়েছিলেন দেবেশ রায়

পর্ব ৪৩। থ্রিলার, রহস্য-রোমাঞ্চ কিংবা ক্রাইম স্টোরি অনেক দিন ধরেই বইপাড়ায় ‘সুপারহিট’

পর্ব ৪২। অলংকরণ বা প্রচ্ছদশিল্পীদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা নেই, সখেদে চিঠি লিখেছিলেন নারায়ণ সান্যাল

পর্ব ৪১। রাস্কেল, পাষণ্ড পণ্ডিত, প্রবঞ্চক, বিশ্বাসঘাতক– নারায়ণ সান্যালের বইয়ের নাম নিয়ে প্রবল আপত্তি ছিল আমার!

পর্ব ৪০। সিগারেট ঠোঁটে রথীন্দ্রনাথের ছবি প্রচ্ছদে যাওয়া নিয়ে উঠেছিল প্রবল আপত্তি!

পর্ব ৩৯। শান্তিনিকেতন থেকে কলেজ স্ট্রিট, প্রুফ আদান-প্রদানে সহায়ক ছিলেন বই ব্যবসায়ীরাই

পর্ব ৩৮। পাণ্ডুলিপি জমা দিয়ে সোমেনদা বলেছিলেন, রামকিঙ্করকে নিয়ে এ জাতীয় বই আগে লেখা হয়নি

পর্ব ৩৭। ‘কীর্তির্যস্য’র নাম বদলাতে চেয়েছিলেন ভবতোষ দত্ত

পর্ব ৩৬। কবি-দার্শনিকের বাইরে আরেক রবীন্দ্রনাথকে খুঁড়ে বের করেছিলেন অমিতাভ চৌধুরী

পর্ব ৩৫। ‘শাহজাদা দারাশুকো’ আরও বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে ছিল শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের

পর্ব ৩৪। একজন লেখক হিসেবে আমি কি তোমার মনোযোগের যোগ্য নই, অভিমান ভরা চিঠি লিখেছিলেন শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

পর্ব ৩৩। আমাকে ভাবায়, তারাপদ রায়

পর্ব ৩২। নববর্ষের শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ: লেখকদের মন্তব্যের খাতা!

পর্ব ৩১। পরিব্রাজক সন্ন্যাসী তারাপ্রণব ব্রহ্মচারী ভাগ্যিস থিতু হয়েছিলেন সাহিত্যে!

পর্ব ৩০। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কোনও বই আমাকে চাপিয়ে দেননি, লিখেছেন: বিবেচনা করে দেখো

পর্ব ২৯। কবিতাকে শক্তিদা বলতেন ‘জলজ দর্পণ’, তাঁর বেঁচে থাকার অবলম্বন

পর্ব ২৮। পিঁপড়ে কালিতে চুবিয়ে সাদা পাতায় ছাড়া হয়েছে, এমন পাণ্ডুলিপি ছিল বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের!

পর্ব ২৭। নিজস্ব ঈশ্বরভাবনা থাকলেও শঙ্কু মহারাজের লেখার মূল বিষয় ছিল মানুষের আলো-আঁধারি জীবন

পর্ব ২৬। বাংলাদেশে পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও একুশে বইমেলায় কখনও স্টল পাইনি

পর্ব ২৫। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি মুহূর্তের রক্ত-ঘাম-হাসি-কান্নার এক জীবন্ত দলিলচিত্র ছেপেছিলাম

পর্ব ২৪। রাখাল ছেলে যেমন বাঁশি বাজায়, আমিও তেমন নিজের খুশিতে লিখি, বলেছিলেন যাযাবর

পর্ব ২৩। রয়্যালটি-মুক্ত বইয়ের ওপর প্রকাশকদের ঝোঁক চোখে পড়ছে বইমেলাতেও

পর্ব ২২: শেষমেশ রেগে গিয়ে আমাকে চিঠিই লিখে ফেলেছিলেন শঙ্খ ঘোষ!

পর্ব ২১: ৩০০০ কপি বিক্রির মতো জীবিত বা মৃত লেখক আর হয়তো নেই

পর্ব ২০: কম বয়সে আমাদের রোববারের আড্ডা ছিল ২৮ নম্বর প্রতাপাদিত্য রোড, আশুদার বাড়িতে

পর্ব ১৯: ‘লেখা বড় হচ্ছে’ অভিযোগ আসায় খুদে হাতের লেখায় পাণ্ডুলিপি দিতেন প্রবোধবন্ধু অধিকারী

পর্ব ১৮: দু’বছরের মধ্যে সংস্করণ না ফুরলে অন্য জায়গায় বই ছাপার চুক্তি ছিল শরদিন্দুর চিঠিতে

পর্ব ১৭: পূর্ণেন্দু পত্রীর বাদ পড়া প্রচ্ছদ ও দিনেশ দাসের কবিতার শ্রেষ্ঠ দিনগুলি

পর্ব ১৬: সব প্রকাশনার যাবতীয় বইয়ের হদিশ পাওয়া যেত ‘সম্মিলিত গ্রন্থপঞ্জী’তে

পর্ব ১৫: নিছকই একটা পত্রিকা নয়, ‘কলেজ স্ট্রীট’ আমাদের আবেগ

পর্ব ১৪: খুদে পাঠকদের জন্য মিনিবই তৈরির কথা প্রথম ভেবেছিলেন অভয়দা

পর্ব ১৩: কয়েকটি প্রেসের গল্প

পর্ব ১২: দীর্ঘায়ু বই ও আইয়ুব পরিবার

পর্ব ১১: প্রেমের নয়, অপ্রেমের গল্প সংকলনের সম্পাদনা করেছিলেন সুনীল জানা

পর্ব ১০: ছোট্ট অপুকে দেখেই রঙিন ছবিতে ভরা টানটান গল্পের বই করার ইচ্ছে জেগেছিল

পর্ব ৯: চানঘরে গান-এ সত্যজিৎ রায়ের চিঠি থাকায় ব্যাপারটা গড়িয়েছিল কোর্ট কেস পর্যন্ত

পর্ব ৮: প্রকাশক-লেখকের কেজো সম্পর্কে বুদ্ধদেব গুহর বিশ্বাস ছিল না

পর্ব ৭: পুজো সংখ্যায় না-বেরনো উপন্যাস বই আকারে সুপারহিট

পর্ব ৬: মানবদার বিপুল অনুবাদের কাজ দেখেই শিশির দাশ তাঁর নাম দিয়েছিলেন– ‘অনুবাদেন্দ্র’

পর্ব ৫: সাতবার প্রুফ দেখার পর বুদ্ধদেব বসু রাজি হয়েছিলেন বই ছাপানোয়!

পর্ব ৪: লেখকদের বেঁচে থাকার জন্য অনেক কিছুই লিখতে হয়, প্রফুল্ল রায়কে বলেছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র

পর্ব ৩: পয়লা বৈশাখের খাতায় শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় মজাচ্ছলে লিখেছিলেন, ‘সুধাংশুরা রাজা হোক’

পর্ব ২: বাংলা মাসের সাত তারিখকে বলা হত ‘গ্রন্থতিথি’, বিজ্ঞাপনেও বিখ্যাত ছিল ‘৭-ই’

পর্ব ১: সত্তরের উথাল-পাথাল রাজনৈতিক আবহাওয়ায় আমি প্রকাশনার স্বপ্ন দেখছিলাম

cover design Debabrata Ghosh Dey's Publishing Dey's Publishing India Goutam Roy Purnendu Pattrea Sangbad Pratidin Sangbad Pratidin Robbar Subimal Lahiri Subir Bhattacharya Sudhir Moitra

Share this article on