publication of various books by purnendu pattrea | Robbar
Robbar
  • ৬ ভাদ্র ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬

পূর্ণ ইন্দু পরকাশে

‘শিল্প সংক্রান্ত’ বইটি পূর্ণেন্দুদার দেখে যাওয়া দে’জ থেকে শেষ বই। ১৯৯৭-এর বইমেলাতেই ‘শিল্প সংক্রান্ত’ প্রকাশিত হয়েছিল। শিল্পকলা নিয়ে তাঁর এটি দ্বিতীয় বই, প্রথমটি ছিল⎯ ‘ছবি কবি কবিতা’। এই বইয়ের শুরুতে তিনি সখেদেই লিখেছিলেন⎯ ‘আমাদের শিক্ষিত সমাজে অধুনা শিল্পকলার সম্পর্কে বাহ্যিক সৌজন্য আর আভ্যন্তরিক অরুচির লক্ষণগুলো আমার অজানা নয় আদৌ। তবুও এ-বইটি যদি গোনাগুনতি কিছু পাঠকেরও মনের ছোঁয়া পেয়ে যায়, সেটাই জোগাবে পুরস্কৃত হওয়ার পরিতৃপ্তি।’

Published by: Robbar Digital

Posted:August 2, 2026 8:54 pm | Updated:August 2, 2026 8:54 pm  
Facebook WhatsApp Messenger

৮২.

পূর্ণেন্দুদার এত রকমের বই আমি ছেপেছি যে মাঝেমাঝে মনে হয় তিনি এত বিভিন্ন বিষয়ে লিখলেন কী করে! ‘সময়ের জলছবি’ বইয়ে শঙ্খদা ‘ঘরের মধ্যে আকাশ’ লেখাটিতে অনেকটা এরকমই একটা বিষয়ের মীমাংসার দিকে গিয়েছেন। শঙ্খদা লিখছেন 

“যে আবাসনে আমরা থাকি, সেখানে একবার কথা হয়েছিল পূর্ণেন্দু পত্রী কিছু বলবেন। শুনে প্রতিবেশীদের একজন জিজ্ঞেস করেছিলেন: ‘কোন্ পূর্ণেন্দু পত্রী? যিনি ফিল্ম তোলেন, তিনিই কি আসছেন? না কি যিনি ছবি আঁকেন?’

প্রশ্নটা শুনে কারো নিশ্চয়ই মনে পড়ে যেতে পারত অবনীন্দ্রনাথের বিখ্যাত সেই লাইন: ‘কোন্ ঠাকুর? অবিন ঠাকুর! ছবি লেখে!’ পূর্ণেন্দু পত্রীর অবনীন্দ্র-প্রীতির সঙ্গে একটা যোগও হয়ে যেতে পারত সঙ্গে সঙ্গে।

কিন্তু এ প্রশ্ন যিনি তুলেছিলেন, তিনি অন্যায় করেননি কিছুই। আমাদের এই বিশেষীকরণের যুগে একথা ভাবা বেশ শক্ত যে একজন মানুষ একই সঙ্গে নিজের শক্তির পরীক্ষা করবেন কবিতায় উপন্যাসে প্রবন্ধে ছবিতে চলচ্চিত্রে অলংকরণে সাংবাদিকতায়। এক শিল্পরূপ থেকে অন্য শিল্পরূপে চলাফেরা করার সহজ সাদৃশ্য নিয়ে আনন্দময় হয়ে বেঁচে আছেন আমাদেরই সমসাময়িক একজন, এটা বিশ্বাস করা নিশ্চয় শক্ত। কিন্তু সেই শক্ত কাজটাই সম্পন্ন করেছেন পূর্ণেন্দু পত্রী, আমাদের অনেকদিনের বন্ধু।

আনন্দময়, এই কথাটাকে আমার মনে হয় পূর্ণেন্দুর বেঁচে থাকার আর যা-কিছু সৃষ্টি করার কেন্দ্রীয় শব্দ।…”

দে’জ পাবলিশিং থেকে আমি সেই ১৯৮০ সালে ছোটদের জন্য লেখা পূর্ণেন্দুদার বই প্রকাশ করেছি ‘হাসতে হাসতে খুন’। সাত টাকা দামের বইটি আমি ছেপেছিলাম ঈশ্বর মিল লেনে মণীন্দ্রনাথ মান্নার পারুল প্রিণ্টিং ওয়ার্কস্‌ থেকে। আমি যতদূর জানি ‘আলটুং ফালটুং’ ছাড়া তখনও তাঁর ছোটদের জন্য অন্য কোনও বই ছিল না। আর ‘আলটুং ফালটুং’-ও প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮০ সালেই।

‘হাসতে হাসতে খুন’ বইখানির একটা অন্য গুরুত্ব আছে লেখক পূর্ণেন্দু পত্রীর জীবনে। তাঁর সৃষ্ট চরিত্র ‘জাম্বো’ সম্ভবত এ-বইতেই প্রথমবার এসেছে। এর পরে ‘জাম্বো’ সিরিজের দ্বিতীয় বইটি আমি ছেপেছিলাম ১৯৯১-এর বইমেলায় ‘জুনিয়র ব্যোমকেশ জিন্দাবাদ’। ‘জুনিয়র ব্যোমকেশ জিন্দাবাদ’ বইটির শুরুতে ছোট্ট ভূমিকায় লেখক জানিয়েছিলেন ‘বাংলা সাহিত্যে ডিটেকটিভের সংখ্যা ক্রমশ কমে আসছে দেখেই জাম্বোর সৃষ্টি। অথচ জানি দুর্দান্ত সব ডিটেকটিভকে জন্ম দিয়েছে এই বাংলা সাহিত্য। জাম্বোর সৃষ্টির মধ্যে দিয়েই পূর্বসূরী গোয়েন্দাকাহিনীকারদের প্রতি আমার শ্রদ্ধানিবেদন।’ ১৯৮৯-র পুজোসংখ্যা ‘আজকাল’ পত্রিকায় ‘জুনিয়র ব্যোমকেশ জিন্দাবাদ’ লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।

তার পরের বছর পয়লা বৈশাখে আমি দে’জ থেকে ছেপেছিলাম ‘জাম্বো’ সিরিজের পরের বই ‘জাম্বো দি জিনিয়াস’। সে-বইয়ের ভূমিকায় পূর্ণেন্দুদা লেখেন “জাম্বো-কে নিয়ে এটা আমার তিন নম্বর বই। প্রথম, ‘হাসতে হাসতে খুন’। দ্বিতীয়, ‘জুনিয়র ব্যোমকেশ জিন্দাবাদ’। যখনই এই জাতীয় ডিটেকটিভ লেখায় হাত দি, কমলকুমার মজুমদারকে মনে পড়ে যায়। যখন ‘হিচককে’ মজা পেতাম না, শার্লক হোমস পড়িই নি এক পাতা, তখনই তিনি, ধর্মতলার ফুটপাতে পুরানো বইয়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে, একদিন বলেছিলেন ডিটেকটিভ বই-পত্র অবশ্যই পড়বে। তুমি ফিল্ম করতে যাচ্ছো, ওতেই কাজে লাগবে। মনটা যুক্তিসিদ্ধ হয়। লজিকের জ্ঞান বাড়ে। যা বলেছিলেন, সেটা যে ষোলআনা সত্যি তা টের পাচ্ছি এখন। আর সত্যি না হলে কডওয়েলের মতো তাত্ত্বিক মানুষই বা এ রাস্তা মাড়াতে যাবেন কেন?” ‘জাম্বো’ সিরিজে আমি শেষ যে-বইটা ছেপেছি সেটা ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত ‘যক্ষপুরীর জার্নাল’। 

‘জুনিয়র ব্যোমকেশ জিন্দাবাদ’ বইটির প্রসঙ্গে ‘আজকাল’ পত্রিকার কথা যখন উঠল তখন ফের বলি, এই কাগজের শুরুর দিক থেকেই আমি মাঝে-মাঝে ৯৬ নম্বর রাজা রামমোহন সরণির লাহাবাড়িতে ‘আজকাল’ দপ্তরে যেতাম। শুরুর দিকে গৌরদা (গৌরকিশোর ঘোষ)-র কাছেই মূলত যেতাম, কিন্তু ওখানে গিয়ে বাংলার সব দিকপাল লেখকদের সঙ্গে দেখাও হয়ে যেত। পূর্ণেন্দুদা সম্ভবত ১৯৮৮ সালের শেষের দিকে ‘আজকাল’-এ যোগ দেন। তিনি আসার পরেও আমি বহুবার সে-দপ্তরে গিয়েছি। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলে সেখানে আমার আরেক প্রিয় মানুষ শৌনক লাহিড়ীর সঙ্গেও দেখা হয়ে যেত। শৌনকের সঙ্গে আমার খুবই হৃদ্যতা ছিল। ‘আজকাল’ পত্রিকার লেটারহেডে পূর্ণেন্দুদার লেখা একটি চিঠিতে দেখছি তিনি ১৯৯০-এর ২১ মে আমাকে লিখছেন

‘প্রিয় সুধাংশু,

অরুণা প্রকাশনীর বিকাশবাবুর ছেলের হাতে একটা বই, সূর্যাবর্ত-র সঙ্গে একটা চিঠি দিয়েছিলাম। তাতে আগাথা ক্রিস্টির গ্রন্থাবলী চেয়েছিলাম। ১৫ দিন পার। কোন উত্তর নেই। আমার যা যা চাই আবার জানাচ্ছি। এখ্যুনি [য.] দরকার। 

১।– সূর্যাবর্ত-র নতুন কপি

২।– আগাথা ক্রিস্টির গ্রন্থাবলী

৩।– হেমেন্দ্রকুমার রায়ের গ্রন্থাবলী…’

অরুণা-র বিকাশদার কথা আগেও লিখেছি। বিকাশদা চলে যাওয়ার পরে তাঁর ছেলে সুব্রত বাগচী (আমরা ডাকি ‘বুড়ো’ বলে) তার বাবার প্রকাশ করা বইগুলো এখনও কিছু-কিছু ছাপে। আমাদের বাড়ির পাশেই সিগনেটের দোকান থেকে বিকাশদার অরুণা প্রকাশনীর বই বিক্রি হত। কিন্তু সিগনেটের মালিকানায় বদল হয়েছে। তাই অরুণার বই এখন মূলত আমাদের দোকান থেকেই বিক্রি হয়। তবে পূর্ণেন্দুদার চিঠিতে উল্লিখিত ‘সূর্যাবর্ত’ বইটি আমারই পাঠানো। এই চিঠির হপ্তাদুয়েক আগে, মে মাসের ৪ তারিখ, বুড়োর হাতে পাঠানো আরেকটি চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন

‘প্রিয় সুধাংশু,

‘সূর্যাবর্ত’ ফেরত পাঠালুম। পড়তে গিয়ে দেখি, অনেকগুলো খুঁৎ। দাগ দিয়ে দিলাম সেই সব পাতায়। একটা ছবি নেই। তার বদলে একটা ছবি দুবার ছেপেছে। সেটাও আবার উল্টো দিকে বাঁধানো। দেখে শুনে একটা ভালো বই দে। 

এ ছাড়া আমার জরুরী দরকার আগাথা ক্রীস্টির [য.] রচনাবলী। যারা ভালো করে ছেপেছে তাদেরটাই দিবি। জরুরী দরকার।…’

পূর্ণেন্দুদা নিজে বইয়ের লেখা থেকে শুরু করে লে-আউট ডিজাইন, অলংকরণ, প্রচ্ছদ সব কাজ জানতেন বলেই অযত্নে ছাপা বই হাতে এলে বিরক্ত হতেন। আর ‘সূর্যাবর্ত’ বইটির সংকলক-সম্পাদক শঙ্খদাও একইরকম বিরক্ত হতেন ছাপার কাজে অমনোযোগ দেখলে। প্রসঙ্গত বলে রাখি, বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ থেকে মে ১৯৮৯-এ প্রকাশিত হয়েছিল ‘সূর্যাবর্ত’। ‘সূর্যাবর্ত’ রবীন্দ্রনাথের কবিতার সংকলন। ‘সূর্যাবর্ত’ নির্মাণের সময় শঙ্খদার লক্ষ্য ছিল বইটি ‘সঞ্চয়িতা’র বিকল্প নয়, বরং পরিপূরক হয়ে উঠুক।

পূর্ণেন্দুদার ছোটোদের বইয়ের পাশাপাশি আমি বড়দের উপন্যাসও বেশ কিছু ছেপেছি। ১৯৮৬-র বইমেলায় আমি ছেপেছিলাম ‘মহারানী’ নামের উপন্যাসটি। এই উপন্যাস তার আগের পুজোয় ‘প্রতিক্ষণ’-এর শারদীয় সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। বইটি লেখক উৎসর্গ করেছিলেন বন্ধু সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়কে। ভূমিকায় তিনি লিখেছিলেন “৭৪-এ কৃত্তিবাস যখন নতুন করে সাইজ পাল্টে মাসিক হয়ে বেরোতে শুরু করল, তখন সেখানে একটা গল্প লিখি ‘খিদে’ নামে। গ্রামের জীবনে দেখা একটা বাস্তব চরিত্রের আদলেই গল্পটা তৈরি। অনেকের ভালো লেগেছিল। কিন্তু আমার মন ভরেনি। থেকে থেকেই মনে হত এই জাতীয় আর্কিটাইপ চরিত্রদের আরও বড় মাপের ক্যানভাসে না দেখালে, এর ট্রাজিক দিকটা আড়ালে চলে গিয়ে প্রধান হয়ে দাঁড়ায় কমেডিসুলভ হাস্যধর্মিতা। অথচ এই জাতীয় আদিম মানবিক চরিত্রদের সেটা পাওনা নয়। প্রতিক্ষণ শারদীয়ায় এ বছর উপন্যাস লেখার প্রস্তাব এল যখন, তখন ঠিক ছিল ‘আকাদেমি পুরস্কারের প্রথম দিন’ লেখাটার দ্বিতীয় পর্বটাই শেষ করবো এবারে। কিন্তু প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বাতিল করে দিই সে-সিদ্ধান্ত। এবং সেই কবেকার ‘খিদে’ গল্পের বৃদ্ধা রমণীকে নায়িকা করেই ডুবে যাই আমার পক্ষে দুরূহ এই উপন্যাসে। এই প্রসঙ্গে তিনজনকে ধন্যবাদ না জানালে অকৃতজ্ঞতা হবে। সে তিনজন হলেন ঔপন্যাসিক দেবেশ রায়, প্রাবন্ধিক অরুণ সেন আর শিল্পী যুধাজিৎ সেনগুপ্ত। প্রথম দুজন ছিলেন এ উপন্যাসের আরম্ভ-পর্বের নিমগ্ন শ্রোতা। তৃতীয় জন ভালোবেসে এঁকে দিয়েছেন এ-বইয়ের জন্যে একাধিক ছবি।”

১৯৯৫-এর বইমেলায় দে’জ থেকে প্রকাশিত হয়েছে পূর্ণেন্দুদার উপন্যাস ‘সেজানের আপেল পচে যাচ্ছে’। আমার আরেক প্রিয় লেখক ও অগ্রজস্থানীয় অমলেন্দু চক্রবর্তীকে সে-বইটি উৎসর্গ করা। ‘সেজানের আপেল পচে যাচ্ছে’ উপন্যাসটিও প্রকাশিত হয়েছিল ‘প্রতিক্ষণ’-এর শারদীয় সংখ্যায়, ১৯৯৩ সালে। 

এর মধ্যে ১৯৯২-এর বইমেলায় আমি প্রকাশ করেছি পূর্ণেন্দু পত্রীর গল্পের বই ‘স্তালিনের রাত’। শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করা বইটির ভূমিকায় লেখক জানিয়েছিলেন

‘আটটি গল্পে গাঁথা এ বইয়ের তিনটে গল্প বেরিয়েছিল রবিবাসরীয় ‘আজকাল’-এ। সভ্যতা ও সমুদ্রের মাঝখানে; দুখির মোটরবাইক, স্বপ্নে; স্তালিনের রাত; তুঁতে নীল খামগুলি; শারদীয়া ‘আজকাল’-এ। অতল জলের গাড়ি শারদীয় ‘প্রতিক্ষণ’-এ। পিতলের ঘটির মানচিত্র শারদীয় কালান্তরে। ওয়াটার কালারের বস্তি শারদীয় গল্পগুচ্ছে। আফ্রোদিতির ভগ্নাংশ শারদীয় মনোরমায়।

স্তালিনের রাত মূলত প্রেমের গল্প। কিন্তু সেটা ঘটছে স্তালিনের মৃত্যুদিনের ঐতিহাসিক পটভূমিকায়। আজকে যেমনই কাটা-ছেঁড়া হোক, তাঁর জীবিতকালে আর আমাদের সদ্য-যৌবনে স্তালিন ছিলেন সমাজতন্ত্রের অগ্রগতির প্রতীক।…’ 

পূর্ণেন্দুদা চলে যাবার অনেক পরে ২০০৯ সালে দে’জ থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘দাঁড়ের ময়না’। আগেও একবার লিখেছি, ১৯৫৮ সালে ‘উল্টোরথ’ পত্রিকা আয়োজিত মানিক-স্মৃতি পুরস্কারে অতীনদা ‘সমুদ্র মানুষ’-এর জন্য তৃতীয় পুরস্কার পান। প্রথম হয়েছিলেন মতি নন্দী ‘ধুলো বালির মাটি’ (পরে নামকরণ হয় ‘নক্ষত্রের রাত’) উপন্যাস লিখে, আর পূর্ণেন্দু পত্রীর ‘দাঁড়ের ময়না’ হয়েছিল দ্বিতীয়। ‘দাঁড়ের ময়না’ সেই বছরেই সাহিত্য নামে একটি প্রকাশনী থেকে ছাপা হয়েছিল।

পূর্ণেন্দুদা বইয়ের ছাপাছাপি নিয়ে খুঁতখুঁতে ছিলেন সেকথা আগেই বলেছি। তবে নিজের লেখা বা বইয়ের নাম ভুল ছাপা হওয়ায় তাঁকেই সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বিত হতে হয়েছে বলে শুনেছি। শুনেছি বললাম কারণ এগুলো গল্পকথাও হতে পারে, সত্যিও হতে পারে। বিভিন্ন মানুষের মুখেই আমি শুনেছি বা লেখায় পড়েছি, নিজের চোখে কখনও দেখিনি। তাঁর প্রথম উপন্যাসের বিজ্ঞাপনে না কি ‘দাঁড়ের ময়না’ ছাপাখানার ভূতের কারসাজিতে ‘দাঁতের ময়লা’ ছাপা হয়েছিল। একই রকম ভাবে, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়ের একটি লেখায় পড়েছি ‘সন্দীপনদার [সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়] বন্ধুবান্ধব মিলে কাগজ বের করেছে। সেখানে পূর্ণেন্দু পত্রীর প্রকাশিতব্য একটি উপন্যাসের নাম ছিল ‘শালিকের ঠোঁট’। কাগজ বেরনোর পর দেখা গেল উপন্যাসের নাম হয়ে গেছে ‘শালিকার ঠোঁট’! পূর্ণেন্দুদা রেগে আগুন। পিঠে হাত দিয়ে সন্দীপন তাঁকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন, ‘কী করবে ভাই বল! ছাপাখানার ভূত কাউকেই রেহাই দেয় না রে।’ পরে জানা গিয়েছিল এটা সন্দীপনদারই সূক্ষ্ম হাতের কাজ।’

তবে পূর্ণেন্দুদা নিজেও একবার বেজায় মজার একটা কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। সেটা ১৯৬৯ সাল তখন এল. কাপুর নামে এক সিনেমা প্রযোজকের বিজ্ঞাপন লেখার জন্য মিশন রো-র মিনার্ভা হোটেলে পূর্ণেন্দুদার স্টুডিয়ো। একদিন তাঁর বন্ধু রবি বসু সেখানে এসে জানালেন তিনি একটি পুজোসংখ্যা প্রকাশ করবেন এবং তার জন্য খরচ করতে রাজি এমন একজনের সন্ধানও পাওয়া গিয়েছে। রবিদার কথা আমি ‘কলেজ স্ট্রীট’ পত্রিকা প্রসঙ্গে লিখেছি। পত্রিকা-প্রেমিক মানুষটি পূর্ণেন্দুদার কাছে গিয়েছিলেন ‘অপরূপা’ নামে সেই পুজোসংখ্যায় প্রকাশিতব্য সমরেশ বসুর উপন্যাসের অলংকরণ চাইতে। কিন্তু কিছুদিন পরে রবিদা মিনার্ভা হোটেলের স্টুডিয়োতে ঢুকে একেবারে ভেঙে পড়েন। সমরেশদা না কি উপন্যাস না দিয়েই পুরী বেড়াতে চলে গিয়েছিলেন। ওদিকে রবিদা সমরেশদার উপন্যাসের জন্য ৩২ পাতা ফাঁকা রেখে বাকি কাগজ ছেপে বসে আছেন। তখন পূর্ণেন্দুদা বন্ধুর বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ে চেনাজানা লেখকদের বাড়ি যাওয়া শুরু করলেন যদি কারওর লেখা কোনও উপন্যাস অপ্রকাশিত থেকে থাকে। কিন্তু সে-রকম কোনও উপন্যাস পাওয়া গেল না। তিনি রবিদাকে পরামর্শ দিলেন সে-বছর যেহেতু দীনেন্দ্রকুমার রায়ের শতবর্ষ, তাই বসুমতী সাহিত্য মন্দির থেকে ‘দীনেন্দ্র গ্রন্থাবলী’ কিনে এনে তা থেকে কিছুটা লেখা ছেপে ৩২ পাতার সংকট মেটানো যেতে পারে। কিন্তু সে গুড়েও বালি পড়ল। ‘দীনেন্দ্র গ্রন্থাবলী’ ততদিনে আউট অফ প্রিন্ট। লোকনাথ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত সুজিত কুমার নাগ সম্পাদিত ‘সমরেশ স্মৃতি’ বইয়ে “আমার লেখা ‘সমরেশ বসুর উপন্যাস’” গদ্যে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে পূর্ণেন্দুদা লিখেছেন 

‘কি করে ওকে বাঁচানো যায় সেটা তখন আমারো দিনরাতের চিন্তা। ওদিকে কাগজ বেরনোর সময় আসন্ন। আর মোটে দিন দশেক বাকি। হঠাৎ একদিন ওকে বলে বসি, অনেক ভেবেচিন্তে একটা উপায় পেয়েছি।

বলুন।

আমি একটা উপন্যাস লিখে দেব তোমাকে। তার নাম হবে ‘সমরেশ বসুর উপন্যাস’। লেখকের নাম থাকবে না। তলায় ফুটনোটে বলা হবে, অমুক নামের একজন তরুণ লেখক পত্রিকা আপিসে এসে দিয়ে গেছে এটা। উপন্যাসের বিষয়টা এই রকম একটি তরুণ যুবক সমরেশ বসুর উপন্যাসের একনিষ্ঠ পাঠক। শুধু পাঠকই নয়, উপন্যাসের মধ্যে ‘রিমার্কেবল’ কথাবার্তা টুকে রাখে নিজের খাতায়। কিন্তু সে কখনো সমরেশ বসুকে চোখে দেখেনি। নানা সময়ে নানা মানুষকে সমরেশ বসু ভেবে নিয়ে পরে তাদের আচার-আচরণে মোহভঙ্গের ঘায়ে আহত হয়। মোটামুটি এইরকম ব্যাপার।

রবি তখুনি রাজি। আমি বলি, কিন্তু শর্ত আছে একটা। আজকেই তুমি আমাকে সমরেশের কমপক্ষে ৬/৭ খানা ভাল উপন্যাস কিনে দেবে। সেগুলো আগে পড়তে হবে আমাকে। উপন্যাসের নায়কের জন্যে নোট নেবার যোগ্য অংশগুলো বাছতে হবে। তারপরে লেখা। পরিকল্পনা মতো কাজ এগয়। দিনকয়েক সব কাজ ফেলে কেবল রবিকে বাঁচানোর জন্যে উপন্যাসে উপুড়। লেখা শেষ। কম্পোজ শেষ। মেক আপ করতে গিয়ে দেখা গেল, জায়গা বেশি। লেখা কম কিন্তু লেখা আর বাড়ানোর সময় নেই। দু’দিন পরে কাগজ ছাড়তে হবে বাজারে। গাড়ি নিয়ে দৌড়ই গরানহাটায়। কাঠের তৈরি দু’-ইঞ্চি মাপের অক্ষর কিনে আনি। বিভিন্ন অধ্যায়ের প্রথম অক্ষর হিসেবে ব্যবহার হয় সেগুলো। এইভাবে কোনওরকমে ম্যানেজ। কাগজ বেরয় যথাসময়ে এবং বিজ্ঞাপনও, ‘সমরেশ বসুর উপন্যাস’ থাকছে এই সমাচারসহ। কাক-পক্ষীরও জানার কথা নয়। কিন্তু পুজোর ছুটি ফুরতেই কানে এল, সাগরদা আর সমরেশ বসু আমার উপর খাপ্পা। তাঁরা টের পেয়েছেন, ওটা আমারই কুকীর্তি। দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আমার অবস্থা তখন কাটা-টিকটিকির ন্যাজ।

মিনার্ভা হোটেলেরই দোতলার একটা ঘরে সাগরদা, সমরেশ বসু প্রমুখদের নিয়মিত আড্ডা বসত তখন। আমারও খোলা আমন্ত্রণ থাকত সেখানে। দু’-চার দিনের ইতস্ততর পর একদিন সাহস করে ঢুকে পড়ি। সমরেশ বসুর কাছে করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে সমস্ত পূর্ব-বিবরণ জানিয়ে বলি, আপনি লেখাটা পড়ুন দয়া করে। যদি মনে হয় আপনাকে খাটো করা হয়েছে, কোথাও যে কোন শাস্তিতে প্রস্তুত। লেখাটা পড়ার পর জল হয়ে যায় সমরেশ বসুর রাগ এবং ক্ষোভ।’

দুঃখের বিষয় উপন্যাসটি এখনও আমরা খুঁজে পাইনি। ২০২৫-এর বইমেলার সময় থেকে অমিত মণ্ডলের সম্পাদনায় প্রকাশিত হচ্ছে পূর্ণেন্দু পত্রীর ‘উপন্যাস সমগ্র’। এখনও পর্যন্ত দুটি খণ্ডে মোট ন-টি উপন্যাস সংকলিত হয়েছে। ‘উপন্যাস সমগ্র’র সম্পাদক চেষ্টা চালাচ্ছেন আরও উপন্যাস পত্রিকার পাতা থেকে খুঁজে সমগ্রর নতুন খণ্ড করতে। আমার বিশ্বাস একদিন ‘সমরেশ বসুর উপন্যাস’ও ঠিক খুঁজে পাওয়া যাবে। 

পূর্ণেন্দুদার গদ্যবইয়ের অনেকগুলিই দে’জ পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১৯৮২-র ২৫ বৈশাখ আমি প্রকাশ করেছিলাম ‘আমার রবীন্দ্রনাথ’। বইটি তিনি কবি সিদ্ধেশ্বর সেন-কে উৎসর্গ করেছিলেন। মোট আটটি রবীন্দ্র-বিষয়ক প্রবন্ধের এই সংকলনের প্রথম লেখাটির নাম দেখে আমি একটু আশ্চর্যই হয়ে গিয়েছিলাম। পরে ‘বিশ্বের অলসতম কবি’ লেখাটা পড়ে বুঝতে পারি পূর্ণেন্দুদার প্রতিপাদ্য কী ছিল। এই বইটি সম্পর্কে তিনি লিখেছেন “ ‘আমার রবীন্দ্রনাথ’ সমগ্র রবীন্দ্রনাথকে অন্বেষণের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রচেষ্টা নয়। নানা সময়ের ইতস্ততঃ রচনার সংকলনই শুধু। আর এর মধ্যে নিজের চোখে রবীন্দ্রনাথের দিকে তাকিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা-সুখ-সাধটাই কেবল প্রবল, ক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে মনে রেখেই।”

পূর্ণেন্দু পত্রীর যে-দুটো গদ্যবই আজও নতুন প্রজন্মের পাঠকের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় সে-দু’টি হল ‘কবিতার ঘর ও বাহির’ এবং ‘পদ্য-পাগলের পাণ্ডুলিপি’। প্রথম বইটি আমি প্রকাশ করি ১৯৮৩-র সেপ্টেম্বরে আর দ্বিতীয়টি তার ১২ বছর পর ১৯৯৫-এর বইমেলায়। দু’টি বই-ই তিনি তাঁর দুই বন্ধুকে উৎসর্গ করেছিলেন প্রথমটি কবি অমিতাভ দাশগুপ্তকে আর দ্বিতীয়টি শিল্পতাত্ত্বিক প্রণবরঞ্জন রায়কে। পূর্ণেন্দুদার ‘কবিতার ঘর ও বাহির’ বইটি লেখার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল কাকে বলে কবিতা আর কোনটা কবিতা নয় তার শিল্পময় সমাধান খোঁজা। তিনি লিখেছেন ‘কাউকে শেখানোর জন্যে নয়, প্রধানত নিজের জানাকে সমৃদ্ধ করার তাগিদেই এই রচনাগুলো বীজ থেকে ক্রমে ক্রমে চেহারা নিয়েছে গাছের, অনেকটা যেন নিজের অজান্তেই। স্থান কালের ভিন্ন ভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে কবিরা নিজেদের সৃষ্টি আর সেই সঙ্গে সমগ্রভাবে কবিতা বিষয়ে কখন কি ভেবেছেন, সেটা হাতড়ে বেড়ানোই ছিল প্রাথমিক উদ্যম। কখনো কখনো সোজা সড়ক ছেড়ে পা চলে গেছে দু-পাশের আঁকা-বাঁকা অলিগলিতেও। অর্থাৎ কবিতা ছেড়ে কবির ব্যক্তিগত কথা ও কাহিনীও ঢুকে পড়েছে এ-রচনায়। সেটা কি মূল অভিপ্রায় থেকে বিচ্যুতি ? না বোধ হয়। আসলে কবিকে জানাও এক অর্থে কবিতাকে জানা।’ এর প্রায় এক যুগ বাদে প্রকাশিত ‘পদ্য-পাগলের পাণ্ডুলিপি’র সংক্ষিপ্ত ভূমিকায় তিনি লিখেছেন ‘কবিতার ঘর ও বাহির পড়ে অনেকেই চাইছিলেন ঐ জাতের আরও একটা বই। আসলে বই নয়, চাইছিলেন কবিতার গায়ে আলো ফেলা আরো কিছু লেখালেখি। অনেকে আবার এমনও অভিযোগ তুলেছেন ভালোবেসে যে, পড়তে পড়তে ফুরুৎ করে কখন যেন শেষ হয়ে যায় বইটা। আমরা চাই আরও একটু পুরুষ্টু বই। লিখবো বলে কোমর বাঁধলেই লেখা যায় না, এটা জেনেও তাদের দাবী-দাওয়ার দিকে ঘুরে তাকাতে হয় আমাকে। একটা দুটো করে লিখতে থাকি বছর বছর। জমতে জমতে বেশ গোছাখানেক হয়ে ওঠার পরই ছাপতে দেওয়া। গোড়ায় ভেবেছিলাম, লিখবো ডায়েরির ধরনে, খানিকটা হাল্কা চালে, খোসমেজাজে। কিন্তু পারা গেল না। হাল্কা চালের লেখা বলতে সোজা, গড়তে কঠিন। অবশ্য দুটো-একটা লেখার মধ্যে রয়ে গেছে ডায়েরি ধরনটা।’ অবশ্য ‘পদ্য-পাগলের পাণ্ডুলিপি’ যে প্রকাশিতব্য সেটা তিনি ‘কবিতার ঘর ও বাহির’ বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকায় জানিয়ে দিয়েছিলেন। তখন ‘পদ্য-পাগলের পাণ্ডুলিপির’ লেখাগুলো বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হচ্ছিল।

এরই মধ্যে ১৯৮৪-র নভেম্বরে দে’জ থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর আরেকটি গদ্যবই ‘ওদের চোখে মোদের ভারত’। বইটির পরিচিততে লেখা হয়েছিল ‘বিশাল দেশ আমাদের এই ভারতবর্ষ। পাহাড় দিয়ে ঘেরা। সমুদ্র দিয়ে ধোয়া। নদী তার গলার মালা। অরণ্য গায়ের রঙিন পোশাক। পর্বত তার মাথার মুকুট। প্রাচীন যুগ থেকে এদেশে এসেছে আর্য, পারসিক, গ্রিক, শক, কুষান, পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, ইংরেজ আরও নানা জাতি। বিদেশ থেকে কালে কালে বহু পর্যটকের পদচিহ্ন পড়েছে ভারতের মাটিতে। তাঁদের বর্ণনায় চিত্রিত হয়েছে তৎকালীন ভারতের নিজস্ব রূপ। তাঁদেরই কয়েকজনের বর্ণনা নিয়ে সাজানো এই বই, যেন এক মালায় অনেক রঙের ফুল।’ ‘ওদের চোখে মোদের ভারত’-এ ‘ভারতকথা’, ‘মেগাস্থিনিস’, ‘ফা-হিয়েন’, ‘হিউয়েন সাঙ’, ‘মার্কো পোলো’, ‘ইবন বতুতা’, ‘আল বেরুণী’ এই সাতটি লেখা আছে।

শঙ্কুদার প্রসঙ্গে (শঙ্কু মহারাজ) লিখতে গিয়ে গৌহাটি বুক ডিপো-র সুভাষচন্দ্র বসুর কথা লিখেছিলাম। যতটা মনে পড়ছে, সেই সুভাষদার উদ্যোগেই ‘ওদের চোখে মোদের ভারত’-এর একটি অসমিয়া অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। আমাকে লেখা পূর্ণেন্দুদার ১৬ মার্চ ১৯৯০-এর একটি চিঠি দেখে সে-ঘটনাটা মনে পড়ে গেল। চিঠিতে তিনি লিখছেন 

‘প্রিয় সুধাংশু,

তোকে খুব দরকার ছিল। ফোনও করতাম। কিন্তু কাকাবাবু অসুস্থ হয়ে আমার বাড়িতে আসায় খুব বিব্রত হয়ে পড়ি। 

আমার শরীর খুব খারাপ। ডাক্তার দেখিয়েছি। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী চলার জন্যে ছাদের উপরে মোটামুটিভাবে Dust-proof ঘর তৈরি করতে হচ্ছে যা আমার সাধ্যের বাইরে। তার উপর আমার একটা গাড়ি কেনারও ইচ্ছে। 

চিঠিতে এত বিশদ বলা যাবে না। অথচ তোর ওখানে গিয়েও দেখেছি, মন খুলে কথা বলার আবহাওয়া নেই।

আমাকে বেশ কিছু টাকা দে। অসমীয়া ‘ওদের চোখে মোদের ভারত’-এর বাবদ যে টাকা দিবি বলেছিলি, সেটাই আগে দিয়ে দে। পরে রয়ালটি বাবদ টাকা নেব।…’

এমন চিঠি তো সাধারণভাবে লেখক-প্রকাশকের মধ্যে বিনিময় হয় না। হয় দুই ভাইয়ের মধ্যে। পূর্ণেন্দুদা আমার পরমাত্মীয় ছিলেন বললেও কম বলা হবে। এর আগে পূর্ণেন্দু পত্রীর ‘সংক্রান্ত’ সিরিজের বইয়ের কথা একবার উল্লেখ করেছিলাম। এই সিরিজে মোট বই চারটে ‘সিনেমা সংক্রান্ত’, ‘সাহিত্য সংক্রান্ত’, ‘কলকাতা সংক্রান্ত’ আর ‘শিল্প সংক্রান্ত’।

এগুলোর মধ্যে ‘কলকাতা সংক্রান্ত’ বইটি নিয়ে আগেই বলেছি। ১৯৯১-এর ডিসেম্বরে দে’জ থেকে প্রকাশিত হয় ‘সিনেমা সংক্রান্ত’ বইটি । এর আগে ১৯৮২ সালে তাঁর ‘সিনেমা সিনেমা’ বইটি ডি. এম. লাইব্রেরি থেকে প্রকাশিত হয়ে খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, সে-বইয়ের মলাটটাও ভোলার নয়। দে’জ থেকে ‘সিনেমা সংক্রান্ত’ বইটির সূচনায় তিনি জানিয়েছিলেন “ ‘সিনেমা সিনেমা’ বেরোবার আগে-পরে সিনেমা নিয়ে আরো যে-সব ছোটো বড়ো লেখা অমুদ্রিত হয়ে পড়েছিল এতদিন নানান পত্র-পত্রিকার পাতায়, সেগুলোকে জুড়েই আমার এই দ্বিতীয় বই, সিনেমা বিষয়ে।… ইদানীং খবরের কাগজের সিনেমা-সংক্রান্ত লেখা-জোখা পড়তে গিয়ে টের পাই তাদের চিন্তার আভিজাত্যহীনতা। যদিও অন্য দিকে বই-পত্র বেরুচ্ছে মোটামুটি মূল্যবান। দুঃসময়ে সেটাই দীপশিখা। তা থেকেই বিশ্বাস, সিনেমার সৎ-পাঠকেরা এখনো জীবিত। অতএব, তাঁদের হাতেই এই বই।”

কমলকুমার মজুমদারকে উৎসর্গ করা ‘সাহিত্য সংক্রান্ত’ বইটি দে’জ থেকে ১৯৯৩-এর সেপ্টেম্বরে বেরয়। মোট এগারোটি প্রবন্ধের এই বইটির লেখাগুলোও বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত লেখার সংকলন।

‘শিল্প সংক্রান্ত’ বইটি পূর্ণেন্দুদার দেখে যাওয়া দে’জ থেকে শেষ বই। ১৯৯৭-এর বইমেলাতেই ‘শিল্প সংক্রান্ত’ প্রকাশিত হয়েছিল। শিল্পকলা নিয়ে তাঁর এটি দ্বিতীয় বই, প্রথমটি ছিল ‘ছবি কবি কবিতা’। এই বইয়ের শুরুতে তিনি সখেদেই লিখেছিলেন ‘আমাদের শিক্ষিত সমাজে অধুনা শিল্পকলার সম্পর্কে বাহ্যিক সৌজন্য আর আভ্যন্তরিক অরুচির লক্ষণগুলো আমার অজানা নয় আদৌ। তবুও এ-বইটি যদি গোনাগুনতি কিছু পাঠকেরও মনের ছোঁয়া পেয়ে যায়, সেটাই জোগাবে পুরস্কৃত হওয়ার পরিতৃপ্তি।’

এর আগে ১৯৯৬ সালের বইমেলায় আমি ছেপেছিলাম পূর্ণেন্দু পত্রীর ‘কিছু মানুষ কিছু বই’। এই বইটি আমার নিজেরও খুব প্রিয়। ‘কিছু মানুষ’ আর ‘কিছু বই’ এই দুই শিরোনামে যথাক্রমে ন’টি এবং আঠারোটি লেখা নিয়ে তিনি বইটা গড়েছিলেন। তবে সে-বছরের ডিসেম্বরে আমি প্রকাশ করেছিলাম পূর্ণেন্দুদার গবেষণামূলক বই ‘বঙ্কিমযুগ’। ১৮৩৮ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম থেকে ১৮৫৮ সাল জীবনের মাত্র কুড়িটা বছর। তখনও বঙ্কিম স্বমহিমায় বাংলা সাহিত্য ও সমাজে অবতীর্ণ হননি। তাঁর সেই প্রস্তুতিপর্বের জীবনটাকে এ-বইয়ে ধরা হয়েছে দিনপঞ্জির মতো করে। আবার তাঁর ব্যক্তিগত দিনপঞ্জির পাশাপাশি রাখা হয়েছে যুক্তবাংলার প্রতিদিনের জীবনচিত্র। এই বিস্ময়কর বইয়ের আরও খণ্ড হবে এমনটাই তিনি আমাকে বলেছিলেন। কিন্তু সে-সুযোগ তিনি আর পাননি।

পূর্ণেন্দুদা চলে যাবার পর ১৯৯৮-এর বইমেলায় আমরা দে’জ থেকে প্রকাশ করেছিলাম তাঁর ‘কাব্যনাট্য’ বইটি। বইটিতে ‘প্রকাশকের নিবেদন’-এ আমি লিখেছিলাম 

“‘আমরা আবহমান ধ্বংসে ও নির্মাণে’ কাব্যগ্রন্থটি এবং ‘একালের রক্তকরবী’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘ভাস্কর্যের ভাঙা হাত’ এই দুটিকে একত্র করে কাব্যনাট্য নামে প্রকাশ করার ইচ্ছা ছিল পূর্ণেন্দুদার। এর জন্য নতুন করে ছবি এঁকে দেবার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। কাব্যনাট্য প্রকাশিত হলেও তাঁর পরবর্তী ইচ্ছা অপূর্ণই থেকে গেল নতুন করে ছবি আঁকা আর হয়ে উঠল না।

এ-বইয়ের প্রথমাংশ প্রথম সংস্করণের অনুরূপ; কেননা ছবি ও তার ব্যবহার সম্বন্ধে পূর্ণেন্দুদার নিজস্ব কিছু ভাবনা-চিন্তা ছিল। শেষাংশের ছবিগুলো সংগ্রহ করে দিয়েছেন কবি-কন্যা উপমা পত্রী তাঁকে কৃতজ্ঞতা।”

তবে গল্প আছে এর প্রচ্ছদে। তখন আমাদের বইয়ের মলাট ছাপার যাবতীয় দায়িত্ব বাবুদা (বিদ্যুৎ বন্দ্যোপাধ্যায়) সামলাতেন। বাবুদার সঙ্গেই পূর্ণেন্দুদা মলাট এবং ব্লক নিয়ে যাবতীয় আলোচনা করতেন। আমাকে অনেক সময়ই কোনও ছবি দিয়ে বলেছেন ‘বাবুকে’ দিলেই হবে। বাবুদার সঙ্গেও তাঁর খুবই হৃদ্যতা হয়ে গিয়েছিল। নানা কাজে বাবুদা পূর্ণেন্দুদার বাড়ি যেতেন। সেখান থেকে ফেরার সময় কখনও পূর্ণেন্দুদার ফেলে দেওয়া ড্রয়িং তাঁকে বলেই সঙ্গে নিয়ে আসতেন। হয়তো পূর্ণেন্দুদার সে-ছবি পছন্দ হয়নি, কিন্তু বাবুদার মনে হয়েছে ছবিটা ততটাও খারাপ নয়। ‘কাব্যনাট্য’ বইয়ের মলাট করার সময় বাবুদাই ত্রাতা হলেন। পূর্ণেন্দুদার কাছ থেকে তাঁর সেই চেয়ে আনা একটি ছবি দিয়েই বানিয়ে ফেললেন চমৎকার একখানি মলাট। 

২০২১-এর ২ ফেব্রুয়ারি, পূর্ণেন্দু পত্রীর ৯০-তম জন্মদিনে, আমরা প্রকাশ করেছিলাম ‘পথের পাঁচালী’ নামে একটি পুস্তিকা। এই পুস্তিকার ভূমিকাটা শঙ্খদার লেখা। এই পুস্তিকার শুরুতে আমি লিখেছিলাম “কে না জানে লেখকরা স্বভাবতই অগোছালো হন। আর শিল্পীরা তো বটেই। পূর্ণেন্দু পত্রী একাধারে লেখক ও শিল্পী। তাই তাঁর মধ্যে গোছানো স্বভাব ছিল না, অবশ্যই। তাই এ লেখা হারিয়ে গিয়েছিল। পথের পাঁচালী ছায়াচিত্রের সম্ভবত প্রথম সমালোচনা এই লেখা। যা ছবিটি মুক্তির কয়েক দিনের মধ্যেই প্রকাশিত হয়। এই হারিয়ে যাওয়া নিয়ে আক্ষেপও ছিল লেখকের, কিন্তু অধ্যাপক গবেষক পুলক চন্দ সেই হারানো মানিককে খুঁজে বের করে আমাদের কৃতজ্ঞতাভাজন হয়েছেন। শঙ্খ ঘোষের ভাষায় ‘অপ্রতিহত নিষ্ঠায়’ এই উজ্জ্বল উদ্ধারের জন্য তিনি বাংলার মননশীল পাঠককুলেরও কৃতজ্ঞতা লাভ করবেন নিশ্চয়ই। ১৯৫৫-র আগস্ট-সেপ্টেম্বর সংখ্যার ‘অগ্রণী’ পত্রিকায় এই লেখাটি প্রকাশিত হয়। শঙ্খ ঘোষের ভূমিকা সংযোজিত হয়ে ২০১৬-র অক্টোবর সংখ্যায় অন্তঃসার পত্রিকায় পুনর্মুদ্রিত হয়। দে’জ-এর তরফ থেকে অন্তঃসার পত্রিকাকে ধন্যবাদ। সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এবং পূর্ণেন্দু পত্রী-র ৯০তম জন্মদিনে এ-লেখা প্রকাশ করতে পেরে দে’জ পাবলিশিং গর্বিত।…” 

২০২৪-এ আবার দে’জ থেকে প্রকাশিত হয়েছে পূর্ণেন্দুদার ‘কলকাতা সমগ্র’র সম্পাদক অয়ন দত্তের সম্পাদনায় ‘পূর্ণেন্দু পত্রীর সত্যজিৎ’। সেই সাতের দশক থেকে আমাদের প্রকাশনায় লেখক-শিল্পী এবং অভিভাবক হিসেবে পূর্ণেন্দুদার অবদান কখনওই ভোলা যাবে না।

লিখন: শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায়

…… ইতি কলেজ স্ট্রিট-এর অন্যান্য পর্ব ……

পর্ব ৮১। পাঠকদের উন্মাদ দাবি: চাই কথোপকথনের নতুন খণ্ড!

পর্ব ৮০। কলকাতা: পূর্ণেন্দু সংস্করণ

পর্ব ৭৯। নানা রঙের নবনীতা

পর্ব ৭৮। প্রথম বইয়ের প্রচ্ছদ নিজেই এঁকেছিলেন নবনীতা দেবসেন

পর্ব ৭৭। অপরাজিতা দেবীকে ছদ্মনামে পুরুষ কবি ভেবেছিলেন পাঠক

পর্ব ৭৬। বিদেশেও সমাদৃত হয়েছিল স্বর্ণকুমারী দেবীর উপন্যাস

পর্ব ৭৫। নারীকলম: দিনগুলি রাতগুলি

পর্ব ৭৪। বই-মানবী

পর্ব ৭৩। প্রেসের কাজে গাফিলতি দেখলে কড়া চিঠি লিখতেন সুবীরদা

পর্ব ৭২। করোগেটেড কাগজের অভাবে আটকে ছিল সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কাব্যসংগ্রহ

পর্ব ৭১। অমিয় চক্রবর্তীর ‘কবিতাসংগ্রহ’ ছিল নরেশ গুহ-র গুরুদক্ষিণা

পর্ব ৭০। এক মুখে কবিতা, অন্য মুখে মিছিলের স্লোগান

পর্ব ৬৯। সুভাষিত অনুবাদ

পর্ব ৬৮। শঙ্খদাই চেয়েছিলেন, সুভাষদার কবিতাসংগ্রহ সুবীর রায়চৌধুরী সম্পাদনা করুন

পর্ব ৬৭। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা দিয়েই শুরু হয়েছিল দে’জের ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ সিরিজ

পর্ব ৬৬। প্রেমেনদার উৎসর্গ করা বই বেচে দিয়েছিলেন বন্ধু ‘শিব্রাম’!

পর্ব ৬৫। প্যাঁচানো লোহার সিঁড়ি দিয়ে উঠলেই প্রেমেন্দ্র মিত্রর অবারিত দ্বার!

পর্ব ৬৪। মুজিব হত্যার পর অন্নদাশঙ্করের শোকলিপি ছাপা হয়নি সরকারি নিষেধাজ্ঞায়

পর্ব ৬৩। ভাবনার ভাস্কর্যের দিনগুলি রাতগুলি

পর্ব ৬২। কাদের লিটল ম্যাগাজিন বলা যাবে না, তার তালিকা তৈরি করেছিলেন শিবনারায়ণ রায়

পর্ব ৬১। গৌরদা বিশ্বাস করতেন, কলমের স্বাধীনতা হরণ মাতৃবিয়োগের চেয়ে কম কিছু নয়

পর্ব ৬০। সমরেশ বসু যখন ‘বিশ্বাসঘাতক’!

পর্ব ৫৯। সারাজীবন নিজেকে জানার জন্যেই লিখে গিয়েছেন সমরেশ বসু

পর্ব ৫৮। নবারুণ চেয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ কবিতার সিরিজে তিনিও থাকুন, কিন্তু হল না

পর্ব ৫৭। সত্যজিৎ-মৃণাল-ঋত্বিক ত্রয়ীর মধ্যে ঋত্বিকের লেখাই আমরা প্রথম ছেপেছিলাম

পর্ব ৫৬। অজয় গুপ্তর নিরন্তর শ্রম আর খুঁতখুঁতে সম্পাদনা ছাড়া মহাশ্বেতা দেবীর রচনাসমগ্র হত না

পর্ব ৫৫। দলকল্যাণের জন্য রাজনীতি সমাজকে নরকে পরিণত করবে, বিশ্বাস করতেন মহাশ্বেতা দেবী

পর্ব ৫৪। যা লিখেছেন, না লিখে পারেননি বলেই লিখেছেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

পর্ব ৫৩। ‘অলীক মানুষ’ তাঁকে দিয়ে কেউ লিখিয়ে নিয়েছে, মনে করতেন সিরাজদা

পর্ব ৫২। নিজের লেখা শহরের গল্পকে লেখা বলে মনে করতেন না সিরাজদা

পর্ব ৫১। কর্নেল পড়ে সিরাজদাকে চিঠি লিখেছিলেন অভিভূত সত্যজিৎ রায়

পর্ব ৫০। সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা থেকে বাঁচতে দিব্যেন্দুদার জীবনের দ্বিতীয় গল্পই বদলাতে হয়েছিল

পর্ব ৪৯। রবিশংকর বলের মতো উর্দু সাহিত্যের এত নিবিষ্ট পাঠক খুব কমই দেখেছি

পর্ব ৪৮। দেবেশ রায়ের যেমন ‘বৃত্তান্ত’, আফসার আমেদের তেমন ‘কিস্‌সা’

পর্ব ৪৭। বই বাঁধানো সম্পূর্ণ হয়নি, তাই ‘মহাভুল’ শুধরে নিয়েছিলেন দেবেশ রায়

পর্ব ৪৬। গান্ধীনগরে রাত্রির কবিই প্রথম বিদ্রুপাত্মক তেতো হাসি এনেছিলেন বাংলা কবিতায়

পর্ব ৪৫। নাটকের মহলা পছন্দ হলে তবেই তিস্তাপারের বৃত্তান্তর অনুমতি দেবেন, বলেছিলেন দেবেশ রায় 

পর্ব ৪৪। নিজের বইপত্র বিক্রির বিবরণ দেখে হতাশ হয়েছিলেন দেবেশ রায়

পর্ব ৪৩। থ্রিলার, রহস্য-রোমাঞ্চ কিংবা ক্রাইম স্টোরি অনেক দিন ধরেই বইপাড়ায় ‘সুপারহিট’

পর্ব ৪২। অলংকরণ বা প্রচ্ছদশিল্পীদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা নেই, সখেদে চিঠি লিখেছিলেন নারায়ণ সান্যাল

পর্ব ৪১। রাস্কেল, পাষণ্ড পণ্ডিত, প্রবঞ্চক, বিশ্বাসঘাতক– নারায়ণ সান্যালের বইয়ের নাম নিয়ে প্রবল আপত্তি ছিল আমার!

পর্ব ৪০। সিগারেট ঠোঁটে রথীন্দ্রনাথের ছবি প্রচ্ছদে যাওয়া নিয়ে উঠেছিল প্রবল আপত্তি!

পর্ব ৩৯। শান্তিনিকেতন থেকে কলেজ স্ট্রিট, প্রুফ আদান-প্রদানে সহায়ক ছিলেন বই ব্যবসায়ীরাই

পর্ব ৩৮। পাণ্ডুলিপি জমা দিয়ে সোমেনদা বলেছিলেন, রামকিঙ্করকে নিয়ে এ জাতীয় বই আগে লেখা হয়নি

পর্ব ৩৭। ‘কীর্তির্যস্য’র নাম বদলাতে চেয়েছিলেন ভবতোষ দত্ত

পর্ব ৩৬। কবি-দার্শনিকের বাইরে আরেক রবীন্দ্রনাথকে খুঁড়ে বের করেছিলেন অমিতাভ চৌধুরী

পর্ব ৩৫। ‘শাহজাদা দারাশুকো’ আরও বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে ছিল শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের

পর্ব ৩৪। একজন লেখক হিসেবে আমি কি তোমার মনোযোগের যোগ্য নই, অভিমান ভরা চিঠি লিখেছিলেন শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

পর্ব ৩৩। আমাকে ভাবায়, তারাপদ রায়

পর্ব ৩২। নববর্ষের শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ: লেখকদের মন্তব্যের খাতা!

পর্ব ৩১। পরিব্রাজক সন্ন্যাসী তারাপ্রণব ব্রহ্মচারী ভাগ্যিস থিতু হয়েছিলেন সাহিত্যে!

পর্ব ৩০। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কোনও বই আমাকে চাপিয়ে দেননি, লিখেছেন: বিবেচনা করে দেখো

পর্ব ২৯। কবিতাকে শক্তিদা বলতেন ‘জলজ দর্পণ’, তাঁর বেঁচে থাকার অবলম্বন

পর্ব ২৮। পিঁপড়ে কালিতে চুবিয়ে সাদা পাতায় ছাড়া হয়েছে, এমন পাণ্ডুলিপি ছিল বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের!

পর্ব ২৭। নিজস্ব ঈশ্বরভাবনা থাকলেও শঙ্কু মহারাজের লেখার মূল বিষয় ছিল মানুষের আলো-আঁধারি জীবন

পর্ব ২৬। বাংলাদেশে পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও একুশে বইমেলায় কখনও স্টল পাইনি

পর্ব ২৫। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি মুহূর্তের রক্ত-ঘাম-হাসি-কান্নার এক জীবন্ত দলিলচিত্র ছেপেছিলাম

পর্ব ২৪। রাখাল ছেলে যেমন বাঁশি বাজায়, আমিও তেমন নিজের খুশিতে লিখি, বলেছিলেন যাযাবর

পর্ব ২৩। রয়্যালটি-মুক্ত বইয়ের ওপর প্রকাশকদের ঝোঁক চোখে পড়ছে বইমেলাতেও

পর্ব ২২: শেষমেশ রেগে গিয়ে আমাকে চিঠিই লিখে ফেলেছিলেন শঙ্খ ঘোষ!

পর্ব ২১: ৩০০০ কপি বিক্রির মতো জীবিত বা মৃত লেখক আর হয়তো নেই

পর্ব ২০: কম বয়সে আমাদের রোববারের আড্ডা ছিল ২৮ নম্বর প্রতাপাদিত্য রোড, আশুদার বাড়িতে

পর্ব ১৯: ‘লেখা বড় হচ্ছে’ অভিযোগ আসায় খুদে হাতের লেখায় পাণ্ডুলিপি দিতেন প্রবোধবন্ধু অধিকারী

পর্ব ১৮: দু’বছরের মধ্যে সংস্করণ না ফুরলে অন্য জায়গায় বই ছাপার চুক্তি ছিল শরদিন্দুর চিঠিতে

পর্ব ১৭: পূর্ণেন্দু পত্রীর বাদ পড়া প্রচ্ছদ ও দিনেশ দাসের কবিতার শ্রেষ্ঠ দিনগুলি

পর্ব ১৬: সব প্রকাশনার যাবতীয় বইয়ের হদিশ পাওয়া যেত ‘সম্মিলিত গ্রন্থপঞ্জী’তে

পর্ব ১৫: নিছকই একটা পত্রিকা নয়, ‘কলেজ স্ট্রীট’ আমাদের আবেগ

পর্ব ১৪: খুদে পাঠকদের জন্য মিনিবই তৈরির কথা প্রথম ভেবেছিলেন অভয়দা

পর্ব ১৩: কয়েকটি প্রেসের গল্প

পর্ব ১২: দীর্ঘায়ু বই ও আইয়ুব পরিবার

পর্ব ১১: প্রেমের নয়, অপ্রেমের গল্প সংকলনের সম্পাদনা করেছিলেন সুনীল জানা

পর্ব ১০: ছোট্ট অপুকে দেখেই রঙিন ছবিতে ভরা টানটান গল্পের বই করার ইচ্ছে জেগেছিল

পর্ব ৯: চানঘরে গান-এ সত্যজিৎ রায়ের চিঠি থাকায় ব্যাপারটা গড়িয়েছিল কোর্ট কেস পর্যন্ত

পর্ব ৮: প্রকাশক-লেখকের কেজো সম্পর্কে বুদ্ধদেব গুহর বিশ্বাস ছিল না

পর্ব ৭: পুজো সংখ্যায় না-বেরনো উপন্যাস বই আকারে সুপারহিট

পর্ব ৬: মানবদার বিপুল অনুবাদের কাজ দেখেই শিশির দাশ তাঁর নাম দিয়েছিলেন– ‘অনুবাদেন্দ্র’

পর্ব ৫: সাতবার প্রুফ দেখার পর বুদ্ধদেব বসু রাজি হয়েছিলেন বই ছাপানোয়!

পর্ব ৪: লেখকদের বেঁচে থাকার জন্য অনেক কিছুই লিখতে হয়, প্রফুল্ল রায়কে বলেছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র

পর্ব ৩: পয়লা বৈশাখের খাতায় শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় মজাচ্ছলে লিখেছিলেন, ‘সুধাংশুরা রাজা হোক’

পর্ব ২: বাংলা মাসের সাত তারিখকে বলা হত ‘গ্রন্থতিথি’, বিজ্ঞাপনেও বিখ্যাত ছিল ‘৭-ই’

পর্ব ১: সত্তরের উথাল-পাথাল রাজনৈতিক আবহাওয়ায় আমি প্রকাশনার স্বপ্ন দেখছিলাম

Agatha Christie Bengali Poetry Byomkesh Bakshi Purnendu Pattrea Sangbad Pratidin Sangbad Pratidin Robbar

Share this article on