


‘সিনেমাপাড়া দিয়ে’ প্রকাশের পরের বছর, ২০২২-এর ৪ জুলাই তরুণবাবু প্রয়াত হন। কিন্তু তার আগে তিনি অপুকে পরের বইয়ের পাণ্ডুলিপি দিতে শুরু করেছিলেন। ২০২৩-এর জানুয়ারি মাসে আমি প্রকাশ করি ‘শাপলা-শালুকের দিনগুলি’। প্রকাশকের নিবেদনে আমি লিখেছিলাম⎯ “ ‘শাপলা-শালুকের দিনগুলি’ বইটি তাঁর আত্মজীবনীর এক পর্ব। এই বইয়ে বলা আছে সিনেমাপাড়ায় প্রবেশের আগের কথা।
৮৮.
গুলজারজির লেখা বইয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কথা বলতে গিয়ে আরেকটা অনুষ্ঠানের কথাও মনে পড়ে গেল। সেটা হয়েছিল ঠিক তার আগের বছর⎯ ২০১৬-র ২৫ অগাস্ট। সেদিনও নন্দন-১ প্রেক্ষাগৃহে আমরা একটি অনুষ্ঠান করেছিলাম সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘গদ্যসংগ্রহ’র দু’টি খণ্ডের উদ্বোধন উপলক্ষে। নন্দনের দীর্ঘকালের মুখ্য আধিকারিক অংশু শূর আমাকে ভীষণ স্নেহ করতেন। গোয়েন্দা গল্প ছিল অংশুদার খুব পছন্দের। আমাদের প্রকাশনা থেকে এই ধরনের বই বেরলেই তিনি সেটা পড়তেন। আমাদের বই প্রকাশের অনুষ্ঠানটি হয়েছিল তাঁর অবসর নেওয়ার বছরেই। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো একজন মানুষের ‘গদ্যসংগ্রহ’ প্রকাশের দিন একটা মানানসই অনুষ্ঠান করার কথা অপু অনেকদিন ধরেই ভাবছিল। শেষ পর্যন্ত সে একদিন সৌমিত্রবাবুকে বলে– নাসিরুদ্দিন শাহকে আমন্ত্রণ জানালে কেমন হয়! সৌমিত্রবাবু প্রথমেই ব্যাপারটা নাকচ করে দেন এই ভেবে যে, নাসিরজির মতো মানুষকে কলকাতায় নিয়ে এসে অনুষ্ঠান করার মতো এত বড় আকারের কাজ করা মোটেই সহজ নয়। তার ওপরে তিনি আসতে রাজি হবেন কি না, বা অনুষ্ঠানের দিন তাঁর অন্য কাজ আছে কি না, সেটাও একটা বড় প্রশ্ন। কিন্তু অপু জানত, নাসিরুদ্দিন শাহ অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে খুবই উঁচু নজরে দেখেন। সমস্যা ছিল নাসিরজির কাছে প্রস্তাবটা কীভাবে দেওয়া সম্ভব সেই রাস্তা বের করা নিয়ে।

শেষ পর্যন্ত অপু একটা ফোন নম্বর জোগাড় করে নাসিরজিকে হোয়াটসঅ্যাপ করার চেষ্টা করে, কিন্তু দেখা যায় যে উনি প্রায় তিনমাস আগে শেষবার হোয়াটসঅ্যাপে সক্রিয় ছিলেন। অপু ফোন করলেও সে ফোন বেজে যায়। শেষে একটা টেক্সট মেসেজ করে রাখে, কিন্তু তারও জবাব আসেনি। একদিন কারওর মুখে সে জানতে পারে যে, নাসিরজি ফোন থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকেন, কিন্তু প্রতিটি ই-মেল পড়েন এবং প্রয়োজনে খুব দ্রুত উত্তর দেন। তখন ই-মেল আইডি জোগাড় করে অপু তাঁকে বিষয়টা জানিয়ে ই-মেল করলে পালটা ই-মেলে নাসিরজি জানান পরের দিন তিনি সৌমিত্রবাবুকে ফোন করবেন⎯ অপু যেন তাঁকে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ফোন নম্বর মেল করে। অপু সঙ্গে সঙ্গে ফোন নম্বর পাঠিয়ে দেয় এবং সৌমিত্রবাবুকেও জানিয়ে রাখে যে, নাসিরজি পরেরদিন ফোন করবেন। কিন্তু পরদিন সন্ধে নাগাদ নাসিরজির কাছ থেকে আরেকটা মেল আসে যে, তিনি ফোন করলেও সৌমিত্রবাবু ফোন ধরেননি। অপু সৌমিত্রবাবুকে সেকথা জানালে তিনি খুবই অবাক হয়ে জানান⎯ সেদিন তিনি সারাক্ষণ বাড়িতেই ছিলেন এবং নাসিরুদ্দিন শাহ ফোন করবেন বলে ফোনটা কাছেই রেখেছিলেন, কিন্তু তাঁর কাছে কোনও ফোন আসেনি। তখন অপু খেয়াল করে যে, তার কাছে সৌমিত্রবাবুর দুটো ফোন নম্বর ছিল– সে যে নম্বরটা নাসিরজিকে পাঠিয়েছিল, সেটা সৌমিত্রবাবু আর ব্যবহার করেন না। তখন অপু দুঃখপ্রকাশ করে ফের নাসিরজিকে সৌমিত্রবাবুর সচল নম্বরটি পাঠায়। পরেরদিনই নাসিরজির সঙ্গে সৌমিত্রবাবুর কথা হয় এবং তিনি কলকাতায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বই উদ্বোধনে আসতে রাজি হন। বইয়ের শেষ পর্বের কাজ যেমন শমীকদা জোরকদমে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন, ওদিকে নাসিরজির সঙ্গেও ই-মেলে যোগাযোগ চলতে থাকে। উনি জানান কলকাতায় এসে কোনও হোটেল নয়, সম্ভব হলে টলি ক্লাবে থাকবেন। আমরা সেইরকম ব্যবস্থাই করেছিলাম। অনুষ্ঠানের আগের দিনই উনি কলকাতায় চলে আসেন।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘গদ্যসংগ্রহ’ প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের জন্যও আমরা ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর সঙ্গে যৌথভাবে একটা পুস্তিকা প্রকাশ করেছিলাম⎯ ‘চরিত্রের মিছিলে ৫৮ বছর’ নামের সেই পুস্তিকায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ লেখা আর বেশ কিছু দুষ্প্রাপ্য ছবি ছাপা হয়েছিল। সৌমিত্রবাবুর জীবন, গ্রন্থ, চলচ্চিত্র আর নাট্যপঞ্জিটি তৈরি করে দিয়েছিলেন দেবাশিস মুখোপাধ্যায়। চন্দন গোস্বামী জোগাড় করেছিলেন অনেকগুলি গুরুত্বপূর্ণ লেখা। এই পুস্তিকার নিবেদনে ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর সম্পাদক সৃঞ্জয় বসু আর আমি যৌথভাবে লিখেছিলাম–
‘১৯৫৮। প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিল এক তরুণ। অপুর সংসার-এর অপুর সাজে। তারপর কেটে গিয়েছে একে একে আটান্নটি বছর। বিভিন্ন পরিচালকের ছবিতে নানা চরিত্রে রূপদান করে সেই তরুণ আজ বাঙালির আইকন। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। দু’শোর বেশি ছবিতে অভিনয় করে বাংলা চলচ্চিত্রে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থেকে এই শিল্পকে করেছেন সমৃদ্ধ ও গর্বিত। উদয়াস্ত ব্যস্ততার মধ্যেও কলম থেমে থাকেনি তাঁর। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের গদ্যসংগ্রহ প্রকাশ করতে পেরে আমরা গর্বিত। এই গ্রন্থপ্রকাশ উপলক্ষে প্রকাশিত হল চরিত্রের মিছিলে ৫৮ বছর পুস্তিকাটি।…’

অনুষ্ঠানের দিন নন্দন-১ প্রেক্ষাগৃহের একতলাটা সম্পূর্ণ ভরে গিয়েছিল⎯ একে সৌমিত্রবাবুর বই, তার ওপর নাসিরুদ্দিন শাহ এসেছেন উদ্বোধন করতে⎯ পাঠকের কাছে ব্যাপারটা যথেষ্ট আকর্ষণীয় তো হবেই। সেদিন বই উদ্বোধনের পর নাসিরজি আর সৌমিত্রবাবুকে নিয়ে একটি কথালাপের আয়োজন করা হয়। ভারতবর্ষের এই দুই সেরা অভিনেতার কথালাপ সমন্বয় করেছিলেন শমীকদা। অনুষ্ঠান ভালোভাবে মিটে যাওয়ার পর, অপুর মুখে শুনেছি⎯ আগের দিন টলি ক্লাবে পৌঁছে নাসিরজি দেখেছিলেন তাঁর মোবাইলে চার্জ প্রায় ফুরিয়ে গিয়েছে, তখন তিনি ফোনটা সুইচ অফ করে দেন। কলকাতা বিমানবন্দরে অপুরা যখন তাঁকে পরদিন ছাড়তে যায় তখনও সেই ফোন সুইচড অফই ছিল।

২০১৭-র জুন মাসে দে’জ থেকে বাংলা সিনেমার আরেকজন প্রথিতযশা পরিচালকের লেখালিখি নিয়ে একটি বই প্রকাশিত হয়⎯ ‘আলোছায়ার দিনগুলি’। সর্বজিৎ মুখোপাধ্যায় আর গোপাল দাস যৌথভাবে এই বইটি সংকলনের কাজ করেছিলেন। ‘আলোছায়ার দিনগুলি’ হল পরিচালক অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের (‘ঢুলুবাবু’ নামেই যিনি সিনেমার জগতে বেশি পরিচিত ছিলেন) স্মৃতিকথা ও তিনটি চিত্রনাট্যের সংকলন⎯ এই বইতে তাঁর ‘কিছুক্ষণ’, ‘ধন্যি মেয়ে’ এবং ‘অগ্নীশ্বর’ ছবির চিত্রনাট্য ছাপা হয়েছে। বাংলা সিনেমার যে কোনও দর্শকেরই প্রত্যেকটা ছবির কথা জানা। প্রসঙ্গত বলে রাখি, তাঁর দাদা ছিলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক বনফুল (বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়)। অরবিন্দবাবুর প্রথম ছবি ‘কিছুক্ষণ’ থেকে শুরু করে ‘বর্ণচোরা’, ‘অগ্নীশ্বর’, ‘মন্ত্রমুগ্ধ’, ‘পাকা দেখা’ এইসব সিনেমা বনফুলের লেখা অবলম্বনেই নির্মিত। তাঁর ছবিতে উত্তমকুমার আর সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়⎯ দু’জনই অভিনয় করেছেন। ১৯৭০ সালে অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় তৈরি করেছিলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হিংয়ের কচুরি’ অবলম্বনে উত্তমকুমার, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় অভিনীত ‘নিশিপদ্ম’ সিনেমাটি। পরে শক্তি সামন্ত এই ছবিটিকে হিন্দিতে পুনর্নির্মাণ করেন ‘অমর প্রেম’ নাম দিয়ে। ১৯৭২-এ রাজেশ খান্না, শর্মিলা ঠাকুর অভিনীত ‘অমর প্রেম’ ছবিটির চিত্রনাট্যও অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের লেখা।

রবীন্দ্রনাথের সময়ে শান্তিনিকেতনে লেখাপড়া করা অরবিন্দবাবু বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে কিছুদিন পড়াশোনা করে ১৯৪৫ সালে বাংলা সিনেমা-জগতে জড়িয়ে পড়েন। আমাদের বইটির ‘ভূমিকা’য় আরেকজন বিশিষ্ট পরিচালক তরুণ মজুমদার লিখেছিলেন⎯ “ওঁর চলচ্চিত্র জীবনের শুরুটাও সমান উল্লেখের দাবি রাখে। আগের পর্বে যেমন শান্তিনিকেতন, এই পর্বে তেমনি নিউ থিয়েটার্স। সারা ভারতের সর্বাগ্রগণ্য অভিজাত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। কর্ণধার বীরেন্দ্রনাথ সরকার সারা দেশ খুঁজে খুঁজে জড়ো করেছিলেন সেরা পরিচালক, শিল্পী আর কলাকুশলীদের⎯ তাঁর হাতিমার্কা ব্যানারের তলায়। শিক্ষাঙ্গনে মূল বাণীটি ছিল ‘যত্র বিশ্বং ভবত্যেকনীড়ম্’ আর কর্মক্ষেত্রে এসে তা হয়ে দাঁড়াল ‘জীবতাং জ্যোতিরেতু ছায়াম্’। অরবিন্দবাবু যোগ দিলেন সহকারী পরিচালক হয়ে। নিউ থিয়েটার্স তখন চাঁদের হাট। দিকপাল সব পরিচালকরা কাজ করছেন⎯ দেবকীকুমার বসু, প্রমথেশচন্দ্র বড়ুয়া, নীতিন বসু, সুবোধ মিত্র, হেমচন্দ্র চন্দ্র আর বিমল রায়। অরবিন্দবাবুকে ডেকে নিলেন বিমল রায়।

অতীতের এসব গল্প বলতে বলতে, বিশেষ করে নিউ থিয়েটার্সের দিনগুলির গল্প, রীতিমতো আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তেন মানুষটি। মন্দির আর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝামাঝি এই যে প্রতিষ্ঠান⎯ পরে যখন দিনবদল আর হাতবদলের সঙ্গে সঙ্গে তার চেহারা আর পরিবেশ ক্রমাগত বদলাতে লাগল⎯ শুধু যে গভীর দুঃখের সঙ্গে চোখের সামনে তা প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি তা নয়, মন থেকে তা মেনেও নিতে পারেননি। প্রায়ই দেখা যেত, তিনি এসে এই চত্বরের এখানে-ওখানে ঘোরাঘুরি করছেন অথবা পুকুর পাড়ে বকুল গাছটির তলায় চুপ করে বসে আছেন। প্রিয় স্মৃতিকে এমনভাবে আঁকড়ে রাখার আকুলতাও এক আঁচড়ে মানুষটিকে চিনিয়ে দেয়।
এই হচ্ছেন অরবিন্দবাবু, সকলের প্রিয় ঢুলুদা।…”

‘আলোছায়ার দিনগুলি’র সঙ্গেই ২০১৭ সালের বইমেলায় আরও দুটো উল্লেখযোগ্য সিনেমা সংক্রান্ত বই দে’জ পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত হয়– প্রথমটি, সৌম্যেন্দু রায়ের ‘চলচ্চিত্র চলচ্চিত্র’; আর দ্বিতীয়টি হল তরুণ মজুমদারের ‘বাতিল চিত্রনাট্য’। সত্যজিৎ রায়ের ছবির চিত্রগ্রাহক হিসেবে সৌম্যেন্দু রায়ের ভুবনজোড়া নাম। সেই ‘পথের পাঁচালী’র সময় থেকেই সুব্রত মিত্রর সহকারী হিসেবে সৌম্যেন্দুবাবু সত্যজিতের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন। সত্যজিৎ রায় ছাড়াও সহকারী চিত্রগ্রাহক হিসেবে তিনি ঋত্বিক ঘটকের ‘অযান্ত্রিক’, ‘মেঘে ঢাকা তারা’ এবং ‘কোমল গান্ধার’ ছবিতে কাজ করেছেন। ঋত্বিকের ‘অযান্ত্রিক’ ও ‘মেঘে ঢাকা তারা’ ছবিতে তিনি ছিলেন দীনেন গুপ্তর সহকারী আর ‘কোমল গান্ধার’ ছবিতে দিলীপরঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের। সৌম্যেন্দুবাবু রাজেন তরফদারের ‘গঙ্গা’ ছবিতেও দীনেন গুপ্তর সহকারী ছিলেন। ১৯৬১ সালে সত্যজিতের ‘তিন কন্যা’ ছবিতে তিনি প্রথম স্বাধীন চিত্রগ্রাহকের কাজ করেন⎯ সেই থেকে টানা ‘ঘরে-বাইরে’ পর্যন্ত সত্যজিতের ছবির চিত্রগ্রাহক ছিলেন তিনি। সত্যজিৎ ছাড়াও তরুণ মজুমদার, তপন সিংহ, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, সন্দীপ রায়, উৎপলেন্দু চৌধুরী, রাজা সেনের মতো পরিচালকদের সঙ্গেও কাজ করেছেন। অজস্র পুরস্কারে সম্মানিত সৌম্যন্দুবাবুর ‘চলচ্চিত্র চলচ্চিত্র’ বইটির তিনটি ভাগ⎯ ‘যাপন-চিত্র’, ‘সুজন-চিত্র’ আর ‘কথন-চিত্র’। প্রথম অংশে আছে তাঁর সিনেমাটোগ্রাফার জীবনের স্মৃতিচারণ⎯ যেখানে স্বাভাবিকভাবেই সত্যজিৎ রায়ের কথা এসেছে বারবার, দ্বিতীয় অংশে তাঁর দেখা সিনেমাজগতের কিংবদন্তিদের কথা আর শেষ অংশে সংযোজিত হয়েছে তাঁর পাঁচটি সাক্ষাৎকার। এই বইটি করার সময় প্রভূত সাহায্য করেছেন বাংলা সংস্কৃতিজগতের আরেকজন গুণী মানুষ⎯ দেবজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি পত্রিকায় এই বইটির সমালোচনা করতে গিয়ে সন্দীপ রায় জানিয়েছিলেন⎯ ‘চলচ্চিত্র চলচ্চিত্র’র রিভিউ করা যায় না, কেননা বইটি ‘…আসলে ক্যামেরার পিছন থেকে সৌম্যন্দু রায়ের চোখ দিয়ে দেখা এক সুবিশাল জীবন-ক্যানভাস।’

তরুণ মজুমদারের বইটিও বেশ অভিনব। বইটির পরিচিতি দিতে গিয়ে আমরা লিখেছিলাম⎯ ‘ছায়াছবির চিত্রনাট্য লেখার ফাঁকে ফাঁকে এমন অনেক ছোটখাটো ভাবনার জন্ম হয়⎯ যার কিছুটা চোখে-দেখা, কিছুটা আবার মনে মনে কল্পনা করে নেওয়া⎯ কিন্তু যা নিয়ে ছবি তৈরি হবার কোনও আপাত-সম্ভাবনা নেই। ‘বাতিল চিত্রনাট্য’ তারই নমুনা। সার্থক গল্পের বেলায় যা অপরিহার্য⎯ অর্থাৎ ভাষার ঐশ্বর্য⎯ সে শর্ত মানা হয়েছে কি না সে তো পরের কথা। কিন্তু কিছু কিছু ছবি সম্ভবত আত্মগোপন করে আছে লেখার ফাঁকে ফাঁকে। ঘোমটার আড়ালে ঢাকা সেই ছবিগুলিই লেখকের বিনম্র উপহার।’ প্রসঙ্গত বলে রাখি, ‘বাতিল চিত্রনাট্য’ বইটির নামকরণ লেখকের নয়, অপুর করা। তরুণবাবুর প্রসঙ্গে পরে আবারও লিখতে হবে। এখানে এটুকু জানিয়ে রাখি যে, সৌম্যেন্দু রায় আর তরুণ মজুমদারের বই দু’টির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ-অনুষ্ঠান হয়েছিল ২০১৭-র ১ জুন গোর্কি সদনের একতলায়। অনুষ্ঠানটির নাম দেওয়া হয়েছিল⎯ ‘সিনেমার আড়ালে’। দুই লেখক ও শমীকদার সঙ্গে সেদিনের অনুষ্ঠানে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন।

২০১৯-এর বইমেলায় আমি দে’জ থেকে প্রকাশ করি সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক লেখা ‘সত্যি সাবিত্রী’। ‘সত্যি সাবিত্রী’ বইটির নির্মাণ লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের। তিনি লিখবেন বলে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় অনেকদিন অপেক্ষা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত লেখাটি ধারবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর ‘রোববার’ পত্রিকায়। আমাদের বইটির ভূমিকায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অনুমতিক্রমে তাঁর ‘গদ্যসংগ্রহ’-র দ্বিতীয় খণ্ড থেকে ‘আমার দেখা সর্বশ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী’ লেখাটিকে ভূমিকা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ‘আমার দেখা সর্বশ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী’ লেখাটিতে সৌমিত্রবাবু লিখেছেন⎯
‘আমার সমসাময়িক যতজন অভিনেত্রী বা নায়িকার সঙ্গে অভিনয় করেছি তাদের মধ্যে তর্কাতীতভাবে সর্বশ্রেষ্ট অভিনেত্রী হলেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। এই নিয়ে আমার মনে কোনো প্রশ্ন কখনো আসে না, মনে করি বেশিরভাগ বাঙালির মনে এই নিয়ে কোনো প্রশ্ন আসে না। সাবিত্রী দেখতে খুব একটা সুন্দর নয়। তিনি যে সময় সিনেমায় এসেছিলেন সেইসময় সুন্দরী নায়িকার অভাব ছিল না। তাদের মধ্যে থেকেও তিনি উজ্জ্বলভাবে এই পেশায় ফুটে উঠেছিলেন। তাঁর চেহারা সুশ্রী, তেমন খুব সুললিত কণ্ঠস্বরের অধিকারীও ছিলেন না। কিন্তু সেই কণ্ঠস্বর আশ্চর্যরকম ভাবপ্রকাশে সক্ষম যা দিয়ে শুধুমাত্র সিনেমায় নয় মঞ্চেও অবিসংবাদিত স্থানটি তৈরি করে নিতে পেরেছেন। আমি যাদের সঙ্গে কাজ করেছি, তাদের মধ্যে দেখা একমাত্র অভিনেত্রী যে ট্র্যাজিক ও কমিক দুই ক্ষেত্রেই অত্যন্ত সফল। দুধরনের অভিনয়ের মধ্যেই তিনি তাঁর ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন। রোম্যান্টিক দৃশ্যেও তিনি সফল।…’

তরুণ মজুমদারের প্রথম বইটি প্রকাশের পরের বছরই তাঁর বিভিন্ন সময়ে লেখা গদ্য-নিবন্ধ জাতীয় লেখাগুলি নিয়ে একটি সংকলন তৈরি হয় ‘নকশিকাঁথা’ নামে। তরুণবাবুর সঙ্গে আমার পরিচয় থাকলেও, আমাদের প্রকাশনায় তাঁর বই নিয়ে আসার কৃতিত্ব পুরোটাই অপুর। তরুণবাবু যখন বেশ প্রবীণ, তখনও কিন্তু তিনি নিয়মিত পড়াশোনা করতে আসতেন ‘গণশক্তি’ পত্রিকার লাইব্রেরিতে। সেখানে অপু তাঁর সঙ্গে দেখা করে লেখাপত্র নিত। পরে অবশ্য তাঁর বাড়িতেও অপু গিয়েছে এবং তিনিও আমাদের দোকানে এসেছেন। ২০১৭-র পর থেকে বাংলা নববর্ষের দিনেও তিনি আমাদের দোকানে আসতেন।

বাণিজ্যিক ছবির জগতে থেকেও যে শিল্পময় সিনেমা তৈরি করা সম্ভব, সেটা তরুণবাবুর যে কোনও ছবি দেখলেই বোঝা যায়। ‘চাওয়া পাওয়া’, ‘পলাতক’, বালিকা বধূ’, ‘নিমন্ত্রণ’, ‘শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’, ‘ফুলেশ্বরী’, ‘গণদেবতা’, ‘দাদার কীর্তি’, ‘ভালবাসা ভালবাসা’ ইত্যাদি ছবির মতো বাংলা সিনেমা আজকাল খুব বেশি পাওয়া যায় না। তরুণবাবু মনে করতেন⎯ ‘ভালো ছবি আর জনপ্রিয় ছবি একই সঙ্গে হতে পারে, হওয়া সম্ভব, হওয়া উচিত⎯ এটাই হল মডেল। এসব ছবি কোনওদিন বয়সে বাড়ে না⎯ এরা চির-সবুজ।’ জনপ্রিয়তা শব্দটা তাঁকে ‘পীড়া’ দিত না, কারণ ছবি লোকপ্রিয় হলে তবেই পরের ছবির কাজ আসতে পারে। কিন্তু এটা ছাড়াও আরেকটা কথাও তিনি মনে করতেন⎯ ‘আমার উদ্দেশ্য হল, সবাইকে ডেকে ডেকে আমার মনের কথা জানানো। আমার সুখের কথা, দুঃখের কথা, অভিজ্ঞতার কথা, স্বপ্নের কথা⎯ আমি আমার মতো করে তাঁদের কাছে বলতে চাই। বন্ধু যেমন বন্ধুকে বলে, আপনজনের মতো। যদি তাঁদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারি, তাঁরা যদি ধৈর্য ধরে শোনেন আর শুনতে শুনতে আমার সঙ্গে একাত্ম হয়ে যান⎯ আমি তখন ভাবি, এর চেয়ে বড় পুরস্কার আর কী-ই বা পেতে পারতাম এ জীবনে? এঁদের সংখ্যা যত বাড়ে, আমার খুশিও বেড়ে চলে সেই অনুপাতে।’ তরুণ মজুমদার ছিলেন অত্যন্ত সুভদ্র একজন মানুষ। তিনি পুত্রবৎ স্নেহ করলেও কোনও দিন অপুকে ‘তুমি’ বলেননি, সব সময় ‘আপনি’ বলে সম্বোধন করতেন। ‘নকশিকাঁথা’ বইটির মুখবন্ধে তরুণবাবু লিখেছিলেন ‘সিনেমার ছড়া’⎯
‘কেউ বা বলেন ‘সিনেমা’⎯ সে মজা ছাড়া আর কী ?
আমি বলি, মিথ্যে কথা, সিনেমা নয় ইয়ার্কি।
জীবন জুড়ে যত আলো এবং কালোর দ্বন্দ্ব,
প্রতি পলের কঠিন লড়াই, তার যা ভালো-মন্দ,
অভিজ্ঞতার খাতার পাতায় ঝাপসা যত পদ্য,
ঝরা-ফুলের মরা বাগান যে ফুল ফোটায় সদ্য⎯
সব কিছুকে গেঁথে নিয়ে একটি মালার বৃত্তে
সিনেমা চায় সেই অধিকার⎯ ঢুকতে সবার চিত্তে।
কাজটা মোটেই নয় তো সোজা, নয় তো মোটেই ফেলনা,
গভীর ধ্যানের জিনিস তা,⎯ নয় শিশুর হাতে খেলনা।
জাত-সিনেমার গর্ভে থাকে হাজার বজ্র পোরা⎯
প্রণম্য সব দধীচিদের পাঁজর দিয়ে গড়া।
তাঁদের কাছে নোয়াও মাথা, সেলাম করো মূর্খ,
সিনেমা তো নয় খেলনাপাতি⎯ কাজটা কঠিন, সূক্ষ্ম।’
অপুর সঙ্গে তরুণবাবুর পরিচয় কিন্তু অনেক দিনের⎯ অন্তত ২০০১-’০২ সাল থেকে হবে। নন্দনে তরুণবাবু মাঝে-মাঝে আসতেন। নন্দনে এলে তিনি গিয়ে বসতেন অংশু শূরের ঘরেই। অংশুদাই তরুণবাবুর সঙ্গে অপুর পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। আর পরিচয়ের কিছুদিন পর থেকেই অপু তরুণবাবুকে একটা স্মৃতিকথা লেখার জন্য ধারাবাহিকভাবে তাগাদা দিয়ে গিয়েছে। তিনি প্রথমদিকে খুব আগ্রহ না দেখালেও পরে রাজি হয়ে যান এবং তারপর ২০১৯ নাগাদ তিনি ধীরে-ধীরে স্মৃতিকথার কিছু-কিছু অংশের পাণ্ডুলিপি দিতে থাকেন। তিনি প্রতিবার হাতে লেখা ১০০ পাতা করে স্মৃতিকথার পাণ্ডুলিপি দিতেন। প্রায় কাটাকুটিবিহীন চমৎকার সেই পাণ্ডুলিপি পড়ে তখনই আমরা বুঝতে পারছিলাম এই স্মৃতিকথা বাংলা সাহিত্যে একটা উজ্জ্বল সংযোজন হতে চলেছে।

কিন্তু বইয়ের কাজ যখন চলছে তখনই আকস্মিকভাবে ভারত তথা গোটা দুনিয়া স্তব্ধ হয়ে গেল। কোভিড-১৯ সংক্রমণে আমাদের সামাজিক জীবনে এল বড় বিপর্যয়, বইপাড়ার যাবতীয় কাজকর্ম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। গোটা দেশে তখন একটা বিরাট সংকটের সময়। বাড়িতে-বাড়িতে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে, আমার কত চেনা-পরিচিত মানুষ সেসময় এই রোগের আক্রমণে মারাও গেলেন। আমাদের বাড়িতেও এই অসুখ থাবা বসিয়েছিল। আমি চিরকাল বাইরে-বাইরে কাজ করা মানুষ। গৃহবন্দি হয়ে থাকতে-থাকতে তাই ক্রমশ যেমন বিরক্ত হয়ে পড়ছিলাম, তেমনই ফের কীভাবে শুরু হবে বইপত্রের কাজ তা নিয়ে ভেবে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়তাম। কিন্তু কিছুই করার ছিল না। রেল, বাস সব বন্ধ। রাস্তায় বেরনো যাচ্ছে না, সব সময় মুখে মাস্ক লাগিয়ে চলাফেরা করা⎯ সে এক বিভীষিকাময় দিন। ২০২০ সালে কোভিডের প্রাদুর্ভাবে দে’জ পাবলিশিং শুরুর পর থেকে প্রথমবার পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান করা যায়নি। তারপর একের পর এক⎯ মোট তিনটে ঢেউ আমাদের অনেক ক্ষতি করে দিয়ে গিয়েছে। প্রেস বন্ধ, বাঁধাইখানা বন্ধ, কাগজের দোকান বন্ধ, কম্পোজ সেকশন বন্ধ, দোকান বন্ধ⎯ মাঝেমাঝে বেশ হতাশ হয়ে পড়তাম। বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে বইপাড়ার দিকে তাকালে মন খারাপ হয়ে যেত। সবসময় যেখানে হইহল্লা, মানুষের আনাগোনা⎯ সেই পাড়া সম্পূর্ণ ফাঁকা হয়ে পড়ে ছিল অনেকদিন। এরই মধ্যে ২০২১-এ ধীরে-ধীরে তরুণ মজুমদারের স্মৃতিকথার কাজ এগিয়ে চলেছে। তরুণবাবু সেসময় আর ‘গণশক্তি’র লাইব্রেরিতে আসতে পারছেন না, অপু মাস্ক পরে যাওয়া শুরু করল তাঁর বাড়ি থেকে পাণ্ডুলিপি আনতে। শেষ পর্যন্ত ২০২১-এ যেমন খানিকটা ছোট আকারে হলেও পয়লা বৈশাখ পালন করা গেল, তেমনই প্রকাশিত হল তরুণবাবুর স্মৃতিকথা, দু’ খণ্ডে⎯ ‘সিনেমাপাড়া দিয়ে’। আমরা বই প্রকাশ করার কিছুদিনের মধ্যেই কোভিডের দ্বিতীয় ও মারাত্মক ঢেউ আছড়ে পড়ায় আবার আমাদের রাজ্যে নানা বিধিনিষেধ লাগু হল। কাগজপত্রের প্রকাশও হয়ে গেল অনিয়মিত, ফলে এই বইয়ের বিশেষ কিছু বিজ্ঞাপনও আমি করতে পারিনি। কিন্তু পয়লা বৈশাখ যাঁরা বইটা নিয়েছিলেন, তাঁদের মুগ্ধতার কথা মুখে-মুখে এমন ছড়িয়ে গেল যে, সেই দুর্যোগের দিনে বইপাড়ার সবচেয়ে সফল বই হয়ে উঠল ‘সিনেমাপাড়া দিয়ে’। তখন চারিদিক থেকে এমন অর্ডার আসতে লাগল যে, সামাল দেওয়া কঠিন। লকডাউনের সময় কাজ হারানো, বাধ্যতামূলকভাবে সাময়িক কাজ বন্ধ রাখা যুবকরা এই বই মানুষের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ডেলিভারি দিয়ে এসেছেন। ‘সিনেমাপাড়া দিয়ে’র জন্য তরুণবাবুর নানা সিনেমার বুকলেট ব্যবহার করে বিশেষ একটা পুস্তানিও ছাপা হয়েছে। আর রঞ্জন দত্ত এঁকেছেন অনেক ছবি। এই ছবিগুলো পাঠকদের মতো লেখকেরও খুবই পছন্দ হয়েছিল।

‘সিনেমাপাড়া দিয়ে’ প্রকাশের পরের বছর, ২০২২-এর ৪ জুলাই তরুণবাবু প্রয়াত হন। কিন্তু তার আগে তিনি অপুকে পরের বইয়ের পাণ্ডুলিপি দিতে শুরু করেছিলেন। ২০২৩-এর জানুয়ারি মাসে আমি প্রকাশ করি ‘শাপলা-শালুকের দিনগুলি’। প্রকাশকের নিবেদনে আমি লিখেছিলাম⎯ “ ‘শাপলা-শালুকের দিনগুলি’ বইটি তাঁর আত্মজীবনীর এক পর্ব। এই বইয়ে বলা আছে সিনেমাপাড়ায় প্রবেশের আগের কথা। লেখকের ছোটবেলার কথা। মজার কথা সিনেমাপাড়ার মতো এই বইয়ে তিনি নিজেকে সামনে আনেননি। উত্তমপুরুষে লেখা হলেও নিজেকে প্রচ্ছন্ন রেখে অন্য এক চরিত্রের মধ্য দিয়ে বর্ণনা করেছেন নিজেরই কথা। সেও এক আশ্চর্য জগতের কাহিনি। মমতামাখা সেই জগৎ পাঠকের সামনে খুলে দেবে এক অনন্য অভিজ্ঞতার বহির্দ্বার। প্রসঙ্গত বলি, এই গ্রন্থ অসমাপ্ত। আরও অনেক কথা বলার ছিল তাঁর। লেখার ছিল আরও বহু পাতা। কিন্তু কালের অমোঘ নিয়মে মৃত্যু এসে তাঁকে কেড়ে নিয়েছে আমাদের কাছ থেকে। সেই অসমাপ্ত পাণ্ডুলিপির মুদ্রিত রূপই আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।” দে’জ থেকে তাঁর আরেকটি বই⎯ ‘ঘরের বাইরে ঘর’ বেরিয়েছে ২০২৪-এর বইমেলার সময়। তরুণবাবু এই উপন্যাসটি কোনও পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে ছাপতে চেয়েছিলেন। অপুকেই দায়িত্ব দিয়েছিলেন সেই ব্যবস্থা করতে। অপু তখন ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর ‘রোববার’ পত্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ করে। তবে তরুণবাবু এই উপন্যাসের প্রকাশ দেখে যেতে পারেননি। তাঁর মৃত্যুর কিছুদিন পরেই সৃঞ্জয় বসুর বড় ছেলে, আমার অত্যন্ত স্নেহের অরিঞ্জয়, অপুকে জানায় তারা এই লেখাটি ‘রোববার’-এ ধারাবাহিকভাবে ছাপতে চায়। সেখানেই এই উপন্যাস ধারাবাহিকভাবে ছাপা হয়।

সিনেমার বই প্রসঙ্গে আমার করা একটা বইয়ের উল্লেখ করতেই হবে। বাংলা তথা ভারতীয় সিনেমার দুই প্রধান ব্যক্তিত্ব উত্তমকুমার ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বই যেমন আমরা করেছি, তেমনই আরেকজন সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়েও দে’জ থেকে বই প্রকাশিত হয়েছে। অতি সম্প্রতি জয়ন্তকুমার ঘোষ সংকলন করেছেন মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়ে বহু বিশিষ্টজনের লেখা নিয়ে⎯ ‘রূপকথা নয় মিঠুনের কথা’। বইটিতে জয়ন্তবাবু যথাযথ তথ্যপঞ্জি, মিঠুন চক্রবর্তীর জীবনপঞ্জি এবং চলচ্চিত্রপঞ্জিও তৈরি করেছেন।
তবে মিঠুন চক্রবর্তীর যে-বইটি দে’জ থেকে প্রকাশিত হয়ে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল, সেটা আমি প্রকাশ করেছিলাম ১৯৯৮ সালের বইমেলায়। গৌতম ভট্টাচার্যের সম্পাদনায় প্রকাশিত সেই বইটি হল ‘সিনেমায় নামতে হলে’। এই বইয়ের প্রধান অংশটি আনন্দবাজারের শনিবারের পাতায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। বই করার সময় তার সঙ্গে আরও কয়েকটি লেখা যুক্ত হয়েছিল। শনিবারের পাতায় পাঠকদের প্রশ্নের উত্তর দিতেন মিঠুন। নিজের উত্তরে তিনি তাঁর দর্শক-অনুরাগীদের বহু প্রশ্নের আন্তরিক উত্তর দিয়েছেন। ভেঙে দিয়েছেন রুপোলি পর্দার জগৎ সম্পর্কে অনেক মিথ। ‘সিনেমায় নামতে হলে’ বইটির উৎসর্গের পাতা থেকেই সেই স্বরের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে তিনি লিখেছেন⎯
‘এই বই যেন অভিনয় ক্ষমতাহীন, বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়াদের সেই স্রোত থামাতে পারে, যারা মনে করে কোনরকমে মুম্বই-এর চার্চ গেট স্টেশনে নেমে যেতে পারলেই তারকা হওয়ার পাসপোর্ট তৈরি হয়ে গেল।
একই সঙ্গে এই বই যেন তাদের উদ্দীপ্ত করে, যাদের উঠে আসার হাজারো সমস্যা, যাদের হাতিয়ার বলতে শুধুই অভিনয় ক্ষমতা আর মনের জোর। জীবনযন্ত্রণায় থেঁতলে যেতে যেতেও যারা স্বপ্ন দেখে উঠে দাঁড়াবে, একদিন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি চালাবে। আমার বই উৎসর্গ করলাম এই সব অদম্য স্পিরিটকে। আমি যদি পেরে থাকি এরাও পারবে!’

বইটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য ১৯৯৮-এর বইমেলার মাঠে মিঠুন চক্রবর্তী এসেছিলেন। তখনকার ইউবিআই অডিটোরিয়ামের অনুষ্ঠানে ব্যানারে লেখা ছিল⎯ ‘…সব প্রশ্নের দারুণ জবাব/ গোপন খবরের নেই তো অভাব’। অনুষ্ঠানে মিঠুন ছাড়াও ছিলেন মমতাশংকর এবং সেই সময়ের উদীয়মান নায়িকা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। আমি বিশেষ করে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অনুষ্ঠানের শুরুতে শ্রীরাধাদি যখন উদ্বোধনী গানটা গাইতে যাবেন⎯ হারমোনিয়াম-সহ যন্ত্রানুষঙ্গ নিয়ে অন্যরা তৈরি, তখন গিল্ড কর্তৃপক্ষের তরফে এক প্রবীণ প্রকাশক দোতলার গিল্ড অফিস থেকে নেমে এসে আপত্তি জানিয়ে আমাকে বললেন, গিল্ডের নিয়ম অনুযায়ী না কি ইউবিআই অডিটোরিয়ামের কোনও অনুষ্ঠানে গানবাজনা নিষিদ্ধ। আমার মাথায় তখন আকাশ ভেঙে পড়ে। শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বিখ্যাত সংগীতশিল্পীকে গান গাইতে দেওয়া যাবে না, এটা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। এমন নিয়মের কথাও কস্মিনকালে শুনিনি। সেই প্রবীণ মানুষটিকে নানাভাবে বুঝিয়েও কোনও ফল হল না। এদিকে কর্তৃপক্ষের কথার বাইরে যাওয়ারও উপায় ছিল না। ফলত শ্রীরাধাদি গান না গেয়ে মঞ্চ থেকে নেমে এলেন। আমি হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে তাঁকে গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিলাম। তারপরেও শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যখনই দেখা হয়েছে, সেদিনের কথা ভেবে আমি গ্লানি বোধ করেছি। তিনি নিশ্চয়ই আমার অপারগতার কথা বুঝেছেন। এখনও তাঁর সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক আছে। তবে পরে যখন আমি গিল্ডে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো জায়গায় যাই, তখন এই অবান্তর নিয়মটা আর চলতে দিইনি।
সেদিনের অনুষ্ঠানে প্রচুর মানুষ এসেছিলেন। আর তারপর মিঠুন যখন আমাদের স্টলে বইয়ে সই দিতে এলেন, তখন পাঠকের যে-ভিড় দেখেছিলাম তার তুলনীয় জনসমাবেশ আমাদের স্টলে কোনওদিন দেখিনি। কাতারে-কাতারে মানুষ তাঁদের প্রিয় নায়কের সই নেওয়ার জন্য উপস্থিত হওয়ায় রীতিমতো ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায়। দে’জের স্টলের একটা বড় কাচের জানলা ভেঙে টুকরো-টুকরো হয়ে যেতে দেখে আমি আর দেরি করিনি, পুলিশের সাহায্য নিয়ে মিঠুন চক্রবর্তীকে স্টল থেকে বের করে তাঁর গাড়িতে তুলে দিয়ে আসি।
লিখন: শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায়
…… ইতি কলেজ স্ট্রিট-এর অন্যান্য পর্ব ……
পর্ব ৮৭। গুলজার ও বাংলার সিনে-সাহিত্য
পর্ব ৮৬। শচীন ভৌমিকের চিত্রনাট্য মানেই ফিল্ম হিট!
পর্ব ৮৫। উত্তম নিশ্চিন্তে চললেন অধমের সাথে
পর্ব ৮৪। বই সম্পাদনা: নেপথ্যের সংলাপ
পর্ব ৮৩। বই-চিত্রের বৈচিত্র
পর্ব ৮২। পূর্ণ ইন্দু পরকাশে
পর্ব ৮১। পাঠকদের উন্মাদ দাবি: চাই কথোপকথনের নতুন খণ্ড!
পর্ব ৮০। কলকাতা: পূর্ণেন্দু সংস্করণ
পর্ব ৭৯। নানা রঙের নবনীতা
পর্ব ৭৮। প্রথম বইয়ের প্রচ্ছদ নিজেই এঁকেছিলেন নবনীতা দেবসেন
পর্ব ৭৭। অপরাজিতা দেবীকে ছদ্মনামে পুরুষ কবি ভেবেছিলেন পাঠক
পর্ব ৭৬। বিদেশেও সমাদৃত হয়েছিল স্বর্ণকুমারী দেবীর উপন্যাস
পর্ব ৭৫। নারীকলম: দিনগুলি রাতগুলি
পর্ব ৭৪। বই-মানবী
পর্ব ৭৩। প্রেসের কাজে গাফিলতি দেখলে কড়া চিঠি লিখতেন সুবীরদা
পর্ব ৭২। করোগেটেড কাগজের অভাবে আটকে ছিল সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কাব্যসংগ্রহ
পর্ব ৭১। অমিয় চক্রবর্তীর ‘কবিতাসংগ্রহ’ ছিল নরেশ গুহ-র গুরুদক্ষিণা
পর্ব ৭০। এক মুখে কবিতা, অন্য মুখে মিছিলের স্লোগান
পর্ব ৬৯। সুভাষিত অনুবাদ
পর্ব ৬৮। শঙ্খদাই চেয়েছিলেন, সুভাষদার কবিতাসংগ্রহ সুবীর রায়চৌধুরী সম্পাদনা করুন
পর্ব ৬৭। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা দিয়েই শুরু হয়েছিল দে’জের ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ সিরিজ
পর্ব ৬৬। প্রেমেনদার উৎসর্গ করা বই বেচে দিয়েছিলেন বন্ধু ‘শিব্রাম’!
পর্ব ৬৫। প্যাঁচানো লোহার সিঁড়ি দিয়ে উঠলেই প্রেমেন্দ্র মিত্রর অবারিত দ্বার!
পর্ব ৬৪। মুজিব হত্যার পর অন্নদাশঙ্করের শোকলিপি ছাপা হয়নি সরকারি নিষেধাজ্ঞায়
পর্ব ৬৩। ভাবনার ভাস্কর্যের দিনগুলি রাতগুলি
পর্ব ৬২। কাদের লিটল ম্যাগাজিন বলা যাবে না, তার তালিকা তৈরি করেছিলেন শিবনারায়ণ রায়
পর্ব ৬১। গৌরদা বিশ্বাস করতেন, কলমের স্বাধীনতা হরণ মাতৃবিয়োগের চেয়ে কম কিছু নয়
পর্ব ৬০। সমরেশ বসু যখন ‘বিশ্বাসঘাতক’!
পর্ব ৫৯। সারাজীবন নিজেকে জানার জন্যেই লিখে গিয়েছেন সমরেশ বসু
পর্ব ৫৮। নবারুণ চেয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ কবিতার সিরিজে তিনিও থাকুন, কিন্তু হল না
পর্ব ৫৭। সত্যজিৎ-মৃণাল-ঋত্বিক ত্রয়ীর মধ্যে ঋত্বিকের লেখাই আমরা প্রথম ছেপেছিলাম
পর্ব ৫৬। অজয় গুপ্তর নিরন্তর শ্রম আর খুঁতখুঁতে সম্পাদনা ছাড়া মহাশ্বেতা দেবীর রচনাসমগ্র হত না
পর্ব ৫৫। দলকল্যাণের জন্য রাজনীতি সমাজকে নরকে পরিণত করবে, বিশ্বাস করতেন মহাশ্বেতা দেবী
পর্ব ৫৪। যা লিখেছেন, না লিখে পারেননি বলেই লিখেছেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
পর্ব ৫৩। ‘অলীক মানুষ’ তাঁকে দিয়ে কেউ লিখিয়ে নিয়েছে, মনে করতেন সিরাজদা
পর্ব ৫২। নিজের লেখা শহরের গল্পকে লেখা বলে মনে করতেন না সিরাজদা
পর্ব ৫১। কর্নেল পড়ে সিরাজদাকে চিঠি লিখেছিলেন অভিভূত সত্যজিৎ রায়
পর্ব ৫০। সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা থেকে বাঁচতে দিব্যেন্দুদার জীবনের দ্বিতীয় গল্পই বদলাতে হয়েছিল
পর্ব ৪৯। রবিশংকর বলের মতো উর্দু সাহিত্যের এত নিবিষ্ট পাঠক খুব কমই দেখেছি
পর্ব ৪৮। দেবেশ রায়ের যেমন ‘বৃত্তান্ত’, আফসার আমেদের তেমন ‘কিস্সা’
পর্ব ৪৭। বই বাঁধানো সম্পূর্ণ হয়নি, তাই ‘মহাভুল’ শুধরে নিয়েছিলেন দেবেশ রায়
পর্ব ৪৬। গান্ধীনগরে রাত্রির কবিই প্রথম বিদ্রুপাত্মক তেতো হাসি এনেছিলেন বাংলা কবিতায়
পর্ব ৪৫। নাটকের মহলা পছন্দ হলে তবেই তিস্তাপারের বৃত্তান্তর অনুমতি দেবেন, বলেছিলেন দেবেশ রায়
পর্ব ৪৪। নিজের বইপত্র বিক্রির বিবরণ দেখে হতাশ হয়েছিলেন দেবেশ রায়
পর্ব ৪৩। থ্রিলার, রহস্য-রোমাঞ্চ কিংবা ক্রাইম স্টোরি অনেক দিন ধরেই বইপাড়ায় ‘সুপারহিট’
পর্ব ৪২। অলংকরণ বা প্রচ্ছদশিল্পীদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা নেই, সখেদে চিঠি লিখেছিলেন নারায়ণ সান্যাল
পর্ব ৪০। সিগারেট ঠোঁটে রথীন্দ্রনাথের ছবি প্রচ্ছদে যাওয়া নিয়ে উঠেছিল প্রবল আপত্তি!
পর্ব ৩৯। শান্তিনিকেতন থেকে কলেজ স্ট্রিট, প্রুফ আদান-প্রদানে সহায়ক ছিলেন বই ব্যবসায়ীরাই
পর্ব ৩৮। পাণ্ডুলিপি জমা দিয়ে সোমেনদা বলেছিলেন, রামকিঙ্করকে নিয়ে এ জাতীয় বই আগে লেখা হয়নি
পর্ব ৩৭। ‘কীর্তির্যস্য’র নাম বদলাতে চেয়েছিলেন ভবতোষ দত্ত
পর্ব ৩৬। কবি-দার্শনিকের বাইরে আরেক রবীন্দ্রনাথকে খুঁড়ে বের করেছিলেন অমিতাভ চৌধুরী
পর্ব ৩৫। ‘শাহজাদা দারাশুকো’ আরও বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে ছিল শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের
পর্ব ৩৪। একজন লেখক হিসেবে আমি কি তোমার মনোযোগের যোগ্য নই, অভিমান ভরা চিঠি লিখেছিলেন শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
পর্ব ৩৩। আমাকে ভাবায়, তারাপদ রায়
পর্ব ৩২। নববর্ষের শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ: লেখকদের মন্তব্যের খাতা!
পর্ব ৩১। পরিব্রাজক সন্ন্যাসী তারাপ্রণব ব্রহ্মচারী ভাগ্যিস থিতু হয়েছিলেন সাহিত্যে!
পর্ব ৩০। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কোনও বই আমাকে চাপিয়ে দেননি, লিখেছেন: বিবেচনা করে দেখো
পর্ব ২৯। কবিতাকে শক্তিদা বলতেন ‘জলজ দর্পণ’, তাঁর বেঁচে থাকার অবলম্বন
পর্ব ২৮। পিঁপড়ে কালিতে চুবিয়ে সাদা পাতায় ছাড়া হয়েছে, এমন পাণ্ডুলিপি ছিল বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের!
পর্ব ২৭। নিজস্ব ঈশ্বরভাবনা থাকলেও শঙ্কু মহারাজের লেখার মূল বিষয় ছিল মানুষের আলো-আঁধারি জীবন
পর্ব ২৬। বাংলাদেশে পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও একুশে বইমেলায় কখনও স্টল পাইনি
পর্ব ২৫। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি মুহূর্তের রক্ত-ঘাম-হাসি-কান্নার এক জীবন্ত দলিলচিত্র ছেপেছিলাম
পর্ব ২৪। রাখাল ছেলে যেমন বাঁশি বাজায়, আমিও তেমন নিজের খুশিতে লিখি, বলেছিলেন যাযাবর
পর্ব ২৩। রয়্যালটি-মুক্ত বইয়ের ওপর প্রকাশকদের ঝোঁক চোখে পড়ছে বইমেলাতেও
পর্ব ২২: শেষমেশ রেগে গিয়ে আমাকে চিঠিই লিখে ফেলেছিলেন শঙ্খ ঘোষ!
পর্ব ২১: ৩০০০ কপি বিক্রির মতো জীবিত বা মৃত লেখক আর হয়তো নেই
পর্ব ২০: কম বয়সে আমাদের রোববারের আড্ডা ছিল ২৮ নম্বর প্রতাপাদিত্য রোড, আশুদার বাড়িতে
পর্ব ১৯: ‘লেখা বড় হচ্ছে’ অভিযোগ আসায় খুদে হাতের লেখায় পাণ্ডুলিপি দিতেন প্রবোধবন্ধু অধিকারী
পর্ব ১৮: দু’বছরের মধ্যে সংস্করণ না ফুরলে অন্য জায়গায় বই ছাপার চুক্তি ছিল শরদিন্দুর চিঠিতে
পর্ব ১৭: পূর্ণেন্দু পত্রীর বাদ পড়া প্রচ্ছদ ও দিনেশ দাসের কবিতার শ্রেষ্ঠ দিনগুলি
পর্ব ১৬: সব প্রকাশনার যাবতীয় বইয়ের হদিশ পাওয়া যেত ‘সম্মিলিত গ্রন্থপঞ্জী’তে
পর্ব ১৫: নিছকই একটা পত্রিকা নয়, ‘কলেজ স্ট্রীট’ আমাদের আবেগ
পর্ব ১৪: খুদে পাঠকদের জন্য মিনিবই তৈরির কথা প্রথম ভেবেছিলেন অভয়দা
পর্ব ১৩: কয়েকটি প্রেসের গল্প
পর্ব ১২: দীর্ঘায়ু বই ও আইয়ুব পরিবার
পর্ব ১১: প্রেমের নয়, অপ্রেমের গল্প সংকলনের সম্পাদনা করেছিলেন সুনীল জানা
পর্ব ১০: ছোট্ট অপুকে দেখেই রঙিন ছবিতে ভরা টানটান গল্পের বই করার ইচ্ছে জেগেছিল
পর্ব ৯: চানঘরে গান-এ সত্যজিৎ রায়ের চিঠি থাকায় ব্যাপারটা গড়িয়েছিল কোর্ট কেস পর্যন্ত
পর্ব ৮: প্রকাশক-লেখকের কেজো সম্পর্কে বুদ্ধদেব গুহর বিশ্বাস ছিল না
পর্ব ৭: পুজো সংখ্যায় না-বেরনো উপন্যাস বই আকারে সুপারহিট
পর্ব ৬: মানবদার বিপুল অনুবাদের কাজ দেখেই শিশির দাশ তাঁর নাম দিয়েছিলেন– ‘অনুবাদেন্দ্র’
পর্ব ৫: সাতবার প্রুফ দেখার পর বুদ্ধদেব বসু রাজি হয়েছিলেন বই ছাপানোয়!
পর্ব ৪: লেখকদের বেঁচে থাকার জন্য অনেক কিছুই লিখতে হয়, প্রফুল্ল রায়কে বলেছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র
পর্ব ৩: পয়লা বৈশাখের খাতায় শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় মজাচ্ছলে লিখেছিলেন, ‘সুধাংশুরা রাজা হোক’
পর্ব ২: বাংলা মাসের সাত তারিখকে বলা হত ‘গ্রন্থতিথি’, বিজ্ঞাপনেও বিখ্যাত ছিল ‘৭-ই’
পর্ব ১: সত্তরের উথাল-পাথাল রাজনৈতিক আবহাওয়ায় আমি প্রকাশনার স্বপ্ন দেখছিলাম
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved