


লস অ্যাঞ্জেলেস। ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। আমেরিকান পপগায়িকা কেটি পেরির চুমু যেন শেষ হতেই চায় না কানাডার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জাস্টিন ট্রুডোর গালে। সমস্ত বিশ্বের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ল সেই আহেলি সোহাগ। এক সময় শেষ হল চুমু। ট্রুডোর হ্যান্ডসাম গালে লেগে রইল আমেরিকান পপস্টারের লিপস্টিক। হাজার হাজার আমেরিকানের সঙ্গে উঠে দাঁড়ালেন কানাডার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দেশের পরম শত্রু আমেরিকার টিমকে সম্ভাষণ ও উৎসাহনে। কানাডার বুকের মধ্যে নিহিত রইল এক আর্ত চিৎকার: প্রেমের জন্য এই দেশদ্রোহিতা!
৯৮.
কোনও স্ত্রী। কোনও প্রেমিকা। কোনও শরীরের সম্পর্ক। কোনও মনের আদিখ্যেতা। এতদিনেও পুরনো হয়নি আমার যাপনে। যত দিন থিতু হয়েছে আমার সঙ্গে আমার লেখার টেবিলের সহবাস, আক্ষরিক অর্থে চিড় ধরেছে দু’জনের শরীরে। সত্যি ম্লান হয়েছে দু’জনের বোঝাবুঝি। কিন্তু সব সহবাসই আগ্নেয়গিরি। কাল রাত তিনটে নাগাদ ঘটেছে আকস্মিক তোলপাড়। সেই থেকে জেগে। এইমাত্র লিখতে বসেছি। এবারের কাঠখোদাই: যা একেবারে দলছুট!
এবারের কাঠখোদাইয়ের কেন্দ্রে মেসির বাঁ-পায়ের অমোঘ গোল-কিকের গতিতে জাল ছুঁয়েছে সেন্ট্রাল থিম: ফুটবল বিশ্বকাপ! ওই পুরনো লেখার টেবিলটাই হঠাৎ তৈরি করছে ভাবনার কিলবিল আমার মাথার মধ্যে: বিচিত্র পরতে থিম্যাটিক উৎসার! বিশ্বকাপের সঙ্গে জড়িয়ে এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক প্রেমের অ্যান্টনি-ক্লিওপেট্রা। তার সঙ্গে জড়িয়ে দুই মহাদেশের রাজনীতি, কূটনীতি, ভবিষ্যৎ। তার সঙ্গে জড়িয়ে দুই প্রবল প্রেমিক-প্রেমিকার অতীত, কামনা-বাসনা, তাদের জটিল ব্যাধি, অবসেসিভ এবং কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। তার সঙ্গে জড়িয়ে তাজমহলের ছায়াপাত ও মোহপাশ। তার সঙ্গে হিন্দু-বিয়ের মন্ত্র। এবং দুই নায়ক-নায়িকার বাহুতে উলকি করা একই সংস্কৃত শ্লোক, যা বলছে, এখানেই থেমো না। যেদিকে স্রোত টানবে, প্রবাহিত হবে সেই দিকে। কুলকিনারা পাচ্ছি না! খড়কুটো আমি ভোরের আলোয়। যেদিকে টানছে স্রোত, সেভাবে না-ভেসে উপায় নেই আমারও। তাই গল্প শুরু হচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক সেলফোন কলে:

–‘তোমাকে আসতেই হবে।’
–‘অসম্ভব। যেদিন কানাডায় আমরা খেলছি, তুমি বললে সেদিন মাঠে গিয়ে আমার দেশকে আমি সাপোর্ট করতে পারব না। আমি মেনে নিয়েছি। এই নিয়ে সারা দেশজুড়ে কথা উঠবেই। কিন্তু আমি তোমার কথা শুনে মাঠে যাব না, প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। তবে তোমার এই বায়না রাখতে পারব না।’
–‘জাস্টিন, তুমি কি এখনও নিজেকে কানাডার প্রেসিডেন্ট ভাবো? তুমি মাঠে না-গেলে দেশজুড়ে কথা উঠবে এ তোমার ফলস ইগো। কিচ্ছু হবে না।’
–‘কেটি, আমার একমাত্র পরিচয় নয়– আমি কানাডার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট, যে বছরতিনেক আগে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল। আমার পরিচয়, আমি জাস্টিন পিয়ের ট্রুডো। আমার বাবা প্রেসিডেন্ট ছিলেন। আমিও হয়েছিলাম প্রেসিডেন্ট। এবং আমি ছিলাম ইংরেজি সাহিত্যের ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট। কবিতা লিখতাম। সাহিত্য চর্চা করতাম। এবং রক্তে আমার রাজনীতি।’
–‘ডার্লিং, তোমার এখন একমাত্র পরিচয়– তুমি ভুবনবিখ্যাত আমেরিকান পপস্টার কেটি পেরির প্রেমিক। দ্য মোস্ট হ্যান্ডসাম গাই ইন হার লাইফ। আমরা বিয়ে করি কিংবা না-করি, কিছু এসে যায় না। সারা পৃথিবী তোমাকে-আমাকে দম্পতি হিসেবে মেনে নিয়েছে। আমি লস অ্যাঞ্জেলেসে ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গান গাইব। আর তুমি সেখানে উপস্থিত থাকবে না! এটা হতে পারে? সবাই এক্সপেক্ট করছে তোমাকে ডার্লিং। এইটুকু আমার জন্য করো।’

–‘এইটুকু নয় কেটি। এই অপরাধটা করলে আমার রাজনৈতিক মৃত্যু অনিবার্য। উদ্বোধনী ম্যাচে আমেরিকা খেলছে। আমেরিকা আমাদের শত্রু। আমার ব্যক্তিগত শত্রুও। ট্রাম্পের পলিসি আমাদের মিত্র থাকতে দেয়নি। তোমাদের উন্মাদ প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছে, কানাডা নাকি আমেরিকার ৫১তম প্রদেশ। সে কানাডারও প্রেসিডেন্ট ভাবতে শুরু করেছে নিজেকে। আর তুমি চাইছ, আমি লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম খেলায় তোমার হাত ধরে আমেরিকার উৎসাহ বাড়াই, টিমটাকে সাপোর্ট করি!’
–‘ঠিক তাই ডার্লিং, ইউ হ্যাভ গট মি রাইট। কিন্তু ওটাই শেষ কথা নয়।’
–‘আমার পক্ষে ওটাই শেষ কথা। আমেরিকার সমর্থনে একটিবার হাততালি দিয়ে উল্লাসে দাঁড়িয়ে তোমার জন্য উথলে উঠলে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জাস্টিন ট্রুডো দেশদ্রোহী রূপে পরিচিত হবে। দেশে ফেরার মুখ থাকবে না আমার। ট্রাম্প এই সোনার সুযোগ ছাড়বে না। সে কানাডা থেকে গ্রিনল্যান্ড– সবটা গিলে ফেলার জন্য আবার হুংকার দিয়ে উঠবে। এবং আমার রাজনৈতিক জীবনের কফিনে শেষ পেরেকটি মারবে। এটা তুমি সত্যি চাও?’
–‘এটা আমি সত্যি চাই জাস্টিন। কিন্তু বিনামূল্যে চাই না। তোমার গালে পৃথিবীর সমস্ত টিভি ক্যামেরার সামনে আমার চুমু পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজবে উদ্বোধনী ম্যাচের হুইসিল। সেটা কি সব পুরুষের চোখে ঈর্ষণীয় মুহূর্ত নয়? আমার চুমু শেষ হলে শুরু হবে মাঠ জুড়ে আমেরিকার খেলা। ভেবে দেখো, এই মুহূর্তে জগতের সেরা, সবথেকে দামি পপস্টার কেটি পেরি তোমাকে এক দীর্ঘ চুমু খাচ্ছে পৃথিবীর সব টিভিতে! আর আমার সেই চুমু শেষ হলে শুরু হচ্ছে ওয়ার্ল্ড কাপ ফুটবল। আর এই ম্যাচে আমেরিকা কিন্তু জিতবেই। আর তুমি আমি একসঙ্গে সেলিব্রেট করব!’

–“ইমপসিবল, ইট’স জাস্ট নট ডান কেটি। আমার ভবিষ্যৎ বলে কিছু থাকবে না কানাডায়!”
–‘এখনও নেই জাস্টিন। তোমার বউ সোফি তো এক ইয়ং ডাক্তারের সঙ্গে ঝুলে পড়েছে। তিন বছর আগে তোমাকে ঘাড় থেকে নামিয়ে তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে এখন ধীরে ধীরে সেটেল করছে। আর তুমি চিরদিনের হ্যান্ডসাম হিম্যান। একটার পর একটার পর একটা… এবার থামতে হবে ডার্লিং। চুলোয় যাক কানাডা। এবার আমি, তুমি, আমেরিকা আর আমাদের স্বপ্ন!’
–‘এই স্বপ্নে আমার ভূমিকা?’
–‘তুমি অনেক নারীর প্রাক্তন প্রেমিক। তারপর তোমার একটিমাত্র স্ত্রী সোফি গ্রেগোয়ার-কে ১৮ বছর ধরে সাফার করে তাকে তিন ছেলেমেয়ে দিয়ে তার প্রাক্তন স্বামী হয়েছ। এবং কানাডার তুমি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট। বিতাড়িতও বলা যায়। সুতরাং, তোমার ভূমিকা এখন আমার কথা শোনার!’
–‘যতদিন না তোমার পুরনো নাছোড় অসুখটা আবার ফিরে আসে!’
–‘আমার অসুখ! যা আমাকে ছেড়ে যাবে কোনওদিন? কোন অসুখ জাস্টিন!’
–‘অবাক হওয়ার অভিনয় কোরো না কেটি। তোমার ওয়েলনেস আর অসুখের সব গোপন খবর আমি জানি। ডিস্লেক্সিয়া, তোমার অ্যাকিউট ওসিডি, অবসেসিভ কোম্পালসিভ ডিসঅর্ডার, যার চাপে তুমি যেকোনও মুহূর্তে ঢুকে যেতে পার এক অনির্ণেয় আতঙ্কের জগতে। ভাবতে পারো, আমি তোমার পাশে যখন শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে আছি, তখন, সেই মুহূর্তে আমি তোমার চরমতম শত্রু, তোমাকে হত্যা করতে পারি, লুঠ করতে পারি তোমার সর্বস্ব। তাছাড়া তোমার হাতে, তোমার বিভাজিকায় উদ্ভট অক্ষরে লেখা ওই ট্যাটু, ওটার সম্পর্কে তুমি মিথ্যে কথা বলেছিলে আমাকে!’

–‘সত্যি কথাটা কী?’
–‘সত্যি কথাটা মর্মান্তিক। পৃথিবীতে আরও এক পুরুষের হাতে বুকে ওই একই ভাষায় একই কথা লেখা আছে!’
–‘কে সে!’
–“আবার অবাক হওয়ার বৃথা চেষ্টা। সে মানুষটি ‘ব্রিটিশ ফানিম্যান’ নামে বিখ্যাত কমেডিয়ান রাসেল ব্র্যান্ড। তোমার স্বামী। ব্র্যান্ড এক অদ্ভূত মানুষ। কিছু খাস ইংরেজ এমনই হয়। যেমন সমারসেট মম। যেমন ওল্ডাস হাক্সলে। যেমন টি.এস. এলিয়ট। ইন্ডিয়ান স্পিরিচুয়াল ঐতিহ্যকে ভালোবেসেছিল তোমার স্বামী রাসেল ব্র্যান্ড। তুমি তখন রাসেলের অবসেশনে আচ্ছন্ন। তাজমহলের সামনে দাঁড়িয়ে তাজমহলকে সাক্ষী রেখে তাঁকে কথা দিয়েছিলে, তোমরা বিয়ে করবে। পরের বছর বিয়ের মন্ত্র পড়ে তোমরা বিয়ে করেছিলে ইন্ডিয়াতে। ইন্ডিয়ান প্রিস্ট তোমাদের বিয়ে দিয়েছিল। সংস্কৃত মন্ত্র পড়ে। হিন্দু-বিয়ে। এই বিয়েতে কোনও বিচ্ছেদ নেই!’
–‘ননসেন্স ! আটার ননসেন্স ! পাগলের মতো ভালোবেসেছিলাম। তারপর বুঝলাম রাসেল আস্ত পাগল! আমাকে খুন করতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছি। সেই কবে বিয়ে থেকে মুক্তি পেয়েছি! আর তুমি বলছ, হিন্দু-বিয়ে থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না? শুধু হাতের আর বুকের উলকি থেকে মুক্তি পাবনা এই জীবনে।’
–‘ওই সংস্কৃত ট্যাটুর অর্থ বুঝলে এ-কথা বলতে না কেটি। তুমি একদিন আমার পাশে ঘুমিয়ে ছিলে। আমি তোমার হাতের ট্যাটুর ছবি তুলে এক সংস্কৃত পণ্ডিতকে দেখালাম। তিনি বললেন, ওতে লেখা আছে,
অনুগচ্ছতি প্রবাহ। প্রবাহের সঙ্গে ভেসে যাও। হিন্দু-বিয়ের মন্ত্র প্রেম, সম্পর্ক, মিলনকে এই ভাবেই দেখে। জীবন-মরণের প্রবাহের সঙ্গে জন্মজন্মান্তর স্বামী স্ত্রী-কে ভেসে চলতে হবে। বিচ্ছেদ সম্ভব নয়!’
–‘ডোন্ট বি সিলি! যাকগে মরুকগে! তুমি আসছই ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, আমেরিকায়। প্রথম ম্যাচে তুমি আমার সঙ্গে আমাদের টিমের পাশে থাকবে। হাততালি দেবে। উৎসাহিত করবে। গলা ফাটাবে।’
–‘কেটি, ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড, ইফ আই ডু দ্যাট, আই স্ট্যান্ড টু লুজ এভরিথিং!’
–‘ইফ ইউ ডোন্ট, ইউ লুজ মি!’

পরের দৃশ্য:
লস অ্যাঞ্জেলেস। ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। আমেরিকান পপগায়িকা কেটি পেরির চুমু যেন শেষ হতেই চায় না কানাডার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জাস্টিন ট্রুডোর গালে। সমস্ত বিশ্বের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ল সেই আহেলি সোহাগ। এক সময় শেষ হল চুমু। ট্রুডোর হ্যান্ডসাম গালে লেগে রইল আমেরিকান পপস্টারের লিপস্টিক। হাজার হাজার আমেরিকানের সঙ্গে উঠে দাঁড়ালেন কানাডার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দেশের পরম শত্রু আমেরিকার টিমকে সম্ভাষণ ও উৎসাহনে। কানাডার বুকের মধ্যে নিহিত রইল এক আর্ত চিৎকার: প্রেমের জন্য এই দেশদ্রোহিতা! ট্রুডোর সবথেকে বড় শত্রু ট্রুডো নিজেই নয় কি?
আমার লেখার টেবিলের বুকে চাপা দীর্ঘশ্বাস, স্পষ্ট অনুভব করলাম।
…………………….. পড়ুন কাঠখোদাই-এর অন্যান্য পর্ব ……………………
পর্ব ৯৭: টলিউডের কুহেলি ও এক চিরতরুণ
পর্ব ৯৬: শিল্পে পাপ, পাপে মৃত্যু
পর্ব ৯৫: বন্ধুত্বের আবেশে ভালোবাসার গল্প
পর্ব ৯৪: একঘেয়েমি যখন মগ্নজীবনের ডুবসাঁতার
পর্ব ৯৩: অমৃতা চেয়েছিলেন, তাঁর পরিচয় তাঁর শরীরকে পেরিয়ে যাক
পর্ব ৯২: নষ্ট নেগেটিভ ফেলতেন না, ব্যর্থতাও সঙ্গে থাক
পর্ব ৯১: টেবিলই মধুসূদনের নেমেসিস, আত্মদহনের আয়না
পর্ব ৯০: সমর্পণ নয়, ব্যাড গার্লের প্রতিস্পর্ধা
পর্ব ৮৯: রঙে রসে অফুরান রবি বর্মার তুলির টান
পর্ব ৮৮: ন্যুড মডেলই মাতিসের ভাবনার টেবিল
পর্ব ৮৭: চণ্ডীমঙ্গল না পড়লে সে কীসের বাঙালি!
পর্ব ৮৬: সাধারণের জীবন রাজনীতির বিষয়, শিখিয়েছে মনুর সংহিতা
পর্ব ৮৫: চিঠির মোড়কে নষ্ট প্রেমের গোপন অভিসার
পর্ব ৮৪: চা নয়, চায়ের বই যখন প্রেমের অনুঘটক
পর্ব ৮৩: আধ্যাত্মিক বিরহ দিয়ে গড়া প্রেমের মহাকাব্য
পর্ব ৮২: এক মৃত্যুহীন ক্লাসিক কিংবা যৌনতার সহজপাঠ
পর্ব ৮১: দেশহীন, ভাষাহীন ঝুম্পা
পর্ব ৮০: সাহসী প্রেমের চিঠি লেখা শিখিয়েছিল যে বাঙালি যুগল
পর্ব ৭৯: সুরানিলয়ের টেবিল থেকেই জন্ম নিয়েছিল উপন্যাসের ভাবনা
পর্ব ৭৮: একবিন্দু আত্মকরুণা নেই অঞ্জনের আত্মজীবনীতে
পর্ব ৭৭: অ্যানির ‘দ্য ইয়ার্স’ শেখায় অন্তহীন ইরোটিসিজম-ই জীবনের পরমপ্রাপ্তি
পর্ব ৭৬: জয় গোস্বামীর সাজেশনে মুগ্ধতা জাগাল ‘সিম্পল প্যাশন’
পর্ব ৭৫: যে নারীর শেষপাতা পর্যন্ত পৌঁছতে পারেননি লেখক
পর্ব ৭৪: সেই তরুণীর জন্য বেঁচে আছে বোকা মনকেমন!
পর্ব ৭৩: কাফকার ভয়-ধরানো প্রেমপত্র!
পর্ব ৭২: থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা, কলকাতা বইমেলায় শ্রেষ্ঠাংশে তবে রবীন্দ্র-ওকাম্পো?
পর্ব ৭১: একশো বছরের নৈরাজ্য ও একটি লেখার টেবিল
পর্ব ৭০: আত্মজীবনী নয়, মার্গারেটের ব্রতভ্রষ্ট স্মৃতিকথা
পর্ব ৬৯: রুশদির ‘দ্য ইলেভেনথ আওয়ার’ শেষ প্রহরের, অনিবার্য অন্তিমের দ্যোতক
পর্ব ৬৮: মাংসও টেবিলের কাছে ঋণী
পর্ব ৬৭: ভ্রমণ-সাহিত্যকে লাজলো নিয়ে গেছেন নতুন পারমিতায়
পর্ব ৬৬: নরম পায়রার জন্ম
পর্ব ৬৫: যে বইয়ের যে কোনও পাতাই প্রথম পাতা
পর্ব ৬৪: খেলা শেষ করার জন্য শেষ শব্দ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন জেফ্রি আর্চার
পর্ব ৬৩: সহজ ভাষার ম্যাজিক ও অবিকল্প মুরাকামি
পর্ব ৬২: জীবন তিক্ত এবং আশা করা ভুল, এই দর্শনই বিশ্বাস করেন ক্রাজনাহরকাই
পর্ব ৬১: লন্ডনে ফিরে এলেন অস্কার ওয়াইল্ড!
পর্ব ৬০: পাপ ও পুণ্যের যৌথ মাস্টারপিস
পর্ব ৫৯: মাতৃভক্তির দেশে, মাকে ছেড়ে যাওয়ার আত্মকথন
পর্ব ৫৮: চিঠিহীন এই যুগের শ্রেষ্ঠ প্রণয়লিপি
পর্ব ৫৭: লেখার টেবিল কি জানে, কবিতা কার দান– শয়তান না ঈশ্বরের?
পর্ব ৫৬: প্রেমের নিশ্চিত বধ্যভূমি বিয়ে, বার্ট্রান্ড রাসেলের লেখার টেবিল জানে সেই নির্মম সত্য
পর্ব ৫৫: জুলিয়া রবার্টসকে হিন্দুধর্মে দীক্ষা দিয়েছিল একটি বই, একটি সিনেমা
পর্ব ৫৪: আপনার লেখার টেবিল নেই কেন মানিকদা?
পর্ব ৫৩: পুরুষরা যে কতদূর অপদার্থ, ড্রেসিং টেবিলের দেখানো পথে মেয়েরা প্রমাণ করে দেবে
পর্ব ৫২: একটাও অরিজিনাল গল্প লেখেননি শেক্সপিয়র!
পর্ব ৫১: প্রমথ-ইন্দিরার মতো প্রেমের চিঠি-চালাচালি কি আজও হয়?
পর্ব ৫০: হাজার হাজার বছর আগের পুরুষের ভিক্ষা এখনও থামেনি
পর্ব ৪৯: কুকথার রাজনীতিতে অমরত্বের স্বাদ পেয়েছেন জর্জ অরওয়েল
পর্ব ৪৮: টেবিলই ওকাম্পোর স্মৃতি, আত্মজীবনীর ছেঁড়া আদর
পর্ব ৪৭: শেষ বলে কিছু কি থাকতে পারে যদি না থাকে শুরু?
পর্ব ৪৬: যে টেবিলে দেবদূত আসে না, আসে শিল্পের অপূর্ব শয়তান
পর্ব ৪৫: ফ্রেডরিক ফোরসাইথকে ফকির থেকে রাজা করেছিল অপরাধের পৃথিবী
পর্ব ৪৪: আম-বাঙালি যেভাবে আমকে বোঝে, দুই আমেরিকান লেখিকা সেভাবেই বুঝতে চেয়েছেন
পর্ব ৪৩: দু’পায়ে দু’রকম জুতো পরে মা দৌড়ে বেরিয়ে গেল, ইবতিসম্-এর উপন্যাসের শুরু এমনই আকস্মিক
পর্ব ৪২: অন্ধকার ভারতে যে সিঁড়িটেবিলের সান্নিধ্যে রামমোহন রায় মুক্তিসূর্য দেখেছিলেন
পর্ব ৪১: বানু মুশতাকের টেবিল ল্যাম্পটির আলো পড়েছে মুসলমান মেয়েদের একাকিত্বের হৃদয়ে
পর্ব ৪০: গোয়েটের ভালোবাসার চিঠিই বাড়িয়ে দিয়েছিল ইউরোপের সুইসাইড প্রবণতা
পর্ব ৩৯: লেখার টেবিল বাঙালির লাজ ভেঙে পর্নোগ্রাফিও লিখিয়েছে
পর্ব ৩৮: বঙ্গীয় সমাজে বোভেয়ার ‘সেকেন্ড সেক্স’-এর ভাবনার বিচ্ছুরণ কতটুকু?
পর্ব ৩৭: ভক্তদের স্তাবকতাই পাশ্চাত্যে রবীন্দ্র-কীর্তি স্থায়ী হতে দেয়নি, মনে করতেন নীরদচন্দ্র চৌধুরী
পর্ব ৩৬: একাকিত্বের নিঃসঙ্গ জলসাঘরে মারিও ভার্গাস লোসা যেন ছবি বিশ্বাস!
পর্ব ৩৫: জীবনের বাইশ গজে যে নারী শচীনের পরম প্রাপ্তি
পর্ব ৩৪: যা যা লেখোনি আত্মজীবনীতেও, এইবার লেখো, রাস্কিন বন্ডকে বলেছিল লেখার টেবিল
পর্ব ৩৩: ফিওনার সেই লেখার টেবিল মুছে দিয়েছিল মেয়েদের যৌনতা উপভোগের লজ্জারেখা
পর্ব ৩২: বাঙালি নয়, আন্তর্জাতিক বাঙালির সংজ্ঞায় স্পিভাক এসে পড়বেনই
পর্ব ৩১: প্রতিভাপাগল একটি বই, যাকে দিনলিপি বলে সামান্য করব না
পর্ব ৩০: পতিতালয়ের সেই লেখার টেবিল জাগিয়ে তুলেছিল ইসাবেলের হৃদয়-চেতনা
পর্ব ২৯: পাথরে প্রাণ আনে যে টেবিলের স্পর্শ
পর্ব ২৮: নিজের টেবিলকে কটাক্ষ করি, কেন অ্যানে মাইকেলসের মতো লিখতে পারি না?
পর্ব ২৭: নারীর রাগ-মোচনের কৌশল জানে মিলান কুন্দেরার লেখার টেবিল!
পর্ব ২৬: ভালোবাসা প্রকাশের সমস্ত শব্দ পেরিয়ে গিয়েছিল এলিয়টের লেখার টেবিল
পর্ব ২৫: যে টেবিলে জন্ম নেয় নগ্নতা আর যৌনতার নতুন আলো
পর্ব ২৪: প্রেমের কবিতার ভূত জন ডানকে ধরেছিল তাঁর উন্মাদ টেবিলে, মোমবাতির আলোয়
পর্ব ২৩: যে টেবিল আসলে বৈদগ্ধ আর অশ্লীলতার আব্রুহীন আঁতুড়ঘর!
পর্ব ২২: মহাবিশ্বের রহস্য নেমে এসেছিল যে টেবিলে
পর্ব ২১: গাছ আমাদের পূর্বপুরুষ, লেখার টেবিল বলেছিল হোসে সারামাগোকে
পর্ব ২০: টেবিলের কথায় নিজের ‘হত্যার মঞ্চে’ ফিরেছিলেন সলমন রুশদি
পর্ব ১৯: প্রতিভা প্রশ্রয় দেয় অপরাধকে, দস্তয়েভস্কিকে শেখায় তাঁর লেখার টেবিল
পর্ব ১৮: বিবেকানন্দের মনের কথা বুঝতে পারে যে টেবিল
পর্ব ১৭: ‘গীতাঞ্জলি’ হয়ে উঠুক উভপ্রার্থনা ও উভকামনার গান, অঁদ্রে জিদকে বলেছিল তাঁর টেবিল
পর্ব ১৬: যে লেখার টেবিল ম্যাকিয়াভেলিকে নিয়ে গেছে শয়তানির অতল গভীরে
পর্ব ১৫: যে অপরাধবোধ লেখার টেবিলে টেনে এনেছিল শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে
পর্ব ১৪: লেখার টেবিল গিলে নিচ্ছে ভার্জিনিয়া উলফের লেখা ও ভাবনা, বাঁচার একমাত্র উপায় আত্মহত্যা
পর্ব ১৩: হ্যামনেট ‘হ্যামলেট’ হয়ে বেঁচে থাকবে অনন্তকাল, জানে সেই লেখার টেবিল
পর্ব ১২: রবীন্দ্রনাথের লেখার টেবিল চিনতে চায় না তাঁর আঁকার টেবিলকে
পর্ব ১১: আর কোনও কাঠের টেবিলের গায়ে ফুটে উঠেছে কি এমন মৃত্যুর ছবি?
পর্ব ১০: অন্ধ বিনোদবিহারীর জীবনে টেবিলের দান অন্ধকারের নতুন রূপ ও বন্ধুত্ব
পর্ব ৯: বুড়ো টেবিল কিয়ের্কেগার্দকে দিয়েছিল নারীর মন জয়ের চাবিকাঠি
পর্ব ৮: অন্ধকারই হয়ে উঠলো মিল্টনের লেখার টেবিল
পর্ব ৭: কুন্দেরার টেবিলে বসে কুন্দেরাকে চিঠি
পর্ব ৬: মানব-মানবীর যৌন সম্পর্কের দাগ লেগে রয়েছে কুন্দেরার লেখার টেবিলে
পর্ব ৫: বিয়ের ও আত্মহত্যার চিঠি– রবীন্দ্রনাথকে যা দান করেছিল লেখার টেবিল
পর্ব ৪: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের টেবিল আর তারাপদ রায়ের খাট, দুই-ই ছিল থইথই বইভরা
পর্ব ৩: টেবিলের গায়ে খোদাই-করা এক মৃত্যুহীন প্রেমের কবিতা
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved